একে একে সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানিয়েছেন, বর্তমান সরকারের আমলে অপরাধে জড়িত এবং বিতর্কিত ভূমিকা রাখা ব্যক্তিদের সবাইকে খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে।

বুধবার (১৫ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় আনসার ও ভিডিপি সদর দপ্তর পরিদর্শন শেষে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, “যাদের বিরুদ্ধে অপরাধের প্রমাণ রয়েছে, তাদের সবাইকে ধরা হবে। প্রতিদিন নতুন তথ্য পাওয়ার ভিত্তিতে ধরপাকড় চলছে। আজকে মতিউর, যাকে ছাগল মতিউর বলা হচ্ছে, তাকেও ধরা হয়েছে। অন্যরাও সময় মতো ধরা পড়বে। তবে যারা লুকিয়ে আছেন, তাদেরও খুঁজে বের করে ধরা হবে।”

অনেক পুলিশ সদস্য, যারা বিতর্কিত ভূমিকা পালন করেছেন, তাদের অনেকে এখনও বদলি, পদোন্নতি ও পদায়নের সুবিধা পাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এবিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “যাদের বিরুদ্ধে ভিডিও ফুটেজ বা প্রমাণ পাওয়া গেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ হলেও অপরাধীরা ছাড় পাবে না।”

তিনি আরও জানান, “ধরা পড়ার পরও কিছু কর্মকর্তা আবার পালিয়ে যাচ্ছেন। তবে কাউকে আইনের ঊর্ধ্বে থাকতে দেওয়া হবে না।”

বিতর্কিত কর্মকর্তাদের নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত তালিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এগুলো পুলিশের সদর দপ্তরে জমা দেওয়ার অনুরোধ করছি। প্রতিটি অভিযোগ তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, “পাশের দেশের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আপনারা সঠিক তথ্য দিয়েছেন। তবে আরও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার প্রয়োজন আছে। সাংবাদিকদের এই কাজ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্যও সহায়ক হবে।”


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




সাবেক রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদসহ ১২৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা

সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদসহ ১২৪ জনের নামে কিশোরগঞ্জ সদর থানায় মামলা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে বিএনপি কর্মী তহমুল ইসলাম এ মামলা করেন। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা, সজীব ওয়াজেদ জয় ও সায়মা ওয়াজেদসহ ১২৪ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় কিশোরগঞ্জে সাবেক রাষ্ট্রপতির বাসভবনে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। বাদী অভিযোগ করেছেন, আন্দোলনকালে তিনি আহত হন এবং দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মামলার অভিযোগ দায়ের করেন।

কিশোরগঞ্জ সদর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, মামলাটি তদন্তাধীন। জেলা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্ট থেকে জেলায় প্রায় অর্ধশত মামলা দায়ের হয়েছে। এসব মামলায় প্রায় ১৪ হাজার মানুষকে আসামি করা হয়েছে।

“মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”




জিয়া অরফানেজ মামলায় খালাস পেলেন খালেদা ও তারেক




পদত্যাগ করেছেন টিউলিপ সিদ্দিক

যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির মন্ত্রী টিউলিপ সিদ্দিক পদত্যাগ করেছেন। মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম *দ্যা গার্ডিয়ান* এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, টিউলিপ সিদ্দিকের খালা, বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আর্থিক সম্পর্ক নিয়ে বারবার প্রশ্ন ওঠায় তিনি মন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।

টিউলিপ সিদ্দিক, শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানার মেয়ে, ব্রিটিশ সরকারের দুর্নীতিবিরোধী মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছিলেন। সম্প্রতি শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ রয়েছে যে, বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার আত্মসাৎ করা হয়েছে এবং লন্ডনে একটি ফ্ল্যাট উপহার গ্রহণ করেছেন টিউলিপ সিদ্দিক।

তবে, টিউলিপ সিদ্দিক তাঁর ব্যক্তিগত এক্স হ্যান্ডেলে দাবি করেছেন, একটি নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করেছে যে, মন্ত্রীর পদে দায়িত্ব পালনকালে তার কোনো অনিয়ম ছিল না এবং তিনি নৈতিকভাবে কোনো ভুল কাজ করেননি। তবুও, সরকারের বিব্রতকর পরিস্থিতি এড়াতে তিনি পদত্যাগ করেছেন।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ছাগলকাণ্ডে আলোচিত সেই মতিউর ও তার স্ত্রী গ্রেপ্তার

ছাগলকাণ্ডে আলোচিত জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক সদস্য মতিউর রহমান এবং তার স্ত্রী, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান লায়লা কানিজকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে রাজধানীর বসুন্ধরা এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

ডিএমপির মিডিয়া ও পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান নিশ্চিত করেছেন যে, তাদের দুজনকেই দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এই গ্রেপ্তারের ঘটনাটি ‘ছাগলকাণ্ড’ নামে পরিচিত একটি আলোচিত দুর্নীতির মামলার সাথে সংশ্লিষ্ট। গ্রেপ্তারকৃত মতিউর রহমান ও তার স্ত্রী লায়লা কানিজের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে, যা তদন্তাধীন।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ভোলার গ্যাস দক্ষিণাঞ্চলে পাঠাতে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার পাইপলাইনের পরিকল্পনা

সরকার ভোলা থেকে খুলনা পর্যন্ত ৪,৫০০ কোটি টাকার একটি গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এই পাইপলাইন নির্মাণের মাধ্যমে ভোলার প্রাকৃতিক গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা হবে, যা দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জ্বালানি ঘাটতি পূরণ করতে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে, এটি গ্যাস-ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপনে ভূমিকা রাখবে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।

২০২৪ সালের ৪ নভেম্বর এক বৈঠকে এই পাইপলাইন তৈরির সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। রাষ্ট্রায়ত্ত গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেড (জিটিসিএল) ইতোমধ্যেই প্রকল্পের প্রাথমিক প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে জমা দিয়েছে। ২০৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাইপলাইনের নির্মাণ কাজ ২০২৯ সালের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রকল্পটি মূলত ভোলা থেকে বরিশাল পর্যন্ত সীমাবদ্ধ ছিল, তবে পরে খুলনা পর্যন্ত সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই পাইপলাইন দিয়ে ভোলার শাহবাজপুর, ভোলা উত্তর এবং ইলিশা গ্যাসক্ষেত্রের নয়টি কূপ থেকে উত্তোলিত গ্যাস সরবরাহ করা হবে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স) জানিয়েছে, বর্তমানে দেশের দৈনিক গ্যাস সরবরাহ ক্ষমতা ২,৮০০ থেকে ৩,০০০ মিলিয়ন ঘনফুট। নতুন পাইপলাইন নির্মাণের মাধ্যমে আগামী ১৯ বছরে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন আরও ১৮০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ভোলার গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হলে, বিশেষ করে খুলনা অঞ্চলে গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধি পাবে এবং এই অঞ্চলটি দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শিল্পোন্নত এলাকায় পরিণত হতে পারে। নতুন শিল্প স্থাপনের সুযোগ তৈরি হবে, যা দেশের অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আনবে।

ভোলা একটি দ্বীপ হওয়ায় সেখানে পাইপলাইন নির্মাণ চ্যালেঞ্জিং হবে, কারণ ভোলা একাধিক নদী দ্বারা পরিবেষ্টিত এবং এর কারণে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি হতে পারে। তবে, সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেস (সিইজিআইএস) ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইএলএফ কনসাল্টিং ইঞ্জিনিয়ার্স সম্ভাব্য রুট বিশ্লেষণ করেছে এবং প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছে।

জিটিসিএল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বরিশাল থেকে খুলনা পর্যন্ত পাইপলাইনের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা চলছে এবং এই প্রক্রিয়া যথেষ্ট সময়সাপেক্ষ।

এছাড়া, ২০২৫ সালের মধ্যে ৫০টি নতুন কূপ খনন এবং ২০২৬ থেকে ২০২৯ সালের মধ্যে আরও ১০০টি কূপ খননের পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে ভোলায় গ্যাস মজুত বাড়ানো সম্ভব হবে এবং দৈনিক গ্যাস উৎপাদন ৩৬০ মিলিয়ন ঘনফুট পর্যন্ত বাড়ানোর আশা করা হচ্ছে।

গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলন বিষয়ে সরকারের অগ্রাধিকার বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এটি ভোলার বিশাল গ্যাস মজুতকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে সহায়তা করবে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে লাইব্রেরি ও হলের নাম পরিবর্তন করলেন শিক্ষার্থীরা

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি ও দুটি আবাসিক হলের নাম পরিবর্তন করে ব্যানার টানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। সম্প্রতি, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা নিজ উদ্যোগে এই পরিবর্তন করেন।

মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার পর শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির নামের ব্যানার সরিয়ে ‘কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার’ নামকরণ করা হয়। একই সময়ে, শেখ হাসিনা হলের নাম পরিবর্তন করে ‘কবি সুফিয়া কামাল হল’ এবং বঙ্গবন্ধু হলের নাম পরিবর্তন করে ‘বিজয় ২৪ হল’ নাম দেওয়া হয়।

শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর তারা বারবার হলগুলোর নাম পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছিলেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কোনো অগ্রগতি না থাকায়, তারা সিদ্ধান্ত নেন এবং নিজ উদ্যোগে ব্যানার পরিবর্তন করেন।

এ বিষয়ে রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী সাকিব আল হাসান বলেন, “আমরা ফ্যাসিস্ট সরকার ও তাদের দোসরদের নাম পরিবর্তন করার দাবি জানিয়েছিলাম, কিন্তু প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। তাই আমরা নিজ উদ্যোগে নাম পরিবর্তন করেছি।”

মৃত্তিকা ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সোহানুর রহমান বলেন, “প্রশাসন থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং ব্যানার টানিয়ে দিয়েছি। আমরা চাই প্রশাসন নামগুলো পরিবর্তন করে আমাদের দাবি পূর্ণ করতে যেন উদ্যোগী হয়।”

এদিকে, শেখ হাসিনা হলের প্রাধ্যক্ষ মনোয়ারা বেগম বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একটি কমিটি গঠন করে দিয়েছেন যেখানে শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরাও রয়েছে। নাম পরিবর্তনের কাজ চলমান ছিল, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. এটিএম রফিকুল ইসলাম বলেন, “নাম পরিবর্তন সংক্রান্ত যে কমিটি গঠিত হয়েছে, সেখানে বিভিন্ন নামের প্রস্তাবনা রাখা হয়েছে। সেই অনুযায়ী সিন্ডিকেট সদস্যরা সিদ্ধান্ত নেবেন।”

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বছরের প্রথম বিদেশ সফরে সুইজারল্যান্ড যাচ্ছেন ড. ইউনূস

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস / সংগৃহীত
নতুন বছরে প্রথম বিদেশ সফরে সুইজারল্যান্ড যাচ্ছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস। দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (উব্লিউইএফ) বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দেবেন সরকারপ্রধান। আগামী ২১ থেকে ২৪ জানুয়ারি সুইজারল্যান্ড সফর করবেন তিনি।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সুইজারল্যান্ডের দাভোসে আগামী ২০ থেকে ২৪ জানুয়ারি ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলন হবে। সম্মেলনে যোগ দেবেন প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস। চার দিনের সফরে আগামী ২০ জানুয়ারি দিবাগত রাতে দাভোসের উদ্দেশে তার ঢাকা ছাড়ার কথা রয়েছে।

সম্মেলনে অংশ নেওয়া ছাড়াও প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে কয়েক দেশের সরকার বা রাষ্ট্রপ্রধান, সংস্থা প্রধান, বিভিন্ন কোম্পানির প্রধান নির্বাহী এবং চেয়ারম্যান ও উদ্যোক্তারা বৈঠক ও সাক্ষাৎ করবেন।




জুলাই ঘোষণাপত্র নিয়ে বৃহস্পতিবার সর্বদলীয় বৈঠক : মাহফুজ আলম

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্র নিয়ে আগামী বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) সর্বদলীয় বৈঠক হবে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা মাহফুজ আলম।

মঙ্গলবার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি।

মাহফুজ আলম বলেন, সবার সঙ্গে আলাপের মধ্যদিয়ে ঘোষণাপত্র তৈরির কাজ গত ১২-১৩ দিন ধরে করেছি। একটা ঘোষণাপত্রের খসড়া আমরা প্রস্তুত করার চেষ্টা করেছি। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, স্টেকহোল্ডার যারা আছেন তাদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেছি। সবার সঙ্গে আমাদের কথা বলা হয়ে ওঠেনি কিন্তু বৃহত্তর রাজনৈতিক দল বিএনপি, জামায়াত, নারী সংগঠন, শিক্ষক সংগঠনের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। তারা সবাই গণঅভ্যুথানের ঘোষণাপত্র নিয়ে একমত আছেন, কিন্তু ঘোষণাপত্র কবে এবং এর মধ্যে কী কী থাকবে সেই বিষয়ে এখনও আমরা ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারিনি।

তিনি আরও বলেন, বৈঠকের স্থান এখনো নির্ধারিত হয়নি। কিন্তু যাদের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ হয়েছে আমরা তাদের কাছ থেকে পরামর্শ পেয়েছি।

এক প্রশ্নের জবাবে মাহফুজ আলম বলেন, খসড়াটি নিয়ে আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে কারও সঙ্গে কথা বলিনি। কিন্তু অনানুষ্ঠানিক আমরা অনেক গ্রুপের সঙ্গে কথা বলেছি। সবার ঐকমত্যের ভিত্তিতে তৈরি করা হলে জাতীয় ঐক্য ধরে রাখা যাবে এবং ঘোষণাপত্র ফলপ্রসূ হবে।

দ্বিমতের বিষয়গুলো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দ্বিমতের বিষয়গুলো তারা আমাদের জানাবেন। আমরা ক্লিয়ার না। এটি আসলে আলোচনা সাপেক্ষে বলা যাবে।

মাহফুজ আলম আরও বলেন, ‘আশা করি, আগামী বৃহস্পতিবার এই বৈঠকের ভেতর দিয়ে ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটি দলিল প্রণীত হবে। সেদিনই স্পষ্ট হবে কবে ঘোষণাপত্রটি জারি করব এবং সরকার কীভাবে ঘোষণাপত্র জারি করার বিষয়ে ভূমিকা রাখবে।’




ক্রিস্টিনের সঙ্গে আমার তিন বছর আগে বিচ্ছেদ হয়েছে: জয়

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ‘ক্রিস্টিন এবং আমি আর একসঙ্গে নেই। আমরা প্রায় তিন বছর আগে আলাদা হয়েছি।’

নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজের এক পোস্টে এ কথা জানান দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে ও সাবেক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।

সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) এর একটি রিপোর্ট ফাঁস করা হয়। জয় দাবি করেন, রিপোর্টটি ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে ভরা। এফবিআইয়ের অসাবধানতা ও বোকামির কারণে রিপোর্টটির মিথ্যা প্রমাণ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। রিপোর্টে কয়েকটি গুরুতর ভুল রয়েছে বলেও জানান জয়।

তদন্তে ম্যাসাচুসেটস ও ভার্জিনিয়ায় স্ত্রী ক্রিস্টিন এবং জয়ের ব্যাংক হিসাবে সন্দেহজনক ব্যাংক কার্যক্রমের তথ্য পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়। সে তথ্যের ভুল ধরাতে গিয়ে জয় জানান, ‘ক্রিস্টিন এবং আমি আর একসঙ্গে নেই। আমরা প্রায় তিন বছর আগে আলাদা হয়েছি।’

এফবিআইয়ের তদন্তে জানা গেছে, হাসিনা ও জয় যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্যে ৩০ কোটি ডলার (প্রায় ৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা) পাচার করেছেন। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাটি দাবি করেছে, তারা জয়ের আর্থিক কর্মকাণ্ডে উল্লেখযোগ্য অনিয়ম উদঘাটন করেছে।

এফবিআইয়ের অনুসন্ধানের ভিত্তিতে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন ২০২৪ সালের ২২ ডিসেম্বর হাসিনা ও জয়ের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে ৩০০ মিলিয়ন ডলার পাচারের অভিযোগের তদন্ত শুরু করে। এফবিআই বলেছে, তারা ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য যাচাই এবং যে কোনো সম্ভাব্য অবৈধ কার্যক্রম মোকাবিলায় সহযোগিতা করার জন্য দুদকের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।

২০২৩ সালের ২৩ এপ্রিল মার্কিন বিচার বিভাগের অপরাধ বিভাগের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে এফবিআইয়ের প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। এফবিআইয়ের প্রতিবেদনের একটি অনুলিপি দুদক হাতে পেয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

এফবিআই জয়ের মালিকানাধীন ৮টি বিলাসবহুল গাড়ি পেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে – ম্যাকলারেন ৭২০এস (মূল্য ২ লাখ ৫০ হাজার ৫৭৮ ডলার), মার্সিডিজ বেঞ্জ এএমজি জিটি (মূল্য ১ লাখ ৯ হাজার ৮০৬ ডলার), মার্সিডিজ বেঞ্জ এস-ক্লাস (মূল্য ৫১ হাজার ৮ ডলার), এসএল শ্রেণির মার্সিডিজ বেঞ্জ (৭৩ হাজার ৫৭০ ডলার), লেক্সাস জিএক্স ৪৬০ (মূল্য ৩০ হাজার ১৮২ ডলার), রেঞ্জ রোভার (৩৭ হাজার ৫৮৬ ডলার), জিপ গ্র্যান্ড চেরোকি (৭ হাজার ৪৯১ ডলার) এবং গ্র্যান্ড চেরোকি (৪ হাজার ৪৭৭ ডলার)। তবে জয় দাবি করেন, এসব গাড়ি অনেক পুরোনো এবং অধিকাংশই বহু আগে বিক্রি হয়ে গেছে।

এফবিআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা হংকং ও কেম্যান আইল্যান্ডে সজীবের ব্যাংক হিসাব খুঁজে পেয়েছে। স্থানীয় একটি মানি এক্সচেঞ্জ কোম্পানির মাধ্যমে ওয়াশিংটন ডিসি, নিউইয়র্ক ও লন্ডনে সন্দেহজনক অর্থ স্থানান্তরের বিষয়টি জানা যায়।

জয়ের সন্দেহজনক কার্যকলাপ খতিয়ে দেখতে এফবিআই যুক্তরাজ্যের গোয়েন্দাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই অনুসন্ধানগুলো সম্ভাব্য অবৈধ ক্রিয়াকলাপ সম্পর্কে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন।

এফবিআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্পেশাল এজেন্ট লা প্রিভোটের সঙ্গে মার্কিন বিচার বিভাগের সিনিয়র ট্রায়াল অ্যাটর্নি লিন্ডা স্যামুয়েলসের যোগাযোগ হয়। তিনি বাংলাদেশ থেকে ৩০০ মিলিয়ন ডলার চুরি এবং যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাচার সংক্রান্ত একটি মামলায় ওয়াশিংটন ফিল্ডের সহায়তা চেয়েছিলেন। তবে ফেসবুক পোস্টে সজীব ওয়েজদ জয় দাবি করেন, রিপোর্টে যে এফবিআই এজেন্টের কথা বলা হয়েছে তিনি বহু বছর আগেই সংস্থা থেকে অবসর নিয়েছেন। যে বিচার বিভাগের যে আইনজীবীর কথা বলা হয়েছে, তিনি ২০১৩ সালে মারা গেছেন। তার মৃত্যু সংবাদের খবরের লিংক শেয়ার করেন জয়।

হাসিনা ও সজীব সজীব যুক্তরাষ্ট্র ও কেম্যান আইল্যান্ডে অর্থ পাচার করেছেন উল্লেখ করে এফবিআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়, বিচার বিভাগের সম্পদ বাজেয়াপ্তকরণ বা মানি লন্ডারিং বিভাগ এসব তহবিল খুঁজে বের করতে, সংযত করতে, জব্দ করতে ওয়াশিংটন ফিল্ডের সহায়তা চেয়েছিল। আমাদের তদন্তে ওয়াজেদ কনসাল্টিং ইনকর্পোরেটেড নামে সন্দেহজনক কার্যকলাপও পাওয়া গেছে। ওয়াজেদ কনসালট্যান্ট বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে অসংখ্য ব্যবসায় নিয়োজিত ছিল এবং বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট প্রকল্পের যুক্ত ছিল।

তবে জয় দাবি করছেন, তার কোনো অফশোর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নেই। তিনি এই শাসন ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করে দেখাতে বলেছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এসব আর্থিক লেনদেনের বৈধতা নির্ধারণ ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সতর্কতার সঙ্গে যাচাই-বাছাই ও তদন্তের দাবি রাখে।

এফবিআইয়ের প্রতিবেদনে তাদের গোপন তথ্যদাতা জয়ের দুই সহযোগীর নামও জানিয়েছেন- যুক্তরাষ্ট্র মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সম্পাদক নিজাম চৌধুরী। গোয়েন্দা সংস্থাটি ওয়াজেদ কনসাল্টিং, ইকম সিস্টেমস, এমভিয়ন ও ইন্টেলিজেন্ট ট্রেড সিস্টেমস লিমিটেডসহ পাঁ