শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি নিয়ে যা বলছেন ভারতীয় কূটনীতিক

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: গুমের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। পরোয়ানা জারির ঘটনায় বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের সাবেক হাইকমিশনার বীণা সিক্রি এই অভিযোগের বিশ্বাসযোগ্যতা এবং প্রমাণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। একই সঙ্গে অভিযোগের বিষয়ে তথ্য-প্রমাণের ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।

ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআইয়ের সঙ্গে আলাপকালে দেশটির সাবেক এই কূটনীতিক বলেছেন, আন্তর্জাতিক সংস্থা জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক কমিশন এই বিষয়ে বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পায়নি।

তিনি বলেন, ‘‘শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। এই পরোয়ানা জোরপূর্বক গুমের অভিযোগে… আপনি যদি প্রথম গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিষয়ে কথা বলেন, তাহলে সেটি ছিল তথাকথিত গণহত্যার অভিযোগে। কিন্তু কোনও তথ্য ও প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। গত জুলাই-আগস্টে নিহতদের বিষয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনকে একটি প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছিল। তারা বলেছে, আমাদের কোনও প্রমাণ দেওয়া হয়নি…। কোনও এফআইআর আছে কি? কী লেখা আছে এফআইআরে? প্রমাণ কী আছে? এমন কিছুই নেই…।’’




বরিশালে স্কুলছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে যুবকের যাবজ্জীবন

বরিশালে কিশোরী বয়সী এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে হারুন মোল্লা নামে ২২ বছর বয়সী এক যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি তার এক লাখ ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারি) বরিশালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক রকিবুল ইসলাম এই আদেশ দেন।

রায়ের তথ্য নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী আজিবর রহমান। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডিত হারুন আদালতে ছিলেন। এরপর সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার অপর তিন আসামিকে খালাস দিয়েছেন বিচারক।

দণ্ডিত হারুন মোল্লা বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার কালিদাসিয়া গ্রামের বাসিন্দা সিদ্দিক মোল্লার ছেলে। তিনি পেশায় কৃষক।

মামলার বরাত দিয়ে বেঞ্চ সহকারী জানান, বাকেরগঞ্জ উপজেলার চরামদ্দি গার্লস হাইস্কুলের সপ্তম শ্রেণি পড়ুয়া এক ছাত্রীকে ২০১৮ সালের ৭ মে অপহরণ করা হয়। পরে মেয়েটিকে মারধর ও জখম করার হুমকি দিয়ে ধর্ষণ করে। এ অভিযোগে ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে ছয়জনকে আসামি করে আদালতে নালিশি অভিযোগ করেন।

বিচারক অভিযোগটি আমলে নিয়ে বরিশাল মহানগর বন্দর থানা পুলিশকে মামলা হিসেবে গ্রহণের আদেশ দেন। পরে বন্দর থানার এসআই মো. আ. ছবুর ২০১৮ সালের ১৩ জুলাই চারজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট জমা দেন। বিচারক সাতজনের সাক্ষ্য নিয়ে রায় দেন।

বেঞ্চ সহকারী আরও বলেন, দণ্ডিত হারুনকে অপহরণের দায়ে ১৪ বছর কারাদণ্ড ও ৩০ হাজার টাকা জরিমানা দিয়েছেন বিচারক। জরিমানা অনাদায়ে তার আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। এছাড়া পৃথক অপরাধ ধর্ষণের দায়ে হারুনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তার দুই সাজা একসঙ্গে কার্যকর হবে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন খালেদা জিয়া: মির্জা ফখরুল

চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যাওয়ার আগে দেশবাসীর কাছে দোয়া চাইলেন বিএনপি চেয়ারপারসন

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারি) রাতে লন্ডন যাওয়ার আগে বিমানবন্দরে দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের জানান, খালেদা জিয়া বলেন, “আপনি সকলকে বলবেন, তারা যেনো আমার জন্য দোয়া করেন। আর আমি আল্লাহর কাছে এই দোয়া চাচ্ছি, আল্লাহ যেন এই দেশকে এবং দেশবাসীকে ভাল রাখেন, তাদের কল্যাণ করেন।”

বিএনপির দাবি, ফ্যাসিস্ট সরকারের কারণে খালেদা জিয়া অসুস্থ

মির্জা ফখরুল বলেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের নির্যাতনের ফলে মিথ্যা মামলায় ৬ বছর ধরে আটক ছিল দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী খালেদা জিয়া। এ সময় খালেদা জিয়া অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। এরপর বিএনপি বারবার সরকারকে অনুরোধ করলেও তাকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি।

শুভকামনায় বিএনপি মহাসচিব

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, আল্লাহর রহমতে ও ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের পতনের মাধ্যমে খালেদা জিয়া সম্পূর্ণ মুক্ত হন। এখন তিনি চিকিৎসার জন্য লন্ডনে গেছেন, বিএনপি আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া আদায় করছে এবং আশা করছে, খালেদা জিয়া সুস্থ হয়ে দেশে ফিরে আসবেন।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




লন্ডনের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়লেন খালেদা জিয়া

উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনের পথে বিএনপি চেয়ারপারসন

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া উন্নত চিকিৎসার জন্য আজ (৭ জানুয়ারি) রাতে ঢাকা ত্যাগ করেছেন। তিনি রাত ১১টা ১০ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে লন্ডনের উদ্দেশে রওনা হন। এর আগে, ১০টা ৪৫ মিনিটে তাকে বহনকারী গাড়ি বিমানবন্দরে পৌঁছায়।

বিমানের নির্ধারিত সময়ের পর পৌঁছান খালেদা জিয়া ::

খালেদা জিয়া বিমানে ওঠার পূর্বে সন্ধ্যা ১০টা ৪৮ মিনিটে বিমানবন্দরে পৌঁছান। এর আগেই সড়কে তার নেতাকর্মীদের বিপুল উপস্থিতির কারণে এক ঘণ্টা পরে বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি। খালেদা জিয়াকে বিদায়ী শুভেচ্ছা জানাতে গুলশানসহ বিমানবন্দরের পথে বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন। তারা সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে হাত নেড়ে বিদায় জানান।

বয়স-সীমিতের কারণে তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ::

এতদিন পর মা-ছেলের পুনর্মিলন ঘটবে, কারণ সাড়ে সাত বছর পর খালেদা জিয়া তার ছেলে, বিএনপির অন্যতম নেতা তারেক রহমানের সঙ্গে লন্ডনে সাক্ষাৎ করবেন।

চিকিৎসা পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ::

লন্ডনের চিকিৎসকরা যদি প্রয়োজন মনে করেন, খালেদা জিয়াকে যুক্তরাষ্ট্রের জন হপকিনস ইউনিভার্সিটি হসপিটালে স্থানান্তর করা হতে পারে। চিকিৎসা শেষে তিনি কবে দেশে ফিরবেন, সে সম্পর্কে এখনও সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরগুনায় অবৈধ কয়লা চুল্লী ধ্বংস, এক লাখ টাকা জরিমানা

বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার রায়হানপুর ইউনিয়নে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করার জন্য পরিচালিত হয়েছে বিশেষ অভিযান, যেখানে ৪টি অবৈধ কয়লা চুল্লী স্থাপনা ধ্বংস করা হয়েছে। চোরাইভাবে বনের গাছ ব্যবহার করে চলা এই চুল্লীগুলি পুড়িয়ে পরিবেশে মারাত্মক ক্ষতি সাধন করছিল। অভিযানে পাওয়া গেছে যে, এসব চুল্লী বেশ কিছুদিন ধরে বনের গাছ পুড়িয়ে কয়লা উৎপাদন করছিল এবং এর ফলে স্থানীয় এলাকায় বনভূমি উজাড় হওয়ার পাশাপাশি মানবিক স্বাস্থ্যের জন্যও হুমকি তৈরি হয়েছিল।

মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে পাথরঘাটা উপজেলা প্রশাসন এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের একটি দল অভিযানে অংশ নেয়। স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এসব অবৈধ চুল্লী স্থাপনার মালিক ফজলুর রহমানকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরেই এসব অবৈধ চুল্লীর জন্য ভুগছিলেন। তারা জানিয়েছেন যে, একেকটি চুল্লীতে প্রতি সপ্তাহে ২০০-৩০০ মণ গাছ পুড়ানো হতো। এর ফলে একদিকে বনভূমি উজাড় হচ্ছিল, অন্যদিকে সেগুলির ফলে শিশু, বৃদ্ধ ও অন্তঃসত্ত্বা নারীরা চরম স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে পড়ছিল।

গ্রামবাসী জানিয়েছেন, অবৈধ চুল্লী ধ্বংস হওয়ার ফলে পরিবেশ কিছুটা পরিপূর্ণ হচ্ছে এবং তারা এই ধরনের পরিবেশ দূষণকারী কার্যক্রমের অবসান চাইছেন।

বরগুনা জেলার টিভি রিপোর্টার জিয়াদ মাহমুদ বলেন, “আমরা পেশাগত কাজে বিষখালী নদীর তীরে এসব অবৈধ চুল্লী দেখতে পেয়ে স্থানীয় পরিবেশ অধিদপ্তরকে জানিয়েছিলাম। এর পরপরই পাথরঘাটা উপজেলা প্রশাসন অভিযান চালায়।”

পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) এমাদুল হোসেন জানান, “আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে, অবৈধ চুল্লীগুলিকে আইনানুগভাবে ধ্বংস করি।” তিনি আরও বলেন, “বৈধভাবে এসব চুল্লী ও ইটভাটা বন্ধের জন্য বরগুনা জেলা প্রশাসন আরও অভিযান চালাবে।”

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




পর্যটকের স্বর্গ: ভোলার তারুয়া ও চরাঞ্চলে অতিথি পাখির মেলা

সুদূর সাইবেরিয়া থেকে শীতের আগমনে অতিথি পাখিদের কলতানে ভরে উঠেছে ভোলার তারুয়া সৈকতসহ বিভিন্ন চরাঞ্চল। কুকরি-মুকরি, চর পাতিলা, ঢালচর এবং পর্যটনভূমি তারুয়াসহ ছোটবড় চরগুলো যেন সবুজাভ অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। মনোমুগ্ধকর এ দৃশ্য দেখতে এখন পর্যটকদের ভিড়।

জানা গেছে, এসব এলাকায় অতিথি পাখির উপস্থিতি প্রকৃতিকে নতুন এক রূপে সাজিয়েছে। ছোট-বড় পানকৌড়ি, সোনাজিরিয়া, কালোলেজ জৌরালি, গাঙ্গচিলসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখির ঝাঁক উড়ে বেড়ায় তারুয়াসহ চরাঞ্চলজুড়ে।

পর্যটকদের নজর কাড়ে পাখির আনাগোনা::

পর্যটক রফিকুল ইসলাম বলেন, “তারুয়ায় পাখিদের কিচিরমিচির আওয়াজ মন ছুঁয়ে যায়। এখানে আসলে সত্যি পাখিদের দেশে বসবাস করার অনুভূতি হয়।” অপর এক স্থানীয় বাসিন্দা আবু মিয়া জানান, “পাখিদের উড়াউড়ি এবং খাবার সংগ্রহের দৃশ্য চরের সৌন্দর্য বাড়িয়ে তোলে।”

অবহেলায় পরিযায়ী পাখিদের নিরাপত্তা ::

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু অসাধু শিকারি বিষটোপ মিশিয়ে পাখি শিকার করছে, যা পরিযায়ী পাখিদের জন্য বড় হুমকি। এর ফলে গত দুই দশকে পাখির সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে।

প্রশাসনের উদ্যোগ ::

ভোলা জেলা প্রশাসক মো. আজাদ জাহান জানিয়েছেন, যেকোনো ধরনের পাখি শিকার বন্ধে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আরিফুল হক জানান, আটটি রেঞ্জের টহল জোরদার করা হয়েছে এবং পাখি শিকার বন্ধে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

শীতকালীন অতিথি পাখিদের আগমনে ভোলার এই চরাঞ্চল যেন প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এক নতুন আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। পাখিদের ডানা মেলে উড়ে চলার দৃশ্য উপভোগ করতে এখনই যেতে পারেন এই প্রকৃতির রাজ্যে।

“মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”




বদলির আদেশ অমান্য ও দুর্নীতির অভিযোগে আলোচনায় বরিশালের ত্রাণ কর্মকর্তা

বরিশাল জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা রণজিত কুমার সরকার সাতক্ষীরা জেলার ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা হিসেবে বদলি হলেও আট মাস পেরিয়ে যাওয়ার পরও বরিশালেই রয়েছেন। বদলির নির্দেশ অমান্য করে নিজের ইচ্ছামতো কর্মস্থলে থাকা এবং বিভিন্ন প্রভাব খাটিয়ে বদলি আদেশ স্থগিতের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

বদলির আদেশ অমান্য::

২০২৪ সালের ৩০ এপ্রিল দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মুনিরা সুলতানার সই করা আদেশ অনুযায়ী, রণজিত কুমার সরকারকে সাতক্ষীরায় বদলি করা হয়। একই আদেশে মাগুরার ত্রাণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ নুরুজ্জামানকে বরিশালে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
তবে,

রণজিতকে ১২ এপ্রিলের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল।

এতে ব্যর্থ হলে ১৩ এপ্রিল থেকে তাকে স্ট্যান্ড রিলিজ ধরা হবে বলে নির্দেশ দেওয়া হয়।
এ নির্দেশ সত্ত্বেও তিনি বরিশালে থেকে যান। রণজিত কুমার সরকার অভিযোগ করেন, মাগুরার নুরুজ্জামানের শারীরিক অসুস্থতার কারণে বরিশালে কেউ দায়িত্ব বুঝে নিতে না আসায় তিনি থাকতে বাধ্য হয়েছেন।

অভিযোগ ও অনিয়মের ইতিহাস ::

একাধিক সূত্রের মতে, বরিশালে থাকা নিয়ে রণজিত কুমার সরকার বিভিন্ন পর্যায়ে লবিং করেছেন।

রাজনৈতিক প্রভাব ও ব্যবসায়িক স্বার্থে থেকে যাওয়ার চেষ্টা: বরিশালে নিজের সুবিধাজনক অবস্থান বজায় রাখতেই তিনি বদলির আদেশ অমান্য করেছেন।

দুর্নীতির অভিযোগ: বরগুনায় প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় ১৮ লাখ টাকার বরাদ্দ থেকে ১৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন বলে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্তে প্রমাণিত হয়। এ ঘটনায় ২০১৬ সালে কারাগারে যান তিনি।

পরিস্থিতি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মতামত::
মোঃ নুরুজ্জামান (পূর্ব মাগুরা কর্মকর্তা): নিজের শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে বরিশালে যোগদানের আদেশ বাতিল করিয়েছেন।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর: পরিচালক রাসেল সাবরিন জানিয়েছেন, আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্য কর্মকর্তারা: রণজিতের কর্মকাণ্ড চেইন অব কমান্ড ভেঙে দিয়েছে এবং কর্মকর্তাদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে।

তিনি দাবি করেছেন,বরিশালের দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার মতো কেউ না থাকায় মন্ত্রণালয়ের মৌখিক অনুমতিতে বরিশালে রয়েছেন।

সাতক্ষীরায় তার স্থলে নতুন কর্মকর্তা যোগ দেওয়ায় তার জন্য সেখানে যাওয়া সম্ভব হয়নি। তবে, তার দাবির পক্ষে স্পষ্ট কোনো লিখিত প্রমাণ মেলেনি।

বরিশালের ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা রণজিত কুমার সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং বদলির আদেশ অমান্য করার বিষয়টি একটি উদ্বেগজনক প্রশাসনিক উদাহরণ। সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে দ্রুত ও কার্যকর তদন্ত করে সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

“মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”




বরিশালে ইলিশের আকাল: আকাশছোঁয়া দাম, বেকার শ্রমিক

ইলিশের প্রাচুর্যে পরিচিত বরিশাল এবার ইলিশ সংকটে। পোর্ট রোডসহ আশপাশের পাইকারি বাজারগুলোতে কাঙ্ক্ষিত ইলিশের দেখা নেই। সাইজের দিক থেকে বড় ইলিশ একেবারেই অনুপস্থিত, আর বাজারে থাকা ইলিশের দাম আকাশছোঁয়া। ১ কেজি ২০০-৩০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের প্রতিকেজি ৩,৭৫০ টাকা এবং ১ কেজি সাইজের মাছ বিক্রি হচ্ছে প্রতি মণ লাখ টাকা ছাড়িয়ে।

বাজারে ইলিশের সংকট::

বরিশালের পোর্ট রোড মোকামে ১৬৭টি আড়তের মধ্যে মাত্র ২০-২৫টি আড়তে ইলিশ বিক্রি হয়েছে। মাছ ব্যবসায়ী বেলায়েত সিকদার জানান, গত কয়েকদিনে দেড় কেজি ওজনের ইলিশ পাওয়া যায়নি।

১ কেজি ২০০-৩০০ গ্রাম সাইজের ইলিশ বিক্রি হয়েছে প্রতিকেজি ৩,৭৫০ টাকা।

১ কেজি সাইজের ইলিশ প্রতি মণ ১ লাখ ২০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে।

৫০০-৬০০ গ্রাম ইলিশের কেজি বিক্রি হয়েছে ১,৭৫০ টাকায়।

বিপাকে শ্রমিক ও খুচরা বিক্রেতা::

ইলিশের ঘাটতিতে ব্যাপক সংকটে পড়েছেন শ্রমিক ও খুচরা ব্যবসায়ীরা।

খুচরা বিক্রেতা শিল্পী বেগম জানান, ইলিশের বেশি দামের কারণে গত এক মাস ধরে ব্যবসা করতে পারছেন না। সংসার চালাতে আড়তদারের বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করছেন।

শ্রমিক উত্তম বলেন, পোর্ট রোডের হাজারো শ্রমিকের মধ্যে অনেকে বেকার হয়ে পড়েছেন। অনেকেই পেশা পরিবর্তনে বাধ্য হচ্ছেন।

মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতামত::

মৎস্য কর্মকর্তা বিমল চন্দ্র দাস বলেন, “গত কয়েক বছর ধরে শীতে ইলিশ পাওয়া যেত। তবে এবার নদী ও সাগরে কোথাও ইলিশ মিলছে না। এই সংকটের কারণ সম্পর্কে আমাদের কাছে তথ্য নেই।”

স্থানীয় জেলেরা জানান, নিষেধাজ্ঞার সময়ে ডিমওয়ালা ইলিশের অতি শিকার এবং পাচার এর অন্যতম কারণ হতে পারে।

চাহিদার শূন্যতায় আঞ্চলিক প্রভাব::

সদর উপজেলার চন্দ্রমোহন, লাহারহাট, এবং তালতলী এলাকায় প্রতিবছর লোকাল ইলিশ পাওয়া যেত। কিন্তু এই বছর স্থানীয় জেলেরা মাছ ধরতে পারছেন না। চাহিদা পূরণে অক্ষমতার কারণে বরিশালবাসী ইলিশের সহজলভ্যতার ঐতিহ্য হারাতে বসেছে।

ইলিশের প্রাচুর্যের জন্য পরিচিত বরিশালের এই সংকট শুধু স্থানীয় অর্থনীতিতেই প্রভাব ফেলছে না, এটি ভোজন রসিকদের জন্যও একটি বড় ধাক্কা। প্রশাসনের তৎপরতায় যথাযথ সমাধান জরুরি।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




শেবাচিমের স্বাস্থ্যসেবা ফেরাতে ২২ দফা প্রস্তাব: উদ্যোগ নিচ্ছেন পরিচালক

বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (শেবাচিম) স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে ২২টি প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়েছে। এই প্রস্তাবনাগুলো বাস্তবায়নের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মশিউল মুনীর। বরিশালের সুশীল সমাজের প্রতিনিধি কাজী মিজানুর রহমান পরিচালকের কাছে উন্নয়নমূলক একটি প্রতিবেদন পেশ করলে বিষয়টি আলোচনায় আসে।

গত ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় হাসপাতালের বিভিন্ন সংকট ও সম্ভাবনা নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়। কাজী মিজানুর রহমান দীর্ঘমেয়াদে টেকসই সেবার জন্য পরিচালকের কাছে ২২টি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব তুলে ধরেন।

স্বাস্থ্যসেবায় মূল সংকট::

বরিশালের সবচেয়ে বড় হাসপাতাল শেবাচিম দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও টেকনিশিয়ানের অভাব।

সরকারি মেশিনপত্র নষ্ট বা অব্যবহৃত।

অপর্যাপ্ত জনবল ও অচল লিফট।

মেডিকেল বর্জ্য সঠিক প্রক্রিয়াজাতকরণের অভাব।

পরিচ্ছন্নতার ঘাটতি। এসব কারণে রোগীরা মানসম্মত চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

প্রস্তাবনায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে—

1. হাসপাতাল পরিচালকের নির্ধারিত সময়সূচি ৯টা-৫টা করতে হবে।

2. পুরো হাসপাতাল সিসি ক্যামেরার আওতায় এনে কন্ট্রোল রুম স্থাপন করতে হবে।

3. ডাক্তার এবং রোগীদের জন্য পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও শৌচাগারের মান উন্নয়ন।

4. ৪টি নতুন অ্যাম্বুলেন্স সংগ্রহ ও বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের অপতৎপরতা নিয়ন্ত্রণ।

5. ল্যাব পরীক্ষা স্বল্পমূল্যে এবং নির্ভুলভাবে নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ।

6. বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং টেকনিশিয়ানের শূন্যপদগুলো দ্রুত পূরণ।

মতবিনিময়ের সময় ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মশিউল মুনীর বলেন, “আমি ঢাকায় গিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগকে এসব বিষয়ে জানাব এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও টেকনিশিয়ান সমস্যার সমাধান করতে প্রথম পদক্ষেপ নেব। শেবাচিম হাসপাতালের সেবার মানোন্নয়নে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আরও আলোচনা করব।”

এছাড়া হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে দলমত নির্বিশেষে নাগরিক সংলাপ আয়োজনের প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে এসেছে।

দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার তাগিদ ::

দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের সঠিক চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে স্বল্প, মধ্যম এবং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণের বিকল্প নেই। ক্যান্সার, কিডনি ও শিশু হাসপাতালের নির্মাণকাজ দ্রুত সম্পন্ন করার দাবিও জনমনে উচ্চকিত।

শেবাচিমের ব্যবস্থাপনা, আধুনিক যন্ত্রপাতি ও দক্ষ জনবল বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ভালো চাকরি দেওয়ার কথা বলে বিদেশে পাচার, ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা

সৌদি আরবে ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে মনির তালুকদার নামের এক যুবককে পাচারের অভিযোগে ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। বরিশালের মানব পাচার ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা এ মামলায় আদালত গৌরনদী থানার ওসিকে এফআইআর করার নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলায় অভিযুক্তরা হলেন:

1. মো. মনির ফকির

2. দোহাই ফকির

3. শম্পা বেগম

4. জাহানারা বেগম

 

মামলার বিবরণ

গৌরনদী থানার পূর্ব ডুমুরিয়া গ্রামের মো. মনির তালুকদার মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বরিশালের মানব পাচার ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন। বাদীর ভাষ্য মতে, ২০২৪ সালের ৩ মার্চ আসামিরা সৌদি আরবে ভালো চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার কাছ থেকে তিন লাখ টাকা নেন। পরে ওই বছরের ৬ এপ্রিল বাদীকে সৌদি আরব পাঠানো হয়।

তবে, সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর তাকে আটকে রাখা হয় এবং শারীরিক নির্যাতন করা হয়। স্থানীয় পুলিশের সহায়তায় মনির দেশে ফিরে আসেন। দেশে ফিরে মঙ্গলবার তিনি আদালতে মামলা করেন।

মানব পাচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. সোহেল আহমেদ অভিযোগ আমলে নিয়ে গৌরনদী থানার ওসিকে মামলাটি রেকর্ড করার নির্দেশ দেন। বিষয়টি আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. তুহিন মোল্লা নিশ্চিত করেছেন।

এ ঘটনাটি আবারও বিদেশে কাজের প্রলোভনে পাচারের বিষয়ে সতর্ক থাকার গুরুত্ব তুলে ধরেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম