পটুয়াখালীর কৃষকরা ইস্পাহানি কোম্পানির বীজে প্রতারিত হয়ে চরম লোকসানে

পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার কৃষকরা ইস্পাহানি কোম্পানির সরবরাহকৃত বীজে প্রতারিত হয়ে এখন বড় লোকসানের মুখে। তারা উচ্চমূল্যে বীজ কিনেও কাঙ্ক্ষিত ফলন না পাওয়ায় এখন দেনার বোঝায় জর্জরিত। কৃষকরা আশায় বুক বেঁধে ফসল ফলাতে গিয়ে আজ গভীর সংকটে পড়েছেন।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, ইস্পাহানির সরবরাহকৃত মুনলাইট ফুলকফির বীজের মান অত্যন্ত নিম্নমানের, যার কারণে ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। জমিতে ফসল পরিপক্ক হওয়ার বদলে তা ফুটে পচে যাচ্ছে, এবং অনেক জমি অনাবাদি হয়ে পড়ে রয়েছে।

কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের মজিদপুর গ্রামের কৃষক মোহাম্মদ লিটন হাওলাদার বলেন, “ইস্পাহানির বীজ কিনতে আমাকে বেশি দাম দিতে হয়েছে। কিন্তু চাষ শুরু করার পরেই বুঝতে পারলাম, বীজে সমস্যা রয়েছে। আমি মজিবর রহমানের কাছ থেকে ইস্পাহানির মুনলাইট ফুলকফির বীজ কিনে জমিতে ফুলকফি চাষ শুরু করেছিলাম। তবে এখন ফসল পরিপক্ক হওয়ার বদলে ফুটে গিয়ে পচে যাচ্ছে। আমি এখন বুঝতে পারছি, আমার বিনিয়োগ হারিয়ে গেছে, আর আমি কিভাবে এই দেনা শোধ করব তা নিয়ে চিন্তিত।”

এছাড়াও, মজিদপুর গ্রামের অন্যান্য কৃষকরাও একই ধরনের সমস্যার সম্মুখীন। তারা জানাচ্ছেন, তাদের জমিতে ফুলকফির ফলন না হওয়ায় জমি অনাবাদি হয়ে পড়েছে এবং তারা চরম হতাশায় রয়েছেন।

কলাপাড়া উপজেলার স্থানীয় ডিলার, মাষ্টার সীডের মালিক মো. মজিবর রহমান জানান, “আমরা কৃষকদের অভিযোগ পেয়ে ইস্পাহানি কোম্পানিকে জানিয়েছি। ওই বীজের কিছু সমস্যা ছিল এবং কোম্পানি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা জানিয়েছে। তবে কৃষকদের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।”

অন্যদিকে, ইস্পাহানি এগ্রোর বরিশাল বিভাগের এরিয়া ম্যানেজার শেখ গোলাম মোস্তাইনের দাবি, “কৃষকরা ফসলের দাম না পাওয়ায় কোম্পানির বিরুদ্ধে অভিযোগ করছে। ডিলার তাদের সঙ্গে কোনো আলোচনায় আসেননি। ডিলার কোম্পানির নাম দিয়ে বিভ্রান্তিকর কথা বলছেন।”

কলাপাড়া উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আরাফাত হোসেন বলেন, “কৃষকদের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বীজের মান পরীক্ষা করে বাজারে ছাড়ার জন্য কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। কৃষকদের সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করা হবে।”

এদিকে, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, “তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণসহ ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সরকারের প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় সহায়তা প্রদান করা হবে। তবে ইস্পাহানির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

কলাপাড়া উপজেলার কৃষকরা দ্রুত প্রতারণার বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, কৃষি উন্নয়নে সহমর্মিতা এবং সুরক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালন করা অত্যন্ত জরুরি।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




চোরদের আর ভোট দেবেন না: মনপুরায় উপদেষ্টা সাখাওয়াত

ভোলার মনপুরা উপজেলার বিচ্ছিন্ন ঢালচরে শনিবার (১৮ জানুয়ারি) নতুন লঞ্চঘাট উদ্বোধন করেছেন নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন। এ সময় তিনি সরকারের বিরুদ্ধে জনমত সৃষ্টি করতে চাইলে জনগণকে চোরদের আর নির্বাচিত না করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “দয়া করে চোরদের আর ভোট দেবেন না।”

এ উপলক্ষ্যে সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, “আপনারা সব দেখেছেন, সব জানেন—একজন ভালো মানুষকে আনুন। যারা নিঃস্বার্থভাবে আপনাদের সঙ্গে থেকে কাজ করে, তাদেরকে ভোট দেবেন।” তিনি অভিযোগ করেন, “বিগত সরকারের সময়ে বড় বড় প্রকল্পের মাধ্যমে লুটপাট হয়েছে, কিন্তু দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে তেমন কোনো উন্নয়ন হয়নি।” তিনি মনে করেন, “শুধু শহর নয়, গ্রামও উন্নয়ন হলে পুরো দেশ উন্নত হবে।”

ড. এম সাখাওয়াত হোসেন আরও বলেন, বর্তমান সরকার বৈষম্যবিরোধী সরকার এবং গ্রামীণ জনপদের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধান করতে কাজ করবে। তিনি বলেন, নদীপথের যোগাযোগ আরও সহজ করতে নদীমাতৃক এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টে নতুন করে লঞ্চঘাট স্থাপন করা হবে। তিনি আশ্বাস দেন যে, মনপুরার সাথে জেলা শহরের সড়ক যোগাযোগের জন্য পর্যায়ক্রমে ফেরি চালু করা হবে, যা নৌ-যোগাযোগকে আরও সহজ করবে।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক জ্বালানি সচিব মো. নাজিম উদ্দিন চৌধুরী, নৌ-পরিবহন উপদেষ্টার একান্ত সচিব মো. জাহিদুল ইসলাম, বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান আরিফ আহমেদ মোস্তফা, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান নির্বাহী মো. নিজাম উদ্দিন সুজন চৌধুরী।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সভাপতি ও উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি আলহাজ্ব সামস উদ্দিন বাচ্চু চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মাহবুবুল আলম শাহীন, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা আমিমুল ইহসান জসিম, প্রেসক্লাব সভাপতি মো. অহিদুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক সীমান্ত হেলাল প্রমুখ।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ঢাকার আন্দোলনে নিখোঁজ ভোলার ছেলে হাসান, পরিবারে শোকের মাতম

ঢাকার যাত্রাবাড়ি থেকে ১৭ জানুয়ারি সকালে নিখোঁজ হওয়া ভোলার ছেলে হাসানের মা গোলেনুর বেগম ছবির হাতে আহাজারি করছেন। তিনি তাঁর ছেলেকে জীবিত বা মৃত অবস্থায় ফিরিয়ে দিতে জোর দাবি জানিয়েছেন। হাসানের মা বলেন, “আরে হাসান তুই কই গেলিরে বাবা, আমি তোরে একনজর দেখতে চাই, তুই মারে থ্যুইয়া কই গেলি,” বলে চোখের পানি ফেলছেন।

হাসান ভোলার সদর উপজেলার কাঁচিয়া ইউনিয়নের শাহমাদর গ্রামের বাসিন্দা মো. মনিরের ছেলে। তিনি ঢাকার গুলিস্তান কাপ্তান বাজারে একটি ইলেকট্রনিক্স দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন। হাসানের নিখোঁজ হওয়ার পর তার পরিবার দিশেহারা হয়ে পড়েছে। মায়ের আহাজারি যেন থামছেই না, ছেলেকে শেষবারের মতো একনজর দেখতে তিনি যেন বুকফাটা শোকে ভুগছেন।

হাসানের মা গোলেনুর বেগম জানান, গত ৫ আগস্ট ঢাকা যাত্রাবাড়িতে সরকার পতনের আন্দোলনের মিছিলে যোগ দিতে গিয়ে আর ফিরে আসেননি হাসান। ৮ আগস্ট ফেসবুকে একটি ভিডিওতে তিনি ভ্যান গাড়িতে তিনটি লাশ দেখতে পান, এবং তাদের মধ্যে একটি লাশের সাথে হাসানের লাশ থাকার দাবি করেন। এরপর হাসানের পরিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গ এবং ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ নিলেও তার সন্ধান পাননি।

হাসানের বাবা মনির জানান, ছেলের লাশ ভ্যান গাড়িতে দেখতে পেয়ে ঢাকায় যান, কিন্তু বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নিয়ে কোথাও তার দেখা মেলেনি। পরে তিনি যাত্রাবাড়ী থানায় নিখোঁজের সাধারণ ডায়েরি করেন এবং মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলনও করেন, তাতেও কোনো ফল পায়নি। এর পাশাপাশি, তিনি ঢাকার কেন্দ্রীয় সমন্বয়কদের সাথেও যোগাযোগ করেছেন।

হাসানের পরিবার জানায়, হাসান ছিল সংসারের একমাত্র উপার্জনকারী। তার অনুপস্থিতিতে পরিবারে অভাব-অনটন শুরু হয়েছে, বিশেষ করে তার ছোট দুই ভাইবোনের পড়ালেখার খরচ মেটানো এখন কঠিন হয়ে পড়েছে। তারা বর্তমান সরকারের প্রধান উপদেষ্টাসহ সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে সহযোগিতা কামনা করেছেন।

এদিকে, এলাকার কয়েকজন স্থানীয়রা জানিয়েছেন, হাসান ছিল একজন ভালো ছেলে। সংসারে সচ্ছলতা ফেরাতে ঢাকায় গিয়েছিল, কিন্তু সেখানে গিয়ে চিরতরে হারিয়ে গেল। সরকারের কাছে তারা সহযোগিতা চেয়েছেন।

হাসানের পরিবার এখনো ছেলের খোঁজে ঢাকা ও ভোলায় দিন কাটাচ্ছে। সর্বশেষ, ১০ জানুয়ারি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহীদ পরিবারের সাথে দেখা করতে এসে হাসানের বাবা-মা একটি ব্যানারে তাদের ছেলের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




তারুয়া সৈকত: দক্ষিণাঞ্চলের নতুন পর্যটন সম্ভাবনা

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার সাগর মোহনার ঢালচরের দক্ষিণে অবস্থিত তারুয়া সৈকত, প্রকৃতির এক অনন্য সৃষ্টি। প্রায় চার দশক আগে বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষে জেগে ওঠা এই ছোট্ট দ্বীপটি, জীববৈচিত্র্য এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর। সোনালি সৈকতের বালুর ঝলকানি, লাল কাঁকড়ার বিচরণ, সবুজ বনভূমি, এবং নানা প্রকার প্রাণী যেন এটিকে প্রকৃতির এক অপূর্ব উপহার হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

এই দ্বীপটি দেশের দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম পর্যটন গন্তব্য হতে পারে। সঠিক পরিকল্পনা ও উদ্যোগের মাধ্যমে তারুয়া সৈকত পর্যটনশিল্পে নতুন মাত্রা যোগ করতে সক্ষম। এর মোহনীয় দৃশ্য এবং বিশাল বালু সমুদ্র সৈকত প্রতিনিয়ত ভ্রমণপিপাসুদের মুগ্ধ করে। তারুয়া সৈকতকে দেশের পর্যটন মানচিত্রে অন্তর্ভুক্ত করতে যথাযথ প্রচার এবং সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

জেলা শহর থেকে প্রায় ১৩৫ কিলোমিটার সড়কপথ এবং ১৫ কিলোমিটার নদীপথ পাড়ি দিয়ে তারুয়া দ্বীপের মোহনীয় সৌন্দর্য দেখা যায়। সাগরের গর্জন, বিস্তৃত নীল জলরাশি এবং সবুজ দ্বীপের মনোরম দৃশ্যের মধ্য দিয়ে যাত্রা অত্যন্ত উপভোগ্য। প্রায় সাত কিলোমিটার দীর্ঘ সৈকতের একপাশে বঙ্গোপসাগর এবং অন্য পাশে বিস্তীর্ণ চারণভূমি রয়েছে, যা ম্যানগ্রোভ বনে শেষ হয়েছে। এই দ্বীপে হরিণ, বন্য মহিষ, বানর, লাল কাকড়াসহ বিভিন্ন প্রাণীর বসবাস।

তারুয়া দ্বীপের নামকরণের ইতিহাস জানা না গেলেও স্থানীয়দের মতে, প্রায় ৪০-৪৫ বছর আগে বঙ্গোপসাগরের বুকে এ এলাকা জেগে ওঠে। স্থানীয় জেলেরা যখন মাছ ধরতে যেত, তখন তাদের জালে শত শত ‘তারুয়া’ নামক মাছ ধরা পড়ত, যা সম্ভবত এই দ্বীপের নামকরণের কারণ।

বর্তমানে তারুয়া দ্বীপে স্থায়ী বসবাস গড়ে ওঠেনি, তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পর্যটকদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। স্থানীয়রা মনে করেন, যদি পর্যাপ্ত প্রচার ও পর্যটকদের জন্য সুবিধা নিশ্চিত করা যায়, তবে এটি দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে সক্ষম। এটি ভবিষ্যতে দেশের দ্বিতীয় সেন্ট মার্টিন হতে পারে।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. আজাদ জাহান বলেন, “জেলার পুরো দ্বীপে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। মনপুরা, ঢালচরের তারুয়া সৈকত এবং চর কুকরি-মুকরি পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় স্থান। এ স্থানে পর্যটকদের জন্য নিরাপদ ও সহজ যোগাযোগব্যবস্থা তৈরির জন্য পরিকল্পনা চলছে। তারুয়া সৈকতকে একটি উন্নত পর্যটন গন্তব্যে পরিণত করার জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলেছি।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




মঠবাড়িয়ায় জরাজীর্ণ সেতু, ১৩ বছরের দুর্ভোগ

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার গোলবুনীয়া ও জানখালী গ্রামের সীমান্তবর্তী এলাকায় সেতুর অভাবে স্থানীয়রা দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। ২০০৭ সালের ঘূর্ণিঝড় সিডরে সেতুটি ভেঙে পড়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত তা মেরামত হয়নি। স্থানীয়রা বাঁশের সাঁকো ও সুপারি গাছের ওপর ভরসা করে ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন।

সেতুটির মাধ্যমে স্থানীয় কমিউনিটি ক্লিনিকে রোগীরা চিকিৎসা নিতে যান। এ ছাড়া জানখালী উলুবাড়িয়া হামিদিয়া দাখিল মাদরাসা, জানখালী সম্মিলিত মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বেতমোড় মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ও জানখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন আতঙ্ক নিয়ে সেতু পার হচ্ছেন। প্রায় ৪০ গ্রামের মানুষ সেতুটির ওপর যাতায়াতের জন্য নির্ভরশীল।

কৃষক মো. সিদ্দিক মীর জানান, “বারবার জনপ্রতিনিধিদের কাছে সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েও কোনো সাড়া পাইনি। আমরা চরম দুর্ভোগে আছি।” কৃষক ও গবাদি পশু পারাপারেও ভোগান্তির শেষ নেই।

প্রায় ৩০ বছর আগে আমড়াগাছিয়া-বেতমোড় ইউনিয়নের সাংরাইল খালের ওপর লোহার সেতুটি নির্মাণ করা হয়। সিডরের সময় সেতুটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে সিমেন্টের স্ল্যাবগুলো ভেঙে পড়ে। এরপর থেকে সেতু মেরামত বা পুনর্নির্মাণে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

মঠবাড়িয়া উপজেলা প্রকৌশলী মো. জিয়ারুল ইসলাম জানান, “৩০ বছর আগে নির্মিত সেতুটি বর্তমানে চলাচলের অনুপযুক্ত। জরাজীর্ণ সেতুর তালিকা করে এলজিইডি প্রধান কার্যালয়ে প্রকল্প প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মো: আল-আমিন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ মামলায় বিএফআইইউ’র সাবেক প্রধান গ্রেপ্তার

বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) সাবেক প্রধান মাসুদ বিশ্বাসকে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) গ্রেপ্তার করেছে।

শনিবার (১৮ জানুয়ারি) পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সহায়তায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। দুদকের উপপরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধানের নেতৃত্বে একটি টিম তাকে আদালতে হাজির করবে বলে জানা গেছে।

মাসুদ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে দুদক ২ জানুয়ারি একটি মামলা দায়ের করে। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, তিনি ১ কোটি ৮৭ লাখ ৭২ হাজার ৬২২ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন, যা তিনি নিজের নামে ভোগ দখলে রেখেছেন। এই অপরাধে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারায় মামলা করা হয়।

এছাড়া তার স্ত্রী কামরুন নাহারের বিরুদ্ধে ৭২ লাখ ৫৬ হাজার ৯৯৯ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪ এর ২৬(১) ধারায় সম্পদ বিবরণী নোটিশ জারি করা হয়েছে।

দুদক সূত্র জানিয়েছে, ঢাকার বিভিন্ন স্থানে মাসুদ বিশ্বাস ও তার স্ত্রীর নামে জমি ও ফ্ল্যাট রয়েছে। অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে এ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ পাওয়া যায়। বিষয়টি তদন্ত করতে গত বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।

দুদক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মাসুদ বিশ্বাসের এসব সম্পদ অর্জনের উৎস অস্বচ্ছ এবং এতে বিদেশে অর্থপাচারের সম্ভাবনার ইঙ্গিত রয়েছে। এ কারণে তার বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বরিশালে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণে বদলে যাচ্ছে তরুণ প্রজন্মের ভাগ্য

বরিশালের সরকারি ও বেসরকারি আইটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলো বেকার যুবক ও যুব নারীদের আত্ম-কর্মসংস্থানের পথ তৈরি করছে। এসব কেন্দ্র থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে তরুণ-তরুণীরা আউটসোর্সিং পেশায় যুক্ত হয়ে গড়ে তুলছেন স্বাবলম্বী জীবন।

বরিশালে আইটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলো তরুণদের ফ্রিল্যান্সিংয়ের বিভিন্ন দিক শেখাচ্ছে। ডিজিটাল স্কিলসের মধ্যে রয়েছে ওয়েব ডিজাইন, গ্রাফিক্স ডিজাইন, কনটেন্ট রাইটিং, সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং। এছাড়া বরিশাল ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজি-সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে স্বল্প মেয়াদী প্রশিক্ষণ কোর্স পরিচালিত হচ্ছে।

প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জেলার যুবসমাজ মাসে ১ থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করছে। শুধু ব্যক্তি পর্যায়ে নয়, অনেকে গড়ে তুলছেন ছোট ছোট প্রতিষ্ঠান। এতে দেশের অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বরিশালের বিভিন্ন এলাকায় শতাধিক তরুণ-তরুণী আউটসোর্সিং পেশায় সফলতা অর্জন করেছে। ফ্রিল্যান্সার মো. নওশাদ ও মো. তানভীর ইসলামের মতো অনেকে শুরুতে ছোট পরিসরে কাজ করলেও বর্তমানে তারা স্বাবলম্বী।

বরিশাল তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের আইসিটি অফিসার মো. আতিকুর রহমান জানান, সরকারের নানামুখী উদ্যোগের ফলে তথ্য প্রযুক্তি খাতে অবকাঠামো উন্নয়ন ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।

বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল বরিশালের আঞ্চলিক পরিচালক মোহাম্মদ জসীম বলেন, দ্রুতগতি ইন্টারনেট, ব্যাংক লোন ও পেপালের মতো সুবিধা নিশ্চিত হলে এখানকার ফ্রিল্যান্সাররা আরও এগিয়ে যাবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




যোগ্যকে বাদ দিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পদ বাগিয়ে নেন পুতুল

সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক পদে নিয়োগ নিয়ে আলোচনার ঝড় উঠেছে। এই পদে নিয়োগ পাওয়া সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, যিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে, তার যোগ্যতা নিয়ে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ২০২৩ সালে তাকে এই পদে নিয়োগ দেয়া হলেও, তার প্রার্থীতা নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের কিছু সমালোচনা এসেছে।

কলকাতাভিত্তিক সাংবাদিক মনদ্বীপা বেনার্জি একটি নিবন্ধে উল্লেখ করেছেন, ‘‘বাবার পাপের দায় ছেলের ওপর পড়ে’’—এ কথা বাইবেল থেকে উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, শেখ হাসিনার পাপের দায় পড়েছে তার বোন টিউলিপ সিদ্দিকের ওপর, যিনি সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের সিটি মন্ত্রীর পদ হারিয়েছেন। এবার, সেই দায় সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের ওপর পড়ছে।

প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুতুলের প্রার্থীতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে স্বাস্থ্য বিষয়ক জার্নাল ল্যানসেট। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আঞ্চলিক পরিচালক হওয়ার জন্য সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের যথাযথ যোগ্যতা ছিল না। তবে তাকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে কেবল স্বজনপ্রীতির কারণে, যা সংস্থার গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

এছাড়া, ২০২৩ সালে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসও তার যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল। প্রতিবেদনে বলা হয়, পুতুলের বিরুদ্ধে আরেকজন প্রার্থী ছিলেন নেপালের সম্ভু আচার্য, যিনি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছিলেন এবং ৩০ বছর ধরে সেখানে কাজ করছেন। তার পিএইচডি ডিগ্রি রয়েছে জনস্বাস্থ্য বিষয়ে, যা পুতুলের অটিজম নিয়ে কাজের সঙ্গে তুলনা করা যায় না।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থায় বড় বাজেট নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা নেই এবং তার পূর্ববর্তী কাজ ছিল মূলত মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা নিয়ে।

এ ব্যাপারে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি। তবে, এই বিষয়টি এখনই একটি বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বিগত ১৫ বছরে সাংবাদিকদের কাজ করতে বাধা দেয়া হয়েছে

গণমাধ্যম সংস্কারের জন্য ‘নাগরিক ভাবনা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন প্রধান উপদেষ্টা শফিকুল আলম। তিনি এক সময়কার স্বৈরাচারী সরকারের গণমাধ্যমের প্রতি ভয়ানক ব্যবহার সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন। শফিকুল আলম বলেন, বিগত ১৫ বছরে সাংবাদিকদের কাজ করতে বাধা দেয়া হয়েছে এবং গোয়েন্দা সংস্থার হস্তক্ষেপে অনেক সংবাদপত্রের মুখ বন্ধ করা হয়েছিল।

শফিকুল আলম আরো বলেন, “ফোনকলের মাধ্যমে সাংবাদিকদের চাকরি চলে যেত এবং সংবাদ নামিয়ে ফেলতে হতো। ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের হস্তক্ষেপ না হয়, সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।” তিনি যোগ করেন যে, “গণমাধ্যমের ওপর সরকারের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ ছিল এবং অনেক সংবাদ মাধ্যম নির্ভরশীল ছিল সরকারের ফোনকলের ওপর।”

ফ্যাসিবাদী শাসনের সময়ে সাফাই গেয়ে কলাম লেখকদের বিরুদ্ধে গবেষণার পরামর্শ দিয়ে শফিকুল আলম বলেন, “এটা আমাদের উদ্দেশ্য নয় কাউকে শাস্তি দেয়া, বরং ইতিহাসে ফ্যাসিবাদী শক্তির মুখোশ উন্মোচন করা আমাদের লক্ষ্য।”

তিনি কপিরাইট আইনের প্রয়োগের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “সাংবাদিকদের কাজ চুরি করা অন্য সংবাদ প্রতিষ্ঠানগুলোকে বন্ধ করে দেওয়া উচিত।”

আলোচনা সভায় যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টার আকবর হোসেনও বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, “কোনো ব্যক্তি গণমাধ্যম ব্যবহার করে মতাদর্শ প্রকাশ করলে, তাকে সাংবাদিকতা ছেড়ে অ্যাকটিভিস্ট হিসেবে কাজ করা উচিত, কিন্তু এক সাথে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা দাবি করা গ্রহণযোগ্য নয়।”

এই সভায় আরও বক্তব্য দেন দ্য বিজনেজ স্ট্যান্ডার্ড পত্রিকার প্রধান প্রতিবেদক আব্বাস উদ্দিন, উত্তরা ইউনিভার্সিটির শিক্ষক মাহবুব আলম এবং আইনজীবী মোল্লা মো. ফারুক কায়সার প্রমুখ।

আলোচনাটি আয়োজন করেছিল ‘ফ্যাসিবাদমুক্ত গণমাধ্যম চাই’ নামক সংগঠন এবং সভার সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের আহ্বায়ক জয়নাল আবেদীন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




কুয়াকাটায় পর্যটকদের ঢল: মাসব্যাপী মেলা আর সাপ্তাহিক ছুটির আমেজ

পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় মাসব্যাপী পর্যটন মেলা ও সাপ্তাহিক ছুটিকে কেন্দ্র করে সৈকতে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে। কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ইব্রাহিম ওয়াহিদের তথ্য অনুযায়ী, কুয়াকাটার প্রায় ৮০% হোটেল ইতোমধ্যেই বুকিং হয়ে গেছে।

শুক্রবার ও শনিবারের ছুটির সঙ্গে মেলার জমজমাট আয়োজন পর্যটকদের আরও বেশি আকৃষ্ট করছে। মেলায় সাংস্কৃতিক কার্যক্রম, স্থানীয় পণ্যের প্রদর্শনী ও বিনোদনের বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে, যা শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সের মানুষের জন্য বিনোদনের সুযোগ তৈরি করেছে।

শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) সকাল থেকেই শুটকি পল্লী, গঙ্গামতির সৈকত, রাখাইন পল্লী, ইকোপার্ক, ইলিশ পার্ক, লেম্বুর বন এবং ঝাউবাগানসহ অধিকাংশ পর্যটন স্পটে পর্যটকদের ভিড় চোখে পড়েছে। কেউ সমুদ্রের জলে গা ভাসিয়ে আনন্দে মেতে উঠছেন, কেউ ছবি তুলছেন, কেউ ঘোড়ার পিঠে পুরো সৈকত চষে বেড়াচ্ছেন।

ঢাকা থেকে আসা পর্যটক মেহেদী মিরাজ বলেন, “কুয়াকাটার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও নিরিবিলি পরিবেশ সত্যিই মনোমুগ্ধকর। মেলা ঘুরে বাচ্চাদের জন্য সার্কাসসহ বিনোদনের নানা আয়োজন দেখে বেশ আনন্দ পেয়েছি।”

স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. জাকির হোসেন বলেন, “পর্যটকদের চাহিদা মেটাতে আমরা বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছি। হোটেল, মোটেল, রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন সেবা খাতে কাজ চলছে। আজ অনেক পর্যটক এসেছে, আমাদের ব্যবসাও ভালো হচ্ছে।”

মেলা আয়োজক কমিটির অন্যতম সদস্য এবং কুয়াকাটা প্রেসক্লাব ও টোয়াকের সভাপতি রুমান ইমতিয়াজ তুষার জানান, “পর্যটকদের জন্য বাড়তি আনন্দ দিতে মাসব্যাপী মেলার আয়োজন করেছি। এখানে বাচ্চাদের জন্য নানা বিনোদনের ব্যবস্থা ও বড়দের জন্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান রয়েছে। এছাড়া রাখাইন সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী পণ্যের প্রদর্শনী বিশেষ আকর্ষণ যোগ করছে।”

ট্যুরিস্ট পুলিশের পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান বলেন, “সাপ্তাহিক ছুটির কারণে কুয়াকাটায় পর্যটকদের সংখ্যা বেড়েছে। আমরা মোবাইল টিমসহ সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছি। পর্যটকদের সেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট পুলিশ সর্বদা সচেষ্ট।”

কুয়াকাটার এই মাসব্যাপী পর্যটন মেলা শুধু বিনোদনের আয়োজন নয়, এটি স্থানীয় অর্থনীতি ও পর্যটন শিল্পকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম