আজ সোমবার (২০ জানুয়ারি) থেকে দেশে সপ্তমবারের মতো শুরু হচ্ছে বাড়িবাড়ি ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম। এবারের এই কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ, এম, এম, নাসির উদ্দিন, এবং সাভারের কার্যক্রমটি উদ্বোধন করবেন তিনি নিজে।
এ নির্বাচনী কার্যক্রমের উদ্বোধন উপলক্ষে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জনসংযোগ পরিচালক মো. শরিফুল আলম সংবাদে জানান, সকাল সাড়ে দশটায় ঢাকা জেলার সাভার উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনাররা উপস্থিত থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন। এছাড়া, অনুষ্ঠানে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার, ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজিসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত থাকবেন।
ভোটার তালিকা হালনাগাদ নিয়ে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানিয়েছেন, ইসির নির্বাচন সহায়তা শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব মো. নাসির উদ্দিন চৌধুরী। তিনি জানান, তথ্য সংগ্রহের পর ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হবে ছবি তোলা এবং নিবন্ধন কার্যক্রম, যা চলবে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন বলেন, ছয় মাসের মধ্যে ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রম শেষ করা হবে। প্রায় ৬৫ হাজার লোকবল নিয়োজিত থাকবে এই প্রক্রিয়ায়, এবং লক্ষ্য হচ্ছে ১ দশমিক ৫২ শতাংশ নাগরিককে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা।
এদিকে, ২০২২ সালে নেওয়া তিন বছরের তথ্যের হালনাগাদ কার্যক্রমের শেষ ধাপ চলমান রয়েছে। এতে প্রায় ১৮ লাখ নতুন ভোটার আগামী মার্চে ভোটার তালিকায় যুক্ত হতে পারে। সর্বশেষ হালনাগাদ অনুযায়ী, দেশে মোট ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ১৮ লাখ ৫০ হাজার ১৬০ জন।
নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানিয়েছেন, ৪০ থেকে ৪৫ লাখ ভোটার হালনাগাদ কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। তিনি আরও বলেন, হালনাগাদ কার্যক্রমের মাধ্যমে দ্বৈত ভোটার, মৃত ভোটার বাদ দেওয়ার পাশাপাশি নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্ত করা হবে, যাতে একটি নির্ভুল ভোটার তালিকা তৈরি করা যায়।
২০০৭-২০০৮ সালে ছবিযুক্ত ভোটার তালিকা প্রণয়নের পর, ইসি এখন পর্যন্ত ছয়বার ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। এর মধ্যে ২০০৯-২০১০, ২০১২-২০১৩, ২০১৫-২০১৬, ২০১৭-২০১৮, ২০১৯-২০২০ এবং ২০২২-২০২৩ সালের হালনাগাদ কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
নতুন ভোটার হওয়ার জন্য যে কাগজপত্র প্রয়োজন:
১৭ ডিজিটের অনলাইন জন্মসনদের কপি
জাতীয়তা/নাগরিকত্ব সনদের কপি
নিকট আত্মীয়ের এনআইডির ফটোকপি (পিতা-মাতা, ভাই-বোন প্রভৃতি)
এসএসসি/দাখিল/সমমান, অষ্টম শ্রেণি পাশের সনদের কপি (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)
ইউটিলিটি বিলের কপি (বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি/চৌকিদারি রশিদের ফটোকপি)
ভোটার হওয়ার সময় সতর্কতার বিষয়:
নিজের নাম, পিতামাতার নাম, জন্ম নিবন্ধন বা শিক্ষা সনদের সঙ্গে হুবহু মিলিয়ে লিখতে হবে
জন্ম তারিখ অবশ্যই জন্ম নিবন্ধন বা শিক্ষা সনদ অনুযায়ী হতে হবে
স্থায়ী ঠিকানা লেখার ক্ষেত্রে ভোটারের প্রকৃত স্থায়ী ঠিকানা লিখতে হবে
কোনো অবস্থাতেই দ্বৈত বা দুইবার ভোটার হওয়া যাবে না
এছাড়া, ইসি এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে যে, একাধিকবার ভোটার হওয়া আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। কেউ যদি একাধিকবার ভোটার হন, তবে আঙুলের ছাপ পরীক্ষার মাধ্যমে তা সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব।
মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম