আ. লীগ আমলে নেওয়া ১৯০ সেতু বাতিল, বাঁচল ৬৩৯ কোটি টাকা

বরিশাল বিভাগের ছয়টি জেলার জন্য পূর্বের আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নেয়া ১৯০টি লোহার সেতু নির্মাণ প্রকল্প বাতিল করেছে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই সেতু গুলোর মধ্যে অনেকগুলি রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রকল্পভুক্ত করা হয়েছিল, যার কোন প্রয়োজনীয়তা ছিল না। ফলে এসব সেতু বাতিলের ফলে সরকারের খরচ থেকে সাশ্রয় হবে ৬৩৯ কোটি টাকা।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালে ২ হাজার ৪৯টি সেতু পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেয় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। সেই সময় একাধিক সেতু সংস্কারের জন্য পরিকল্পনা করা হয়, যার ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৮৩৫ কোটি টাকা। পরে, ২০২১ সালে প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়ে ২ হাজার ৩৩৪ কোটি টাকা করা হয় এবং গত বছর তা আরও বাড়িয়ে ৩ হাজার ৪১২ কোটি টাকা করা হয়। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১৯০টি সেতু বাতিলের পর প্রকল্পের ব্যয় কমিয়ে ২ হাজার ৭৭৩ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সেতু বাতিলের জন্য চারটি মূল কারণ উল্লেখ করা হয়েছে:
১. স্থানীয় লোকজনের জন্য সেতুগুলো গুরুত্বপূর্ণ ছিল না।
২. উজান-ভাটিতে কাছাকাছি আরেকটি সেতু ছিল।
৩. সেতু গুলোর পাশে কোনো গ্রোথ সেন্টার বা গ্রামীণ হাটবাজার ছিল না।
৪. চলমান অর্থনৈতিক সংকটকে সামনে রেখে ব্যয় কমানো হয়েছে।

এদিকে, বরগুনার আমতলী উপজেলার হলদিয়াহাট লোহার সেতুর ক্ষেত্রে স্থানীয়রা দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছিলেন, কারণ এই সেতুর ওপর একটি মাইক্রোবাস পড়ে ৯ জনের প্রাণহানি ঘটেছিল। তবে, এই সেতুটি প্রকল্পে প্রথমদিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। পরে পরিকল্পনা কমিশন এই সেতুটি প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়।

প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ আদনান আক্তারুল আজম বলেন, “কিছু গুরুত্বপূর্ণ সেতু আগে প্রকল্পে ঢোকানো হয়নি, আর কিছু অগুরুত্বপূর্ণ সেতু তদবিরের মাধ্যমে প্রকল্পে যোগ করা হয়েছিল।” তিনি আরও বলেন, প্রকল্পের শুরুর সময়ে দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের সিদ্ধান্ত কেন এমন ছিল, তা জানা নেই।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




আমতলী আদালতে নেই বিচারক, ভোগান্তিতে ১৫ হাজার মানুষ

বরগুনার আমতলী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে গত চার মাস ধরে বিচারক পদ শূন্য থাকার কারণে মামলার সঙ্গে সম্পৃক্ত অন্তত ১৫ হাজার মানুষ বড় ধরনের ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এর ফলে আদালতের কার্যক্রমে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটছে এবং বিচারপ্রার্থীরা নানান সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।

সূত্রে জানা গেছে, আমতলী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বর্তমানে ২ হাজার ৭’শ মামলা চলমান রয়েছে। এ মামলাগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আমতলী ও তালতলী উপজেলার অন্তত ১৫ হাজার মানুষ বিপাকে পড়েছেন। গত বছর ১২ সেপ্টেম্বর বিচারক মো. আরিফুর রহমানকে বদলী করার পর থেকেই আমতলী আদালতে নতুন বিচারক নিয়োগ দেওয়া হয়নি, যার ফলে আদালতের কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

বর্তমানে বরগুনা চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. রাকিবুল হাসান সপ্তাহে দুটি দিন আমতলী আদালতের মামলা পরিচালনা করছেন। তবে এই সীমিত সময়ের মধ্যে মামলাগুলোর সুষ্ঠু শুনানি ও বিচার কাজ চালানো সম্ভব হচ্ছে না, যার কারণে মামলা সংশ্লিষ্টদের দুর্ভোগ বাড়ছে।

এ ব্যাপারে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন মামলার আসামী জানান, গত চার মাস ধরে বিচারক না থাকায় তাদের মামলার শুনানি বন্ধ রয়েছে এবং এটি তাদের জন্য বড় ধরনের সমস্যা সৃষ্টি করছে। তারা দ্রুত আমতলী আদালতে নতুন বিচারক নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এছাড়া, আমতলী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের তরুণ আইনজীবী সৈয়দ নুহু-উল আলম নবীন জানান, গত চার মাস ধরে নিয়মিত বিচারক না থাকায় মামলাদিগের সঠিক বিচার কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে মক্কেলদের বিশেষভাবে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

আমতলী আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মহসিন মিয়া বলেন, আদালতে বিচারক না থাকায় অন্তত ১৫ হাজার মানুষের বিচার কার্যক্রমে মারাত্মক সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি দ্রুত আদালতে নতুন বিচারক নিয়োগের দাবী জানান।

মো: তুহিন হোসেন*
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




পটুয়াখালীতে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের স্ক্র্যাপ চুরির অভিযোগে বিএনপি নেতাদের নামে মামলা

পটুয়াখালীর কলাপাড়ার ধানখালীতে কয়লা ভিত্তিক আরএনপিএল বিদ্যুৎকেন্দ্রের স্ক্র্যাপ চুরির ঘটনায় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ ৫০ জনের নামে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

রোববার (১২ জানুয়ারি) বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ডেপুটি ম্যানেজার (অ্যাডমিন) আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে কলাপাড়া থানায় মামলাটি করেন। মামলায় ধানখালী ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শাহীন মোল্লা ও সোহেল মোল্লাসহ ৩৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযুক্তদের অধিকাংশের বাড়ি উপজেলার গিলাতলা, লোন্দা ও ধানখালী গ্রামে। চুরি হওয়া মালামাল অন্তর্ভুক্ত তামার তার, লোহার সামগ্রী, স্টিলের পাতসহ বিভিন্ন ধরনের নির্মাণ সামগ্রী।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ৯ জানুয়ারি রাতে আসামিরা বিদ্যুৎ প্ল্যান্টের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে গুরুত্বপূর্ণ মালামাল চুরি করে। পরদিন ১০ জানুয়ারি সকালে ওই মালামাল একটি গাড়িতে পাচারের জন্য তোলা হচ্ছিল। এ সময় বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নিরাপত্তাকর্মীরা বিষয়টি কর্মকর্তাদের জানান। পরে পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যদের সহায়তায় অন্তত আড়াই লাখ টাকা মূল্যের পাঁচ টন মালামাল উদ্ধার করা হয়। এছাড়াও, চোরাইকৃত আরও এক ট্রাক মালামাল জব্দ করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিয়মিতভাবে নির্মাণাধীন এই তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে লোহা ও তামারের স্ক্র্যাপ চুরি হচ্ছে। রাতের অন্ধকারে স্থানীয় প্রভাবশালীরা কোটি কোটি টাকার স্ক্র্যাপ পাচার করছে। এমনকি দিনের বেলাতেও এই চুরি ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

আরএনপিএল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আশ্রাব উদ্দিন জানান, বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মাণ কাজে ব্যবহৃত তামা, লোহা ও স্টিলের পাত পাচারের উদ্দেশ্যে ট্রাকে তোলা হচ্ছিল। নিরাপত্তাকর্মীরা পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যদের সহায়তায় পাঁচ টন মালামাল উদ্ধার করেন, পরে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জুয়েল ইসলাম জানান, মামলাটি এজাহার হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




উমরার জন্য মেনিনজাইটিসের টিকা বাধ্যতামূলক

সংক্রামক ও বিপজ্জনক রোগের সংক্রমণ প্রতিরোধে সৌদি আরব নতুন স্বাস্থ্য শর্ত আরোপ করেছে। এখন থেকে পবিত্র উমরা পালন বা ভ্রমণের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব ভ্রমণ করতে হলে মেনিনজাইটিসের টিকা নেওয়া বাধ্যতামূলক হবে।

সম্প্রতি সৌদি আরবের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ভ্রমণের কমপক্ষে ১০ দিন আগে মেনিনজাইটিসের টিকা নিতে হবে এবং ভ্রমণের সময় সেই টিকা নেওয়ার প্রমাণপত্র সঙ্গে রাখতে হবে।

সৌদি প্রশাসন জানিয়েছে, ১ বছরের বেশি বয়সী সব ভ্রমণকারীর জন্য মেনিনজাইটিসের টিকা বাধ্যতামূলক। তবে যারা ১০ বছর আগে এই টিকা নিয়েছেন, তাদের নতুন করে টিকা নেওয়ার প্রয়োজন নেই।

মেনিনজাইটিস হলো মানুষের মস্তিষ্ক এবং স্পাইনাল কর্ডের চারপাশের সূক্ষ্ম টিস্যু স্তরের সংক্রমণজনিত প্রদাহ। সাধারণত অণুজীবের সংক্রমণে এটি হয়ে থাকে এবং এটি নানা ধরনের হতে পারে, যেমন ব্যাকটেরিয়াল মেনিনজাইটিস, নিসেরিয়া মেনিনজাইটিস, ভাইরাল মেনিনজাইটিস ইত্যাদি। ভাইরাল মেনিনজাইটিস বিভিন্ন ভাইরাসের মাধ্যমে ছড়ায়, যা হাঁচি, কাশি ও অস্বাস্থ্যকর স্বাস্থ্যবিধির মাধ্যমে সংক্রমিত হতে পারে।

এ ছাড়া উমরা যাত্রীদের করোনাভাইরাস, ইনফ্লুয়েঞ্জা এবং পোলিওর টিকা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষত, পাকিস্তানের নাগরিকদের জন্য পোলিও টিকার সনদ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। একই সঙ্গে আফগানিস্তান, কেনিয়া, কঙ্গো, এবং মোজাম্বিকে ট্রানজিট যাত্রীদেরও পোলিওর টিকা নিতে হবে।

এসব শর্ত মেনে চলার জন্য সৌদি সিভিল এভিয়েশন অথরিটি (এসসিএএ) ভ্রমণকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। এই নতুন নীতিমালা উমরা পালন ও অন্যান্য ভ্রমণের সময় স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বর্জ্য ব্যবস্থাপনা না থাকায় স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে বরিশাল নগরবাসী

বরিশাল নগরীতে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা না থাকায় স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে নগরবাসীর একটি বড় অংশ। সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠার একুশ বছরেও স্বাস্থ্যসম্মত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে ওঠেনি, ফলে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি বাড়ছে বিভিন্ন রোগের প্রকোপও। এমনকি, ডাম্পিং স্টেশনের আশপাশের বাসিন্দারা নিজেদের বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র বাস করতে বাধ্য হচ্ছেন।

বিগত একুশ বছরে বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকায় প্রয়োজনীয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সিস্টেম গড়ে উঠেনি, ফলে নগরের বাসিন্দাদের জীবন হয়ে উঠেছে অস্বস্তিকর। বিশেষ করে, কাউনিয়া এলাকা, যেখানে প্রতিদিন আবর্জনা ফেলা হয়, সেখানে অবস্থানরত বাসিন্দারা পোহাচ্ছেন এক অমানবিক পরিস্থিতি।

স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুর রহমান জানান, তার বাড়ির শান্তিনীড় নামক স্থানে বাস করা অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। মশা, মাছি ও দুর্গন্ধে তাদের ২৪ ঘণ্টাই সমস্যায় কাটে। তিনি বলেন, “ঘরে মশারির নেট টাঙিয়ে থাকতে হচ্ছে, জানালা বন্ধ রাখতে হচ্ছে।”

অন্যদিকে, ময়লা খোলার বাসিন্দা রুহিনা আক্তার অভিযোগ করে জানান, তার পাঁচ বছরের কন্যা শিশুটি নিয়মিত অসুস্থ হয়ে পড়ে। সিটি করপোরেশন থেকে প্রতিদিনই তাদের বাড়ির সামনে খোলা মাঠে শহরের সব আবর্জনা ফেলে রাখে, যা শিশুদের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে।

বরিশাল সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা ইউসুফ আলী জানান, শহরের ৩০টি ওয়ার্ডের বর্জ্য প্রতিরাতে ট্রাক ভর্তি করে কাউনিয়া এলাকায় ডাম্পিং স্টেশনে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে, আধুনিক প্রযুক্তির অভাবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে, যা শহরের স্বাস্থ্যের জন্য বিপদজনক।

স্থানীয়রা আরও অভিযোগ করেন, ডাম্পিং স্টেশনের আশপাশের এক কিলোমিটারের মধ্যে বসবাসকারী পরিবারগুলো অতি কষ্টে ভাড়া বাসায় থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। পশু-পাখি এসব আবর্জনা ছড়িয়ে দেয়, যা পরিবেশ দূষণের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এতে রোগের সংক্রমণও বাড়ছে।

বরিশাল সদর হাসপাতালের আরএমও ডা. মলয় কৃষ্ণ বড়াল বলেন, “যদি আবর্জনাকে উন্মুক্ত স্থানে রাখা হয় এবং তা যথাযথভাবে প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে বিনষ্ট না করা হয়, তবে স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়ে যায়। বায়ু ও পানিবাহিত রোগ হতে পারে।”

এ বিষয়ে সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাউল বারী জানান, “ডাম্পিং স্টেশনের জন্য নতুন জায়গা খোঁজার চেষ্টা চলছে এবং অর্থ বরাদ্দ পেলে জনবসতি থেকে দূরে একটি নতুন ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণ করা হবে।”

বরিশাল শহরে ৫৮ বর্গ কিলোমিটার এলাকায় প্রায় ছয় লাখ মানুষ বসবাস করছে। ডাম্পিং স্টেশনের বর্জ্য সাপানিয়া খাল হয়ে কীর্তনখোলা নদীতে গিয়ে মেশে, যার মধ্যে হাসপাতাল ও ক্লিনিকের বর্জ্যও থাকে, যা নগরীর স্বাস্থ্য পরিস্থিতির জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




এইচএমপিভি নিয়ে বিমানবন্দর ও এয়ারলাইন্সগুলোকে বিশেষ নির্দেশনা

চীনসহ পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে আতঙ্ক ছড়ানো হিউম্যান মেটানিউমো ভাইরাস (এইচএমপিভি) থেকে রক্ষা পেতে বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।

এ ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে, সোমবার (১৩ জানুয়ারি) দেশের সব এয়ারলাইন্স ও বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সতর্কতার সঙ্গে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য চিঠি পাঠানো হয়। এই চিঠি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক কামরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার নির্দেশনা অনুসরণ করে বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট সবাইকে এইচএমপিভির বিরুদ্ধে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। তবে আপাতত এই ভাইরাস সম্পর্কে আতঙ্কিত হওয়ার মতো কিছু নেই। বিমানবন্দরের যাত্রী, স্টাফ ও দর্শনার্থীদের সবাইকে মুখে মাস্ক পরিধান এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি, যদি কারো মধ্যে জ্বর, কফ বা শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা দেখা দেয়, তবে তাৎক্ষণিকভাবে বিমানবন্দরের স্বাস্থ্য সেবায় জানাতে হবে।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ আরও উল্লেখ করেছে, দেশি ও বিদেশি সব এয়ারলাইন্সকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। বিশেষ করে, যেসব দেশ থেকে এইচএমপিভির আক্রান্ত রোগী রয়েছে, সেসব দেশ থেকে আসা যাত্রীদের ক্ষেত্রেও এই ব্যবস্থা কার্যকর করতে বলা হয়েছে। প্লেনে যদি কারো মধ্যে এই ভাইরাসের লক্ষণ দেখা দেয়, সেক্ষেত্রে তাৎক্ষণিকভাবে বিমানবন্দরের স্বাস্থ্য সেবায় জানাতে হবে।

এছাড়া, ফ্লাইটে এইচএমপিভির আক্রান্ত রোগী থাকলে তাদের কীভাবে হ্যান্ডেল করতে হবে, এ বিষয়ে এয়ারলাইন্সের ক্রু এবং যাত্রীদের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত নির্দেশনা অনুসরণের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর যে সাতটি নির্দেশনা জারি করেছে, তা হলো:

১. শীতকালীন শ্বাসতন্ত্রের রোগগুলো থেকে নিজেকে রক্ষার জন্য মাস্ক ব্যবহার করুন।
২. হাঁচি বা কাশির সময় বাহু বা টিস্যু দিয়ে নাক-মুখ ঢেকে রাখুন।
৩. ব্যবহৃত টিস্যুটি অবিলম্বে ঢাকনাযুক্ত ময়লা ফেলার ঝুড়িতে ফেলুন এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজার অথবা সাবান পানি দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলুন।
৪. আক্রান্ত ব্যক্তিদের সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলুন এবং কমপক্ষে ৩ ফুট দূরত্ব বজায় রাখুন।
৫. ঘনঘন সাবান, পানি বা হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলুন (অন্তত ২০ সেকেন্ড পর পর)।
৬. অপরিষ্কার হাতে চোখ, নাক বা মুখ স্পর্শ করবেন না।
৭. আপনি যদি জ্বর, কাশি এবং শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হন, তবে সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত বাড়িতে থাকুন এবং প্রয়োজন হলে নিকটস্থ হাসপাতালে যোগাযোগ করুন।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




শেষের রোমাঞ্চে জিতল রংপুর রাইডার্স

বাংলাদেশের প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) ২০২৫-এ রংপুর রাইডার্সের জন্য এক অবিশ্বাস্য জয়। টানা ৬ ম্যাচে জয়লাভ করে আকাশে উড়তে থাকা রংপুরকে হারানোর সুযোগ হাতছাড়া করেছে খুলনা টাইগার্স। শেষ পর্যন্ত রোমাঞ্চকর ম্যাচে খুলনাকে হারিয়ে ৭ ম্যাচে টানা সপ্তম জয় তুলে নিল রংপুর।

সিলেট পর্বের শেষ ম্যাচে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে রংপুর রাইডার্স ১৮৬ রান সংগ্রহ করে। প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে স্টিভেন টেলরের ৮ বলের ১৩ রান ছাড়া রংপুরের ওপেনিংটি কিছুটা বিপর্যস্ত হয়। তবে, ইফতেখার আহমেদ এবং খুশদিল শাহের দারুণ ব্যাটিংয়ের পর ১৮৬ রানের সংগ্রহ দাঁড়ায়। ইফতেখার ৩৬ বলে ৪৩ রান করেন এবং খুশদিল শাহ ৩৫ বলে ৭৫ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে দলের সংগ্রহে বড় ভূমিকা রাখেন। খুলনা টাইগার্সের পক্ষে ২টি করে উইকেট নেন আবু হায়দার এবং হাসান মাহমুদ।

১৮৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে খুলনা শুরুর দিকে দারুণ ব্যাটিং করলেও শেষ পর্যন্ত হেরে যায়। মেহেদী হাসান মিরাজের ২৪ বলে ৩৯ রান এবং আফিফ হোসেনের ১৫ বলে ২৯ রান জয়ের পথ প্রশস্ত করলেও দলের বাকিরা শেষের দিকে উইকেট হারাতে থাকে। ২০ ওভারে ১৭৮ রান তুলে খুলনা ৮ রানে হেরে যায়। রংপুরের বোলাররা দুর্দান্ত পারফর্মেন্স দেখিয়ে তাদের জয়ের পথে সহায়ক হয়ে ওঠেন। আকিফ জাভেদ ৩টি উইকেট নেন, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন এবং মেহেদী হাসান ২টি করে উইকেট শিকার করেন।

রংপুর রাইডার্সের জন্য এই জয়টি বিশেষ উল্লেখযোগ্য, কারণ তারা বিপিএলে টানা ৭ ম্যাচে জয় লাভ করেছে। ম্যাচ শেষে রংপুরের খেলোয়াড়রা জয়োল্লাসে মেতে ওঠে, আর খুলনা টাইগার্সের খেলোয়াড়দের হতাশা ফুটে ওঠে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে প্রতি কার্যদিবসে ২ মেট্রিক টন ওএমএস চাল সরবরাহ:খাদ্য উপদেষ্টা

খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার জানিয়েছেন যে, বরিশাল জেলার উপজেলায় প্রতি কার্যদিবসে ২ মেট্রিক টন ওএমএস (ওপেন মার্কেট সেল) চাল সরবরাহ করা হচ্ছে। তিনি এসব তথ্য সোমবার (১৩ জানুয়ারি) বরিশাল নগরীর সার্কিট হাউসে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে জানান।

খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার বলেন, “প্রয়োজন হলে এই পরিমাণ আরও বাড়ানো হবে। বাজারের ওপর চাপ কমলে চালের বাজারও স্থিতিশীল হয়ে সাধারণ মানুষের জন্য সুবিধাজনক হবে।” তিনি আরও জানান, বরিশাল অঞ্চলে আমন ধানের মৌসুমে দেরি হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আমন সংগ্রহ সম্পন্ন হবে এবং অতীতে যেসব ক্ষেত্রে সফলতা পেয়েছে, সেগুলো বজায় রাখা হবে।

তিনি জানান, বর্তমানে বিভিন্ন দেশ থেকে চাল আমদানি করা হচ্ছে, তবে তা সরকারি গুদামে সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে নয়। বাজারের লক্ষ্যমাত্রা পূরণের জন্য এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। “এখনই সরকারি গুদামের জন্য লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই। তবে কৃষকরা যদি আমাদের কাছে চাল বিক্রি করতে চান, আমরা তা গ্রহণ করব,” বলেন খাদ্য উপদেষ্টা।

আলোচনা সভা শেষে আলী ইমাম মজুমদার বরিশালে নির্মিত সাইলো পরিদর্শন করেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন বরিশাল বিভাগের কমিশনার রায়হান কাওছার, জেলা প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন, এবং অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তারা।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




শ্রমিকদের জন্য মালয়েশিয়ার মাল্টিপল-এন্ট্রি ভিসা প্রদানের আহ্বান

বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস মালয়েশিয়ার প্রতি বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য মাল্টিপল-এন্ট্রি ভিসা প্রদান করার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে তারা প্রয়োজন অনুযায়ী সহজে দেশে ফিরতে পারেন।

১৩ জানুয়ারি, সোমবার, রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার মোহাম্মদ সুহাদা ওসমান প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসলে তিনি এই আহ্বান জানান। প্রধান উপদেষ্টা এ সময় আরও বলেন, আগামী মে মাসের মধ্যে যারা নির্ধারিত সময়ে কাজে যোগ দিতে পারবেন না, তাদের ১৮ হাজার শ্রমিকের প্রবেশের সুযোগ নিশ্চিত করার জন্য মালয়েশিয়ার সহযোগিতা কামনা করেন।

হাইকমিশনার মোহাম্মদ সুহাদা জানান, মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত একটি যৌথ কারিগরি কমিটি গত ৩১ ডিসেম্বর কুয়ালালামপুরে বৈঠক করেছে এবং মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) একই বিষয়ে আরেকটি বৈঠক করার পরিকল্পনা রয়েছে।

অধ্যাপক ইউনূস ২০২২ সালের অক্টোবর মাসে ঢাকায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকের কথা স্মরণ করেন এবং আশা প্রকাশ করেন যে, মালয়েশিয়া দ্রুত এই প্রক্রিয়া এগিয়ে নেবে, যাতে বাংলাদেশি শ্রমিকদের পরবর্তী দলটি মালয়েশিয়ায় কাজের জন্য যেতে পারে।

প্রধান উপদেষ্টা মালয়েশিয়াকে অভিনন্দন জানান, কারণ তারা চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে আসিয়ান চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। এছাড়া তিনি বাংলাদেশকে আসিয়ানের সেক্টোরাল ডায়ালগ পার্টনার এবং পরবর্তীতে পূর্ণ সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য মালয়েশিয়ার সমর্থন চেয়েছেন। তিনি আরও বলেন, আসন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলনে রোহিঙ্গা সংকটের নিরসনকল্পে আসিয়ানের সমর্থন প্রয়োজন হবে।

প্রধান উপদেষ্টা নতুন মালয়েশিয়ান হাইকমিশনারকে বাংলাদেশে মালয়েশীয় বিনিয়োগ এবং কারখানা স্থানান্তরের বিষয়ে কাজ করার আহ্বান জানান, যাতে দেশের যুবশক্তিকে কাজে লাগানো যায় এবং দুই দেশের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হয়।

তিনি জানান, বাংলাদেশ ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে ঢাকায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের পঞ্চম যৌথ কমিশন বৈঠক আয়োজনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনারকে তলব করল ভারত

সীমান্ত উত্তেজনা নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনার নুরুল ইসলামকে তলব করেছে। ১৩ জানুয়ারি, সোমবার, ভারতীয় গণমাধ্যম এশিয়াননেট এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মিডিয়া সেন্টার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ভারতের রাজধানী দিল্লিতে অবস্থিত সাউথ ব্লকে ১৩ জানুয়ারি দুপুর ২টায় বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত ডেপুটি হাইকমিশনার মো. নুরুল ইসলামকে তলব করা হয়েছিল। সেখানে তাকে সীমান্ত নিরাপত্তা এবং বেড়া দেওয়ার বিষয়টি জানানো হয়।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, ভারত দুই দেশের বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এর মধ্যে সমস্ত প্রটোকল এবং চুক্তি পালন করছে। ভারত আন্তঃসীমান্ত অপরাধমূলক কার্যকলাপ, চোরাচালান, অপরাধীদের চলাচল এবং পাচারের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।

ভারত তার সীমান্ত নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে কাঁটাতারের বেড়া, সীমান্ত আলোর ব্যবস্থা, প্রযুক্তিগত ডিভাইস এবং গবাদি পশুর জন্য বেড়া স্থাপন করেছে। এই সব ব্যবস্থা দিয়ে ভারত তার সীমান্তকে অপরাধমুক্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম