সংবিধান থেকে ধর্মনিরপেক্ষতা বাতিলের দাবি : মামুনুল হক

বাংলাদেশের সংবিধান থেকে ধর্মনিরপেক্ষতা বাতিলের দাবি করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক।

বুধবার (১৫ জানুয়ারি) রাতে পটুয়াখালীর ঝাউতলার শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ দাবি তোলেন। পটুয়াখালী জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা আব্বাস আলীর সভাপতিত্বে এ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দিন আহমেদসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

মামুনুল হক বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের সময় ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলা হয়নি। ১৯৭১ সালে অর্জিত এই ভূখণ্ডে কোরআনের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি ছিল। কিন্তু স্বাধীনতার পর, সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা অন্তর্ভুক্ত করে জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে।”

তিনি দাবি করেন, “ভারতীয় প্রভাবের কারণে বাংলাদেশের জনগণের ন্যায্য অধিকার হরণ করা হয়েছে।”

মামুনুল হক অতীতের রাজনৈতিক সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে নিরপেক্ষ সরকার ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রশাসনের পুনর্গঠনের আহ্বান জানান। তিনি পাচারকৃত অর্থ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়ার উপরও জোর দেন।

তিনি আরও বলেন, “১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে শেখ হাসিনার দেওয়া বক্তব্যের মাধ্যমে দেশবাসীর ওপর প্রতিশোধ নেওয়ার ইঙ্গিত স্পষ্ট হয়েছিল। আওয়ামী লীগ দেশের জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।”

মামুনুল হক উল্লেখ করেন, “বাংলাদেশের অন্যান্য রাজনৈতিক দল যেমন আন্দোলনের মুখে ক্ষমতা ছেড়ে দিয়েছে, তেমনি শেখ হাসিনা পালিয়ে গিয়ে দেশের জনগণকে প্রতিশোধের শিকার করেছে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বগা সেতু: দক্ষিণাঞ্চলের লাখো মানুষের স্বপ্ন

পটুয়াখালীর লোহালিয়া নদীর বগা পয়েন্টে একটি সেতুর অভাবে বাউফল, দশমিনা ও গলাচিপা উপজেলার প্রায় ১৬ লাখ মানুষ উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ফেরি ও ট্রলারে পারাপারে সময় অপচয় এবং যাত্রীদের দুর্ভোগ বেড়েই চলেছে।

প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন ও যাত্রী বগা ফেরি দিয়ে পারাপার করে জেলা, বিভাগ ও রাজধানীতে যায়। কিন্তু এই ফেরির জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় থাকতে হয়। এ ছাড়া, ট্রলারে নদী পারাপারেও যাত্রীরা নানামুখী ভোগান্তির মুখে পড়েন।

বগায় সেতু নির্মাণের দাবিটি বহুদিনের। এই সেতু নির্মিত হলে ঢাকার সাথে দক্ষিণাঞ্চলের সরাসরি সংযোগ সহজ হবে এবং কৃষিপণ্য দ্রুত পরিবহন সম্ভব হবে। কালাইয়া ও কালিশুরি বন্দর থেকে প্রতিদিন শত শত পণ্যবাহী ট্রাক দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যায়। কিন্তু সেতু না থাকায় পণ্যের গুণগত মান নষ্ট হচ্ছে।

এক বাস চালক জানান, “রাতের যাত্রায় ফেরির জন্য তিন-চার ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। অনেক সময় জরুরি রোগী থাকলেও দ্রুত পারাপার সম্ভব হয় না। সেতুটি হলে আমাদের এই কষ্ট দূর হবে।”

এক যাত্রী বলেন, “আমাদের কৃষিপণ্য পচে যাচ্ছে, সময় নষ্ট হচ্ছে। সেতু নির্মাণ হলে আমাদের জীবনযাত্রা অনেক সহজ হবে।”

জেলা সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জামিল আক্তার লিমন জানান, “বগায় নবম বাংলাদেশ-চীন ফ্রেন্ডশিপ ব্রিজ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। ফিজিবিলিটি স্টাডি শেষ হয়েছে, এবং দ্রুত ডিপিটি প্রণয়ন শুরু হবে। অনুমোদনের পর দ্রুত কাজ শুরু হবে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




গণতন্ত্র বহাল রেখে নতুন ৪ মূলনীতির সুপারিশ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের মহান আদর্শ এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলনস্বরূপ সংবিধান ও রাষ্ট্রের মূলনীতি হিসেবে “সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার, বহুত্ববাদ ও গণতন্ত্র” প্রস্তাব দিয়েছে সংবিধান সংস্কার কমিশন। এছাড়া একটি কার্যকর গণতন্ত্র, মৌলিক মানবধিকার সুনিশ্চিতকরণ এবং জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সাতটি প্রধান বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করেছে সংস্কার কমিশন।

বুধবার (১৫ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার কাছে সংবিধান সংস্কার কমিশনের সুপারিশের সার-সংক্ষেপ সুপারিশ জমা দেয়। অধ্যাপক আলী রীয়াজের নেতৃত্বাধীন সংবিধান সংস্কার কমিশন তাদের সংস্কারের সুপারিশসংবলিত প্রতিবেদন জমা দেয়।

সাতটি প্রধান বিষয় হলো

১. ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের মহান আদর্শ এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলনস্বরূপ সংবিধান ও রাষ্ট্রের মূলনীতি হিসেবে “সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার, বহুত্ববাদ ও গণতন্ত্র” প্রস্তাব

২. ক্ষমতার প্রাতিষ্ঠানিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা

৩. প্রধানমন্ত্রী পদের একচ্ছত্র ক্ষমতা হ্রাস

৪.অন্তর্বর্তী সরকার কাঠামোর সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব

৫. বিচার বিভাগের বিকেন্দ্রীকরণ

৬. শক্তিশালী স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা সুনিশ্চিতকরণ

৭. মৌলিক অধিকারের আওতা সম্প্রসারণ, সাংবিধানিক সুরক্ষা ও বলবৎযোগ্যতা নিশ্চিতকরণ।

১. কমিশন সুপারিশ করছে যে, সংবিধানের প্রযোজ্য সকল ক্ষেত্রে ‘প্রজাতন্ত্র’ এবং ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ’ শব্দগুলোর পরিবর্তে ‘নাগরিকতন্ত্র’ এবং ‘জনগণতন্ত্রী বাংলাদেশ’ শব্দগুলো ব্যবহৃত হবে। তবে ইংরেজি সংস্করণে “Republic” ও “Peoples Republic of Bangladesh” শব্দগুলো থাকছে।

২. ভাষা নাগরিকতন্ত্রের রাষ্ট্র ভাষা হবে ‘বাংলা’। সংবিধানে বাংলাদেশে নাগরিকদের মাতৃভাষা হিসেবে ব্যবহৃত সকল ভাষা এ দেশের প্রচলিত ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করা হবে।

৩. নাগরিকত্ব ‘বাংলাদেশের জনগণ জাতি হিসেবে বাঙালি…’ কমিশন এই বিধানটি বিলুপ্ত করার সুপারিশ করছে। সুপারিশ করা হচ্ছে যে, বর্তমান অনুচ্ছেদ ৬(২) নিম্নোক্তভাবে সংশোধন করা হোক “বাংলাদেশের নাগরিকগণ ‘বাংলাদেশি’ বলে পরিচিত হবেন” হিসেবে প্রতিস্থাপিত হোক।

৪. সংবিধান বিষয়ক অপরাধ ও সংবিধান সংশোধনের সীমাবদ্ধতা কমিশন সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৭ক এবং ৭খ বিলুপ্তির সুপারিশ করছে।

৫. সংবিধানের মূলনীতি

৫.১ কমিশন সুপারিশ করছে যে, সংবিধানের মূলনীতি হিসেবে সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার, বহুত্ববাদ এবং গণতন্ত্রকে অন্তর্ভুক্ত করা হোক।

৫.২ বাংলাদেশের সমাজের বহুত্ববাদী চরিত্রকে ধারণ করে এমন একটি বিধান সংবিধানে যুক্ত করা সমীচীন। সুতরাং, কমিশন নিম্নোক্ত বিধান অন্তর্ভুক্তির সুপারিশ করছে – “বাংলাদেশ একটি বহুত্ববাদী, বহু-জাতি, বহু-ধর্মী, বহু-ভাষী ও বহু-সংস্কৃতির দেশ যেখানে সকল সম্প্রদাযের সহাবস্থান ও যথাযথ মর্যাদা নিশ্চিত করা হবে।

রাষ্ট্রের মূলনীতি

কমিশন সংবিধানের মূলনীতি ও রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে ধর্মনিরপেক্ষতা, সমাজতন্ত্র এবং জাতীয়তাবাদ এবং এ সংশ্লিষ্ট সংবিধানের ৮, ৯, ১০ ও ১২ অনুচ্ছেদগুলো বাদ দেওয়ার সুপারিশ করছে।

মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতা

১. কমিশন সংবিধানের অধিকার সম্পর্কিত অনুচ্ছেদসমূহ পর্যালোচনা করে বেশ কিছু সুপারিশ প্রস্তাব করছে। বিদ্যমান সংবিধানের দ্বিতীয় ও তৃতীয় ভাগের অধিকারসমূহ সমন্বিত করে ‘মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতা’ নামে একটি একক সনদ গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা আদালতে বলবৎযোগ্য হবে এবং অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক অধিকার ও নাগরিক, রাজনৈতিক অধিকারের মধ্যে বিদ্যমান তারতম্য দূর করবে।

২. সংবিধানে কিছু নতুন অধিকার যেমন খাদ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা, বাসস্থান, ইন্টারনেট প্রাপ্তি, তথ্য পাওযা, ভোটাধিকার ও রাষ্ট্র পরিচালনায় অংশগ্রহণ, গোপনীয়তা রক্ষা, ভোক্তা সুরক্ষা, শিশু, উন্নযন, বিজ্ঞান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অধিকার অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে।

বিদ্যমান অধিকারের অনুচ্ছেদসমূহের সংস্কার যেমন বৈষম্য নিষিদ্ধকরণের সীমিত তালিকা বর্ধিতকরণ, জীবনের অধিকার রক্ষায বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও গুম থেকে সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ, জামিনে মুক্তির অধিকার অন্তর্ভুক্তকরণ এবং নিবর্তনমূলক আটক সংক্রান্ত বিধান বিলুপ্তির প্রস্তাব করা হয়েছে।

৪. প্রতিটি মৌলিক অধিকারের জন্য পৃথক সীমা আরোপের পরিবর্তে একটি সাধারণ সীমা নির্ধারণ এবং সীমা আরোপের ক্ষেত্রে ভারসাম্য ও আনুপাতিকতা পরীক্ষার বিধান সংযোজনের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা অধিকার খর্বের ঝুঁকি কমাবে।

৫. যেসব অধিকার (শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খাদ্য, বাসস্থান ইত্যাদি) বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য সম্পদ ও সময় প্রযোজন, সেগুলো ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি রেখে সম্পদের প্রাপ্যতার ভিত্তিতে কার্যকর করার সুপারিশ করা হয়েছে। এই পদ্ধতি সরকারের জবাবদিহিতা বাড়াবে এবং সম্পদের প্রাপ্যতা অনুযায়ী অধিকার বাস্তবায়ন নিশ্চিত করবে।

আইনসভা

১. কমিশন একটি দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভার প্রস্তাব করছে; একটি নিম্নকক্ষ জাতীয় সংসদ এবং একটি উচ্চকক্ষ (সিনেট)। উভয় কক্ষের মেয়াদ হবে ৪ (চার) বছর।

নিম্নকক্ষ

১. নিম্নকক্ষ গঠিত হবে সংখ্যগরিষ্ঠ ভোটে সরাসরি নির্বাচিত সদস্যদের সমন্বয়ে। ৪০০ (চারশো) আসন নিয়ে নিম্নকক্ষ গঠিত হবে। ৩০০ (তিনশো) জন সদস্য একক আঞ্চলিক নির্বাচনী এলাকা থেকে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হবেন। আরো ১০০ জন নারী সদস্য সারা দেশের সকল জেলা থেকে এই মর্মে নির্ধারিত ১০০ (একশটি) নির্বাচনী এলাকা থেকে কেবল নারী প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হবেন।

২. রাজনৈতিক দলগুলো নিম্নকক্ষের মোট আসনের ন্যূনতম ১০% আসনে তরুণ-তরুণীদের মধ্য থেকে প্রার্থী মনোনীত করবে।

৩. সংসদীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ন্যূনতম বয়স কমিয়ে ২১ বছর করা হবে।

৪. ২ (দুই) জন ডেপুটি স্পিকার থাকবেন, যাদের মধ্যে একজন বিরোধী দল থেকে মনোনীত হবেন।

৫. একজন সংসদ সদস্য একই সঙ্গে নিম্নলিখিত যেকোনো একটির বেশি পদে অধিষ্ঠিত হবেন না: (ক) প্রধানমন্ত্রী (খ) সংসদনেতা এবং (গ) রাজনৈতিক দলের প্রধান।

৬. অর্থবিল ব্যতীত নিম্নকক্ষের সদস্যরা তাদের মনোনয়নকারী দলের বিপক্ষে ভোট দেওয়ার পূর্ণ ক্ষমতা থাকবে।

৭. আইনসভার স্থায়ী কমিটিগুলোর সভাপতি সবসময় বিরোধীদলীয় সদস্যদের মধ্য থেকে মনোনীত হবেন।

উচ্চকক্ষ

১. উচ্চকক্ষ মোট ১০৫ (একশ পাঁচ) জন সদস্য সমন্বয়ে গঠিত হবে; এর মধ্যে ১০০ জন সদস্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রদত্ত মোট ভোটের সংখ্যানুপাতে নির্ধারিত হবেন। রাজনৈতিক দলগুলো সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতির ভিত্তিতে উচ্চকক্ষের মনোনয়ের জন্য সর্বোচ্চ ১০০ (একশ) জন প্রার্থী মনোনয়ন দিতে পারবে। এই ১০০ (একশ) জন প্রার্থীর মধ্যে কমপক্ষে ৫ জন আইন দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে অনগ্রসর সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব করবে। অবশিষ্ট ৫টি আসন পূরণের জন্য রাষ্ট্রপতি নাগরিকদের মধ্য থেকে (যারা কোনো কক্ষেরই সদস্য ও রাজনৈতিক দলের সদস্য নন) প্রার্থী মনোনীত করবেন।

২. কোনো রাজনৈতিক দলকে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতির ভিত্তিতে উচ্চকক্ষে প্রতিনিধিত্বের যোগ্য হতে হলে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রদত্ত ভোটের অন্তত ১% নিশ্চিত করতে হবে।

৩. উচ্চকক্ষের স্পিকার সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে উচ্চকক্ষের সদস্যদের মধ্য থেকে নির্বাচিত হবেন।

৪. উচ্চকক্ষের একজন ডেপুটি স্পিকার থাকবেন যিনি সরকার দলীয় সদস্য ব্যতিত উচ্চকক্ষের অন্য সকল সদস্যের মধ্য থেকে নির্বাচিত হবেন।

সংবিধান সংশোধনী

১. সংবিধানের যেকোনো সংশোধনী উভয় কক্ষের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার অনুমোদন প্রযোজন হবে। প্রস্তাবিত সংশোধনী উভয় কক্ষে পাস হলে, এটি গণভোটে উপস্থাপন করা হবে। গণভোটের ফলাফল সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে।

আন্তর্জাতিক চুক্তি

১. জাতীয় স্বার্থ বা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা প্রভাবিত করে এমন কোনো আন্তর্জাতিক চুক্তি সম্পাদনের পূর্বে আইনসভার উভয় কক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে অনুমোদন নিতে হবে।

অভিশংসন

রাষ্ট্রদ্রোহ, গুরুতর অসদাচরণ বা সংবিধান লঙ্ঘনের জন্য রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন করা যাবে। নিম্নকক্ষ অভিশংসন প্রস্তাবটি পাস করার পর তা উচ্চকক্ষে যাবে এবং সেখানে শুনানির মাধ্যমে অভিশংসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

নির্বাহী বিভাগ

১. কমিশন সুপারিশ করছে যে আইনসভার নিম্নকক্ষে যে সদস্যের প্রতি সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের সমর্থন আছে তিনি সরকার গঠন করবেন। নাগরিকতন্ত্রের নির্বাহী কর্তৃত্ব প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মন্ত্রিসভা দ্বারা প্রযোগ করা হবে।

২. কমিশন রাষ্ট্রপতির কিছু সুনির্দিষ্ট দায়িত্বের কথা সুপারিশ করছে; এই বিশেষ কার্যাবলী কিংবা সংবিধানে উল্লেখিত বিষয় ছাড়া অন্য সকল বিষয়ে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে কাজ করবেন।

৩. কমিশন রাষ্ট্রীয় কার্যাবলীতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আনয়ন এবং রাষ্ট্রীয় অঙ্গ ও প্রতিষ্ঠান সমূহের মধ্যে ভারসাম্য নিশ্চিত করার জন্য একটি জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিল (“এনসিসি”) গঠনের সুপারিশ করছে।

জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিল

১. জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিল “এনসিসি” রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত একটি জাতীয়, প্রতিষ্ঠান। এনসিসি-র সদস্য হবেন: অ. রাষ্ট্রপতি; আ. প্রধানমন্ত্রী; ই. বিরোধীদলীয় নেতা; ঈ. নিম্নকক্ষের স্পিকার; উ. উচ্চকক্ষের স্পিকার; উ. বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি; ঋ. বিরোধী দল মনোনীত নিম্নকক্ষের ডেপুটি স্পিকার ; ও. বিরোধী দল মনোনীত উচ্চকক্ষের ডেপুটি স্পিকার; ঔ. প্রধানমন্ত্রী এবং বিরোধীদলীয় নেতার প্রতিনিধিত্বকারী সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের উভয় কক্ষের সদস্যরা ব্যতীত, আইনসভার উভয় কক্ষের বাকি সকল সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে তাদের মধ্য থেকে মনোনীত ১(এক) জন সদস্য।

ওই ভোট আইনসভার উভয় কক্ষের গঠনের তারিখ থেকে ৭ (সাত) কার্য দিবসের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে। জোট সরকারের ক্ষেত্রে, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক দল ব্যতীত জোটের অন্য দলের সদস্যরা ওই মনোনয়নে ভোট দেওয়ার যোগ্য হবেন।




এফডিসিতে শুটিংয়ের খরচ কমেছে, আকর্ষণ বাড়ানোর উদ্যোগ

চলচ্চিত্র নির্মাতাদের জন্য সুখবর—বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশন (এফডিসি) শুটিং ও ফ্লোর ভাড়ার খরচ কমিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এফডিসির উচ্চ খরচ নিয়ে নির্মাতাদের মধ্যে অভিযোগ ছিল। তুলনামূলক কম খরচ ও বেশি সুবিধা পাওয়ার আশায় নির্মাতারা এফডিসির বাইরে শুটিং করতে আগ্রহী ছিলেন।

ফ্লোর ভাড়ার নতুন হার

এফডিসি কর্তৃপক্ষ ২০২৪ সালের শুরুতেই পরিচালক (প্রকল্প) মো. রেজাউল হকের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে নতুন ভাড়ার হার ঘোষণা করে।

১ ও ৬ নম্বর ফ্লোরের ভাড়া ছিল ২,৫৫০ এবং ৬,৫০০ টাকা, যা কমিয়ে যথাক্রমে ২,০০০ এবং ৫,০০০ টাকা করা হয়েছে।

২ নম্বর ফ্লোর (এসি ছাড়া) ভাড়া ৫,১০০ টাকা থেকে কমিয়ে ৪,০০০ টাকা এবং শুটিং ভাড়া ১৩,০০০ টাকার পরিবর্তে ৯,০০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

২ নম্বর ফ্লোর (এসিসহ) শুটিং ভাড়া ১৮,৫৪০ টাকা থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ১১,৫০০ টাকায়।

ক্যামেরা ভাড়ায় পরিবর্তন

রেড ড্রাগন ক্যামেরা: ইনডোর শুটিংয়ের ভাড়া ৬,১২০ টাকার পরিবর্তে ৩,০০০ টাকা এবং আউটডোরে ৬,৬৩০ টাকা থেকে কমিয়ে ৩,৫০০ টাকা করা হয়েছে।

সনি ক্যামেরা: ইনডোর শুটিংয়ের ভাড়া ৫,১০০ টাকা থেকে কমিয়ে ২,০০০ টাকা এবং আউটডোরে ৫,৬১০ টাকার পরিবর্তে ২,৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। দেশের বাইরের জন্য ক্যামেরা ভাড়া ১৬,৫০০ টাকার পরিবর্তে এখন ১০,০০০ টাকা।

সম্পাদনা ও কালার গ্রেডিংয়ের খরচ

ডিজিটাল সম্পাদনা মেশিন চার্জ প্রতিশিফটে ২,১০০ টাকার পরিবর্তে ১,৫০০ টাকা এবং ডিজিটাল কালার গ্রেডিং ৩,১৫০ টাকার পরিবর্তে ২,৫০০ টাকা করা হয়েছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য ছাড়

এফডিসি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও দাতব্য প্রতিষ্ঠানের শুটিংয়ের জন্য সর্বোচ্চ ২০% ছাড়ের সুবিধা দিচ্ছে।

 

শুটিং খরচ কমানোর এই উদ্যোগ নির্মাতাদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। এফডিসি আশা করছে, শুটিংয়ের খরচ কমানো নির্মাতাদের আবারও এফডিসিমুখী করবে এবং দেশের চলচ্চিত্র শিল্পে নতুন প্রাণ সঞ্চার করবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বরগুনার খেয়াঘাটে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব, যাত্রীসেবায় তেমন কোনো উদ্যোগ নেই

বরগুনার ১৫টি খেয়াঘাট থেকে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হলেও, যাত্রীদের জন্য সঠিক সেবা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তেমন কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। জেলা পরিষদের ইজারা দেওয়া এসব ঘাটে অনেক ক্ষেত্রেই যাত্রীদের জন্য নেই আলাদা ঘাট বা নিরাপদ ওঠানামার ব্যবস্থা, ফলে যাত্রীরা প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। এছাড়া, যাত্রীছাউনি দখল হয়ে যাওয়া ও ঘাটের জরুরি সংস্কারের অভাবে অনেক ঘাটের অবস্থাও বেহাল।

বরগুনা জেলা পরিষদ সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরে বরগুনার ১৫টি খেয়াঘাট থেকে ইজারাদারদের কাছ থেকে মোট ৫ কোটি ২২ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ রাজস্ব আসে পুরাকাটা-আমতলী খেয়াঘাট থেকে, যেখানে এক কোটি ৫৩ লাখ টাকা আদায় হয়েছে। কিন্তু, যাত্রীদের সুবিধার জন্য এখানে আলাদা ঘাটের ব্যবস্থা না থাকায় ফেরির পন্টুন থেকেই যাত্রীদের ওঠানামা করতে হয়। এতে অনেক সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়। বিশেষ করে মোটরসাইকেল ওঠানামার সময় এই দুর্ঘটনা আরও বেড়ে যায়।

এই অবস্থার মধ্যে যাত্রীদের জন্য নির্মিত যাত্রীছাউনিগুলিও পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে। বহু ঘাটের যাত্রীছাউনির জায়গাগুলো দখল হয়ে গিয়ে, বা অন্য কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। এমনকি, কিছু ঘাটের টয়লেটগুলিও ভেঙে পড়ে রয়েছে।

বিশেষত, পুরাকাটা এবং বড়ইতলা-বাইনচটকি খেয়াঘাটের যাত্রীরা অভিযোগ করেছেন, যে কারণে তাদের চলাচলে নিরাপত্তার অভাব দেখা দেয়। এসব ঘাটে নির্মিত যাত্রীছাউনিগুলো দূরে থাকার কারণে যাত্রীদের বসার জায়গা ও সেবা পাওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। এর ফলে যাত্রীরা বৃষ্টির সময় রাস্তায় দাঁড়িয়ে বা চায়ের দোকানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। এমন অবস্থায় দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় যাত্রীদের, যা তাদের জন্য অত্যন্ত অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে।

খেয়াঘাট পরিচালনাকারী বিভিন্ন ইজারাদাররা বলেছেন, তারা খেয়া পারাপারের জন্য ঘাটের উন্নয়ন ও যাত্রীদের সুবিধার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার আবেদন জানিয়ে আসছেন। তারা চান, বর্ষাকালে যাত্রীদের জন্য নিরাপদ এবং সঠিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা হোক, যাতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানো যায়।

এছাড়া, বরগুনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আলম জানিয়েছেন, খেয়াঘাটগুলোর উন্নয়নের জন্য কাজ দ্রুত শুরু হবে। মন্ত্রণালয়ের অনুমতি পাওয়ার পর, সেসব ঘাটে যাত্রীদের সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য টেন্ডারের মাধ্যমে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হবে। যেসব যাত্রীছাউনি বেদখল হয়েছে, সেগুলো উদ্ধারের জন্যও আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ঝালকাঠিতে শীত ও কুয়াশার তীব্রতায় রবিশস্যে ঝুঁকি, শঙ্কিত কৃষকরা

চলতি শীত মৌসুমে তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশা বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষকরা শঙ্কিত। বিশেষত, রবিশস্যের ওপর এর প্রভাব মারাত্মক হতে পারে। বোরো বীজতলা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি আলু, শিম, লাউ, করলা, মিষ্টি কুমড়া, শাকসবজির মতো ফসলও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

গত বছরের বন্যার কারণে অনেক কৃষক তাদের জমি থেকে ফসলের স্বাভাবিক ফলন পেতে পারেননি এবং চলতি বছর তারা সবজি চাষের দিকে মনোনিবেশ করেছেন। কিন্তু মৌসুমের শুরুতেই তীব্র শীত, ঘন কুয়াশা এবং গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির কারণে তাদের ফসল নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এ থেকে ফসল রক্ষায় কৃষকরা কীটনাশক প্রয়োগ করলেও অনেক জায়গায় তা পর্যাপ্ত প্রমাণিত হয়নি।

কৃষি আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া শৈত্যপ্রবাহ গত ৫ দিন ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অব্যাহত রয়েছে, যা আগামী কয়েকদিন আরও চলতে পারে। বিশেষত, ঝালকাঠি এবং উপকূলীয় এলাকার কৃষকরা তীব্র শীত ও কুয়াশার কারণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন।

ঝালকাঠি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, এ বছর জেলার ৮৯০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের বীজতলা তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, এবং ৫৯ হাজার ৪২০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া, ভুট্টা, গম, আলু, শীতকালীন সবজি, মরিচ, পেঁয়াজ, রসুন, সরিষা, বাদাম, তিল, সূর্যমুখী, সয়াবিন এবং মশুরসহ বিভিন্ন ফসলের চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

কৃষকরা জানান, ঘন কুয়াশা ও রাতভর বৃষ্টির কারণে আলুর ক্ষেতে *লেট ব্লাইট* রোগ দেখা দিয়েছে, যার ফলে আলুর পাতা ও কাণ্ড পচে যাচ্ছে এবং গাছ মরে যাচ্ছে। এছাড়া, বোরো ধানের বীজতলায় *কোল্ড ইনজুরি* দেখা দিয়েছে। আলু ক্ষেতে ছত্রাকনাশক ব্যবহার করলেও কুয়াশার প্রভাব থেকে রক্ষা পাচ্ছে না। একইভাবে, বীজতলা রক্ষা করতে কৃষকরা পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখলেও অনেক সময় তা কার্যকর হচ্ছে না।

ঝালকাঠি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মনিরুল ইসলাম জানান, কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে যাতে তারা এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পারে। বোরো আবাদের জন্য এ বছর বীজতলা তৈরি এবং অন্যান্য ফসল চাষের জন্য কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে কেনাফ চাষে বাড়বে জমির উর্বরতা, কমবে লবণাক্ততা: কৃষকদের জন্য আশার আলো

দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে লবণের আধিক্য এবং জমির অনুর্বরতা একটি পুরোনো সমস্যা। তবে, এখন এই সমস্যার সমাধান হিসেবে সামনে এসেছে নতুন একটি ফসল, যার নাম **কেনাফ**। পাটজাতীয় এই ফসলের চাষ শুরু হওয়ায় জমির উর্বরতা বাড়ানোর পাশাপাশি লবণাক্ততা কমানোর আশাপ্রদ সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

কেনাফ, যার বৈজ্ঞানিক নাম Hibiscus cannabinus, আফ্রিকা থেকে উদ্ভূত একটি উদ্ভিদ। এই ফসলটি কৃষকদের জন্য একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচিত করছে, বিশেষত লবণাক্ত জমিতে এর চাষের মাধ্যমে। বরিশাল কৃষি তথ্য সার্ভিসের কর্মকর্তা নাহিদ বিন রফিক জানান, উপকূলীয় অঞ্চলের মাটিতে লবণের পরিমাণ বেশি হওয়ায় কৃষকদের জন্য এই অঞ্চলে ফসল চাষ কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। তবে, কেনাফের চাষ জমির উর্বরতা বাড়াতে এবং লবণাক্ততা কমাতে সহায়ক হিসেবে কাজ করছে।

দেশের মোট চাষযোগ্য জমির ৩২ শতাংশই উপকূলীয় অঞ্চলে অবস্থিত, যার মধ্যে প্রায় ১ দশমিক ০৫ মিলিয়ন হেক্টর জমি লবণাক্ত। এই বিশাল পরিমাণ জমি খরিফ-১ মৌসুমে চাষের উপযোগী থাকে না। তবে, কেনাফ চাষের মাধ্যমে এই জমি গুলি আবাদযোগ্য হতে পারে। বিশেষত পটুয়াখালী, বরগুনা, ভোলা ও পিরোজপুর জেলার অনেক এলাকায় ইতোমধ্যে কেনাফ চাষ শুরু হয়েছে।

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার কৃষক মো. শহিদুল ইসলাম জানান, তিনি ২০ শতাংশ লবণাক্ত জমিতে প্রথমবারের মতো কেনাফ চাষ করেছেন। তার মতে, ধানের চেয়ে কেনাফ চাষে লাভ বেশি। সেজন্য ভবিষ্যতে আরও বেশি জমিতে কেনাফ চাষ করবেন।

পটুয়াখালী পাট গবেষণা উপকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সৈয়দ আফলাতুন কবির হিমেল জানিয়েছেন, এবছর প্রথমবারের মতো ১২ কৃষকের মধ্যে ৮ জনকে আঁশ উৎপাদনের জন্য এবং ৪ জনকে বীজ উৎপাদনের জন্য প্রদর্শনী দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, বাংলাদেশের উপকূলীয় প্রায় ১০ লাখ হেক্টর অনাবাদি জমিতে কেনাফের চাষ সম্প্রসারণ করা সম্ভব।

বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিজেআরআই) উদ্ভাবিত কেনাফ জাতের পাতা উন্নতমানের গো-খাদ্য হিসেবে ব্যবহারযোগ্য এবং এর আঁশ রপ্তানিযোগ্য। এটি কৃষকদের অতিরিক্ত আয়ের সুযোগও সৃষ্টি করবে। ড. নার্গীস আক্তার, বিজেআরআইর মহাপরিচালক বলেন, কেনাফের আবাদ সম্প্রসারণের মাধ্যমে উপকূলীয় কৃষকদের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

কেনাফ চাষের মাধ্যমে শুধু লবণাক্ত জমি আবাদযোগ্য হবে না, বরং প্রান্তিক কৃষকদের আর্থিক সচ্ছলতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন জোয়ার আনবে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালের নতুন বছরেও আওয়ামী লীগ নেতাদের রাজপথে অনুপস্থিতি, নিস্তব্ধ সেরনিয়াবাত ভবন

নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে যখন অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতারা রাজপথে ছিলেন, তখন বরিশালের শীর্ষ পর্যায়ের আওয়ামী লীগ নেতারা আত্মগোপন এবং কারাগারে থাকায় তাদের উপস্থিতি ছিল না। যদিও ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তারা নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যালয় ও সেরনিয়াবাত ভবন ছিল একেবারে নিস্তব্ধ।

বরিশাল নগরের সোহেল চত্বরস্থ নগর ও জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়টি একসময় ছিল একাধিক কর্মসূচি ও দলীয় মিটিংয়ের কেন্দ্রস্থল। দীর্ঘ এক যুগ ধরে এটি সরব ছিল দলীয় নেতাকর্মীদের পদচারণায় এবং স্লোগানে। তবে সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর নেতৃত্বে গত কয়েক বছর ধরে দলের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম সেরনিয়াবাত ভবন থেকে পরিচালিত হতে থাকে। এরপর থেকেই ভবনটি ছিল বরিশালের রাজনীতি নিয়ন্ত্রণের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান।

তবে, সম্প্রতি, সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর চাচা আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ খোকন সিটি মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলে সোহেল চত্বরের কার্যক্রম কিছুটা ধীর হয়ে পড়ে। এর ফলে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বের মধ্যে বিভাজন তৈরি হয় এবং অনেক সিদ্ধান্ত নেয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে। এতে সাধারণ জনগণ বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে, এবং তাদের মধ্যে দ্বিধাদ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়।

২০২৫ সালের শুরুতে, ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর বরিশালের রাজনীতি পরিস্থিতি অনেকটাই পাল্টে যায়। দলীয় নেতারা পালিয়ে গিয়ে নগরবাসী কিছুটা স্বস্তি পায়। বিশেষত, কালিবাড়ি রোডের ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, তাদের দীর্ঘ ৫-৬ বছরের ভোগান্তি শেষ হয়ে গেছে, কারণ সেরনিয়াবাত ভবন থেকে নেতাকর্মীদের যাতায়াত বন্ধ হয়ে গেছে এবং এখন রাস্তায় স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে এসেছে।

একই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বরিশালের বিবির পুকুরের দক্ষিণ প্রান্তেও, যেখানে সিটি করপোরেশনের অ্যানেক্স ভবনের নিচতলার পশ্চিম প্রান্তে আওয়ামী লীগের কার্যালয়টি আগুনে পুড়ে ধ্বংস হয়ে গেছে। এই ঘটনায় পুরো অ্যানেক্স ভবনও ধ্বংস হয়ে যায়। তবে বর্তমানে, এখানে নেতা-কর্মীদের পদচারণা নেই এবং স্থানটি শুধুমাত্র সাধারণ মানুষের যাতায়াতের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে শিক্ষার্থীরা বলছেন, বরিশালের জনগণ দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের শিকার ছিল, যার ফলে তাদের মাঝে বিরক্তি ও ক্ষোভ জমা হয়ে গেছে। ৪ ও ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লব সেই ক্ষোভেরই ফলস্বরূপ ছিল, এবং এই ঘটনাগুলোর ফলে আওয়ামী লীগের নেতারা বর্তমানে রাজপথে অনুপস্থিত।

নগরবাসী এখন এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেয়ে কিছুটা স্বস্তি অনুভব করছেন, যদিও অনেক নেতাই এখনও দেশ ছেড়ে চলে গেছেন বা কারাগারে রয়েছেন।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে গাছের সংখ্যা কম, চুরি বাড়ায় খেজুরের রস সংগ্রহ কমছে

বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলে খেজুরের গাছের সংখ্যা কমে যাওয়ার পাশাপাশি, রস চুরির ঘটনা বাড়ছে, যার ফলে খেজুর রস সংগ্রহে দেখা দিয়েছে বিপত্তি। গাছ কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ ইটভাটার জন্য খেজুর গাছ কাটা এবং খেজুরের রস সংগ্রহের কাজে ব্যবহৃত উপকরণের দাম বাড়ানো। এ অবস্থায়, ঐতিহ্য ধরে রাখতে কিছু গাছি বেঁচে থাকা গাছগুলো থেকে রস সংগ্রহ করছেন, কিন্তু চুরি ও অন্যান্য সমস্যার কারণে সংগ্রহের পরিমাণ দিন দিন কমছে।

বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার আলী হাওলাদার (৫৫) জানিয়েছেন, তিন দশক ধরে খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করছেন। তবে এখন গাছ কমে যাওয়ায় রস সংগ্রহের পরিমাণ অল্প। তিনি বলেন, একসময় এক বাড়ি থেকেই ২০-৩০ লিটার রস সংগ্রহ করা যেত, কিন্তু বর্তমানে পাঁচটি বাড়ি ঘুরলেও মাত্র ২০টি গাছ পাওয়া যায় না। গাছের মালিকদের সঙ্গে মজুরি নিয়ে সমস্যা দেখা দিচ্ছে এবং ইটভাটার জন্য গাছ কাটার কারণে এই সমস্যা আরও বেড়েছে।

ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার আলমগীর হোসেন হাওলাদার জানান, তিনি গত ২০-২৫ বছর ধরে খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করে আসছেন, তবে বর্তমানে গাছের সংখ্যা কমে যাওয়ার পাশাপাশি রস চুরি এবং হাড়ির দাম বৃদ্ধির কারণে কাজ করতে আগ্রহী গাছিদের সংখ্যা কমে গেছে। তিনি আরও জানান, সড়কের পাশে গাছের রস হাঁড়িতে ঝোলানোর সাথে সাথে তা চুরি হয়ে যায়, যার ফলে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন গাছিরা।

গাছিরা জানাচ্ছেন, রস সংগ্রহের সময় তাদের বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়। গাছের নিচে কাটা দিয়ে রস সংগ্রহ করতে হয় এবং বাদুড় থেকে রক্ষা করার জন্য মশারির কাপড় বা নেট ব্যবহার করতে হয়। কিন্তু এসব সতর্কতা গ্রহণের পরও অনেক সময় সঠিক পরিমাণে রস পাওয়া যাচ্ছে না, যার ফলে গাছিরা আগ্রহ হারাচ্ছেন।

একদিকে যেখানে খেজুরের রস সংগ্রহের পরিমাণ কমছে, সেখানে অন্যদিকে খেজুর রসের চাহিদাও বেড়ে গেছে। বরিশাল শহরতলীর বাসিন্দা সীমা বেগম বলেন, শীতকালে খেজুর রসের পিঠার ঐতিহ্য ছিল, তবে এখন তা কিনতে গিয়ে মনের মতো রস পাওয়া যায় না। তিনি জানান, গুড় বানানোর জন্য যে পরিমাণ রস দরকার, তা একদিনে বাজারে পাওয়া যায় না। এ কারণে খেজুর রসের পিঠা বানানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

বর্তমানে খেজুর রসের দামও বেড়েছে, প্রতি লিটার রস বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকায়। রসের সরবরাহ কম এবং চাহিদা বেশি হওয়ায় বাজারে এটি বিক্রি করার পর গাছিরাও লাভবান হতে পারছেন না।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ববির দুটি হল ও লাইব্রেরির নাম বদলে দিলেন শিক্ষার্থীরা

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি এবং দুটি আবাসিক হলের নাম পরিবর্তন করে ব্যানার টানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। গত ১৪ জানুয়ারি মঙ্গলবার, ‘শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি’র পরিবর্তে ‘কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার’, ‘বঙ্গবন্ধু আবাসিক হল’র পরিবর্তে ‘বিজয় ২৪ হল’ এবং ‘শেখ হাসিনা হল’র নাম পরিবর্তন করে ‘কবি সুফিয়া কামাল’ লেখা ব্যানার টানানো হয়।

এ ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং উপ-উপাচার্যের কাছে একটি স্মারকলিপি পেশ করেন, যাতে ৭ কার্যদিবসের মধ্যে নাম পরিবর্তনের দাবি জানানো হয়েছে।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-আন্দোলনের বরিশাল মহানগর কমিটির আহ্বায়ক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শহীদুল ইসলাম সাহেদ জানান, এই নাম পরিবর্তনের দাবি দীর্ঘদিন ধরেই উঠেছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত’, ‘বঙ্গবন্ধু আবাসিক হল’ এবং ‘শেখ হাসিনা হল’ নামগুলি পরিবর্তন করার আহ্বান জানানো হয়েছিল। কিন্তু অফিসিয়ালভাবে নাম পরিবর্তন না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা নিজেরাই এসব নাম বদলে ব্যানার টানানোর পদক্ষেপ নেন।

এ বিষয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রাব্বানী জানান, শিক্ষার্থীরা নাম পরিবর্তন করে ব্যানার টানিয়েছে এবং বিকালে তারা স্মারকলিপি দিয়েছে। স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, “ফ্যাসিস্ট হাসিনা পতনের পর দীর্ঘ ৬ মাস পার হয়ে গেছে, কিন্তু এখনও বিভিন্ন ভবনের নাম ফ্যাসিস্টদের নামে রয়েছে।” শিক্ষার্থীরা দাবি করেছেন, এই নামগুলো দ্রুত সিন্ডিকেট সভায় আলোচনা করে পরিবর্তন করা উচিত।

উপ-উপাচার্য আরো জানান, সিন্ডিকেট সভায় নাম পরিবর্তন বিষয়ে আলোচনা হবে এবং যদি এটি জরুরি হয়, তবে উপাচার্য সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করে বিষয়টি সমাধান করতে পারেন।

শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেছেন, তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে বঙ্গমাতা হলের নাম পরিবর্তন করে ‘শহীদ নাফিসা হল’ অথবা ‘শহীদ রিয়া গোপ হল’ করার প্রস্তাব।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম