বিশ্ব ইজতেমা ময়দানের ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার

গাজীপুরের টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে জারি করা ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার ড. নাজমুল করিম খানের স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

গণবিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ আইন-২০১৮ এর ৩০ ও ৩১ ধারায় কমিশনারের প্রদত্ত ক্ষমতাবলে গত ১৮ ডিসেম্বর দুপুর ২টা থেকে যে আদেশ জারি করা হয়েছিল, তা বিকেল ৫টা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

এর আগে, গত ১৭ ডিসেম্বর রাতে বিশ্ব ইজতেমার মাঠ দখল নিয়ে মাওলানা সাদ কান্ধলভী ও মাওলানা জুবায়েরপন্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। এ ঘটনায় তিনজন নিহত এবং উভয় পক্ষের শতাধিক মুসল্লি আহত হন। সংঘর্ষের জেরে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ ইজতেমা ময়দান ও আশপাশের তিন কিলোমিটার এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছিল।

সংঘর্ষে প্রাণহানি ও উত্তেজনা সৃষ্টির পর ইজতেমা ময়দানকে ঘিরে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। তবে পরিস্থিতি শান্ত হওয়ায় এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের পরিপ্রেক্ষিতে আজ এই আদেশ প্রত্যাহার করা হলো।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে বাসের ধাক্কায় প্রাণ হারালেন মোটরসাইকেল চালক

ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় রিফাত হোসেন (৪০) নামে এক মোটরসাইকেল চালক নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন মোটরসাইকেলের আরোহী মো. আমানউল্লাহ (৩১)।

বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারি) দুপুরে গৌরনদী উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের ভূরঘাটা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন মহাসড়কে দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত রিফাত হিজলা উপজেলার খুন্না গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা। আহত আমানউল্লাহ কালকিনি উপজেলার বড়জালিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঢাকা থেকে বরিশালগামী সাকুরা পরিবহনের একটি বাস দ্রুতগতিতে ভূরঘাটা এলাকা পার হচ্ছিল। বিপরীত দিক থেকে আসা মোটরসাইকেলটিকে বাসটি ধাক্কা দিলে চালক রিফাত ও আরোহী আমানউল্লাহ রাস্তায় ছিটকে পড়েন। ঘটনাস্থলেই রিফাতের মৃত্যু হয়।

গৌরনদী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুর রহমান বলেন, “সাকুরা পরিবহনের বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল চালক রিফাতের মৃত্যু হয়েছে। আহত আমানউল্লাহকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দুর্ঘটনায় জড়িত বাসটি আটক করা হয়েছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

গুরুতর আহত আমানউল্লাহ বর্তমানে কালকিনি উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে এখনও কিছু জানা যায়নি।

দ্রুত গতির যানবাহনের কারণে মহাসড়কে এমন দুর্ঘটনা ক্রমাগতভাবে ঘটছে। যাত্রী ও পথচারীদের নিরাপত্তায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে স্থানীয়রা।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




পটুয়াখালী ইউপি চেয়ারম্যান অপহরণ: ৩৪ ঘণ্টা পর উদ্ধার

পটুয়াখালী সদর উপজেলার মৌকরন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী রাইসুল ইসলাম সেলিমকে অপহরণের ৩৪ ঘণ্টা পর ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে উদ্ধার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বর্তমানে তিনি ঢাকায় ডিবি হেডকোয়ার্টারে রয়েছেন।

ডিবি পুলিশ বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারি) দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে কেরানীগঞ্জের ইকরিয়া এলাকার একটি তালাবদ্ধ ঘরের বাথরুম থেকে আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে। এ বিষয়ে সন্ধ্যায় বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে বলে জানিয়েছে ডিবি।

চেয়ারম্যান কাজী রাইসুল ইসলাম সেলিম গত ৩১ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ১১টায় পটুয়াখালী লেবুখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে ঢাকার উদ্দেশে গ্রিনলাইন পরিবহনের একটি বাসে উঠেছিলেন। ভোরে বাসটি পদ্মা সেতু পার হয়ে ঢাকার কেরানীগঞ্জের ইকরিয়া এলাকায় পৌঁছালে এক যাত্রীর নামার কথা বলে বাস থামানো হয়। এ সময় ১৪-১৫ জন সশস্ত্র ব্যক্তি বাসে উঠে অন্য যাত্রী ও চালককে ভয় দেখিয়ে সেলিমকে নামিয়ে মাইক্রোবাসে করে নিয়ে যায়।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, অপহরণকারীরা চেয়ারম্যানের স্ত্রীর কাছে এক কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। তাৎক্ষণিকভাবে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে এক লাখ টাকা পাঠানো হলেও পরে অপহরণকারীরা যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। এ অবস্থায় তার স্ত্রী ফারহানা কেরানীগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

খবরটি পটুয়াখালীতে পৌঁছালে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ ঊর্ধ্বতন মহল বিষয়টি জানিয়ে সহযোগিতা চান। ডিবি পুলিশ বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করে বৃহস্পতিবার দুপুরে কেরানীগঞ্জের একটি তালাবদ্ধ ঘর থেকে আহত অবস্থায় চেয়ারম্যান সেলিমকে উদ্ধার করে।

চেয়ারম্যানের ছোট ভাই কাজী সাহিন জানান, অপহরণকারীরা চেয়ারম্যানকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করেছে। ডিবি পুলিশ বর্তমানে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিচ্ছে। এ বিষয়ে সন্ধ্যায় একটি প্রেস ব্রিফিং করবে তারা।

“মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”

 




বঙ্গোপসাগরে আটক ভারতীয় জেলেদের মুক্তি

মা ইলিশসহ ৪৭৫ প্রজাতির মাছের প্রজনন নিশ্চিতে ২২ দিনের মৎস্য অবরোধ চলাকালে বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশ জলসীমায় প্রবেশ করে মাছ শিকারের অপরাধে আটক হওয়া ৩১ জন ভারতীয় জেলের মুক্তি কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় পটুয়াখালী জেলা কারাগার থেকে তাদের কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোনের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

পটুয়াখালী জেলা কারাগারের সুপার মাহবুব আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট সাকির আহমেদ জানান, বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় ভারতীয় হাই কমিশনের প্রতিনিধি এস এস মাথির উপস্থিতিতে মুক্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

তিনি আরও জানান, মোংলা, বাগেরহাট ও চট্টগ্রামের কারাগার থেকে হেফাজতে থাকা আরও ৬৪ ভারতীয় জেলের মুক্তি এবং ট্রলার হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিকতা আগামী দুই একদিনের মধ্যেই সম্পন্ন হবে। এ সময় পর্যন্ত মুক্ত জেলেরা কোস্টগার্ডের হেফাজতে থাকবেন।

এ সময় পটুয়াখালী অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি এবং কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোনের এক্সিকিউটিভ অফিসার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মোহাম্মদ আরাফাত হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে, বন্দি বিনিময়ের আওতায় বাংলাদেশের ৯০ জন জেলেও ভারতের জেলে আটক রয়েছেন। তাদেরও একই সময়ে মুক্তি দিয়ে বাংলাদেশে হস্তান্তর করা হবে বলে জানানো হয়েছে। মুক্ত জেলেদের পরিবারের সদস্যরা এ ঘটনায় উচ্ছ্বসিত।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




 ইসকন নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ এর জামিন আবেদন নামঞ্জুর

চট্টগ্রাম নগরীর কোতোয়ালী থানায় দায়ের করা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় ইসকনের বহিষ্কৃত নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ মো. সাইফুল ইসলামের আদালত দুই পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনে এই আদেশ দেন।

চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করায় আদালত তা মঞ্জুর করেননি।

গত ২৫ নভেম্বর ঢাকায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকা থেকে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার হন চিন্ময় কৃষ্ণ দাস। তার জামিন নামঞ্জুর হওয়াকে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই সংঘর্ষে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম নিহত হন।

চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি নাজিম উদ্দিন চৌধুরী জানিয়েছেন, এটি রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা হওয়ায় আদালত জামিন মঞ্জুর করেননি।

চিন্ময়ের পক্ষে আজ শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন ১১ জন আইনজীবী। তারা সুপ্রিম কোর্ট থেকে আসা একটি বিশেষ আইনি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন।

এর আগে ৩ ডিসেম্বরের শুনানিতে কোনো আইনজীবী উপস্থিত না হওয়ায় আদালত আজ (২ জানুয়ারি) পুনরায় শুনানির দিন নির্ধারণ করেন। চিন্ময়ের আইনজীবী রবীন্দ্র ঘোষ এর আগেও তিনবার আবেদন করলেও ওকালতনামার জটিলতার কারণে শুনানি এগিয়ে আনতে পারেননি।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহতদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা শুরু

সারাদেশে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত যোদ্ধাদের বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে হেলথকার্ড বিতরণ কার্যক্রম চালু করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। বুধবার (১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথিভবন যমুনায় এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

প্রথম পর্যায়ে দুই আহত শিক্ষার্থীকে হেলথকার্ড প্রদান করা হয়। তাদের মধ্যে রয়েছেন নরসিংদী ইউনাইটেড কলেজের শিক্ষার্থী ইফাত হোসেন, যিনি পুলিশের গুলিতে এক চোখের দৃষ্টি হারিয়েছেন, এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান ইমু, যিনি ছাত্র সংগঠনের হামলায় গুরুতর আহত হন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতি সপ্তাহে দেশের বিভিন্ন জেলায় আহতদের মাঝে হেলথকার্ড বিতরণ করা হবে।

জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে এখানে ১০৭৪ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। এদের মধ্যে ৩৯ জনের দু’চোখ এবং ৪৫০ জনের এক চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৬৫০টি অপারেশন সম্পন্ন হয়েছে, যার মধ্যে রেটিনা সার্জারি এবং অন্যান্য জটিল প্রক্রিয়াও অন্তর্ভুক্ত।

জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর) জানায়, ২১ জন রোগীর হাত বা পা কেটে ফেলতে হয়েছে এবং কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।

অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “জুলাইয়ে আহত যোদ্ধাদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এই হেলথকার্ডের মাধ্যমে তারা যেকোনো সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা পাবেন।” তিনি আহতদের মানসিক ও সামাজিক পুনর্বাসনের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম, স্বাস্থ্য সচিব মো. সাইদুর রহমান এবং জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তারা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




আহতদের জন্য হেলথ কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহতদের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে “হেলথ কার্ড” বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বুধবার (০১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথিভবন যমুনায় এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।

এ সময় অভ্যুত্থানে আহত দুই শিক্ষার্থী— নরসিংদী ইউনাইটেড কলেজের ইফাত হোসেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসরাত জাহান ইমু—এর হাতে হেলথ কার্ড তুলে দেওয়া হয়।

গত বছরের ১৯ জুলাই আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে ইফাত হোসেন তার দুটি চোখের দৃষ্টিশক্তি হারান। এখনো তিনি একটি চোখে দেখতে পাচ্ছেন না। অন্যদিকে, ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ছাত্রলীগের নিষিদ্ধ সদস্যদের আক্রমণে গুরুতর আহত হন ইসরাত। বর্তমানে তিনি বিএসএমএমইউতে চিকিৎসাধীন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আহত যোদ্ধাদের প্রতি সপ্তাহে নির্ধারিত জেলায় হেলথ কার্ড বিতরণ করা হবে। এই কার্ডধারীরা যেকোনো সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসা নিতে পারবেন।

জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের পরিচালক জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত ১,০৭৪ জন আহত রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে ৩৯ জনের দৃষ্টিশক্তি চিরতরে হারিয়েছে। প্রায় ৬৫০টি অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে, যার মধ্যে ৩০০-এর বেশি রেটিনা সার্জারি।

জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতালের পরিচালক বলেন, ২১ জন রোগীর অঙ্গহানির ঘটনা ঘটেছে। তবে অধিকাংশ রোগী সুস্থ হয়ে উঠছেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আহত যোদ্ধাদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। তাদের শারীরিক পুনর্বাসনের পাশাপাশি মানসিক ও সামাজিক পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও করতে হবে। আহতরা যাতে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে, সেদিকে মনোযোগ দেওয়া হবে।”

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম, স্বাস্থ্য সচিব মো. সাইদুর রহমান, এবং জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তারা।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




নির্বাচনের আগে সংস্কার বক্তব্যে অসৎ উদ্দেশ্য দেখছেন তারেক রহমান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, নির্বাচনের আগে সংস্কারের দাবির পেছনে অসৎ উদ্দেশ্য রয়েছে। বুধবার (১ জানুয়ারি) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ছাত্রদলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ভার্চুয়াল মাধ্যমে যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, “কোনো কোনো মহল থেকে সংস্কার নাকি নির্বাচন—এ প্রশ্ন উঠছে। এটি মূলত অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কূটতর্ক। রাষ্ট্র ও রাজনীতির পরিবর্তনের জন্য সংস্কার এবং নির্বাচন উভয়ই প্রয়োজন। গণতন্ত্রকে টেকসই করতে নির্বাচন হলো সবচেয়ে কার্যকর পন্থা। জনগণ ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠা করে।”

তিনি আরও বলেন, “যারা জনগণের রায়ের মুখোমুখি হতে ভয় পায়, তারা নির্বাচন নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। তবে নেতাকর্মীদের ধৈর্যশীল থেকে জনগণকে মানসিকভাবে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত করতে হবে।”

ছাত্রদলের ইতিহাস স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, “ছাত্রদল দেশের জনপ্রিয় সংগঠন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এর পেছনে অসংখ্য নেতাকর্মীর ত্যাগ ও পরিশ্রম রয়েছে।”

তিনি ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের আহ্বান জানান, “কোনো হঠকারী সিদ্ধান্তের কারণে গণআন্দোলনের আকাঙ্ক্ষা যেন নষ্ট না হয়। প্রতিটি সদস্যকে সতর্ক থাকতে হবে।”

তারেক রহমান বলেন, “বিগত বছরের মাফিয়া স্বৈরাচারী শাসন আমাদের লজ্জিত করেছে। তবে নতুন বছর নিরপেক্ষ বাংলাদেশ গড়ার আশা জাগিয়েছে।” তিনি দলের নির্যাতিত ও গুম হওয়া সহকর্মীদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।

তারেক রহমান ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ প্রসঙ্গে বলেন, “ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও সম্মানজনক বাংলাদেশ গড়তে হবে। লোভ ও ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করতে হবে। জ্ঞানভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র গড়ার বিকল্প নেই।”

দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, “কোনো অপপ্রচারে বিভ্রান্ত হবেন না। জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে।”

ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুলসহ শীর্ষ নেতারা।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




উৎসব ছাড়াই বরিশালে আংশিক বই বিতরণ

বরিশালে যথাযথ উৎসব আয়োজন ছাড়াই বছরের প্রথম দিনে সীমিত পরিসরে পাঠ্যবই বিতরণ করা হয়েছে। পুস্তকের স্বল্পতা, লজিস্টিক সঙ্কট এবং স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়হীনতার কারণে ছাত্রছাত্রীদের মাঝে পূর্ণাঙ্গ বই বিতরণ করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে, দেশে অন্যান্য স্থানে বেশ কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠ্যবই উৎসব আয়োজন করলেও বরিশালের বেশিরভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ বছর কোনো আয়োজন হয়নি।

কেন উৎসবহীন বরিশাল?::

প্রধান শিক্ষকদের একাংশ অভিযোগ করেছেন, বরিশালে এবার বই বিতরণের জন্য প্রয়োজনীয় পুস্তক সরবরাহে প্রশাসনিক বিলম্ব ও অসংগঠিত কার্যক্রম প্রভাব ফেলেছে। এর ফলে শুধুমাত্র গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর জন্য বই সরবরাহ করা হলেও পূর্ণাঙ্গ সিলেবাস কাভার করা সম্ভব হয়নি।

কয়েকজন অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বছরের শুরুতেই শিক্ষার্থীরা প্রাথমিকভাবে বই হাতে না পেলে তাদের মানসিক প্রস্তুতি ও আগ্রহে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

বরিশাল শিক্ষা অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, “কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে পাঠ্যবই পাঠানোর সময় কিছু প্রযুক্তিগত বাধা সৃষ্টি হওয়ায় বরিশালে সঠিক সময়ে সব বই পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। বিষয়টি দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।”

এদিকে, একই দিনে রংপুরে জাতীয় পার্টি তাদের ৩৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করেছে। জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা বলেছেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংলাপে ডাকুক বা না ডাকুক, জাতীয় পার্টি এতে তোয়াক্কা করে না। আগামী নির্বাচনে জয়ী হয়ে জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় আসবে ইনশাআল্লাহ।”

বরিশালের বই বিতরণে প্রশাসনিক জটিলতা এবং রংপুরে জাতীয় পার্টির রাজনৈতিক দৃঢ়তা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও শিক্ষাব্যবস্থায় নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বরিশালের শিক্ষা ব্যবস্থা উন্নত করতে দ্রুত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




২০২৫: গু*ম, খু*ন ও গণহ*ত্যার বিচারের বছর হিসেবে ঘোষণা : চিফ প্রসিকিউটরএ

২০২৫ সালকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম গুম, খুন এবং জুলাই-আগস্টের গণহত্যার বিচারের বছর হিসেবে ঘোষণা করেছেন।

বুধবার (০১ জানুয়ারি) নতুন বছরের শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে গণমাধ্যমকে এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি জানান, ২০২৫ সাল হবে আওয়ামী লীগ এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের বছর। বিগত ১৬ বছরের শাসনামলে আওয়ামী লীগের সরকার গঠনের পর যে গুম, খুন এবং জুলাই-আগস্টের গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে, সেই সমস্ত অপরাধের বিচার এই বছরে সম্পন্ন হবে।

চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, “প্রধান বিচারপতির সম্মতির পর বিচার কার্যক্রম শুরু হবে। আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে যেসব মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, সেগুলোর বিচার প্রক্রিয়া এগিয়ে চলেছে। বিশেষ করে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্তও চলছে।”

তিনি আরও জানান, শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার জন্য রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তবে ট্রাইব্যুনাল তার বিচারের কাজ চালিয়ে যাবে।

শেখ হাসিনার বিচারের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “নির্দিষ্ট তারিখ বা সময় বলা যাবে না। তবে এ বছর কাজ শেষ হবে। সেই লক্ষ্যে প্রসিকিউশন, তদন্ত সংস্থা কাজ করে যাচ্ছে।”

এছাড়া, গত ৫ আগস্টের চানখারপুলে পাঁচজনকে হত্যার ঘটনায় পুলিশের কনস্টেবল সুজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে ট্রাইব্যুনাল। ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদার ও দুই বিচারপতির নেতৃত্বে শুনানি শেষে ১২ জানুয়ারি সুজনকে ট্রাইব্যুনালে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম