পিরোজপুরে সাঈদীর উদ্বোধনের ১৮ বছরেও চালু হয়নি ফেরিঘাটটি

পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলার পানগুছি নদীর কলারন-সন্ন্যাসী ফেরিঘাট, এক সময়ের জমজমাট ফেরিঘাটটি এখন দেখে বোঝার উপায় নেই এখানে একটি ফেরি ছিল। ২০০৬ সালে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও পিরোজপুর-১ আসনের তৎকালীন সংসদ সদস্য মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ফেরিঘাটটি উদ্বোধন করেন। তবে ২০০৭ সালে প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় সিডরে কলারন প্রান্তের ঘাটটি বিধ্বস্ত হয়। এরপর থেকে ১৮ বছরেও পুনরায় সংস্কার করে চালু করা হয়নি পিরোজপুর-মোরেলগঞ্জ-মোংলা-শরণখোলা রুটের ওই ফেরিঘাটটি।

ফলে এই নৌপথে চলাচলকারী কয়েক হাজার যাত্রী ইঞ্জিনচালিত নৌকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হচ্ছেন। দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত ফেরিঘাটটি চালু করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

নদীর দুই পাড়ের ফেরির পন্টুনগুলো সিডরে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর কয়েক বছর পড়েছিল। পরবর্তীতে মেরামতের জন্য নিয়ে গেলে আজও সেখানে পন্টুন দেওয়া হয়নি। সেই ঘাটটি দিয়ে হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন দুই পাড়ে ঝুঁকি নিয়ে ট্রলারে চলাচল করে। নদীটি প্রায় ৩ কিলোমিটার দূরত্ব এবং খরস্রোতের কারণে প্রায়ই ট্রলারে মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে পার হতে হিমশিম খেতে হয় তাদের। বৃষ্টির মৌসুমে এই নদী পার হতে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হয়। এছাড়া এটি পিরোজপুর থেকে সুন্দরবন যাওয়ার একমাত্র পথ হওয়ায় এখান থেকে সুন্দরবন, মোংলা, শরণখোলা, মোড়েলগঞ্জসহ দক্ষিণ অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করা হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলা সংলগ্ন পানগুচি নদীর কলারন-সন্ন্যাসী ফেরিঘাটটি ২০০৬ সালের ৪ আগস্ট চালু হয়। চালুর এক বছর পর প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় সিডরে কলারন প্রান্তের ঘাটটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বন্ধ হয়ে যায় ফেরি চলাচল। এরপর নদী পারাপারের জন্য চালু করা হয় ট্রলার। তবে দুই পাড়ের যাত্রী ওঠানামার ঘাটটিও রয়েছে জরাজীর্ণ অবস্থায়। যাত্রীরা কোনো মতে ওঠানামা করতে পারলেও মোটরসাইকেল ওঠানামার ক্ষেত্রে থাকে প্রচুর ঝুঁকি। দুই পাড়ের ঘাটের অবস্থা ভালো না থাকায় অনেক সময় নদীতে পড়ে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হতে হয় যাত্রীদের। বর্ষা মৌসুমে পানিতে ঘাটটি তলিয়ে যাওয়ায় আরও বেশি বিপাকে পড়তে হয় যাত্রীদের। এই পথে না গিয়ে সড়ক পথে যেতে গেলে ৩৫ কিলোমিটার পথ বেশি ঘুরে বাগেরহাটের সাইনবোর্ড হয়ে যেতে হয় এই এলাকার লোকজনকে।

এদিকে পিরোজপুর-১ (পিরোজপুর-নাজিরপুর-ইন্দুরকানী) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামের নায়েবে আমির মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ফেরিঘাটটি চালু করেছিলেন বলে সিডরে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর বিগত আওয়ামী লীগ সরকার পুনরায় সংস্কার করে ফেরিঘাটটি চালু করেনি বলে দাবি এলাকাবাসীর।

ইন্দুরকানী উপজেলার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, ২০০৬ সালে আল্লামা সাঈদী সাহেব ফেরিটি চালু করেন। এর আগেও কেউ করেনি, পরেও করেনি। ২০০৭ সালে ঘূর্ণিঝড়ে ফেরিঘাটটি নষ্ট হয়ে যায় এরপর আর কেউ করেনি। সাঈদী সাহেবের বাড়ির এলাকা হওয়ায় ফেরিঘাটটি করতে কেউ আগ্রহ দেখায়নি। আমাদের দাবি আবারও এখানে একটি ফেরিঘাট হোক। আমারদের খুব উপকার হবে।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. হাসান জোমাদ্দার বলেন, নদীটি পার হতে ট্রলারই আমাদের একমাত্র ভরসা। বর্ষা মৌসুমে প্রায়ই ট্রলার বন্ধ থাকে। তাছাড়া এ সময় নদীতে বেশি ঢেউ থাকায় ট্রলারে করে নারী ও শিশুদের নিয়ে নদী পারাপার অনেক সময় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যায়। ফলে, অসুস্থ রোগী ও শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েন। আমাদের দাবি হাজারো মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে আবারও কলারন সন্ন্যাসীর ফেরি চালু করা হোক।

ট্রলার চালক শাহজাহান মিয়া বলেন, এই ঘাটের পাশেই নদীর মোহনা হওয়ায় প্রায়ই নদীতে অনেক ঢেউ হয়। দুই পাশে ভালো ঘাট নেই। যাত্রীদের অনেক কষ্ট হয়। তুফান থাকলে যাত্রীরা অনেক ভয় পায়। বাচ্চারা কান্নাকাটি করে। আমরা ভয় পাই মাঝে মধ্যে। এখানে একটি ফেরি জরুরি।

স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. মিঠু হাওলাদার বলেন, ব্যবসার কারণে নিয়মিত এই পথে যাতায়াত করতে হয়। এই ঘাটে মাত্র দুটি ট্রলার থাকার কারণে প্রায়ই দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। ট্রলারে উঠতে এবং নামতেও চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হয়। পারাপারেও বেশি ভাড়া গুনতে হয়। মোটরসাইকেল প্রতি ৫০ থেকে ৭০ টাকা দিয়ে পার হতে হয়। এই পথে না যেতে পারলে ৩৫ কিলোমিটার বেশি ঘুরে যেতে হয়। আমাদের এখানে একটা ফেরি খুব প্রয়োজন।

এ বিষয়ে পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশরাফুল আলম খান বলেন, বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। আমি সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এবং বাগেরহাটের জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলেছি। আশা করি খুব দ্রুত এ বিষয়ে একটি ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া যাবে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




দর্শকদের মারামারি-ভাঙচুর, ঠাকুরগাঁওয়ে ‘ইত্যাদি’ অনুষ্ঠান স্থগিত

ঠাকুরগাঁওয়ে আয়োজিত ‌‘ইত্যাদি’ অনুষ্ঠান ঘিরে ভাঙচুর ও মারামারির ঘটনায় অনুষ্ঠান স্থগিত করেছে কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলের রাজবাড়ীতে এই ঘটনাটি ঘটে।

স্থানীয় ও আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, ইত্যাদি কর্তৃপক্ষ ঠাকুরগাঁও জেলার জন্য প্রায় দুই হাজার প্রবেশ পাস বরাদ্দ করেছিল, কিন্তু অনুষ্ঠানে হাজির হন লাখো মানুষ। একপর্যায়ে, চেয়ারে বসা নিয়ে দর্শকদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়, যার ফলে ভাঙচুর ও মারামারির ঘটনা ঘটে। কর্তৃপক্ষ একাধিকবার পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলেও তা সফল হয়নি। পরিস্থিতির অবনতির ফলে অনুষ্ঠানের মাঝপথে এসে স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত দর্শকরা কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সানোয়ার হায়দার সবুজ নামক একজন দর্শক জানান, “আমি প্রবেশের পাস নিয়ে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছি, তবে তবুও অনুষ্ঠান দেখতে পারিনি। এটি কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনার কারণে হয়েছে।” আরেক দর্শক রাসেল বলেন, “এমন বিশাল পরিমাণ দর্শকের আগমন ছিল, এটা পূর্ব থেকেই অনুমানযোগ্য ছিল, তবে কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।”

তবে, ইত্যাদি কর্তৃপক্ষ এই ঘটনার জন্য দর্শকদের উন্মুক্ত অবস্থানকে দায়ী করেছে। অনুষ্ঠানের পরিচালক হানিফ সংকেত এক বিবৃতিতে বলেন, “অনেক চেষ্টা করেও আপনাদের শান্ত করতে পারলাম না। আপনাদের জন্য একটি সুন্দর আয়োজন করতে চেয়েছিলাম, তবে সেটা আর সম্ভব হলো না।”

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ভোলায় নদীভাঙন পুনর্বাসন তহবিলের টাকা লুটের অভিযোগ, সরকারি অর্থ চলে গেছে চেয়ারম্যানদের পকেটে

ভোলার মনপুরা উপজেলায় নদীভাঙনকবলিত হতদরিদ্রদের পুনর্বাসনের জন্য বরাদ্দকৃত টাকা বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় চেয়ারম্যানদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, তাদের জন্য বরাদ্দ ৫০-৭৫ হাজার টাকার মধ্যে তারা মাত্র ১০ হাজার টাকার মতো পেয়েছেন, বাকিটা চলে গেছে চেয়ারম্যানদের পকেটে।

২০২১-২২ অর্থবছরে এক কোটি ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ হয় মনপুরা উপজেলার হাজিরহাট, মনপুরা, উত্তর সাকুচিয়া, এবং দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের নদীভাঙনকবলিত ১৫২ পরিবারের পুনর্বাসনের জন্য। তবে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরা জানিয়েছেন, তারা নাম থাকা সত্ত্বেও একাধিক সমস্যা ও জটিলতার কারণে কম পরিমাণ টাকা পেয়েছেন।

মনপুরা উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ক্ষতিগ্রস্তরা অভিযোগ করেছেন, ইউপি চেয়ারম্যানরা তাদের কাছ থেকে সব কাগজপত্র সংগ্রহ করে সরকারি টাকা উত্তোলন করেছেন, কিন্তু পরে সেই টাকা তারা নিজেরাই আত্মসাৎ করেছেন। যেমন, হাজিরহাট ও মনপুরা ইউনিয়নের কিছু ক্ষতিগ্রস্তরা জানিয়েছেন, তারা ইউপি চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে শুধু ১০ হাজার টাকা পেয়েছেন, যদিও সরকারিভাবে তাদের জন্য বরাদ্দ ছিল ৭৫ হাজার টাকা। একই ধরনের অভিযোগ অন্য ইউনিয়নগুলিরও রয়েছে।

একাধিক ভুক্তভোগী জানিয়েছেন, তাদের নামের তালিকা হালনাগাদ করার সময় অনেক দলের নেতা ও মেম্বারের নাম রাখা হয়েছিল, যারা আসলে ক্ষতিগ্রস্ত নয়। সেই সঙ্গে, তারা অভিযোগ করেছেন, চেয়ারম্যানরা তাদের থেকে কমিশনও আদায় করেছেন। স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে, তবে এখন পর্যন্ত কোন বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

মনপুরা উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানিয়েছেন, কোনো লিখিত অভিযোগ পেলে তারা যথাযথ ব্যবস্থা নিবেন।

এ বিষয়ে, স্থানীয় চেয়ারম্যানরা এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তারাও দায়িত্ব অস্বীকার করেছেন। মনপুরা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল আমিন এবং যুবলীগের নেতা জুয়েল চন্দ্র দাসদের সম্পত্তি দেখিয়ে অনেকেই তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন, কিন্তু তারা সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

 মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে গণপূর্ত কর্মকর্তাদের বিলাসী জীবনযাপন, প্রশ্ন উঠছে অবৈধ সম্পদ অর্জন নিয়ে

বরিশাল গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তাদের মধ্যে অনেকেই সরকারি চাকরি পেয়ে কোটিপতি বনে গেছেন। বিশেষ করে উপ সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুনের নাম শোনা যাচ্ছে সর্বাধিক। তিনি ২০১০ সালে চাকরিতে যোগদান করার পর মাত্র ১৫ বছরে নিজের জন্য গড়ে তুলেছেন বিপুল সম্পদ। সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে মাসিক বেতন ৫০ হাজার টাকারও কম হলেও, তার মালিকানাধীন সম্পদ এখন কয়েক কোটি টাকার ওপরে পৌঁছেছে। তিনি নগরীর বাংলাবাজার এলাকায় ৭৫০০ বর্গফুট জমির ওপর একটি ৬ তলা বিলাসবহুল বাড়ি তৈরি করেছেন, যা নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ১০ কোটি টাকা।

এছাড়া, তার গ্রাম বাড়ি বরগুনা জেলার আমতলী উপজেলার গুলিশাখালীতে রয়েছে ৩ তলা বিশিষ্ট একটি মার্কেট। কুয়াকাটায় নির্মাণ করেছেন একটি বিলাসবহুল হোটেল। পটুয়াখালীর পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র এলাকাতেও তিনি কয়েক কোটি টাকার জমি কিনেছেন। তার স্ত্রীর ও সন্তানদের গাড়ির দাম ৩০ লাখ টাকার বেশি। মামুনের স্কুলশিক্ষক বাবা আব্দুল হক মিয়া আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত, এবং তার চাচা গুলশাখালী ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সভাপতি।

এভাবে শুধু আব্দুল্লাহ আল মামুনই নয়, বরিশাল গণপূর্ত বিভাগের বেশিরভাগ কর্মকর্তারাই বিলাসী জীবনের মালিক। উপ সহকারী প্রকৌশলী বিধান চন্দ্র মজুমদার, ইউসুফ আলী, কামাল হোসেন হাওলাদার, মনিরুল ইসলাম ও অন্যান্যরা যারা সরকারি বেতন থেকে কোটি টাকার সম্পদ বানিয়েছেন।

বিশেষ করে, বিধান চন্দ্র মজুমদার নগরীর গাজী মিলনায়তের পাশে একটি ৯ তলা বিলাসবহুল ভবন তৈরি করেছেন, যার নির্মাণ ব্যয় ১৫ কোটি টাকার বেশি। কামাল হোসেন হাওলাদার ৬ তলা ভবন তৈরি করেছেন মুক্তিযোদ্ধা মহিউদ্দীন সড়কে, এবং মনিরুল ইসলামও কয়েক কোটি টাকার ৫ তলা ভবন গড়েছেন কাউনিয়া বিসিক এলাকায়।

এখন প্রশ্ন উঠছে, কীভাবে এই কর্মকর্তারা এত সম্পদ অর্জন করলেন, যখন তাদের বেতন সামান্য এবং সরকারের সঙ্গে কোনো সম্পর্কিত কাজের টাকা কিভাবে এসেছে তা নিয়ে সন্দেহের সৃষ্টি হচ্ছে। এসব কর্মকর্তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তারা ফোন ধরেননি এবং অফিসে গিয়ে কথা বলার সময় সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর তারা সটকে পড়েন।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




জাজিরায় মারা যাওয়া ওসির বাড়ী মুলাদীতে, শোকের ছায়া

শরীয়তপুর জেলার জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল আমিনের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে জাজিরা থানা ভবনের তৃতীয় তলার নিজ কক্ষ থেকে এই লাশটি উদ্ধার করা হয়। ওসি আল আমিন বরিশালের মুলাদী উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাজিরচর গ্রামের মৃত হাজী বেলায়েত হোসেন বেপারীর ছেলে ছিলেন। তিনি ৩ ভাই ও ২ বোনের মধ্যে সবার ছোট। তার মৃত্যুতে গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

এদিকে, ওসি আল আমিনের ভাই মধুমতি ব্যাংকের কর্মকর্তা আবুল কালাম জানান, আল আমিনের স্ত্রী শরিফুন্নেছা পপি এবং জমজ দুই মেয়ে রাদিয়া ও রাফিয়া রয়েছেন। তারা ঢাকার ভিকারুন্নেছা নূন স্কুলের ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী। প্রায়ই তারা গ্রামের বাড়িতে আসতেন না। আল আমিনের মা ২০২৩ সালে মৃত্যুবরণ করেন এবং চার মাসের মধ্যেই বড় ভাই আব্দুস সালামেরও মৃত্যু হয়।

তিনি আরও জানান, বেশ কিছুদিন ধরেই আল আমিন মানসিক চাপের মধ্যে ছিলেন, তবে কী কারণে দুশ্চিন্তায় ছিলেন তা কারও সঙ্গে শেয়ার করেননি। আল আমিনের স্ত্রী শরিফুন্নেছা পপিও স্বামীর মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে শোকে বিহ্বল হয়ে পড়েছেন।

ওসি আল আমিনের প্রতিবেশী মামুন মাতুব্বর বলেন, “ওসি আল আমিন অনেক ভালো মানুষ ছিলেন। যদিও তিনি গ্রামে বেশি আসতেন না, তবে সবার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ রাখতেন। তার মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।”

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




রাখাইনে জান্তা বাহিনীর বিমান হামলায় শিশুসহ নিহত ৪০, মৃতের সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কা

মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যের আরাকান আর্মি (এএ) নিয়ন্ত্রিত রামরি টাউনশিপের কিয়ুকনিমাও গ্রামে জান্তা বাহিনীর বিমান হামলায় শিশুসহ অন্তত ৪০ জন বেসামরিক লোক নিহত হয়েছে। এই হামলার পর মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (৮ জানুয়ারি) এই হামলা চালানো হয়।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, বিমান হামলায় কিয়ুকনিমাও এলাকায় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে, এবং উত্তর-দক্ষিণ ও মঞ্চলীয় এলাকাগুলোর প্রায় ৫০০ বাড়িঘর ধ্বংস হয়েছে। আহতদের মধ্যে শিশু, নারী এবং বয়স্ক ব্যক্তিরাও রয়েছেন।

হামলার পর ছড়িয়ে পড়া আগুন দ্রুত আশপাশের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাতে ছড়িয়ে পড়ে, এতে শত শত ঘরবাড়ি পুড়ে যায়। রামরি টাউনশিপে আরাকান আর্মি ও জান্তা বাহিনীর মধ্যে চলমান সংঘর্ষের কারণে বেশিরভাগ মানুষ কিয়ুকনিমাও অঞ্চলে আশ্রয় নিয়েছে।

কিয়ুকনিমাওয়ের এক বাসিন্দা জানিয়েছেন, “এই হামলায় আহত মানুষের সংখ্যা নিহতের চেয়ে বেশি, কিন্তু তাদের সেবা দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম নেই। এই কারণে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।”

আরাকান আর্মি গত বছরের ১১ মার্চ মিয়ানমারের পশ্চিম উপকূলের দ্বীপ রামরি টাউনশিপের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেছিল। এরপর থেকে জান্তা বাহিনী প্রায়ই এই অঞ্চলে বিমান হামলা চালাচ্ছে।

২০২১ সালে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর অভ্যুত্থানে দেশটির গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন বেসামরিক সরকার পতনের পর থেকে দেশজুড়ে জান্তা-বিরোধী সশস্ত্র বিদ্রোহের সূচনা হয়।

আরাকান আর্মির মুখপাত্র খাইং থু খা একে “কাপুরুষোচিত” আক্রমণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং এটিকে “বেসামরিক নাগরিকদের ওপর মারাত্মক বিমান হামলা শুরু করা একটি নির্মম যুদ্ধাপরাধ” বলে উল্লেখ করেছেন।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ঝালকাঠিতে শাক-সবজি ও লতা কৃষিতে হতাশা, বাজারে চাহিদার অভাব

ঝালকাঠিতে একাধিক প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে গত বছর শাক-সবজি এবং লতা কৃষিতে চাষিদের আগ্রহ বেড়েছে। তবে বর্তমানে বাজারে ক্রেতার চাহিদা কম থাকায় উৎপাদিত শাক-সবজি ও লতা কৃষির ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না চাষিরা। এ পরিস্থিতিতে চাষিরা হতাশা প্রকাশ করেছেন।

ঝালকাঠি সদর উপজেলার গাভারামচন্দ্রপুর এবং নবগ্রাম ইউনিয়নের ৩৬ গ্রামে প্রায় সারাবছরই সবজি চাষ করেন চাষিরা। এ ছাড়া জেলার অন্যান্য ৪৩৫ গ্রামে অনেক পেশাদার কৃষিজীবী আছেন। উৎপাদিত সবজি যেমন বাঁধাকপি, ফুলকপি, চিচিঙা, করলা, টমেটো, বেগুন, আলু, কুমড়া, মিষ্টি কুমড়া ইত্যাদি স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় রপ্তানি হয়ে থাকে। কিন্তু বর্তমানে সবজির বাজারদর খুবই কম। চাষিরা বলছেন, উৎপাদিত সবজির দাম কম থাকায় পরিবহন ও শ্রমিক খরচের টাকাও উঠছে না, ফলে অনেক সবজি জমিতেই নষ্ট হচ্ছে।

ঝালকাঠির বিভিন্ন বাজারে বাঁধাকপি ও ফুলকপি বেশি বিক্রি হচ্ছে। তবে চাহিদার তুলনায় বাজারে ক্রেতা কম থাকায় বিক্রি করতে হিমশিম খাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। বাগড়ি বাজারের একাধিক সবজি বিক্রেতা জানান, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তারা প্রচুর বেচাকেনা করছেন, কিন্তু দাম কম হওয়ায় লোকসান গুনছেন।

শিমুলেশ্বর গ্রামের সবজি চাষিরা জানান, এক বিঘা জমিতে ফুলকপির আবাদ করতে প্রায় ২৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এখন এক বিঘা জমির ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ১৫-২০ হাজার টাকায়, যা পরিবহন এবং শ্রমিক খরচের পরিমাণও পুষিয়ে দিচ্ছে না। বিক্রির জন্য ফুলকপি এবং বাঁধাকপি জমিতে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। চাষিরা জানান, তারা অনেক আশা নিয়ে এসব সবজি চাষ করেছিলেন, কিন্তু বিক্রি না হওয়ায় দিশাহীন হয়ে পড়েছেন।

এছাড়া, ভীমরুলী গ্রামের চাষি পারভেজ জানান, তার ক্ষেতের প্রায় অর্ধশত লাউ পরিপক্ব হয়ে গেছে, কিন্তু ক্রেতা না পাওয়ায় তাকে সবজি বিক্রি করতে পারছেন না। এ পরিস্থিতিতে শ্রম এবং খরচের পরিমাণ বৃথা যাচ্ছে।

পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, তাদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, তারা প্রতিটি বিঘা জমির বাঁধাকপি ৬০ হাজার এবং ফুলকপি ৭০ হাজার টাকায় কিনে রেখেছিল, কিন্তু এখন তা বিক্রি করতে পারছেন না। বিভিন্ন জায়গায় পাঠানোর পরও বিক্রি হচ্ছে না।

এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, এ বছর ঝালকাঠিতে ৭ হাজার ৭০৪ হেক্টর শীতকালীন সবজি চাষাবাদে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উপ-পরিচালক মনিরুল ইসলাম বলেন, “শীতকালীন শাক-সবজি ও লতা কৃষির আবাদ করা হচ্ছে, তবে একাধিক বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চাষিরা অনেক ক্ষেত হারিয়েছেন।” তিনি আরও জানান, শাক-সবজি ও লতা কৃষির অভাব থাকলেও অনেকেই পারিবারিকভাবে এই কৃষি কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




 পিলখানা হত্যাকাণ্ডে নিহত বিডিআর সদস্যদের ক্ষতিপূরণ দাবি – অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন পিলখানার ঘটনায় নিহত বিডিআর সদস্যদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বিডিআর সদস্যদের উপর যে জুলুম চলছে তা অতি দ্রুত বন্ধ করতে হবে এবং বিনা বিচারে আটক ব্যক্তিদের মুক্তি দিতে হবে।

অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন আরও বলেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দণ্ডিত বিডিআর সদস্যদের মুক্তি, মিথ্যা মামলা বাতিল এবং চাকরিচ্যুতদের পুনর্বহাল ও পুনর্বাসনও নিশ্চিত করতে হবে। তিনি ইসলামিক আন্দোলন বাংলাদেশের পক্ষে পীর সাহেব চরমোনাই’র নির্দেশে একাত্মতা প্রকাশ করেন এবং বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ছিল একটি গভীর দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র। বিডিআর সদস্যরা এই ষড়যন্ত্রের শিকার, এবং তাদের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

এদিন, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বিডিআর সদস্যদের চলমান অবস্থান কর্মসূচিতে একাত্মতা প্রকাশ করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম পীর সাহেব চরমোনাই’র পক্ষে অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, “বিডিআর সদস্যদের সাথে যে অবিচার ঘটেছে, তা সমাধানের জন্য দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, নাহলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ রাজপথে নামতে বাধ্য হবে।”

আশরাফ আলী আকন অতীতে ভারতীয় এজেন্ট সরকারগুলির সেনাবাহিনী এবং বিডিআরকে দুর্বল করার প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরে বলেন, এখন সময় এসেছে এসব ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর।

এছাড়া, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলম, কেন্দ্রীয় কৃষি ও শ্রম বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ্ব আবদুর রহমান এবং ইসলামী শ্রমিক আন্দোলনের সেক্রেটারী জেনারেল আলহাজ্ব কে এম বিল্লাল এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন এবং এ বিষয়ে বক্তব্য প্রদান করেন।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




উত্তরা পূর্ব থানা থেকে পালিয়েছেন গ্রেফতার হওয়া সাবেক ওসি শাহ আলম

রাজধানীর উত্তরা পূর্ব থানা থেকে পালিয়ে গেছেন সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম। গত বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) রাতে উত্তরা পূর্ব থানায় পুলিশ তাকে গ্রেফতার করার পর, আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছিল। এসময় তিনি কৌশলে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় কর্তব্যরত উত্তরা পূর্ব থানার সহকারী উপ-পরিদর্শককে (এএসআই) তাৎক্ষণিকভাবে সাসপেন্ড করা হয়েছে।

ডিএমপির একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, সাবেক ওসি শাহ আলম গত ২ সেপ্টেম্বর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঘটনায় দায়ের হওয়া হত্যা মামলায় গ্রেফতার হন। গত রাতে তাকে গ্রেফতার করা হয় এবং তাকে আদালতে সোপর্দ করার জন্য প্রক্রিয়া চলছিল। এসময় তিনি পালিয়ে যান।

উল্লেখযোগ্য, শাহ আলম ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঘটনায় একাধিক মামলায় আসামি ছিলেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, এবং গত আগস্টে তিনি উত্তরা পূর্ব থানায় যোগদান করেছিলেন। পালানোর পর পুলিশ তাকে পুনরায় গ্রেফতারের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলা হওয়ার কারণে উত্তরা পূর্ব থানার এএসআইকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। তবে তার নাম তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




হঠাৎ ডাকাত আতঙ্কে বরগুনার বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং

বরগুনা জেলার সদর উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে গত বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যার পর হঠাৎ ডাকাতির গুজব ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এই আতঙ্কের ফলে এলাকার বিভিন্ন স্থানে মাইকিং করে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এসময় পুরুষরা দলে দলে একত্রিত হয়ে পাহারা বসাতে থাকে। তবে বরগুনা জেলা পুলিশ জানায়, এলাকায় ডাকাতির কোনো ঘটনা ঘটেনি এবং তারা সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাত ১০টা থেকে বরগুনার সদর উপজেলার কেওরাবুনিয়া, ঢলুয়া, এম বালিয়াতলি ও নলটোনা ইউনিয়নের মসজিদ থেকে মাইকিং শুরু হয়। এতে স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে ফেসবুকে পোস্ট করে এবং অনেকে পাহারার জন্য দল গঠন করে রাতভর পাহারা দেন। এসব ঘটনার পর অনেক বাসিন্দা মনে করেন, কোনো উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গুজব ছড়ানো হয়েছে, যা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

পিটিআই এলাকার এক ব্যবসায়ী মো. উজ্জল জানান, “রাত ৯টার পর ফেসবুক ও ফোনে জানানো হয় যে, এলাকায় ডাকাতি হয়েছে। এরপর আমরা সবাই মিলে সারারাত পাহারা দিয়েছি।” ঢাকা ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতা আরিফ হোসেন বলেন, “মাইকিং করার খবর শুনে আমরা পাহারা দিয়েছি, কিন্তু সেভাবে কোনো অস্বাভাবিক ঘটনা দেখিনি। আমার ধারণা, এটি গুজব।”

বরগুনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. আবদুল হালিম জানান, “এ সময় কিছুটা আতঙ্কের সৃষ্টি হয়, কারণ মাঠঘাট শুকিয়ে যাওয়ার কারণে চুরি-ডাকাতির প্রবণতা বাড়ে। কিন্তু গত রাতে আমাদের টহল দলে এবং এলাকার পাহারাদারদের সঙ্গে কথা বলে তাদের সচেতন করা হয়েছে। পুলিশ সর্বদা সতর্ক রয়েছে এবং সাধারণ মানুষকেও সতর্ক থাকতে হবে।”

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম