অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার প্রক্রিয়ার ওপর গুরুত্বারোপ অধ্যাপক ইউনূসের

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলছেন, বাংলাদেশে নাগরিকরা যেন কোনো ধরনের বাধা বা হুমকি ছাড়াই অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে ভোট দিতে পারেন, সেই প্রক্রিয়া তৈরি করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি এ কথা বলেন সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) বার্ষিক সম্মেলনে ডব্লিউইএফ-এর প্রতিষ্ঠাতা ক্লাউস শোয়াবের সঙ্গে এক বৈঠকে।

ড. ইউনূস গত বছরের জুলাইয়ে বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া গণঅভ্যুত্থান প্রসঙ্গে মন্তব্য করে বলেন, গত জুলাই মাসে শিক্ষার্থীরা সরকারি চাকরিতে বৈষম্য দূর করার দাবিতে রাস্তায় নেমে ছিল। তাদের আন্দোলন দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে, যার ফলে দেশে পরিবর্তনের আলো দেখা দেয়। শিক্ষার্থীরা তাদের আকাঙ্ক্ষা এবং ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেয়ালের গ্রাফিতিতে প্রকাশ করেছে।

তিনি বলেন, গত ১৬ বছরে যারা নতুন ভোটার হয়েছেন, তাদের ভোট দেওয়ার সুযোগ একেবারেই হয়নি, যা একটি দুর্ভাগ্যজনক বিষয়।

বাংলাদেশে নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, “সরকার যদি জানতে না পারে জনগণ কিভাবে নির্বাচন চায়, তবে এটি আয়োজন করা সম্ভব হবে না।” তিনি আরও জানান, সরকার নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রস্তুত হলেও, জনগণকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা কী ধরনের সংস্কার চায়। যদি তারা দ্রুত সংস্কার চায়, তবে এ বছরের শেষ নাগাদ নির্বাচন হতে পারে, তবে দীর্ঘ মেয়াদী সংস্কারের প্রয়োজন হলে আরো ছয় মাস সময় লাগবে।

বর্তমান প্রজন্মকে মানব ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রজন্ম হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, “প্রযুক্তির অগ্রগতির কারণে বর্তমান প্রজন্ম শুধুমাত্র বাংলাদেশি নয়, বরং সারাবিশ্বের তরুণ প্রজন্মের অংশ হয়ে উঠেছে।”

তিনি বলেন, এই তরুণ প্রজন্ম পুরনো বাংলাদেশে ফিরে যেতে চায় না, তাদের একটি নতুন বাংলাদেশ গড়তে হবে। এজন্য, তিনি জানান, তরুণদের মধ্যে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা করার জন্য একটি বিশেষ কমিশন গঠন করা হবে এবং সেই কমিশন সকল রাজনৈতিক দল এবং সুশীল সমাজের সংগঠনের মতামত নিয়ে ‘জুলাই সনদ’ প্রস্তুত করবে।

অধ্যাপক ইউনূস আরও জানান, তার সরকার বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ইতিবাচক পথে ফিরিয়ে আনার জন্য কাজ করছে এবং ইতিমধ্যে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থা সচল হয়েছে।

ড. ইউনূসের বক্তব্যে মুগ্ধ হয়ে ক্লাউস শোয়াব আধাঘণ্টার আলোচনায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




গণ-অভ্যুত্থানের জন্য এসেছে বর্তমান সরকার: নাহিদ ইসলাম

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম বিবিসি বাংলার একান্ত সাক্ষাৎকারে বলেছেন, “বিএনপি মনে করে এই সরকার এসেছে কেবল একটি নির্বাচন দেয়ার জন্য, তবে সত্যিকার অর্থে এই সরকার এসেছে একটি গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে। এটি একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, যেটি বিচার, সংস্কার এবং নির্বাচনের জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বিচার এবং সংস্কার এই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।”

নাহিদ ইসলাম আরও জানান, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নিরপেক্ষ সরকারের দাবির মধ্যে একটি নতুন এক এগারো পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে, যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। নাহিদ বলেন, “বিএনপি এই সরকারকে নিরপেক্ষ ভাবছে, কিন্তু সরকার আসলে গণ-অভ্যুত্থানের সময়কালে এসেছে, যার মাধ্যমে সমাজে বিচার, সংস্কার ও নির্বাচন সম্পন্ন হবে।”

এছাড়া, নাহিদ ইসলাম আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফিরে আসার বিষয়টি জনগণের হাতে ছেড়ে দেওয়ার বিপরীতে বলেছেন, “নিরপেক্ষ সরকার মানে শুধু আওয়ামী লীগের প্রতি নিরপেক্ষ আচরণ করা নয়। যারা গুম, খুন, চাঁদাবাজি এবং টাকা পাচারের সাথে যুক্ত ছিলো, তাদেরকে অবশ্যই বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্যে আনা হবে।”

তবে তিনি আরো পরিষ্কার করেছেন, “আমরা মনে করি আওয়ামী লীগ নামে বাংলাদেশের রাজনীতি করার কোনো নৈতিক বা রাজনৈতিক অধিকার নেই। নির্বাচনের আগে সংশ্লিষ্টরা বিচারিক প্রক্রিয়া নিয়ে স্পষ্ট বক্তব্য দেবেন।”

রাজনৈতিক দল গঠন এবং ছাত্র উপদেষ্টাদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ নিয়ে নাহিদ ইসলাম জানান, “উপদেষ্টাদের যদি রাজনীতি করতে হয়, তাদের সরকার থেকে বের হয়ে তা করতে হবে।”

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



গুজব এড়িয়ে চলার আহ্বান আইন উপদেষ্টার

আইন ও বিচার উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো গুজবকে “পাগলের প্রলাপ” আখ্যা দিয়ে এগুলোতে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

শুক্রবার (২৪ জানুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে তিনি এ আহ্বান জানান। তিনি লেখেন, “পাগলের প্রলাপের মতো গুজব ছড়ানো হচ্ছে। এসবে কান দিবেন না। আমরা সবাই ভালো আছি। নিজ নিজ জায়গায় আছি। আলহামদুলিল্লাহ।”

বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) দিনগত রাত থেকে ফেসবুকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, সরকারের উপদেষ্টা এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের নিয়ে নানা গুজব ছড়িয়ে পড়ে। গুজবগুলোর মধ্যে উল্লেখ করা হয়, “অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা পালিয়ে গেছেন,” “প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করেছেন,” এবং “সামরিক বাহিনী সরকার গঠন করছে।”

এসব মিথ্যা তথ্য ছড়াতে দেখা গেছে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নামে খোলা কয়েকটি ফেসবুক পেজ থেকে। এমনকি কিছু সাবেক ও বর্তমান নেতা এসব গুজব শেয়ার করেছেন বলেও জানা গেছে।

অধ্যাপক আসিফ নজরুল এসব ভিত্তিহীন তথ্য এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন এবং সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়েছেন।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




জনগণ দ্রুত সংস্কার চাইলে চলতি বছরের শেষে নির্বাচন: প্রধান উপদেষ্টা

বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) বার্ষিক সম্মেলনের ফাঁকে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে গত বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) এক বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস সরকারের নির্বাচনী পরিকল্পনা সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। তিনি বলেন, সরকার নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রস্তুত, তবে এখন জনগণকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা কী ধরনের সংস্কার চাইবে—ছোট পরিসরের সংস্কার নাকি দীর্ঘ মেয়াদী সংস্কার।

অধ্যাপক ইউনূস উল্লেখ করেন, “যদি জনগণ দ্রুত সংস্কার চায়, তাহলে আমরা এ বছরের শেষ নাগাদ নির্বাচন করতে পারব। তবে যদি দীর্ঘ মেয়াদী সংস্কারের দাবি ওঠে, তাহলে আমাদের আরও ছয় মাস সময় লাগবে।”

ড. ইউনূস আরও বলেন, “বর্তমান প্রজন্মকে শক্তিশালী প্রজন্ম হিসেবে চিহ্নিত করছি। তাদের কাছে অমিত সম্ভাবনা রয়েছে, এবং প্রযুক্তি তাদেরকে বিশ্বময় তরুণ প্রজন্মের অংশ করেছে। এই প্রজন্ম পুরনো বাংলাদেশে ফিরে যেতে চায় না, তাই আমাদের একটি নতুন বাংলাদেশ গড়তে হবে।”

তিনি বৈঠকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কারের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো তুলে ধরে বলেন, “যতটুকু সময় জনগণের প্রয়োজন, ততটুকু সময় সরকারের সংস্কার কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে।”

অধ্যাপক ইউনূসের এই বক্তব্যে মুগ্ধ হন বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ক্লাউস শোয়াব। আধাঘণ্টার আলাপচারিতায় তিনি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন এবং অধ্যাপক ইউনূসের পরিকল্পনা ও উদ্যোগকে সমর্থন জানান।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




আল গোরের প্রশংসায় অধ্যাপক ইউনূসের ‘থ্রি জিরো’ আন্দোলন

সাবেক মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং শীর্ষ জলবায়ু কর্মী আল গোর অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের উদ্যোগে চালু হওয়া ‘থ্রি জিরো’ আন্দোলনের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। এই আন্দোলন দারিদ্র্য, বেকারত্ব এবং কার্বন নিঃসরণমুক্ত একটি বিশ্ব গড়ার লক্ষ্যে কাজ করছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনের ফাঁকে আল গোর অধ্যাপক ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। আলোচনায় তিনি ‘থ্রি জিরো’ আন্দোলনকে অত্যন্ত ইতিবাচক ও যুগান্তকারী বলে উল্লেখ করেন।

আল গোর বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার কর্মসূচির প্রতি সমর্থন জানিয়ে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

সাক্ষাৎকালে জলবায়ু পরিবর্তন, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন, এবং এর ক্ষতিকর প্রভাব হ্রাসে ‘থ্রি জিরো’ আন্দোলনের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের বিপ্লবী চেতনা ও উদ্যোগের প্রশংসা করেন আল গোর।

অধ্যাপক ইউনূস তার সাক্ষাৎকারে আল গোরকে ‘দ্য আর্ট অফ ট্রায়াম্ফ’ নামে একটি শিল্পকর্ম সংকলন উপহার দেন, যা বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের চেতনাকে তুলে ধরে।

আল গোর বইটি দেখে বলেন, “এই বইটির প্রতিটি পৃষ্ঠা অনুপ্রেরণাদায়ী। এটি বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের ক্ষমতাকে নতুনভাবে চিনতে সাহায্য করবে।”

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ওমরাহ ও ভিজিট ভিসার যাত্রীদের জন্য টিকা বাধ্যতামূলক: সংকট নিরসনে সরকারের উদ্যোগ

সৌদি আরবে ওমরাহ ও ভিজিট ভিসার যাত্রীদের জন্য মেনিনজাইটিস ও ইনফ্লুয়েঞ্জা টিকা নেওয়া বাধ্যতামূলক করেছে দেশটির সরকার। আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। যাত্রার অন্তত ১০ দিন আগে টিকা নিতে হবে। তবে এ সিদ্ধান্তে বিপাকে পড়েছেন যাত্রীরা এবং এজেন্সিগুলো। টিকা না পেয়ে অনেক যাত্রীই শেষ পর্যন্ত ওমরাহ যাত্রা বাতিল করছেন।

টিকার সংকট ও যাত্রীদের দুর্ভোগ

ঢাকার রামপুরা বনশ্রী এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ মনির হোসেন ১০ ফেব্রুয়ারি পরিবারসহ ওমরাহ যাত্রার জন্য ভিসা ও বিমানের টিকিট কেটে রেখেছিলেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে এজেন্সির মাধ্যমে জানতে পারেন, টিকা না নিলে যাত্রা সম্ভব নয়। টিকা না পেয়ে দুইদিন ঘুরে তিনি বাধ্য হয়ে টিকিট বাতিল করেন। একইভাবে ঢাকার উত্তরা এলাকার খাইরুল ইসলামও টিকা না পেয়ে যাত্রা বাতিল করেছেন। তিনি জানান, বিভিন্ন হাসপাতালে ঘুরেও টিকা না পাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েন তিনি।

টিকার অভাবে সৃষ্ট সংকটের জন্য গত মঙ্গলবার রাজধানীর পান্থপথ এলাকায় সৌদি আরবগামী কিছু প্রবাসী সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করেন।

সরকারি উদ্যোগ ও সংকট নিরসনের আশা

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবু জাফর জানিয়েছেন, দেশীয় প্রতিষ্ঠান ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালসের তৈরি ইনগোভ্যাক্স টিকার মাধ্যমে সংকট নিরসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২৮ জানুয়ারির পর থেকে এই টিকা সহজলভ্য হবে। প্রতি ডোজের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১,০০০ টাকা।

তিনি আরও জানান, যাত্রীদের ঢাকায় আসার প্রয়োজন নেই। দেশের সব জেলা শহরে সিভিল সার্জন অফিসের মাধ্যমে এই টিকা পাওয়া যাবে। এরই মধ্যে টিকাদান কেন্দ্র ঠিক করার কাজ চলছে। টিকাদান কার্যক্রম শুরু হলে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নিবন্ধন ও সার্টিফিকেটের ব্যবস্থাও থাকবে।

ইনসেপ্টার সিনিয়র ম্যানেজার ফারহানা লাইজু জানান, ইনগোভ্যাক্স টিকার পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। বর্তমানে ৮ হাজার ডোজ বাজারে এবং ৪০ হাজার ডোজ স্টকে আছে। মার্চের মধ্যে আরও ৪০ হাজার ডোজ তৈরি হবে।

ধর্ম মন্ত্রণালয় ও এজেন্সিগুলোর অবস্থান

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. মঞ্জুরুল হক জানান, ওমরাহ যাত্রা পুরোপুরি ব্যক্তিগত ও সৌদি সরকারের ব্যবস্থাপনায় হয়। এ কারণে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এখানে কোনো ভূমিকা নেই। তবে টিকা কার্যক্রমের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে।

এদিকে, হজ এজেন্সিগুলোর দাবি, সৌদি সরকার তিন মাস আগে সিদ্ধান্ত জানালেও বাংলাদেশ সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়নি। মক্কা-মদিনা হজ ট্যুর এজেন্সির ম্যানেজার মোজাফফর হোসেন জানান, টিকা সংকটের কারণে অনেক যাত্রী টিকিট বাতিল করছেন।

ভবিষ্যতের পদক্ষেপ ও পরামর্শ

টিকার বাধ্যবাধকতার কারণে যাত্রীরা যে সমস্যায় পড়েছেন, তা নিরসনে সরকারের দ্রুত উদ্যোগ প্রশংসনীয়। তবে ভবিষ্যতে এ ধরনের সংকট এড়াতে সরকারের উচিত সৌদি সরকারের সঙ্গে আগেভাগে যোগাযোগ করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা। যাত্রীদেরও টিকা সংক্রান্ত তথ্য আগে থেকে সংগ্রহ করে প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পটুয়াখালীর মাহফিলে আসুন, দেখা হবে, কথা হবে: আজহারী

পটুয়াখালী ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত তাফসিরুল কুরআন মাহফিলে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রখ্যাত ইসলামি স্কলার ড. মিজানুর রহমান আজহারী।

শুক্রবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে তিনি পটুয়াখালীবাসীকে মাহফিলে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানান।

মিজানুর রহমান আজহারী এর ফেসবুক পোস্ট
মিজানুর রহমান আজহারী এর ফেসবুক পোস্ট

 

ড. আজহারী লিখেছেন, “বরিশাল বিভাগের বন্ধুরা, ইনশাআল্লাহ আগামীকাল (শনিবার, ২৫ জানুয়ারি) থাকছি— পটুয়াখালীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ময়দানে, পটুয়াখালী ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত তাফসিরুল কুরআন মাহফিলে। আসুন, দেখা হবে, কথা হবে।”

পটুয়াখালীতে তাফসিরুল কুরআন মাহফিলে আসছেন ড. মিজানুর রহমান আজহারী
পটুয়াখালীতে তাফসিরুল কুরআন মাহফিলে আসছেন ড. মিজানুর রহমান আজহারী

 

ড. মিজানুর রহমান আজহারী তাঁর বুদ্ধিদীপ্ত বক্তব্য ও ইসলামি জ্ঞানের জন্য দেশব্যাপী জনপ্রিয়। তিনি এর আগেও দেশে এবং বিদেশে বেশ কয়েকটি তাফসির মাহফিলে উপস্থিত থেকে লাখো মানুষের হৃদয় ছুঁয়েছেন।

গত অক্টোবর দেশে ফেরার পর থেকে তিনি বিভিন্ন মাহফিলে অংশ নিচ্ছেন, যা বিপুল মানুষের সমাগম ঘটাচ্ছে। পটুয়াখালীর এই মাহফিলেও একইরকম মানুষের ঢল নামবে বলে আয়োজকরা আশা করছেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




শেখ হাসিনার উন্নয়ন প্রবৃদ্ধি ‘ভুয়া’ : রয়টার্সকে ড. মুহাম্মদ ইউনূস

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন যে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের যে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দেখানো হয়েছিল, তা ‘ভুয়া’। তিনি এ দাবির পক্ষে বিশ্ববাসীর দায়ের কথাও উল্লেখ করেন।

সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সম্মেলনের ফাঁকে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ড. ইউনূস বলেন, শেখ হাসিনা দাভোসে সবার কাছে তার নেতৃত্বাধীন দেশের সাফল্যের গল্প তুলে ধরেছেন, কিন্তু সেই দাবির সত্যতা নিয়ে কেউ প্রশ্ন তোলেনি। তিনি বলেন, “এর জন্য পুরো বিশ্ব দায়ী। এটি বিশ্বব্যবস্থার জন্য একটি বড় শিক্ষা।”

ড. ইউনূস শেখ হাসিনার প্রবৃদ্ধির হারকে ‘ভুয়া’ আখ্যা দিলেও এর সপক্ষে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেননি। তবে তিনি জোর দেন ব্যাপকভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি এবং সম্পদের বৈষম্য কমানোর ওপর।

প্রসঙ্গত, ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এই হার প্রায় ৮ শতাংশে পৌঁছায়, যা ২০০৯ সালে ছিল প্রায় ৫ শতাংশ।

ড. ইউনূসের মতে, শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর দেশটির রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করেছে। ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ, গণহত্যা ও দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়। তবে শেখ হাসিনা ও তার দল এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়েও হতাশা প্রকাশ করেন ড. ইউনূস। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক সবচেয়ে শক্তিশালী হওয়া উচিত। বাংলাদেশের মানচিত্র না এঁকে ভারতের মানচিত্র আঁকা সম্ভব নয়।”

ড. ইউনূস তার সাক্ষাৎকারে জানান, তিনি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেন না। তবে অন্তর্ভর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে নতুন নির্বাচন আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস ‘দরিদ্রের ব্যাংকার’ হিসেবে পরিচিত। গ্রামীণ ব্যাংকের মাধ্যমে ক্ষুদ্রঋণের ধারণা প্রবর্তন করে তিনি বিশ্বব্যাপী প্রশংসা অর্জন করেন এবং ২০০৬ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বরিশাল অঞ্চলে লবণাক্ততার করাল গ্রাস, কৃষি উৎপাদনে বড় শঙ্কা

বরিশাল অঞ্চলের কৃষি জমি ব্যাপকভাবে লবণাক্ততার শিকার হয়ে উৎপাদন সংকটে পড়ছে। সম্প্রতি মৃত্তিকাসম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট ও পরিবেশবাদী সংস্থাগুলোর গবেষণায় উঠে এসেছে, বরিশাল বিভাগের প্রায় ৫২% ফসলি জমি লবণাক্ততায় আক্রান্ত। এতে ফসল উৎপাদনের শঙ্কা তীব্রতর হচ্ছে।

লবণাক্ততা বৃদ্ধির কারণ::কেন্দ্রীয় গবেষণায় দেখা গেছে, বরিশালের নদী ও মাটিতে দিন দিন লবণাক্ততার মাত্রা বেড়ে যাচ্ছে। গত দশ বছরে যেখানে মাত্র ৪টি নদীতে লবণাক্ততা দেখা যেত, এখন এ সংখ্যা বেড়ে ২০টিতে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সেচের জন্য সহনীয় লবণাক্ততার সীমা (নদীর পানি: ০.৭ ডিএস/মিটার, মাটি: ২ ডিএস/মিটার) অনেক আগে ছাড়িয়ে গেছে। বরিশালের নদ-নদীর পানিতে এখন সর্বোচ্চ ১৫-২০ ডিএস/মিটার এবং মাটিতে ২৫ ডিএস/মিটার লবণাক্ততা রেকর্ড করা হয়েছে।

বরিশাল অঞ্চলের চাষযোগ্য জমির অবস্থা ::

বরিশাল বিভাগে বর্তমানে ৮,০২,০০০ হেক্টর চাষযোগ্য জমির মধ্যে ৪,১৫,০০০ হেক্টর জমি লবণাক্ততায় আক্রান্ত। জেলা অনুযায়ী আক্রান্ত জমির পরিমাণ:

  • পটুয়াখালী: ১,৫৫,১৮০ হেক্টর (৩৯%)
  • বরগুনা: ৯৫,৬২০ হেক্টর
  • ভোলা: ৯৪,৫৭০ হেক্টর
  • পিরোজপুর: ৩৫,৮৩০ হেক্টর
  • বরিশাল: ১২,৩৬০ হেক্টর
  • ঝালকাঠি: ৪,৬২০ হেক্টর

ফসল উৎপাদনের চ্যালেঞ্জ::

বিগত সময়ে বরিশালের নদ-নদী যেমন কীর্তনখোলা, মেঘনা, বলেশ্বর ও কারখানার পানিতে লবণাক্ততা বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে সাধারণ ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে লবণাক্ততা সহনশীল ফসল চাষ ছাড়া এই অঞ্চলে আর কিছু উৎপাদন করা যাবে না।

বরিশাল মৃত্তিকাসম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা একীম মামুন জানিয়েছেন, লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে পুরো বরিশাল অঞ্চল চাষের জন্য অযোগ্য হয়ে পড়তে পারে। তিনি বলেন, “নদীতে সাগরের লবণ পানি প্রবেশ ঠেকাতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। তবে এটি একটি অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং কাজ।”

পরিবেশবিদদের মতে, বরিশালে দাবদাহ ও অসম বৃষ্টিপাত পরিস্থিতি আরও খারাপ করছে। সামনের শুষ্ক মৌসুমে বৃষ্টিপাত না হলে মাটি ও পানির গুণমান আরও কমে যেতে পারে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশাল বিভাগের ৬ জেলায় বিএনপির কমিটি পুনর্গঠনের লক্ষ্যে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি গঠন

বরিশাল বিভাগের ৬ জেলা ও মহানগরসহ উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটি পুনর্গঠনের লক্ষ্যে বিএনপি সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি গঠন করেছে। এ দায়িত্ব পালন করবেন দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ৭ জন সদস্য।

দায়িত্বপ্রাপ্তদের নাম ঘোষণা

  • বরিশাল মহানগর: জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান মামুন আহ্বায়ক।
  • বরিশাল জেলা দক্ষিণ: হায়দার আলী লেলিন।
  • বরিশাল জেলা উত্তর: মো. দুলাল হোসেন।
  • ভোলা জেলা: আবু নাসের মোহাম্মদ রহমতুল্লাহ।
  • পিরোজপুর ও বরগুনা জেলা: কাজী রওনাকুল ইসলাম টিপু।
  • ঝালকাঠি জেলা: হায়দার আলী লেলিন।

কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের তথ্য

বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল বিভাগ) আকন কুদ্দুসুর রহমান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। বুধবার রাতে এ নির্দেশনা জারি করা হয়।

পুনর্গঠনের মূল লক্ষ্য

দলীয় সংগঠনকে আরও গতিশীল করতে এবং আসন্ন কার্যক্রম শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। পুনর্গঠনের মাধ্যমে বরিশাল বিভাগের সব স্তরের নেতৃত্ব আরও কার্যকর ও সুসংগঠিত হবে বলে মনে করছেন নেতারা।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম