বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবে সায়মা ওয়াজেদের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগ তদন্ত করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার সাবেক কর্মকর্তারা ও বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই নিয়োগের কারণে সংস্থার বৈশ্বিক ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সায়মা ওয়াজেদ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবে নিযুক্ত হন। তিনি বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কন্যা। অভিযোগ রয়েছে, তার মা প্রভাব খাটিয়ে এই নিয়োগ নিশ্চিত করেছেন।
যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী মেডিকেল জার্নাল ‘দ্য ল্যানসেট’ এক প্রতিবেদনে জানায়, সায়মা ওয়াজেদের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বজনপ্রীতি এবং যোগ্যতার অভাব ছিল। ল্যানসেট জানায়, সায়মা ওয়াজেদের নিয়োগে তার প্রতিদ্বন্দ্বী নেপালের শম্ভু প্রসাদ আচার্যের তুলনায় অনেক কম যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও প্রভাব খাটিয়ে নিয়োগ নিশ্চিত করা হয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী, আঞ্চলিক পরিচালক পদে নিয়োগ পেতে প্রার্থীর জনস্বাস্থ্যে বিশেষজ্ঞতার অভিজ্ঞতা এবং নেতৃত্বের প্রমাণ থাকা আবশ্যক। ল্যানসেটের মতে, সায়মা ওয়াজেদের জনস্বাস্থ্য বা মেডিকেল খাতে উচ্চতর কোনো একাডেমিক ডিগ্রি না থাকলেও তার নিয়োগ নিশ্চিত হয়েছে।
দুদকের উপ-পরিচালক আকতারুল ইসলাম জানান, সায়মা ওয়াজেদের নিয়োগ প্রক্রিয়া যথাযথ ছিল কিনা এবং কোনো প্রভাব খাটানো হয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দুদক পররাষ্ট্র ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে চিঠি দিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ওপর চাপ প্রয়োগের অনুরোধ জানিয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মুখপাত্র তারিক জাসারেভিচ বলেন, “যদি কোনো অভিযোগ ওঠে, সংশ্লিষ্ট দেশের কর্তৃপক্ষ সেগুলো তদন্ত করতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এর প্রক্রিয়া নিয়ে কোনো মন্তব্য করে না।”
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাবেক পরিচালক মুকেশ কপিলা বলেন, “এই নিয়োগের কারণে সংস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং এটি সংস্থার বৈশ্বিক ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।”
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ইতিহাসে আঞ্চলিক পরিচালকদের নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ নতুন নয়। ২০২৩ সালে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক তাকেশি কাসাই দুর্নীতির অভিযোগে অপসারণ হয়েছিলেন।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সায়মা ওয়াজেদের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকেও একই পরিণতি ভোগ করতে হতে পারে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতো প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সায়মা ওয়াজেদের নিয়োগের বিষয়ে তদন্তের ফলাফল এই প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ প্রক্রিয়ার উপর গভীর প্রভাব ফেলবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।