হাসিনাকে উৎখাতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নেই, ভারতও বিশ্বাস করে: জ্যাক সুলিভান

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদচ্যুতি এবং তার ভারত পালানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে নানা গুঞ্জন ও জল্পনা সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, তারা হাসিনাকে উৎখাতে সক্রিয় ছিল। তবে মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভান আবারও এ ধরনের অভিযোগ খারিজ করেছেন। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার পতনে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ধরনের ভূমিকা নেই এবং ভারতের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও এ ব্যাপারে একমত।

শুক্রবার (১০ জানুয়ারি) হোয়াইট হাউসের রুজভেল্ট রুমে সাংবাদিকদের এক নির্বাচিত দলের সঙ্গে কথা বলার সময় সুলিভান বলেন, “বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। ভারতীয় শীর্ষ কর্মকর্তাদেরও বিশ্বাস রয়েছে যে, এসব ধারণা ভিত্তিহীন এবং ভুয়া।”

এটা নতুন কিছু নয়, এর আগেও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে হাসিনাকে উৎখাতে তাদের কোনো ভূমিকা নেই বলেও জানানো হয়েছিল। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র কারিন জ্যঁ-পিয়েরে গত বছর আগস্টে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, “আমাদের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। যদি কোন প্রতিবেদনে বা গুজবে বলা হয় যে যুক্তরাষ্ট্র সরকার এ ঘটনায় জড়িত ছিল, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।”

এদিকে, কিছু সংবাদমাধ্যমের দাবি ছিল যে, হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ভারতীয় ইকোনমিক টাইমস পত্রিকায় দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিলেন। পত্রিকাটি বলেছিল, যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের সেন্ট মার্টিন দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অনুপ্রবেশ করতে চায় এবং এ কারণে তারা হাসিনাকে উৎখাতে ভূমিকা রেখেছিল। তবে হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ এক সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া পোস্টে দাবি করেন, তার মা কখনোই এমন কোনো বক্তব্য দেননি।

সুলিভান ভারত সফরের সময় এই ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং বলেছেন, “এ ধরনের গুজবের কোনো ভিত্তি নেই।”

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




দেশে চাঁদাবাজি-দখলবাজি চাই না: মিজানুর রহমান আজহারী

বিশিষ্ট ইসলামি স্কলার ড. মিজানুর রহমান আজহারী বলেছেন, দেশে চাঁদাবাজি, দখলবাজি এবং দুর্নীতি কোনভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। তিনি শনিবার (১১ জানুয়ারি) রাতে সিলেট এমসি কলেজ মাঠে আঞ্জুমানে খেদমতে কুরআন আয়োজিত তাফসিরুল কুরআন মাহফিলে বয়ান পেশ করতে গিয়ে এসব কথা বলেন।

মিজানুর রহমান আজহারী তার বক্তৃতায় বলেন, “দেশের রাজনীতিতে যখন ক্ষমতার পালাবদল ঘটে, তখন আমরা এক সরকারের দুর্নীতির কাহিনি শুনি, পরবর্তীতে আরেক সরকারের দুর্নীতির চিত্র ফুটে উঠে। আমরা এই বাজে স্বভাবগুলো প্রতিটি দলের মধ্যে দেখতে পেয়েছি। এখন সময় এসেছে আমাদের নিজেদের শুধরে নেয়ার। আমরা চাই না চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি বা কোনো ধরনের দুর্নীতি দেশে চলতে থাকুক।”

তিনি আরও বলেন, “এটাই নতুন প্রভাতের বাংলাদেশ, নতুন ভোরের বাংলাদেশ। আমরা একে অপরের বিরুদ্ধে কাদা ছোড়াছুড়ি না করে একসাথে এই দেশকে উন্নত করতে কাজ করবো।”

ড. আজহারী জনপ্রিয় ইসলামি বক্তা হিসেবে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমাদের শপথ নেওয়ার সময় এসেছে। সকল নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের শপথ নেয়া উচিত যে তারা আর কোনো দিন চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজি করবে না এবং সবসময় দেশের পক্ষে থাকবে।”

তাফসীর মাহফিলে তিনি একথাও বলেন যে, “যশোরের মাহফিলের বক্তব্য সাধারণ ও সবার জন্য ছিল। রাজনৈতিক প্রসঙ্গে যদি কেউ বলেন, ‘দল করে দেখান’, তবে আমি বলব, আমার প্রথম পরিচয় আমি একজন মুফাসসিরে কুরআন এবং তার পর আমি একজন বাংলাদেশি নাগরিক। দেশের যেকোনো সমস্যা নিয়ে কথা বলার আমার অধিকার রয়েছে।”

মাহফিলের শেষ দিনে, ড. মিজানুর রহমান আজহারী ছাড়াও তাফসীর পেশ করেন আল্লামা ইসহাক আল মাদানী, অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সালাম আল মাদানী, মুফতি মাওলানা আমীর হামজা, শায়খ হাফিজ মাওলানা আবু সাঈদ, অধ্যক্ষ মাওলানা লুৎফুর রহমান হুমায়দী, মাওলানা সৈয়দ ফয়জুল্লাহ বাহার, শায়েখ আজমল মসরুর, মাওলানা মাহমুদুর রহমান দিলাওয়ার, মাওলানা মাহবুবুর রহমান জালালাবী ও মাওলানা হাসানুল বান্না বিন শরিফ আব্দুল কাদির।

এ ছাড়া মাহফিলের বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক হাফিজ আব্দুল হাই হারুন প্রস্তাবনা পেশ করেন।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ভোলাতে এক দিনও চলেনি ৩০ লাখ টাকার নৌ অ্যাম্বুলেন্স

ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলায় ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে দেওয়া একটি নৌ অ্যাম্বুলেন্স ৫ বছর ধরে অযত্ন ও অবহেলায় পড়ে আছে, এবং এক দিনও রোগী পরিবহন করতে পারেনি। দুর্গম চরবাসীর জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য সরকার এটি বরাদ্দ করলেও এটি এখনো কাজে আসেনি।

২০২০ সালের ১৬ জানুয়ারি তজুমদ্দিন হাসপাতালে হস্তান্তর করা এই নৌ অ্যাম্বুলেন্সটি শশীগঞ্জ স্লুইসগেটের দক্ষিণ পাশে একটি খালে পড়ে রয়েছে। এর সামনের গ্লাস, মেশিন এবং ভেতরের বসার সিট সবই ভেঙে গেছে। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এটি বর্তমানে রোগী বহনের জন্য অযোগ্য হয়ে গেছে। তাছাড়া ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৫০ হাজার টাকা তেল খরচ বাবদ নেওয়া হলেও তার কোনো বিল বা ভাউচার দেখানো হয়নি।

স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন যে, চরাঞ্চলের মানুষ যেখানে প্রতিদিন খাল বা নদী পারাপারের জন্য ট্রলার ব্যবহার করছে, সেখানে এই নৌ অ্যাম্বুলেন্সটি কোনো কাজে আসেনি। স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. আব্দুল্যাহ জানান, চরবাসী কখনোই এই নৌ অ্যাম্বুলেন্সের সুবিধা পায়নি, এবং এটি শুধুমাত্র সরকারি টাকার অপচয় হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তৃপক্ষ জানায়, কমিউনিটি বেসড হেলথ কেয়ার প্রকল্পের মাধ্যমে নৌ অ্যাম্বুলেন্সটি বরাদ্দ হলেও পরবর্তীতে এটি বিকল হয়ে যায়। যদিও গত ২০২৩ সালে এক ড্রাইভারকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল, তবে অ্যাম্বুলেন্সটি এখনো কোনো কাজে আসেনি।

এদিকে, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. উত্তম কুমার সরকার জানান, এটি বর্তমানে মেরামতের অযোগ্য অবস্থায় রয়েছে, তবে যোগাযোগ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে কীভাবে এই অ্যাম্বুলেন্সটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সমস্যা সমাধান করা যায়।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




কলকাতার পার্নো মিত্রকে নিয়ে বড়পর্দায় আসছেন মোশাররফ করিম

বেশ কয়েক বছর আগে বাংলাদেশের প্রখ্যাত অভিনেতা মোশাররফ করিম ও কলকাতার মেধাবী অভিনেত্রী পার্নো মিত্রকে নিয়ে “বিলডাকিনি” নামের একটি ছবির ঘোষণা হয়। ছবির কাজও প্রায় শেষ হলেও, দীর্ঘ সময় ধরে মুক্তি পায়নি এটি। তবে অবশেষে ছবিটির পোস্টার উন্মোচন ও মুক্তির তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে।

শুক্রবার (১১ জানুয়ারি) ছবির মুক্তির তারিখ এবং পোস্টার উন্মোচন করা হয়। নির্মাতা ফজলুল কবীর তুহিন, যিনি নুরুদ্দিন জাহাঙ্গীরের ব্যতিক্রমধর্মী কাহিনী অবলম্বনে চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করেছেন, শুটিং স্পটে দাঁড়িয়ে পোস্টার উন্মোচন করেন। এই সময় জানানো হয় যে ছবিটি আগামী ২৪ জানুয়ারি দেশের সকল সিনেপ্লেক্সসহ আরও কিছু হলে মুক্তি পাবে।

ছবির পোস্টারে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করা মোশাররফ করিমের পাশাপাশি পার্নো মিত্রকেও দেখা গেছে। মোশাররফ করিম “বিলডাকিনি”-তে মানিক মাঝি চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যিনি বাউলের সন্তান। অন্যদিকে, পার্নো মিত্র অভিনয় করেছেন গ্রামীণ নারী হানুফা চরিত্রে, যার গল্পই ছবির মূল কাহিনীর কেন্দ্রবিন্দু।

পোস্টার উন্মোচন অনুষ্ঠানে মোশাররফ করিম বলেন, “‘বিলডাকিনি’ আমার একটি প্রিয় ছবি। এর প্রধান কারণ হচ্ছে, এটি আমাদের সমাজের কথা বলে, সমাজের সমস্যার কথা বলে এবং সমস্যা থেকে উত্তরণের কথা বলে। এটি মানুষকে অমানুষ হয়ে ওঠার বদলে মানুষ হওয়ার কথা বলে। আমি ব্যক্তিগতভাবে অভিনয় করে সন্তুষ্ট এবং তৃপ্ত। আমি চাই ছবিটি সবাই দেখুক।”

নির্মাতা ফজলুল তুহিন বলেন, “এই ছবিটি একজন নারী ও তার মাতৃত্বের স্বাধীনতার প্রশ্নে অসম্ভব লড়াইয়ের গল্প। চিরায়ত বাংলার রূপ এবং মানুষের চিরায়ত দুঃখও দর্শকরা দেখতে পাবেন।”

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুদানে নির্মিত এই ছবিটির অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন শাহাজাহান সম্রাট, লুৎফর রহমান জর্জ, শিল্পী সরকার অপু, রশীদ হারুন, হাবিব মাসুদ, আইনুন নাহার পুতুল, ইউসুফ হাসান অর্ক, মাহবুবুর রহমান, তিথি, মেহেদী হাসান সোমেন। ছবির শ্যুটিং হয়েছে নওগাঁ, নাটোর এবং বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কারাগারে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




অবস্থার উন্নতি না হলে বিআরটিএ বন্ধের চিন্তা: সড়ক উপদেষ্টা

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)-এর অবস্থার উন্নতি না হলে সেটি বন্ধ করার চিন্তা করা হতে পারে, এমন মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।

শনিবার (১১ জানুয়ারি) দুপুরে বিআরটিএ ভবন পরিদর্শন শেষে সেখানকার কনফারেন্স রুমে রোড সেফটি বিষয়ক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

উপদেষ্টা জানান, গত ১৯ ডিসেম্বর রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনে এক আলোচনা সভায় তিনি বিআরটিএকে তাদের অবস্থার উন্নতির জন্য এক মাস সময় দিয়েছিলেন। এক মাসের মধ্যে কিছুটা উন্নতি হলেও, বিআরটিএ এখনও গ্রহণযোগ্য পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি।

তিনি আরও বলেন, “বিআরটিএর কর্মকর্তাদের স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, তাদের আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়। আমি তাদের বলেছি, সরকারি বিভিন্ন দফতর বিলুপ্ত হয়ে গেছে। কাজের উন্নতি না হলে বিআরটিএ বন্ধ করার কথা চিন্তা করতে হবে।”

উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান বলেন, “আমরা বিআরটিএকে সবসময় মনিটরিংয়ে রাখব এবং ফিটনেসবিহীন গাড়ির বিরুদ্ধে অভিযান আরও বাড়ানো হবে।”

এছাড়া, তিনি উল্লেখ করেন যে, ২০২৪ সালে সড়ক দুর্ঘটনা ১২ শতাংশ বেড়েছে, এবং তাদের দায়িত্ব নেওয়ার পর সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে না পারায় দায় স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “আমরা সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থা নিতে বিআরটিএসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্দেশ দিয়েছি।”

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




 ৪৩তম বিসিএসের ২৬৭ জনকে সহকারী কমিশনার নিয়োগ

৪৩তম বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে ২৬৭ জন কর্মকর্তাকে প্রশাসন ক্যাডারে সহকারী কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। শুক্রবার (১০ জানুয়ারি) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে এই নিয়োগ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনটি প্রকাশ করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ৪৩তম বিসিএস পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের ২৫ জানুয়ারির পত্রের সুপারিশে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নবনিয়োগ শাখার ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৪ তারিখের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ২৬৭ জন কর্মকর্তাকে বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারে সহকারী কমিশনার হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে।

নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের চাকরি শিক্ষানবিশ সহকারী কমিশনার হিসেবে বিভিন্ন বিভাগে পদায়ন করা হয়েছে এবং তাদের যথাযথ বিভাগীয় কমিশনারের অধীনে ন্যস্ত করা হয়েছে।

এছাড়াও, প্রজ্ঞাপনে এসব কর্মকর্তাদের ১৫ জানুয়ারির মধ্যে নামের পাশে বর্ণিত বিভাগের বিভাগীয় কমিশনারের কাছে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, তাদের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ড. ইউনূসের ৫ মামলা বাতিল, হাইকোর্টের রায়ে আইনি দুর্বলতা নেই

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে শ্রম আইনের পাঁচ মামলার কার্যক্রম বাতিল করে হাইকোর্টের দেয়া রায়ে কোনো আইনি দুর্বলতা নেই বলে জানিয়েছে আপিল বিভাগ। সম্প্রতি প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয়, হাইকোর্টের রায় ও আদেশে আইনগতভাবে কোনো ত্রুটি বা দুর্বলতা নেই, তাই এতে হস্তক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা খুঁজে পাওয়া যায়নি।

২০১৯ সালের ৩ জুলাই ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালতে ড. ইউনূসসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন তার প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ কমিউনিকেশন্সের সাবেক তিন কর্মচারী— আব্দুস সালাম, শাহ আলম এবং এমরানুল হক। ওই বছরের মধ্যেই হোসাইন আহমেদ এবং আব্দুর গফুরও পৃথকভাবে মামলা দায়ের করেন।

এদিকে, এসব মামলা বাতিলের জন্য ২০২০ সালে হাইকোর্টে আবেদন করেন ড. ইউনূস। তখন আদালত মামলাগুলো বাতিলের জন্য রুল জারি করে। ২৪ অক্টোবর হাইকোর্ট এসব মামলা বাতিল করে রায় দেন। এর পর রাষ্ট্রপক্ষ আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছিল। তবে ৮ ডিসেম্বর, বিচারপতি আশফাকুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন খারিজ করে রায় দেয়, এবং হাইকোর্টের আদেশ বহাল রাখে।

এই রায়কে আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে যথার্থ বলে মন্তব্য করেছেন বিশেষজ্ঞরা, যা শর্তহীনভাবে ড. ইউনূসের পক্ষে গেছে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন শিশু-প্রবীণরা

বরিশাল বিভাগে শীতের প্রকোপ বাড়ায় ঠান্ডাজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন শিশু ও প্রবীণরা। এর ফলে জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগীদের ভিড় বৃদ্ধি পেয়েছে, কিন্তু বেশিরভাগ হাসপাতালে কাক্সিক্ষত সেবা না পাওয়ার অভিযোগ উঠছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য মতে, গত ২৪ ঘণ্টায় বরিশাল বিভাগে শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪৫ জন। এছাড়া, ডায়েরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন ১৭৪ জন। চলতি বছর এখন পর্যন্ত শ্বাসকষ্টজনিত রোগে ৪৭৪ জন এবং ডায়েরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে এক হাজার ৭৯১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন এবং জনসাধারণকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য সচেতন থাকতে আহ্বান জানিয়েছেন।

বরিশাল বিভাগের হাসপাতালগুলোতে রোগীদের চাপ বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয়রা সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে নানা ধরনের সমস্যায় পড়ছেন। বিশেষ করে শ্বাসকষ্ট এবং ডায়েরিয়া রোগে আক্রান্তদের জন্য চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকট দেখা দিয়েছে।

এদিকে, স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীরা জানিয়েছেন, ঠান্ডাজনিত রোগ থেকে বাঁচতে শীতকালীন সাবধানতা অবলম্বন করা এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো অত্যন্ত জরুরি। শীতের সময় শিশু ও প্রবীণদের বিশেষ যত্ন নিতে হবে এবং তাদের সুস্থ রাখতে স্বাস্থ্য সচেতনতার বিষয়ে আরো মনোযোগী হতে হবে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে কেন্দ্রের নির্দেশ ভেঙে বিএনপির দুই শীর্ষ নেতার বিশাল শোডাউন

বরিশাল নগরীতে কেন্দ্রীয় বিএনপির শীর্ষ নেতাদের নির্দেশনা অমান্য করে বিশাল শোডাউন করেছে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান খান ফারুক এবং সদস্য সচিব জিয়াউদ্দিন সিকদার। দলের উচ্চ পদস্থ নেতাদের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে এ শোডাউনটি অনুষ্ঠিত হয়, যা স্থানীয় জনগণের মধ্যে ব্যাপক যানজট এবং দুর্ভোগ সৃষ্টি করে।

শনিবার সকালে বরিশাল নগরীর নথুল্লাবাদ এলাকায় বিএনপির পদবঞ্চিত নেতারা রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা কর্মসূচির লিফলেট বিতরণ করছিলেন। এ সময় বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কে ঢাকার দুই শীর্ষ নেতার আগমন ঘটে, এবং বিশাল মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা সহকারে তারা নগরীতে প্রবেশ করেন। তাঁদের বহনকারী দুটি মাইক্রোবাসের পেছনে অসংখ্য মোটরসাইকেলের বিশাল একটি বহর ছিল, যা নথুল্লাবাদসহ নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে যানজট সৃষ্টি করে।

এভাবে একটি শোডাউন আয়োজনের ফলে জনগণের মাঝে অসন্তোষ দেখা দেয়, বিশেষ করে যানবাহন শ্রমিক, যাত্রী এবং পথচারীরা ব্যাপক দুর্ভোগে পড়ে। বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এই ধরনের কর্মসূচি নিষিদ্ধ করে দিয়েছেন, যাতে জনগণের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় বাধা না আসে।

বরিশালের মহানগর বিএনপির সাবেক নেতারা বলেন, দলের নির্দেশনা অনুযায়ী জনগণকে দুর্ভোগে ফেলে এমন কর্মসূচি থেকে বিরত থাকার কথা বলা হয়েছিল। তবে কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অমান্য করে এই ধরনের শোডাউন পরিচালনা করা দলের প্রতি অসম্মানজনক।

এ বিষয়ে বরিশাল বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান বলেন, ‘‘এ ধরনের শোডাউন বা বিলবোর্ড স্থাপন নিষিদ্ধ, এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’

বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান খান ফারুক এবং সদস্য সচিব জিয়াউদ্দিন সিকদারের এই শোডাউন নিয়ে তীব্র সমালোচনা চলছে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে। তাদের বিরুদ্ধে দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ উঠেছে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




সীমান্তে অস্থিতিশলীতাই প্রমান করে ভারত কোন দিনই আমাদের বন্ধু ছিলো না : পীর সাহেব চরমোনাই

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির হযরত মাওলানা মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করিম, পীর সাহেব চরমোনাই বলেছেন, বাংলাদেশের সীমান্তে যে অশান্তি, নির্যাতন ও হত্যার চিত্র দেখা যায়, তা আমাদের ভাবতে বাধ্য করে যে ভারত কখনোই আমাদের প্রকৃত বন্ধু হতে পারেনি। স্বাধীনতার পর থেকে আমরা বিশ্বাস স্থাপন করলেও, সীমান্তে সাধারণ মানুষের ওপর গুলিবর্ষণ ও নির্যাতন বন্ধ হয়নি।

শনিবার (১১ জানুয়ারি) দুপুর ২টায় বরিশাল টাউন হলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নগর সম্মেলন’২৫ অনুষ্ঠিত হয়। মহানগর সভাপতি প্রফেসর মোঃ লোকমান হাকীম
সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পীর সাহেব চরমোনাই।

তিনি বলেন, বন্ধুত্বের নাম দিয়ে শাসকগোষ্ঠী দেশের স্বার্থ বিকিয়ে দিলেও সীমান্ত সমস্যার সমাধান হয়নি। এর বিপরীতে আমাদের কৃষি, বাণিজ্য, এবং নদীর পানি ব্যবহারসহ নানা ক্ষেত্রে ক্ষতির শিকার হতে হয়েছে।বাংলাদেশের জনগণ এ অন্যায় কখনো মেনে নেবে না।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ সংগ্রাম ও ত্যাগের ইতিহাস। ১৯৪৭-এ রক্ত দিলেও পেয়েছে পাকিস্তানি শোষণ, ১৯৭১-এ রক্তের বিনিময়ে স্বাধীনতা আনলেও সাম্য, মানবিক মর্যাদা, ও ন্যায়বিচার অধরাই রয়ে গেছে। স্বাধীনতার ৫৩ বছরে জনগণ বারবার রক্ত ঝরিয়ে অধিকার চেয়েছে, কিন্তু শাসকেরা লুটেরা ও ফ্যাসিস্টের ভূমিকায় আবির্ভূত হয়েছে। এ জাতি আর শোষণ নয়, ন্যায়ের বাংলাদেশ চায়।

চরমোনাই শায়েখ মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম বলেছেন, বাংলাদেশ ভারতীয় আধিপত্যবাদকে পরোয়া করে না। ভারতের চোখে চোখ রেখে কথা হবে, কোনো নতজানু পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণযোগ্য নয়। জনগণ দিল্লির কূটকৌশলকে প্রত্যাখ্যান করেছে। যদি আবারও কেউ ভারতের মদদে ক্ষমতায় আসার চেষ্টা করে, জাতি তাকে আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ করবে।

তিনি বলেন, ২৪-এর অভ্যুত্থান হাজারো ছাত্র-জনতার ত্যাগের ফল। বহু মানুষ জীবন দিয়েছে, কেউ পঙ্গুত্ব বরণ করেছে। তাদের রক্ত বৃথা যেতে দেওয়া হবে না। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ রাজপথের দল হিসেবে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে—দেশের স্বার্থে আপসকারী যেকোনো শক্তির বিরুদ্ধে আমরা দাঁতভাঙা জবাব দেব ।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন- ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ এর কেন্দ্রীয় সভাপতি ইউসুফ আহমাদ মানসুর, জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদ বরিশাল মহানগর, সভাপতি মাওলানা ওবায়দুর রহমান মাহাবুব, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বরিশাল মহানগর সহ-সভাপতি মাওলানা সৈয়দ নাসির আহমেদ কাওসার, মাওলানা মুহাম্মাদ জাকারিয়া হামিদী, মাওলানা মুহাম্মাদ লুৎফুর রহমান, প্রিন্সিপাল মোঃ ওমর ফারুক সভাপতি জাতীয় শিক্ষক ফোরাম বরিশাল মহানগর, অ্যাডভোকেট শেখ আব্দুল্লাহ নাসির, সভাপতি ইসলামী আইনজীবী পরিষদ বরিশাল মহানগর, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম গোমস্তা, সভাপতি, ইসলামী মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ বরিশাল মহানগর, মুফতি মুহিবুল্লাহ কাজেমী, সভাপতি, ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন বাংলাদেশ, বরিশাল মহানগর, সভাপতি মাওলানা মোঃ রফিকুল ইসলাম, সভাপতি, ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ বরিশাল মহানগর, গাজী মুহাম্মাদ রেদোয়ান, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ বরিশাল মহানগর। এ ছাড়াও নগর, থানা নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

সম্মেলন শেষে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বরিশাল মহানগর কমিটি ঘোষণা করা হয়- সভাপতি, প্রফেসর মোঃ লোকমান হাকীম, সহ-সভাপতি, মাওলানা নাছির আহমাদ কাওছারসহ-সভাপতি,মাওলানা জাকারিয়া হামিদী সেক্রেটারী,মাওলানা আবুল খায়ের।