গভীর নিরাপত্তার সংকটে দেশের রাজনীতি

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : ঐতিহাসিক চব্বিশের গণ অভ্যুত্থানের পর আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যখন দেশের দ্বার প্রান্তে তখনই দেশে ঘটে গেল এক পৈশাচিক ঘটনা।

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদিকে প্রকাশ্যে গুলি করা হলো। এর আগে গত ৭ নভেম্বর বিএনপিঘোষিত চট্টগ্রাম-৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী এরশাদউল্লাহকে প্রকাশ্যে গুলি করা হয়।এখন তাহলে প্রশ্ন জাগতেই পারে দেশের রাজনীতি কি নিরাপত্তার সংকটে পড়েছে?

নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিনই রাজধানীতে ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় সামগ্রিক নিরাপত্তাকে অবিশ্বাস্য রকমের নাড়া দিয়েছে। এ ঘটনায় রাজনৈতিক নেতা-কর্মী, সমর্থক থেকে সর্বস্তরের মানুষ রীতিমতো হতভম্ব।

তাহলে রাজনীতিতে নিরাপত্তাটা কোথায়? এই পরিস্থিতিতে প্রার্থীরা কীভাবে নির্বাচন করবেন, কী করে নির্বাচনে অংশ নেবেন? আর দেশের নিরাপত্তাব্যবস্থাই বা কোন দিকে যাচ্ছে? এ প্রশ্ন এখন বুদ্ধিজীবী, পেশাজীবীসহ সর্বস্তরের মানুষের। বিশেষ করে রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের মাঝে আরও জোরালো হয়ে উঠেছে। বাড়ছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। কী হতে যাচ্ছে সামনের দিনগুলোতে?

এ প্রসঙ্গে বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ  বলেন, সব রাজনৈতিক নেতারা যাতে নিরাপদে থাকে, সে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছি।

বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘কোনো আশঙ্কাকেই আমরা উড়িয়ে দিচ্ছি না। এখানে সরকারের দায়িত্ব আছে, রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্ব আছে। জনগণের সচেতনতা জরুরি।’ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, যৌথ বাহিনী, সরকার, জনগণ ও রাজনৈতিক দলগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি ।

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিনই একজন অন্যতম জুলাই যোদ্ধা এবং এমপি প্রার্থীর ওপর প্রকাশ্যে গুলি চালানোর ঘটনা নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে মারাত্মকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

এ ধরনের বর্বর হামলা দেশের শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বিপর্যস্ত করে। তিনি বলেন, ওসমান হাদি গত ১৩ নভেম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক স্ট্যাটাসে জানান ৩০টি বিদেশি নম্বর থেকে কল ও টেক্সট করে তাঁকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে এবং তাঁর মা, বোন ও স্ত্রীকে ধর্ষণের হুমকিও দেওয়া হয়েছে।

ফলে দেশবাসীর কাছে এটা পরিষ্কার যে প্রশাসন তাঁর নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। হামলাকারীদের অবিলম্বে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে হবে এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সব প্রার্থী, দলীয় কর্মী ও সাধারণ নাগরিকের নিরাপত্তায় কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

শরিফ ওসমান হাদির ওপর সশস্ত্র হামলার ঘটনাকে গণতন্ত্র, আইনশৃঙ্খলা ও নাগরিক নিরাপত্তার ওপর সরাসরি আঘাত এবং নির্বাচন বানচালের সুস্পষ্ট অপচেষ্টা বলে অখ্যায়িত করেছেন করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ।

রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ূম এবং আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। তাঁরা বলেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরপরই ‘ফ্যাসিবাদের দোসররা’ সন্ত্রাসের মাধ্যমে নির্বাচনি পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা শুরু করেছে। রাজনৈতিক ভিন্নমত দমনে গুলি ও হামলার মতো আচরণ কোনো সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়। আসন্ন নির্বাচনে সব প্রার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে নেতারা বলেন, নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে যে কোনো সহিংসতা ‘চরম অগ্রহণযোগ্য’। জনগণের নিরাপত্তা এবং প্রার্থীদের অবাধ চলাচল নিশ্চিতে সরকারকেই দায়িত্ব নিতে হবে।

জানা গেছে, ‘জুলাই গণ অভ্যুত্থানের অন্যতম নায়ক এই ওসমান হাদির ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনা’কে অন্তর্বর্তী সরকার থেকে শুরু করে রাজনীতিক, বুদ্ধিজীবী, নিরাপত্তা বাহিনী ও বিশ্লেষকরা কেউ-ই বিচ্ছিন্ন কিংবা স্বাভাবিক কোনো ঘটনা হিসেবে দেখছেন না। তাঁরা সবাই অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন।

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ঘটনাটিকে সিরিয়াসলি নিয়েছেন এবং ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তিনি বড় রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তাঁর উপস্থিতিতে শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনায় সম্মিলিতভাবে প্রতিবাদ সভা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি। আগামী দুই-এক দিনের মধ্যেই এই সভার আয়োজন করা হবে।

অন্যদিকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ওসমান হাদির ওপর গুলিবর্ষণকারীদের ধরিয়ে দিতে ৫০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছেন। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সক্রিয়ভাবে কাজ শুরু করেছে।

পতিত আওয়ামী লীগ ও ভারত বিরোধিতায় সরব ওসমান হাদির ওপর হামলার নিন্দা জানাচ্ছেন গণ অভ্যুত্থানে সক্রিয় তরুণ নেতারা। তাঁরা বলছেন, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ জুলাই আন্দোলনের নেতাদের হত্যার মিশন নিয়ে মাঠে নেমেছে। এই মিশন যে কোনো মূল্যে বন্ধ করতে হবে।

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর বলেন, শরিফ ওসমান হাদির ওপর আঘাত মানে জুলাইয়ের ওপর আঘাত।। তিনি বলেন, ওসমান হাদি জুলাইয়ের একটা চরিত্র। ওসমান হাদির ওপর গুলির ঘটনায় ২৪ ঘণ্টা পার হলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাউকে গ্রেপ্তার করতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, হাদির ওপর আঘাত মানে জুলাইয়ের ওপরে আঘাত।

ওসমান হাদির মর্মান্তিক ও নৃশংস ঘটনায় রাজনীতিবিদদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের (এনডিএফ) সভাপতি ও জাতীয় পার্টির একাংশের চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। এই পরিস্থিতিতে প্রার্থীরা কীভাবে নির্বাচন করবেন, কী করে নির্বাচনে অংশ নেবেন? সামগ্রিক পরিস্থিতিতে উদ্বেগ জানিয়ে তিনি বলেন, মব, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস চলছে। জুলাই আন্দোলনের পরও আগের মতো নির্বাচন হলে অভ্যুত্থানের মর্মটাই নষ্ট হয়ে যাবে।




জিজ্ঞাসাবাদে সদুত্তর দিতে পারেননি আনিস আলমগীর

সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে হেফাজতে নেওয়ার পর ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কার্যালয়ে দীর্ঘ সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তবে জিজ্ঞাসাবাদের একাধিক বিষয়ে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে না পারায় তার বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। সে কারণেই রাতটি তাকে ডিবি কার্যালয়েই কাটাতে হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

রোববার (১৪ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে ডিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, জিজ্ঞাসাবাদের সময় কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের সদুত্তর দিতে পারেননি আনিস আলমগীর। বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান থাকায় আপাতত তাকে ডিবি কার্যালয়ে রাখা হয়েছে।

ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলাম বলেন, আনিস আলমগীরকে নির্দিষ্ট কয়েকটি বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে যেসব প্রশ্ন করা হয়েছিল, সেগুলোর কিছুতে তিনি স্পষ্ট ও গ্রহণযোগ্য উত্তর দিতে পারেননি। এ কারণে তার বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। যেহেতু আইনি প্রক্রিয়া এখনো শেষ হয়নি, তাই তাকে রাতের জন্য ডিবি কার্যালয়েই অবস্থান করতে হচ্ছে।

এর আগে রাতে আনিস আলমগীরকে ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়। তখন ডিবি প্রধান জানিয়েছিলেন, কিছু নির্দিষ্ট তথ্য ও বিষয় পরিষ্কার করার জন্যই তাকে গোয়েন্দা কার্যালয়ে আনা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পরবর্তীতে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারের মাধ্যমে জানানো হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকার একটি জিম থেকে আনিস আলমগীরকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়। এরপর থেকেই তাকে জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় নেওয়া হয়। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য যাচাই করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




২৭ বিমা কোম্পানির নিরীক্ষকের মতামতে বিএসইসির উদ্বেগ

বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বিমা খাতকে ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সর্বশেষ সমাপ্ত হিসাববছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে তালিকাভুক্ত ২৭টি বিমা কোম্পানির আর্থিক অবস্থা ও সুশাসন নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন নিরীক্ষকরা। কোথাও প্রতিকূল মতামত, কোথাও শর্তযুক্ত মতামত, আবার কোথাও প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ টিকে থাকা নিয়েই সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে। এসব পর্যবেক্ষণকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

বিএসইসির মূল্যায়নে বলা হয়েছে, নিরীক্ষকদের এ ধরনের মন্তব্য বিনিয়োগকারীদের স্বার্থের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এবং বাজারে স্বচ্ছতা ও আস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে কোনো প্রতিষ্ঠানের আর্থিক প্রতিবেদনে যদি ‘গোয়িং কনসার্ন’ বা ভবিষ্যতে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা নিয়ে সন্দেহ থাকে, তবে সেটি পুঁজিবাজারের জন্য বড় ধরনের সতর্ক সংকেত। এসব কারণেই বিমা খাতের প্রধান নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছে কমিশন।

এই প্রেক্ষাপটে সম্প্রতি আইডিআরএর চেয়ারম্যান বরাবর বিএসইসির করপোরেট রিপোর্টিং ডিপার্টমেন্ট একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে। সেখানে তালিকাভুক্ত বিমা কোম্পানিগুলোর নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে উঠে আসা পর্যবেক্ষণগুলো তুলে ধরে প্রযোজ্য আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে যেসব কোম্পানির আর্থিক অবস্থা ও সুশাসন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—এশিয়া ইন্স্যুরেন্স পিএলসি, এশিয়া প্যাসিফিক জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি পিএলসি, সেন্ট্রাল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্স পিএলসি, দেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, ঢাকা ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড, ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, ফেডারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি পিএলসি, গ্রিন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স পিএলসি, ইসলামী কমার্শিয়াল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, ইসলামী ইন্স্যুরেন্স বাংলাদেশ লিমিটেড, জনতা ইন্স্যুরেন্স পিএলসি, মেঘনা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, নর্দার্ন ইসলামী ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড, প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স পিএলসি, ফিনিক্স ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, প্রাইম ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, রিপাবলিক ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, রূপালী ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড, সিকদার ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড, ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড এবং সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড।

নিরীক্ষকদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোথাও আর্থিক তথ্যে বড় ধরনের অসঙ্গতি রয়েছে, কোথাও আবার কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয়নি। অনেক ক্ষেত্রে নিরীক্ষকরা বিশেষ কোনো বিষয়ে আলাদা করে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করেছেন। আবার কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে ব্যবসা অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এসব বিষয় একত্রে বিমা খাতের সামগ্রিক আর্থিক শৃঙ্খলা ও সুশাসনের ওপর প্রশ্ন তৈরি করছে।

বিএসইসির পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাববছরের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এ ধরনের প্রতিকূল বা শর্তযুক্ত মতামত বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমে যাওয়ার অন্যতম বড় কারণ। পুঁজিবাজারকে স্থিতিশীল রাখতে হলে আর্থিক প্রতিবেদনগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে আইডিআরএ কার্যকর পদক্ষেপ নিলে বিমা খাতে আর্থিক সুশাসন আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছে কমিশন।

এ বিষয়ে বিএসইসির পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম জানিয়েছেন, বিমা কোম্পানিগুলোর আর্থিক প্রতিবেদনে নিরীক্ষকদের মতামতের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে আইডিআরএকে জানানো হয়েছে এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি তাদের এখতিয়ারভুক্ত।

পুঁজিবাজার বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. আল-আমিন মনে করেন, আর্থিক খাত সংস্কারের আলোচনায় বিমা খাত অনেকটাই উপেক্ষিত। দাবি পরিশোধে অনিয়ম, দুর্নীতি এবং বিনিয়োগের সীমাবদ্ধতার কারণে এ খাতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমে গেছে। তার মতে, ফরেনসিক নিরীক্ষার মাধ্যমে প্রকৃত আর্থিক চিত্র সামনে আনা এবং বিনিয়োগের সুযোগ বাড়ানো গেলে বিমা কোম্পানিগুলোর আর্থিক অবস্থার উন্নতি সম্ভব। একই সঙ্গে দ্রুত অভিযোগগুলো নিষ্পত্তি করে বাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনাও জরুরি।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




হাদী হামলা, মাসুদের হিসাব জব্দ

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদীর ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খানের সব ব্যাংক হিসাব জব্দ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি)। একই সঙ্গে তার মালিকানাধীন তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ‘অ্যাপল সফট আইটি লিমিটেড’-এর ব্যাংক হিসাবও জব্দের আওতায় আনা হয়েছে।

রোববার (১৪ ডিসেম্বর) এনবিআরের ঊর্ধ্বতন একাধিক সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সন্দেহভাজনের আর্থিক লেনদেন, আয়-ব্যয়ের উৎস এবং সম্ভাব্য অপরাধ সংশ্লিষ্ট অর্থের গতিপথ যাচাইয়ের অংশ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এসব হিসাবে কোনো ধরনের লেনদেন করা যাবে না।

ফয়সাল করিম মাসুদ তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত। তার মালিকানাধীন ‘অ্যাপল সফট আইটি লিমিটেড’ ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন, মোবাইল অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট ও সফটওয়্যার সল্যুশন নিয়ে কাজ করা এই প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) সদস্য হিসেবেও তালিকাভুক্ত। এছাড়া ২০১৬ সালে সরকারের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের পৃষ্ঠপোষকতা এবং বেসিসের সহযোগিতায় মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কম্পিউটার গেম ‘ব্যাটল অব ৭১’ নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান ওয়াইসিইউ টেকনোলজি লিমিটেডের মালিকও ছিলেন তিনি।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, হাদীর ওপর হামলার ঘটনার পরপরই ফয়সাল করিমের নাম সামনে আসে। বিভিন্ন স্থানে ওসমান হাদীর সঙ্গে তার একাধিক ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এসব ছবির সঙ্গে হামলাকারীর চেহারার সাদৃশ্য পাওয়ায় সন্দেহ আরও জোরালো হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ধারণা করছে, ঘটনার আগে কিছুদিন ধরে হাদীর চলাফেরা ও কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করা হয়ে থাকতে পারে।

রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার বিষয়টিও তদন্তের আওতায় এসেছে। ফয়সাল করিম মাসুদ একসময় কার্যক্রমনিষিদ্ধ ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০১৯ সালের ১১ মে ঘোষিত কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে তিনি সদস্য ছিলেন। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১২ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে গঠিত আসনভিত্তিক সমন্বয়ক কমিটিতেও তার সম্পৃক্ততার তথ্য রয়েছে।

উল্লেখ্য, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিন শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা শরিফ ওসমান হাদীকে গুলি করে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যেখানে তিনি এখনো চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, তার অবস্থা ছিল অত্যন্ত সংকটাপন্ন এবং তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়।

এই ঘটনার পর স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী হামলাকারীকে ধরিয়ে দিতে ৫০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণার কথা জানান। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীদের আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেওয়া হয়।

ফয়সাল করিম মাসুদের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পর গত বছরের ২৮ অক্টোবর রাজধানীর আদাবর এলাকায় একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অফিসে অস্ত্রের মুখে ১৭ লাখ টাকা লুটের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তিনি প্রধান আসামি ছিলেন। ওই মামলায় র‍্যাব তাকে গ্রেপ্তার করে তার কাছ থেকে বিদেশি পিস্তল, গুলি ও অন্যান্য আলামত উদ্ধার করে। পরবর্তীতে হাইকোর্ট থেকে তিনি জামিন পান। জামিনে থাকা অবস্থাতেই এবার ওসমান হাদীর ওপর হামলার ঘটনায় তার নাম উঠে এলো।

এনবিআর ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, আর্থিক হিসাব জব্দের মাধ্যমে হামলার পেছনের অর্থনৈতিক যোগসূত্র, পরিকল্পনা ও সহযোগীদের শনাক্ত করা সহজ হবে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে আরও কঠোর পদক্ষেপ আসতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বন্ধ কারখানা, লাফানো শেয়ারদর

প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে উৎপাদন বন্ধ, চার বছর ধরে আর্থিক প্রতিবেদন অনুপস্থিত—এমন অনিশ্চিত বাস্তবতার মধ্যেও শেয়ারবাজারে চমক দেখিয়েছে রিজেন্ট টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে কোম্পানিটির শেয়ারদর বেড়ে হয়েছে দ্বিগুণেরও বেশি, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে প্রশ্ন ও কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ নভেম্বর রিজেন্ট টেক্সটাইলের শেয়ারদর ছিল মাত্র ১ টাকা ৪০ পয়সা। এরপর ধীরে ধীরে দর বাড়তে শুরু করে। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) লেনদেন শেষে কোম্পানিটির শেয়ারদর দাঁড়িয়েছে ৩ টাকা ১০ পয়সায়। অর্থাৎ এক মাসের কম সময়ে শেয়ারদর বেড়েছে প্রায় ২ দশমিক ২১ গুণ।

অথচ বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। ডিএসইর কর্মকর্তারা ২০২৩ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে রিজেন্ট টেক্সটাইলের কারখানায় কোনো উৎপাদন কার্যক্রম খুঁজে পাননি। স্টক এক্সচেঞ্জের প্রকাশিত তথ্যে উল্লেখ করা হয়, কোম্পানিটির কারখানা ২০২২ সালের জুলাই মাস থেকেই বন্ধ রয়েছে। সিকিউরিটিজ আইন অনুযায়ী কোনো তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের কারখানা বা উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ থাকলে তা বিনিয়োগকারীদের অবহিত করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে রিজেন্ট টেক্সটাইল এ বিষয়ে স্টক এক্সচেঞ্জকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছুই জানায়নি।

দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ না করাও কোম্পানিটিকে ঘিরে অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়েছে। সর্বশেষ ২০২০-২১ অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল রিজেন্ট টেক্সটাইল। এরপর চার বছর পেরিয়ে গেলেও নতুন কোনো আর্থিক তথ্য বিনিয়োগকারীদের সামনে আসেনি। ফলে কোম্পানিটির প্রকৃত আর্থিক অবস্থা, দায়-দেনা কিংবা ব্যবসায়িক সক্ষমতা সম্পর্কে বিনিয়োগকারীরা অন্ধকারেই রয়েছেন।

সর্বশেষ প্রকাশিত ২০২০-২১ অর্থবছরের আর্থিক তথ্যে দেখা যায়, ওই বছরে কোম্পানিটির মোট আয় ছিল ১১০ কোটি ৮৭ লাখ টাকা, যেখানে আগের অর্থবছরে আয় ছিল ৮৬ কোটি টাকা। তবে আয় বাড়লেও লোকসানের বোঝা আরও ভারী হয়। ওই অর্থবছরে কর পরবর্তী নিট লোকসান দাঁড়ায় ২০ কোটি ৮০ লাখ টাকার বেশি, যেখানে আগের অর্থবছরে লোকসান ছিল প্রায় ৪ কোটি টাকা।

একই সঙ্গে শেয়ারপ্রতি লোকসান (ইপিএস) বেড়ে দাঁড়ায় ১ টাকা ৬২ পয়সায়, আগের অর্থবছরে যা ছিল ৩১ পয়সা। ২০২১ সালের ৩০ জুন শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) হিসাব করা হয়েছিল ২৬ টাকা ৫২ পয়সা। তবে ওই অর্থবছরের জন্য বিনিয়োগকারীদের কোনো লভ্যাংশ দেয়নি রিজেন্ট টেক্সটাইল কর্তৃপক্ষ। আগের অর্থবছরে মাত্র ১ শতাংশ নগদ ও ১ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দেওয়া হয়েছিল।

শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘদিন উৎপাদন বন্ধ, আর্থিক প্রতিবেদন অনুপস্থিত এবং ধারাবাহিক লোকসানের পরও এমন দর বৃদ্ধি স্বাভাবিক নয়। এতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি বাড়ছে এবং বাজারে অস্বাভাবিক লেনদেনের আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছে। বিনিয়োগকারীদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি নিয়ন্ত্রক সংস্থার সক্রিয় নজরদারির প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে এসেছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ইইউতে কমলো, যুক্তরাষ্ট্রে বাড়লো পোশাক রপ্তানি

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই থেকে নভেম্বর) বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে মিশ্র চিত্র দেখা গেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও নতুন বা অপ্রচলিত বাজারে রপ্তানি কিছুটা কমলেও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে দেশের পোশাক খাত।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) প্রকাশিত সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, আলোচ্য পাঁচ মাসে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬১৩ কোটি মার্কিন ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই অঙ্ক ছিল ১ হাজার ৬১১ কোটি ডলার। অর্থাৎ বছরে ব্যবধানে সামগ্রিকভাবে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে প্রায় শূন্য দশমিক ০৯ শতাংশ।

ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এখনো বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় বাজার হলেও সেখানে রপ্তানিতে সামান্য ভাটা পড়েছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই-নভেম্বর সময়ে ইইউভুক্ত দেশগুলোতে পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৭৮৩ কোটি ডলার। আগের বছর একই সময়ে এই রপ্তানি ছিল ৭৯১ কোটি ডলার। ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে রপ্তানি কমেছে প্রায় ১ দশমিক ০৩ শতাংশ।

অন্যদিকে, বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক বাজার যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানিতে দেখা গেছে ইতিবাচক প্রবণতা। আলোচ্য পাঁচ মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি দাঁড়িয়েছে ১৮৪ কোটি ডলারে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল ১৭৯ কোটি ডলার। এতে করে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে প্রায় ৩ দশমিক ০৬ শতাংশ।

এদিকে অপ্রচলিত বা নতুন বাজারগুলোতে পোশাক রপ্তানি কমেছে। এই বাজারের আওতায় রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, চিলি, চীন, জাপান, কোরিয়া, মালয়েশিয়া, মেক্সিকো, নিউজিল্যান্ড, রাশিয়া, সৌদি আরব, তুরস্ক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশ। চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে এসব নতুন বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে ২৬৭ কোটি ডলার। আগের বছর একই সময়ে এই রপ্তানি ছিল ২৭৫ কোটি ডলার। ফলে নতুন বাজারে রপ্তানি কমেছে প্রায় ৩ দশমিক ১৯ শতাংশ।

ইপিবির সার্বিক পরিসংখ্যানে আরও জানানো হয়েছে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে বাংলাদেশ থেকে মোট পণ্য রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৩ কোটি মার্কিন ডলারে। যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় শূন্য দশমিক ৬২ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে মোট রপ্তানি আয় ছিল ১ হাজার ৯৯১ কোটি ডলার।

বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, ভোক্তা চাহিদার পরিবর্তন এবং বাজারভেদে নীতিগত পার্থক্যের কারণে রপ্তানিতে এই বৈচিত্র্য দেখা যাচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবৃদ্ধি পোশাক খাতের জন্য আশাব্যঞ্জক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




গুলিবিদ্ধ ওসমান হাদি, বাবুগঞ্জে শ্বশুরবাড়িতে শোকের মাতম

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবরে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপাশা ইউনিয়নের প্রতাবপুর গ্রামে তার শ্বশুরবাড়িতে নেমে এসেছে গভীর শোক ও উৎকণ্ঠা। অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সুবেদার সুলতান আহমেদের বাড়িতে চলছে কান্নার রোল।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শরিফ ওসমান হাদি ২০২০ সালে সুলতান আহমেদের কন্যা রাবেয়া শম্পাকে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে ২০২৪ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি এক পুত্রসন্তানের জন্ম হয়। হঠাৎ এই গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় পুরো পরিবার মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে।

ওসমান হাদির শ্বশুর সুলতান আহমেদ কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, তার জামাই ছিলেন সৎ ও প্রতিবাদী মানুষ। অন্যায়ের সঙ্গে কখনো আপস করতেন না। তিনি অভিযোগ করে বলেন, পরিকল্পিতভাবেই সন্ত্রাসীরা তার জামাইয়ের ওপর গুলি চালিয়েছে। তার দাবি, ওসমান হাদি যদি ঢাকা-৮ আসন থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করতেন, তাহলে হয়তো এমন ঘটনা ঘটত না।

খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ওসমান হাদির শাশুড়ি শাহানাজ বেগম ও শালা কাইয়ুম হোসেন ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। এদিকে প্রতিবেশী ও স্বজনরা শ্বশুরবাড়িতে ছুটে এসে পরিবারটিকে সান্ত্বনা দেন।

সুলতান আহমেদ দেশবাসীর কাছে তার জামাইয়ের দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া কামনা করেন এবং হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

উল্লেখ্য, শরিফ ওসমান হাদি বর্তমানে ঢাকার রামপুরা এলাকায় বসবাস করেন। তার বৃদ্ধ মা সেখানেই অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরিশাল বিভাগে ডেঙ্গুতে প্রাণ গেল অর্ধশতাধিকের

বরিশাল বিভাগে চলতি বছরে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা অর্ধশত ছাড়িয়েছে। বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি থেকে ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে। তারা সবাই বিভিন্ন সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, এ সময়ের মধ্যে বরিশাল বিভাগের দুইটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে মোট ২১ হাজার ৫৩১ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হন। এর মধ্যে ২১ হাজার ৩১৭ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে অল্পসংখ্যক রোগী এখনও চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

মৃতদের মধ্যে সর্বাধিক ৩২ জন মারা গেছেন বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এছাড়া বরগুনার বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৫ জন, পটুয়াখালীতে ৩ জন এবং ভোলায় ১ জন ডেঙ্গুতে প্রাণ হারিয়েছেন।

স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টদের মতে, বরগুনা জেলা ও বরিশাল বিভাগের উপকূলীয় এলাকাগুলোতে এ বছর ডেঙ্গু ভয়াবহ আকার ধারণ করে। শুধু সরকারি হাসপাতালগুলোতেই বরগুনা জেলায় ৯ হাজার ৫৮৪ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। তবে প্রকৃত আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কারণ হিসেবে জানানো হয়, বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ব্যক্তিগত চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা নেওয়া রোগীদের তথ্য সরকারি স্বাস্থ্য দপ্তরের পরিসংখ্যানে অন্তর্ভুক্ত নয়। ফলে ডেঙ্গুর প্রকৃত পরিস্থিতি পুরোপুরি প্রতিফলিত হচ্ছে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ধর্ষণ মামলার বাদীকে খুঁজে পাচ্ছে না পুলিশ, হয়রানির বিচার চেয়ে আসামির সংবাদ সম্মেলন

বরিশাল  অফিস ::  বরিশালের বানারীপাড়ায় দায়ের হওয়া একটি ধর্ষণ মামলার বাদীকে গত এক মাসের অধিক সময় ধরে খুঁজে পাচ্ছে না পুলিশ। এতে মামলার তদন্ত কার্যক্রমেও অগ্রগতি আসেনি। ফলে ভুক্তভোগী ও অভিযুক্ত উভয় পক্ষই যথাযথ আইনি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
এদিকে- হয়রানি করতেই একজন ইউপি সদস্য ষড়যন্ত্র করে মিথ্যা ধর্ষণের মামলায় ফাঁসিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন মামলায় অভিযুক্ত মামুন ফরাজি। এমনকি সত্য সামনে আসার ভয়ে বাদীকেও পুলিশের সামনে আসতে দেয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ তার।
রোববার বেলা সাড়ে ১২টায় বরিশাল প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন মামলায় অভিযুক্ত মামুন ফরাজি। তিনি বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের বচুয়া গ্রামের বাসিন্দা মাহবুব ফরাজির ছেলে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ২৭ অক্টোবর ভুক্তভোগী নারী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনালে একটি নালিশি অভিযোগ দায়ের করেন। আদালত নালিশি অভিযোগটি গ্রহণ করে তা এফআইআর করতে বানারীপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জকে নির্দেশ দেন।

আদালতে দাখিল করা নালিশি দরখাস্তে ওই নারী উল্লেখ করেন, তিনি একজন অসহায়। পিতার মৃত্যুর পর মা অন্যত্র বিবাহ করায় চার বোন মানবেতর জীবনযাপন করছেন। জীবিকার তাগিদে তিনি বরিশাল শহরে ছোটখাটো কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন।

নালিশে বলা হয়, ২১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাতটার দিকে তিনি দাদা বাড়ি বানারীপাড়া থেকে পায়ে হেঁটে বরিশাল শহরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। পথিমধ্যে অভিযুক্ত ব্যক্তি হঠাৎ এসে তাকে জোরপূর্বক নিকটস্থ একটি নির্মাণাধীন ভবনের ভেতরে নিয়ে যান। সেখানে তাকে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ধর্ষণ করে। কিন্তু ভয়ে তিনি চিৎকার করতে পারেননি। একপর্যায়ে দু’জন পথচারীর কণ্ঠস্বর শুনে অভিযুক্ত ব্যক্তি ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। পরে ওই দুই পথচারীর সহায়তায় অভিযুক্তের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, পরে তিনি বরিশালে এসে বোন ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে পরামর্শ করে থানায় মামলা করতে গেলে নানা ব্যস্ততার কথা বলে মামলা গ্রহণ করা হয়নি। এ কারণে বাধ্য হয়ে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন।

তবে ধর্ষণের এই ঘটনাটি সম্পূর্ণ পরিকল্পিত বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত মামুন ফরাজি। রোববার (১৪ ডিসেম্বর) বরিশাল প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বানারীপাড়া উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক সবুর খান ওরফে সবুর মেম্বার ও তার সহযোগিরা ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তাকে ধর্ষণ মামলায় ফাঁসিয়েছেন।

লিখিত বক্তব্যে মামুন ফরাজির বাবা মাহাবুব ফরাজি বলেন, গত ৫ আগস্টের পর থেকে সবুর খানের নেতৃত্বে চাঁদাবাজি, নারী নির্যাতন, ২০০ বছরের পুরোনো হিন্দু বাড়ি দখল, সরকারি ৯ একর জমির গাছ বিক্রির অর্থ আত্মসাৎ, খেয়াঘাট দখল, ট্রলার লুট, মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি, থানায় পুলিশের সামনে ছাত্রপ্রতিনিধিদের ওপর হামলা, গরিবদের সরকারি সহায়তা আত্মসাৎ, স্কুল কমিটি দখল, প্রবাসীদের অর্থ আত্মসাৎ ও অটোরিকশা দিয়ে চাঁদা উত্তোলনসহ নানা অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে, যা এখনো অব্যাহত রয়েছে।

তিনি বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট সবুর মেম্বারের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী ভুক্তভোগী মাহাবুব ফরাজির কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে দীর্ঘদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এরপর তার মালিকানাধীন দুটি ট্রলার ছিনতাইয়ের পর বিক্রি করে দেয়া হয়। এ ঘটনায় তার ছেলে মামুন ফরাজি বাদী হয়ে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন।

তিনি জানান, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে সবুর মেম্বার ডিগ্রি পাসের ভুয়া সনদ ব্যবহার করে বাইশারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতির পদ দখল করেন। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগের পর তদন্ত করে বরিশাল শিক্ষা বোর্ড ভুয়া সনদের সত্যতা পায় এবং তাকে সভাপতির পদ থেকে অপসারণ করে।

এতে ক্ষুব্ধ হয়ে সবুর মেম্বার ও তার সহযোগীরা গত ২৭ অক্টোবর একজন নারীকে ব্যবহার করে মামুন ফরাজির বিরুদ্ধে মিথ্যা ধর্ষণ মামলা দায়ের করায়। আদালতের নির্দেশে ১ নভেম্বর মামলাটি থানায় এজাহার হিসেবে রেকর্ড করা হয়। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান ভুক্তভোগী মাহাবুব ও মামুন ফরাজি।

ধর্ষণ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বানারীপাড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জাহিদ হোসেন বলেন, “মামলার বাদীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারায় তদন্তে জটিলতা তৈরি হয়েছে। বাদীর দেয়া মোবাইল নম্বরও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে এবং যে ঠিকানা দেয়া হয়েছে, সেখানে গিয়েও তাঁকে পাওয়া যায়নি। স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। বাদীকে পাওয়া গেলে তদন্ত এগিয়ে নেয়া সহজ হবে।”

এদিকে অভিযুক্ত মামুনের বাবা অভিযোগ করেন, তাঁর ছেলের সঙ্গে স্থানীয় বিএনপি নেতা সবুর খানের দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধ রয়েছে। তাঁর দাবি, ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তাঁদের পরিবারকে হয়রানি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “সবুর খান ভুয়া সনদ দিয়ে একটি বিদ্যালয়ের সভাপতির পদে ছিলেন। এ বিষয়ে আমার ছেলে শিক্ষা বোর্ডে অভিযোগ করলে তাঁকে পদ থেকে অপসারণ করা হয়। এরপরই পরিকল্পিতভাবে এই ধর্ষণ মামলা দায়ের করা হয়েছে। এখন বাদীকে পাওয়া না যাওয়ায় আমরাও সঠিক আইনি সহায়তা পাচ্ছি না।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




কোন অপশক্তিই নির্বাচন বানচাল করতে পারবেনা : ইসি সানাউল্লাহ

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :  প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির  ‍উদ্দিনের সভাপতিত্বে আজ রবিবার  সচিবালয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবসহ সংশ্লিষ্ট আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে এক  বৈঠক  অনুষ্ঠিত হয় ।

বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন,আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে কোনো আশঙ্কা নেই। নির্বাচন যথা সময় অনুষ্ঠিত  হবে তাতে কোন সন্দেহ নেই ।আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী অ্যাক্টিভলি কাজ করছে।যারা এই নির্বাচনকে বানচাল করতে চাইবে তাদের কঠোর হাতে দমন করা হবে ।

এই বৈঠকে নির্বাচন কমিশনাররা ছাড়াও ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ, স্বরাষ্ট্রসচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি), আনসার ও ভিডিপি মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট বাহিনী ও সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আবুল ফজল সানাউল্লাহ বলেন, ‘ওসমান হাদিকে গুলি করার মতো চোরাগুপ্তা হামলাকে প্রতিহত করার জন্য সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে।’ রাজনৈতিক দলগুলোকে পারস্পরিক দোষারোপ থেকে মুক্ত থাকার আহ্বান জানান তিনি।

ইসির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘দুই জায়গায় নির্বাচন কমিশনে আগুন দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। ডেভিল হান্টে যারা বিভিন্ন সময় আটক হয়েছে, তারাই আবার জামিন পাচ্ছে।বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘চোরাগুপ্তা হামলা হয়েছে সেটা কোনো বড় পরিকল্পনার অংশ কি না, এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে। যারা এই নির্বাচনকে বানচাল করার চেষ্টা করবে তাদের প্রতি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর হতে বলা হয়েছে।