বরিশাল নগরীতে চলছে পানির সংকট

বরিশাল নগরীজুড়ে ভয়াবহ পানির সংকট চলছে, যা চাহিদার ৬০ শতাংশ ঘাটতি নিয়ে শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিপর্যয় সৃষ্টি করছে। শুষ্ক মৌসুমে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় পানির সংকট তীব্র হয়েছে। সম্প্রতি, নগরীর নথুল্লাবাদ ও কাজীপাড়ার পাম্প হাউজ দুটি প্রায় অচল হয়ে পড়েছে, কারণ এখানকার গভীর নলকূপ থেকে পানি উঠছে না।

বরিশাল সিটি কর্পোরেশন (বিসিসি) সূত্রে জানা গেছে, নগরীর দৈনিক পানির চাহিদা প্রায় ৭ কোটি ২০ লাখ লিটার, যেখানে ৩৮টি পাম্পের মাধ্যমে ৩ কোটি ২০ লাখ লিটার পানি সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। কিন্তু শুষ্ক মৌসুমের কারণে পানির স্তর আরও নিচে নেমে যাওয়ায় সরবরাহ আরও কমে গেছে এবং গড়ে ১০ লাখ লিটার পানির ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এর ফলস্বরূপ, বরিশালের বেশিরভাগ এলাকাতে পানি সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে।

পরিবেশবিদরা জানাচ্ছেন, নগরীতে ঢালাওভাবে গভীর নলকূপ খনন, কাঁচা নালা এবং আরসিসি ড্রেন নির্মাণের ফলে পানির স্তর আরও নিচে নেমে যাচ্ছে। তারা দাবি করছেন, গত কয়েক বছরে বৃষ্টির ঘাটতি ও প্রকৃতির বিরূপ আচরণ পানির স্তর কমানোর অন্যতম কারণ। এই সমস্যা বিশেষ করে ডিসেম্বর থেকে প্রকট হয়ে উঠেছে, এবং চলতি মাসে পানির উত্তোলন অনেকাংশে কমে গেছে।

পানির সংকট মোকাবেলা করতে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন দুটি ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে। যদিও প্লান্ট দুটি গত পাঁচ বছরে বন্ধ ছিল, এখন সেগুলো চালু করার জন্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করা হয়েছে। একটি প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে প্রাথমিক প্রতিবেদন জমা দিয়েছে এবং প্লান্ট চালু করতে প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ের একটি পরিসংখ্যান দিয়েছে।

২০০৩-০৪ অর্থবছরে সরকারের অনুমোদন নিয়ে দুটি ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট এবং ২শ কিলোমিটার পাইপলাইন স্থাপনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছিল। ২০১৮ সালে প্রকল্পটি সম্পন্ন হলেও, এটি সরাসরি নগরবাসীর কাছে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা না করে শুধুমাত্র ওভারহেড ট্যাংকগুলোতে পানি পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল, যার ফলে প্রকল্পটি কার্যকর হয়নি। বর্তমানে সিটি কর্পোরেশন এই প্লান্ট দুটি চালু করতে ব্যাপক চেষ্টা করছে এবং আগামী ছয় মাসের মধ্যে প্লান্ট দুটি চালু করার লক্ষ্যে কাজ করছে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ফিরে দেখা বরিশাল: রাজনৈতিক উত্তেজনা, সহিংসতা ও গণঅভ্যুত্থান

গত এক বছরের মধ্যে বরিশালে ঘটে গেছে নানা তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা, যা প্রভাব ফেলেছে স্থানীয় রাজনীতি, সামাজিক পরিস্থিতি ও জনগণের জীবনে। ২০২৪ সালের ৮ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে শুরু হয়ে ৩৬ জুলাই বা ৫ আগস্ট ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থান এবং ফ্যাসিবাদের পতনে শেখ হাসিনা ও তার দলের নেতাকর্মীদের পলায়ন—এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। বরিশালও ছিল এসব ঘটনাপ্রবাহের অংশ।

নির্বাচন ও বরিশালের আওয়ামী লীগে দ্বন্দ্ব ::

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বরিশাল আওয়ামী লীগে তীব্র বিরোধ দেখা দেয়। জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য কর্ণেল অবঃ জাহিদ ফারুক ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সদস্য সালাউদ্দিন রিপনের মধ্যে ছিল তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা। এতে বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহের সমর্থন পেয়ে স্যালাউদ্দিন রিপন আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠেন, যা আওয়ামী লীগে বিভক্তির সূচনা ঘটায়। সাধারণ ভোটাররা এ নির্বাচন বয়কট করে সরকারের প্রতি তাদের অনাস্থা প্রকাশ করে।

বিস্ফোরণ, ধর্ষণ এবং শ্রমিক সংঘর্ষ ::

বরিশালে একের পর এক দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটে। ১৩ ফেব্রুয়ারী গৌরনদী উপজেলায় বোমা উদ্ধার করতে গিয়ে বিস্ফোরণ ঘটে, যার ফলে পুলিশ সদস্যসহ তিনজন আহত হয়। মার্চে সোমালিয়ার জলদস্যুদের কবলে পড়ে বাংলাদেশের এমভি আবদুল্লাহ জাহাজ। এই ঘটনায় বরিশালের বানারিপাড়া উপজেলার মেরিন ইঞ্জিনিয়ার মোঃ আলী হোসেনও জিম্মি হন। এরপর ২১ এপ্রিল বাকেরগঞ্জের এক বৃদ্ধাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়, যা বরিশালে ব্যাপক আলোচিত হয়।

এদিকে ২৩ মে ফরচুন সু হাউজে শ্রমিকদের আন্দোলনে আনসার সদস্যরা গুলি চালায়, যাতে ৫ শ্রমিক আহত হয়। এর কয়েকদিন পর, ১২ জুন কাউনিয়ায় একটি নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটে, যেখানে বাবা তার পাঁচ বছর বয়সী মেয়েকে হত্যা করে আত্মহত্যা করেন।

ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থান ::

জুলাই থেকে শুরু হওয়া কোটা আন্দোলন ও বৈষম্য বিরোধী শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এক পর্যায়ে গণঅভ্যুত্থানে পরিণত হয়। ১ আগস্ট থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত আন্দোলন ব্যাপক আকার ধারণ করে, যার ফলে সরকার পালিয়ে যায় এবং ৮ আগস্ট একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হয়। এতে বরিশালের আওয়ামী লীগ নেতা টুটুল চৌধুরী নিহত হন এবং শহরের বিভিন্ন জায়গায় ব্যাপক সহিংসতা ঘটে।

গ্রেফতার, বিস্ফোরক এবং রাজনৈতিক উত্তেজনা ::

অগাস্টে বরিশাল আসনের সাবেক সাংসদ জাহিদ ফারুক শামিন গ্রেফতার হন। এরপর কয়েকটি গ্রেনেড উদ্ধার হওয়া, ১ অক্টোবর বিএনপির অফিসে আক্রমণ এবং ২৩ অক্টোবর মঈন আব্দুল্লাহর গ্রেফতার—এই ঘটনাগুলোর কারণে বরিশালে রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ডিসেম্বরে বরিশালের সড়ক দুর্ঘটনা এবং স্প্রীডবোট সংঘর্ষে ৬ জন নিহত হয়, যা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।

প্রশাসনিক পরিবর্তন এবং বরিশালবাসীর প্রত্যাশা ::

গত এক বছরে বরিশালের প্রশাসনিক কাঠামোতে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটেছে। বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নিযুক্ত হওয়ার পর, বরিশালবাসী তাদের সুসংহত ভবিষ্যতের জন্য আশাবাদী। তবে সিটি করপোরেশনের কার্যক্রম এখনও হতাশাজনক, যা জনগণের মধ্যে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




আগুন লাগলেই সর্তক করবে বরিশালের ক্ষুদে বিজ্ঞানী ইরারনের ‘অগ্নি’ ডিভাইস

অফিস, আদালত, শিল্প-কারখানা কিংবা বাসা-বাড়িতে আগুন লাগলে মানুষের মতো করে আশপাশের লোকজনকে বাংলা ও ইংরেজী ভাষায় ডেকে সতর্ক করার পাশাপাশি এ্যালার্ম বাজিয়ে সতর্ক করে দিবে ক্ষুদে বিজ্ঞানী ইরান সরদারের উদ্ভাবিত ‘অগ্নি’ নামের ডিভাইস। অগ্নি ডিভাইসটির প্রধান কাজ হলো বাসা-বাড়ি, অফিস-আদালত, শিল্প-কারখানার গ্যাস লাইন থেকে গ্যাস লিকেজ হলে এটি গ্যাস সনাক্ত করে সেকেন্ডের মধ্যে অটোমেটিক গ্যাস লাইন এবং বাসার গ্যাস সিলিন্ডার বন্ধ করে দিবে। পাশাপাশি রেড সিগন্যাল দিবে এবং এ্যালার্ম বাজিয়ে আশপাশের লোকজনকে সতর্ক করবে। এছাড়া, গ্যাস ছড়িয়ে পড়ার আগেই এটি গ্যাস বাসার বাহিরে বের করে দিবে। সেখানে যদি আগুন লাগে বা অগ্নিকান্ডের দুর্ঘটনা ঘটে, তাহলে ‘অগ্নি’ ডিভাইসটি সেকেন্ডের মধ্যে আশপাশের লোকজনকে সতর্ক করে দিবে।

এমনই একটি কার্যকরী ডিভাইস উদ্ভাবন করেছেন  আগৈলঝাড়া উপজেলার গৈলা গ্রামের ক্ষুদে বিজ্ঞানী ইরান সরদার। সরকারি গৈলা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি এবং মাহিলাড়া ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করা ইরান সরদার বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রোবটিক্স নিয়ে পড়াশোনা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি বলেন, “আমাদের দেশে প্রতিনিয়ত অগ্নিকাণ্ড দুর্ঘটনা ঘটছে যা একটি ভয়াবহ দূর্যোগে রূপ নিয়েছে। গ্যাস লাইন লিকেজ এবং মানুষের অসাবধানতা এর প্রধান কারণ। এই সমস্যার সমাধান হিসেবে ‘অগ্নি’ ডিভাইসটি উদ্ভাবন করা হয়েছে।”

ইরান সরদার আরও জানান, “সর্বশেষ বাংলাদেশের সচিবালয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর আমি এই ডিভাইসের উদ্ভাবনে মনোনিবেশ করি এবং সফলভাবে এটি তৈরি করতে সক্ষম হয়েছি। এর জন্য মোট খরচ হয়েছে মাত্র পাঁচ টাকা।” তিনি আশা করছেন, সরকারি কিংবা শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর সহায়তা পেলে ‘অগ্নি’ ডিভাইসটি বাণিজ্যিকভাবে বাজারজাত করা সম্ভব হবে এবং দেশের বড় বড় অগ্নিকাণ্ড থেকে মানুষ এবং সম্পত্তি রক্ষা করা যাবে।

আগৈলঝাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারিহা তানজিন বলেন, “বাংলাদেশে অগ্নিকাণ্ডের সংখ্যা বেড়েছে। ক্ষুদে বিজ্ঞানী ইরান সরদারের উদ্ভাবিত ‘অগ্নি’ ডিভাইসটি একটি সময়োপযোগী উদ্ভাবন। এটি দেশে অগ্নি দুর্ঘটনা কমাতে এবং মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।”

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের তথ্যানুসারে, ২০২৩ সালে সারাদেশে ২৭ হাজার ৬২৪টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে এবং এতে প্রায় ৭৯২ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে। এসব দুর্ঘটনা থেকে সুরক্ষা দিতে ইরান সরদারের ‘অগ্নি’ ডিভাইসটি বেশ সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বারুদের গন্ধ, ধোঁয়া ও বিকট শব্দে ২০২৫ বরণ

রাত ১২টা বাজার কয়েক মিনিট আগে থেকেই শুরু হয় আতশবাজি। ঘড়ির কাটা ১২টা ছুঁয়ে যেতেই তা যেনো ভয়াবহ মাত্রায় পৌঁছায়।

মুহুর্মুহু শব্দে কেপে উঠতে থাকে পুরো এলাকা, কখনও কখনও জানালার থাই ও গ্লাসগুলো কেপে উঠছিল শব্দের কম্পনে। ভবনগুলোর ছাদে উঠে আতশবাজিতে মেতে ওঠে স্থানীয়রা। দেখলে মনে হবে যেনো আতশবাজি পোড়ানোর প্রতিযোগিতায় মেতেছে বাসিন্দারা, কে কার চেয়ে বেশি পোড়াতে পারেন, কারটা বেশি উপরে উঠছে, আর কার বাজির শব্দ বেশি।

কয়েক মিনিটের ব্যবধানে বাতাস ধোঁয়া ও বারুদের গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার না করা হলে সমানতালে ওড়ানো হয় ফানুস।

বিদায়ী বছর ২০২৪ এর আগমনের প্রহরে আতশবাজি নিয়ে অনেক হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছিল, তারপর ব্যাপকভাবে সমালোচনার ঝড় বয়ে যায় নেট দুনিয়ায়। অনেকে আশা করেছিলেন, এবার অন্তত এই আতশবাজি থেকে বিরত থাকবে জনগণ। কিন্তু রাজধানীর অভিজাত এলাকা হিসেবে পরিচিত ধানমন্ডির যেনো আগের বছরের পুনরাবৃত্তি। সাধারণ মানুষের মনে কাঁপন ধরা শব্দ, বয়স্ক লোকজন এবং পাখিদের কি হতে পারে, তা সহজেই অনুমেয়। কিন্তু ভয়াবহ মাত্রায় আতশবাজি যেনো থামানোর কেউ নেই।

শীতে ফুটপাতে যখন নজেহাল দুস্থরা, তাদের দিকে হাত না বাড়িয়ে লাখ লাখ দিয়ে শব্দ ও পরিবেশ দূষণ নিয়ে অনেকে ক্ষোভ জানাচ্ছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত রাত ১টা বাজেও চলছিলো এই আতশবাজির মহড়া।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




 ইংরেজি নববর্ষের শুভেচ্ছা তারেক রহমানের

ইংরেজি নববর্ষ ২০২৫ উপলক্ষে দেশবাসী ও প্রবাসীদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ৩১ ডিসেম্বর এক বিবৃতিতে তিনি এই শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, “খ্রিস্টীয় নববর্ষ উপলক্ষে আমি দেশ-বিদেশের সবাইকে প্রাণঢালা শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। কামনা করি সবার জীবনে খ্রিস্টীয় নববর্ষ অনাবিল আনন্দ, সুখ, স্বাচ্ছন্দ, শান্তি ও কল্যাণ বয়ে আনুক। শুভ নববর্ষ।”

তারেক রহমান নতুন বছরের জন্য আশাবাদ ব্যক্ত করে আরও বলেন, “নতুন বছরে আমরা দেশের সামগ্রিক রূপান্তরের একটি পর্বে উপনীত হতে পারবো বলে আশা রাখি। অতীতের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আসুন আমরা রাষ্ট্র ও সমাজে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে একযোগে কাজ করি।”

তিনি আরও বলেন, “অমিত সম্ভাবনার পথে এগিয়ে যাক বাংলাদেশ। চিরদিনের জন্য দূর হয়ে যাক সব অন্যায়-উৎপীড়ন, নির্যাতন। আমরা এমন একটি জাতি নির্মাণের প্রত্যাশা করছি, যেখানে প্রত্যেকটি নাগরিকই গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রত্যেকের কণ্ঠ স্বাধীন থাকবে।”

তারেক রহমান ২০২৪ সালের উল্লেখযোগ্য ঘটনার কথা স্মরণ করে বলেন, “গেল বছরটি এখন আমাদের মনে সতর্ক হয়ে থাকবে। গত বছরের কিছু তিক্ত অভিজ্ঞতা, ছাত্র-জনতার আত্মদান এবং অধিকার হারানোর যন্ত্রণা আগামী বছরে আমাদের একদিকে যেমন বেদনার্ত করবে, অন্যদিকে নতুন উদ্যোমে শান্তি, সম্প্রীতি ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের অধিকার ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনায় আমাদের উদ্বুদ্ধ করবে।”

তিনি আরও বলেন, “আজকের দিনে আমাদের অঙ্গীকার হবে, জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সমূহ শক্তিশালী করা ও অর্থনীতির পুনরুদ্ধারসহ বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনরুজ্জীবনে একযোগে কাজ করা।”

ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান গণতন্ত্রের আন্দোলনে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “গণবিরোধী পরাজিত শক্তি এতদিন জনগণের সকল অধিকারকে বন্দী করে রেখেছিল। এমতাবস্থায় সকল গণতান্ত্রিক শক্তির মিলিত প্রচেষ্টায় বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু করতে হবে। হৃত গণতন্ত্র ও ভোটের অধিকার ফিরে পাওয়ার জন্য বাংলাদেশের সংগ্রামী মানুষকে অগ্রণী ভূমিকা পালনের জন্য আমি সকলের প্রতি উদাত্ত আহবান জানাচ্ছি।”

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




 থার্টি ফার্স্ট নাইটে বরিশালজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা, মোড়ে মোড়ে চেকপোস্ট

থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপনকে কেন্দ্র করে বরিশাল শহরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ (বিএমপি) এই রাতের জন্য সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে, যাতে নগরবাসী সুষ্ঠু ও নিরাপদ পরিবেশে নতুন বছর উদযাপন করতে পারে।

এবারের থার্টি ফার্স্ট নাইট উপলক্ষে পুরো শহরে চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে এবং নগরীর প্রতিটি থানা এলাকায় পুলিশের টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে। সাদা পোশাকে পুলিশ সদস্যদের নজরদারি থাকবে, পাশাপাশি সন্দেহভাজনদের তল্লাশি করা হবে। পুলিশের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, থার্টি ফার্স্ট নাইটে আতশবাজি ও ফানুস ওড়ানোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে থানা পুলিশ বিভিন্ন স্থান থেকে ফানুস ও আতশবাজি বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে তাদের বিরত থাকার জন্য অনুরোধ করেছে।

নগরীজুড়ে পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি, ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সও অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধে প্রস্তুত রয়েছে। বিশেষ করে ফানুস ও আতশবাজি থেকে সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি মোকাবিলা করতে বরিশাল ফায়ার স্টেশনকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। সেনাবাহিনী এবং র‌্যাবও এদিন কঠোর অবস্থানে থাকবে।

এছাড়া, উন্মুক্ত স্থানে কোনো অনুষ্ঠান না হওয়ার জন্য বরিশাল সিটি করপোরেশন ও পুলিশ কমিশনার কর্তৃক আরও নির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে থার্টি ফার্স্ট নাইটে বরিশালে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে, যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম নিরাপত্তা ব্যবস্থার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছি। যদিও কোনো গোয়েন্দা সংস্থার কাছ থেকে নগরীর জন্য বিশেষ কোনো হুমকি সঙ্কেত পাওয়া যায়নি, তবুও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




 বরিশাল শহরে ইমারত নীতিমালা না থাকায় দুর্ভোগ

বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) সুনির্দিষ্ট ইমারত নীতিমালা না থাকার কারণে শহরের নাগরিকরা ভবন নির্মাণে নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। দুই বছর ধরে নতুন ভবনের নকশা অনুমোদন না পাওয়ায় আবাসন খাত এবং ব্যক্তিপর্যায়ের ভবন নির্মাতারা বিপাকে পড়েছেন। ভবন নির্মাণে এই জটিলতা ও হয়রানি নিরসনের পাশাপাশি নগরীর জন্য উপযোগী ইমারত নির্মাণবিধি প্রণয়নের দাবি নিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন, আগে নকশা অনুমোদন নিয়ে নানা ধরনের নৈরাজ্য ও বাণিজ্য ছিল, কিন্তু নতুন প্রশাসন আসার পর সেই সব বন্ধ হয়ে গেছে। ইতোমধ্যে তারা অর্ধশত ভবনের নকশা অনুমোদন সম্পন্ন করেছেন এবং শিগগিরই তা বাস্তবায়ন করতে চলেছেন।

প্রসঙ্গত, ১৯৯৬ সালে ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অনুযায়ী বরিশাল সিটি করপোরেশন ভবনের নকশার অনুমোদন দেওয়া শুরু করে। পরবর্তী সময়ে, ২০০৮ সালে শওকত হোসেন হিরণ মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণের পর এই বিধিমালার পরিমার্জিত সংস্করণ কার্যকর করা হয়। ২০১০ সালের পর থেকে, এটি নাগরিকদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে এবং নকশা জমা দেওয়ার হার কমে যায়। ২০২০ সালে সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ বরিশাল ইমারত নির্মাণবিধি-২০২০ নামে একটি নতুন বিধি প্রণয়ন করেন, যা কিছুটা বাস্তবতার সাথে মিল রেখে তৈরি হয়েছিল।

তবে বর্তমান মেয়র আবুল খায়ের আবদুল্লাহ খোকন ২০২০ সালের বিধি বাতিল করে ১৯৯৬ সালের বিধিমালা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেন। এর পর থেকে নতুন ভবন নির্মাণের জন্য নকশা অনুমোদনের জন্য ৯৫০টিরও বেশি আবেদন জমা পড়েছে, কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে কোনো অগ্রগতি হয়নি।

বরিশাল নাগরিক অধিকার আন্দোলনের সদস্যসচিব প্রকৌশলী আবু সালেহ বলেন, “বর্তমান মেয়র এবং সিটি করপোরেশন যে বিধি অনুসরণ করছেন তা বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। ১৯৯৬ সালের বিধি অনুসারে, অধিকাংশ রাস্তার প্রশস্ততা কম থাকায় ২ থেকে ৫ তলার বেশি প্ল্যান অনুমোদন সম্ভব নয়।”

তিনি আরও জানান, “নগরীর জন্য একটি সুনির্দিষ্ট ইমারত নির্মাণ বিধিমালা থাকা প্রয়োজন, যাতে ভবন নির্মাণের জন্য অনুমোদন দ্রুত এবং কার্যকরীভাবে দেওয়া যায়। এছাড়া দুর্নীতি রোধে ‘ওয়ান-স্টপ সার্ভিস’ চালু করা এবং জমির শ্রেণি অনুযায়ী নকশা অনুমোদন প্রক্রিয়ায় অবিলম্বে পরিবর্তন আনা উচিত।”

বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বারী বলেন, “আমরা বাড়ি নির্মাণের জন্য সিটি করপোরেশনে জমা দেওয়া প্ল্যানগুলো যাচাই-বাছাই করছি। এরই মধ্যে ৫০টি প্ল্যান যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হয়েছে এবং শিগগিরই সেগুলো অনুমোদন করা হবে।”

এছাড়া তিনি জানান, নকশা অনুমোদন সংক্রান্ত যে নৈরাজ্য ও বাণিজ্য ছিল, তা এখন বন্ধ করা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




২০২৪ সালে যাদের হারিয়েছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়

দরজায় কড়া নাড়ছে নতুন আরেকটি বছর। এরইমধ্যে অনেকে নতুন বছরের পরিকল্পনাও সাজাতে বসে গেছে। আনন্দ-বেদনা, আশা-নিরাশায় ভেলায় চড়ে সবাই ২০২৪ সালকে বিদায় জানাতে যখন প্রস্তুত তখন একটু পেছন ফিরে দেখা যাক ফেলে আসা দিনগুলো।

চলতি বছর বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় হারিয়েছে বেশ ক’জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে। যারা কোনোদিন ফিরবেন না। চিরদিনের জন্য পাড়ি জমিয়েছেন না ফেরার দেশে। চলতি বছরে ঘটে যাওয়া সেই হৃদয়বিদারক ঘটনাগুলো নিয়ে এই প্রতিবেদন।

বছরের শুরুর দিকে (১৭ জানুয়ারি) রাতে মেসের নিজ কক্ষে বৃষ্টি সরকার গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। মৃত শিক্ষার্থী বৃষ্টি সরকার বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি সাতক্ষীরায়। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন কর্ণকাঠির এমএম টাওয়ারের ষষ্ঠতলায় একটি মেসে থাকতেন।

৯ জুন রাত ১১টার দিকে শেফা নূর ইবাদি নামের এক ছাত্রীকে হলের পাঠকক্ষের জানালার গ্রিলের সঙ্গে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় পাওয়া যায়। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি ‘আত্মহত্যা’ করেছেন। শেফা নূর বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের স্নাতক চতুর্থ বর্ষে পড়তেন। তাঁর বাড়ি পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায়। তিনি বঙ্গমাতা হলের ১৪১১ নম্বর কক্ষে থাকতেন।

৬ সেপ্টেম্বর পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী অর্পনা দাস শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তিনি বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার বাড়িতে ‘আত্মহত্যার চেষ্টা’ করেন। হাসপাতালে আনা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

৩০ অক্টোবর সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান পরিসংখ্যান বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মাইশা ফৌজিয়া মিম । বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কে বাসচাপায় তিনি নিহত হন। এই ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেন।

এছাড়া বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। এক সপ্তাহে ছয়টি দুর্ঘটনায় শিশুসহ তিনজন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীও মাইসা ফৌজিয়া মিম।

এই মর্মান্তিক ঘটনাগুলো বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে গভীর শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

“মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”




২০২৫ সালকে স্বাগত জানাচ্ছে বিশ্ব

বিশ্বজুড়ে নানা আয়োজন ও আনন্দঘন পরিবেশের মধ্যে ২০২৫ সালকে স্বাগত জানাতে শুরু করেছে মানুষ। নতুন বছরের শুরুতেই প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দ্বীপদেশ কিরিবাতি প্রথম ২০২৫ সালকে বরণ করে। এরপর, নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ডে আতশবাজির ঝলকানিতে নতুন বছরের আগমন উদযাপিত হয়।

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতেও এক মহা আতশবাজির আযোজনে ২০২৫ সালকে স্বাগত জানানো হয়। রাত ১২ টা বাজতেই আকাশ আলোকিত হয়ে ওঠে আতশবাজির বিস্ফোরণে। এই সময়ে অস্ট্রেলিয়ার নর্দার্ন টেরিটোরিও নতুন বছরে প্রবেশ করে।

জাপানে, রাজধানী টোকিওর তোদাই-জি মন্দিরে ঐতিহ্যবাহী ঘন্টাধ্বনি বাজানোর মাধ্যমে ২০২৫ সালকে বরণ করে নেওয়া হয়। এর পরই দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত, শ্রীলংকা ও অন্যান্য দেশ একে একে নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে শুরু করবে।

চীনে, শ্যানডং প্রদেশে একদল নারী ২০২৫ সালের আগমন উপলক্ষে শুভ কামনার ব্যানার নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে। চীনের কংজিয়াং কাউন্টিতে গ্রামের মানুষরা প্রচলিত বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানাচ্ছে। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংও বেইজিংয়ে ভাষণ দেবেন নতুন বছরের আগমন উপলক্ষে।

বিশ্বের অন্যান্য দেশেও নতুন বছরকে বরণ করতে নানা প্রস্তুতি চলছে। তবে, যুক্তরাজ্যে আবহাওয়ার কারণে কিছু অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ায়, বছরের শেষের ভয়াবহ উড়োজাহাজ দুর্ঘটনার পর, নতুন বছর উদযাপন কিছুটা নীরবভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

স্পেনে, নতুন বছরের কাউন্টডাউনের সময় একেকটি আঙুর খাওয়ার প্রথা রয়েছে, যা ১৯০৯ সাল থেকে চলে আসছে। ডেনমার্কে নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে থালা ছুড়ার রীতি রয়েছে। ল্যাটিন আমেরিকায় রঙিন অন্তর্বাস পরে নতুন বছরকে বরণ করার প্রথা আছে, যেখানে বিশ্বাস করা হয়, বিভিন্ন রঙের অন্তর্বাস ব্যক্তির জন্য বিভিন্ন ধরণের ভাগ্য নিয়ে আসে।

ফিলিপিন্সের মানুষরা নতুন বছরের আগমনীতে গোল আকারের জিনিস দিয়ে নিজেদের ঘিরে রাখে, পাশাপাশি পোলকা ডটের কাপড় পরিধান করে এবং আঙুর খাওয়ার রীতি পালন করে।

বিশ্বের অন্যান্য দেশের পাশাপাশি, কিছুটা দেরিতে নতুন বছরে প্রবেশ করবে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, এবং সবশেষে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলীয় অঞ্চলগুলো।

“মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”




নতুন বছরে দেশের জন্য উন্নতির প্রতিশ্রুতি: প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস

নতুন বছরের আগমনে দেশবাসী এবং প্রবাসী বাঙালিসহ বিশ্ববাসীর জন্য শুভেচ্ছা বার্তা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। বুধবার (১ জানুয়ারি) এক বাণীতে তিনি নতুন বছরের শুরুতে মানুষের মাঝে সম্প্রীতি, সৌহার্দ ও ভ্রাতৃত্ব জোরদারের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, নতুন বছরের সূচনা সবসময়ই আমাদের মাঝে নব উদ্যম জাগ্রত করে এবং সুন্দর আগামীর জন্য নতুন করে পরিকল্পনা গ্রহণে অনুপ্রাণিত করে। তিনি আরও বলেন, ছাত্র-শ্রমিক-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশের উন্নয়ন ও লাখো শহিদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতাকে সমুন্নত রাখতে বদ্ধপরিকর।

নতুন বছরে দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আমরা দেশকে ভালোবাসব এবং সর্বশক্তি দিয়ে দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করব। একইসঙ্গে যেকোনো সন্ত্রাসবাদ প্রতিহত করে শান্তি বজায় রাখব।”

তিনি আরও বলেন, নতুন বছরের প্রতিটি দিন সকলের জীবনে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি বয়ে আনবে। সকল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে উন্নতির শিখরে পৌঁছানোর অঙ্গীকার করেছেন বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। নতুন বছরের এই মাহেন্দ্রক্ষণে জনগণের কল্যাণে সকল বাধা অতিক্রম করে এগিয়ে যাওয়ার বার্তা দেন তিনি।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম