আলোচনায় ইসলামের পক্ষে ‘ভোটকেন্দ্রে এক বাক্স

দেশের আগামী জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আলোচনায় উঠে এসেছে ধর্মভিত্তিক দলগুলোর অবস্থান। বিশেষত জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর মধ্যে ঐক্যের ইঙ্গিত জাতীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ইতোমধ্যে দল দুটির পক্ষ থেকে ভোটকেন্দ্রে এক বাক্সে ইসলামপন্থীদের সমর্থন একত্রিত করার বার্তা দেওয়া হয়েছে।

চরমোনাইতে বৈঠক

মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) বরিশাল সদর উপজেলার চরমোনাই মাদরাসায় জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং ইসলামী আন্দোলনের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীমের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ইসলামী দলগুলোর ঐক্য প্রতিষ্ঠায় একযোগে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।

চরমোনাই পীর মুফতি রেজাউল করীম বলেন, “ইসলামের পক্ষে একটি বাক্স কেন্দ্রে পাঠানোর প্রচেষ্টা আগেও ছিল এবং তা এখনও অব্যাহত আছে। এই প্রচেষ্টা সফল করতে সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।”

ঐক্যের আহ্বান

জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “ইসলামী দলগুলোর ঐক্য আমাদের একমাত্র লক্ষ্য। প্রহসনের নির্বাচন রুখতে আমাদের ঐক্যবদ্ধ শক্তি প্রয়োজন। নির্বাচনী সংস্কার ও যথাসময়ে নির্বাচন নিশ্চিত হলে আমরা অবশ্যই অংশগ্রহণ করব।”

তিনি আরও বলেন, “দেশের ১৮ কোটি মানুষের মধ্যে শতকরা ৯১ ভাগ মুসলমান। ইসলামের বিধান মেনে সুশাসন প্রতিষ্ঠাই আমাদের লক্ষ্য, যা দুর্নীতি ও অশাসনের অবসান ঘটাবে।”

নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও দাবি

দল দুটি নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতির দাবি জানায়। মুফতি রেজাউল করীম এ পদ্ধতিকে দেশের জন্য উপকারী বলে মন্তব্য করেন।

ইসলামের বিধানের প্রতি আহ্বান

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও আমরা প্রকৃত স্বাধীনতার স্বাদ পাইনি। এর মূল কারণ দুর্নীতি ও দুঃশাসন। আল্লাহর বিধান প্রতিষ্ঠিত হলে এসব সমস্যার সমাধান হবে।”

তিনি জনগণের সহযোগিতা কামনা করেন এবং বলেন, “আল্লাহর বিধান মেনে চললে দেশ উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাবে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




চীনা ঋণের সুদ কমানোর প্রস্তাব বাংলাদেশের

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন চীনের ঋণের সুদের হার ২-৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ করার প্রস্তাব দিয়েছেন। চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন এবং চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই’র মধ্যে এক বৈঠকে এ প্রস্তাব উপস্থাপিত হয়।

বৈঠকের মূল আলোচনা

মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন প্রেফারেন্সিয়াল বায়ার্স ক্রেডিট (পিবিসি) এবং সরকারি কনসেশনাল ঋণ (জিসিএল) উভয় ক্ষেত্রেই সুদের হার কমানোর প্রস্তাব দেন। এ ছাড়া ঋণের পরিশোধ সময়সীমা ২০ থেকে ৩০ বছর করার অনুরোধ করেন তিনি।

বৈঠকে বাংলাদেশের ঋণ পরিশোধের ইতিহাসের প্রশংসা করেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। তিনি সুদের হার কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করবেন বলে জানান এবং ঋণ পরিশোধের সময়সীমা বাড়ানোর বিষয়ে নীতিগত সম্মতি প্রদান করেন।

বাংলাদেশের চাওয়া ও চীনের প্রতিশ্রুতি

বাংলাদেশি রোগীদের চিকিৎসার জন্য কুনমিংয়ে ৩-৪টি হাসপাতালকে বিশেষায়িত করার আশ্বাস দেন চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এ ছাড়া ঢাকায় একটি বিশেষায়িত চীনা হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবকে স্বাগত জানান।

শিক্ষা, রেলপথ, কৃষি, টেকসই জ্বালানি এবং নীল অর্থনীতির মতো খাতে আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তার জন্য বাংলাদেশের অনুরোধকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখার প্রতিশ্রুতি দেন চীন।

কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর

বাংলাদেশ ও চীনের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে জাঁকজমকপূর্ণ উদযাপনের পরিকল্পনা করা হয়। উভয় পক্ষ বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই)-এর অধীনে প্রকল্পগুলো এগিয়ে নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে।

রোহিঙ্গা সংকট ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা

বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে একটি রোডম্যাপ তৈরির প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করা হয়। পাশাপাশি মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে চীনের অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন ওয়াং ই।

বৈশ্বিক উদ্যোগে অংশগ্রহণের আহ্বান

চীনা রাষ্ট্রপতি শি জিনপিংয়ের তিনটি বৈশ্বিক উদ্যোগ—জিডিআই, জিএসআই, এবং জিসিআই-তে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের আহ্বান জানান চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী। জবাবে বাংলাদেশ বিষয়গুলো পরীক্ষা করে দেখার আগ্রহ প্রকাশ করে।

সফরের সংক্ষিপ্ত বিবরণ

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই’র আমন্ত্রণে সোমবার বেইজিং সফর শুরু করেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। সফর শেষে ২৪ জানুয়ারি তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




রাজধানীর খাল ভরাটে পলিথিন, ড্রেজারেরও অভাব: উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান

রাজধানীর ১৯টি খাল পলিথিনে ভরাট হয়ে গেছে, যা পরিষ্কার করার মতো ড্রেজার বাংলাদেশে নেই বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি পলিথিনের ব্যবহার বন্ধে ব্যক্তিগত উদ্যোগের ওপর জোর দেন।

মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “পলিথিনের ব্যবহার সস্তা মনে হলেও এর পরিবেশগত ক্ষতির মূল্য অনেক বেশি। ক্রেতা হিসেবে আমাদের পলিথিন ব্যবহার বন্ধ করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। ‘পলিথিন মুক্ত প্রতিদিন’ এমন মানসিকতা নিয়ে এগোতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “মুনাফার আশায় কারখানার মালিকরা বিভ্রান্তি ছড়ালেও এ ব্যাপারে আমাদের গুরুত্ব না দিয়ে সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে পলিথিন মুক্ত পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে।”

অনুষ্ঠানে উপদেষ্টা জানান, আগামী মাস থেকে রাজধানীর সড়কগুলোতে হর্ন বন্ধে সচেতনতা অভিযান শুরু করা হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 

 




সুইজারল্যান্ডে পৌঁছেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) বার্ষিক সম্মেলনে অংশ নিতে সুইজারল্যান্ড পৌঁছেছেন বাংলাদেশ সরকারের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে তিনি সুইজারল্যান্ডের জুরিখ শহরে পৌঁছান।

প্রেস উইং জানায়, বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী প্রধান উপদেষ্টা মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জুরিখে পৌঁছান এবং সুইজারল্যান্ডের জেনেভার রাষ্ট্রদূত মো. আরিফুর রহমান তাকে স্বাগত জানান। সফরের প্রথম দিনেই প্রধান উপদেষ্টা স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় জুরিখ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।

ড. ইউনূসের এই সফরের উদ্দেশ্য হলো সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিত ২০-২৪ জানুয়ারি ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনে যোগদান করা। সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি তিনি সাইডলাইনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকও করবেন।

এছাড়া, প্রধান উপদেষ্টা জার্মানির চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎস, বেলজিয়ামের রাজা ফিলিপ, থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রাসহ বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতা এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা করবেন। তিনি অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাগনেস ক্যালামার্ডসহ বেশ কয়েকটি সংস্থা প্রধান, কোম্পানি প্রধান নির্বাহী এবং উদ্যোক্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।

সফরের শেষের দিকে, ড. ইউনূস আগামী ২৪ জানুয়ারি দাভোস থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বাণিজ্যকে রাজনীতি থেকে আলাদা রাখার দাবি খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদারের

অন্তর্বর্তী সরকারের খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার জানিয়েছেন, তারা প্রতিবেশী দেশ ভারতের সাথে বাণিজ্যকে রাজনীতির সাথে মিলাচ্ছেন না। মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম বন্দরে মিয়ানমার থেকে আমদানি করা চাল খালাস কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন। খাদ্য উপদেষ্টা বলেন, ভারত আমাদের নিকটতম প্রতিবেশী এবং এখান থেকে আমদানি খরচ তুলনামূলকভাবে কম, যা আমাদের জন্য উপকারী।

তিনি আরও জানান, মিয়ানমার আমাদের কাছে আরও চাল বিক্রি করতে চাইছে এবং এক লাখ টন চালের জন্য তাদের সাথে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। আসন্ন সময়ে আরও আট থেকে নয় লাখ মেট্রিক টন চাল আমদানির কথা রয়েছে, যার মধ্যে ভারত, মিয়ানমার ও পাকিস্তান থেকেও চাল আসবে। এছাড়াও, ভিয়েতনামের সাথে আলোচনাও চলছে।

চাল মূল্য বৃদ্ধি না হওয়ার বিষয়টি নিয়ে তিনি বলেন, “দাম বৃদ্ধি এখন বন্ধ, এবং কিছু মোটা চালের দাম তিন থেকে পাঁচ টাকা কমেছে। আমরা আরও চাল আমদানি করতে থাকলে দাম বাড়ানোর সুযোগ থাকবে না। বরং দাম কমতে থাকবে।”

রমজান মাসে খাদ্যদ্রব্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণের জন্য সরকার কার্যক্রম গ্রহণ করছে জানিয়ে খাদ্য উপদেষ্টা বলেন, “রমজান মাসে খাদ্য মন্ত্রণালয় চাল ও গমের উপর বিশেষ নজর দেবে, এবং টিসিবি অন্যান্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের ব্যবস্থা করবে।” এ সময়, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি চালু হয়েছে, যেখানে ৫০ লাখ দরিদ্র মানুষ ১৫ টাকা কেজি দরে ৩০ কেজি চাল পাবে।

অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়ানোর দিকেও নজর দেওয়ার কথা বলেন আলী ইমাম মজুমদার। তিনি জানান, দেশের ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে কৃষকদের জন্য গবেষণা চালানো হচ্ছে এবং কৃষি জমির সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি আরও বলেন, “কৃষকরা বেসরকারি খাতে ভালো দাম পাচ্ছে, তবে সরকার দাম নির্ধারণের সময় উৎপাদন খরচ ও কৃষকের লাভ হিসেবেই সিদ্ধান্ত নেয়।”

এ সময় চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দিন, খাদ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক আব্দুল খালেক ও বন্দর চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন। এর আগে খাদ্য উপদেষ্টা পতেঙ্গায় নির্মাণাধীন সাইলো পরিদর্শন করেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




আওয়ামী লীগ ক্ষমতার রাক্ষস, বিচার হবেই: জামায়াত আমির

আওয়ামী লীগকে ক্ষমতার রাক্ষস হিসেবে আখ্যায়িত করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আওয়ামী লীগ কোনো রাজনৈতিক দল নয়, তারা ক্ষমতার লোভে গণহত্যা চালিয়েছে। এমন দল আর কোনো দিন মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে না। গণহত্যাকারীদের প্রত্যেকের বিচার হবে।

মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) বিকেলে বরিশাল কেন্দ্রীয় হেমায়েত উদ্দিন ঈদগাহ মাঠে জেলা ও মহানগর জামায়াতের কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আগে গণহত্যার বিচার হতে হবে। তারপর জনগণ সিদ্ধান্ত দেবে আওয়ামী লীগের রাজনীতির অধিকার আছে কি না। আওয়ামী লীগের শাসন দেশকে গণতন্ত্র ও ইনসাফ থেকে বঞ্চিত করেছে। এটি আর চলতে দেওয়া যায় না।

তিনি আরও বলেন, যুদ্ধ এখনও শেষ হয়নি, এটি কেবল শুরু। জামায়াতের প্রতিটি কর্মীকে প্রস্তুত থাকতে হবে। দেশের মানুষ আজ সত্যিকারের পরিবর্তন চায়। বৈষম্যমুক্ত একটি বাংলাদেশ গড়তে আমাদের কাজ করতে হবে।

বরিশাল বিভাগের উন্নয়নের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা বরিশালকে দেশের অন্যতম উন্নত বিভাগ হিসেবে দেখতে চাই। বিচ্ছিন্ন এলাকাগুলোকে যোগাযোগের আওতায় এনে ইনসাফ ও ন্যায়ের ভিত্তিতে উন্নয়ন নিশ্চিত করতে চাই।

তিনি সরকারের সমালোচনা করে বলেন, তারা দেশের সম্পদ নিজেদের জন্য ব্যবহার করছে, মানুষকে বঞ্চিত করছে। কিন্তু জামায়াত ক্ষমতায় এলে আমরা সকল শ্রেণির মানুষকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে উন্নয়নের সুযোগ দেব।

মহানগর জামায়াতের আমির জহির উদ্দীন মুহাম্মদ বাবরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মী সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান, আব্দুল হালিম, মুয়াজ্জিন হোসাইন হেলাল, এবং জেলা আমির আব্দুল জব্বার।

স্মরণকালের বৃহত্তম এই কর্মী সম্মেলনে উপচে পড়া নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা যুদ্ধ শুরু করেছি ইনসাফ ও অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য। আজকের প্রজন্ম বৈষম্যের শিকল ভাঙতে প্রস্তুত। ক্ষমতা নয়, আমরা শান্তি চাই। জামায়াতকে সুসংগঠিত রাখতে প্রতিটি কর্মীকে নিষ্ঠা ও ঐক্যের মাধ্যমে এগিয়ে যেতে হবে।

আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, আমরা চাই গণহত্যার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিচার হোক, তাদের দলের বিচার হোক। শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, আপনারা তো নিজেদের দেশপ্রেমিক দাবি করেন; তো দেশপ্রেমিক হলে আসেন না। বিচার মোকাবেলা করুন। আমাদের নেতাদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসি দিয়েছেন। আপনারা তো প্রকাশ্যে গণহত্যা চালিয়েছেন। আওয়ামী লীগের হাতে সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত হয়েছে জামায়াতে ইসলামী উল্লেখ করে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার চারদিন পর তারা নিজেরাই নিষিদ্ধ হয়েছে।

দলটির প্রধান বলেন, স্বাধীনতার পর থকে বিভেদ তৈরি করে দেশটাকে টুকরো টুকরো করা হয়েছে। যুদ্ধ ক্ষেত্রে অনেকেই জীবন দেয়। কিন্তু এভাবে বুক পেতে জীবন দেয়া আবু সাঈদের ঘটনা বিরল। আবু সাঈদ মুক্তির মহানায়ক। জুলাই-আগস্টে শহীদরা যে জন্য জীবন দিয়েছে সেই লড়াইটা আমাদের চালিয়ে যেতে হবে। হাজার হাজার মানুষ পঙ্গু হয়ে বেঁচে আছেন; তারা এখন জিন্দা শহীদ।

তিনি বলেন, ভোলার গ্যাস সারাদেশে যাক; তবে সবার আগে বরিশালে আসুক। আর একটি সেতু বরিশাল থেকে ভোলায় যাক। ভোলাসহ পুরো বরিশাল বিভাগকে উন্নত দেখতে চাই। আমাদের যদি আল্লাহ সুযোগ দেন তাহলে বরিশালবাসীর সকল দাবি পূরণের চেষ্টা করবো। আর যদি বিরোধী আসনেও থাকি তবে আপনাদের দাবিগুলো তুলে ধরবো।

কর্মী সম্মেলনের সভাপতি বরিশাল মহানগর জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবর বলেন, ঈদগাঁ মাঠে যাতে সম্মেলন হতে না পারে তার ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। সকল বাঁধা উপেক্ষা করে অনুষ্ঠান সফল করতে যারা সহযোগিতা করেছেন তাদের ধন্যবাদ জানান তিনি। তিনি বিগত সময়ে বাতিল হওয়া সকল প্রকল্পসমূহ চালু করার দাবি জানান।

সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী সরকার ইসলাম নির্মূল করার উদ্দেশ্যে সাবেক আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীসহ জামায়াতের নেতাদের ফাঁসি দিয়ে হত্যা করেছে। তারপরও জামায়াত নেতারা পালিয়ে যায়নি।

তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদীরা এখনো চক্রান্ত করছে। আর কোনো ফ্যাসিবাদকে এ দেশে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে দেয়া হবে না। প্রশাসন ও সরকারি দপ্তরসমূহে ফ্যাসিবাদের দোসরদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। ভোটার তালিকা সঠিকভাবে তৈরি করতে হবে।

সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, বিভেদ নয়, ঐক্য ধরে রাখতে হবে। জনমত তৈরি করে ফ্যাসিবাদের কবর রচনা করতে হবে। আগামী নির্বাচন ফেয়ার পদ্ধতিতে হতে হবে। যারা পালিয়ে গেছে তারা ছাড়া এ বিষয়ে দেশের সব দল এক মত হয়েছে।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি এডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল বলেন, ফ্যাসিস্টরা পালিয়ে গেছে। নতুন বাংলাদেশ গড়তে ডাঃ শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে এগিয়ে যেতে হবে। সেই বাংলাদেশ গড়তে জানমাল দিয়ে পাশে থাকার আহবান জানান তিনি।

সকল বিভেদ ভুলে ঐক্যের রাজনীতি শুরু করার আহবান জানান ঢাকা মহানগর নায়েবে আমীর মনজুরুল ইসলাম ভূইয়া।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, বরিশাল থেকে নতুন করে ইসলামী আন্দোলন শুরু হয়ে তা দেশের ৫৬ হাজার বর্গমাইল ছড়িয়ে যাবে। নতুন এই বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনের বাংলাদেশ।

তিনি বলেন, যারা ত্যাগের রাজনীতি করে তাদের দেশ ত্যাগ করতে হয় না। আর যারা ভোগের রাজনীতি করে তারা দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হয়।

স্বাগত বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও বরিশাল জেলা আমীর অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুল জব্বার বলেন, পালিয়ে যাওয়া সরকার মনে করেছিল হত্যা করে, জেলে দিয়ে, খুন করে, ফাঁসি দিয়ে আর আয়না ঘর দিয়ে ইসলামী আন্দোলন দমন করা যাবে। এতোকিছু করেও তা সম্ভব হয়নি। তারা ভুলে গিয়েছিল এই জমিন এই দেশ আল্লাহর। যারা ১৭ বছর অত্যাচার নির্যাতন করেছে তারা পালিয়ে গেছে। এ দেশের মানুষ নিশ্চয়তা চায়, যাতে দেশে আর কোনো ফ্যাসিবাদী শক্তি ক্ষমতায় না আসে।

বৈষম্য বিরোধী আনদোলনে শহীদ ফয়সাল আহমেদ শান্তর বাবা জাকির হোসেন বলেন, আমাদের সন্তানেরা যে ইচ্ছা নিয়ে শহীদ হয়েছে, সেই ইচ্ছা পূরণ করতে হবে। তাদের অসমাপ্ত কাজগুলো সম্পন্ন করার আহবান জানান তিনি।

সনাতনী ধর্মের মানুষের পক্ষে বক্তব্য দেন অসিম কুমার হালদার। তিনি বলেন, এ দেশের হিন্দু সম্প্রদায় বেশি কিছু চায় না, তারা চায় শুধু শান্তি। ৫ আগষ্টের পর আমার এলাকায় হিন্দুদের ওপর কোনো হামলা হয়নি। আমাদের খোঁজ রেখেছেন জামায়াতের আমীর ডাঃ শফিকুর রহমান। এছাড়া তেমন কাউকে পাইনি। আমরা শান্তি চাই, আমরা কারো কাছে মাথা বিক্রি করবো না।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহীদ ফয়সাল আহমেদ শান্তর বাবা ফয়সাল মঞ্চে উঠে ছেলে হারানোর বেদনা থেকে কথা বলেন। তিনি বলেন, আমার সন্তানের রক্ত বৃথা যাবে না। আমরা ন্যায় ও ইনসাফের বাংলাদেশ দেখতে চাই।

এছাড়াও বক্তব্য দেন জামায়াতের ওলামা বিভাগের সেক্রেটারি মাওলানা খলিলুর রহমান মাদানী, জমায়াতে ইসলামীর ঢাকা জেলা আমীর মাওলানা দেলোয়ার, বরগুনা জেলা আমীর মাওলানা মহিববুল্লাহ হারুন, পটুয়াখালী জেলা আমীর এডভোকেট নাজমুল আহসান, ভোলা জেলা আমীর মাস্টার জাকির হোসাইন, ঝালকাঠি জেলা আমীর এডভোকেট হাবিবুর রহমান, পিরোজপুর জেলা আমীর অধ্যক্ষ তোফাজ্জল হোসাইন ফরিদ, বরিশাল মহানগর ছাত্র শিবিরের সাবেক সভাপতি কামরুল আহসান হাসান, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের বরিশাল অঞ্চল পরিচালক কবির আহমেদ, শিবিরের বরিশাল মহানগর সভাপতি রিয়াজুল ইসলাম, জেলা সভাপতি আকবর হোসেন, ব্যবসায়ী নেতা সগির বিন সাঈদ প্রমুখ।

“মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”




তামাক সেবন কমাতে কার্যকর নীতিমালা ও আইনের প্রয়োজন : উপদেষ্টা ফরিদা আখতার

তামাক কোম্পানিগুলোর কার্যক্রমে তামাক সেবন উল্লেখযোগ্যভাবে কমছে না বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। তিনি বলেন, “আইনে তামাকের প্রচার-প্রসার বন্ধ থাকলেও কোম্পানিগুলো নানা কৌশলে আকর্ষণ তৈরি করে তামাক সেবনকে উৎসাহিত করছে।”

মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) রাজধানীর বাংলামোটর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে ‘জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সিগারেটে কার্যকর করারোপের প্রস্তাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সেমিনারটি আয়োজন করে উন্নয়ন সমন্বয়।

উপদেষ্টা ফরিদা আখতার জানান, দেশে ৩৫.৩ শতাংশ মানুষ তামাক ব্যবহার করেন। এর মধ্যে ২২ শতাংশ মৃত্যু হচ্ছে প্রতিরোধযোগ্য তামাক সেবনের কারণে। তিনি বলেন, “এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে তামাক ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর কথা থাকলেও তা বাস্তবায়নে আইন সংশোধন ও কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি।”

তিনি আরও বলেন, তামাক সেবন বন্ধে করারোপ একটি কার্যকর উপায় হলেও একমাত্র সমাধান নয়। তামাক কোম্পানিগুলো উচ্চ করারোপের ভয়ে রাজস্ব হ্রাসের মিথ্যা ভীতি দেখাচ্ছে। অথচ গবেষণায় প্রমাণ হয়েছে, তামাক সেবন কমার পাশাপাশি রাজস্বও বাড়বে।

অনুষ্ঠানে উন্নয়ন সমন্বয়ের গবেষণা পরিচালক আব্দুল্লাহ নাদভী বলেন, “তামাকের ওপর কঠোর করারোপ জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার একটি শক্তিশালী উপায়।”
সিটিএফকে-বাংলাদেশের লিড পলিসি অ্যাডভাইজার মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “তামাক কোম্পানিগুলোর বিপণন কৌশল জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি।”
বিআইডিএসের গবেষণা পরিচালক ড. এস. এম. জুলফিকার আলী এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখপাত্র উমামা ফাতেমা আইন বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তামাক নিয়ন্ত্রণে কর ও আইন বাস্তবায়নের প্রয়োজন
সেমিনারে বক্তারা জানান, তামাক সেবন নিয়ন্ত্রণে আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং শুল্ক বৃদ্ধির মাধ্যমে তামাক কোম্পানিগুলোর কার্যক্রম সীমিত করা যেতে পারে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে তামাকজনিত রোগ ও মৃত্যুহার কমানো সম্ভব।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




সাইবার সিকিউরিটি আইনের মামলা প্রত্যাহার হবে : আইন উপদেষ্টা

আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, সাইবার সিকিউরিটি আইনের অধীনে চলমান সব মামলাই প্রত্যাহার করা হবে।

মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন। তিনি জানান, সাইবার সিকিউরিটি আইন সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং এ নিয়ে তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, “দেশের ২৫টি জেলায় প্রায় আড়াই হাজার রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব মামলায় লাখ লাখ মানুষ আসামি। আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যে এসব মামলার কার্যক্রম প্রত্যাহার করা হবে।”

রাজনৈতিক মামলাগুলো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এর আগে রাজনৈতিক বিবেচনায় বিচারক নিয়োগ দেওয়া হতো। তবে এখন থেকে বিচারক নিয়োগ হবে দক্ষতা ও নিরপেক্ষতার ভিত্তিতে। “এ লক্ষ্যে ‘সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ’ কার্যকর করা হচ্ছে,” তিনি যোগ করেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্ক: নতুন দিগন্তে যাত্রা

বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্ক দীর্ঘ সময় ধরে উত্তেজনাপূর্ণ ছিল, বিশেষ করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে। তবে সম্প্রতি, তার পতনের পর দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক উন্নতির দিকে যাচ্ছে। পাকিস্তান সরকার ও ব্যবসায়ী গ্রুপগুলো আশাবাদী, আগামী এক বছরের মধ্যে দুই দেশের বাণিজ্য চারগুণ বেড়ে ৩ বিলিয়ন ডলার হতে পারে।

১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্ক অনেক সময়ই তিক্ত ছিল। তবে ২০১৪ সালে শেখ হাসিনার তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসার পর সম্পর্ক আরও খারাপ হয়। তবে তার পরবর্তী সময়ে, দুই দেশের মধ্যে পরিস্থিতি কিছুটা পরিবর্তিত হয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বৈশ্বিক অনুষ্ঠানে দুইবার সাক্ষাৎ করেছেন।

সাম্প্রতিক সময়ে, ১৪ জানুয়ারি, বাংলাদেশের উচ্চ পর্যায়ের সামরিক কর্মকর্তা জেনারেল এস এম কামরুল হাসান ইসলামাবাদ সফর করেন। তিনি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল অসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠক করেন। এই সময়, পাকিস্তানের চেম্বার অব কমার্স এবং ইন্ডাস্ট্রিজ (এফপিসিসিআই) একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফর করে। এটি গত এক দশকে পাকিস্তানের কোনো উচ্চ পর্যায়ের ব্যবসায়িক দলের প্রথম সফর ছিল।

পাকিস্তানি ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশের বাণিজ্যিক পরিবেশকে ইতিবাচক বলে মনে করছে। এফপিসিসিআই এর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট সাকিব ফাইয়াজ মাগুন জানিয়েছেন, বাংলাদেশ বর্তমানে পাকিস্তানি পণ্য আমদানির প্রতি আগ্রহী। বিশেষ করে, বাংলাদেশের খাদ্য শিল্পের জন্য পাকিস্তান থেকে চাল ও চিনি আমদানির সম্ভাবনা রয়েছে।

এছাড়াও, পাকিস্তান থেকে খেজুর আমদানির ব্যাপারে আলোচনা চলছে। বর্তমানে, বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ ৭০০ মিলিয়ন ডলারে সীমাবদ্ধ রয়েছে। তবে ব্যবসায়িক সম্পর্কের উন্নতি ঘটলে আগামী এক বছরে বাণিজ্যের পরিমাণ ৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

দুই দেশের মধ্যে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হলো চট্টগ্রাম এবং করাচির মধ্যে নতুন ম্যারিটাইম রুট চালু করা। যা গত ৫২ বছর ধরে বন্ধ ছিল। এর মাধ্যমে শুধু বাণিজ্য নয়, যাত্রীবাহী জাহাজ চলাচলেও সুবিধা হবে। এছাড়াও, সরাসরি ফ্লাইট চালু করার বিষয়েও আলোচনা চলছে, যা ২০১৮ সালের পর থেকে বন্ধ ছিল।

পাকিস্তানে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ১২ জানুয়ারি জানিয়েছেন, পাকিস্তানিদের ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাকিস্তানের হাইকমিশনার রফিউদ্দিন সিদ্দিক বলেন, শেখ হাসিনার আমলে দুই দেশের সম্পর্ক তলানিতে ছিল। তবে সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলো সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




হাসপাতালে গিয়ে জুলাই অভ্যুত্থানে আহতদের ভোটার করবে ইসি

নির্বাচন কমিশন (ইসি) জুলাই অভ্যুত্থানে আহতদের ভোটার হিসেবে নিবন্ধন করার জন্য হাসপাতালে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করবে। একই সঙ্গে, যারা জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নিয়ে কোনো সমস্যা অথবা ভুলভ্রান্তির শিকার হয়েছেন, তাদের এনআইডি সংশোধনের কাজও করবে ইসি।

২০ জানুয়ারি, সোমবার, ইসির এনআইডি শাখার পরিচালক মো. আব্দুল মোমিন সরকার তিনটি হাসপাতালে চিঠি প্রেরণ করেন। চিঠি প্রেরণ করা হাসপাতালগুলো হলো জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।

চিঠিতে বলা হয়েছে, “২০ জানুয়ারি থেকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদের তথ্য সংগ্রহ শুরু হয়েছে। জাতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সময়ের মধ্যে জুলাই অভ্যুত্থানে যারা আমাদের বিজয় এনে দিয়েছিলেন, তাদের অনেকেই এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আমরা তাদের তথ্য ও বায়োমেট্রিক হাসপাতালে গিয়ে সংগ্রহ করতে চাই।”

এছাড়া, তাদের এনআইডি যদি ভুল থাকে কিংবা হারিয়ে যায়, সে ক্ষেত্রেও ইসি প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করবে।

এই কার্যক্রমের জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী আহতদের তথ্য ও বায়োমেট্রিক সংগ্রহের জন্য প্রস্তুত থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে মঙ্গলবার এবং অন্যান্য হাসপাতালগুলোতে বুধবার থেকে কার্যক্রম শুরু হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম