দেড় মাস ধরে ভূমিসেবা বন্ধ, চরম দুর্ভোগে সাধারণ মানুষ

প্রযুক্তির উন্নয়নের মাধ্যমে ভূমিসেবা ব্যবস্থাকে আরো সহজ এবং দ্রুততর করার জন্য সরকার সফটওয়্যার আপগ্রেডেশনের সিদ্ধান্ত নেয়। নতুন সফটওয়্যারটির মাধ্যমে পাঁচটি ভূমিসেবা একত্রিত করার কথা বলা হলেও বাস্তবে তা কার্যকর হয়নি। গত দেড় মাস ধরে দেশের বিভিন্ন ভূমি অফিসে এ সেবা বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, নতুন সফটওয়্যারের মাধ্যমে গ্রাহকদের জন্য সেবা আরও সহজ হবে। কিন্তু নতুন সফটওয়্যারের ধীরগতি এবং বিভিন্ন সুবিধা যুক্ত না থাকায়, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও ভূমি মালিকরা নামজারি, খাজনা জমা দিতে পারছেন না। এছাড়া, লগইন আইডি না পাওয়ার কারণে ভূমি ও ফ্ল্যাট ব্যবসার সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠানগুলোও একই সমস্যার মুখোমুখি।

সফটওয়্যারের আপগ্রেডেশন কার্যক্রমে অনেক জটিলতা তৈরি হয়েছে, যার কারণে গত বছরের ২৬ নভেম্বর সন্ধ্যা ৬টা থেকে ১ ডিসেম্বর সকাল ৯টা পর্যন্ত ভূমিসেবা বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। তবে, মাত্র পাঁচ দিনের জন্য সেবাগুলো বন্ধ থাকার কথা বলা হলেও, দেড় মাসেও এটি পূর্ণাঙ্গভাবে সচল হয়নি।

নতুন সফটওয়্যার সংক্রান্ত নানা সমস্যা উঠে এসেছে, বিশেষ করে নামজারি সংক্রান্ত। আগে নামজারির জন্য যেসব তথ্য যাচাই করা হতো, এখন তা করা সম্ভব হচ্ছে না। সার্ভার জটিলতা এবং নতুন সফটওয়্যার ব্যবহারের ফলে সরকারি স্বার্থও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর ফলে ভূমি মালিক এবং ব্যবসায়ীরা তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছেন না, এবং সরকারও রাজস্ব হারাচ্ছে।

ভূমি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন সফটওয়্যার সঠিকভাবে কাজ না করার কারণে কোর্ট অব ওয়ার্ডস, ভিপি সম্পত্তি এবং খাসজমি বেহাত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আগে জমির মালিকানা নিশ্চিত করতে সার্ভেয়াররা যেসব পদক্ষেপ নিতেন, সেগুলোর কোনো ব্যবস্থা নেই নতুন সফটওয়্যারে। এতে সরকারি সম্পত্তি হুমকির মুখে পড়তে পারে।

এদিকে, বিভিন্ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, নতুন সফটওয়্যার ব্যবহার করতে গিয়ে তারা নানা ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। গ্রাহকদের তথ্য অনুপস্থিত থাকা, নামজারি যাচাইয়ের সুযোগ না থাকা, এবং সরকারি ভূমি মালিকানায় সমস্যা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা তাঁদের উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. ইফতেখার হোসেন জানিয়েছেন, তারা আইসিটি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন এবং সার্ভারের ধীরগতির সমস্যাটি তাদের জন্য অজানা নয়। তবে, তিনি জানান, এই সমস্যার সমাধান করতে ভূমি মন্ত্রণালয় এবং জেলা প্রশাসন যথাসাধ্য চেষ্টা করছে।

এ পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ, ভূমি মালিক এবং ব্যবসায়ীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন, এবং দ্রুত এই সমস্যার সমাধান চাচ্ছেন।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




রাজশাহীর ক্রিকেটাররা ম্যাচ খেলতে রাজি, বিসিবি সভাপতির আশ্বাসে ফিরে এসেছে সমাধান

বিপিএল ২০২৫ এর ঢাকা ও সিলেট পর্ব শেষ হওয়ার পর এখন চট্টগ্রাম পর্বের দিকে নজর রাখা হচ্ছে। তবে বিপিএল-এর রাজশাহী দল, যাদের মধ্যে দেশি ও বিদেশি ক্রিকেটাররা অংশ নিচ্ছেন, এখনো পর্যন্ত তাদের পারিশ্রমিক পাননি। এর ফলে বুধবার সকাল ১০টায় চট্টগ্রামে অনুশীলন বয়কট করেছিলেন রাজশাহীর ক্রিকেটাররা। কিন্তু, বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদের আশ্বাসে আবারও ক্রিকেটাররা ম্যাচ খেলতে রাজি হয়েছেন।

বিসিবি সূত্রে জানা গেছে, প্রথম কিস্তির টাকা নির্ধারিত সময়ে না দেওয়ায় রাজশাহীর ক্রিকেটারদের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছিল। এর ওপর গত দু’দিন অনুশীলন না করার পেছনে মূল কারণ ছিল, ক্রিকেটারদের সম্মানীর ২৫ শতাংশ চেক বাউন্স হয়ে যাওয়া। এরপর বুধবার বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদ চট্টগ্রামে ক্রিকেটারদের সঙ্গে মিটিং করে তাদের আশ্বস্ত করেন, যার ফলে তারা ম্যাচ খেলতে সম্মত হন।

রাজশাহী ফ্র্যাঞ্চাইজিকে নিয়ে শুরু থেকেই বিতর্ক ছিল, বিশেষ করে তাদের আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। তবে বিসিবি সভাপতির আশ্বাস সত্ত্বেও, রাজশাহীর ক্রিকেটাররা কবে নাগাদ তাদের পারিশ্রমিক পাবেন, তা নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। বিসিবি সূত্রে জানা গেছে, দলটির মালিক পক্ষের কেউ এখনো খেলোয়াড়দের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। তবে, দলের এক কর্মকর্তা জানায়, মালিকের স্ত্রী বলের আঘাতে আহত হয়ে বর্তমানে থাইল্যান্ডে চিকিৎসাধীন আছেন, যার কারণে পারিশ্রমিক নগদ করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে, মালিক অপারেশন্স ম্যানেজারকে বলেছেন, দেশে ফিরে ক্রিকেটারদের নগদ টাকা দেওয়া হবে।

এই পরিস্থিতিতে রাজশাহী দলের ক্রিকেটাররা ফ্র্যাঞ্চাইজি নিয়ে বেশ কিছু হতাশা প্রকাশ করলেও, বিসিবি সভাপতি আশ্বস্ত করার পর তাদের মনোভাব কিছুটা স্বস্তিতে ফিরেছে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




“অবৈধ দোকানে ভরে গেছে বেলস পার্ক, পরিবেশ বিপন্ন”

বরিশাল শহরের অন্যতম প্রধান বিনোদন কেন্দ্র বেলস পার্ক বর্তমানে দোকানপাটে পরিপূর্ণ হয়ে উঠেছে, যা দর্শনার্থীদের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গ্রীণ সিটি পার্কসহ পার্কের বিভিন্ন জায়গায় অবৈধভাবে বসানো এসব দোকানগুলো এখন চলাচলে বাঁধা সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে খাবারের দোকানগুলোর কারণে মানুষের চলাফেরা করতে সমস্যা হচ্ছে, এবং বিকেলের পর মাদক সেবনের অভিযোগও উঠছে।

স্থানীয়দের মতে, গত কিছু বছরে রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের সহায়তায় বেলস পার্কে দোকান বসানো শুরু হয়। বর্তমানে সড়ক, পার্কিং স্থান, মাঠের ভেতরে দোকান বসানো হচ্ছে নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে। এ ছাড়া, বিভিন্ন সময়ে এসব দোকান থেকে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের মাধ্যমে টাকা সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, বহু দোকানের মালিকরা এমনকি অগ্রিম টাকা নিয়ে দোকান বসিয়েছেন।

বেলস পার্কের সৌন্দর্য ধ্বংস হতে শুরু করেছে এবং অনেক দর্শনার্থী এই পরিস্থিতি নিয়ে বিরক্ত। বিশেষ করে, পরিবার নিয়ে সেখানে ঘুরতে আসা মানুষজনের চলাফেরার পরিবেশ আর আগের মতো নেই। এসব দোকান স্থানীয় পরিবেশে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে এবং খাবারের পাশাপাশি মাদক বিক্রির অভিযোগও রয়েছে।

বেলস পার্কে এখন ৬০টিরও বেশি দোকান রাজাবাহাদুর সড়কের একপাশে বসানো হয়েছে। মাঠের চারপাশে দোকানের সংখ্যা ১০০ এর কাছাকাছি পৌঁছেছে। এছাড়া, গ্রীন সিটি পার্কের পার্কিং এলাকায় এবং পার্কভিউ নামক ঝুলন্ত দোকানগুলোও রয়েছে। পার্কের সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য লাগানো গাছও কেটে দোকানগুলোর জন্য ব্যবহার করা হয়েছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, তারা টাকা দিয়ে দোকান বসিয়েছেন, তবে এসব দোকানগুলো অনুমোদিত নয়। বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের আরআই শাখার প্রধান স্বপন কুমার বলেন, অধিকাংশ দোকান অনুমতি ছাড়াই বসানো হয়েছে। সিটি কর্পোরেশন যদি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা পায়, তবে এসব দোকান উচ্ছেদ করার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




নিলামে উঠছে সাবেক এমপিদের শুল্কমুক্ত বিলাসবহুল গাড়ি”

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস সাবেক সংসদ সদস্যদের জন্য শুল্কমুক্ত সুবিধায় আনা ৩০টি বিলাসবহুল গাড়ি নিলামে তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে দরপত্র প্রকাশ শুরু হবে। তবে, নিয়ম অনুযায়ী নিলামের আগে শুল্ক পরিশোধ করে গাড়ি ছাড়িয়ে নেওয়ার জন্য সাবেক এমপিদের নোটিশ দেওয়া হলেও সাড়া মেলেনি।

কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, বন্দরের শেড খালি করার নির্দেশনার পর ১০৩টি গাড়ির তালিকা প্রস্তুত করা হয়। এরপর আমদানিকারকদের নোটিশ পাঠানো হলে ৩১টি গাড়ি শুল্ক পরিশোধ করে ছাড়িয়ে নেওয়া হয়েছে, তবে ৩০টি সাবেক এমপির গাড়ি শুল্ক পরিশোধ ছাড়াই পড়ে রয়েছে।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের নিলাম শাখার সহকারী কমিশনার সাকিব হোসেন জানিয়েছেন, ৭২টি গাড়ির দর নির্ধারণের জন্য শুল্কায়ন শাখায় পাঠানো হয়েছে। দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে ২১ জানুয়ারি থেকে নিলাম শুরু হবে।

এদিকে, চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের নিলাম ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. এয়াকুব চৌধুরী জানিয়েছেন, অনেক সময় আমদানিকারকদের কাগজপত্রের জটিলতার কারণে গাড়ি ছাড়াতে দেরি হয়। এছাড়া, কাস্টমসের বিরুদ্ধে মামলা সংক্রান্ত জটিলতাও সময় সাপেক্ষ হতে পারে। তিনি বলেন, “কাস্টমসের ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার রয়েছে এবং আইন শাখা এ বিষয়টি ফলোআপ করলে জট সৃষ্টি হয় না।”

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




“পর্দা যেখানে নেই, সেখানে রহমতও নেই: ছারছীনার পীর”

আমীরে হিযবুল্লাহ ছারছীনা শরীফের পীর আলহাজ্ব হযরত মাওলানা মুফতি শাহ্ আবু নছর নেছারুদ্দীন আহমাদ হুসাইন (মা.জি.আ.) সম্প্রতি একটি ওয়াজ মাহফিলে বলেন, “মহান আল্লাহতায়ালা আমাদের উপর কিছু ফরজ বিধান আরোপ করেছেন, তার মধ্যে পর্দা অন্যতম।” তিনি আরও বলেন, “বর্তমানে আমাদের সমাজে পর্দার বিধান প্রায় অবহেলিত, অথচ এটি প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ ও নারীদের জন্য ফরজ।”

মাহফিলে উপস্থিত শ্রোতাদের উদ্দেশে হযরত মাওলানা আবু নছর নেছারুদ্দীন আহমাদ হুসাইন বলেন, “পর্দা পালন করার মাধ্যমে সমাজে আল্লাহর রহমত বর্ষিত হয় এবং সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়। পর্দার বিধান পালনে জেনা, ব্যাভিচার, ধর্ষণসহ মারাত্মক অপরাধ থেকে জাতি মুক্তি পাবে।”

তিনি মঙ্গলবার রাতে বরগুনা জেলার তালতলী উপজেলাধীন তালতলী সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে ছারছীনা শরীফের মরহুম পীর আলহাজ্ব হযরত মাওলানা শাহ্ মোহাম্মদ মোহেব্বুল্লাহ (রহঃ) এর স্মরণে আয়োজিত ঈছালে ছওয়াব ওয়াজ মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখছিলেন।

এছাড়া, মাহফিলে আরও আলোচনা করেন বাংলাদেশ জমইয়াতে হিযবুল্লাহর সিনিয়র নায়েবে আমীর আলহাজ্ব হযরত মাওলানা শাহ্ আবু বকর মোহাম্মদ ছালেহ নেছারুল্লাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মোঃ হেমায়েত বিন তৈয়্যেব, ছারছীনা দারুচ্ছুন্নাত জামেয়া-এ-নেছারিয়া দ্বিনীয়ার মুফতী মাওলানা মোঃ হায়দার হুসাইন এবং মুহাদ্দিস মাওলানা মুহিব্বুল্লাহ আল মাহমুদ।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




“বাঙালি জাতি বিলুপ্ত করে ‘বাংলাদেশি’ পরিচয় প্রস্তাব”

বাংলাদেশের সংবিধান সংস্কার কমিশন সম্প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ দিয়েছে, যার মাধ্যমে ‘বাঙালি’ জাতি শব্দটি বিলুপ্ত করে ‘বাংলাদেশি’ পরিচয়কে প্রতিষ্ঠিত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। কমিশন দাবি করেছে যে, বর্তমান সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৬(২) অনুযায়ী ‘বাংলাদেশের জনগণ জাতি হিসেবে বাঙালি’ বলে যে বিধান রয়েছে, তা পরিবর্তন করে নাগরিকদের ‘বাংলাদেশি’ হিসেবে পরিচিত করা হবে।

১৫ জানুয়ারি, ২০২৫ তারিখে অধ্যাপক আলী রীয়াজের নেতৃত্বে সংবিধান সংস্কার কমিশন তাদের প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে জমা দেয়। এই সুপারিশের মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে, সংবিধানের প্রতিটি জায়গায় ‘প্রজাতন্ত্র’ এবং ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ’ শব্দগুলির পরিবর্তে ‘নাগরিকতন্ত্র’ এবং ‘জনগণতন্ত্রী বাংলাদেশ’ ব্যবহার করার প্রস্তাব। তবে, ইংরেজি সংস্করণে ‘রিপাবলিক’ এবং ‘পিপলস রিপাবলিক অব বাংলাদেশ’ শব্দগুলো অপরিবর্তিত থাকবে।

এছাড়া, বর্তমানে দেশের সংবিধানে ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান’ উল্লেখ করা হলেও, সংস্কার কমিশন প্রস্তাব করেছে যে এটি পরিবর্তন করে ‘জনগণের সম্মতি নিয়ে আমরা এই সংবিধান জনগণতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান হিসেবে গ্রহণ করছি’ লেখা হবে।

এই প্রস্তাবের মাধ্যমে বাংলাদেশের নাগরিকদের পরিচয়কে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করার সুপারিশ করা হয়েছে, যা দেশের আইনি কাঠামোতে একটি বড় পরিবর্তন হতে পারে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




সংসদের মেয়াদ হবে চার বছর, এমপি হওয়ার সর্বনিম্ন বয়স ২১

সংবিধান সংস্কার কমিশন দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভার প্রস্তাব দিয়েছে, যেখানে একটি কক্ষ হবে জাতীয় সংসদ (ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি) এবং অন্যটি হবে উচ্চকক্ষ (সিনেট)। উভয় কক্ষের মেয়াদ হবে চার বছর। পাশাপাশি, একজন ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী পদে দুবারের বেশি থাকতে পারবেন না এবং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের প্রধান ও সংসদ নেতা হতে পারবেন না। আর সংসদীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য ন্যূনতম বয়স ২৫ বছর থেকে কমিয়ে ২১ বছর করার সুপারিশও করা হয়েছে।

এ প্রতিবেদনটি বুধবার (১৫ জানুয়ারি) অধ্যাপক আলী রীয়াজের নেতৃত্বে সংবিধান সংস্কার কমিশন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে জমা দিয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের মেয়াদ পাঁচ বছর এবং সংসদীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য ন্যূনতম বয়স ২৫ বছর নির্ধারিত রয়েছে।

কমিশন আরও সুপারিশ করেছে, সংবিধানের প্রযোজ্য সব ক্ষেত্রে ‘প্রজাতন্ত্র’ এবং ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ’ শব্দের পরিবর্তে ‘নাগরিকতন্ত্র’ এবং ‘জনগণতন্ত্রী বাংলাদেশ’ শব্দ ব্যবহৃত হবে। তবে ইংরেজি সংস্করণে ‘রিপাবলিক’ এবং ‘পিপলস রিপাবলিক অব বাংলাদেশ’ শব্দগুলো অপরিবর্তিত থাকবে।

এছাড়াও, সংবিধান সংস্কার কমিশনের সুপারিশে বলা হয়েছে, বর্তমান ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান’ নামের পরিবর্তে, এটি ‘জনগণের সম্মতি নিয়ে আমরা এই সংবিধান জনগণতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান হিসেবে গ্রহণ করছি’ হবে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




সাময়িক বরখাস্ত হলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলেপ উদ্দিন

বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয় সংযুক্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আলেপ উদ্দিনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে, যার সই করেছেন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গণি।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলেপ উদ্দিনকে বরিশালে রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছিল, এবং তিনি পূর্বে রংপুরের আরপিএমপির অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার ছিলেন। গত বছরের ১৩ নভেম্বর, ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানার একটি হত্যা মামলায় ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্যে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ১৪ নভেম্বর তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে আরও জানানো হয়েছে, আলেপ উদ্দিনকে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ এর ৩৯ (২) ধারার আওতায় ১৩ নভেম্বর ২০২৪ তারিখ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্তকালে তিনি বিধি অনুযায়ী খোরপোষ ভাতা প্রাপ্য হবেন। জনস্বার্থে এ আদেশ জারি করা হয়েছে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ঝালকাঠিতে অসময়েও থেমে নেই নদীভাঙন

ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার সুগন্ধা নদীতে অব্যাহত নদীভাঙন বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে গত কয়েক বছরে ভাঙনের তীব্রতা অনেক বেড়ে গেছে। একদিকে যেমন কৃষিজমি, ঘরবাড়ি ও বিভিন্ন স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে, তেমনি বিপদাপন্ন রয়েছে বিদ্যালয়, মাদ্রাসা, মসজিদ, সড়ক, কালভার্টসহ ব্যাপক এলাকা। এসব সমস্যার সমাধানে এখনো কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। স্থানীয়দের দাবি, একটি স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হোক যাতে নদীভাঙন থেকে এলাকাটি রক্ষা পায়।

গত শনিবার সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে জানা যায়, নলছিটির মগর ও ভৈরবপাশা ইউনিয়নে ভাঙনের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি। এখানে কিছু এলাকা ইতোমধ্যে নদীগর্ভে চলে গেছে। মগর ইউনিয়নের বহরমপুর, সিকদারপাড়া, খোজাখালি ও কাঠিপাড়া এলাকার সাতটি সড়ক এবং দুটি কালভার্ট নদী গর্ভে চলে গেছে। এসব এলাকার বহু স্থাপনা ও শত শত বিঘা ফসলি জমিও নদীতে বিলীন হয়েছে। এর ফলে এলাকার বাসিন্দারা প্রচণ্ড ক্ষতির মুখে পড়েছে। বহরমপুর গ্রামের মানচিত্র ছোট হয়ে গেছে, এবং ভিটেমাটি হারিয়ে বহু মানুষ পথে বসেছেন।

এছাড়া, গত ২০২৩ সালের ৫ অক্টোবর বহরমপুর গ্রামের জয়নাল আবেদীন মৃধার বাড়ি নদীগর্ভে চলে যায়। যদিও জরুরি ভিত্তিতে কিছু জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছিল, তা কার্যকর হয়নি। গ্রামের বাসিন্দা রহমান মৃধা জানান, “আমার বাপ-দাদার কবরের শেষ চিহ্নটুকুও নদী গ্রাস করছে। আমাদের সমস্ত জমি, ভিটে চলে গেছে। আমাদের থাকার জায়গা নেই।”

স্থানীয় মগর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মাসুম লস্কর শাহাজাদা বলেন, “বহরমপুর, ঈশ্বরকাঠি, কাঠিপাড়া সহ আরো বেশ কয়েকটি গ্রামের ২০০ বসতবাড়ি, মসজিদ, বিদ্যালয়সহ একাধিক স্থাপনা নদীগর্ভে চলে গেছে। দ্রুত একটি স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা না হলে সামনে আরও বড় ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে।”

এদিকে, নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, ভাঙনরোধে উপজেলা প্রশাসন জেলা প্রশাসনকে লিখিতভাবে জানাবে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করবে। জেলা পাউবো প্রকৌশলী একেএম নিলয় পাশা জানান, “এ বছরের মধ্যে সুগন্ধা নদীর চারটি স্থানে নদীরক্ষা কাজ শুরু করা হবে, যা ভাঙনরোধে কার্যকর হবে।”

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ঝালকাঠিতে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে আ’লীগকে পুনর্বাসনের অভিযোগ

ঝালকাঠিতে আওয়ামী লীগ সরকারের ১৬ বছরের শাসনামলে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, মামলা এবং তাদের অফিসে অগ্নিসংযোগকারীদের ছত্রছায়া রাখার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে। বিএনপির বিভিন্ন কর্মসূচিতেও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের নিয়মিত উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এমনকি খোদ উপজেলা বিএনপির শীর্ষ নেতারা এসব নেতাকর্মীদের প্রশ্রয় দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

জানা গেছে, গত ৪ আগস্টের লগি-বৈঠার মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা এখন নিজেদের বিএনপি নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছেন। মাঝে মাঝে বিএনপির ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতাকর্মীদের ওপর চড়াও হতে দেখা যাচ্ছে, ফলে বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় নেতাকর্মীদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় বিএনপির ধর্মবিষয়ক সম্পাদক ও ঝালকাঠি জেলা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম জামালের ছত্রছায়ায় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের পুনর্বাসন হচ্ছে। রফিকুল ইসলাম জামাল বিভিন্ন সভা ও কর্মিসভায় অংশ নিয়ে দলের শৃঙ্খলা নষ্ট করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

গত ১৬ নভেম্বর কাঁঠালিয়া উপজেলা পাইলট স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত বিএনপির সুধী সভায়, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শামীম সিকদার, জাতীয় পার্টির (জেপি) উপজেলা সাধারণ সম্পাদক শাহনেওয়াজ আকন গেন্দু, মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী রেবা রাণী মণ্ডলসহ আরও বেশ কিছু আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। রফিকুল ইসলাম জামাল এ সভায় নেতৃত্ব দেন। এছাড়া, ৭ সেপ্টেম্বর ধানমন্ডির স্টার কাবাব অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা করেন তিনি।

এ ঘটনার পর স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। তারা দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে একাধিক চিঠি পাঠিয়ে রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানায়।

এ বিষয়ে কাঁঠালিয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আখতার হোসেন নিজাম মীরবহর জানান, তারা শুধুমাত্র দাওয়াত পেয়ে সভায় অংশ নিয়েছেন, এবং রফিকুল ইসলামের এমপি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে কিছু নেতাকর্মীরা তাকে গণসংবর্ধনা দিয়েছে।

রফিকুল ইসলাম জামাল এ বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, “এমন প্রোগ্রামে অংশ নেয়া এবং আওয়ামী লীগ নেতাদের পুনর্বাসন করা দুটি আলাদা বিষয়। আমি শুধু অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছি, আর কর্মী সভায় অংশ নেয়া মানে কাউকে পুনর্বাসন করা নয়।”

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম