বরিশালে পতিত জমির ময়লা আবর্জনার স্তুপ এখন সবজির ক্ষেত

বরিশাল নদীবন্দর ভবনের সামনে অবস্থিত একটি পতিত জমি ছিল এক সময় ময়লা আবর্জনার স্তুপে ভরা। তবে ওই জায়গায় সাম্প্রতিক সময়ে শুরু হয়েছে এক অভিনব কৃষি উদ্যোগ। বরিশাল অঞ্চলের কিছু নৌ-শ্রমিক এবং উদ্যোক্তার প্রচেষ্টায় ওই জমিতে চাষাবাদ শুরু হয়, যেখানে এখন শাকসবজি ও অন্যান্য ফসলের সুনাম ছড়িয়ে পড়ছে।
স্থানীয় শ্রমিকরা নিজের উদ্যোগে ময়লা জমি পরিষ্কার করে শুরু করেন শাকসবজি চাষ। ধীরে ধীরে তাদের প্রচেষ্টা বিশেষ ফলাফল আনতে শুরু করে। এক সময় এই এলাকায় পানি ও দূষিত বর্জ্য জমতে থাকত, যার ফলে সেখানে কিছুই বুনতে পারতেন না মানুষ। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে ঐ জমির পৃষ্ঠভূমির রূপান্তর ঘটে এবং স্বাভাবিকভাবে সেখানে গড়ে ওঠে সবজি বাগান। এ পরিস্থিতি স্থানীয়দের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং তাঁদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয় এমন উদ্দীপনা এবং উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য।
সম্প্রতি বরিশাল নদীবন্দর ভবনের পাশেই দুটি ধরনের শিম গাছ সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। এগুলো হাইব্রিড জাতের শিম, যার ফলন এতটা বেড়ে গেছে যে, স্থানীয় কৃষকদের কাছে এটা অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে। গাছগুলোর মালিক, বিলাসবহুল পারাবত লঞ্চের কলম্যান ইমাম হোসেন, এই সফলতা উদযাপন করছেন। তিনি বলেন, “কেবল পাঁচটি বীজ রোপণের ফলে যা হয়েছে, সেটি চমকপ্রদ! আমার প্রত্যাশা ছিল না যে এমন ফলন হবে। এই শিমের বিক্রি আগাম মৌসুমের জন্য আশার আলো প্রদান করছে।”
এছাড়া, শিমের বীজ সংগ্রহকারী সংবাদকর্মী আব্দুর রহমান এবং তিনি উল্লেখ করেছেন যে এই উন্নত শিমগুলোর সাধারণত উৎপাদন পাহাড়ি অঞ্চলে হয়, কিন্তু বরিশাল অঞ্চলে চাষ করা হাইব্রিড শিমের ফলন আশাব্যঞ্জক হয়েছে। স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছে যে তারা আগামী সময়ে এই ধরনের শিম চাষে আগ্রহী হয়ে উঠবে।
জেলা নদীবন্দর এলাকার পতিত জমিতে কৃষি কাজের উদ্যোক্তা সাংবাদিক রিপন হাওলাদারও বলেছেন, “শ্রমিকদের কাজের চাপ কমিয়ে তাদের কৃষিতে যুক্ত করা উচিত ছিল। তারা এখন নিয়মিত সবজি চাষের মাধ্যমে আয়ের পাশাপাশি সৃজনশীলতায় উৎসাহিত হচ্ছেন।”
বর্তমানে ওই বাগানে বোম্বাই মরিচ, দেশীয় প্রজাতির শিম সহ বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করা হচ্ছে এবং শ্রমিকরা তা বাজারেও বিক্রি করছেন।
মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম








