খাদ্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারের উদ্যোগ: ১০ লাখ টন চাল ও গম আমদানি

খাদ্যপণ্যের বাজারে দাম স্থিতিশীল রাখতে সরকার ১০ লাখ টন চাল ও গম আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার।

বুধবার (২২ জানুয়ারি) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির সভা শেষে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে চালের দাম কিছুটা কমেছে এবং এটি আরও কমানোর জন্য সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।’

সভার সভাপতিত্ব করেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। বৈঠক শেষে আলী ইমাম মজুমদার জানান, ‘বাজারে চাল ও গমের মজুদ পরিস্থিতি ভালো রয়েছে। তবে, আগামীতে দামের অস্থিরতা রোধে খাদ্য মজুত বা স্টকিংয়ের ওপর সরকারের নজর রয়েছে। এতে ব্যবসায়ীরা দাম বাড়ানোর সুযোগ পাবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে দেশে চাল ও গমের মজুদ রয়েছে মোট ১৩ লাখ মেট্রিক টন, যার মধ্যে ৮ লাখ ৮২ হাজার মেট্রিক টন চাল এবং ৩ লাখ ৪১ হাজার মেট্রিক টন গম। এরপরও চাল ও গমের বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ১০ লাখ টন খাদ্যপণ্য আমদানি করা হচ্ছে, যার মধ্যে গমের পরিমাণ ৩ লাখ টন। গম রাশিয়া ও ভারত থেকে এবং চাল ভিয়েতনাম, পাকিস্তান ও মিয়ানমার থেকে আমদানি করা হবে।’

বর্তমানে চালের দাম কেজি প্রতি প্রায় ৬০ টাকা হলেও, বোরো ফলন কম-বেশির ওপর আমদানির প্রভাব পড়বে বলে খাদ্য উপদেষ্টা জানান। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, চালের দাম কমানোর আরও সুযোগ রয়েছে, বিশেষ করে মধ্যবিত্তের জন্য মোটা চালের দামও কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

 

“মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”

 




রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করবে ইউএনএইচসিআর

সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বৈঠকের ফাঁকে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার ফিলিপ্পো গ্র্যান্ডি বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

বৈঠক শেষে গ্র্যান্ডি জানান, তার সংস্থা রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করার লক্ষ্যে বাংলাদেশকে সহায়তা করবে। তিনি বলেন, “আমরা আপনাদের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।”

অধ্যাপক ইউনূস রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে বিশেষভাবে এই বছরের শেষ দিকে একটি বড় বৈশ্বিক সম্মেলন আয়োজনের জন্য গ্র্যান্ডির সহায়তা চেয়েছিলেন। তিনি বলেন, “আপনার কণ্ঠস্বর আরো সোচ্চার হতে হবে।”

অধ্যাপক ইউনূস রোহিঙ্গা সংকটের ওপর সারা বিশ্বের মনোযোগ ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ শরণার্থী বাংলাদেশের ওপর আরো বোঝা হয়ে উঠেছে।”

গ্র্যান্ডি প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানান এবং বলেন, রোহিঙ্গাদের আশ্রয়স্থল তৈরির জন্য উন্নত উপকরণ ব্যবহার করার অনুমতি দেওয়া হবে, যা পূর্বে কেবল বাঁশ ও ত্রিপল দিয়ে তৈরি করা হত।

বৈঠকে তারা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মানবিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা করেন, যেখানে বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করছে।

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস জানান, তিনি রোহিঙ্গা সংকটের অবসান ঘটাতে উচ্চ পর্যায়ের একজন প্রতিনিধি নিযুক্ত করেছেন, যিনি সকল দেশের সরকার এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার মধ্যে সমন্বয় করছেন।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




দাভোসে ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বৈঠক

সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সম্মেলনের ফাঁকে গতকাল মঙ্গলবার ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার স্টাব বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

বৈঠকে বৈশ্বিক নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসে, যার মধ্যে ছিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শপথ গ্রহণ, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, গ্লোবাল সাউথের ক্রমবর্ধমান ভূমিকা এবং রোহিঙ্গা সংকট। প্রেসিডেন্ট স্টাব বলেন, “আমাদের এমন একটি পৃথিবী দরকার যা আইনের শাসনের ওপর ভিত্তি করে চলবে।”

অধ্যাপক ইউনূস বৈঠকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার কর্মসূচি সম্পর্কে অবহিত করেন। প্রেসিডেন্ট স্টাব গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোকে আন্তর্জাতিক ইস্যুতে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

বৈঠকে অধ্যাপক ইউনূস শেখ হাসিনার আমলে ব্যাংকিং খাতে ১৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের লুটপাট ও দুর্নীতির বিষয়টি উল্লেখ করেন। তিনি জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে একটি বড় আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে শরণার্থীদের দুর্দশা বৈশ্বিক আলোচনায় ফের তুলে আনার চেষ্টা করা হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অধ্যাপক ইউনূসের সাক্ষাৎ

সুইজারল্যান্ডের দাভোসে চলমান ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনের ফাঁকে গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতাংতার্ন সিনাওয়াত্রা এবং মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।

বিশ্ব অর্থনীতি, জলবায়ু পরিবর্তন এবং টেকসই উন্নয়ন নিয়ে আয়োজিত এই সম্মেলনে নেতৃবৃন্দের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় হয়। ড. ইউনূসের সঙ্গে আলোচনায় দুই প্রধানমন্ত্রী উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে আলোচনা করেন।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে জানানো হয়, এই সাক্ষাৎ বিশ্বের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সহযোগিতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




হাসিনার গোপন কারাগারে আটক থাকত শিশুরাও, দেওয়া হতো না মায়ের দুধ

বাংলাদেশে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলে মানবাধিকার লঙ্ঘনের একাধিক অভিযোগে নতুন নতুন চিত্র বেরিয়ে আসছে। সম্প্রতি জোরপূর্বক গুম তদন্তকারী কমিশনের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে চমকে দেওয়ার মতো তথ্য। সেখানে দাবি করা হয়েছে, ক্ষমতায় থাকাকালে শেখ হাসিনার সরকার শিশুদেরও গোপন কারাগারে আটকে রেখে তাদের নির্যাতনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করত। এমনকি মায়েদের ওপর চাপ প্রয়োগের জন্য শিশুদের দুধ পান করানোর সুযোগও দেওয়া হতো না।

তুরস্কের সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাবেক সরকারের সময় গোপন আটক কেন্দ্রে বন্দি থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে অর্ধডজন শিশু ছিল, যারা মাসের পর মাস তাদের মায়েদের সঙ্গে আটক ছিল। তাদের মায়েদের মানসিকভাবে ভেঙে দিতে শিশুদের ব্যবহার করা হতো।

কমিশন বলছে, এসব ঘটনার মধ্যে অন্তত একবার গর্ভবতী নারী ও তার দুই সন্তানকে আটক রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়েছিল।

২০২৩ সালে শেষবারের মতো এমন একটি ঘটনার তথ্য প্রকাশ করে কমিশন জানায়, এক প্রত্যক্ষদর্শী শিশু অবস্থায় মায়ের সঙ্গে বন্দি থাকার বর্ণনা দিয়েছে। এসব কারাগার পরিচালনার অভিযোগ র‌্যাবের বিরুদ্ধে।

তদন্তে আরও উঠে এসেছে, আটক কেন্দ্র থেকে অনেক নারী আর ফিরে আসেনি। তাদের মধ্যে শিশুদেরও ভবিষ্যৎ অন্ধকারে হারিয়ে গেছে।

২০২৩ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হন। পরে তিনি ভারতে পালিয়ে যান। তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ইতোমধ্যে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে।

তদন্তকারী সাজ্জাদ হোসেন বলেন, “আমাদের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ভুক্তভোগীদের পরিবারগুলো গুরুতর মানসিক ও আর্থিক সমস্যার মধ্যে রয়েছে। ভবিষ্যতে এসব ঘটনায় দায়ী কমান্ডারদের বিচারের আওতায় আনা হবে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের দায়িত্ব ছাড়লেন সারজিস আলম

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক সারজিস আলম জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। বুধবার (২২ জানুয়ারি) সকালে নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া একটি পোস্টে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি।

তিনি জানান, ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে এর গঠনতন্ত্র, কাঠামো এবং কাজের প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন কাঠামো অনুযায়ী, পুরো অফিস পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবে ‘এক্সিকিউটিভ কমিটি’। এছাড়া চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার (সিইও) পদে মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ফাউন্ডেশনের নীতি নির্ধারণে কাজ করবে ‘গভর্নিং বডি’, যেখানে প্রধান উপদেষ্টাসহ আরও চারজন উপদেষ্টা যুক্ত রয়েছেন।

সারজিস আলম ফাউন্ডেশনে তার কাজের সময়কাল সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য দেন। তিনি উল্লেখ করেন, ১ অক্টোবর আর্থিক সহযোগিতা কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর ১৫ অক্টোবর অফিস চালু করা হয় এবং ২১ অক্টোবর তিনি সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব পালনকালে, ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ফাউন্ডেশন ৮২৬ জন শহীদ পরিবারের মধ্যে ৬২৮ জনকে আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করে। পাশাপাশি ১১ হাজার আহতের মধ্যে ২ হাজার আহতকেও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।

নিজ দায়িত্ব ত্যাগ প্রসঙ্গে সারজিস আলম বলেন, “যতদিন পর্যন্ত আমি আমার সর্বোচ্চ সময় দিতে পেরেছি ততদিন দায়িত্ব পালন করেছি। যখন মনে হয়েছে ফাউন্ডেশনে প্রয়োজনীয় সময় দেওয়া সম্ভব নয়, তখন দায়িত্ব ছেড়েছি। সীমাবদ্ধতা স্বীকার করা দুর্বলতা নয় বরং সৎ সাহসের পরিচায়ক। আমি চেষ্টা করেছি দায়িত্বের প্রতি সৎ থাকতে।”

ফাউন্ডেশনের নতুন কাঠামো ও কার্যক্রম নিয়ে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন এবং ফাউন্ডেশনের অগ্রগতি কামনা করেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




দাভোসে মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনের চেয়ারম্যানের সঙ্গে অধ্যাপক ইউনূসের বৈঠক

সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ফাঁকে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনের চেয়ারম্যান রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টোফ হিউসগেন। এ সময় বাংলাদেশের নিরাপত্তা, রোহিঙ্গা সংকট, প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক এবং অনলাইনে ভুয়া তথ্য ছড়ানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়।

রাষ্ট্রদূত হিউসগেন প্রধান উপদেষ্টাকে আসন্ন ফেব্রুয়ারিতে জার্মানির মিউনিখে অনুষ্ঠিতব্য বার্ষিক নিরাপত্তা সম্মেলনে যোগদানের আমন্ত্রণ জানান। তিনি এ সম্মেলনকে বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সংলাপের গুরুত্বপূর্ণ একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে উল্লেখ করেন।

বৈঠকে রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টোফ হিউসগেন ফেসবুকের মতো অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশ সম্পর্কিত ভুয়া খবর ও ভুল তথ্য প্রচারের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি ইউরোপীয় উদাহরণ অনুসরণ করে বাংলাদেশে একটি আইন প্রণয়নের প্রস্তাব দেন, যা অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোর বিষয়বস্তু যাচাই বাধ্যতামূলক করবে।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী এবং এসডিজি সমন্বয়কারী লামিয়া মোর্শেদ। তারা আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এবং বাংলাদেশের উন্নয়ন ও নিরাপত্তা ইস্যুতে মতামত দেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



দাভোসে তিমোর-লেসতের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে অধ্যাপক ইউনূসের বৈঠক

সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সাইডলাইনে তিমোর-লেসতের রাষ্ট্রপতি হোসে রামোস-হোর্তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। এ সময় দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় বলে প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার জানান। বৈঠকে দুদেশের পারস্পরিক সহযোগিতা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক উন্নয়নের উপায় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস সোমবার (২০ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ১টায় চার দিনের সফরে সুইজারল্যান্ডের জুরিখের উদ্দেশ্যে রওনা হন। তিনি মঙ্গলবার বিকেল ৫টা ২৫ মিনিটে জুরিখে পৌঁছান এবং সেখান থেকেই ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের নানা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



পটুয়াখালীতে সারের সংকটে তরমুজ চাষে বিপর্যয়ের শঙ্কা

পটুয়াখালীর তরমুজ চাষিরা চলমান মৌসুমে সারের তীব্র সংকটে পড়েছেন। বাজারে প্রয়োজনীয় পরিমাণ সার না থাকায় চাষিদের অতিরিক্ত দামে সার কিনতে বাধ্য হতে হচ্ছে। তবে তা সত্ত্বেও চাহিদা পূরণ হচ্ছে না, যা এবারের তরমুজ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করছে।

জানুয়ারি মাসে জেলার ২০ হাজার ২৪০ টন সারের চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ করা হয়েছে মাত্র ৭ হাজার ৩৭৩ টন। এর ফলে তরমুজ আবাদ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ বছর পটুয়াখালীতে ২৩ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ১৯৯ হেক্টর জমিতে ইতোমধ্যে রোপণ সম্পন্ন হয়েছে। জেলার গলাচিপা, রাঙ্গাবালী এবং কলাপাড়া উপজেলায় সবচেয়ে বেশি তরমুজ উৎপাদন হয়।

রাঙ্গাবালী উপজেলার চর নজিরের কৃষক হামিরুল হোসেন জানান, ২০ একর জমির জন্য প্রয়োজন ২০০ বস্তা সার, কিন্তু তিনি মাত্র ৫০ বস্তা পেয়েছেন, তাও চড়া দামে। একইভাবে কলাপাড়ার কৃষক রুহুল আমিন জানান, ৫০ একর জমির জন্য প্রয়োজন ৫০০ বস্তা সার, কিনতে পেরেছেন মাত্র ২০০ বস্তা।

জেলার ডিলাররা সাধারণত বরগুনা থেকে সার সংগ্রহ করলেও সেখানকার সংকটের কারণে বরিশাল ডিপো থেকে সরবরাহের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. নজরুল ইসলাম জানান, “খুব শিগগিরই সংকট দূর হবে।”

কৃষকদের অভিযোগ, ডিলাররা সরকারের নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি করছেন। ৫০ কেজির প্রতি বস্তা ইউরিয়া যেখানে ১,৩৫০ টাকায় বিক্রির কথা, তা বিক্রি হচ্ছে ১,৬০০ টাকায়। বিষয়টি নজরদারিতে রাখা হয়েছে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

কৃষকরা মনে করছেন, সারের এই সংকট চলমান থাকলে তরমুজের উৎপাদন লক্ষ্যপূরণ সম্ভব হবে না। এতে কৃষকদের আর্থিক ক্ষতি যেমন বাড়বে, তেমনি দেশের ফলনেও প্রভাব পড়বে।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উন্নয়নে জার্মানির সহযোগিতার অঙ্গীকার

জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎস জানিয়েছেন, তার দেশ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তরে সহায়তা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মঙ্গলবার সুইজারল্যান্ডের ডাভোস শহরে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ফাঁকে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এ প্রতিশ্রুতি দেন।

ড. ইউনূস তার ছয়টি কমিশনের দাখিল করা সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, এ ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হলে রাজনৈতিক দলগুলো “জুলাই সনদে” স্বাক্ষর করবে, যা ১৯৭১ সালের গণতান্ত্রিক চেতনা বজায় রাখবে।

বৈঠকের মূল বিষয়বস্তু

জুলাই অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট: তরুণদের দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণ এবং এক ১২ বছর বয়সী ছাত্রের আত্মত্যাগের হৃদয়বিদারক কাহিনী চ্যান্সেলরকে জানান ড. ইউনূস।

রোহিঙ্গা সংকট: জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের জন্য একটি নিরাপদ অঞ্চল তৈরির অনুরোধ জানান ড. ইউনূস।

বাংলাদেশ-জার্মানি সম্পর্ক: দুই দেশের মধ্যে ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে জার্মান বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে আসার আহ্বান জানান ড. ইউনূস।

ব্যবসা ও বিনিয়োগ

বাংলাদেশের ব্যবসায়িক সম্ভাবনা তুলে ধরে ড. ইউনূস জার্মানির একটি বাণিজ্য প্রতিনিধিদলকে ঢাকায় পাঠানোর আহ্বান জানান।

ডাভোসে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে সম্ভাব্য নানা দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম