“বিদেশি বন্ধু চাই, প্রভু চাই না: জামায়াত আমির”

জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “আমরা ঐক্যবদ্ধ জাতি। আমরা সম্মান চাই, বিদেশি বন্ধু চাই, তবে প্রভু চাই না।” তিনি বলেন, এই বন্ধুত্ব হবে সমতার ভিত্তিতে, এবং কেউ বাংলাদেশকে ছোট চোখে দেখবে এমনটি হতে দেবে না। বাংলাদেশ সবসময় মাথা উঁচু করে সম্মানের সঙ্গে থাকবে এবং কাউকে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার সুযোগ দেওয়া হবে না।

শুক্রবার (৩ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় নাটোরে নবাব সিরাজ-উদ্-দৌলা সরকারি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত এক কর্মী সম্মেলনে এসব মন্তব্য করেন জামায়াতের আমির।

তিনি আরও বলেন, “আগামী বাংলাদেশ হবে সাম্যের। তবে এর জন্য আমাদের সংগ্রাম করতে হবে।” জামায়াতের আমির আশা প্রকাশ করেন যে, একটি সত্যিকারের স্বাধীন বাংলাদেশ গঠনে সবাইকে একত্রিত হয়ে কাজ করতে হবে। সাম্যের বাংলাদেশ গঠনে জামায়াত ইসলামী মানুষের দোয়া, ভালোবাসা ও পরামর্শ চায়, এবং ইতিবাচক সমালোচনার আহ্বান জানান।

নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সমাজের সুষ্ঠু কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের বিষয়েও জামায়াতের আমির বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি বাংলাদেশ দেখতে চাই যেখানে নারী-পুরুষ উভয়েই সম্মানের সাথে দায়িত্ব পালন করবে এবং কোনো অবস্থাতেই নারীকে তার কাজ থেকে পিছিয়ে রাখা হবে না।”

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াতের লক্ষ্য হল এমন একটি সমাজ গড়ে তোলা যেখানে সন্তানরা শিক্ষাজীবন শেষে চাকরির জন্য কোনো “মামা-খালু”র পেছনে দৌড়াবে না। তিনি নিশ্চিত করেন, জামায়াত ইসলামী এই বিষয়টি বাস্তবায়ন করবে।

নাটোরের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “নাটোরের মানুষ কোনো অপরাধ করেনি। তবুও এখানে মেডিকেল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট নেই।” এ জন্য তিনি বর্তমান সরকারের কাছে দাবী জানান, অন্তত একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এখানে গড়ে তুলতে।

বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, “ক্ষমতায় আসা বিভিন্ন দল জনগণের প্রতি তাদের দায়িত্ব পালন করেনি। তারা দেশের মানুষকে কষ্ট দিয়েছে। সবচেয়ে বেশি অত্যাচার করেছে ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী সরকার, যারা জনগণের ওপর নানা নিপীড়ন চালিয়েছে।” তিনি বলেন, ২০০৬ সালে ক্ষমতায় আসার আগে “লগি-বৈঠার তাণ্ডব” চালিয়ে অনেক মানুষকে হত্যা করা হয়েছে এবং ক্ষমতায় থাকার শেষদিনে ৫ আগস্ট হাজার হাজার মানুষকে গণহত্যা করা হয়েছিল।

এছাড়াও তিনি নির্বাচনের প্রসঙ্গে বলেন, “নির্বাচন সেই সকল নেতাদের জন্য যারা মানুষের সম্মান করবে এবং দেশের প্রতি ইঞ্চি দায়িত্বে অবিচল থাকবে।” তিনি আরো বলেন, “ফ্যাসিবাদী সরকার ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় অবৈধভাবে তিনটি নির্বাচনে তাণ্ডব চালিয়েছে।” জামায়াত নির্বাচনের সুষ্ঠু ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চায়, এবং বর্তমান সরকারের কাছে দাবি জানায় যেন তারা নির্বাচনী সংস্কার কার্যক্রম দ্রুত শেষ করে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করে।

কর্মী সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামী নাটোর জেলার আমির অধ্যাপক ডা. মীর নুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য অধ্যক্ষ মো. শাহাবুদ্দিন, নাটোর জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক মো. ইউনুস আলী এবং জেলা জামায়াতের প্রচার সম্পাদক আতিকুল রহমান রাসেল প্রমুখ।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




উপকূলজুড়ে শীতের তীব্রতায় কাহিল পটুয়াখালীর মানুষ

পটুয়াখালীর উপকূলবর্তী এলাকাগুলোতে কনকনে শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে মানুষজন। সন্ধ্যার পর থেকেই হিমেল বাতাস ও ঘন কুয়াশায় শীতের তীব্রতা বেড়ে যাচ্ছে। এতে কষ্টে দিন কাটাচ্ছে কুয়াকাটায় আগত পর্যটকসহ স্থানীয় বাসিন্দারা।

বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারি) রাতে পটুয়াখালীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৬.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র। মৃদু শৈত্যপ্রবাহ ও বাতাসের কারণে শীতের প্রকোপ আরও বেড়েছে। বিশেষ করে হতদরিদ্র, ছিন্নমূল এবং স্বল্প আয়ের শ্রমজীবী মানুষেরা চরম ভোগান্তির মধ্যে রয়েছে।

কুয়াকাটায় ভ্রমণে আসা বেশিরভাগ পর্যটক সন্ধ্যার পরপরই হোটেলে আশ্রয় নিয়েছেন। কেউ কেউ আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন। স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা রাত গভীর হওয়ার আগেই দোকান বন্ধ করে বাসায় ফিরে যাচ্ছেন।

ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে কুয়াকাটায় ঘুরতে আসা পর্যটক শফিকুল ইসলাম জানান, ঢাকায় শীতের প্রকোপ তেমন নেই। কিন্তু কুয়াকাটার শীত ও বাতাসের কারণে বাইরে থাকা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বাচ্চাদের নিয়ে বাইরে থাকা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।

পটুয়াখালী জেলা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আক্তার জাহান জানান, “গত এক মাস ধরে উপকূলীয় এলাকায় তাপমাত্রা ওঠানামা করছে। তবে শীতের তীব্রতা এখন বেড়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে ১৬.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। জানুয়ারি মাসে ২-৩টি শৈত্যপ্রবাহের সম্ভাবনা রয়েছে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পটুয়াখালীর ৪৭টি ইটভাটার মধ্যে ১৬টি অবৈধ, হুমকিতে পরিবেশ ও কৃষি জমি

পটুয়াখালী জেলার বিভিন্ন এলাকায় ৪৭টি ইটভাটা রয়েছে, যার মধ্যে ১৬টি অবৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছে। এসব ইটভাটায় আইন উপেক্ষা করে কয়লার পরিবর্তে কাঠ ব্যবহার এবং ফসলি জমির মাটি কেটে ইট তৈরি করা হচ্ছে। এতে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি কৃষিজমি এবং জনস্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়ছে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, জেলার ১০-১২টি ইটভাটায় নিয়ম মেনে কয়লা পোড়ানো হলেও বেশিরভাগ ভাটায় ব্যবহার করা হচ্ছে বনের কাঠ। কিছু ইটভাটায় ড্রাম চিমনি স্থাপন করা হলেও তা পরিবেশসম্মত নয়। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, হাট-বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জনবসতিপূর্ণ এলাকার কাছাকাছি এসব ইটভাটা স্থাপন করা হয়েছে, যা পরিবেশের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

কৃষিজমির সংকট
জেলার আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ ক্রমশ কমে আসছে। কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই-তিন বছরে কৃষিজমির পরিমাণ ২০ লাখ ৩ হাজার ৮১১ হেক্টর থেকে কমে ১৯ লাখ ৫ হাজার ২৫০ হেক্টরে নেমে এসেছে। ইটভাটার জন্য মাটি কাটার পাশাপাশি লবণাক্ততা বৃদ্ধি, বসতবাড়ি নির্মাণ এবং মাছ চাষের পুকুর খনন এ সংকটের পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে।

আইনি ব্যবস্থা ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
পটুয়াখালী পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আসাদুজ্জামান জানান, অবৈধ ইটভাটাগুলোর বিষয়ে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন  বলেন, “নিয়মবহির্ভূতভাবে চরের মাটি কাটলে কিংবা কাঠ পোড়ালে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

পটুয়াখালী সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) চন্দন কর বলেন, “চর বা ফসলি জমির মাটি কাটার কোনো অনুমতি নেই। এ কাজে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

পরিবেশবাদীদের মতামত
পরিবেশবাদীরা বলছেন, ইট তৈরি একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলেও এর মাধ্যমে পরিবেশের ওপর যে প্রভাব পড়ছে, তা গভীর উদ্বেগের বিষয়। ইটভাটা স্থাপন ও পরিচালনায় কঠোর নিয়ম মানা জরুরি।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



অবৈধ শিশুপার্কের কারণে চৌমাথা লেক ও সড়কজুড়ে সৃষ্টি হচ্ছে বিশৃঙ্খলা

বরিশালের নবগ্রাম রোডের চৌমাথা এলাকা এখন যানজট ও দুর্ঘটনার জন্য পরিচিত। এখানকার সড়কের মাঝখানে অবৈধভাবে নির্মিত শিশু পার্কটি চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে আসা যানবাহনগুলো পার্কের কারণে স্লথ গতি ধারণ করতে বাধ্য হচ্ছে, ফলে সড়কে বিশৃঙ্খলা বাড়ছে। পার্কটি চৌমাথা লেকের কাছেই অবস্থিত, যা বরিশালের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য তৈরি হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে লেকটি অসামাজিক কার্যকলাপের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই লেকের চারপাশে খাবারের দোকান, মনোহারি পসরা এবং বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের ভিড় গড়ে উঠেছে। সিটি করপোরেশন এবং সড়ক বিভাগের মধ্যে দ্বন্দ্বের কারণে পার্কটি ভাঙার কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। সিটি করপোরেশন বলছে, এটি তাদের দায়িত্ব নয়, তবে সড়ক ও জনপথ বিভাগ দাবি করছে যে পার্কটি সিটি করপোরেশনই তৈরি করেছে, তাই এর ভাঙার দায়িত্ব তাদের।

চৌমাথা লেকের চারপাশে বহু বছর ধরে অবৈধ দোকানপাট এবং গোপনীয় পণ্য বেচাকেনা চলছে, যা নগরবাসীর জন্য উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন দুর্ঘটনা এবং সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটছে এই এলাকায়। পরিবেশ এবং জনগণের নিরাপত্তা নিয়ে গঠনমূলক পদক্ষেপের অভাবে স্থানীয়রা অত্যন্ত ক্ষুব্ধ।

এদিকে, চৌমাথা লেকের উন্নয়ন কাজের শুরু হয়েছিল বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শওকত হোসেন হিরণের সময়। কিন্তু পরবর্তীতে, নানা অবৈধ কার্যকলাপ এবং প্রভাবশালীদের দখলদারিত্বের কারণে এটি আর স্থায়ী হয়নি। বর্তমানে, শিশু পার্কটি এবং তার আশপাশের বিশৃঙ্খলা স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য এক বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্বস্ত সূত্র থেকে জানা গেছে, বরিশাল সিটি করপোরেশন এবং সড়ক বিভাগের মাঝে বিতর্কের কারণে ইতিমধ্যেই এই পার্কটি একাধিক দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয়রা দাবি করছেন, অবিলম্বে এই ঝুঁকিপূর্ণ পার্কটি সরিয়ে নেয়ার জন্য সরকারের কাছে পদক্ষেপের দাবি জানানো হয়েছে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




১৭০ বছরের পুরনো পাবলিক লাইব্রেরি এখন চোর ও মাদকাসক্তদের আস্তানা!

বরিশালের সবচেয়ে প্রাচীন পাবলিক লাইব্রেরি এখন পরিত্যক্ত ভবনে পরিণত হয়েছে। অযত্ন ও অবহেলার কারণে লাইব্রেরি ভবনটি বর্তমানে চোর এবং মাদকাসক্তদের আস্তানায় পরিণত হয়েছে। লাইব্রেরির লোহার জানালা ও অন্যান্য মূল্যবান জিনিস প্রতিদিন চুরি হয়ে বিক্রি হচ্ছে, এবং একসময় বরিশালের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের পদচারণায় মুখরিত এই লাইব্রেরি এখন ভূতের বাড়ি হয়ে উঠেছে।

১৮৫৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই লাইব্রেরিটি এক সময় ১৪ হাজার বইয়ের বিশাল সংগ্রহে সমৃদ্ধ ছিল। কিন্তু ১৩ বছর আগে লাইব্রেরির দাপ্তরিক কাজ বন্ধ হয়ে যায় এবং ৯ বছর আগে লাইব্রেরিটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে লাইব্রেরির দরজা, জানালা, গেট, এবং অন্যান্য অংশ চুরি হয়ে গেছে, এমনকি বেশ কিছু মূল্যবান বইও চুরি হয়ে গেছে। এখনো কমপক্ষে ১০ হাজার বই অব্যাহতভাবে লাইব্রেরিতে রয়েছে, যা রক্ষা করা জরুরি বলে জানান পাবলিক লাইব্রেরির অফিস সহায়ক শহীদ গাজী।

অথচ এই লাইব্রেরির ভবনটি ১৮৫৪ সালে বরিশালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, যখন পাবলিক লাইব্রেরি অ্যাক্ট পাস করা হয়। ১৯৮৫ সালে লাইব্রেরিটি নগরীর বান্দ রোডে স্থানান্তরিত করা হয়, কিন্তু সেখানে থাকা অবস্থায়ও ২০১৮ সালের পর থেকে এটি ধ্বংসের পথে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, লাইব্রেরির প্রধান ফটক সারাদিন বন্ধ থাকে, জানালার কাচগুলো ভাঙা এবং ভবনের বিভিন্ন অংশে আগাছা ও পলেস্তরা খসে পড়ছে। কিছু স্থান মোটরসাইকেল গ্যারেজ হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে এবং সন্ধ্যার পর তা মাদকসেবিদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়।

এ বিষয়ে পাবলিক লাইব্রেরির অফিস সহায়ক শহীদ গাজী জানান, তিনি ৩০ বছর ধরে এখানে কাজ করছেন, তবে বর্তমানে লাইব্রেরিতে পাঠকরা আসে না। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, সরকার দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে, যাতে এই ঐতিহ্যবাহী লাইব্রেরির মূল্যবান বইগুলো রক্ষা করা যায়।

অপরদিকে, বরিশাল জেলার সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের সভাপতি কাজী এনায়েত হোসেন শিবলু বলেন, এই লাইব্রেরিটি পুনরুদ্ধারের দাবি দীর্ঘদিন ধরে জানানো হচ্ছে, তবে এখনও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। তিনি জানান, ২০১২ সালে লাইব্রেরির সদস্য সংখ্যা ছিল ১,১০০, যার মধ্যে ৬০০ জন আজীবন সদস্য এবং ৫০০ জন সাধারণ সদস্য ছিল।

বিভিন্ন সামাজিক ব্যক্তিত্বও এই লাইব্রেরির সংরক্ষণ এবং পুনরায় চালু করার দাবি জানিয়ে আসছেন। জাতীয় কবিতা পরিষদের সাবেক সভাপতি তপংকর চক্রবর্তী এই লাইব্রেরির এক দীর্ঘ ইতিহাসের কথা তুলে ধরে বলেন, এটি সংরক্ষণের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. ওবায়দুল্লাহ জানান, শীঘ্রই লাইব্রেরি পরিদর্শন করে এটি সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




দেশের ডাল উৎপাদনে বরিশালের গুরুত্ব

বরিশাল অঞ্চলে দেশে উৎপাদিত ডালের অর্ধেকই উৎপাদিত হয়। এই অঞ্চলের কৃষকরা এবারো প্রায় সাড়ে ৩ লাখ হেক্টর জমিতে প্রায় পৌনে ৫ লাখ টন বিভিন্ন ধরনের ডাল জাতীয় ফসল উৎপাদন করছেন। বিশেষত মুগডালের ৮০ শতাংশ এবং খেসারী ডালের প্রায় ৫০ শতাংশই বরিশালে উৎপাদিত হয়, যা দেশের চাহিদার অনেকটা পূরণ করে।

এ বছরের শীতকালীন মুগ, খেসারী, ছোলা ও মুসুরী ডালের আবাদ ইতোমধ্যে শেষ পর্যায়ে রয়েছে। গত বছরও বরিশালে সাড়ে ৩ লাখ হেক্টর জমিতে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টন ডাল উৎপাদিত হয়েছিল। তবে, এই অঞ্চলে এখনও কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট-বারি উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল ডাল বীজের ব্যবহার অতি সীমিত, যার কারণে ডাল উৎপাদনের কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে না।

বারি’র বিজ্ঞানীরা এই পর্যন্ত ৭টি উচ্চ ফলনশীল মসুর ডালের জাত উদ্ভাবন করেছেন। এছাড়াও খেসারীর ৩টি, মুগ ডালের ৬টি, ছোলার ৯টি, মাষকলাইয়ের ৩টি এবং ফেলন ডালের ১টি উচ্চ ফলনশীল জাত তৈরি করেছেন। এই জাতগুলোর উৎপাদন প্রায় ১.৫ থেকে ২ টন প্রতি হেক্টর, যেখানে আমিষের পরিমাণও ২০-৩০ শতাংশ। পুষ্টিবিজ্ঞানীদের মতে, ডালে প্রোটিন বা আমিষের পরিমাণ গোশতের পরেই সবচেয়ে বেশি। এর ফলে, ডাল দরিদ্র ও স্বল্পোন্নত মানুষের জন্য একটি সস্তা প্রোটিন উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়, যা তাদের আমিষের চাহিদা পূরণের সহায়ক।

বরিশাল অঞ্চলে চলতি রবি মৌসুমে প্রায় সোয়া ২ লাখ হেক্টর মুগ ডাল, ৭৫ হাজার হেক্টর খেসারী, ৫ হাজার হেক্টর মুসুর সহ আরও প্রায় ৩ হাজার হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ধরনের ডাল আবাদ হচ্ছে। এর মধ্যে প্রায় ৫০ হাজার হেক্টর জমিতে খেসারী ডালের আবাদ হয়েছে আমন ধানের সাথী ফসল হিসেবে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট ২৫ লাখ টন ডালের চাহিদার বিপরীতে মোট উৎপাদন মাত্র ১১ লাখ টন। যদিও চলতি রবি মৌসুমে প্রায় সাড়ে ১০ লাখ টন ডাল জাতীয় ফসল উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে, তার প্রায় অর্ধেকই উৎপাদিত হচ্ছে বরিশালসহ উপকূলীয় অঞ্চলে। তবে, এখনও দেশের ডালের বৃহৎ চাহিদা আমদানির ওপর নির্ভরশীল, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। সুতরাং, ডাল জাতীয় ফসল উৎপাদন বাড়ানোর জন্য প্রয়োজন আরও নিবিড় কর্মসূচি ও প্রযুক্তি ব্যবহারের।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




 কৃষি বিভাগের অবহেলায় বিপাকে সরিষা চাষিরা

ভোলার মনপুরা উপজেলায় সরিষা চাষিরা সঠিক সময়ে বীজ না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন। কৃষি বিভাগের অবহেলার কারণে তাদের চাষাবাদে বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সরিষার মৌসুমে, নভেম্বর মাসে বীজ বপনের সময় ছিল, যখন মাটি ছিল নরম এবং ফলনের সম্ভাবনা ছিল ভালো। কিন্তু এবছর মনপুরা উপজেলা কৃষি বিভাগ সরিষার বীজ বিতরণ শুরু করেছে ডিসেম্বর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে, যা চাষিরদের জন্য বড় এক সমস্যার সৃষ্টি করেছে। কৃষকরা এখনো সরিষা বপন করছেন, কিন্তু দেরিতে বপনের কারণে ফলন কম হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে এবং লোকসানের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।

এছাড়া কৃষকরা অভিযোগ করছেন, যাদের প্রকৃতেই প্রণোদনা পাওয়ার যোগ্য, তাদের অনেকের নাম তালিকায় নেই। পাশাপাশি, কিছু কৃষকের নাম রয়েছে যারা যোগ্য নয়, কিন্তু তারা প্রণোদনা পেয়েছেন।

হাজির হাট ইউনিয়নের চর ফৈজউদ্দিন গ্রামের কৃষকরা জানান, তারা নভেম্বর মাসের মধ্যে সরিষার বীজ বপন করতে পারলেই ফলন ভালো হতো এবং রোগবালাইয়ের আক্রমণও কম হতো। কিন্তু কৃষি বিভাগের দেরিতে বীজ বিতরণের কারণে এখন পরিস্থিতি কঠিন হয়ে পড়েছে।

মনপুরা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মো. আহসান তাওহীদ বলেন, তারা ২০০ কৃষকের মধ্যে সরিষার বীজ ও সার বিতরণ করছেন, যা আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে শেষ হবে। তবে, তিনি এ অভিযোগ অস্বীকার করেন যে কৃষি বিভাগ কৃষকদের সময়মতো বীজ বিতরণ করেনি।

এ বছর মনপুরা উপজেলায় প্রায় ৩,৫০০ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও, এখন পর্যন্ত প্রায় ২,০০০ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ হয়েছে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪

ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় চারজন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন। প্রথম দুর্ঘটনাটি ঘটে ২ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে নিমতলী এলাকায়, যখন মাওয়ামুখী আব্দুল্লাহ পরিবহনের একটি বাস কাভার্ডভ্যানের পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে বাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং বাসের হেলপার মো. জীবন (৪৪) নিহত হন। তাঁর বাড়ি শ্রীনগর উপজেলার কল্লিগাঁও গ্রামে। দুর্ঘটনায় নিহত অপর ব্যক্তি ছিলেন বাসযাত্রী মো. রায়হান (২৭), সিরাজদিখান উপজেলার মালখানগর ইউনিয়নের দেবিপুরা গ্রামের বাসিন্দা।

দ্বিতীয় দুর্ঘটনাটি ঘটে ৩ জানুয়ারি, শুক্রবার ভোর ৪টার দিকে হাসাড়া এলাকায়, যেখানে আরও একজন নিহত হন এবং পাঁচজন গুরুতর আহত হন। হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দুটি দুর্ঘটনাতেই হতাহতের ঘটনা ঘটেছে এবং আহতদের চিকিৎসা চলছে।

এ ধরনের দুর্ঘটনা সম্পর্কে হাইওয়ে পুলিশ বলছে, এক্সপ্রেসওয়েতে বেপরোয়া গতির গাড়ির কারণে দুর্ঘটনার সংখ্যা বাড়ছে। স্থানীয় জনগণ ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা দুর্ঘটনা রোধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




 ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক যেন মৃত্যু ফাঁদ

ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক, বিশেষ করে বরিশালের প্রবেশদ্বার গৌরনদীর ভূরঘাটা থেকে উজিরপুরের ইচলাদী পর্যন্ত সড়কটি দিন দিন মৃত্যুর ফাঁদে পরিণত হচ্ছে। গত এক বছরে এই সড়কে ৮১টি দুর্ঘটনায় ১০৫ জন নিহত এবং ২২০ জন আহত হয়েছেন, যার মধ্যে ৫০ জন পঙ্গু হয়ে গেছেন। এর মধ্যে দুর্ঘটনাগুলোর বেশিরভাগই বেপরোয়া গাড়ি চালনা, সংকুচিত সড়ক, ফুটপাতে দোকান-পাট, অবৈধ যান চলাচল ও অদক্ষ চালকদের কারণে ঘটে।

হাইওয়ে থানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই মহাসড়কের গৌরনদী থেকে ইচলাদী পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার এলাকায় সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে গৌরনদী বার্থী, টরকী, আশোকাঠি, বাটাজোর, সানুহার, জয়শ্রী ও ইচলাদী। গত ২৯ ডিসেম্বর গৌরনদী হাইওয়ে থানার উদ্যোগে একটি ওপেন হাউজ ডে-এ স্থানীয় জনগণ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে দুর্ঘটনার জন্য সড়ক সংকীর্ণতা, অবৈধ যান চলাচল ও চালকদের অদক্ষতা তুলে ধরা হয়।

২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনায় উল্লেখযোগ্য কিছু ঘটনা হল:
– ২৯ ডিসেম্বর গৌরনদী উপজেলার বাইচখোলা এলাকায় যাত্রীবাহী দুটি বাস ও তেলবাহী লরির ত্রিমুখী সংঘর্ষে একজন নিহত এবং ২০ জন আহত হন।
– ১৫ ডিসেম্বর কটকস্থল এলাকায় লাবিবা পরিবহনের বাসের ধাক্কায় ৭৫ বছর বয়সী এক পথচারী নিহত হন।
– ৯ সেপ্টেম্বর গৌরনদী উপজেলার ইল্লা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বেপরোয়া গতির বাসের চাপায় মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী নিহত হন।

গৌরনদী হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: আমিনুর রহমান জানায়, এই সড়কে দুর্ঘটনা রোধে ৬টি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশসহ বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি করা হয়েছে, কিন্তু সমস্যাগুলোর সমাধান না হলে দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব নয়। স্থানীয় বাসিন্দারা এবং যাত্রীরা দাবি করেছেন, মহাসড়কের উন্নয়ন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি শিথিল হওয়া বন্ধ করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




 শীতে বিপর্যস্ত বরিশালের জনজীবন

উত্তরের কনকনে হাওয়া ও হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশার চাঁদরে বৃহস্পতিবার বরিশালের জনজীবন প্রায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। দিনভর সূর্যের দেখা না মেলায় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের ৭ ডিগ্রী সেলসিয়াস নিচে নেমে যায়, যার ফলে জনজীবনে দুর্ভোগ চরমে পৌঁছায়। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাড়ি থেকে বের হয়নি, আর শিশুরা ও বয়োবৃদ্ধদের বিশেষ সতর্কতার সঙ্গে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।

নতুন বছরের প্রথম দিন থেকেই বরিশালে শীতের দাপট বাড়তে শুরু করে। গত বৃহস্পতিবার তাপমাত্রা নেমে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যায়। আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়েছে যে, আগামী ৫ দিনের মধ্যে তাপমাত্রার পারদ আরও হ্রাস পেতে পারে।

শীতের প্রকোপ থেকে মুক্তি পেতে অনেককেই আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণ করতে দেখা গেছে। এমন পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞরা শিশু ও বয়োবৃদ্ধদের শীতের প্রচণ্ডতা থেকে রক্ষা পেতে ঘরের মধ্যে নিরাপদভাবে থাকতে পরামর্শ দিয়েছেন।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম