স্বরাষ্ট্র সচিব নাসিমুল গনিকে জড়িয়ে প্রতিবেদন মিথ্যা: প্রেস উইং

সম্প্রতি ইউটিউব চ্যানেল ফার্স্টপোস্ট এবং বিডিডিগেস্ট নামের একটি নিউজ পোর্টালে প্রকাশিত প্রতিবেদনকে মিথ্যা ও বানোয়াট বলে উল্লেখ করেছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং। ভারতীয় সাংবাদিক পালকি শর্মার প্রযোজনায় প্রকাশিত এ প্রতিবেদনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনিকে নিষিদ্ধ সংগঠন হিযবুত তাহরীরের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে দাবি করা হয়েছে।

প্রেস উইংয়ের বিবৃতিতে জানানো হয়, প্রতিবেদনের ভিত্তিহীন দাবিগুলো ২০০৮ সালে প্রকাশিত ডেইলি স্টারের একটি খবরের ভুল ব্যাখ্যার ওপর দাঁড়িয়ে তৈরি করা হয়েছে। তবে ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে যে নাসিমুল গনির উল্লেখ রয়েছে, তিনি একজন ব্রিটিশ নাগরিক এবং হিযবুত তাহরীর নেতা। অন্যদিকে, সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি একজন বাংলাদেশি আমলা, যাঁর কোনো বিদেশি নাগরিকত্ব নেই।

সচিব নাসিমুল গনির জীবন ও পেশাগত কর্মজীবন প্রসঙ্গে প্রেস উইং আরও জানায়, তিনি ১৯৮৩ সালে দেশের সিভিল সার্ভিসে যোগ দেন এবং জাতীয় সংসদের তৎকালীন স্পিকারের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সালে তিনি যুক্তরাজ্যে একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নেন। এ তথ্য থেকে স্পষ্ট যে, তিনি কখনোই হিযবুত তাহরীরের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না।

বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, হিযবুত তাহরীর বাংলাদেশে একটি নিষিদ্ধ সংগঠন। কোনো সরকারি কর্মকর্তার এমন একটি সংগঠনের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রশ্নই ওঠে না। এ ধরনের অভিযোগ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং বিভ্রান্তি ছড়ানোর উদ্দেশ্যে করা হয়েছে।

বিবৃতির ভাষায়, “হিযবুত তাহরীরের সঙ্গে সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনিকে জড়িয়ে এই প্রতিবেদনটি সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং বিদ্বেষমূলক। এটি বাংলাদেশের বিরুদ্ধে একটি পরিকল্পিত প্রচারণার অংশ।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পায়রা বন্দরের নতুন চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল মাসুদ ইকবাল

পায়রা সমুদ্র বন্দরের কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন রিয়ার এডমিরাল মাসুদ ইকবাল। রোববার (৫ জানুয়ারি) বিদায়ী চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল মামুন চৌধুরীর কাছ থেকে দায়িত্ব বুঝে নেন তিনি।

গত ১৭ ডিসেম্বর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে রিয়ার এডমিরাল মাসুদ ইকবালকে পায়রা বন্দরের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরে, ১ জানুয়ারি তিনি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেন।

পায়রা বন্দরের ট্রাফিক বিভাগের উপপরিচালক আজিজুর রহমান জানান, বিদায়ী চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল আব্দুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে বদলি হয়ে সহকারী নৌবাহিনী প্রধান হিসেবে নৌ সদর দপ্তরে দায়িত্ব পালন করবেন।

নতুন চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল মাসুদ ইকবাল দায়িত্ব নেওয়ার পর বন্দরের উন্নয়ন এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আরও সুসংহত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদী।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




শিবির নয়, চাঁদাবাজির অভিযোগে ছাত্রদল নেতা ও পুলিশ সদস্য গ্রেপ্তার

বরিশালে চাঁদাবাজির ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া দুই ব্যক্তির পরিচয়ে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়েছে। এই ঘটনা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দাবি করা হচ্ছিল, মহানগর ছাত্রশিবিরের এক নেতা চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন। তবে এটি ভুয়া এবং উদ্দেশ্যমূলক বলে দাবি করেছেন মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি রিয়াজুল ইসলাম।

সত্য ঘটনা হলো, চাঁদাবাজির অভিযোগে বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের সহসভাপতি রাসেল আকন ও মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার কাজিরহাট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রেদোয়ান গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর গ্রেপ্তার হন। বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপাশা ইউনিয়নের চন্দ্রপাড়া এলাকায় একটি জুয়ার আসরে চাঁদাবাজি করতে গিয়েই তারা আটক হন।

বরিশাল এয়ারপোর্ট থানার ওসি জাকির হোসেন সিকদার জানিয়েছেন, চাঁদাবাজির ঘটনায় রাসেল আকন এবং এসআই রেদোয়ানের বিরুদ্ধে মামলা হয়। তাদের গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। এর বাইরে কাউকে আটক করা হয়নি।”

কাজিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান,”পুলিশ সদস্য রেদোয়ানের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে তিনি জামিনে মুক্ত। রাসেল আকন এখনো মামলার আসামি।”

ছড়িয়ে পড়া খবরটি নিয়ে বরিশাল মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি রিয়াজুল ইসলাম বলেছেন,”শিবিরকে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। শিবিরের নেতা বা কর্মীরা কোনো চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত নন। প্রথমে একটি ভুঁইফোঁড় অনলাইন এই ভুয়া খবর প্রকাশ করলেও আমরা সেই অনলাইনের সাথে যোগাযোগ করতে ব্যর্থ হই।”

সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তি দূর করতে রিউমার স্ক্যানার জানায়, এই ঘটনাটি ছাত্রদল নেতা ও পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে। ছাত্রশিবিরের কেউ এতে জড়িত ছিল না।”

ঘটনাটির আসল চিত্র সামনে আসার পর শিবিরের নেতারা দাবি করেছেন, ভবিষ্যতে শিবিরের নামে এমন ভুয়া খবর ছড়ানোর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম 




জুলাই ঘোষণাপত্র নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা হবে

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, জুলাই ঘোষণাপত্র নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কথাবার্তা হবে। তবে এখনো সুনির্দিষ্ট তারিখ ঠিক করা হয়নি।

রোববার (৫ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমির মিলনায়তনে এক বিফ্রিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

প্রেস সচিব বলেন, সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের তদন্তের জন্য নভেম্বর মাসে একটা টাস্কফোর্স করা হয়েছিল। নতুন করে ২৫-৩০ জনের সঙ্গে কথাবার্তা বলেছি। অনেক কাজ করছে পিবিআই। আশা করছি পিবিআই ভালো কিছু করতে পারবে, ওনারা প্রচুর শ্রম দিচ্ছেন।




দেশের সম্মান ও গৌরব অটুটে কাজ করে যাচ্ছে সেনাবাহিনী: প্রধান উপদেষ্টা

রাজবাড়ীতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পদাতিক বিগ্রেড গ্রুপের শীতকালীন ম্যানুভার অনুশীলন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি অনুষ্ঠানে বলেন, “দেশের সম্মান ও গৌরব অটুট রাখতে সেনাবাহিনী জনগণের পাশে থেকে কাজ করে যাচ্ছে।”

রোববার (৫ জানুয়ারি) সকালে, ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে রওনা হয়ে দুপুর ১২টা ৩৬ মিনিটে কালুখালীর মিলিটারি ট্রেনিং এরিয়ার চর খাপুড়ায় হেলিপ্যাডে পৌঁছান ড. ইউনূস। তার সাথে ছিলেন বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেনা কর্মকর্তা। অনুষ্ঠানস্থলে তাকে স্বাগত জানান সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনীর প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান, বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান এবং ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল জে এম ইমদাদুল ইসলাম।

এই ম্যানুভার অনুশীলনে সেনাবাহিনীর প্রস্তুতি ও সক্ষমতার বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়, যা দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনীর বিভিন্ন অগ্রগতির বিষয়েও আলোচনা হয়।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পারিবারিক বিরোধে পটুয়াখালীতে গৃহবধূকে হ*ত্যা,  আটক স্বামী

পটুয়াখালীর ছোট আউলিয়াপুরে নুরজাহান বেগম (৪৫) নামে এক গৃহবধূকে নির্মমভাবে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পুলিশ তার স্বামী নুর মোহাম্মদ হাওলাদারকে আটক করেছে।

রবিবার (৫ জানুয়ারি) ভোররাতে সদর উপজেলার বলাইকাঠী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নুরজাহানের পুত্রবধূ রোজি আক্তার ও নুপুর আক্তার জানিয়েছেন, দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ চলছিল। ঘটনার দিন রাতে নুর মোহাম্মদ তার স্ত্রীকে তালাক দেয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। তবে পুত্রবধূদের হস্তক্ষেপে রাতের বিবাদ সাময়িকভাবে থেমে যায়। সবাই ঘুমিয়ে পড়ার পর রাত ৩টার দিকে নুর মোহাম্মদ গলা কেটে নুরজাহানকে হত্যা করে পালিয়ে যান।

পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইমতিয়াজ জানান, “আমরা ঘটনার পরপরই অভিযান চালিয়ে নুর মোহাম্মদকে আটক করেছি। তার বিরুদ্ধে মামলার প্রক্রিয়া চলছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি পারিবারিক কলহের জের ধরে ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।”

এ হত্যাকাণ্ডে এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নুরজাহানের স্বজনরা দ্রুত দোষীর কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




সচিবালয়ের ৭ নম্বর ভবন খুলেছে, কাজে ফিরছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ১১ দিন আগে ভয়াবহ আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া সচিবালয়ের ৭ নম্বর ভবন আংশিক খুলে দেওয়া হয়েছে। নয়তলা ভবনের পুড়ে যাওয়া চারটি ফ্লোর বাদে বাকি পাঁচটি ফ্লোরে রোববার (৫ জানুয়ারি) থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অফিস শুরু করেছেন।

আগুনের ঘটনার পর থেকেই সচিবালয়ে প্রবেশে ছিল কঠোর বিধিনিষেধ। উপদেষ্টা এবং সচিব ছাড়া অন্য কারও গাড়ি প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা ছিল। তবে আজ থেকে অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গাড়িও সচিবালয়ে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এর ফলে সচিবালয়ে কার্যক্রম অনেকটাই স্বাভাবিক হয়েছে।

সরাসরি পরিদর্শনে দেখা গেছে, আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ৭ নম্বর ভবনের ফ্লোরগুলোতে এখন সবাই প্রবেশ করতে পারছেন। তবে ভবনের পঞ্চম তলার ওপরে, যেখানে গণপূর্ত বিভাগের কাজ চলছে, সেখানে তাদের কর্মকর্তাদের ছাড়া অন্য কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।

ভবনের বিভিন্ন অংশে এখনো ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের চিহ্ন রয়ে গেছে। দ্বিতীয় তলার মেঝেতে ছাইয়ের কালো দাগ স্পষ্ট। লিফট এখনো চালু হয়নি, তবে বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল রয়েছে। পানি সরবরাহ বন্ধ থাকায় কিছু সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত ২৫ ডিসেম্বর, সরকারি ছুটির দিন রাতের বেলায় সচিবালয়ের ৭ নম্বর ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এটি সচিবালয়ের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অগ্নিকাণ্ড বলে ধরা হচ্ছে। আগুনে ভবনের চারটি তলা সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। এসব ফ্লোরে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ, স্থানীয় সরকার বিভাগ, পল্লি উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ, এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অফিস ছিল।

অগ্নিকাণ্ডের পরপরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ভবনের প্রবেশ সীমিত করে দেয়, যেখানে শুধু গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রবেশের অনুমতি পেতেন। তবে এখন পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক। ভবনের বিভিন্ন ফ্লোর পুনর্গঠনের কাজ চললেও, স্বাভাবিক কার্যক্রম দ্রুত চালু করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।




পথকুকুরের পাশে পটুয়াখালীর চার যুবক

পটুয়াখালীতে চলমান মৃদু শৈত্যপ্রবাহে আশ্রয়হীন পথকুকুরদের দুর্দশা তীব্রতর হয়েছে। এই কঠিন পরিস্থিতিতে চার যুবক তাদের ব্যবহৃত পুরোনো গরম কাপড় দিয়ে এসব কুকুরের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাদের এ মহৎ উদ্যোগ প্রশংসার জোয়ার তুলেছে শহরজুড়ে।

শনিবার (৪ জানুয়ারি) মধ্যরাতে শহরের চৌরাস্তা, ঝাউতলা, সবুজবাগ, কলাতলা ও পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট এলাকায় ঘুরে অন্তত অর্ধশত পথকুকুরকে গরম কাপড় পরিয়ে দেন সাগর চৌধুরী, রুবাইয়াত হক মেহেদী, আক্তারুজ্জামান তুরাগ এবং তানভির রহমান।

তাদের উদ্যোগের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিভিন্ন মহলে প্রশংসা কুড়ান তারা।

এই কাজ সম্পর্কে রুবাইয়াত হক মেহেদী বলেন, “শীতের রাতে বেওয়ারিশ কুকুরদের দুর্দশা দেখে আমরা সিদ্ধান্ত নিই তাদের পাশে দাঁড়ানোর। আমরা আমাদের পুরোনো গরম কাপড় নিয়ে বের হই এবং যতটা সম্ভব কুকুরকে সাহায্য করি। মানুষের কাছ থেকে এমন ইতিবাচক সাড়া পেয়ে আমরা অভিভূত। ভবিষ্যতে এ কার্যক্রম চালিয়ে যেতে চাই।”

সেচ্ছাসেবী প্রাণিকল্যাণ ও পরিবেশবাদী সংগঠন “এ্যানিমেল লাভার্স অব পটুয়াখালী”র প্রতিনিধি মো. আসাদুল্লাহ হাসান মুসা বলেন, “মানুষ চাইলে শীত থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারে, কিন্তু এই প্রাণীগুলো তা পারে না। এই চার যুবকের কাজ নিঃসন্দেহে প্রশংসার যোগ্য।”

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. হাবিবুর রহমান বলেন, “তাদের এই উদ্যোগ মানবতার প্রকৃত উদাহরণ। রাস্তার কুকুরদের জন্য গরম কাপড়ের ব্যবস্থা করে তারা সমাজে ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়েছে। আমরা তাদের এই মহৎ কাজের জন্য ধন্যবাদ জানাই।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




দুই-আড়াই টাকার ফুলকপি হাত বদলে পটুয়াখালীতে ২৫-৩০ টাকা

পটুয়াখালীর বাজারে ফুলকপির দামে বড় বৈষম্য লক্ষ্য করা গেছে। মাঠ পর্যায়ে কৃষকরা ফুলকপি বিক্রি করছেন মাত্র ২-৩ টাকায়, অথচ শহরের বাজারে সেই ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ২৫-৩০ টাকায়। এমন মূল্যবৈষম্য নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সাধারণ ক্রেতারা।

শনিবার (৪ জানুয়ারি) পটুয়াখালীর নিউমার্কেট, পুরান বাজার, নতুন বাজার, কলাতলা ও হেতালিয়া বাধঘাটসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন পরিস্থিতি দেখা গেছে। সরেজমিনে ঘুরে জানা যায়, গুনগত মানের ওপর ভিত্তি করে ফুলকপি ২০-৩০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। তবে উৎপাদন স্থানের তুলনায় এমন দামের পার্থক্যে অনেক ক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বিক্রেতারা দাবি করছেন, পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ার কারণে দাম বাড়ছে।

শিমুলবাগ এলাকার বাসিন্দা মোহন খন্দকার পৌর নিউমার্কেটে সবজি কিনতে এসে বলেন, “কৃষকরা যেখানে ২-৩ টাকায় ফুলকপি বিক্রি করছে, আমাদের কিনতে হচ্ছে ৩০ টাকায়। জিজ্ঞেস করলেই বলা হয়, ডিজেলের দাম বেশি তাই সবজির দাম বেশি। এই অবস্থায় কৃষকরা উৎপাদনে অনাগ্রহী হবে আর আমাদের পকেটের ক্ষতি হবে। আমার মতে, দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি রয়েছে।”

নিউমার্কেটের খুচরা বিক্রেতা কাওসার আহমেদ বলেন, “আমরা পাইকারি বাজার থেকে ১৫ টাকায় কিনে ২০ টাকায় বিক্রি করি। লাভের পরিমাণ খুবই সীমিত।”

একই বাজারের বিক্রেতা মো. শুক্কুর জানান, “আমরা যেভাবে পাই, সেভাবেই বিক্রি করি। সবজির দাম কম বলে শোনা যায়, কিন্তু আমাদের কিনতে হয় বেশি দামে। আমরা কম দামে কিনতে পারলে অবশ্যই ক্রেতাদের কম দামে দিতে পারতাম।”

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই সমস্যার মূল কারণ মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য। তারা কৃষকদের কাছ থেকে নামমাত্র মূল্যে ফুলকপি কিনে শহরের বাজারে চড়া দামে বিক্রি করছে।

জেলা টাস্কফোর্স কমিটির সদস্য সচিব এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ শোয়াইব মিয়া বলেন, “এ বিষয়ে আমার কোনো মন্তব্য নেই। এটা পুরোপুরি মার্কেট অ্যানালাইসিসের বিষয়। প্রকৃতপক্ষে তারা কী দামে কিনছে এবং পরিবহন খরচ কত হচ্ছে, সেটা তারাই জানে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




২০ শতাংশ অর্ডার বাতিল, বন্ধের ঝুঁকিতে শত পোশাক কারখানা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: করেছে বিদেশি ক্রেতারা। শ্রমিক অসন্তোষে এখনও আস্থা পাচ্ছেন না তারা। উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, আশুলিয়া এলাকার কারখানাগুলো নিয়ে আস্থা কম তাদের। বিজিএমইএ ও বিকেএমইয়ের হিসাবে, পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আগামী ৬ মাসে সারাদেশে প্রায় ১০০ কারখানা বন্ধ হবে।

সাভার ও আশুলিয়ায় ছোট-বড় পোশাক কারখানার সংখ্যা ৪৫০টি। জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী শ্রমিক অসন্তোষের কবলে এই এলাকার কারখানাগুলো। বন্ধ হয়েছে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ-এর তালিকাভুক্ত প্রায় ২০০ কারখানা।

ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, আশুলিয়া এলাকার শ্রমিক অসন্তোষ পর্যবেক্ষণ করছেন বিদেশি ক্রেতারা। এসব কারখানায় কাজ দিতে আস্থা পাচ্ছেন না তারা।

বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘ব্র্যান্ড ও বায়াররা এখন আশুলিয়া বেল্টের যে কোনো ফ্যাক্টরিতে কাজ দেওয়ার ক্ষেত্রে খুব সতর্ক, সচেতন। তারা অনেকটাই আস্থাহীনতায় ভুগছে। আমাদের অর্ডার যে অন্য জায়গায় যাচ্ছে তার প্রমাণটা সামনে পাওয়া যাবে।’

ব্যবসায়ীরা বলছেন, ৬ মাসের অস্থিরতার ধকল আগামী বছরের জুন পর্যন্ত বইতে হবে। পরিস্থিতি সামাল দেওয়া না গেলে আগামী ৬ মাসে আরও ১০০ কারখানা বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘তারা হয়ত চেষ্টা করছে ব্যাংকের সাথে কোনো নেগোসিয়েশন করে একটা পর্যায়ে গিয়ে আবার যদি পারে চালু করবে। না হলে তারা হয়ত পার্মানেন্টলি বন্ধ হয়ে যাবে। অর্থাৎ আগামী ১ বছরে আরও শ খানেক ফ্যাক্টরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা আমরা করছি।’

শাশা ডেনিমসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামস মাহমুদ বলেন, ‘শতভাগ ফ্যাক্টরি সচল রাখতে পারলেই কিন্তু আমরা ব্যাংকের ঋণ শোধ বা কর্মীদের বেতন চালু রাখতে পারব। কিন্তু এখন যদি আমার ২০ ভাগ ক্যাপাসিটিতে ফ্যাক্টরি চালাতে হয় তাহলে যেটা হবে আমি তো আর্থিকভাবে সবল হবো না।’

যদিও অর্থনীতিবিদেরা বলছেন, বহুজাতিক কোম্পানিগুলো বাংলাদেশ থেকে গড়পড়তা সস্তা পোশাক কিনছে। ফলে তারাও বাংলাদেশের ওপর নির্ভরশীল। তাই সাময়িক অস্বস্তি থাকলেও বড় আকারে বাজার হারানোর আশঙ্কা নেই।

সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘ভিয়েতনাম বলি কম্বোডিয়া বলি, কারও এত বড় সাপ্লাই বেজ নেই। সুতরাং বড়ভাবে এখান থেকে মার্কেট শিফট হয়ে যাওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই। তবে সাময়িক কারণে কিছু সময়ের জন্য হয়ত কিছু অর্ডার এদিক সেদিক হতে পারে।’