‘অন্তর্বর্তী সরকার ক্রমান্বয়ে ব্যর্থতার দিকে যাচ্ছে’: রিজভী

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার ক্রমান্বয়ে ব্যর্থতার দিকে ধাবিত হচ্ছে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারের কোনো সফলতা নেই। তিনি আরও বলেন, নতুন করে শতাধিক পণ্যে ভ্যাট বাড়ানোর ফলে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ বাড়বে, যা সরকারের প্রতি জনগণের আস্থায় ফাটল ধরাতে পারে।

আজ শনিবার (১১ জানুয়ারি) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন রিজভী। তিনি বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের এসব কার্যক্রম দেশের সাধারণ মানুষের জন্য বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি করবে।”

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব আরও বলেন, নতুন পাঠ্যবইয়ে বিএনপিকে হেয় প্রতিপন্ন করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টির ষড়যন্ত্র চলছে। নবম-দশম শ্রেণির পৌরনীতি বইয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) ভুল তথ্য তুলে ধরেছে, যেখানে ফ্যাসিবাদের পতনের পরও পাঠ্যবইয়ে আওয়ামী লীগকে হিরো আর বিএনপিকে হেয় করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, “এটি কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টির একটি গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ।”

নতুন পাঠ্যবইয়ে আওয়ামী লীগের বন্দনা এবং বিএনপির বিরুদ্ধে যে ধরনের ইতিহাস বিকৃতি করা হয়েছে, তা দ্রুত সংশোধন করার দাবি জানিয়ে রিজভী বলেন, “এটি আওয়ামী দোসরদের একটি নীলনকশা, যা বিএনপির বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ।”

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




নিবন্ধিত সব দল নিয়েই আগামী জাতীয় নির্বাচন হবে: সিইসি

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন জানিয়েছেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন নিবন্ধিত সব রাজনৈতিক দল নিয়েই অনুষ্ঠিত হবে। তিনি আরও বলেন, নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন হবে, এবং নির্বাচন কমিশন (ইসি) ভবিষ্যতে দলগুলোর নিবন্ধন নিয়ে নতুন পরিকল্পনা প্রণয়ন করবে।

আজ শনিবার (১১ জানুয়ারি) সিলেটে এক অনুষ্ঠানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন দেয়ার পর রাজনৈতিক দলগুলোর নিবন্ধন নিয়ে কমিশন নতুন পরিকল্পনা করবে।

এ সময় সিইসি আরও জানান, আগামী জাতীয় নির্বাচন ইভিএম (ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন) এর মাধ্যমে হবে না। তিনি বলেন, “আমরা প্রধান উপদেষ্টার দেয়া সময় অনুযায়ী নির্বাচন সম্পন্ন করার জন্য কাজ করছি এবং এটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালার মধ্যে সম্পন্ন হবে।” এ ছাড়াও, আগামী নির্বাচনে প্রবাসীরা অংশগ্রহণ করতে পারবেন বলেও নিশ্চিত করেন তিনি।

সিইসি স্থানীয় সরকারের নির্বাচন নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাইলেন না এবং জানান, একদিনে সব নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব নয়। তিনি আরও বলেন, কিছু লোক একদিনে সব নির্বাচন আয়োজনের পরামর্শ দিয়েছেন, তবে এটি কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

একই অনুষ্ঠানে এ এম এম নাসির উদ্দীন সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন, তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, সবার সুন্দরভাবে কাজ করার জন্য সঠিক নীতিমালার ভিত্তিতে তা করা জরুরি।

তিনি শেষে ভোটার আইডি সংশোধনে বিগত সময়ের আর্থিক দুর্নীতির সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে চিকিৎসকের মহতি উদ্যোগ, হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে স্বাস্থ্য সেবা প্রদান

বর্তমান সময়ের ব্যস্ত জীবনে সাধারণ রোগের চিকিৎসা ও সেবা পাওয়া যেন অনেক সময় দুরূহ হয়ে ওঠে। তাছাড়া, রোগবিহীন সাধারণ চিকিৎসকের কাছেও গেলেও অনেক সময় অতিরিক্ত টেস্ট ও ব্যয়বৃদ্ধি রোগীদের জন্য নতুন সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। তবে, এমন সময়ে বরিশালের এক চিকিৎসক তার অভিনব উদ্যোগের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। তিনি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খুলে প্রতিদিনই রোগীদের সঠিক পরামর্শ প্রদান করছেন। তার এই উদ্যোগ ইতোমধ্যে বিশেষ করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে আশার আলো হয়ে উঠেছে।

ডা. মো. মাহাবুব আলম মির্জা, দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহত চিকিৎসা সেবা কেন্দ্র শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেজিস্টার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তিনি সরকারি দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ২০২০ সালের মার্চ মাসে “স্বাস্থ্য গ্রুপ গৌরনদী-আগৈলঝাড়া” নামের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খুলেন। এই গ্রুপের মাধ্যমে তিনি বিনামূল্যে স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করছেন। বর্তমানে গ্রুপের সদস্য সংখ্যা প্রায় ৮০০, যেখানে সদস্যরা বিভিন্ন রোগ, রোগের ধরন এবং প্রতিকার সম্পর্কে সঠিক তথ্য ও পরামর্শ পাচ্ছেন।

এ বিষয়ে ডা. মাহাবুব আলম মির্জা বলেন, “গৌরনদী উপজেলা হাসপাতালে কর্মরত অবস্থায় এখানকার বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষের সঙ্গে একটা আত্মিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। অনেক সময় পরিচিতজনরা স্বাস্থ্য সেবা নিতে ফোন করেন, কিন্তু ব্যস্ততার কারণে সেসব ফোন গ্রহণ করা সম্ভব হতো না। তাই, আমি স্বাস্থ্য সেবা সহজে মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খুলেছি। এতে মানুষের স্বাস্থ্য সেবা ও সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে।”

গ্রুপের সদস্যরা জানিয়েছেন, সাধারণ রোগ সম্পর্কে লিখলেই তারা বিনামূল্যে সঠিক পরামর্শ পাচ্ছেন। এতে যেমন তাদের অর্থ সাশ্রয় হচ্ছে, তেমনি সময়ও বাঁচছে। তারা আরো জানান, যদি অন্যান্য চিকিৎসকরাও এমন উদ্যোগ গ্রহণ করতেন, তাহলে আরও অনেক মানুষ উপকৃত হতো।

ডা. মাহাবুব আলম মির্জা বিশ্বাস করেন, স্বাস্থ্য সেবার সহজ তথ্য সবার মাঝে ছড়িয়ে দিলে অসুস্থতা প্রতিরোধে একটি বড় ভূমিকা পালন করতে পারবে। তার এই উদ্যোগ একদিকে যেমন স্থানীয় জনগণের জন্য উপকারি, তেমনি স্বাস্থ্য খাতে একটি নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরগুনায় ঘন কুয়াশায় পান চাষীদের সর্বনাশ, শীতের কারণে পান পাতার ক্ষতি

বরগুনা জেলার তালতলী এবং আমতলী উপজেলার পান চাষীরা এই শীত মৌসুমে ঘন কুয়াশা ও শৈত্য প্রবাহের কারণে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। একদিকে শীতের তীব্রতা, অন্যদিকে কুয়াশায় আচ্ছাদিত পরিবেশে পান পাতাগুলি দ্রুত শুকিয়ে লাল হয়ে পড়ে মাটিতে পড়ে যাচ্ছে। ফলে চাষীরা তাদের কষ্টের ফসলের মূল্য পেতে পারছেন না। লাখ লাখ টাকা খরচ করে যাদের পান বরজ তৈরি হয়েছিল, তারা এখন হতাশ হয়ে পড়েছেন।

এই অঞ্চলের চাষীরা এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে পান চাষে বিনিয়োগ করলেও বর্তমানে তারা চরম আর্থিক সংকটের মধ্যে রয়েছে। বিশেষত তালতলী ও আমতলী উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে পান বরজের ক্ষতির চিত্র দেখা গেছে। চাষীরা তাদের কষ্টের ফসল চোখের সামনে হারিয়ে যেতে দেখে শোকে বিহ্বল হয়ে পড়েছেন।

তালতলী উপজেলার পঁচাকোড়ালিয়া ও ছোটবগী এবং আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নে পান চাষীরা শীতে পান পাতা ঝরে যাওয়ার ফলে তাদের সমূহ ক্ষতি হচ্ছে। অনেক চাষীই জানিয়েছেন, তারা তাদের পানের বরজ রক্ষায় পলিথিন দিয়ে ঢাকা দেওয়ার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত বরজের পান পাতা লাল হয়ে শুকিয়ে পড়েছে।

গুলিশাখালী গ্রামের চাষী কপিল মাঝি জানিয়েছেন, “১০ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে ৭০ শতাংশ জমিতে পান চাষ করেছি। শীত আর কুয়াশায় সব পান পাতা ঝরে পড়েছে। এভাবে চললে আমি কিভাবে ঋণের টাকা পরিশোধ করব?” অন্যদিকে, আমতলী উপজেলার খতকালী গ্রামের চাষী আক্কাচ হাওলাদারও একই ধরনের অভিযোগ করেছেন, “এখন কি হবে, এনজিওর কিস্তি দেব কীভাবে? আমি সর্বশান্ত হয়ে গেছি।”

বরজের পান নষ্ট হওয়ার কারণে বাজারে দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। এক চল্লি (৩৬টি পান) বড় সাইজের ৯০-১০০ টাকায় এবং ছোট সাইজের ৭০-৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এতে সাধারণ ক্রেতারা এখন পানি কেনার বিষয়ে দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন।

তালতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু জাফর মো. ছালেহ জানিয়েছেন, ঘন কুয়াশা, অতিরিক্ত শীত এবং আবহাওয়া মেঘলা থাকার কারণে পান গাছে ছত্রাকের আক্রমণ হয়েছে। তিনি বলেন, এই পরিস্থিতিতে জৈব বালাইনাশক প্রয়োগ করা যেতে পারে এবং শৈত্য প্রবাহের হাত থেকে বরজ রক্ষায় পলিথিন টাঙিয়ে বেড়া দেওয়া যেতে পারে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ভোলায় স্কুল মাঠ থেকে উদ্ধার বিদেশি শটগান, মালিকানা নিয়ে ধোঁয়াশা

ভোলার লালমোহন উপজেলায় একটি স্কুল মাঠ থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার হয়েছে একটি বিদেশি শটগান। বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) রাতে উপজেলার কালমা ইউনিয়নের মধ্য কালমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ থেকে ব্যাডমিন্টন ব্যাটের ব্যাগের মধ্যে গোপনভাবে রাখা শটগানটি উদ্ধার করে পুলিশ।

লালমোহন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে নিশ্চিত করেছেন যে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে লালমোহন থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অস্ত্রটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

পুলিশ জানিয়েছে, অস্ত্রের গায়ে একটি নাম্বার রয়েছে এবং সেই নাম্বারের মাধ্যমে অস্ত্রটির মালিকানা শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। এমনকি এই শটগানটি দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যবহৃত হতে পারে, কারণ গত বছর বিভিন্ন থানা থেকে অস্ত্র লুট হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। পুলিশ ধারণা করছে, এটি কোন থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্রও হতে পারে।

এদিকে, লালমোহন থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম বলেন, “এছাড়াও এটা হতে পারে একটি ব্যক্তিগত মালিকানাধীন অস্ত্র, যার লাইসেন্সের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে অস্ত্রটি স্কুল মাঠে ফেলে রাখা হয়েছে। আবার এটি অবৈধ অস্ত্রধারীরও হতে পারে। আমরা অস্ত্রটির মালিকানা শনাক্তের চেষ্টা করছি এবং পরবর্তীতে বিস্তারিত জানানো হবে।”

এ ঘটনায় পুলিশ এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করতে পারেনি।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে বাদ হচ্ছে ভুয়া তথ্য দেওয়া ৬০ হাজার টিসিবি কার্ড

বরিশালে চলতি মাস থেকে শুরু হয়েছে টিসিবির স্বল্পমূল্যে পণ্য বিতরণ, তবে এবার স্মার্ট কার্ডের মাধ্যমে পণ্য বিতরণের ক্ষেত্রে ভুয়া তথ্য প্রদানকারীদের কার্ড বাতিল করা হবে। এই উদ্যোগের ফলে টিসিবির ৬০ হাজার ভুয়া কার্ড বাতিলের আশঙ্কা করা হচ্ছে, এবং এতে প্রকৃত দরিদ্রদের জন্য নতুন করে স্মার্ট কার্ড বিতরণের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

টিসিবি বরিশাল কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল নগরীতে মোট ৯০ হাজার উপকারভোগী রয়েছে, তবে এর মধ্যে ৬০ হাজারের স্মার্ট কার্ড এখনও আসেনি। পাশাপাশি, বরিশাল জেলার ১০ উপজেলায় বর্তমানে উপকারভোগীর সংখ্যা ১ লাখ ২৯ হাজার ৯২১ জন। ৯১ জন ডিলারের মাধ্যমে উপকারভোগীদের মাঝে তিনটি পণ্য—২ লিটার তেল, ২ কেজি ডাল এবং ৫ কেজি চাল—বিতরণ করা হচ্ছে, যার বাজার মূল্য প্রায় ৯০০ টাকা, তবে উপকারভোগীরা মাত্র ৪৭০ টাকায় তা পাচ্ছেন।

টিসিবির পণ্য উত্তোলন করতে আসা কাসেম ও বাদলসহ কয়েকজন উপকারভোগী জানান, ভুয়া তথ্যের কারণে একাধিক কার্ড রয়েছে একই পরিবারে। বিশেষত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্কিত পরিবারগুলোর সদস্যদের একাধিক কার্ড দেওয়া হয়েছে, ফলে প্রকৃত দরিদ্ররা টিসিবির পণ্য পাচ্ছেন না। তারা অভিযোগ করেন, কাউন্সিলর ও স্থানীয় নেতাদের মাধ্যমে এই কার্ড বিতরণ করা হয়েছে এবং এটি ভোটার বাগিয়ে নেওয়ার জন্য ব্যবহৃত হয়েছে।

এদিকে, চাঁদমারী এলাকার ডিলার মিজানুর রহমান জানান, তার অধীনে বর্তমানে ২১০০ উপকারভোগী কার্ডধারী রয়েছেন, তবে এই মাসে মাত্র ৬০০ উপকারভোগী স্মার্ট কার্ডের অধীনে পণ্য পাবেন। এর কারণ, বেশিরভাগ কার্ডে ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছে এবং অনেক কার্ডের ঠিকানা ভুল, এমনকি পিতার নামও সঠিক নয়। কিছু কার্ডের মধ্যে একই পরিবারের একাধিক সদস্যের কার্ড পাওয়া গেছে, যা বাতিল করা হয়েছে।

টিসিবি বরিশালের সহকারী পরিচালক প্রকৌশলী শতদল মন্ডল জানিয়েছেন, স্মার্ট কার্ডে পণ্য বিতরণের মাধ্যমে কার্যক্রম আরও স্বচ্ছতা লাভ করবে। তিনি বলেন, “তথ্য যাচাইয়ের পর যাদের সঠিক তথ্য পাওয়া গেছে, তাদের জন্য স্মার্ট কার্ড তৈরি করা হচ্ছে।”

এদিকে, কার্ড বাতিলের সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন উপকারভোগীরা, এবং তারা দাবি করেছেন যে, যারা এতদিন কার্ড পাননি, তাদের জন্য নতুন স্মার্ট কার্ড দেওয়া হোক।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




পিরোজপুর মডেল মসজিদের ঠিকাদার সাবেক এমপির ভাই, অনিয়মের অভিযোগ

পিরোজপুর জেলার দুইটি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। পিরোজপুর সদর উপজেলা এবং কাউখালী উপজেলার এই নির্মাণাধীন মসজিদগুলোতে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের যোগসাজশে এই অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

মডেল মসজিদ নির্মাণ কাজ পরিচালনা করছে মেসার্স রাজ অ্যান্ড ব্রাদার্স নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, যার স্বত্বাধিকারী সাবেক পৌর মেয়র হাবিবুর রহমান মালেক। তিনি দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় ছিলেন, এবং তার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে উঠেছে একাধিক অভিযোগ।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স খান বিল্ডার্সের প্রোপাইটর নাসির খান জানান, তারা তিনটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়ে মসজিদ দুটির কাজ পায়। এর মধ্যে সাবেক পৌর মেয়র হাবিবুর রহমান মালেকের প্রতিষ্ঠানও ছিল। তার প্রভাবের কারণে তারা অন্য দুটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কাজটি মেসার্স রাজ অ্যান্ড ব্রাদার্সকে দেয়। তবে গণঅভ্যুত্থানের পর সাবেক মেয়র মালেক কাজটি বিক্রি করে এবং আত্মগোপনে চলে যান। তিনি জানান, নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে, আর এর দায়ভার তারা নেবেন না।

তথ্য মতে, ৩০ কোটি ১৫ লাখ ৩৬ হাজার টাকা ব্যয়ে ১৫ অক্টোবর মসজিদ দুটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়। তিনটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান—ইলেক্ট্রো গ্লোব, মেসার্স খান বিল্ডার্স, এবং মেসার্স রাজ অ্যান্ড ব্রাদার্স—এর মধ্যে দুটি প্রতিষ্ঠান কাজ না করে মালেকের প্রতিষ্ঠানকে কাজের অনুমতি দেয়।

নির্মাণকাজ তদারকির জন্য গণপূর্ত অধিদপ্তর এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের একজন প্রকৌশলী উপস্থিত থাকার কথা ছিল। কিন্তু প্রকল্পস্থলে কোনো প্রকৌশলী উপস্থিত না থাকায় নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহৃত হচ্ছে। এমনকি, ৮০ ফুট পাইল কাস্টিং করার কথা থাকলেও সেখানে ৫৫ ফুটের পাইল কাস্টিং করা হয়েছে। ঢালাইয়ের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে নিম্নমানের রড, ইট এবং বালু।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন যে, মডেল মসজিদের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের নির্মাণস্থলে কোনো সাইনবোর্ড নেই। টিনের বেড়া দিয়ে ঢেকে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে। এক পর্যায়ে স্থানীয়দের প্রতিবাদে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। পরে সাবেক মেয়র মালেক প্রভাবশালী বিএনপি নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে কাজ পুনরায় শুরু করেন।

এই বিষয়ে মেসার্স রাজ অ্যান্ড ব্রাদার্সের ঠিকাদার হাবিবুর রহমান মালেকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

পিরোজপুর গণপূর্ত অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) অনিরুদ্ধ মণ্ডল বলেন, “কাজের ত্রুটি খুঁজে বের করা গণপূর্ত অধিদপ্তরের দায়িত্ব। আপনাদের নয়।”

পিরোজপুর গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. খাইরুজ্জামান বলেন, “প্রতিটি প্রকল্প তদারকির জন্য একজন ইঞ্জিনিয়ার থাকা বাধ্যতামূলক। হয়তো আপনারা তাকে পাননি।”

বরিশাল গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মানিক লাল দাস বলেন, “এখন পর্যন্ত এমন কোনো অভিযোগ পাইনি। তবে বিষয়টি তদন্ত করে দেখবো। অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বর্তমানে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে একটি বিশেষায়িত ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন আছেন। তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে এবং তিনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন বলে বিএনপি ঘরানার নেতারা জানিয়েছেন।

বুধবার (৮ জানুয়ারি) উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনের মেরিলিবন রোডে অবস্থিত ‘দ্য লন্ডন ক্লিনিক’-এ ভর্তি হন বেগম খালেদা জিয়া। তিনি প্রখ্যাত চিকিৎসক প্রফেসর ডা. প্যাট্রিক কেনেডির অধীনে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ঢাকায় এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে ১৫ বার চিকিৎসা নেওয়ার পর মেডিকেল বোর্ডের সুপারিশে মাল্টিডিসিপ্লিনারি অ্যাডভান্স সেন্টারে তাঁর উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে মঙ্গলবার রাতে ঢাকা থেকে যাত্রা শুরু করে কাতার হয়ে বুধবার বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা ৫৫ মিনিটে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি। বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন কার্যক্রম শেষে তাঁকে সরাসরি লন্ডন ক্লিনিকে নেওয়া হয়।

ক্লিনিকে ভর্তি হওয়ার পর তাঁর বড় ছেলে ও বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং পুত্রবধূ ডা. জুবাইদা রহমান সার্বক্ষণিক তাঁর সেবায় নিয়োজিত আছেন। জানা গেছে, বেগম জিয়া পুত্রবধূর নিজ হাতে তৈরি নাস্তা ও খাবার গ্রহণ করছেন।

বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বদলানো রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তাঁর বিদেশে চিকিৎসার অনুমতি মেলে। যুক্তরাজ্য বিএনপি’র নেতারা তাঁর সুস্থতার জন্য নিয়মিত খোঁজখবর রাখছেন।

বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন জানান, বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে জটিল রোগে ভুগছেন। তবে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তাঁর চিকিৎসা চলছে এবং তিনি সুস্থ হয়ে উঠছেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 

 




সীমান্তে উত্তেজনা এড়াতে আপাতত বেড়া নির্মাণ বন্ধ

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে উত্তেজনা নিরসনে আপাতত কাঁটা তারের বেড়া নির্মাণ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। শুক্রবার বিএসএফের বেঙ্গল ফ্রন্টিয়ারের এক সিনিয়র কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সোমবার পশ্চিমবঙ্গের মালদার বৈষ্ণবনগরে বেড়া নির্মাণের উদ্যোগ নেয় বিএসএফ। তবে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) এতে আপত্তি জানায়। এরপর মঙ্গলবার ফের নির্মাণকাজ চালানোর চেষ্টা করলে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তা বন্ধ করা হয়।

বিএসএফের কর্মকর্তা জানান, “বেড়া নির্মাণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও তা জরুরি নয়। ফলে অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনা এড়াতে নির্মাণ আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। ভবিষ্যতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার নির্মাণ শুরু হবে। তবে কোনো নির্দিষ্ট তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি।”

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল ভিডিও:
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে মাটির বাঙ্কার তৈরি এবং বিজিবি সদস্যদের পাহারা দেওয়ার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। স্থানীয় সাধারণ মানুষকেও সেখানে পাহারা দিতে দেখা যায়।

বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে ২,২১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে, যার ৫০ শতাংশ এখনো বেড়াবিহীন। মালদার ১৭২ কিলোমিটার সীমান্তের মধ্যে ২৭ কিলোমিটার এলাকায় বেড়া নেই।

বিএসএফ কর্মকর্তার দাবি, গত বছর এই এলাকায় বেড়া নির্মাণ শুরু হলেও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে কাজ বন্ধ রাখতে হয়। এবার কাজ শুরু করতে গিয়ে বিজিবির আপত্তির মুখে পড়তে হয়েছে।

মো: আল-আমিন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ঘোষণাপত্রে শেখ হাসিনার বিচার দেখতে চায় জনগণ: ভোলাতে সারজিস আলম

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক ও জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম দাবি করেছেন, জনগণ ২৪-এর অভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্রে সবার আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচার নিশ্চিত করতে চায়।

শুক্রবার (১০ জানুয়ারি) সকালে ভোলা শহরে জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্রের সমর্থনে লিফলেট বিতরণ ও পথসভায় অংশ নিয়ে এ কথা বলেন তিনি।

সারজিস আলম বলেন,“শেখ হাসিনার সরকার যে স্বৈরাচারী ও রক্তে জড়িত, তার প্রমাণ বাংলার জনগণ পেয়েছে। ঘোষণাপত্রে জনগণ এই সরকারে থাকা খুনিদের বিচার চায়। ৭ দফা দাবিকে যৌক্তিক বলে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সমর্থন পেয়েছি।”

তিনি আরও বলেন,“গোপালগঞ্জের সিন্ডিকেট বসিয়ে জনগণের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল শেখ হাসিনার সরকার। জনগণ সেই সিন্ডিকেটকে ধ্বংস করে সমতার একটি বাংলাদেশ গড়তে চায়। সেই লক্ষ্যে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জনতা ঐক্যবদ্ধ।”

ভোলার বাংলা স্কুল মোড়, সদর রোড এবং নতুন বাজার এলাকায় আন্দোলনের দাবির সমর্থনে লিফলেট বিতরণ করেন সারজিস আলম। পরে সরকারি স্কুল সংলগ্ন ইলিশা ফোয়ারা মোড়ে পথসভায় বক্তৃতা দেন তিনি।

সভায় আন্দোলনের ৭ দফা দাবির মধ্যে উঠে আসে: গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি। আহতদের সরকারি খরচে চিকিৎসা। শেখ হাসিনা ও দোসরদের বিচার নিশ্চিত করা। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বের স্বীকৃতি।

সারজিস আলম বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের শহীদ জসিম উদ্দিনের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেন। তিনি তাদের সহানুভূতি জানিয়ে শহীদ জসিমের কবরও জিয়ারত করেন।

কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, মুখপাত্র সামান্তা শারমিন, সমন্বয়ক রাসেল মাহমুদ, এম এ সাঈদ, কেন্দ্রীয় সদস্য আরিফুর রহমান তুহিন, আব্দুল্লাহ আল-মামুন ফয়সালসহ শত শত শিক্ষার্থী ও জনতা।

প্রসঙ্গত: সারজিস আলমের দাবি করা ৭ দফা দাবি বাস্তবায়নে দেশব্যাপী গণসংযোগ চালানোর ঘোষণা দিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।