বাংলা একাডেমি পুরস্কারের ঘোষিত তালিকা স্থগিত: সংস্কার হবে একাডেমির নীতিমালা

বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারের জন্য ঘোষিত নামের তালিকা স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছেন সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। শনিবার (২৫ জানুয়ারি) তিনি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানিয়েছেন।

ফারুকী তার পোস্টে উল্লেখ করেন, ‌‘বাংলা একাডেমী পুরস্কারের জন্য ঘোষিত নামের তালিকা স্থগিত করা হয়েছে। একইসঙ্গে যে আজব নীতিমালা এই ধরনের উদ্ভট এবং কোটারি পুরস্কারের সুযোগ করে দেয়, তা দ্রুত পর্যালোচনা করা হবে। একাডেমির নীতিমালার সংস্কারই এখন প্রথম অগ্রাধিকার।’

তিনি আরও বলেন, বাংলা একাডেমির পরিচালনা ও নীতিগত দিকগুলো আমূল পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে। পোস্টে তিনি লেখেন, ‌‘দেশের সংস্কার হবে, অথচ বাংলা একাডেমির সংস্কার হবে না, তা হতে পারে না। একাডেমির আমূল পরিবর্তনের সময় এসেছে।’

এর আগে ২৩ জানুয়ারি বাংলা একাডেমি নির্বাহী পরিষদের অনুমোদনে মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ২০২৪ সালের বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারের জন্য ১০ জন কবি ও লেখকের নাম ঘোষণা করা হয়।

ঘোষিত তালিকায় ছিলেন:

কবিতা: মাসুদ খান

কথাসাহিত্য: সেলিম মোরশেদ

নাটক ও নাট্যসাহিত্য: শুভাশিস সিনহা

প্রবন্ধ/গদ্য: সলিমুল্লাহ খান

শিশুসাহিত্য: ফারুক নওয়াজ

অনুবাদ: জি এইচ হাবীব

গবেষণা: মুহম্মদ শাহজাহান মিয়া

বিজ্ঞান: রেজাউর রহমান

মুক্তিযুদ্ধ: মোহাম্মদ হাননান

ফোকলোর: সৈয়দ জামিল আহমেদ

এই ঘোষণার পরপরই তা নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর এই ঘোষণা সেই বিতর্কের আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




আজহারীর মাহফিলে পটুয়াখালীতে জনসমুদ্র

পটুয়াখালী শহীদ মিনার মাঠে অনুষ্ঠিত তাফসিরুল কোরআন মাহফিলে দেশের জনপ্রিয় ইসলামী বক্তা ড. মিজানুর রহমান আজহারীর বক্তব্য শুনতে লাখো মানুষের ঢল নেমেছে। শনিবার (২৫ জানুয়ারি) রাত ৮টা ১৪ মিনিটে মঞ্চে উঠে তিনি শ্রোতাদের উদ্দেশ্যে ইসলামের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করেন। তার বক্তব্যে ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে ভরপুর আগ্রহ দেখা যায়।

বিকেলে হেলিকপ্টারে পটুয়াখালীতে অবতরণ করেন আজহারী। তাকে স্বাগত জানাতে আবুল কাশেম স্টেডিয়ামে আয়োজক কমিটি ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়। মাহফিলে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক ছাত্রনেতা ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরী।

মাহফিল চলাকালে অতিরিক্ত ভিড় ও জায়গার অভাবে অনেকে বক্তব্য শোনা থেকে বঞ্চিত হন। কুয়াকাটা থেকে আসা রফিকুল ইসলাম বলেন, “অনেক কষ্ট করে মাহফিলে এসেছি, কিন্তু ভিড় এতটাই বেশি ছিল যে পুরো বক্তব্য শোনা সম্ভব হয়নি। জায়গা না থাকায় আমাদের ফিরতে হয়েছে।”

আয়োজক কমিটির একজন সদস্য জানান, মানুষের এই বিপুল সাড়া তাদের প্রত্যাশাকেও ছাড়িয়ে গেছে। তবে সবার জন্য বক্তব্য শোনার সুযোগ নিশ্চিত করতে তারা যথাসাধ্য চেষ্টা করছেন।

ভিড়ের কারণে পটুয়াখালী শহরের বিভিন্ন সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। যানবহনের অভাবে অনেক মানুষকে হেঁটে বাড়ি ফিরতে দেখা গেছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




সংস্কারের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি: উপদেষ্টা মাহফুজ আলম

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বলেছেন, দেশে সংস্কার কার্যক্রম শেষে গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হবে।

শনিবার সন্ধ্যায় লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর দিদারুল ইসলামের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বলেন, বাংলাদেশে সেনা শাসনের কোনো সুযোগ নেই। ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে দেশ ফ্যাসিস্ট শাসন থেকে মুক্তি পেয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতায় সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ক্ষমতা হস্তান্তর করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

তিনি উল্লেখ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের ফ্যাসিস্ট শাসন ব্যবস্থার অবসান ঘটেছে। তবে প্রশাসন, শিক্ষা এবং সাংস্কৃতিক অঙ্গনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ফ্যাসিজমের চিহ্ন রয়ে গেছে। এসব অপসংস্কৃতি নির্মূল করে শহিদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাবে সরকার।

উপদেষ্টা বলেন, সংস্কার কার্যক্রম দ্রুততর করতে বিভিন্ন কমিশনের প্রস্তাবনা প্রস্তুত করা হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ঐক্যমতের ভিত্তিতে নির্বাচন পূর্ববর্তী এই সংস্কারগুলো সম্পন্ন করা হবে।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে উপদেষ্টা উপজেলা হলরুমে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে মতবিনিময় সভা করেন।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




দাভোস সম্মেলন শেষে দেশের পথে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস

বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) বার্ষিক সভায় অংশগ্রহণ শেষে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ঢাকার উদ্দেশ্যে সুইজারল্যান্ড ত্যাগ করেছেন।

প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার জানান, এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি বাণিজ্যিক ফ্লাইটে শুক্রবার স্থানীয় সময় রাত ৯:৫০ মিনিটে ড. ইউনূস এবং তার সফরসঙ্গীরা জুরিখ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যাত্রা করেন। তিনি বাংলাদেশ সময় আজ বিকেল ৫টায় ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

উপ-প্রেস সচিব এক তথ্য বিবরণীতে জানিয়েছেন, ডব্লিউইএফ সম্মেলনে ড. মুহাম্মদ ইউনূস মোট ৪৭টি আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে অংশ নেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল চারজন সরকার প্রধান বা রাষ্ট্রপ্রধান, চারজন মন্ত্রী পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব, জাতিসংঘ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার ১০ জন শীর্ষ নির্বাহীর সঙ্গে বৈঠক। এছাড়াও, ১০ জন সিইও এবং উচ্চপর্যায়ের ব্যবসায়ী ব্যক্তিত্বের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

ড. ইউনূস আরও নয়টি আনুষ্ঠানিক নৈশভোজ এবং মধ্যাহ্নভোজে অংশগ্রহণ করেন। পাশাপাশি, ৮টি মিডিয়া সংক্রান্ত কার্যক্রম এবং আরও দুটি বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

ডব্লিউইএফ শীর্ষ সম্মেলনের ব্যস্ত সময় শেষে দেশের উদ্দেশ্যে ফেরার এই যাত্রা মূলত দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা পালনের জন্য।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে বাণিজ্যে অচলাবস্থা

রাখাইনের অস্থিরতা বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত বাণিজ্যে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। টেকনাফ স্থলবন্দর হয়ে যে পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়, তা বর্তমানে প্রায় স্থবির অবস্থায় রয়েছে। রাখাইনের ২৭০ কিলোমিটার সীমান্ত আরাকান আর্মির দখলে যাওয়ার ফলে এই সংকট দেখা দিয়েছে।

টেকনাফ স্থলবন্দরের ব্যবসায়ী এনামুল হকের মতে, মংডু ও আকিয়াব শহর থেকে নিয়মিত যে পণ্য আমদানি করা হতো, তা বন্ধ হয়ে গেছে। এখন ইয়াঙ্গুন থেকে পণ্য আনার চেষ্টা হলেও তা যথাসময়ে সম্ভব হচ্ছে না। দেড় মাস পর মিয়ানমার থেকে চারটি পণ্যবাহী জাহাজ আসলেও, আরাকান আর্মি নাফ নদীতে তল্লাশির নামে সেগুলো আটকায়। চারদিন পর তিনটি জাহাজ ছেড়ে দেওয়া হলেও এখনো একটি জাহাজ আটকে রয়েছে।

টেকনাফ স্থলবন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এহেতাশামুল হক বাহদুর বলেন, “আরাকান আর্মি কী চায়, তা স্পষ্ট নয়। তবে তাদের কারণে সীমান্ত বাণিজ্যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। পণ্য আমদানি-রপ্তানি থেমে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা কোটি কোটি টাকার লোকসানে পড়ছেন।”

টেকনাফ বন্দরের মহাব্যবস্থাপক মো. জসিম উদ্দিন চৌধুরী জানান, “রাখাইনের অস্থিরতা শুরু হওয়ার আগে টেকনাফ বন্দর থেকে মাসে কোটি কোটি টাকার পণ্য আমদানি-রপ্তানি হতো। বন্দরের শ্রমিক এবং ব্যবসায়ীরা এখন অলস সময় পার করছেন। সরকারের রাজস্ব আয়ে এক-তৃতীয়াংশ কমে গেছে। আরাকান আর্মির দখলে থাকা জাহাজের সমস্যার সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।”

টেকনাফ বন্দর সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ সমস্যার দ্রুত সমাধান প্রয়োজন। সীমান্ত বাণিজ্যের অচলাবস্থা কাটাতে উভয় দেশের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ অপরিহার্য।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বিজিবি প্রধানের ভারত সফরে গোপনীয়তার অভিযোগ অস্বীকার

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) জানিয়েছে, মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকীর ভারত সফর নিয়ে কোনো গোপনীয়তা নেই। শুক্রবার (২৪ জানুয়ারি) রাতেই বিজিবির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজিবি জানায়, কিছু গণমাধ্যমে ‘বিজিবি প্রধানের ভারত সফর নিয়ে গোপনীয়তা, সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার ঝড়’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের মাধ্যমে সীমান্ত রক্ষাকারী বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

বিজিবি উল্লেখ করে, গত ২৭ ডিসেম্বর তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্টে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে ভারতে বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের সীমান্ত সম্মেলনের তথ্য প্রকাশ করা হয়। সেই পোস্টের ভিত্তিতেই গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। এ ছাড়া স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রেস ব্রিফিংয়েও এ বিষয়ে তথ্য জানানো হয়।

বিজিবি আরও জানায়, সীমান্তে জনগণের সঙ্গে একাত্ম হয়ে তারা যে ভূমিকা পালন করছে, সেই সময়ে এমন নেতিবাচক প্রচারণা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




হাসপাতাল থেকে তারেক রহমানের বাসায় গেলেন খালেদা জিয়া

যুক্তরাজ্যের দ্যা লন্ডন ক্লিনিক থেকে চিকিৎসা শেষে ছেলে তারেক রহমানের বাসায় গিয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানিয়েছেন, বাসায় থেকেও তার চিকিৎসা ডা. প্যাট্রিক ক্যানেডি ও ডা. জেনিফার ক্রসের তত্ত্বাবধানে চলবে।

১৮ দিনের চিকিৎসা শেষে স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৪ জানুয়ারি) রাতে কিংস্টনের বাসার উদ্দেশ্যে হাসপাতাল ত্যাগ করেন বেগম খালেদা জিয়া। দেশবাসীর কাছে তার সুস্থতার জন্য দোয়া চেয়ে ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, “এভাবে উন্নতি হলে দ্রুত দেশে ফিরবেন তিনি। তবে লিভার ট্রান্সপ্লান্টের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ওষুধের মাধ্যমেই আপাতত চিকিৎসা চলবে।”

বিএনপির যুক্তরাজ্য শাখার সূত্র জানিয়েছে, লন্ডনের কিংস্টনে তারেক রহমানের বাসায় খালেদা জিয়ার পরবর্তী চিকিৎসার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বাসায় থেকেই তিনি যাতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে পারেন, সেজন্য চিকিৎসক ও নার্সদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া লিভার সিরোসিস, কিডনি, হার্ট, ডায়াবেটিস, ও আর্থ্রাইটিসসহ দীর্ঘমেয়াদী নানা শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছেন। ২০১৮ সালে দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত হয়ে কারাগারে যাওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থা ক্রমশ খারাপ হতে থাকে। করোনার সময় নির্বাহী আদেশে মুক্তি পেলেও বিদেশে চিকিৎসার অনুমতি মেলেনি।

গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাষ্ট্রপতির আদেশে খালেদা জিয়ার মুক্তি ঘটে। মুক্তির পর তার সাজা বাতিল করা হয় এবং দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে তাকে লন্ডনে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে প্রকাশিত পলাতক আসাদুজ্জামান খানের সাক্ষাৎকার মিথ্যাচারে পরিপূর্ণ : প্রেস উইং

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং আজ এক বিবৃতির মাধ্যমে জানিয়েছে যে, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস পত্রিকায় প্রকাশিত গণহত্যার পলাতক আসামি আসাদুজ্জামান খান কামালের সাক্ষাৎকারে মিথ্যাচার ও ভুল তথ্য রয়েছে। সিএ প্রেস উইং ফ্যাক্টস-এ পোস্ট করা এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কামালের বক্তব্য তথ্য যাচাই না করেই প্রকাশ করা হয়েছে এবং এতে তার ভুল ও বিভ্রান্তিকর দাবিগুলি তুলে ধরা হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, আসাদুজ্জামান খান কামাল, যিনি বর্তমানে ভারতে আত্মগোপন করেছেন, শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে তার সাক্ষাৎকারে বহু মিথ্যাচার করেছেন। কামাল দাবি করেন যে, ৩ থেকে ৫ আগস্টের মধ্যে প্রায় ৪৬০টি পুলিশ স্টেশন পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল এবং ৫,৮২৯টি অস্ত্র লুট করা হয়েছিল। তবে পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, থানাগুলোর মধ্যে মোট ৫,৭৫০টি অস্ত্র লুট করা হয়েছে, এবং এর বেশিরভাগই ৫ আগস্টের ঘটনা। পুলিশ ইতোমধ্যে ৪,৩৫৮টি অস্ত্র উদ্ধার করেছে এবং বাকিগুলোর উদ্ধারে অভিযান চলছে।

কামাল তার সাক্ষাৎকারে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানকে ‘ইসলামী সন্ত্রাসী’ এবং ‘সেনাবাহিনীর যৌথ অভ্যুত্থান’ হিসেবে বর্ণনা করেন, যা একেবারেই ভিত্তিহীন ও ভুল। এই ধরনের বক্তব্য শুধুমাত্র সরকার ও জনগণের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করতে পারে, তবে বাস্তবে সেখানে কোনও অভ্যুত্থান বা সন্ত্রাসী কার্যক্রম ছিল না।

এছাড়া কামাল তার সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের আদালতে ভারতের হস্তক্ষেপের দাবি করেছেন, যা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে স্পষ্ট হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। এতে প্রমাণিত হয় যে, হাসিনা এবং তার সহযোগীরা ভারত থেকে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।

কামাল আরও দাবি করেন যে, হত্যাকাণ্ডের মামলার আসামি হওয়ার পর খুনের শিকার ৫৪ জন ব্যক্তি ফিরে এসেছেন। তবে এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস কোন সরকারী বা স্বাধীন সূত্র যাচাই ছাড়াই এটি প্রকাশ করেছে বলে দাবি করেছে প্রেস উইং।

এদিকে, কামাল দাবী করেছেন যে বাংলাদেশের গণমাধ্যম সম্পূর্ণরূপে সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে এই দাবিটি অপ্রমাণিত ও ভুল, কারণ ২০২৪ সালের ৮ আগস্টের পর থেকে বাংলাদেশের কোনও সংবাদমাধ্যম সরকারী বা স্বাধীনভাবে কোনও বাধার সম্মুখীন হয়নি এবং সংবাদপত্রের পূর্ণ স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




সুইজারল্যান্ডে ৪ দিনে প্রায় অর্ধশত বৈঠক করলেন প্রধান উপদেষ্টা

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) বার্ষিক সভায় যোগ দিতে চার দিনের সফরে সুইজারল্যান্ডে অবস্থান করছেন। সফরের শুরু থেকে তিনি বিভিন্ন বৈঠক ও কর্মসূচিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

সোমবার (২০ জানুয়ারি) দিনগত রাত ১টায় এমিরেটস এয়ারলাইন্সে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তিনি সুইজারল্যান্ডের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ২৫ মিনিটে তিনি জুরিখ বিমানবন্দরে পৌঁছালে, সুইজারল্যান্ডে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি তারিক মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম তাকে স্বাগত জানান।

প্রেস উইং সূত্রে জানা গেছে, ড. ইউনূস শুক্রবার (২৪ জানুয়ারি) পর্যন্ত ডব্লিউইএফ-এর অধীনে প্রায় ৪৭টি বৈঠকে অংশগ্রহণ করেছেন। তার বৈঠকগুলোর মধ্যে রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধানদের সঙ্গে ৪টি, মন্ত্রী পর্যায়ের ব্যক্তিদের সঙ্গে ৪টি, জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানদের সঙ্গে ১০টি, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের সঙ্গে ১০টি এবং ডব্লিউইএফ আয়োজিত বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও কর্মসূচিতে ৯টি ছিল। এছাড়া গণমাধ্যমে ৮টি অংশগ্রহণ ও অন্যান্য ২টি কর্মসূচিতেও তিনি উপস্থিত ছিলেন।

প্রেস উইং আরও জানিয়েছে, ড. ইউনূস বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশের এলডিসি থেকে উত্তরণের পরিকল্পনা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সহযোগিতা, এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় করণীয় বিষয়ে আলোচনা করেছেন।

এই সফর শেষে শনিবার (২৫ জানুয়ারি) ড. ইউনূসের দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ফ্যাসিবাদী শক্তি ছাড়া কারো সঙ্গে শত্রুতা নয়, জাতীয় ঐক্য নিয়ে মন্তব্য আসিফ মাহমুদ সজীবের

বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে, তবে ফ্যাসিবাদী শক্তি ছাড়া আর কারও সঙ্গে শত্রুতা থাকবে না বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার এবং যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। তিনি বলেন, জনগণের কল্যাণে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে, তবে জাতীয় স্বার্থে সকলেই একতাবদ্ধ থাকবে।

গতকাল শুক্রবার (২৪ জানুয়ারি) রাতে তিনি ফেসবুকে একটি পোস্টে এসব মন্তব্য করেন। আসিফ মাহমুদ বলেন, “জনগণের কল্যাণে কে কত অগ্রগামী, সেই চেষ্টা বা বিতর্ক সবসময় থাকবে। তবে শত প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও জাতীয় প্রশ্নে আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকব।” তিনি আরও বলেন, “সব আধিপত্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে, এ দেশের সার্বভৌমত্ব ও সম্মানের প্রশ্নে আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকব।”

তিনি বলেন, “এই অঞ্চলের মানুষ প্রাচীন যুগ থেকে আজ পর্যন্ত কখনো তাদের সম্মান ছাড় দেয়নি, এবং ভবিষ্যতেও তা ছাড় দেবে না।” আসিফ মাহমুদ আরও বলেন, বাংলাদেশ আবারও মধ্যযুগের মতো স্বয়ংসম্পূর্ণ এক বেঙ্গল হিসেবে গড়ে উঠবে এবং পরাশক্তিগুলো আমাদের স্বতন্ত্র সত্তা হিসেবে বিবেচনা করতে বাধ্য হবে।

তিনি যোগ করেন, “অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে প্রতিবেশীদের জন্য ঈর্ষার কারণ হয়ে উঠবে বাংলাদেশ। তবে এর জন্য মতানৈক্য থাকলেও কিছু মৌলিক বিষয়ে সবার ঐকমত্য জরুরি। তাহলেই বহিঃশত্রুরা আমাদেরকে আমাদেরই বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে পারবে না।”

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এই উপদেষ্টা আরও বলেন, “ব্যক্তিগত কিংবা গোষ্ঠীগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে জাতীয় স্বার্থ প্রাধান্য পাবে। আমরা এমন একটা বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে ফ্যাসিবাদ বিরোধী সব শক্তির মধ্যে ঐক্য থাকবে।”

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম