অতিরিক্ত গতিই দুর্ঘটনার কারণ, ডিসেম্বরে সড়কে ঝরল ৫৩৯ প্রাণ

দেশের সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি বেড়ে গেছে। গত ডিসেম্বর মাসে ৫০৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ৭৭ জন শিশু এবং ৭৯ জন নারী। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৭৬৪ জন। সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা বাড়লেও, প্রাণহানি সম্পর্কে বেশ উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে, যেখানে প্রতিদিন গড়ে ১৭.৩৮ জন মানুষ নিহত হয়েছেন।

সড়ক দুর্ঘটনার বিস্তারিত পরিসংখ্যান :;
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি তাদের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, সারা দেশে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে, যেখানে ১৫৮টি দুর্ঘটনায় ১৭৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন। একইভাবে, সিলেট বিভাগে সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ঘটেছে, যেখানে ৩০টি দুর্ঘটনায় ২৬ জন মারা গেছেন।

গত মাসে সবচেয়ে বড় অঙ্কে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটেছে, যেখানে ২০৬ জন নিহত হয়েছেন, যা মোট নিহতের প্রায় ৩৮.২১ শতাংশ। এছাড়া রেলপথে ১৯টি দুর্ঘটনায় ১৪ জন এবং নৌপথে ৩টি দুর্ঘটনায় ৩ জন মারা গেছেন।

স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানসহ দুর্ঘটনা :: 
এছাড়াও, ডিসেম্বরে একাধিক পরিবারের সদস্য একসাথে দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। ১৩টি দুর্ঘটনায় স্বামী-স্ত্রী ও সন্তান একসাথে প্রাণ হারিয়েছেন। ৭টি অটোরিকশা দুর্ঘটনায় ৩১ জন, ৩টি প্রাইভেটকারে ১২ জন, ১টি মাইক্রোবাসে ৫ জন এবং ২টি মোটরসাইকেলে ৬ জন নিহত হয়েছেন।

বিশেষ শ্রেণীর মানুষের মৃত্যু ::
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে পুলিশের ৩ জন সদস্য, ১২ জন শিক্ষক, ৩ জন সাংবাদিক, ২ জন প্রকৌশলী, ২ জন আইনজীবী, ১ জন উপসচিব, ১ জন কৃষি কর্মকর্তা, ১ জন প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, ২৪ জন ঔষধ বিক্রয় প্রতিনিধি এবং ৬৩ জন শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ মারা গেছেন। এই সময়ের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনার ধরন অনুযায়ী, ৩৮.২৯ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে জাতীয় মহাসড়কে, ৪২.৪৬ শতাংশ আঞ্চলিক সড়কে, ১০.৯১ শতাংশ গ্রামীণ সড়কে এবং ৭.৫৩ শতাংশ শহরের সড়কে।

“মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”




পরিবারে সচ্ছলতা ফেরাতে না পারলেও জীবন দিয়ে দেশকে ফ্যাসিস্ট মুক্ত করেছেন রাহুল

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার দিঘীরপাড় ইউনিয়নের পাটুলি বালুর মাঠ এলাকার সন্তান আয়মান হোসেন রাহুল (২২) জীবন দিয়ে দেশের জন্য সংগ্রাম করে গেছেন। দরিদ্র পরিবারের সন্তান রাহুল, সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনার জন্য ঢাকা যান ছয় মাস আগে। রামপুরা এলাকায় একটি জুতার দোকানে কাজ নেন। তবে, তার জীবনের গল্পটা অন্যরকম, তিনি দেশকে স্বৈরাচার মুক্ত করার জন্য আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন।

১৮ জুলাই, ঢাকার যমুনা ফিউচার পার্কে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেন রাহুল। সেখানে টিআরশেল গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর, শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ২২ জুলাই তাকে বাজিতপুরের জহিরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিছুদিন পর তাকে বাড়ি আনা হয়, তবে শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে তাকে ঢাকায় নেওয়ার পথে, ৮ আগস্ট নরসিংদী সদর এলাকায় রাহুল মৃত্যুবরণ করেন।

রাহুলের পিতা, ট্রলার চালক মো. মিজান (৪৫) এবং মা, গৃহিণী রুমা আক্তার (৩৭)। রাহুলের একটি ছোট পরিবার রয়েছে, ছোট ভাই মো. রাতুল (১৭), ছোট বোন রুবাইয়া (১৪), এবং সবার ছোট বোন সুরাইয়া (৬)। রাহুলের অবর্তমানে পরিবারে গভীর শোক ছড়িয়ে পড়েছে। তার মা, কান্না জড়ানো কণ্ঠে জানান, “আমার ছেলে ছিল খুব ভালো, দেশ ও পরিবারের জন্য কাজ করছিল। তিনি আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন, কিন্তু সরকারী অনুদান পাওয়া যায়নি।”

রাহুলের মা আরও জানান, তিনি হত্যার বিচার চান এবং সরকারকে পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। রাহুলের দাদি, লালবানু বলেন, “আমার নাতি কোনোদিন খারাপ কাজ করেনি, কিন্তু তাকে হত্যা করা হয়েছে। আমি তাদের ফাঁসি চাই।”

রাহুলের আত্মত্যাগ শহিদদের তালিকায় স্থান পেয়ে, কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। রাহুলের মৃত্যু দেশের জন্য একটি বড় ক্ষতি, তবে তার আত্মত্যাগ দেশবাসীর মধ্যে ঐক্যের বার্তা দিয়ে যাবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




তাহসান বিয়ে করলেন মেকআপ আর্টিস্ট রোজা আহমেদকে

জনপ্রিয় গায়ক ও অভিনেতা তাহসান খান তার জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন। মেকআপ আর্টিস্ট রোজা আহমেদকে বিয়ে করেছেন তিনি। ৪ জানুয়ারি, শনিবার ইংরেজি দৈনিক ‘দ্যা ডেইলি স্টার’-এ এই বিয়ের খবর প্রকাশিত হয়েছে।

তাহসানের নতুন স্ত্রী রোজা আহমেদ নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করার পর সেখানে “রোজা’স ব্রাইডাল মেকওভার” নামে একটি রূপসজ্জার প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি বাংলাদেশ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ব্রাইডাল মেকআপ আর্টিস্ট হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছেন। এছাড়াও মেকআপ প্রশিক্ষক হিসেবে নারীদের দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি উদ্যোক্তা হতে সাহায্য করেছেন।

এই দম্পতির নতুন জীবন শুরু হওয়ার পর সামাজিক মাধ্যমে ভক্তরা তাদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। অনেকে লিখেছেন, অবশেষে তাহসান তার প্রিয় গান ‘চাঁদের আলো’-র মতো সুখী হয়েছেন।

অন্যদিকে, তাহসান বাংলাদেশের বিনোদন শিল্পে বহু বছর ধরে গায়ক, গীতিকার, অভিনেতা এবং টেলিভিশন উপস্থাপক হিসেবে পরিচিত। ব্ল্যাক ব্যান্ডের সঙ্গে তার সঙ্গীত যাত্রা শুরু হয়েছিল, যা তার শাস্ত্রীয় এবং আধুনিক সঙ্গীতের এক অনন্য মিশ্রণ তৈরি করেছে।

তাহসান ও অভিনেত্রী মিথিলা ২০০৬ সালের ৭ আগস্ট বিয়ে করেন। এরপর ২০১৩ সালে তাদের ঘর আলোকিত করে আসে কন্যা সন্তান আইরা তাহরিম খান। তবে ২০১৭ সালের ৪ অক্টোবর তাহসান ও মিথিলার বিচ্ছেদ ঘটে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




পটুয়াখালীর মহাসড়ক যেন মৃত্যুফাঁদ: বেপরোয়া ইজিবাইক ও রিকশা

পটুয়াখালী-ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়ক বর্তমানে এক ভয়াবহ মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে মহাসড়কে বেপরোয়া গতিতে চলছে ইজিবাইক, ভ্যান এবং রিকশা। এতে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা।

মহাসড়কের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ভারি যানবাহনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছে তিন চাকার হালকা যান। এগুলো অধিকাংশই ইঞ্জিনচালিত, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে তুলছে। দূরপাল্লার যানবাহনের চালকরা জানিয়েছেন, মহাসড়কে যান চালানো দিনে দিনে দুরূহ হয়ে উঠছে।

চালকরা অভিযোগ করেন, অটোরিকশা এবং ভ্যানগুলো হঠাৎ ওভারটেকিং করে বা পাশের ছোট রাস্তা থেকে মহাসড়কে ঢুকে দুর্ঘটনার কারণ সৃষ্টি করছে। এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাদের প্রতিনিয়ত সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

পটুয়াখালী জেলার পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার জাহিদ জানান, দুর্ঘটনা প্রতিরোধে নিয়মিত মামলা এবং সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য প্রচার চালানো হচ্ছে। জেলা প্রশাসনও ছোট যানবাহনকে মহাসড়ক থেকে দূরে রাখার জন্য বিশেষ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।

এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য চালকদের ট্রাফিক আইন মেনে চলা, সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং কঠোর নজরদারির বিকল্প নেই। প্রশাসনের উদ্যোগ যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে মহাসড়কের এই মৃত্যুফাঁদ বন্ধ করা সম্ভব।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পটুয়াখালীর বাউফলে ব্যবসায়ী অপহরণ ও পাঁচ লাখ টাকা লুট

পটুয়াখালীর বাউফলে শিবু বনিক (৬৫) নামে এক ব্যবসায়ীকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করেছে দুর্বৃত্তরা। একই ঘটনায় তার দোকানের দুই কর্মচারীকে বেঁধে প্রায় পাঁচ লক্ষাধিক টাকা লুটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার রাত সোয়া ১০টার দিকে উপজেলার কালাইয়া বন্দরের মার্চেন্টপট্টি এলাকায়।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও কর্মচারীদের সূত্রে জানা যায়, শিবু বনিক ওই বন্দরের একজন বৃহৎ পাইকারি ব্যবসায়ী। চাল, ডাল, আটাসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করেন তিনি। ঘটনার সময়, তিনি দিনশেষের হিসাব বুঝে নিয়ে দোকান বন্ধ করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

এ সময় ৮-১০ জনের একটি মুখোশধারী দল দোকানে ঢুকে শিবু বনিকসহ দুই কর্মচারী শংকর (৩৪) ও তাপস (৩৫)-কে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে। পরে কর্মচারীদের বেঁধে দোকানের ক্যাশ থেকে প্রায় পাঁচ লক্ষাধিক টাকা লুট করে সন্ত্রাসীরা। এক পর্যায়ে শিবু বনিককে বেঁধে একটি ট্রলারে তুলে অপহরণ করে নিয়ে যায়।

ঘটনার খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে বন্দরের প্রায় পাঁচ শতাধিক ব্যবসায়ী আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তারা জড়ো হয়ে শিবু বনিককে দ্রুত উদ্ধারের দাবি জানান।

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন জানান, “বিষয়টি জানার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। শিবু বনিককে উদ্ধারের জন্য সব ধরনের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।”

মো: আল-আমিন,  পটুয়াখালী।



বেক্সিমকো গ্রুপের ঋণ অনিয়ম নিয়ে সোনালী ব্যাংকের বড় ঘোষণা

সোনালী ব্যাংক থেকে বেক্সিমকো গ্রুপের নেওয়া ঋণের বড় অংশ খেলাপি হয়ে গেছে। ব্যাংকের ম্যানেজমেন্ট দাবি করেছে যে তারা ঋণ আদায়কে কেন্দ্র করে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। বিশেষত, হলমার্ক গ্রুপের ঋণের বিপরীতে দেওয়া সম্পত্তির পরিমাণও আরও বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া, নতুন জমির সাথে ১৬৭ একর জমি সংযুক্ত করা হয়েছে। এসবের ফলে ব্যাংকটির ঋণ আদায়ে সহায়তা প্রাপ্তির আশা করা হচ্ছে।

২ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান এসব তথ্য সাংবাদিকদের জানান। তিনি বলেন, হলমার্ক এবং টিএম ব্রাদার্সের মতো বড় ঋণ গ্রহীতাদের ঋণ আদায়ে তারা কোনো ধরনের ছাড় দিচ্ছেন না। এছাড়া, সোনালী ব্যাংক ২০২৪ সালে বিপুল মুনাফা অর্জন করেছে এবং এটি ব্যাংকটির ইতিহাসে একটি নতুন রেকর্ড।

এদিকে, ব্যাংকের সাম্প্রতিক মুনাফা এবং উৎপাদনশীল খাতে ঋণ প্রদান বৃদ্ধি নিয়েও সোনালী ব্যাংক উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। তার মতে, তারা ঋণ আদায়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুসরণ করছে এবং ২০২৪ সালে তাদের প্রভিশন ঘাটতি কমে আসবে।

এছাড়া, সোনালী ব্যাংক তাদের কর্মীদের মোটিভেট করতে পদোন্নতি প্রদান করেছে এবং ব্যাংকটির আমানতের পরিমাণ বেড়ে ১৬৪ হাজার ৯৬০ কোটি টাকা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ১৪ হাজার ৩৪২ কোটি টাকা বেশি।

সোনালী ব্যাংকের এমডি জানান, তারা ২০২৫ সালে আরও সমৃদ্ধির পথে চলার জন্য প্রস্তুত।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




শীতে বিপর্যস্ত দক্ষিণাঞ্চল: হাড় কাঁপানো ঠাণ্ডায় জনজীবন অচল

হাড় কাঁপানো শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে দক্ষিণাঞ্চলের জনজীবন। বরিশালসহ বিভাগের ছয় জেলার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে অস্বস্তিকর শীতের কবলে পড়েছে। গত দুদিনে সূর্যের দেখা না মেলায় শীতের তীব্রতা আরও বেড়ে গেছে। ঘন কুয়াশার সাথে শীতল হাওয়া সবকিছু ঢেকে রেখে, বিশেষত ভোর ও রাতের দিকে মহানগরীসহ পুরো অঞ্চল কুয়াশার চাদরে আচ্ছাদিত হয়ে পড়ে।

শীতের প্রকোপের পাশাপাশি, বিশেষ করে বয়স্ক এবং শিশুরা শীতজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। হাসপাতালগুলোতে রোগীদের ভিড় বাড়ছে, যা থেকে বোঝা যায় যে শীতকালীন রোগের প্রকোপ বাড়ছে। সরকারি হাসপাতালগুলোতে শিশু, বৃদ্ধসহ নানা বয়সী মানুষ শীতজনিত নানা সমস্যায় ভুগছেন।

বরিশাল আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র পর্যবেক্ষক মাজহারুল ইসলাম জানান, গত দুদিন ধরে বরিশালে সূর্যের দেখা মেলেনি। বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ রয়েছে, যার কারণে আকাশ মেঘলা এবং কুয়াশা বেশি। তিনি আরও জানান, শুক্রবার সকাল ৯টা পর্যন্ত বরিশালের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৩.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে, চলতি মৌসুমে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১১.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় তাপমাত্রা আরও কমতে পারে এবং আগামী তিনদিনে শীতের প্রকোপ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।

দুদিন ধরে সূর্যের আলো না মেলায় বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের জনগণ শীতের তীব্রতার সঙ্গে মোকাবিলা করতে বাধ্য হচ্ছেন। বিশেষত শ্রমজীবী মানুষের জন্য এই শীতকাল অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে উঠেছে। জীবিকার তাগিদে অনেকেই শীতের মধ্যেও কাজ করতে বেরিয়েছেন, তবে শীতের কারণে তাদের দুর্ভোগ বেড়েছে। সড়ক ও নৌপথে ঘন কুয়াশার কারণে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে, যার ফলে যাত্রীরা সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন না।

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীদের সংখ্যা বেড়েছে। বিশেষত শিশু ও বয়স্করা বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আয়েশা আক্তার বলেন, শীতকালীন সময়ে সাধারণত হাসপাতালগুলোতে রোগীর সংখ্যা বাড়ে। তিনি বলেন, ‘‘শীতজনিত রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন বয়স্করা, যারা নিউমোনিয়া, অ্যাজমা এবং ত্বকের সমস্যায় ভুগছেন। এছাড়া, শিশুদেরও এই সময় তীব্র সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।’’

শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. ওবায়দুল ইসলাম জানান, শীতজনিত রোগে শিশুরা সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়। তিনি বলেন, ‘‘এখন শিশুরা অ্যাজমা, নিউমোনিয়া, কোল্ড ডায়রিয়া ও ভাইরাল ফিভারে আক্রান্ত হচ্ছে। শীতের সময় বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন।’’ তিনি শিশুদের পরামর্শ দেন, ‘‘শীতকালে তাদের ভালোভাবে গরম কাপড় পরিয়ে রাখতে হবে এবং ভেজা স্থানে রাখা যাবে না। পাশাপাশি, এ সময় শিশুদের জন্য ভাইরাল ফিভার বা ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো ভাইরাসের উপসর্গ বেড়ে যেতে পারে।’’

বয়স্কদের জন্যও বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। ডা. আয়েশা আক্তার বলেন, ‘‘বয়স্কদের জন্য নিউমোনিয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে, তাই তাদের যথাসম্ভব শীত থেকে দূরে রাখা উচিত এবং গরম কাপড় পরানো উচিত।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘এ সময় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য প্রচুর পানি এবং শাকসবজি খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।’’

এদিকে, শীতজনিত রোগের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চলছে হাসপাতালে, তবে চিকিৎসকরা মনে করছেন যে সতর্কতা এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে, এই শীতকাল আরও অনেক মানুষের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




২০০ কোটি টাকার গোমা ও নেহালগঞ্জ সেতুর ভবিষ্যত অনিশ্চিত

ডিসেম্বরে গোমা সেতু হস্তান্তরের কথা থাকলেও এখনো বসেনি স্পাম, সমাপ্ত হয়নি কাজ। একই অবস্থা নেহালগঞ্জ সেতুটিরও। গত চার বছরে চারবার পরিবর্তন হয়েছে হস্তান্তরের মেয়াদ। সর্বশেষ গেল ডিসেম্বরে কাজটি শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত সমাপ্ত হয়নি বরিশালের রাঙ্গামাটি ও আড়িয়াল খাঁ নদীর উপর নির্মাণাধীন দুটি সেতুর কাজ। এর একটিতে দুটি স্পাম বসানোর কাজ বাকী। অন্যটিতে একটি স্পাম ও দুপাশের সংযোগ সড়কের জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত জটিলতায় আটকে আছে সেতু নির্মাণ কাজ। দুটি সেতুরই দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ একই। দৈর্ঘ্য ৮০০ মিটার। নির্মাণ ব্যয় ১০০ কোটি টাকা করে দুটোর ২০০ কোটি টাকা। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, যেকোনো সময় শেষ হবে গোমা সেতুর কাজ। আর চলতি বছরের এপ্রিল বা মে মাসে শেষ হবে নেহালগঞ্জ সেতুর নির্মাণ। যদিও বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা।

সরেজমিনে গত ১ জানুয়ারি দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ বরিশাল বাউফল, ভোলা, লক্ষ্মিপাশা ও দুমকি মহাসড়কের সংযোগে প্রথমে আড়িয়াল খাঁ নদীর উপরে নির্মিতব্য নেহালগঞ্জ সেতুটি এবং দুপুরের পরে বাকেরগঞ্জের চরাদি ও দুধল ইউনিয়ন নিয়ে বয়ে চলা রাঙামাটি নদীর উপরে গোমা সেতু ঘুরে দেখে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে এর ভবিষ্যত যে অনিশ্চিত তা স্পষ্ট বোঝা গেছে। নেহালগঞ্জ সেতুর মাত্র একটি স্পাম বসাতে এতোটা সময় লাগার কথা নয় বলে দাবী সাধারণ মানুষের। এখানে জমি অধিগ্রহণ জটিলতা এখনো কাটেনি বলে জানালেন বরিশাল সদর উপজেলার টুঙ্গিবাড়িয়া ইউনিয়নের পতাং গ্রামবাসী। আড়িয়াল খাঁ নদীর ওপারে চন্দ্রমোহন ইউনিয়ন। দুটি ইউনিয়নের সংযোগ সৃষ্টি হলে ভোলা, বাউফল ও পটুয়াখালীর সাথে সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থার কিছুটা অগ্রগতি হবে এখানে। তবে ভোলার সাথে সংযোগের জন্য আরো দুটো সেতু নির্মাণ করতে হবে বলে জানান এলাকাবাসী।

অন্যদিকে গোমা সেতুর উপর দিয়েও বাউফল, পটুয়াখালী, বরগুনা যাতায়াত সহজ হবে। এরফলে চরাঞ্চলের কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের বরিশালে যাতায়াত সবচেয়ে সহজ হবে বলে জানালেন গোমা বাজারের ব্যবসায়ীরা। তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, দুটি সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছিলো ২০১৮ সালে। সরকারি অর্থায়নে তিন বছর মেয়াদের প্রকল্প দুটি অনুমোদন পেয়েছিল ২০১৭ সালে। তখন প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল ৫৭ কোটি ৬২ লাখ টাকা। প্রথম সংশোধিত প্রাক্কলনে এর ব্যয় বেড়ে নির্ধারণ হয়েছে ৯২ কোটি ৫৩ লাখ ৬২ হাজার টাকা। পরবর্তীতে কাজ শুরু হওয়ার পর উচ্চতা জনিত সমস্যায় মামলা ও তার সংশোধন নিয়ে নিষ্পত্তি জটিলতায় ৯ মাস বন্ধ ছিলো দুটি সেতু নির্মাণের কাজ। ২০২৩ সালে পুনরায় কাজ শুরু হয় এবং গত জুনে এই কাজ হস্তান্তরের কথা থাকলেও আজ পর্যন্ত দুটি ব্রীজের একটিও হস্তান্তর হয়নি। এ নিয়ে স্থানীয় উপকারভোগী প্রায় লাখ মানুষের ক্ষোভ দিনকে দিন বাড়ছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, দেশীয় তহবিলে ২ হাজার ৫৪০ ফুট দীর্ঘ এই সেতুর কাজ বাস্তবায়ন করছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর। গোমা অংশে সেতুটির ১ হাজার ফুট সংযোগ সড়কের মাটির কাজ ছাড়াও নদীর মধ্যবর্তী অংশে সেতুর স্প্যানের দুই পাশের প্রি-স্ট্রেসড কংক্রিট গার্ডার‘র নির্মান কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। নকশা সংশোধন করে মধ্যবর্তী অংশে স্টীল টাইপ স্ট্রাকচারের জন্য দরপত্র আহবান করেছে সড়ক ও জনপথ বরিশাল সার্কেল। সেতুটির ১৩টি স্প্যানের ১২টি পিয়ার ছাড়াও দুটি এবাটমেন্ট‘র নির্মান কাজ প্রায় শেষ পর্যায় হলেও নদীর মধ্যবর্তী অংশের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে নকশা সংশোধন করে ইস্পাতের অবকাঠমো নির্মাণ করতে হচ্ছে। এই সেতুর নির্মান কাজ শুরুর আগে বিআইব্লিউটিএ নকশায় অনাপত্তি দেয়ার পরেও নির্মাকাজের মাঝামাঝি সময় আপত্তির মুখে গত কয়েক বছর ধরে কাজ বন্ধ থাকে। পরে দুটি দপ্তরের মধ্যে চিঠি চালাচালি ও একাধিক বৈঠকের পর সমঝোতার আলোকে ২০২৩ সালে সেতুর মধ্যবর্তী স্প্যানটি মূল নকশার চেয়েও যতটা সম্ভব উঁচু করে নির্মানের সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই পরিস্থিতি তৈরী হয়েছে নেহালগঞ্জ সেতুটির ক্ষেত্রেও। সেখানেও দীর্ঘ সময় পর মধ্যবর্তী স্প্যানটি অপক্ষোকৃত উচ্চতায় স্টীল স্ট্রাকচারে নির্মানের সিদ্ধান্তের পরে নকশা চূড়ান্ত করা হয়েছে। উভয় সেতুর ক্ষেতেই নির্মাণ খরচ বেড়েছে। বিআইডব্লিউটিএ’র সাথে সমঝোতার আলোকে নেহালগঞ্জ সেতুটির মধ্যবর্তী এক’শ ফুটের স্প্যানটিকে ইস্পাতের অবকাঠামোতে নির্মাণ করতে গিয়ে নকশার পরিবর্তন ও সংশোধন করা হয়েছে। ৩৬ ফুট প্রশস্ত এ সেতুটিতে যানবাহন চলাচলের জন্য মূল অংশটি ২৪ ফুট বলে জানা গেছে। তবে নেহালগঞ্জ সেতুর সংযোগ সড়কের জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত জটিলতা কাটেনি এখনো। তাই বন্ধ আছে এ অংশের কাজ।

দুটো ব্রীজের ঠিকাদার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মাহফুজ খান। তিনি স্পাম জটিলতার পর থেকেই এই কাজে আর আগের আগ্রহ ধরে রাখতে পারেননি। কেননা, কাজ গ্রহণকালীন দরপত্র সময়ের বাজার দরের সাথে এখনকার বাজারদরে আকাশ পাতাল পার্থক্য। লাভের তুলনায় উল্টো ক্ষতি গুনতে হচ্ছে এই কাজে জানিয়ে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এম মাহফুজ খান গত বছর বলছিলেন, যে কাজে ওই সময় ব্যায় হতো ৫০-৬০ কোটি টাকা। সেই একই কাজে এখনকার ব্যায় তিনগুণ বেড়েছে। তাছাড়া প্রকৌশলগত প্লানিং ভুলতো কর্তৃপক্ষের। অথচ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকেও তার খেসারত দিতে হচ্ছে বলেই কাজটি এতো বিলম্ব হচ্ছে।

মাহফুজ খান বলেন, গোমা সেতুর একটি স্পাম বাকী। এ নিয়ে রি-টেন্ডার হয়েছে। কাজটি আমার প্রতিষ্ঠানই পুনরায় পেয়েছে।
নেহালগঞ্জ সেতুর রি-টেন্ডার তারই পরিচিত ঢাকার একজন ঠিকাদার পেয়েছেন। তিনিই কাজটি করছেন। জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত জটিলতায় তিনগুণ দামে সমস্যার সমাধান হয়েছে জানতে পেরেছি। এসব জটিলতার কারণে নেহালগঞ্জ সেতুর পুন:টেন্ডারে আর অংশ নেননি বলে জানান মাহফুজ খান ।
এদিকে নতুন করে দরপত্র আহ্বান করে গোমা সেতুর জন্য পরপর তিনবার ঠিকাদার পাননি বলে জানিয়েছিলেন বরিশালের সড়ক ও জনপথ বিভাগের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদ মাহবুব সুমন। তিনি বলেন, চতুর্থ দফা দরপত্র আহ্বান করার পর গোমা সেতুর কাজ বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। যেকোনো সময় এটির কাজ সম্পন্ন হবে। তবে নেহালগঞ্জ সেতুর জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত জটিলতা কাটেনি। জমি অধিগ্রহণ চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দ পাওয়া গেছে, শীঘ্রই জমির মালিকদের তা বুঝিয়ে দেয়া হবে। স্পাম তৈরির কাজ চলমান রয়েছে। আগামী বছর এপ্রিল বা মে মাসে এটি হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল ইসলাম এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কিছুই জানেন না, তবে তিনি দুটি ব্রীজ পরিদর্শন করে বিস্তারিত বলবেন বলে জানিয়েছেন।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




পলাতক মৎস্যজীবী লীগ নেতার অনুসারীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ

বরিশালের পোর্ট রোড বাজার ও ঘাট ইজারা নিলেও আশপাশের আধা কিলোমিটার পর্যন্ত বিআইডব্লিউটিএর সড়ক থেকে চাঁদা তোলার অভিযোগ উঠেছে। প্রতিদিন তিন শতাধিক দোকানির কাছ থেকে চাঁদা নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। বছরের শেষে এই চাঁদার পরিমাণ গিয়ে দাঁড়ায় অর্ধকোটি টাকায়, যা রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা করা হয়।

সূত্রে জানা যায়, বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য সম্পাদক নিরব হোসেন টুটুলের অধীনে পোর্ট রোড বাজারের একক নিয়ন্ত্রণ ছিল। তবে, ২০২৩ সালের সিটি নির্বাচন শেষে, খায়ের আব্দুল্লাহ মেয়র নির্বাচিত হলে বাজারের আধিপত্য চলে যায় তার অনুসারী মৎস্যজীবী লীগ নেতা খান হাবিবের হাতে। তিনি ২০২৪ সালের জুন থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত তার স্ত্রীর নামে বাজারের ইজারা নেন।

এমন পরিস্থিতিতে, বাজারের বাইরে বিআইডব্লিউটিএর মালিকানাধীন সড়কের দুই পাশের প্রায় ৩০০ ব্যবসায়ী থেকে চাঁদা তোলা হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, তারা প্রতিদিন ৫০ টাকা করে চাঁদা দিচ্ছেন। একটি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী জানান, “আমরা জানি না, ইজারাদার বাজারের জন্য ইজারা নিয়েছেন নাকি সরকারি রাস্তার জন্য, কিন্তু ইজারাদারের প্রতিনিধি প্রতিদিন আমাদের কাছ থেকে টাকা নেয়।” অন্য এক ব্যবসায়ী বলেন, “আওয়ামী লীগ আমলেও চাঁদা দিয়েছি, এখনো দিতে হয়। এই রাস্তা দিয়ে ট্রাক ঢুকলেই টাকা দিতে হয়। ছোট গাড়ির কাছ থেকেও চাঁদা তোলা হয়।”

চাঁদাবাজির অভিযোগের বিষয়ে মিজানুর রহমান রানা, ইজারাদারের প্রতিনিধি বলেন, “পোর্ট রোড বাজার সিটি করপোরেশন থেকে ৩০ লাখ টাকায় আমাদের ইজারা নেওয়া। সড়কে যেসব অবৈধ দোকান বসে, তা উচ্ছেদের জন্য বলি, কিন্তু ভাসমান দোকানিরা আমাদের কথা শোনেন না।” তিনি আরও জানান, সড়কের অবৈধ দোকানিদের কাছ থেকে কোনো টাকা নেওয়া হয় না। তবে, বাজারের ইজারার আওতাধীন দোকানিরা নিয়মিত ইজারা ফি প্রদান করে।

বরিশাল নদী বন্দর কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “পোর্ট রোড বিআইডব্লিউটিএ নির্মাণ করেছে এবং আমরা এই রোডটি কারো কাছে ইজারা দিইনি। কিছু লোক এখানে দোকান বসিয়েছে, তা আমরা শিগগিরই উচ্ছেদ করব।” বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বারী বলেন, “পোর্ট রোডটি বিআইডব্লিউটিএর মালিকানাধীন এবং এখানে সিটি করপোরেশন কোনো দোকান বসানোর অনুমতি দেয়নি। অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করা হবে।”

এমন পরিস্থিতিতে, প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে, কিন্তু ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, কোনো অভিযান চালানোর পর পরের দিন আবার দোকান বসিয়ে সড়ক দখল করে নেওয়া হয়। সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে ইজারাদারদের নির্ধারিত এলাকা থেকেই চাঁদা তোলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, কিন্তু অন্য জায়গা থেকে চাঁদা তোলা আইনবহির্ভূত এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




৪২ লাখ টাকায়ও মুক্তি মেলেনি আসাদের, খবর এলো মৃত্যুর

মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার পশ্চিম কমলাপুর গ্রামের বাসিন্দা আসাদ মাতুব্বর (৪০) দুই বছর আগে সচ্ছলতার আশায় ইতালি যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি ছাড়েন। কিন্তু সেই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়নি। বুধবার (১ জানুয়ারি) সকালে পরিবারের কাছে আসে তার মৃত্যুর খবর, যা পরিবারে শোকের মাতম সৃষ্টি করেছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আসাদ মাতুব্বর ইতালি যাওয়ার জন্য মাদারীপুর সদর উপজেলার ঝিকরহাট গ্রামের দালাল রুবেল খানের মাধ্যমে ১৭ লাখ টাকায় চুক্তি করেছিলেন। তবে লিবিয়া পৌঁছানোর পর তাকে একটি বন্দিশালায় আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়। দালাল চক্রের সদস্যরা টাকার জন্য তাকে মারধর করছিল এবং তার পরিবারের কাছে মোবাইল ফোনে নির্যাতনের ভিডিও পাঠাচ্ছিল।

পরিবারের দাবি, দালালরা আসাদকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। তারা জানান, আসাদের মুক্তির জন্য একাধিক দফায় মোট ৪২ লাখ টাকা পাঠানো হয়। কিন্তু তারপরও তাকে মুক্তি দেওয়া হয়নি। অবশেষে, গত বুধবার আসাদের মৃত্যুর খবর আসে।

নিহতের ভাই মাসুদ মাতুব্বর বলেন, “আমরা রুবেল খানসহ দালাল চক্রের সদস্যদের কাছে ৪২ লাখ টাকা দিয়েছিলাম, কিন্তু টাকা শেষ হওয়ার পর তারা নির্যাতন করে আমার ভাইকে হত্যা করেছে। আমরা তাদের বিরুদ্ধে মামলা করবো।”

নিহতের স্ত্রী রাখি আক্তার বলেন, “আমার স্বামীকে টাকার জন্য হত্যা করেছে দালালরা। আমি লাশ দেখতে চাইলে তারা আমার কাছে লাশও পাঠায়নি। আমি দালালদের বিচার চাই।”

মা কুলসুম বেগম জানান, “আমরা লাশ ফেরত চাই, কিন্তু রুবেল ও তার সহযোগীরা আরও পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেছে। আমরা তাদের বিচার চাই।”

ডাসার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদ উল হাসান জানান, নিহত আসাদের পরিবার মামলা করলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে, মাদারীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শাহ মো. সজীব বলেন, “মাদারীপুরে মানবপাচারের ঘটনা বেশি ঘটে। স্থানীয়দের আরও সচেতন হতে হবে। নিহতের পরিবার মরদেহ দেশে আনার জন্য আবেদন করলে প্রশাসন তাদের সার্বিক সহযোগিতা করবে।”

অভিযুক্ত রুবেল খানকে ফোন করেও পাওয়া যায়নি। তার ফোন বন্ধ এবং বাড়ি তালাবদ্ধ পাওয়া গেছে, ফলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম