পটুয়াখালীর কৃষকরা ইস্পাহানি কোম্পানির বীজে প্রতারিত হয়ে চরম লোকসানে

পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার কৃষকরা ইস্পাহানি কোম্পানির সরবরাহকৃত বীজে প্রতারিত হয়ে এখন বড় লোকসানের মুখে। তারা উচ্চমূল্যে বীজ কিনেও কাঙ্ক্ষিত ফলন না পাওয়ায় এখন দেনার বোঝায় জর্জরিত। কৃষকরা আশায় বুক বেঁধে ফসল ফলাতে গিয়ে আজ গভীর সংকটে পড়েছেন।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, ইস্পাহানির সরবরাহকৃত মুনলাইট ফুলকফির বীজের মান অত্যন্ত নিম্নমানের, যার কারণে ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। জমিতে ফসল পরিপক্ক হওয়ার বদলে তা ফুটে পচে যাচ্ছে, এবং অনেক জমি অনাবাদি হয়ে পড়ে রয়েছে।
কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের মজিদপুর গ্রামের কৃষক মোহাম্মদ লিটন হাওলাদার বলেন, “ইস্পাহানির বীজ কিনতে আমাকে বেশি দাম দিতে হয়েছে। কিন্তু চাষ শুরু করার পরেই বুঝতে পারলাম, বীজে সমস্যা রয়েছে। আমি মজিবর রহমানের কাছ থেকে ইস্পাহানির মুনলাইট ফুলকফির বীজ কিনে জমিতে ফুলকফি চাষ শুরু করেছিলাম। তবে এখন ফসল পরিপক্ক হওয়ার বদলে ফুটে গিয়ে পচে যাচ্ছে। আমি এখন বুঝতে পারছি, আমার বিনিয়োগ হারিয়ে গেছে, আর আমি কিভাবে এই দেনা শোধ করব তা নিয়ে চিন্তিত।”
এছাড়াও, মজিদপুর গ্রামের অন্যান্য কৃষকরাও একই ধরনের সমস্যার সম্মুখীন। তারা জানাচ্ছেন, তাদের জমিতে ফুলকফির ফলন না হওয়ায় জমি অনাবাদি হয়ে পড়েছে এবং তারা চরম হতাশায় রয়েছেন।
কলাপাড়া উপজেলার স্থানীয় ডিলার, মাষ্টার সীডের মালিক মো. মজিবর রহমান জানান, “আমরা কৃষকদের অভিযোগ পেয়ে ইস্পাহানি কোম্পানিকে জানিয়েছি। ওই বীজের কিছু সমস্যা ছিল এবং কোম্পানি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা জানিয়েছে। তবে কৃষকদের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।”
অন্যদিকে, ইস্পাহানি এগ্রোর বরিশাল বিভাগের এরিয়া ম্যানেজার শেখ গোলাম মোস্তাইনের দাবি, “কৃষকরা ফসলের দাম না পাওয়ায় কোম্পানির বিরুদ্ধে অভিযোগ করছে। ডিলার তাদের সঙ্গে কোনো আলোচনায় আসেননি। ডিলার কোম্পানির নাম দিয়ে বিভ্রান্তিকর কথা বলছেন।”
কলাপাড়া উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আরাফাত হোসেন বলেন, “কৃষকদের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বীজের মান পরীক্ষা করে বাজারে ছাড়ার জন্য কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। কৃষকদের সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করা হবে।”
এদিকে, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, “তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণসহ ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সরকারের প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় সহায়তা প্রদান করা হবে। তবে ইস্পাহানির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
কলাপাড়া উপজেলার কৃষকরা দ্রুত প্রতারণার বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, কৃষি উন্নয়নে সহমর্মিতা এবং সুরক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালন করা অত্যন্ত জরুরি।
মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম








