টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভয়াবহ আগুন, শিশু নিহত

কক্সবাজারের টেকনাফে ২৬ নম্বর মোছনী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এক শিশু নিহত হয়েছে, নিখোঁজ রয়েছে আরও দুইজন। বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) রাত ১১টার দিকে ক্যাম্পের জি-২ ব্লক থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়।

ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট এবং রোহিঙ্গা বাসিন্দাদের একঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসলেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শতাধিক ঘর। তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ পরিসংখ্যান জানা যায়নি।

২৬ নম্বর ক্যাম্পের মাঝি মোঃ আয়াছ জানান, “রাতে হঠাৎ বাজারের পাশে আগুনের শিখা দেখা যায়, মুহূর্তেই আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।”

ক্যাম্পের সহকারী ইনচার্জ মোস্তাক আহমেদ বলেন, “ঘুমন্ত অবস্থায় মারা যাওয়া শিশুটির বয়স আনুমানিক ৫-৬ বছর। কীভাবে আগুন লেগেছে, তা তদন্ত করা হচ্ছে।”

এর আগেও, গত ২৪ ডিসেম্বর উখিয়ার ১ ডব্লিউ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অগ্নিকাণ্ডে ৬০০ ঘর পুড়ে যায় এবং প্রাণ হারায় দুইজন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



মূল্যস্ফীতি ও ভ্যাট বৃদ্ধিতে ভোক্তাদের বিপর্যস্ত অবস্থা

দেশজুড়ে চলমান মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাপন প্রতিনিয়ত কঠিন হয়ে উঠছে। চলতি বছরের ডিসেম্বরেও খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার ১২.৯২ শতাংশে পৌঁছেছে। এর মধ্যে নতুন করে গুঁড়া দুধ, পোশাক, ফল, বিস্কুটসহ প্রায় ১০০টিরও বেশি পণ্যে আরোপিত হয়েছে বাড়তি ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক। এতে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পাওয়ার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার শঙ্কা রয়েছে।

অর্থনীতিবিদ ড. মোস্তফা কে মুজেরীর মতে, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থায় এই ভ্যাট বৃদ্ধি জনজীবনে আরও চাপ সৃষ্টি করবে। তিনি বলেন, “দীর্ঘ তিন বছরের বেশি সময় ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষ ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে। নতুন ভ্যাট বৃদ্ধির ফলে তাদের জন্য পরিস্থিতি আরও জটিল হবে।”

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর শর্ত পূরণের লক্ষ্যে রাজস্ব আদায় বাড়াতেই সরকার এই পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে এই ভ্যাট বৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষের ওপর আর্থিক চাপ বাড়লেও সরকারের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আদায় আদৌ সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

ড. মুজেরী বলেন, “রাজস্ব ব্যবস্থায় দুর্নীতি ও ফাঁকফোকরের কারণে প্রকৃত রাজস্ব আদায় বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। করহার বৃদ্ধি না করে এই ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করা হলে রাজস্ব আয় বাড়ানো সম্ভব।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, কর ফাঁকির সংস্কৃতি বন্ধ করতে হলে কর আদায়ের ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে হবে। এছাড়া দুর্নীতি দমনে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা এবং রাজস্ব প্রশাসনের দক্ষতা বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন তারা।

সরকারের জন্য এখন প্রয়োজন জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা। তাতে ভোক্তারা কিছুটা স্বস্তি পাবে এবং অর্থনীতি পুনরায় সচল হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




কলকাতার প্রথম ছবিতে পরীমনি, ভিসা না পাওয়ায় প্রচারে যেতে পারছেন না

ঢাকাই সিনেমার আলোচিত নায়িকা পরীমনি। তার অভিনীত সিনেমা ‘ফেলুবক্সী’ মুক্তি পাচ্ছে আগামীকাল শুক্রবার। এই সিনেমার মাধ্যমে কলকাতার সিনেমায় প্রথমবার অভিনয় করেছেন তিনি। তবে ভিসা না পাওয়ার কারণে প্রচারণার জন্য ভারতে যেতে পারছেন না।

বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে ফেসবুকে একটি পোস্টে পরীমনি লিখেছেন, ‘ ১৭ জানুয়ারি ২০২৫ আমার প্রথম সিনেমা ফেলুবক্সী রিলিজ হবে। এটি আমার কাছে খুবই স্পেশাল, কারণ এটি আমার কলকাতার প্রথম ছবি।’

পরীমনি তার পোস্টে আরও লিখেছেন, ‘ছবি মুক্তি অবশ্যই আনন্দের বিষয়, তবে মনটা ভীষণ খারাপ। ভিসা হয়নি, তাই কলকাতায় যেতে পারছি না। ফেলুবক্সী টিমকে ভীষণ মিস করছি। কান্না পাচ্ছে। ডানাকাটা পরী বলেই উড়ে যেতে পারি না। তবে লাবণ্য চরিত্রে আমাকে সবাই কাল থেকে দেখতে পাবেন। প্রিয় কলকাতা, ভালোবাসা নিও।’

দেবরাজ সিনহা পরিচালিত ‘ফেলুবক্সী’ সিনেমায় লাবণ্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন পরীমনি। এটি একটি থ্রিলার সিনেমা। পরীমনি জানান, ‘লাবণ্য চরিত্রটি আমাকে গভীরভাবে আকর্ষণ করেছে। আত্মবিশ্বাস ছিল যে আমি এটি ভালোভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারব। দর্শক কীভাবে গ্রহণ করেন, সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।’

সিনেমাটিতে আরও অভিনয় করেছেন সোহম চক্রবর্তী এবং মধুমিতা সরকার। সোহম ছবির নাম ভূমিকায় রয়েছেন, যেখানে তিনি রহস্য সমাধানে পটু একজন সাধারণ বাঙালি চরিত্রে অভিনয় করেছেন। আর রহস্যের মূল কেন্দ্রবিন্দু লাবণ্য, যা ফুটিয়ে তুলেছেন পরীমনি।

পরীমনির প্রথম কলকাতার সিনেমা ‘ফেলুবক্সী’ ইতোমধ্যে সিনেমাপ্রেমীদের মাঝে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। সিনেমাটি কাল থেকে কলকাতা এবং ভারতের বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শিত হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




একতা ও ঐক্যের বার্তা দিলেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ঐক্যের মাধ্যমে যেকোনো অর্জন সম্ভব। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর হেয়ার রোডে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্র নিয়ে সর্বদলীয় বৈঠকের সূচনায় তিনি এ কথা বলেন।

ড. ইউনূস বলেন, “৫ আগস্ট আমাদের ঐক্যের প্রতীক। সেদিনের অনুভূতিই ছিল একতার অনুপ্রেরণা। আজ আমরা যা করতে যাচ্ছি, তা সকলের মতামতের ভিত্তিতে হওয়া উচিত। একতা আমাদের শক্তি, আমাদের প্রেরণা।”

ড. ইউনূস বলেন, “আমাদের জন্ম ঐক্যের মধ্য দিয়ে। আমরা একসঙ্গে কাজ করলে সাহস পাই। একা হয়ে গেলে দুর্বল মনে হয়। ৫ আগস্টের স্মৃতি রিক্রিয়েট করতে হলে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।” তিনি ছাত্রদের ঘোষণাপত্র প্রসঙ্গে বলেন, “ঘোষণাপত্র শুধুমাত্র একটি গোষ্ঠীর হলে ৫ আগস্টের চেতনার অপমান হবে। একসঙ্গে করলে তবেই ঐক্যের বার্তা প্রকাশ পাবে।”

তিনি গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিচারণ করে বলেন, “আমরা ঐতিহাসিক সেই মুহূর্তকে রেকর্ড করে রাখতে চাই। ৫ আগস্টের বিপ্লবী অনুভূতি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি শিক্ষা হয়ে থাকবে। অতীত এবং বর্তমানের অহেতুক প্রসঙ্গ বাদ দিয়ে সেদিনের যাতনা, আকাঙ্ক্ষা ও উন্মাদনাকে সংরক্ষণ করা জরুরি।”

ড. ইউনূস জোর দিয়ে বলেন, “যে নামেই একে অভিহিত করা হোক না কেন, আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ঐক্যের বার্তা সকলের কাছে পৌঁছানো। এটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও আমাদের শক্তি ও স্থিরতার প্রতীক হবে।”

বৈঠকে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও নাগরিক কমিটিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং অংশীজনরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে ড. ইউনূস বলেন, “এই আলোচনার মাধ্যমে জাতি সাহস অনুভব করবে এবং ঐক্যের নতুন বার্তা পাবে।”

“মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”

 




আরও আলোচনার ভিত্তিতে ঘোষণাপত্র প্রণয়নে গুরুত্ব দিয়েছেন সবাই

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পক্ষে রাজনৈতিক শক্তি, ছাত্র জনতা—সবার মধ্যে আরও বেশি আলোচনার ভিত্তিতে ঘোষণাপত্র প্রণয়ন করার প্রতি সর্বদলীয় বৈঠকে সবাই গুরুত্ব দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল।

বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে গণ-অভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্র নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ডাকা সর্বদলীয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি একথা বলেন।

আসিফ নজরুল বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের নেতৃত্বে জুলাই অভ্যুত্থানের ঘোষণা পত্র প্রণয়ের বিষয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় বিএনপি, জামায়াত, হেফাজতে ইসলাম, বামমঞ্চ, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন, জাতীয় নাগরিক কমিটিসহ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সব রাজনৈতিক শক্তি অংশগ্রহণ করেছে।

বৈঠক জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘোষণা পত্র প্রণয়ের বিষয়ে সবাই একমত হয়েছে জানিয়ে আসিফ নজরুল বলেন, সবাই বলেছেন—এ ধরনের একটা ঘোষণাপত্র করার দরকার আছে। তবে এখানে অনেক সাজেশন আসছে; মোটাদাগে হলো- ঘোষণা পত্রে সবার অবদান বলতে হবে, ধারাবাহিকতা উল্লেখ করতে হবে।

‘ঘোষণাপত্রের রাজনৈতিক নেচার বা লিগ্যাল নেচার কি হবে সেটা স্পষ্ট করতে হবে। বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এই ঘোষণাপত্র আরও বেশি আলোচনার ভিত্তিতে জুলাই গণ অভ্যুত্থানের পক্ষে রাজনৈতিক শক্তি, ছাত্র জনতা—সবার মধ্যে আলোচনা করে সর্বসম্মতিক্রমে এটাকে প্রণয়ন করতে হবে। এটার জন্য যত সময় প্রয়োজন সময় নেওয়া যেতে পারে। তবে এটাও বলছে যাতে অযথা কালবিলম্ব না হয় সেই মতামত দিয়েছে। সবাই ঐকমত্য হয়েছে, আরও নিবিড় পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে এই ধরনের ঘোষণাপত্র হওয়া উচিত। সবাই আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন এই প্রক্রিয়ায় আমরা সফল হতে সক্ষম হবো।’




সর্বদলীয় সংলাপে যোগ দিতে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ

রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৪টায় সর্বদলীয় সংলাপ শুরু হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আহ্বানে সংলাপের প্রস্তুতি হিসেবে বিকেল থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ সেখানে উপস্থিত হতে শুরু করেন।

বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মিয়া গোলাম পরওয়ারের নেতৃত্বে চার সদস্যের প্রতিনিধি দল ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে প্রবেশ করে। এর কিছুক্ষণ পরেই, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ দলটির একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে সংলাপে যোগ দিতে প্রবেশ করেন।

বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, “বিএনপির প্রতিনিধিত্ব করবেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ।” বিএনপির অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও শেষ মুহূর্তে এ বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

এদিকে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গণতন্ত্রমঞ্চ, খেলাফত মজলিস, গণপরিষদ এবং গণসংহতি আন্দোলনের নেতৃবৃন্দও ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে উপস্থিত হয়েছেন।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে গতকাল রাতে জানানো হয়, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সংলাপের আয়োজন করেছে। রাত সোয়া আটটার দিকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই সংলাপের মাধ্যমে রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে আগামী ঘোষণাপত্রের খসড়া প্রণয়ন করা হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্র নিয়ে বিএনপির আলোচনা, সময় প্রয়োজন

বিএনপি জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্র নিয়ে দলীয়ভাবে এবং শরিকদের সঙ্গে আলোচনা না করায়, এখনও এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাচ্ছে না। দলটি মনে করছে, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য আরও সময় প্রয়োজন।

এক্ষেত্রে, বিএনপির পক্ষ থেকে স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, “আমাদের পক্ষ থেকে স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে আজ দেখা করবেন।” বিএনপির শরিক দলগুলোর নেতৃবৃন্দের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা ঘোষণাপত্র নিয়ে মতামত প্রদানে সময়ের অপ্রতুলতার কথা জানিয়েছেন।

এছাড়া, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পূর্বে বলেছিলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একজন উপদেষ্টা মাহফুজ আলম সাহেবের কাছ থেকে ঘোষণার খসড়াপত্র পেয়েছি এবং তিনি অনুরোধ করেছেন এ বিষয়ে আমাদের মতামত জানানোর জন্য। কিন্তু এক দিনের নোটিসে তাদের পক্ষে মতামত জানানো সম্ভব নয়।”

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, “বিষয়টি এত বেশি সংবেদনশীল এবং গুরুত্বপূর্ণ যে, এটা একদিনের নোটিসে করা সম্ভব নয়। আমরা এ বিষয়ে আলোচনা করেছি, এবং আরও আলোচনা করছি। আমাদের অন্যান্য দলও আছে; তাদের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। সংবিধান বিশেষজ্ঞদের সঙ্গেও কথা বলতে হবে, কারণ ঘোষণাপত্রে সংবিধানের ব্যাপারও রয়েছে।”

গতকাল রাতে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে জানানো হয়, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ১৬ জানুয়ারি বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে জুলাইয়ের ঘোষণাপত্র নিয়ে একটি সর্বদলীয় বৈঠক আয়োজন করবে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে উপদেষ্টা মাহফুজ আলম সর্বদলীয় বৈঠক সম্পর্কে জানান, এই বৈঠকের মাধ্যমে ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটি দলিল প্রণীত হবে। ওই দিনই স্পষ্ট হবে কবে ঘোষণাপত্রটি জারি করা হবে এবং সরকার কীভাবে ঘোষণাপত্র জারির বিষয়ে ভূমিকা রাখবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




টস জিতে ব্যাটিংয়ে ঢাকা, বরিশালের একাদশে তিন পরিবর্তন

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) চট্টগ্রাম পর্বে জমজমাট লড়াইয়ে ফিরেছে। সিলেট পর্ব শেষে দুই দিনের বিরতিতে বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে দিনের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে ঢাকা ক্যাপিটালস ও ফরচুন বরিশাল।

ঢাকার অধিনায়ক থিসারা পেরেরা টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। দুপুর ১:৩০ টায় শুরু হওয়া এ ম্যাচ সরাসরি সম্প্রচার করছে গাজী টিভি ও টি-স্পোর্টস।

ঢাকা টানা ছয়টি ম্যাচ হারার পর শেষ ম্যাচে জয়ের মুখ দেখেছে। অন্যদিকে, বরিশাল দারুণ ফর্মে রয়েছে, পাঁচ ম্যাচের তিনটিতে জয় তুলে নিয়েছে তারা।

ফরচুন বরিশাল: বরিশালের একাদশে তিনটি পরিবর্তন এসেছে। শাহীন শাহ আফ্রিদি ও কাইল মেয়ার্স বিপিএল ছাড়ায় দলে যুক্ত হয়েছেন ডেভিড মালান ও মোহাম্মদ নবি। এছাড়া রিশাদ হোসেনের জায়গায় খেলছেন রিপন মন্ডল।
ঢাকা ক্যাপিটালস: ঢাকার একাদশেও দুটি পরিবর্তন আনা হয়েছে।

ঢাকা ক্যাপিটালস একাদশ:
তানজিদ হাসান, লিটন দাস (উইকেটরক্ষক), সাব্বির রহমান, জিন পিয়ের কোয়েটজে, মুনিম শাহরিয়ার, চাতুরাঙ্গা ডি সিলভা, থিসারা পেরেরা (অধিনায়ক), ফরমানউল্লাহ শাফি, মোসাদ্দেক হোসেন, আবু জায়েদ রাহী ও মুস্তাফিজুর রহমান।

ফরচুন বরিশাল একাদশ:
তামিম ইকবাল (অধিনায়ক), নাজমুল হোসেন শান্ত (উইকেটরক্ষক), তৌহিদ হৃদয়, ডেভিড মালান, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, রিপন মন্ডল, ফাহিম আশরাফ, মোহাম্মদ নবি, তানভীর ইসলাম ও জাহানদাদ খান।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




জুলাই গণ-অভ্যুত্থান: আজ সর্বদলীয় বৈঠক

আজ ১৬ জানুয়ারি, ২০২৫, বিকেল ৪টায় রাজধানী ঢাকার হেয়ার রোডে অবস্থিত প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন ‘যমুনা’তে অনুষ্ঠিত হবে একটি গুরুত্বপূর্ণ সর্বদলীয় বৈঠক। বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য হলো জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্র চূড়ান্ত করা। বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। এতে বিএনপি, জামায়াত, গণতন্ত্র মঞ্চসহ প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করবেন।

বৈঠকটি সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত চলবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং।

এ বৈঠকের মাধ্যমে গণ-অভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্র চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনা আরও এগিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বরিশালে নিষিদ্ধ পলিথিনের পরেও বাড়ছে পরিবেশবান্ধব ‘ঠোঙা’ তৈরির চাহিদা

দেশে পলিথিন নিষিদ্ধ হলেও পরিবেশবান্ধব কাগজের তৈরি ঠোঙার কদর কিছুটা কমেছে। পলিথিনের সহজলভ্যতা এবং কম মূল্যের কারণে ক্রেতারা এখন সেগুলোকে বেশি পছন্দ করছেন। যদিও পলিথিন পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর, তারপরও ঠোঙার চাহিদা এখন অনেকটাই কমে গেছে। তবে বরিশালসহ বিভিন্ন অঞ্চলে এখনো কিছু নারীরা ঠোঙা তৈরির কাজ করে জীবনধারণের জন্য।

বরিশালের নতুন বাজার এলাকার বাসিন্দা পারুল বেগম জানান, তিনি ২০ বছর ধরে ঠোঙা তৈরির কাজ করছেন। তবে পলিথিনের জনপ্রিয়তার কারণে কাগজের ঠোঙার দাম বাড়লেও বিক্রি কমেছে। ঠোঙার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজ, আটা, তুঁত সবকিছুর দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন প্রতি কেজি ঠোঙা ৬৫ থেকে ৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যার মধ্যে ১০-১৫ টাকা লাভ হয়।

তুলি বেগম, আরেক ঠোঙা কারিগর, জানান যে, চাহিদা বৃদ্ধি পেলে ঠোঙার উৎপাদন দ্বিগুণ বা ত্রিগুণ করাও সম্ভব। তবে, পলিথিনের বিস্তার ঠোঙার ব্যবসায় ক্ষতি করেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে, কিছু নারী পরিবারে সচ্ছলতা আনার জন্য ঠোঙা তৈরির কাজ করেন, যার মাধ্যমে তারা সংসারের খরচ বহন করতে সক্ষম হন।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, পরিবেশবান্ধব কাগজের ঠোঙা পরিবেশের জন্য অত্যন্ত উপকারী, কারণ এটি সহজেই পচনশীল। পলিথিন মাটির নিচে চাপা পড়লেও সহজে পচে না এবং তা পরিবেশে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি করে।

তবে ক্রেতারা এখন সস্তা পলিথিন বা নেটের ব্যাগ বেশি পছন্দ করছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঠোঙার ঐতিহ্য থাকলেও বর্তমানে পলিথিন এবং নেট ব্যাগের ব্যবহার প্রবণতা বেড়েছে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম