চুরি যাওয়া অর্থ ফেরাতে বিদেশি বন্ধুদের সহায়তা চান ড. ইউনূস

বাংলাদেশ থেকে চুরি হওয়া শত শত বিলিয়ন ডলার ফেরত আনতে আন্তর্জাতিক বন্ধুদের সহায়তা চেয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলনে অংশগ্রহণকালে বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেন।

সাক্ষাৎকার এবং বৈঠক:
২২ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে ড. ইউনূস জার্মানির ফেডারেল চ্যান্সেলর ওলফগ্যাং শমিড, বেলজিয়ামের রাজা ফিলিপ, থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পায়েটংতার্ন শিনাওয়াত্রা, জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসসহ আরও অনেকের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ সময় তার সঙ্গে বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী, সিনিয়র সচিব লামিয়া মোরশেদ এবং অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অর্থ ফেরত প্রক্রিয়া:

ড. ইউনূস বৈঠকে জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি অ্যাসেট রিকভারি কমিটি গঠন করেছে। শীর্ষ ২০ মানি লন্ডারারের সম্পদ ফেরত আনতে বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

সহযোগিতার আহ্বান:

জার্মান মন্ত্রী ওলফগ্যাং শমিডের সঙ্গে সাক্ষাতে ড. ইউনূস বলেন, “আমরা নতুন বাংলাদেশের কথা বলি, যেখানে স্বচ্ছতা ও সুশাসন বজায় থাকবে।” জার্মানি এপ্রিলে বাংলাদেশ সফরে একটি ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদল পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

দাভোসে বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও আলোচনা করেন প্রধান উপদেষ্টা
দাভোসে বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও আলোচনা করেন প্রধান উপদেষ্টা

 

জলবায়ু অর্থায়ন:

সুইস ফেডারেল কাউন্সিলর ইগনাজিও ক্যাসিসের সঙ্গে বৈঠকে সুন্দরবনে কার্বন সংরক্ষণ প্রকল্পে সুইজারল্যান্ডের সহযোগিতা চান ড. ইউনূস।

রোহিঙ্গা সংকট:

থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পায়েটংতার্ন শিনাওয়াত্রার সঙ্গে বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকটের দ্রুত সমাধানে সহায়তার আবেদন জানান তিনি। থাই প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ-থাইল্যান্ড যুব সম্পর্কোন্নয়নে আগ্রহ প্রকাশ করেন।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




তরুণ প্রজন্মই ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গড়বে: মো. নাহিদ ইসলাম

তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম বলেছেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের তরুণ প্রজন্ম আগামী দুই দশক ধরে বাংলাদেশের রাজনীতি ও সমাজে বিশাল প্রভাব ফেলবে।

মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) দেশের অন-লাইন সংবাদ মাধ্যম বাসসকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘তরুণ প্রজন্ম তাদের চিন্তা, ধারণা ও কাজের মাধ্যমে রাষ্ট্র ও সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন আনবে। অভিজ্ঞতার অভাব থাকা সত্ত্বেও তাদের উদ্যম ও প্রচেষ্টা দেশের উন্নয়নে নতুন মাত্রা যোগ করবে।’

নাহিদ আরও বলেন, দীর্ঘ স্বৈরশাসনের পতনের পর বাংলাদেশ এখন তরুণদের নেতৃত্বে একটি নবজাগরণের সাক্ষী। তিনি বলেন, ‘তরুণরা দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত এবং তারা ভবিষ্যতের জন্য নিজেদের যোগ্য করে গড়ে তুলছে।’

ডাক ও টেলিযোগাযোগ এবং আইসিটি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী নাহিদ বলেন, তরুণদের কর্মসংস্থান তৈরি, উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করা এবং তাদের শিক্ষা ও দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করছে।

তিনি বলেন, ‘২০২৪ সালের বিপ্লব তরুণদের আত্মত্যাগ ও প্রতিরোধের অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে। এটি শুধু বাংলাদেশ নয়, সারা বিশ্বের জন্য একটি অনুপ্রেরণা।’

জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে নাহিদ জানান, “এসো দেশ বদলাই, পৃথিবী বদলাই” শীর্ষক তারুণ্যের উৎসব ২০২৫ উদযাপনের লক্ষ্য তরুণদের একত্রিত করা এবং তাদের অর্জনগুলোকে স্বীকৃতি দেওয়া।

তিনি আরও বলেন, তরুণরা ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সবসময় নেতৃত্ব দিয়েছে এবং জাতির পরিবর্তনে ভূমিকা রেখেছে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান তার সর্বশেষ উদাহরণ।

নাহিদ স্মরণ করিয়ে দেন, বিগত ১৬ বছরে সঠিক শিক্ষা ব্যবস্থার অভাবে দেশ সামাজিক অগ্রগতিতে পিছিয়ে পড়েছে। তাই অন্তর্বর্তী সরকার এখন শিক্ষার উন্নয়ন এবং তরুণদের কর্মসংস্থানে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

সূত্র : বাসসক।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ড. মুহাম্মদ ইউনূসের জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গে সাক্ষাৎ

সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনে অংশ নিতে যাওয়া প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।

বুধবার (২২ জানুয়ারি) সম্মেলনের ফাঁকে আয়োজিত এই বৈঠকে তারা পারস্পরিক কুশলাদি বিনিময় করেন এবং একে অপরের প্রতি শুভেচ্ছা জানান।

ড. ইউনূস চার দিনের এই গুরুত্বপূর্ণ সফরে ২০-২৪ জানুয়ারি দাভোসে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। সফরের শুরুতে তিনি জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎস, বেলজিয়ামের রাজা ফিলিপ এবং থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পরিকল্পনা করেছেন।

এছাড়া অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাগনেস ক্যালামার্ড, বিভিন্ন সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাসহ একাধিক উদ্যোক্তা এবং প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীর সঙ্গেও তিনি সাক্ষাৎ করবেন।

ড. ইউনূস সম্মেলনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেবেন এবং বৈশ্বিক গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ে আলোচনা করবেন।

সফর শেষে আগামী ২৪ জানুয়ারি দাভোস থেকে ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে তার।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




সংস্কারমুখী বাজেটের প্রয়োজনীয়তা: ড. জাহিদ হোসেনের বিশ্লেষণ

আগামী অর্থবছরে (২০২৬) একটি সংস্কারমুখী বাজেট প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেছেন দেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন। তিনি মনে করেন, শুধুমাত্র বড় আকারের বাজেট প্রণয়ন নয়, বরং অর্থনৈতিক খাতের বাস্তব সংস্কারকেই অগ্রাধিকার দিতে হবে।

রাজধানীতে নিজের বাসভবনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ড. জাহিদ বলেন, “আমাদের আগামী বাজেট একটি অর্থনৈতিক মোড় ঘোরানোর সুযোগ এনে দিতে পারে। তবে এটি নির্ভর করবে সরকার কী ধরনের নীতি গ্রহণ করছে তার ওপর।”

তিনি উল্লেখ করেন, “এ পর্যন্ত প্রণীত বাজেটগুলোতে সংস্কার উদ্যোগের অভাব ছিল। আবারও যদি একই প্রবণতা দেখা যায়, তবে তা হতাশাজনক হবে। এ কারণে, রাজস্ব, আর্থিক এবং কাঠামোগত নীতির মাধ্যমে দ্রুত কার্যকর সংস্কার প্রয়োজন।”

ড. জাহিদ হোসেন বলেন, গত বছরের ছাত্র-নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিলেও তারা অত্যন্ত নাজুক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে। এই স্বল্প সময়ে দৃশ্যমান উন্নয়ন ঘটানো কঠিন হলেও সরকারের দ্রুত কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।

তিনি আরও বলেন, “মূল্যস্ফীতি কমানোর কোনো সুস্পষ্ট দিক নির্দেশনা দেখা যাচ্ছে না। বিনিয়োগ পরিবেশে দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন, যেখানে অনিশ্চয়তা দূর করা হবে। এটি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।”

আগামী বাজেটের ক্ষেত্রে সামাজিক খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, “দরিদ্র ও অস্বচ্ছল জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি মোকাবিলায় নগদ সহায়তা এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে অতীতের অবহেলার প্রতিকারে বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রাখা প্রয়োজন। পাশাপাশি, কিছু গুরুত্বপূর্ণ খাতে প্রাতিষ্ঠানিক পুনর্গঠন অপরিহার্য।”

তিনি বলেন, সরকারের নীতিতে বিরাট পরিবর্তনের আশা করা বাস্তবসম্মত নয়, তবে বাজেটে আশা জাগানো আলোর প্রতিফলন থাকা উচিত।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বিশ্ব সরকার সম্মেলনে আমন্ত্রণ পেলেন ড. ইউনূস

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে আগামী ১১ থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিশ্ব সরকার সম্মেলনে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ পেয়েছেন নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

বুধবার সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বার্ষিক সভার পাশাপাশি একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে আমিরাতের সংস্কৃতি ও শিল্প কর্তৃপক্ষের চেয়ারপারসন শেখ লাতিফা বিনতে মোহাম্মদ বিন রাশিদ আল মাকতুম অধ্যাপক ইউনূসকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই আমন্ত্রণ জানান।

এ সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের নেতৃবৃন্দ ও নীতিনির্ধারকরা অংশ নেবেন, যেখানে বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হবে। বৈঠকে তরুণদের সম্ভাবনা এবং নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ আলোকপাত করা হয়।

বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে যোগ দিতে মঙ্গলবার (২২ জানুয়ারি) ড. ইউনূস সুইজারল্যান্ডের জুরিখ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান জেনেভায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. আরিফুর রহমান।

ড. ইউনূস বর্তমানে দাভোসে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ও সেশনে অংশ নিচ্ছেন এবং আগামী ২৫ জানুয়ারি দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বরিশালে অটোর ধাক্কায় শিশুর মৃত্যু, নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

বরিশালের বিএম কলেজ সংলগ্ন সড়কে একটি দ্রুতগতির অটোর ধাক্কায় জান্নাতুল মাওয়া (১০) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার প্রতিবাদে দুপুর একটার পর থেকেই বিএম কলেজের শিক্ষার্থীরা রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন।

নিহত জান্নাত পটুয়াখালী সদর উপজেলার বাসিন্দা। তার বাবা মো. নিজাম। তারা বরিশালের বিএম কলেজ রোড এলাকায় বেড়াতে এসেছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জান্নাত ও তার এক সহপাঠী দোকান থেকে চিপস কিনে রাস্তা পার হচ্ছিল। এসময় দ্রুতগতির একটি হলুদ অটো নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে জান্নাতকে ধাক্কা দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পরপরই চালক পালিয়ে যায়।

দুপুর একটার পর থেকে শিক্ষার্থীরা নথুল্লাবাদ থেকে নতুন বাজার পর্যন্ত সড়ক অবরোধ করে রাখেন। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করে এবং প্রতিবাদ স্বরূপ রাস্তায় ক্রিকেট খেলেন। এতে করে স্থানীয় ও দূরবর্তী যাত্রীদের চলাচলে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হয়।

বরিশাল বিএম কলেজের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী সাহাবুদ্দিন মিয়া বলেন, অরক্ষিত সড়ক এবং বেপরোয়া চালকদের কারণে প্রাণ হারাতে হচ্ছে। নিরাপদ সড়ক চাই। প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আন্দোলন চলবে।

বিক্ষোভকারীরা নিরাপদ সড়কের দাবিতে বেশ কয়েকটি দাবি জানান: ১. ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অটোচালককে গ্রেফতার এবং ভুক্তভোগী পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
২. কলেজের সামনের ফুটপাতগুলো স্থায়ীভাবে দখলমুক্ত করতে হবে।
৩. কলেজ চলাকালীন সময়ে বিকল্প রাস্তা ব্যবহারের ব্যবস্থা করতে হবে।
৪. নথুল্লাবাদ থেকে নতুন বাজার পর্যন্ত গতিসীমা নির্ধারণ করতে হবে।
৫. স্পিডব্রেকার ও ডিভাইডার নিশ্চিত করতে হবে।
৬. কলেজের সামনে স্থায়ীভাবে ট্রাফিক পুলিশ বক্স নির্মাণ করতে হবে।
৭. রাস্তা ও ক্যাম্পাসকে ১০০% সিসি ক্যামেরার আওতায় আনতে হবে।

সরকারি বিএম কলেজের
বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী সাহাদাত হোসেন বলেন, প্রতিদিন পথচারীরা ঝুঁকিতে থাকছেন। আজকের এই মৃত্যু আবারো আমাদের কাঁপিয়ে দিল। প্রশাসনের কাছে দ্রুত পদক্ষেপ চাই।

সরকারি বিএম কলেজেরন অর্থনীতি বিভাগের কামরুল ইসলাম বলেন, আমাদের ক্যাম্পাস ও রাস্তাকে নিরাপদ করতে নিয়মিত মনিটরিং এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়তে হবে।

বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, শিশুটির মৃত্যুর ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর আমরা অটোটি জব্দ করেছি এবং চালককে গ্রেপ্তার করতে দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছি। আমরা শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করতে আহ্বান জানাই এবং সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিতের কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।

এই মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের দাবি, নিরাপদ সড়কের স্বার্থে প্রশাসন দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেবে।




একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অনিয়ম অনুসন্ধানে ৫ সদস্যের কমিটি গঠন

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ক্ষমতার অপব্যবহার, অপরাধমূলক অসদাচরণ, জালিয়াতি, রাতে ভোট নেওয়া এবং অন্যান্য অনিয়ম অনুসন্ধান করার জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

বুধবার (২২ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে দুদক জানায়, ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ এসেছে। এসব অভিযোগের মধ্যে রয়েছে, দিনের ভোট রাতে নেওয়া, ব্যালট জালিয়াতি, কিছু কিছু কেন্দ্রে ৯০% এর বেশি ভোট গণনা দেখানো, ব্যাপক আর্থিক লেনদেন এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রার্থীদের জয়ী করা। এসব অভিযোগ বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়েছে এবং দুদকেও কিছু অভিযোগ জমা পড়েছে।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, ডিএমপি কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া, র‌্যাবের প্রধান বেনজির আহমেদ, পুলিশের সাবেক আইজিপি শহিদুল হক, প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা তারেক আহমেদ সিদ্দিকি, জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা এইচটি ইমামসহ স্থানীয় প্রশাসনের যোগসাজসের কথা।

এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুদক ৫ সদস্যের অনুসন্ধান কমিটি গঠন করেছে। কমিটি নির্বাচনের সময় গণমাধ্যমে প্রচারিত সংবাদ, বিভিন্ন ভিডিও এবং নির্বাচনের ফলাফল সীট পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য কার্যক্রম সম্পন্ন করে প্রতিবেদন দাখিল করবে।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ভ্যাট বৃদ্ধির সঙ্গে মহার্ঘ ভাতার কোনো সম্পর্ক নেই: অর্থ উপদেষ্টা

অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, মহার্ঘ ভাতা বাড়ানোর সঙ্গে ভ্যাট বাড়ানোর কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি জানান, যদি মহার্ঘ ভাতা দেওয়া হয়, তা আলাদা হিসাব করা হবে। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের ট্যাক্স একটি বিশ্বে সর্বনিম্ন, এমনকি এলডিসি দেশের তুলনায়ও আমাদের ট্যাক্স কম। ভুটান, নেপাল, আইভোরি কোস্ট, বুরকিনা ফাসো থেকে আমাদের ট্যাক্স কম। এত কম ট্যাক্স দিয়ে সবকিছু পাওয়া সম্ভব নয়, এটি আশা করা ঠিক নয়।”

বুধবার (২২ জানুয়ারি) সচিবালয়ে খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার।

তিনি আরও বলেন, “আমরা চশমার উপর ভ্যাট বাড়িয়েছি। ১২৫ টাকায় পৃথিবীর কোন দেশে চশমা পাওয়া যায়? এতে মাত্র ১৫ টাকা বাড়ানো হয়েছে। খাবারের দাম ৬০০-৭০০ টাকা, সেখানে ২০ টাকা ভ্যাট হবে না?”
অর্থ উপদেষ্টা জানান, ভাতের হোটেলে ভ্যাট জিরো করা হয়েছে, গ্লোরিয়া জিন্সে কফির দামেও সামান্য ভ্যাট বেড়েছে। তিনি বলেন, “যদি আমাদের রেভিনিউ এত কম থাকে, তবে পুরো পরিস্থিতি আপনারা এখনও বুঝতে পারেননি, তবে আশা করাও উচিত নয়।”

এছাড়া, তিনি আরও উল্লেখ করেন, “ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক থেকে ১৩৫ মিলিয়ন ডলারের এলএনজি আমদানির বিল শোধ করা হয়েছে এবং ১ মিলিয়ন ডলারের নতুন পাওনা রয়েছে।”

অর্থ উপদেষ্টা আরও বলেন, “বর্তমান সময়ের চেয়ে পূর্বে পরিস্থিতি ভালো ছিল না, যারা সমালোচনা করেন, তাদের অনেকেই আমার ছাত্র। তারা বলেন, রাজস্ব বাড়াতে আমরা কোন জায়গায় বাড়াব? আমরা ইতোমধ্যে জায়গাগুলো চিহ্নিত করার কাজ করছি।”

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, “আমরা সরকারি ব্যয়ে সাশ্রয়ী হব। অনেক অপ্রয়োজনীয় ব্যয় রয়েছে, যেমন বড় প্রকল্পের ব্যয়, যেগুলোতে বাড়তি খরচ হয়েছে।”

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত নির্বাচন কমিশন: ইসি মাছউদ

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ না করে সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে নির্বাচন কমিশন। বরিশালে নির্বাচন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আব্দুর রহমানেল মাছউদ। তিনি জানান, সুষ্ঠু ভোট উপহার দেওয়া কমিশনের অঙ্গীকার।

ভোটার তালিকা হালনাগাদ কর্মসূচি ২০২৫ উপলক্ষে বুধবার (২২ জানুয়ারি) বরিশাল আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলার ঊর্ধ্বতন নির্বাচন কর্মকর্তারা অংশ নেন।

সভায় ইসি মাছউদ মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন যেন হালনাগাদ কার্যক্রম নির্ভুলভাবে সম্পন্ন হয়। ভুয়া ভোটার থাকলে তা প্রমাণ সাপেক্ষে বাতিল করতে বলেন তিনি। একইসঙ্গে সঠিক তথ্য সংগ্রহের জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নয়, বর্তমানে জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে পরিকল্পনা করছে কমিশন। তাদের লক্ষ্য নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা।




আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে শফিকুল আলমের বক্তব্য: “ফিরতে পারবে না দলটি”

আগামী জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশগ্রহণ করবে বলে গুঞ্জন থাকলেও, দলটি ফিরতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

বুধবার (২২ জানুয়ারি) নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে এক পোস্টে তিনি এ বিষয়ে নিজের বক্তব্য দেন। পোস্টে শফিকুল আলম উল্লেখ করেন, ‘গণহত্যা সমর্থনকারী আওয়ামী লীগের সমর্থকরা ভ্রান্তিতে আছেন যে, নির্বাচন আসলে তারা রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় ফিরে আসতে পারবেন। তবে, মানবতাবিরোধী অপরাধের দায় স্বীকার না করলে এবং খুন ও গুমের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের নির্মূল না করা পর্যন্ত এটি সম্ভব নয়।’

এছাড়া, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত আওয়ামী লীগের সদস্য ও সহযোগীদের বিচার দাবি করেন তিনি।

পোস্টে শফিকুল আলম আরও জানান, ‘সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বিভিন্ন বিদেশি কূটনীতিক ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছে। তারা প্রায়ই সমঝোতার বিষয়ে আহ্বান জানাচ্ছেন না। তাদের মতে, অপরাধীরা তাদের অপরাধ স্বীকার না করলে সমঝোতার আহ্বান করা যাবে না। তারা বরং সংস্কার এবং দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঠিক করার বিষয়ে বেশি সমর্থন জানিয়েছেন।’

শফিকুল আলম তার পোস্টে আরও অভিযোগ করেন, ‘আওয়ামী লীগের সমর্থকরা ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ, রক্ষীবাহিনীর হত্যাকাণ্ড এবং শেখ মুজিবের একদলীয় শাসনের স্মৃতি মুছে ফেলতে চেষ্টা চালিয়ে গেছে। কিন্তু বর্তমান প্রজন্ম এবার সজাগ হয়ে উঠেছে এবং তারা স্বৈরশাসনের প্রতিটি মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে সচেতন।’

 

“মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”