২০২৫: নবজাগরণের পথে বাংলাদেশ

২০২৫ সাল আমাদের জন্য সম্ভাবনার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। বিগত বছরগুলোর সংগ্রাম ও সাফল্যের ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে উন্নয়নের নতুন ধারায়। গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ও সংগ্রামের প্রেরণায় উজ্জীবিত হয়ে আমরা স্বপ্ন দেখছি আরও শক্তিশালী ও স্বনির্ভর জাতি গঠনের।

২০২৪: সংগ্রামের উত্তাপ থেকে নবজাগরণ

২০২৪ সাল ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গৌরবময় অধ্যায়। গণ-অভ্যুত্থানের অগ্নিশিখা সারা জাতিকে একত্রিত করেছিল। এই বছরটি শুধু অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের নয়, বরং ন্যায়, গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের জন্য এক অবিস্মরণীয় লড়াইয়ের প্রমাণ। তরুণদের উদ্দীপনা, নারীদের দৃঢ়তা এবং কৃষক-শ্রমিকের একতাবদ্ধ চেষ্টায় বুনে দেওয়া হয়েছিল পরিবর্তনের বীজ।

গণতন্ত্রের আলো ম্লান হলেও নিভে যায়নি। লাখো কণ্ঠের সম্মিলিত সুরে ধ্বনিত হয়েছিল মুক্তির গান। সেই সংগ্রামের অর্জনই নিয়ে এসেছে আমাদের ২০২৫ সালের নতুন স্বপ্ন।

২০২৫: উন্নয়ন ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার

২০২৫ সাল হলো সেই অর্জনকে কার্যকর করার সময়। অতীতের অভিজ্ঞতা আর সংগ্রামের চেতনাকে কাজে লাগিয়ে জাতি হিসেবে আমরা এগিয়ে যাব।

মানবাধিকারের অগ্রগতি: গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে ভিত্তি করে সমাজের প্রতিটি স্তরে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

শিক্ষা ও সচেতনতা: নতুন প্রজন্মের মাঝে ঐক্য ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করার মাধ্যমে একটি শক্তিশালী জাতি গড়ে তোলা হবে।

অর্থনৈতিক সমতা: বৈষম্যের অবসান ঘটিয়ে সবার জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করাই হবে জাতির অগ্রগতির মূল ভিত্তি।

আশার কাব্য: স্বপ্ন থেকে বাস্তবতা

বাংলাদেশ আজ এগিয়ে যাচ্ছে সাহস, ঐক্য ও সংকল্পের পথে। গণ-অভ্যুত্থানের উত্তাপ আমাদের শিখিয়েছে, ঐক্যবদ্ধ জাতি কোনো বাধাকে ভয় পায় না। ২০২৫ সাল হবে সেই নবজাগরণের বছর, যেখানে প্রতিটি স্বপ্নই হবে বাস্তবতার অংশ।

 

২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা আমাদের আরও একবার মনে করিয়ে দেয়, একতাই শক্তি। আসুন, আমরা সবাই মিলে গড়ে তুলি একটি নতুন বাংলাদেশ, যেখানে প্রতিটি নাগরিকের অধিকার সুরক্ষিত থাকবে এবং উন্নয়ন হবে সবার।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




মুহাম্মদ ইউনূস কে নিয়ে জিনিউজের প্রতিবেদন সম্পূর্ণ মিথ্যা: প্রেস উইং

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেতৃত্বে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে ঘিরে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জিনিউজে প্রকাশিত ‘ডিএনএ এক্সক্লুসিভ: বাংলাদেশে মুহাম্মদ ইউনূসের কথিত অপারেশন অক্টোপাস বিশ্লেষণ’ প্রতিবেদনটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং বানোয়াট বলে জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং।

প্রেস উইং তার যাচাইকৃত ফেসবুক পেজ ‘সিএ প্রেস উইং ফ্যাক্টস’-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেছে, এই প্রতিবেদনটির কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। এটি একটি সুপরিকল্পিত প্রচারণার অংশ, যার উদ্দেশ্য বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘‘আমরা সুস্পষ্টভাবে গল্পের প্রতিটি বিষয় অস্বীকার করছি। এটি একটি অপপ্রচার, যা বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার অসৎ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে। এ ধরনের অপপ্রচারে কান না দেওয়ার জন্য সবাইকে অনুরোধ জানাচ্ছি।’’

প্রেস উইং আরও জানায়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর মুহাম্মদ ইউনূস নিজেই ভারতীয় গণমাধ্যমকে বাংলাদেশ সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানান। তবে দুঃখজনকভাবে, কিছু শীর্ষ ভারতীয় গণমাধ্যম এ আমন্ত্রণে সাড়া না দিয়ে নামহীন সূত্রের বরাত দিয়ে ভিত্তিহীন গল্প প্রচার চালিয়েছে।

বিবৃতিতে প্রেস উইং স্পষ্ট করে জানিয়েছে, এই ধরণের অপপ্রচার বন্ধ করা উচিত এবং সংবাদমাধ্যমগুলোর উচিত সত্য তথ্য তুলে ধরা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ধানের দামে ধস, হতাশ পটুয়াখালীর কৃষকরা

পটুয়াখালীর বাউফলের কালাইয়া হাট, দক্ষিণাঞ্চলের বৃহত্তম ধানের বাজারে, আমন ধানের সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় দামে বড় ধরনের পতন ঘটেছে। এতে করে কৃষকরা চরম হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন। এই হাটে সপ্তাহের প্রতি সোমবার ধান কেনাবেচা হয়।

স্থানীয় কৃষক আলমগীর গাজী (৬৮) বলেন, “২৫ মণ ধান এনেছিলাম, কিন্তু মাত্র ১,৪০০ টাকা মণ দরে বিক্রি করতে হয়েছে। পাওনাদারের দেনা শোধ করার পর সংসারের খরচ কীভাবে চালাবো বুঝতে পারছি না।”

উপজেলা কৃষি অফিস জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে বাউফলের চরাঞ্চলে ৩৪ হাজার ৬৫১ হেক্টর জমিতে আমনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে এবং ফলন ভালো হয়েছে। তবে বাজারে দাম কমে যাওয়ায় কৃষকরা উৎপাদন খরচও তুলতে পারছেন না।

এবার স্থানীয় মোটা জাতের ধান বিক্রি হচ্ছে ১,৪০০ থেকে ১,৫০০ টাকা মণ দরে। ইরি জাতের দাম ১,২৫০-১,২৬০ টাকা, স্বর্ণমুসরী ১,৩০০ টাকা এবং সুগন্ধি কালিজিরা ধান ১,৬০০-১,৬৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ এক সপ্তাহ আগেও এই দাম ১৫০-২০০ টাকা বেশি ছিল।

দাশপাড়া গ্রামের কৃষক জহিরুল ইসলাম বলেন, “জমি চাষ, বীজ, সার এবং শ্রমিক খরচ বাবদ যে খরচ হয়েছে, তা তুলতেই হিমশিম খাচ্ছি। বাজারদর এত কম হলে কৃষি কাজে কেউ উৎসাহিত হবে না।”

হাটে ধান বিক্রি করতে এসে দর কম থাকায় হতাশা প্রকাশ করেন ধানদী গ্রামের কৃষক মোহাম্মদ আলী। তিনি জানান, “আমন ধানই আমাদের প্রধান আয়ের উৎস। কিন্তু বর্তমানে বাজারদর এত কম যে সংসার চালানোও কঠিন হয়ে পড়েছে।”

এদিকে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কমল গোপাল দে জানান, সরকার প্রতি মণ ধানের দাম ১,৩২০ টাকা নির্ধারণ করেছে এবং এই মৌসুমে কৃষকের কাছ থেকে ২,৩০০ টন ধান সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ৩০০ কৃষক আবেদন করলেও তাদের কাছ থেকে কোনো ধান সংগ্রহ শুরু হয়নি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মিলন বলেন, “চরাঞ্চলে আমন ধানের ভর মৌসুম চলছে। সরকারিভাবে ধান সংগ্রহ শুরু হলে বাজারে ধানের দাম বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।”

ধানের মূল্য কমে যাওয়ায় পটুয়াখালীর কৃষকদের চোখেমুখে এখন শুধুই হতাশা। তারা চান, সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করুক।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের স্পষ্ট বার্তা ‘আগে বিচার ও সংস্কার’

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়করা বলেছেন, ‘যারা হাসিনার মতো স্বৈরাচারকে বিতাড়িত করতে পেরেছে, তারা দেশও চালাতে পারবে। তরুণেরা পেরেছে, পারবে। স্বৈরাচারের দোসরদের জায়গা এ দেশে আর হবে না।’

তারা বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগের বিচার ও দেশ সংস্কারের আগে কোনো নির্বাচন হবে না।’

মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে ‘মার্চ ফর ইউনিটি’ কর্মসূচিতে এসব কথা বলেন নেতারা।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে সাধারণ জনতা ও শিক্ষার্থীদের ঢল নামে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায়। সমাবেশস্থল পরিপূর্ণ হয়ে উঠে। মিছিল আর স্লোগানে উত্তাল ঢেউ খেলে। শহীদ মিনার এলাকায় সরেজমিনে এমন চিত্র দেখা যাচ্ছে। অনুষ্ঠান বিকেল ৩টায় হওয়ার কথা থাকলেও শুরু হয় এক ঘণ্টা পর।

এক মিনিট নীরবতা পালন হয় জুলাই-আগস্টের শহীদদের স্মরণে। মঞ্চের দু’পাশে আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের পরিবারের জন্য সংরক্ষিত জায়গা রাখা হয়।

মঞ্চ থেকে থেকে মাইকে স্লোগান দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। স্লোগান দেন ‘ক্ষমতা না জনতা? জনতা, জনতা; গোলামী না আজাদী? আজাদী, আজাদী; দিল্লি না ঢাকা? ঢাকা, ঢাকা; মুজিববাদ মুর্দাবাদ, মুজিবাদী সংবিধান থাকবে না রে থাকবে না; ২৪ এর বাংলায় মুজিবাদের ঠাঁই হবে না; জুলাইয়ের প্রেরণা দিতে হবে ঘোষণা, এই মুহূর্তে দরকার, বিচার আর সংস্কার’ ইত্যাদি।

সমাবেশে আগত সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীদের হাতে জুলাই-আগস্টের স্মৃতি ধারণ করে প্ল্যাকার্ড, ব্যানার দেখা গেছে।




কুয়াকাটায় বছরের প্রথম দিন ঘন কুয়াশায় মোড়ানো

বছরের প্রথম দিনে কুয়াকাটায় সূর্যের দেখা মেলেনি। সকাল থেকে ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে ছিল সমুদ্রসৈকত। এই মনোরম পরিবেশে পর্যটকরা যেমন হতাশ হয়েছেন সূর্যের হাসি দেখতে না পেয়ে, তেমনি উপভোগ করেছেন কুয়াশায় মোড়ানো প্রকৃতির অসাধারণ সৌন্দর্য।

পর্যটকদের অনেকেই বলেন, বছরের শুরুতে কুয়াকাটার পরিবেশ একেবারে সিনেমার দৃশ্যের মতো মনে হয়েছে। ঘন কুয়াশার মধ্যেও সমুদ্রের গর্জন, ঢেউয়ের খেলা এবং ঠাণ্ডা হাওয়ার সাথে সৈকতে হাঁটার অভিজ্ঞতা ছিল ভিন্ন রকম।

স্থানীয় হোটেল ও রিসোর্ট ব্যবসায়ীরা জানান, নতুন বছর উপলক্ষে পর্যটকেরা আগের রাত থেকেই কুয়াকাটায় ভিড় করেছেন। তবে ঘন কুয়াশার কারণে অনেকেই সকালবেলার সূর্যোদয়ের সৌন্দর্য থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এর পরেও সৈকতে পর্যটকদের উপস্থিতি কমেনি।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের মতে, এই অঞ্চলে কুয়াশা আরও কয়েকদিন থাকতে পারে। তবে পর্যটকদের আশ্বাস দিয়ে বলা হয়েছে, দিনের বেলায় সূর্যের দেখা পাওয়া সম্ভব।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বছরের প্রথম দিন হওয়ায় কুয়াশাচ্ছন্ন পরিবেশ সবার জন্য একটি বিশেষ মুহূর্ত এনে দিয়েছে। বিশেষ করে পর্যটকদের অনেকেই প্রথমবারের মতো এমন মোহনীয় প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করেছেন।

কুয়াকাটা পর্যটন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বছরের শুরুতে এমন আবহাওয়া একদিকে যেমন পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয়, তেমনি এটি ভবিষ্যতে কুয়াকাটার পর্যটনশিল্পকে নতুনভাবে পরিচিত করতে পারে।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




সচিবালয়ে আগুনের প্রাথমিক প্রতিবেদন: তদন্তে যা উঠে এলো

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: বাংলাদেশ সচিবালয়ের সাত নম্বর ভবনে আগুনের ঘটনায় গঠিত উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি তাদের প্রাথমিক প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে জমা দেয়।

রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার গেটে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তদন্ত কমিটির প্রধান ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গণি জানান, লুজ কানেকশনে বৈদ্যুতিক স্পার্ক থেকে সচিবালয়ে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। ভয়াবহ এ আগুনে নাশকতার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে তদন্ত কমিটি।

তবে প্রাথমিক তদন্তে উদঘাটিত বৈদ্যুতিক গোলযোগের (স্পার্ক) বিষয়টির সঙ্গে অন্য কোনো ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের কোনো সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হবে বলে কমিটির পরবর্তী কার্যক্রম অংশে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত ২৬ ডিসেম্বর দিনগত মধ্য রাতে সচিবালয়ের সাত নম্বর ভবনে আগুন লাগে।

আগুনে ছয় থেকে নয় তলার প্রায় সবকিছুই পুড়ে যায়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় পাঁচ মন্ত্রণালয়।
এ ঘটনায় উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে সরকার। তদন্ত কমিটি বুয়েট, সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে রিপোর্ট তৈরি করে।
বুয়েট বিশেষজ্ঞ দলের পর্যবেক্ষণ

আগুনের উৎপত্তিস্থল ৭ নম্বর ভবনের ৬ তলার লিফট লবি সংলগ্ন করিডোর থেকে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়, পরবর্তী সময়ে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণে যার সত্যতা পাওয়া যায়। আগুনের সূত্রপাত ২৬ ডিসেম্বর রাত আনুমানিক ১টা ৩০ থেকে ১টা ৪০ মিনিটের মধ্যে। প্রথম যখন আগুন শনাক্ত করা হয়, ফায়ার ফাইটারদের সাক্ষ্য ও উত্তর দিক থেকে নেওয়া ভিডিও অ্যানালাইসিস করে দেখা যায়, আনুমানিক রাত ২টার সময় আগুন ডেভেলপ স্টেজে (বিকশিত স্তর) চলে যায়।

সিসিটিভি ফুটেজে দৃশ্যমান বৈদ্যুতিক স্পার্ক থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। সাধারণত সকেট-প্লাগে লুজ কানেকশন, ক্যাবলে ফল্টি জয়েন্ট, কনট্যাস্ট সারফেসে অক্সিডেশন ইত্যাদি কারণে বৈদ্যুতিক স্পার্ক হয়ে থাকে। উক্ত স্পার্ক সংলগ্ন এলাকায় ধোঁয়া ও আগুনের উৎপত্তি হয়, যা ক্রমশ ফ্ল্যাশওভারে পরিণত হয়। এটি একটি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, এ ধরনের অগ্নিনির্বাপণে ব্যবহৃত পানির প্রবাহে ভস্মীভূত ধ্বংসাবশেষের অধিকাংশ আলামত ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ভবনে কোনো ধরনের ফায়ার ডিটেকশন সিস্টেম না থাকায় প্রাথমিক ও বিকশিত অবস্থায় আগুন শনাক্ত করা যায়নি।

টানেল সদৃশ্য করিডোরের ফলস সিলিং দাহ্য ও অতি দাহ্য পদার্থ দিয়ে আচ্ছাদিত থাকায় আগুন অতিদ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ভবনের লিফট ও সিঁড়ির অপরিকল্পিত নকশার কারণে চিমনি ইফেক্ট সৃষ্টি হয়, যাতে অগ্নি শিখা দ্রুত ঊর্ধ্বমুখী প্রপাগেশন করে ৬ তলা থেকে ৭, ৮ ও ৯ তলায় ছড়িয়ে যায়, যা ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়।

করিডোরে আগুন প্রবাহকালে পাশের রুমগুলোর দরজা পুড়ে যায়। রুমের ভেতরে দাহ্যবস্তু (কাগজ, কাপড়, ফোম, কার্পেট, ফার্নিচার ইত্যাদি) রক্ষিত থাকার কারণে রুমে আগুন প্রবেশ করে। বিভিন্ন রুমে ফুয়েলের পরিমাণ ভিন্ন ভিন্ন হবার কারণে বিভিন্ন রুম বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ৬ তলার ৫২৪ নম্বর এবং ৮ তলার ৭০৪ নম্বর কক্ষ দুটির এয়ারকন্ডিশন থেকে রেফ্রিজারেন্ট নির্গত হয়ে প্রজ্বলনের কারণে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে প্রতীয়মান হয়।

সেনাবাহিনীর বিশেষজ্ঞ দলের পর্যবেক্ষণ

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিশেষজ্ঞ দল কর্তৃক কোনো ধরনের বিস্ফোরক ব্যবহার করে নাশকতামূলকভাবে আগুনের সূত্রপাত ও বিস্তার করা হয়েছে কিনা তার সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়েছে।

আগুনের ক্ষয়ক্ষতি ও মাত্রা বিবেচনায় বিশেষজ্ঞ দল প্রাথমিকভাবে অগ্নিকাণ্ডের তিনটি সম্ভাব্য উৎপত্তিস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করে সেনাবাহিনীর কাউন্টার আইইডি ফিউশন সেন্টারের পরীক্ষাগারে প্রাথমিকভাবে শনাক্তকরণ পরীক্ষা করা হয়।

শনাক্তকরণের কাজে তিনটি আধুনিক বিস্ফোরক ডিটেকশন ডিভাইস- প্রোর্টেবল এক্সপ্লোসিভ ট্রেস ডিটেক্টর (ইউকে), আইটেমাইজার এক্সপ্লোসিভট্রেস ডিটেক্টর (জার্মানি) ও ম্যাস স্পেকট্রোমিটার (ইউএসএ) ব্যবহার করা হয়েছে।

মাল্টি-চ্যানেল ফ্লোরিস্কেন টেকনোলজি, আয়ন মবিলিটি স্পেকট্রোমিটার (আইএমএস), আয়ন ট্রাপ ম্যাস স্পেকট্রোমিটারি পদ্ধতি ব্যবহার করে নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। চারটি নমুনা পরীক্ষা করে কোনো বিস্ফোরকের উপস্থিতি শনাক্ত করা যায়নি।

সংগ্রহকৃত একটি নমুনা বুয়েটের ল্যাবে পরীক্ষা করে কোনো রকম ক্ষতিকারক উপাদান পাওয়া যায়নি।

এছাড়াও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ডগ স্কোয়াড মোতায়েন করে কোনো ধরনের বিস্ফোরকের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।

সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অগ্নিকাণ্ডের উৎপত্তিস্থল নিশ্চিতকরণে অধিকতর পরীক্ষার জন্য ৩০ ডিসেম্বর পুনরায় নমুনা সংগ্রহ করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাউন্টার আইইডি ফিউশন সেন্টারের পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষণ

ফায়ার সার্ভিসের প্রথমে তিনটি দল ৭ নম্বর ভবনের পশ্চিম অংশের ষষ্ঠ তলার সিঁড়িতে ১টা ৫২ মিনিটে, মধ্যে খানের সিঁড়িতে ১টা ৫৮ মিনিটে এবং পূর্বাংশের সিঁড়িতে ২টা ৭ মিনিটে ফায়ার ফাইটিং শুরু করে। ফায়ার ফাইটারদের ভাষ্যমতে উক্ত সময়ে আগুন ষষ্ঠ তলার করিডোরের মধ্যে সম্পূর্ণ বিকশিত পর্যায়ে ছিল।

অগ্নিনির্বাপণ ও রেসকিউ অপারেশন পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত জায়গার অভাব ও স্পেশাল গাড়ি (উঁচু মই সংযুক্ত ফায়ার গাড়ি) প্রবেশে প্রতিবন্ধকতা থাকায় গতানুগতিক ফায়ার ফাইটিং করা হয়েছিল। পরবর্তীতে শুধুমাত্র দুটি স্পেশাল গাড়ি (উঁচু মই সংযুক্ত গাড়ি) ৭ নম্বর ভবনের দক্ষিণ দিকে ব্যবহার করা সম্ভব হয়।

প্রতিটি ফ্লোরের করিডোরে চারটি কলাপসিবল গেট তালা দিয়ে আটকানো ছিল এবং সেখানে প্রচণ্ড ধোঁয়া ও তাপ সৃষ্টির ফলে তালা কেটে ভেতরে প্রবেশ করার ক্ষেত্রে সময়ক্ষেপণ হয়েছে।

প্রতিটি ফ্লোরে ইন্টেরিয়র ডিজাইন অতীব মাত্রায় পরিলক্ষিত হয়, যা উচ্চ মাত্রার দাহ্যবস্তু এবং আগুন বিস্তারে অত্যন্ত সংবেদনশীল। প্রতি তলায় অধিকাংশ রুমে উচ্চ ও সহজ দাহ্যবস্তু দ্বারা কক্ষগুলো বিভাজন করা ছিল। প্রত্যেকটা ফলস সিলিং-এর ওপরে বিভিন্ন ধরনের বিপুল পরিমাণ বৈদ্যুতিক তারসহ অন্যান্য তার বিদ্যমান ছিল। কোনো কোনো রুমের পরিমাপ অনুপাতে অপেক্ষাকৃত বেশি ইন্টেরিয়র ডেকোরেশন, কাগজপত্র ও আসবাবপত্র বিদ্যমান ছিল।

৭ নম্বর ভবনটিতে অ্যালার্ম অ্যান্ড ডিটেক্টর সিস্টেম, কন্ট্রোল প্যানেল, অটো স্প্রিংকলার ইত্যাদি অগ্নি নিরাপত্তার সিস্টেম ছিল না এবং কোনো কোনো ফ্লোরে হোজপাইপ সিস্টেম থাকলেও তা ছিল অকার্যকর এবং নজেলবিহীন। ফলে ম্যানুয়ালি লাইন খুলে প্রতিটি ফ্লোরে ফায়ার সার্ভিসের হোজপাইপ লে-আউট করে পানি সরবরাহ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা ছিল সময়সাপেক্ষ।

সচিবালয়ের অভ্যন্তরে তিনটি আন্ডারগ্রাউন্ড ওয়াটার রিজার্ভারের মজুদ পানি পর্যাপ্ত না হওয়ায় দূরবর্তী স্থান- ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন ও গেটের বাইরে বিশেষ পানিবাহী গাড়ি থেকে অনেক হোজপাইপ লে-আউটের মাধ্যমে পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হয়েছে। এছাড়া ওয়াসা থেকেও পানি সরবরাহ করা হয়েছে।

৭ নম্বর ভবনের ৬, ৭, ৮ ও ৯ তলায় দ্রুত গতিতে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রথমে ষষ্ঠ তলায় আগুন নির্বাপণ করতে হয়েছে, পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে সপ্তম, অষ্টম ও নবম তলায় আগুন নির্বাপণে সময়ের প্রয়োজন হয়েছে।

২৬ ডিসেম্বর সকাল ৮টা ৫ মিনিটে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে এবং ১১টা ৪৫ মিনিটে নির্বাপণ সম্পন্ন হয়।

তদন্ত কমিটির পরবর্তী কার্যক্রম

আগুনের উৎপত্তিস্থল থেকে ৩০ ডিসেম্বর যে সব নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে তা সেনাবাহিনীর কাউন্টার আইইডি ফিউশন সেন্টারের পরীক্ষাগারে বিভিন্ন বিস্ফোরক ডিটেকশন ডিভাইসের মাধ্যমে পরীক্ষা করা হবে। এ কার্যক্রম পরিচালনা করবে সেনাবাহিনী।

ঘটনা পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত ৭ নম্বর ভবন এবং আশপাশের ভবনের সব সিসিটিভির ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এ কার্যক্রম চালাচ্ছে পুলিশ।

আগুনটি বৈদ্যুতিক উৎস থেকে শুরু হয়েছিল কিনা তা অধিকতর রূপে নিশ্চিত হওয়ার জন্য দগ্ধ বৈদ্যুতিক ক্যাবল সেগমেন্ট, জয়েন্ট বক্স এবং ব্রেকারগুলোর নমুনার ওপর বিভিন্ন পরীক্ষা করার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে: এক্স-রে রেডিওগ্রাফ, মাইক্রোস্কোপিক পরীক্ষা এবং পোড়া ইনসুলেটরের রাসায়নিক গঠনের জন্য ফুরিয়ার ট্রান্সফর্ম ইনফ্রারেড স্পেকট্রোস্কোপি করেও আগুনের কারণ সম্পর্কে সূত্র পাওয়া যেতে পারে। এ কার্যক্রম পরিচালনা করবে বুয়েট পরামর্শক দল।

প্রাথমিক তদন্তে উদঘাটিত বৈদ্যুতিক গোলযোগের (স্পার্ক) বিষয়টির সঙ্গে অন্যকোনো ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের কোনো সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হবে।




প্রধান উপদেষ্টার ইঙ্গিতের আলোকেই নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি : সিইসি

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: প্রধান উপদেষ্টার তার বক্তব্যে যে ইঙ্গিত দিয়েছেন সেটির আলোকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে- এমনটাই জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন।

তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন সংস্কারসহ বিভিন্ন সংস্কার কমিশনের রিপোর্ট হাতে পেলেই ধারণা করা যাবে, নির্বাচন কবে হবে। আমরা নির্বাচনি প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য কাজ করছি।’

মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) সকালে কুমিল্লা আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে এক মতবিনিময় সভার শুরুতে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘বড় রাজনৈতিক দলগুলো স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কথা বলছে না। তারা প্রথম থেকেই জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবি করে আসছে। তাই স্থানীয় সরকার নির্বাচন নয়; বরং জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখেই আমরা প্রস্তুতি গ্রহণ করছি। আশা করছি, মার্চ মাসের দুই তারিখ ভোটার তালিকা সম্পন্ন হবে। এরপর বিভিন্ন সংশোধনের মাধ্যমে হালনাগাদ করে ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে।’

সিইসি বলেন, ‘সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে নির্বাচন কমিশন জাতির কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

সূত্র : বিবিসি




আতশবাজি ও ফানুসের আগুনে রাজধানীর একাধিক স্থানে অগ্নিকাণ্ড

ইংরেজী নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে আতশবাজি ও ফানুসের আগুনে একাধিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার মধ্যে মিরপুর, ধানমন্ডি, ও ল্যাবএইড সংলগ্ন এলাকায় আগুন লাগার ঘটনা উল্লেখযোগ্য। ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মিরপুরে ডাস্টবিনে আগুন ধরলে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই আগুন নিভে যায়। তবে ধানমন্ডির একটি দোকানে আগুন লাগলে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

মঙ্গলবার (১ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার রাফি আল ফারুক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মিরপুর ১১ নম্বর এলাকায় একটি ডাস্টবিনে আগুন লাগার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে রওনা হয়, তবে আগুন নিভে যায়। অন্যদিকে, রাত ১২টা ৫৩ মিনিটে ধানমন্ডি ল্যাবএইড হাসপাতালের পিছনে একটি দোকানে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রাথমিকভাবে আগুনের কারণ জানা যায়নি, তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ইংরেজী নববর্ষের আনন্দ উদযাপন উপলক্ষে আতশবাজি ও ফানুসের কারণে এ আগুনের সৃষ্টি হয়েছে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




শেবাচিমে পরিচালকের কঠোর নজরদারীতে শৃঙ্খলা ফিরতে শুরু করেছে

বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (শেবাচিম) এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি পরিচ্ছন্ন এবং শৃঙ্খলিত হয়ে উঠেছে। সকাল বেলা এখন আর হকারদের ভিড় কিংবা যানবাহনের জটলা দেখা যায় না। দুপাশের মাঠে ময়লা আবর্জনার স্তূপও নেই। হাসপাতালের ভিতরে দেয়াল, ফ্লোর এবং সিঁড়িতে পান-সিগারেটের দাগও দেখা যাচ্ছে না। চমৎকার পরিচ্ছন্ন পরিবেশে রোগী ও তাদের স্বজনদের চোখে স্বস্তির অনুভূতি স্পষ্ট। তবে, বাইরের পরিবেশ কিছুটা উন্নত হলেও, কিছু অনিয়ম এখনও হাসপাতালের ভিতরে বিদ্যমান।

মঙ্গলবার ( ৩১ ডিসেম্বর ) সকালে সরেজমিনে ঘুরে শেবাচিমে এই পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। তবে, এখানকার কিছু বিভাগে এখনও অনিয়ম পরিলক্ষিত হয়। বিশেষত টিকিট কাউন্টার, মেডিসিন, ক্যান্সার এবং চক্ষু বিভাগে অব্যবস্থাপনা চলছে। এসব বিভাগের প্রধানরা এখনও পুরনো সরকারের মনোনীত লোকজন, এবং টেকনোলজিস্টের অভাবে অনেক গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসার যন্ত্রপাতি অকেজো হয়ে পড়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংকটের সুযোগে অযোগ্যরা এসব বিভাগ দখল করে রেখেছে।

হাসপাতালের চত্বর ঘুরে দেখা যায় টিকিট কাউন্টারেও কিছু অনিয়ম চলছে। এখানে মোট সাতটি কাউন্টার থাকার কথা, কিন্তু টিকিট বিক্রি করছেন মাত্র চারজন। টিকিটের মূল্য ১০ টাকা, তবে ভর্তি রোগীদের জন্য ১৫ টাকা লেখা রয়েছে দেয়ালে। অনেক রোগী তাদের অবস্থা জানানোর পরেও সঠিকভাবে পরিষেবা পাচ্ছেন না। কিছু দিন আগে, একটি কাউন্টারে একটি মহিলাকে ২০ টাকা নেওয়ার পর টাকা ফেরত দেওয়া হয়নি। টিকিট কাউন্টার এবং পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের মাঝে স্বজনপ্রীতির কারণে রোগীরা ক্ষুব্ধ হচ্ছেন।

এছাড়া, হাসপাতালের ভিতরে রোগী ও স্বজনদের কিছু অসচেতনতাও লক্ষ্য করা গেছে। পিক বা থুথু যত্রতত্র ফেলছে তারা, এবং তাদের অভিযোগ, ডাস্টবিনের অভাবে এমনটি হচ্ছে। রোগী ও স্বজনদের পরামর্শ অনুযায়ী, টিকিট কাউন্টার হাসপাতাল ভবনের বাইরে সরিয়ে নেয়া হলে সুবিধা হতো। এছাড়া, হাসপাতাল চত্বরে আরও পাবলিক টয়লেট এবং সড়ক সংলগ্ন টিকিট কাউন্টার স্থাপন করা যেতে পারে।

বরিশালের সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করেন, হাসপাতালের শৃঙ্খলা ফেরানোর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংকট দূর করা হলে, হাসপাতালের কার্যক্রম আরও উন্নত হবে। এ বিষয়ে শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মশিউল মুনীর বলেন, “বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং টেকনোলজি সমস্যা দূর করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। আমি যত দ্রুত সম্ভব এই সমস্যাগুলি সমাধান করব।”

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে বিপিএল দেখার আনন্দ থেকে বঞ্চিত নগরবাসী: ৬টি এলইডি মনিটরের ৫টি অকেজো

বরিশালে বিপিএল-২০২৪ এর উদ্বোধনী খেলা শুরু হলেও, এবারের আয়োজনে নগরবাসী একসাথে খেলা উপভোগ করতে পারছেন না। বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের (বিসিসি) ৬টি এলইডি মনিটরের মধ্যে ৫টি বর্তমানে অকেজো হয়ে পড়ে আছে, যার ফলে জনগণ খেলা দেখার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। গতকাল ফরচুন বরিশাল বনাম রাজশাহী রয়্যালস এর উদ্বোধনী খেলা শুরু হওয়ার পর, এসব মনিটরে খেলা দেখানোর ঐতিহ্য আর দেখা যাচ্ছে না।

২০১৯ সালে সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ নগরীর বিভিন্ন জনবহুল স্থানে এলইডি মনিটর স্থাপন করেছিল। রুপাতলী, নথুল্লাবাদ, বিবির পুকুর পাড়, এ্যানেক্স ভবন, বেলস পার্ক এবং নগর ভবন ছিল এই মনিটরগুলোর স্থাপন স্থান। এসব মনিটরে নগরবাসী বিপিএলসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান উপভোগ করতেন। বিশেষ করে বিপিএলের সময় ফরচুন বরিশালের ম্যাচগুলো দেখানো হলে হাজার হাজার মানুষ একসাথে খেলা উপভোগ করতেন।

কিন্তু, এসব মনিটর স্থাপনের দুই-তিন বছরের মধ্যেই তদারকির অভাবে একে একে নষ্ট হতে শুরু করে। ঘূর্নিঝড় রিমাল এবং ৫ই আগস্টে শেখ হাসিনার পতনের পর এ্যানেক্স ভবনের মনিটরটি পুড়ে নষ্ট হয়ে যায়। বর্তমানে মোট ৬টি এলইডি মনিটরের মধ্যে একমাত্র নগর ভবনের মনিটরটি অবশিষ্ট রয়েছে, তবে সেটিও ত্রুটিপূর্ণ এবং যেকোন সময় বিকল হতে পারে বলে সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের বিদ্যুৎ শাখার প্রধান ওয়াহিদ মুরাদ বলেন, “যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে একে একে মনিটরগুলো বিকল হয়েছে এবং এগুলো ঠিক করার কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ভবিষ্যতে এগুলো ঠিক করা হবে কিনা, তা নিশ্চিত না। তবে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনায় এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া হতে পারে।”

এ বিষয়ে জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সদস্য সচিব মঞ্জুরুল আহসান ফেরদৌস বলেন, “বরিশালের সাধারণ মানুষ বিগত দিনে এই মনিটরে খেলা উপভোগ করেছে। খেলার দিনগুলো ছিল উৎসবমুখর। বর্তমানে জনগণ বঞ্চিত হচ্ছে একসাথে খেলা দেখার আনন্দ থেকে। আমি মনে করি, নগরবাসীর বিনোদনের স্বার্থে মনিটরগুলো ঠিক করা উচিত।”

এ পরিস্থিতি নিয়ে নগরবাসীর মাঝে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। তারা বলছেন, সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষকে এই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে শহরের জনগণ আবারও একসাথে খেলা উপভোগ করতে পারে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম