ভারতীয় হাইকমিশনারকে তলব

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : জুলাই অভ্যুত্থানের সমর্থক ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদিকে গত শুক্রবার ঢাকায় গুলি করে দুর্বৃত্তরা। তিনি এখনো সংকটাপন্ন অবস্থায়  এভারকেয়ার হাসপাতালে মৃত্যুর দ্বার প্রান্তে,  তিনি যে আবার কবে আমাদের মাঝে ফিরবেন তা অনিশ্চিত। এদিকে ওসমান হাদিকে গুলিবর্ষণকারী দৃর্বৃত্ত  ভারতে পালিয়ে গেছে বলে গুঞ্জন রয়েছে।

এরই প্রেক্ষিতে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে আবার তলব করা হলো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ওসমান হাদি হত্যাচেষ্টার সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজনদের ভারতে পালিয়ে যাওয়া প্রতিরোধে ভারতের সহযোগিতাও কামনা করা হয়েছে। তাঁরা যদি ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে সক্ষমও হন, তবে তাঁদের তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তার ও বাংলাদেশের কাছে প্রত্যর্পণ নিশ্চিত করার অনুরোধ জানানো হয়।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে বিভিন্ন ঘটনায় এ নিয়ে অন্তত পাঁচবার তলব করা হলো প্রতিবেশী দেশটির রাষ্ট্রদূতকে।

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দিল্লিতে থেকে নানা বক্তব্য–বিবৃতি দিয়ে চলেছেন। তা বন্ধ করতে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় আহ্বান জানানো হলেও নয়াদিল্লি তাতে সাড়া দেয়নি।

এদিকে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার পর শেখ হাসিনার আরও বক্তব্য–বিবৃতি আসতে থাকে।

সেই প্রেক্ষাপটে আবার  ও ভারতের হাইকমিশনারকে তলব করল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় তাঁকে ডেকে নিয়ে সরকারের পক্ষে উদ্বেগ তুলে ধরেন পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম।

ভারতের হাইকমিশনারকে বলা হয়, পলাতক শেখ হাসিনাকে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে, যার মাধ্যমে তিনি তাঁর সমর্থকদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসন্ন নির্বাচন বানচালে প্ররোচিত করছেন। এই ঘটনায় বাংলাদেশ গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।




বানারীপাড়ার দুই শহীদ বুদ্ধিজীবীর স্মরণ

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে দেশের জন্য আত্মত্যাগকারী বানারীপাড়ার দুই সন্তান—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগের অধ্যাপক সুখরঞ্জন সমদ্দার—আজও এলাকার মানুষের মনে অমর। তারা দেশের স্বাধীনতার জন্য বীরত্বপূর্ণ জীবন উৎসর্গ করেছেন এবং বুদ্ধিজীবী সমাজে চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন।

ড. জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতার পরিবার ২৫ মার্চ ১৯৭১-এর রাতে স্বাভাবিকভাবে দিনের কাজ শেষ করে ঘরে ছিলেন। হঠাৎ রাস্তায় জনতার ভিড় ও লাইট বোমার শব্দ শুনে পরিবারের সদস্যরা নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন। পাক সেনারা তাদের ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে ড. গুহঠাকুরতাকে হত্যা করে। আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলেও সঠিক চিকিৎসা সম্ভব হয়নি এবং ৩০ মার্চ ১৯৭১ তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

ড. গুহঠাকুরতার জন্ম ময়মনসিংহে হলেও পৈত্রিক নিবাস বরিশালের বানারীপাড়ায়। শিক্ষাজীবন শুরু হয় ময়মনসিংহের জিলা স্কুল থেকে, এরপর কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ ও আনন্দমোহন কলেজে পড়াশোনা করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে এম.এ. ডিগ্রি অর্জন করেন এবং পরে লন্ডনের কিংস কলেজ থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি শিক্ষকতা, সাহিত্য, রাজনীতি ও সমাজচিন্তায় অগ্রণী ভূমিকা রেখেছিলেন। বানারীপাড়া পৌর শহরে তার নামানুসারে স্কুল প্রতিষ্ঠা ও রাস্তার নামকরণ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, সুখরঞ্জন সমদ্দার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগের প্রভাষক ছিলেন। মুক্তচিন্তা ও অসাম্প্রদায়িকতার দিক থেকে পরিচিত ছিলেন। ১৪ এপ্রিল ১৯৭১ পাক সেনারা তাকে তার বাসা থেকে ধরে নিয়ে যায় এবং বিনোদপুরে হত্যা করে ফেলে। তার পরিবার তখন ভারতেই ছিলেন। স্বাধীনতার পর দেহাবশেষ উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরির সামনে পুনঃসমাহিত করা হয়।

সুখরঞ্জন সমদ্দারের জন্ম ১৫ জানুয়ারি ১৯৩৮ সালে বানারীপাড়ার ইলুহার গ্রামে। তিনি বরিশালের স্থানীয় স্কুল ও কলেজ থেকে শিক্ষাজীবন শুরু করেন, পরে কলকাতা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংস্কৃত বিষয়ে শিক্ষা অর্জন করেন।

বানারীপাড়ার মানুষরা দুই শহীদ বুদ্ধিজীবীর স্মৃতি রক্ষার্থে তাদের ভাস্কর্য নির্মাণসহ প্রজন্মকে জানাতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২5




আগৈলঝাড়ায় হস্তশিল্প প্রতিষ্ঠান প্রকৃতির রজতজয়ন্তী উদযাপন

বরিশাল জেলার আগৈলঝাড়া উপজেলায় হস্তশিল্প প্রতিষ্ঠান প্রকৃতি পরিচালিত পাঁচটি প্রোডাকশন ইউনিট — বিবর্তন হ্যান্ডমেইড পেপার প্রজেক্ট, কেয়াপাম হ্যান্ডিক্রাফটস, তরুলতা ক্রাফটস, জোবারপাড় এন্টারপ্রাইজ এবং বাগধা এন্টারপ্রাইজ — এর রজতজয়ন্তী ও বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

১৩ ডিসেম্বর, শনিবার, গৈলা ইউনিয়নের কালুরপাড় এলাকায় প্রতিষ্ঠানটির মাঠে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। রজতজয়ন্তীর আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রকৃতির নির্বাহী পরিচালক স্বপন কুমার দাস

সভায় স্বপন কুমার দাস বলেন, “লতাপাতা দিয়ে আমরা বিশ্বজয় করেছি। বাড়ির চারপাশে লতাপাতা ও জলাশয়ের কচুরিপানা ব্যবহার করে হাতে বানানো তৈজসপত্র এখন বিশ্বের ৪২টি দেশে পৌঁছেছে। এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে ৬ হাজার নারী। বিদেশীরা আমাদের নারীদের হাতে তৈরি নিখুঁত জিনিস দেখে বিস্মিত হয়। তারা প্রশ্ন করেন, এগুলো কি মেশিনে তৈরি করা হয়। আমি জানাই, এটা সম্পূর্ণ হাতে তৈরি। আমাদের দেশের নারীরা এই সব পণ্য তৈরি করে।”

তিনি আরও বলেন, “২০০১ সালে প্রকৃতি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। মেনোনাইট সেন্ট্রাল কমিটি (এমসিসি) কর্তৃক শুরু করা আটটি কর্মসংস্থান প্রকল্পের দায়িত্ব আমরা গ্রহণ করি। প্রাথমিক সময়ে এমসিসি’র পরিচালকরা শাসন ব্যবস্থা, আর্থিক কাঠামো ও আন্তর্জাতিক ন্যায্য বানিজ্যের মানদণ্ড স্থাপন করতে আমাদের সহায়তা করেন। আমরা হস্তনির্মিত কাগজ, পাট, সিল্ক ও প্রাকৃতিক তন্তু উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপন করি এবং নারী করিগরদের ন্যায্য মজুরি ও মর্যাদা নিশ্চিত করি। ধীরে ধীরে প্রকৃতি একটি স্বনির্ভর প্রতিষ্ঠান হিসেবে আত্মপ্রতিষ্ঠিত হয়।”

প্রকৃতির বোর্ড অব ডিরেক্টর সুфিয়া আক্তার রহমান, আবজালুল নেছা চৌধুরী, হাসিনা আক্তার বলেন, “আমরা ব্র্যান্ডিং শক্তিশালী করি, নিজস্ব পরিচিতি ও প্যাকেজিং তৈরি করি এবং ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা ও এশিয়ার ক্রেতাদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী সম্পর্ক গড়ে তুলি। রিসাইকেল করা শাড়ি, বর্জ, পাট ও কচুরিপানা দিয়ে তৈরি পরিবেশবান্ধব পণ্য আমাদের স্বাক্ষর হয়ে ওঠে। ২০১৫ সালে কচুরিপানা দিয়ে তৈরি একটি অলঙ্কারের জন্য আমরা গর্বের সঙ্গে (ডব্লিউএফটিও) মোহাম্মদ ইসলাম ডিজাইন পুরস্কার অর্জন করি। রপ্তানি বৃদ্ধি পায়, কারিগরদের আয় বাড়ে এবং পরিবারগুলো তাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে সক্ষম হয়। ব্লক প্রিন্টিং, বাঁশের কারুশিল্প ও ক্রোশে খেলনা তৈরির প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আমাদের পণ্যে বৈচিত্র্য আনে। আমরা টেরাকোটা, ফ্যাশন ডিজাইন ও আধুনিক পরিবেশবান্ধব কারুশিল্পেও নতুনত্ব এনেছি। ভবিষ্যতে প্রকৃতি আরও গভীর ক্ষমতায়ন, নবপ্রবর্তন এবং টেকসই উন্নয়নের পথে এগোবে। আমরা চাই নতুন প্রজন্মের নারী নেতৃত্ব গড়ে উঠুক।”

তারা আরও বলেন, “২০৫০ সালের মধ্যে হস্তশিল্প প্রতিষ্ঠান প্রকৃতি ন্যায্য বানিজ্যের আলোকবর্তিকা হিসেবে বিশ্বকে দেখাবে যে নৈতিক ব্যবসা সফল হতে পারে এবং গ্রামীণ বাংলাদেশে জীবন পরিবর্তন করতে পারে। আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট: ‘প্রকৃতি ২০৫০, নারী ক্ষমতায়ন, পৃথিবীর টেকসই উন্নয়ন।’”

আগৈলঝাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার লিখন বণিক বলেন, “প্রকৃতি আমাদের জেলার গর্ব। রজতজয়ন্তীতে মঞ্চের নির্মাণ ও পরিবেশের সৌন্দর্য আমাকে মুগ্ধ করেছে। লতাপাতা, বন, তালপাতা, কচুরিপানা ও ফুলের সংমিশ্রণে তৈরি মঞ্চ আমি আগে কোথাও দেখিনি। আমি এর ছবি তুলে রাখেছি, যেখানে কাজ করব সেখানে দেখাবো।”

রজতজয়ন্তীতে আরও বক্তব্য রাখেন উপজেলা সমাজসেবা অফিসার তপন বিশ্বাস, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মোসাম্মৎ দৌলাতুন নেছা নাজমা, থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ খান, পল্লীবিদ্যুৎ বরিশাল-২ সমিতির জিএম বিপুল কৃষ্ণ, আগৈলঝাড়া প্রেসক্লাব সভাপতি ডা. মো. মাহাবুবুল ইসলাম, সাংবাদিক এসএম ওমর আলী সানি, প্রকৃতি ডেপুটি ডিরেক্টর সজল কৃষ্ণ দত্ত, মো. সাজ্জাদ হোসেন, ম্যানেজার জগন্নাথ দত্ত, কালিপদ অধিকারী, অঞ্জন কুমার, মিজানুর রহমান, এমসিসি ফেরদৌসি হাওলাদার। সভা পরিচালনা করেন ম্যানেজার পাপড়ি মন্ডল


 




বরগুনায় ফেসবুকে প্রচার চালিয়ে মহাবিপন্ন বাঘা আইর মাছ বিক্রি

বরগুনায় ফেসবুকে প্রচারণা চালিয়ে ঢাকঢোল পিটিয়ে মহাবিপন্ন ও বিরল প্রজাতির বাঘা আইর মাছ কেটে রান্না করে বিক্রি করা হয়েছে। মাছটির ওজন ছিল ৭০ কেজি।

শনিবার দুপুরে বরগুনা পৌরশহরের জেলা বিএনপির অফিস সংলগ্ন মজিবর হোটেলে মাছটি রান্না করে বিক্রি করা হয়। এর আগে সকাল ১০টায় হোটেলের সামনে মাছটি প্রদর্শন করা হয় এবং স্থানীয় কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের মাধ্যমে ফেসবুকে প্রচারণাও চালানো হয়।

হোটেল মালিক মজিবর জানান, মাছটি ঢাকার তেজগাঁও বাজার থেকে ৮২ হাজার টাকায় বরগুনার স্থানীয় আড়তদার মোস্তফার মাধ্যমে ক্রয় করা হয়েছে। তিনি বলেন, “শখের বশে আমি এই মাছ এনেছি। এর আগে হোটেলে বড় বড় মাছ বিক্রি করেছি, তবে বাঘা আইর এবারই প্রথম।”

পরিবেশকর্মী ও পরিবেশ প্রেমী আরিফ রহমান অভিযোগ করেছেন, “বাঘা আইর মাছ শিকার ও বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, এটি মহাবিপন্ন একটি জলজ প্রাণি। হোটেলে রান্না বা বিক্রি আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। বন্যপ্রাণি (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন ২০১২ অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, তবে প্রশাসন ও বন বিভাগ এখন পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা নেয়নি।”

বরগুনা বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আক্তারুজ্জামান মুঠোফোনে পাওয়া যায়নি। বরগুনা সদর উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেক জানান, “ঘটনা সম্পর্কে আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখছি, সত্যতা পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




নদীঘেরা চরে তরমুজের সবুজ স্বপ্ন, বদলাচ্ছে চরফ্যাশনের কৃষিজীবন

ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই নদীঘেরা চরজুড়ে শুরু হয় কর্মচাঞ্চল্য। সূর্যাস্ত পর্যন্ত একটানা পরিশ্রমে ব্যস্ত থাকেন শত শত কৃষক ও শ্রমিক। কেউ পাওয়ার টিলারে জমি চাষ করছেন, কেউ তরমুজ গাছের পরিচর্যায় ব্যস্ত, আবার কেউ শ্রমিকদের খাবারের আয়োজন করছেন। এমন দৃশ্য এখন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার বিচ্ছিন্ন চর মুজিবনগরে নিত্যদিনের বাস্তবতা।

তেঁতুলিয়া নদী বেষ্টিত প্রায় ৬ হাজার ৪৩৭ একর আয়তনের এই চরের এক-চতুর্থাংশ জমি আবাদযোগ্য। নৌপথই এখানকার একমাত্র যোগাযোগ ব্যবস্থা। সরেজমিনে দেখা গেছে, তরমুজ চাষকে কেন্দ্র করে প্রতিদিন প্রায় হাজারখানেক অস্থায়ী শ্রমিক কাজ করছেন এই চরে।

অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি—এই চার মাসই তরমুজ চাষের মৌসুম। এ সময় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শ্রমিকরা এসে কাজ করেন। ফসল তোলার পর তারা নিজ নিজ এলাকায় ফিরে যান। ক্ষেতের পাশেই ছনের দোচালা ঘরে অস্থায়ী বসতি গড়ে তুলেছেন শ্রমিকরা। এমন শতাধিক অস্থায়ী ঘর দেখা গেছে, সঙ্গে রয়েছে প্রয়োজন অনুযায়ী অস্থায়ী শৌচাগারও।

শ্রমিক মো. হোসেন জানান, টানা তিন বছর ভালো ফলন হওয়ায় তরমুজ চাষে আগ্রহ বেড়েছে। তিনি বলেন, ‘মাসিক চুক্তিতে কাজ করি। তিন মাসের জন্য প্রতি মাসে ২২ হাজার টাকা পাই। থাকা-খাওয়া চাষির। দিনে কাজ, রাতে ক্ষেতের পাশের টং ঘরে ঘুমাই।’

মুজিবনগর ইউনিয়নের কৃষক মো. ইসমাইল ১৩ একর জমিতে থাই সুপার, থাই কিং ও আরলি ওয়ান জাতের তরমুজের আবাদ করেছেন। তিনি বলেন, ‘গত বছর ১৫ গণ্ডা জমির তরমুজ ৮ লাখ টাকায় বিক্রি করেছি। এ বছর আগাম চাষ করেছি। আশা করছি ৮০ থেকে ৯০ লাখ টাকা বিক্রি হবে। খরচ পড়বে প্রায় ২০ লাখ টাকা।’ তার জমিতে তরমুজের গড় ওজন ৬ থেকে ১০ কেজি।

একই এলাকার কৃষক রাকিব হোসেন ৩ কানি (৪৮০ শতাংশ) জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন। এতে তার ব্যয় হবে প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা। সম্ভাব্য বিক্রি ১১ থেকে ১২ লাখ টাকা। পাশের জমিতে কৃষক আবুল হাসেম ৬ কানি জমিতে তরমুজ চাষে ব্যাংক ঋণ নিয়ে প্রায় ১১ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছেন।

চরের জমির মালিকরা জানান, এবার প্রতি কানি জমিতে বিনিয়োগ করতে হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা, যা গত বছর ছিল ২২ থেকে ২৬ হাজার টাকা।

উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্র জানায়, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে চরফ্যাশনে ১০ হাজার ৭৮০ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে। চলতি মৌসুমে আবাদ আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নাজমুল হুদা বলেন, ‘চরফ্যাশনের চরাঞ্চল তরমুজ চাষের অন্যতম আতুড়ঘর। এখানকার মাটি উর্বর এবং তেঁতুলিয়া নদীর মিঠা পানির প্রভাবে ফলন ভালো হয়। উপজেলায় প্রায় ৬ হাজার তরমুজ চাষি রয়েছেন। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অন্তত ৫০ হাজার মানুষ এই উৎপাদন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত।’

নদীঘেরা এই চরাঞ্চলে তরমুজ চাষ এখন শুধু ফসল উৎপাদন নয়, কৃষকের জীবনে স্বপ্ন ও স্বচ্ছলতার নতুন দিগন্ত খুলে দিচ্ছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




কলকাতার অস্থিরতা পেছনে ফেলে হায়দরাবাদে স্বস্তির হাসি মেসির

ভারতের তিন দিনের সফরে এসে প্রথম দিনেই সম্পূর্ণ ভিন্ন দুই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি। সফরের সূচনা হয়েছিল কলকাতা দিয়ে। তবে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে আয়োজকদের চরম অব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তার ঘাটতির কারণে সেই দিনটি রূপ নেয় তিক্ত স্মৃতিতে। ওই বিশৃঙ্খলার রেশ কাটিয়ে অবশেষে হায়দরাবাদে গিয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন ইন্টার মায়ামি তারকা।

রোববার (১৪ ডিসেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে হায়দরাবাদে পৌঁছান মেসি। সন্ধ্যা ৮টার দিকে তিনি হাজির হন শহরের উপল স্টেডিয়ামে, যেখানে একটি প্রদর্শনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। ম্যাচ শেষে মাঠে নামেন মেসি। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন আর্জেন্টিনার সতীর্থ রদ্রিগো দি পল ও উরুগুইয়ান ফরোয়ার্ড লুইস সুয়ারেজ।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডি। গ্যালারিভর্তি দর্শক মেসিকে দেখেই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে। মেসিও হাত নেড়ে ভক্তদের শুভেচ্ছার জবাব দেন। মাঠে মুখ্যমন্ত্রী ও শিশুদের সঙ্গে পাসিং খেলায় মেতে ওঠেন তিনি। কয়েকটি শট নেন গ্যালারির দিকে, যা দর্শকদের আনন্দ আরও বাড়িয়ে দেয়।

মাঠ প্রদক্ষিণের পাশাপাশি প্রদর্শনী ম্যাচের বিজয়ী দলের হাতে ‘গোট কাপ’ ট্রফি তুলে দেন মেসি। অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী মেসি ও লুইস সুয়ারেজকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করেন। পরে সংবর্ধনা পর্বে মেসি রাহুল গান্ধীকে নিজের সই করা একটি জার্সিও উপহার দেন।

কলকাতার অভিজ্ঞতার সঙ্গে হায়দরাবাদের আয়োজন ছিল একেবারেই বিপরীত। যুবভারতী স্টেডিয়ামে মেসি মাঠে নামতেই কয়েক শ মানুষ তাকে ঘিরে ধরায় পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। নিরাপত্তাহীনতার কারণে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। হাজার হাজার দর্শক মেসিকে সামনে থেকে দেখতে না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। এক পর্যায়ে ভাঙচুর, সীমানা প্রাচীর ও খেলোয়াড়দের টানেল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কোথাও কোথাও আগুন লাগানোর চেষ্টাও চলে।

এই ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যে ক্ষমা চান। পরে মূল আয়োজককে গ্রেপ্তার করা হয় বলেও জানা যায়।

এর বিপরীতে হায়দরাবাদের উপল স্টেডিয়ামে ছিল কড়া নিরাপত্তা ও সুশৃঙ্খল আয়োজন। দর্শকেরা নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে ছবি তোলার সুযোগ পান। বিমানবন্দর থেকে হোটেল ও স্টেডিয়াম—সবখানেই ছিল কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ফলে নির্বিঘ্নেই পুরো অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।

হায়দরাবাদ পর্ব শেষে মেসির ‘গোট ট্যুর’-এর পরবর্তী গন্তব্য মুম্বাই। সেখানে ক্রিকেট ক্লাব অব ইন্ডিয়ায় একটি প্যাডেল ম্যাচ এবং ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে ৭ বনাম ৭ জনের একটি প্রদর্শনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এসব আয়োজনে শচীন টেন্ডুলকারসহ বলিউডের একাধিক তারকার উপস্থিতির সম্ভাবনাও রয়েছে।

কলকাতার বিশৃঙ্খলার কালো ছায়া কাটিয়ে হায়দরাবাদের শৃঙ্খলাবদ্ধ আয়োজন মেসির ভারত সফরে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এখন অপেক্ষা মুম্বাই পর্বে ফুটবলের এই মহাতারকা কী নতুন চমক দেখান।

“এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫”




মান্তা শিশুদের শিক্ষায় পাশে দাঁড়াল বসুন্ধরা শুভসংঘ (ববি)

শিক্ষা থেকে বঞ্চিত ভাসমান মান্তা সম্প্রদায়ের শিশুদের ভবিষ্যৎ আলোকিত করতে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করেছে বসুন্ধরা শুভসংঘ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। নদীকেন্দ্রিক জীবনযাত্রার কারণে যেসব শিশু নিয়মিত শিক্ষার সুযোগ থেকে পিছিয়ে পড়ছে, তাদের শিক্ষায় আগ্রহী করে তুলতেই এই মানবিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন খয়রাবাদ নদীর তীরে বসবাসরত মান্তা সম্প্রদায়ের শিশুদের মাঝে এসব শিক্ষা ও সহায়ক সামগ্রী বিতরণ করা হয়। কর্মসূচিতে বই, খাতা, কলম, পেন্সিল, কাটার, রাবারসহ বিভিন্ন শিক্ষাসামগ্রীর পাশাপাশি শিশুদের মানসিক বিকাশে সহায়ক ইনডোর খেলনা ও খাবার দেওয়া হয়।

বসুন্ধরা শুভসংঘ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্যরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পরিচালনায় ‘বাতিঘর’ নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগ মান্তা শিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে। সেই বাতিঘরে নিয়মিত পড়তে আসা শিশুদের সহায়তায় বসুন্ধরা শুভসংঘ এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছে।

অনুষ্ঠানে বসুন্ধরা শুভসংঘ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি তানজিদ শাহ জালাল ইমন, সাধারণ সম্পাদক মেহরাব হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফ হোসেন, অর্থ সম্পাদক আবু উবাইদা, দফতর সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুনসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া বাতিঘরের সভাপতি আশা মনি, সাধারণ সম্পাদক হিসরাত নেহা, সহ-সভাপতি ফাত্তাহুর রাফি ও অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত থেকে উদ্যোগটির প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

উপহার পেয়ে মান্তা শিশুরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে। দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইসা জানায়, নতুন বই ও খেলনা পেয়ে তারা খুব খুশি হয়েছে। অভিভাবকরাও এই উদ্যোগকে শিশুদের শিক্ষায় বড় সহায়তা হিসেবে দেখছেন।

বসুন্ধরা শুভসংঘ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক মেহরাব হোসেন বলেন, ‘শুভ কাজে সবার আগে—এই স্লোগানকে সামনে রেখে আমরা কাজ করছি। সমাজের কোনো শিশু যেন শিক্ষায় পিছিয়ে না পড়ে, সেটিই আমাদের লক্ষ্য। সামর্থ্যের মধ্যে থেকে আগামীতেও এই ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’

“এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫”




বাবুগঞ্জে ১৭ দিনেও খোঁজ নেই অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী সামিয়ার

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় নিখোঁজের ১৭ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো সন্ধান মেলেনি অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান সামিয়ার (১৪)। কিশোরীটির কোনো খোঁজ না পাওয়ায় পরিবারসহ স্থানীয়দের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নের লোহালিয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. মজিবুর হাওলাদারের মেয়ে নুসরাত জাহান সামিয়া গত ২৬ নভেম্বর রাত আনুমানিক ১০টার দিকে নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়। এরপর আত্মীয়স্বজনের বাড়িসহ সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

নিখোঁজের পরদিন পরিবারের পক্ষ থেকে বাবুগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। সামিয়া বাবুগঞ্জ পাইলট বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী।

পরিবারের সদস্যরা জানান, দীর্ঘ সময় পার হলেও মেয়ের কোনো হদিস না পাওয়ায় তারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ নানা উপায়ে খোঁজ চালানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে বাবুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মো. এহতেশামুল হক জানান, নিখোঁজ সংক্রান্ত জিডি গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিভিন্ন মাধ্যমে কিশোরীটির সন্ধানে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে নিখোঁজ সামিয়ার পরিবার তার সন্ধান পেলে বা তথ্য দিতে পারলে নগদ ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। কোনো তথ্য জানা থাকলে ০১৮৩৭৭-৭১০৭৪ অথবা ০১৭১৬৭৯০৩৬২ নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

“এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫”




নতুন নতুন মাফিয়ার গন্ধ পাচ্ছি : নৌ পরিবহন উপদেষ্টা সাখাওয়াত হোসেন

দায়িত্ব গ্রহণের পর বিভিন্ন খাতে জড়িত অনেক মাফিয়াকে সরানো হলেও নতুন করে আবারও মাফিয়া চক্র মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে বলে মন্তব্য করেছেন নৌ পরিবহন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন।

রোববার (১৪ ডিসেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নগরিক প্ল্যাটফর্মের আয়োজনে ‘বাংলাদেশ রিফর্ম ট্র্যাকার’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

নৌ উপদেষ্টা বলেন, তিনি যে মন্ত্রণালয়গুলোর দায়িত্ব নিয়েছেন, সেখানেই দুর্নীতির ব্যাপক চিত্র দেখতে পেয়েছেন। এসব অনিয়ম রাতারাতি দূর করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেক মাফিয়াকে তাড়ানো গেলেও এখন নতুন করে আবার তাদের তৎপরতার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

অনুষ্ঠানে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রধান কামাল আহমেদ অভিযোগ করে বলেন, কমিশনের পক্ষ থেকে দেওয়া শতাধিক প্রস্তাবের একটিও এখন পর্যন্ত সরকার বাস্তবায়ন করেনি। সাংবাদিক সুরক্ষা আইন প্রসঙ্গে তিনি জানান, কমিশন আইনটির একটি খসড়া প্রস্তুত করে দিলেও কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই সেটি বাতিল করা হয়েছে।

এছাড়া তিনি বলেন, স্থায়ী ও স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠনের প্রস্তাবও গ্রহণ করা হয়নি। এর পরিবর্তে সরকারনির্ভর ও কার্যকারিতা হারানো প্রেস কাউন্সিল পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য সহায়ক নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মিডিয়া সংস্কার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সরকারের আরও কার্যকর ও আন্তরিক উদ্যোগ প্রয়োজন বলে বক্তারা অনুষ্ঠানে মত প্রকাশ করেন।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




মাহমুদিয়া মাদ্রাসার মাহফিলে রহমাতুল্লাহ: আলেম-ওলামা ও ইসলামের পক্ষে ছিলেন খালেদা জিয়া

বরিশাল নগরীর ঐতিহ্যবাহী মাহমুদিয়া মাদ্রাসার বার্ষিক মাহফিলে হাজার হাজার মুসল্লির উপস্থিতিতে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়া তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে সবসময় আলেম-ওলামা, ইসলাম ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন।

মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশের মসজিদ-মাদ্রাসা, আলেম সমাজ ও ইসলামী আদর্শের ওপর যখনই আঘাত এসেছে, তখনই বেগম খালেদা জিয়া তার প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আলেম-ওলামাদের ওপর হামলা, মামলা ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের হত্যাকাণ্ড এবং মাওলানা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর রায়ের পর ধর্মপ্রাণ মানুষের ওপর নিপীড়নের বিরুদ্ধেও তিনি প্রকাশ্যে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

রহমাতুল্লাহ আরও বলেন, আলেম-ওলামা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশে দাঁড়াতে বিএনপির নেতাকর্মীদের তিনি সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছিলেন। বেগম খালেদা জিয়া কখনোই ইসলামবিদ্বেষী শক্তির সঙ্গে আপোষ করেননি। তার রাজনৈতিক বক্তব্যে ইসলামের প্রতি সম্মান স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে এবং তিনি সবসময় মুসলমানদের অবমাননাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন।

তিনি উল্লেখ করেন, বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রথম মুসলিম নারী প্রধানমন্ত্রী। বর্তমানে তিনি গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ সময় তিনি উপস্থিত আলেম-ওলামা ও মুসল্লিদের কাছে বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় দোয়া করার আহ্বান জানান, যাতে তিনি সুস্থ হয়ে আবার দেশ, জাতি ও ইসলামের খেদমতে আত্মনিয়োগ করতে পারেন।

মাহফিলে বক্তারা আগামী দিনে যেন কোনো ইসলামবিদ্বেষী শক্তি রাষ্ট্রক্ষমতায় আসতে না পারে, সে জন্য আলেম-ওলামাদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মাহমুদিয়া মাদ্রাসার মুহতামিম হযরত মাওলানা ওবায়দুর রহমান মাহবুব, ঢালকানগরের পীর সাহেব হযরত মাওলানা শাহ আলম মতিন বিন হোসাইন, ঢাকার সাইন্স ল্যাবরেটরি জামে মসজিদের খতিব হযরত মাওলানা হাসান জামিল, ঢাকার জামিয়া তালীমিয়া মাদ্রাসার মুহতামিম হযরত মাওলানা হাফিজুর রহমান সিদ্দিকসহ অন্যান্য আলেম-ওলামা ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫