অস্ত্র মামলায় ৩ দিনের রিমান্ডে ছাগলকাণ্ডের মতিউর

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর সাবেক কর্মকর্তা মতিউর রহমান, যিনি ‘ছাগলকাণ্ড’ নামে পরিচিত ঘটনায় আলোচিত ছিলেন, অস্ত্র মামলায় গ্রেফতার হয়ে ৩ দিনের রিমান্ডে আছেন। ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত বুধবার (১৫ জানুয়ারি) রাতে এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মতিউর রহমানকে বুধবার বিকেলে আদালতে হাজির করা হয়। অস্ত্র মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ভাটারা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রুবেল মিয়া তার ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। তবে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তার ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এদিকে, মতিউর রহমানের প্রথম স্ত্রী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান লায়লা কানিজের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। তবে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন এবং তার রিমান্ড শুনানি ১৯ জানুয়ারি নির্ধারণ করা হয়েছে।

দুপুরে ঢাকা মহানগর স্পেশাল জজ আদালতে দুদক জানায়, লায়লা কানিজ ক্ষমতার অপব্যবহার ও জালিয়াতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ প্লেসমেন্ট শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় করেছেন। এর সাথে অন্য কারো involvement রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। এছাড়া তার অর্জিত জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদেরও অনুসন্ধান করা হবে।

গতকাল, ১৪ জানুয়ারি, মতিউর রহমান ও লায়লা কানিজকে রাজধানীর বসুন্ধরা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগেও ২০০৪, ২০০৮, ২০১৩ এবং ২০২১ সালে দুদক মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান করেছিল।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




শামীম ওসমান ও নানক পরিবারের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমান এবং আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ তাদের পরিবারের বিরুদ্ধে ৪০০ কোটি টাকারও বেশি দুর্নীতির অভিযোগে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলাগুলো দায়ের করা হয়েছে মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে, যার মধ্যে শামীম ওসমান ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মুদ্রা পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে।

১৫ জানুয়ারি, ২০২৫ তারিখে দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে এ মামলাগুলো দায়ের করা হয়। প্রথম মামলায় শামীম ওসমান, তার স্ত্রী সালমা ওসমান এবং কে টেলিকমিউনিকেশন্স লিমিটেডের এমডি তানভীর আহমেদের বিরুদ্ধে ১৯৩ কোটি ৯১ লাখ ১৮ হাজার ৬০৩ টাকার মানিলন্ডারিং এবং বিদেশি মুদ্রা পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে। এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, আসামিরা ২০১২ সালের মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন লঙ্ঘন করে আন্তর্জাতিক কল মিনিটের মাধ্যমে ২ কোটি ৫১ লাখ ৮৩ হাজার ৩৫৮ মার্কিন ডলার পাচার করেন।

দ্বিতীয় মামলায় জাহাঙ্গীর কবির নানক, তার স্ত্রী ও রাতুল টেলিকমের চেয়ারম্যান সৈয়দা আরজুমান বানু, তার মেয়ে ও প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক এস আমরীন রাখির বিরুদ্ধে ৩ কোটি ৩২ লাখ ৮৪ হাজার ৬৮১ মার্কিন ডলার পাচারের অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে দুদক মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারা এবং দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

এই মামলাগুলো দেশের আইনি ব্যবস্থার জন্য একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানকে তুলে ধরে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




দুদক সংস্কারে ৪৭টি সুপারিশ

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আরও স্বাধীন ও কার্যকর করতে ৪৭টি সুপারিশ করেছে সংস্কার কমিশন। বুধবার (১৫ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এই সুপারিশগুলোর প্রতিবেদন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে জমা দেওয়া হয়।

দুদক সংস্কার কমিশনের প্রধান ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “আমরা দুদককে আরও গতিশীল করতে স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা হিসেবে ৪৭টি সুপারিশ প্রস্তাব করেছি। আমরা বিশ্বাস করি, এসব সুপারিশ বাস্তবায়নে যথাক্রমে ছয় মাস, ১৮ মাস এবং ৪৮ মাস সময় লাগবে।”

তিনি আরও জানান, বর্তমান সময়ের দুদক একটি বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান হলেও, এটি একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত হওয়া উচিত। কমিশনের সদস্য সংখ্যা বাড়ানোর সুপারিশও করা হয়েছে, যাতে কমপক্ষে তিন থেকে পাঁচজন সদস্য থাকেন এবং অন্তত একজন নারী সদস্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এছাড়া, দুদকের কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পর্কিত বিচারিক ও আর্থিক দক্ষতা সম্পন্ন ব্যক্তিদেরও অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “একটি কার্যকর দুদক গড়তে রাজনীতি ও আমলাতন্ত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হবে, অন্যথায় দুদক কার্যকর হবে না।”

এই সংস্কার কমিশনটি গঠন করা হয়েছিল গত ৫ আগস্ট, যখন ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। পরে, দুর্বল গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার জন্য অন্তর্বর্তী সরকার ১৫টি সংস্কার কমিশন গঠন করে, যার মধ্যে দুদক সংস্কার কমিশন অন্যতম।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে গ্রেপ্তার-আত্মগোপনে আ.লীগ নেতারা, তৃণমূলে হতাশা

বরিশালে আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতারা নানা ধরনের সমস্যার মুখে পড়েছেন। একদিকে গ্রেপ্তার আতঙ্ক, অন্যদিকে আত্মগোপন করে থাকা নেতাদের অনুপস্থিতিতে হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর থেকে বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা নানা কারণে অদৃশ্য হয়ে গেছেন, যার ফলে তৃণমূলের কর্মীরা বিপদগ্রস্ত হয়ে পড়েছে।

তাদের মধ্যে অনেকেই গ্রেপ্তার হয়েছে, আবার অনেকে দেশের বাইরে পালিয়ে গেছেন। যারা পালাতে পারেননি, তাদের অধিকাংশই আত্মগোপনে আছেন। রাজপথে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় নেতাকর্মীরা এখন এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন। একসময় যারা ক্ষমতার রশিতে শক্তভাবে ঝুলে ছিলেন, তারা এখন নিজেদের রক্ষা করতে ব্যস্ত।

বিগত ১৫ বছর আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে অনেক নেতা চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, জমিদখলসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। তবে সরকারের পতনের পর তারা খুবই অস্বস্তির মধ্যে পড়েছেন। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য, বরিশালের অভিভাবক হিসেবে পরিচিত আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ, যিনি তার ছেলেকে নিয়ে ভারতে পালিয়ে যান, সেই সময় থেকে বরিশালের রাজনৈতিক মাঠে এক ধরনের শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে।

এই পরিস্থিতির মধ্যে বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র, বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, এবং বেশ কিছু এমপি, উপজেলা চেয়ারম্যান ও স্থানীয় নেতারা পালিয়ে গেছেন বা আত্মগোপনে আছেন। শুধু বরিশাল নয়, পুরো দক্ষিণাঞ্চলে আওয়ামী লীগের অনেক নেতা বর্তমানে নিরাপদ স্থানে অবস্থান করছেন।

এদিকে, যারা দেশ থেকে পালাতে চেষ্টা করেছেন তাদের অনেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হয়েছেন। এর মধ্যে notable figures যেমন সাবেক পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম, বরিশাল-২ আসনের এমপি রাশেদ খান মেনন, এবং সাবেক এমপি মো. শাহে আলম তালুকদার রয়েছেন।

স্থানীয় নেতাকর্মীরা এসব পরিস্থিতিতে খুবই হতাশ। তাদের কেউ কেউ বলছেন, “কীভাবে নিজেদের নিরাপদ রাখব জানি না। একসময় আমরা শুধু নেতাদের আদেশ পালন করেছি, আর এখন তারা টাকা ও সম্পদ নিয়ে পালিয়ে আছেন, আর আমরা তাদের জন্য ভয় পেয়ে দিন পার করছি।”

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




সংস্কার প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই নির্বাচন হবে: প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, সংস্কার প্রতিবেদন থেকে তৈরি হবে নতুন বাংলাদেশের চার্টার, এবং এর ভিত্তিতেই আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়া হবে। তিনি আরও বলেন, এটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত, যা বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে চলেছে।

আজ (১৫ জানুয়ারি) সকালে তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে কমিশনের সদস্যরা সংস্কার প্রতিবেদনটি হস্তান্তর করেন। এ সময় তিনি বলেন, “এটা শুধুমাত্র একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকবে। বহুবিধ কমিটি তৈরি হয়েছে, প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে, কিন্তু আজকের এই আনুষ্ঠানিকতা অন্যান্য সকলের তুলনায় অনেক উচ্চতর।”

প্রধান উপদেষ্টা আরও জানান, “আমরা একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত জাতি থেকে পুনরুত্থান করেছি, এবং আজকের এই প্রতিবেদন সেটি উদযাপন করছে। এটি আমাদের দেশ এবং জাতির জন্য এক বড় ঘটনা।” তিনি বলেন, “এখন যে প্রতিবেদনগুলো আমরা হাতে পেয়েছি, তা আমাদের দেশের ভবিষ্যৎ চর্চা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ হবে, এবং এটি কেউ অস্বীকার করতে পারবে না।”

তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা নতুন বাংলাদেশ গঠনের স্বপ্ন নিয়ে এ কাঠামো তৈরি করার দায়িত্ব দিয়েছিলাম কমিশনকে। আজকের এই প্রতিবেদন আমাদের সেই স্বপ্নের এক নতুন অধ্যায় শুরু করছে। এটি শেষ নয়, বরং একটি নতুন যাত্রার সূচনা। প্রতিবেদনটি আমাদের সবার সঙ্গে আলোচনা শুরুর রসদ তৈরি করেছে, যাতে আমরা জানতে পারি, এই অঙ্গীকারগুলো পূর্ণ হচ্ছে কিনা এবং সবাই এতে সায় দেয় কিনা।”

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




তামাক কোম্পানিগুলো ভয় দেখিয়ে চলে: উপদেষ্টা ফরিদা আখতার

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, তামাক কোম্পানিগুলো জনগণকে “জুজু” ভয় দেখিয়ে নানা ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে। তিনি আরও মন্তব্য করেন যে, সরকার তামাকজাত পণ্যের বিক্রি থেকে যে পরিমাণ আয় পায়, তার চেয়ে স্বাস্থ্য খাতে তামাকের কারণে ব্যয় বেশি হচ্ছে।

আজ (১৫ জানুয়ারি) সিরডাপ মিলনায়তনে “জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাক কর নীতি বাস্তবায়নের প্রতিবন্ধকতা ও করণীয়” শীর্ষক একটি সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, তামাক উৎপাদন ও চাষের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। বিশেষ করে নদী অঞ্চলগুলোতে, যেমন হালদা এবং তিস্তা, যেখানে তামাক চাষ হয়, সেসব এলাকাতে কীটনাশক ও সার ব্যবহারের কারণে মাছের জীবন বিপন্ন হচ্ছে।

ফরিদা আখতার বলেন, তামাক কোম্পানিগুলো দাবি করছে যে প্রায় ১৫ লক্ষ তামাক বিক্রেতা এ পেশার সঙ্গে জড়িত, কিন্তু তাদের বেশির ভাগই শিশুশ্রমে নিয়োজিত। তামাক বিক্রির সাথে এত লোক জড়িত থাকলেও প্রকৃতপক্ষে এটি সত্যিই কতটুকু যুক্তিযুক্ত তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

সেমিনারে বক্তারা তামাক কর কাঠামো এবং তামাক কোম্পানির কৌশল বিশ্লেষণ করে। তারা জানান, তামাক থেকে প্রাপ্ত রাজস্বের চেয়ে অনেক বেশি খরচ হয় স্বাস্থ্য খাতে, যা দেশে স্বাস্থ্যজনিত সমস্যার দিকে ইঙ্গিত করে।

বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক ফর টোব্যাকো ট্যাক্স পলিসি (বিএনটিটিপি)’র টেকনিক্যাল কমিটির সদস্য মোঃ শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ আলীম আখতার খান, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মীর আলমগীর হোসেন, শিল্প মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব অপূর্ব কুমার মন্ডল এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, তামাকজাত দ্রব্যের কর আরোপের ক্ষেত্রে বর্তমানে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে, যা সরকারকে গুরুত্বসহকারে মোকাবেলা করতে হবে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




আন্তর্বর্তী সরকার রাজনৈতিক ঐকমত্যে ভিত্তিতে সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন করবে: আইন উপদেষ্টা

আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, অন্তর্বর্তী সরকার রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন করবে।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) ঢাকায় ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কমিশনগুলোর প্রতিবেদন নিয়ে আলোচনা শুরু হবে। আলোচনার ভিত্তিতেই কমিশনগুলোর সুপারিশ বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাবে সরকার। তবে এর বাস্তবায়ন রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যমতের ওপর নির্ভর করবে।

এদিন সকালে, সংবিধান, নির্বাচন ব্যবস্থা, দুর্নীতি দমন কমিশন ও পুলিশ সংস্কার কমিশন-এই চার সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে জমা দেয়া হয়।

আইন উপদেষ্টা আরো বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা এবং ঐকমত্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে, ন্যূনতম সংস্কার করা হবে নাকি বিস্তৃত সংস্কার করা হবে। যদি ন্যূনতম সংস্কারে ঐকমত্য হয়, তবে কোন সুপারিশগুলো প্রাধান্য পাবে তা চিহ্নিত করা হবে।

ড. আসিফ নজরুল আশা প্রকাশ করেন যে, সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন বাস্তবায়নের পুরো কাজ অন্তর্বর্তী সরকার সম্পন্ন করবে।

এছাড়া, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে যেসব সংস্কারের বিষয়ে ঐকমত্য হবে, সেগুলো বাস্তবায়ন হবে। তিনি আশা করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়িত হবে এবং সেদিকে সকল অংশীজন গুরুত্ব দেবেন।

তিনি আরো জানান, কমিশনগুলোর স্বাধীনভাবে কাজ করার পর, প্রতিবেদনগুলো জমা দেয়া হয়েছে এবং আগামী ৩১ জানুয়ারির মধ্যে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট পাওয়া যাবে।

এদিকে, স্থানীয় সরকার এবং যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূইয়া বলেন, ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা চিরতরে বিলুপ্তির জন্য জুলাই বিপ্লবের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো বাস্তবায়ন হবে, এবং সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের মাধ্যমে জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়িত হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পটুয়াখালীর পানপট্টি লঞ্চঘাটে ভয়াবহ ভাঙন, এলাকার অস্তিত্ব হুমকির সম্মুখীন

পটুয়াখালীর গলাচিপার পানপট্টি লঞ্চঘাট দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাঙ্গাবালী উপজেলার ছয় ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ এ ঘাটের মাধ্যমে জেলা সদর ও গলাচিপা যাতায়াত করেন। কিন্তু, গত কয়েক বছর ধরে আগুনমুখা ও বুড়াগৌরাঙ্গ নদে অব্যাহত ভাঙনের কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ ঘাটটির অস্তিত্ব বিপদের সম্মুখীন হয়ে পড়েছে।

নদী ভাঙনের ফলে ঘাটের প্রায় ৫০০ মিটার এলাকা ইতিমধ্যে বিলীন হয়ে গেছে, আর স্থানে স্থানে ঘাটটি স্থান পরিবর্তন করলেও সমস্যার সমাধান হয়নি। স্থানীয় ব্যবসায়ী শানু সিকদার বলেন, “এক সরকার যায়, আরেক সরকার আসে। সবাই আশ্বাস দেয়, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় না।” তিনি নতুন সরকারের কাছে দাবি জানান, “মজবুত পাইলিং করে ভাঙনরোধ করা হোক।”

এই ঘাট দিয়ে প্রতিদিন শত শত মানুষ যাতায়াত করেন, এবং অর্ধশত বছরের পুরোনো এই ঘাটটির অবস্থা এখন একেবারে শোচনীয়। প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে এবং এটি এক ধরনের মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। ঘাটের আশেপাশের দোকান ও বাড়িঘরও চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন যে, প্রতিবছর বর্ষার সময় ভাঙনের তীব্রতা বেড়ে যায়, ফলে রাস্তাঘাট, বাজার, স্কুল, মসজিদ, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিলীন হয়ে যাচ্ছে।

ভাঙন থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য স্থানীয়রা মজবুত ব্লক দিয়ে ঘাটটি রক্ষার দাবি জানিয়েছেন। পানপট্টি লঞ্চঘাটের ব্যবসায়ী সাবু হাওলাদার জানান, “নদী ভাঙনে লঞ্চঘাটের অস্তিত্ব এখন হুমকির সম্মুখীন। যদি ঘাটটি টিকে না থাকে, আমাদের ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে।”

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফ হোসেন জানিয়েছেন, “পানপট্টি লঞ্চঘাট এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে এবং ভাঙনরোধে ‘ক্লাইমেট স্মার্ট’ নামে একটি প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ব্লক দিয়ে ভাঙনরোধ করা হবে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বরিশালে সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল চালক নিহত

বরিশালের গৌরনদীতে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় রিমু খান (২২) নামের এক মোটরসাইকেল চালক নিহত হয়েছেন।

বুধবার (১৫ জানুয়ারি) সকাল ১১টা ১৫ মিনিটে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের গৌরনদী উপজেলার নীলখোলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত রিমু খান গৌরনদী উপজেলার বাঙ্গীলা গ্রামের বাসিন্দা।

বরিশাল গৌরনদী হাইওয়ে থানার ওসি মো. আমিনুর রহমান জানান, শিমুল-সিফাত-শাহিক পরিবহনের একটি মালবাহী ট্রাক মহাসড়কের পাশে মাল আনলোড করছিল। এ সময় বেপরোয়া গতিতে আসা নম্বরবিহীন একটি মোটরসাইকেল ট্রাকটির সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খায়। এতে ঘটনাস্থলেই রিমু খান প্রাণ হারান।

দুর্ঘটনার পরপরই ট্রাকটিকে আটক করা হয়েছে। নিহতের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে আইনানুগ প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানান ওসি।

সড়কে বেপরোয়া যানবাহন চলাচল রোধ এবং সঠিক গতি নিয়ন্ত্রণে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




প্রধান উপদেষ্টার কাছে সংস্কার প্রস্তাব জমা দিল ৪ কমিশন

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে নির্বাচন, পুলিশ, দুর্নীতি এবং সংবিধান সংক্রান্ত চারটি বড় সংস্কার প্রস্তাব জমা দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কমিশনগুলো। বুধবার (১৫ জানুয়ারি) তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে এসব প্রস্তাব জমা দেন কমিশন প্রধানরা।

জমা দেওয়া কমিশনগুলোর বিস্তারিত

১. নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন: নেতৃত্বে ড. বদিউল আলম মজুমদার।
২. পুলিশ প্রশাসন সংস্কার কমিশন: নেতৃত্বে সরফরাজ হোসেন।
৩. দুর্নীতি দমন কমিশন: নেতৃত্বে ড. ইফতেখারুজ্জামান, টিআইবি।
4. সংবিধান সংস্কার কমিশন: নেতৃত্বে ড. আলী রিয়াজ, ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক।

সরকারের পরিকল্পনা

প্রতিবেদনগুলো পাওয়ার পর রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ শুরু করবে অন্তর্বর্তী সরকার। ধারণা করা হচ্ছে, চলতি মাসের মধ্যেই এই সংলাপ শুরু হতে পারে।

একক রূপরেখার প্রত্যাশা

প্রতিবেদনগুলো যাচাই করে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের বিষয়ে ঐকমত্য হলে একটি সমন্বিত রূপরেখা উঠে আসবে, যা দেশের বর্তমান পরিস্থিতির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সংবাদ সম্মেলনের ঘোষণা

বিকেল ৩টায় সরকার পক্ষ থেকে একটি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রস্তাবগুলোর বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম