বিশ্বব্যাপী জীবনরক্ষাকারী ওষুধ সহায়তা বন্ধ যুক্তরাষ্ট্রের

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : গরীব দেশগুলোতে এইচআইভি, ম্যালেরিয়া, টিউবারকিউলোসিস এবং সদ্যোজাত শিশুদের জীবনরক্ষাকারী ওষুধ সরবরাহ বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে নতুন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (ইউএসএইড) এসব সহায়তা প্রদান করত।

বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) থেকে ইউএসএইডের কন্ট্রাক্টর ও সহযোগীরা এই নির্দেশনা পেতে শুরু করে। তাদের অনতিবিলম্বে কার্যক্রম বন্ধ করতে বলা হয়েছে। গত ২০ জানুয়ারি ক্ষমতা নিয়েই নির্বাহী আদেশে বিশ্বব্যাপী মার্কিন সহায়তা বন্ধ করেন ট্রাম্প। এই ওষুধ সরবরাহ বন্ধ সেই নির্বাহী আদেশের অংশ। যুক্তরাষ্ট্র যেসব দেশে সহায়তা করত সেগুলো পর্যবেক্ষণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। পর্যবেক্ষণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত অন্তত আগামী ৯০ দিন সহায়তাগুলো বন্ধ থাকবে।

এই ধরনের একটি নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে চেমোনিকসের কাছে। তারা ইউএসএইডের হয়ে বিশ্বব্যাপী এইচআইভি, ম্যালেরিয়াসহ প্রাণঘাতি বিভিন্ন রোগের ওষুধ সহায়তা পাঠাত।




শেখ হাসিনা সরাসরি গুম ও হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন

ছাত্র-জনতার নজিরবিহীন গণঅভ্যুত্থানের ফলে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় গুলি চালিয়ে হত্যার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার সংখ্যা ইতোমধ্যে ২০০ অতিক্রম করেছে।

বিভিন্ন সময়ে তার বিরুদ্ধে গুম, হত্যা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। ২০২৩ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে গুমের প্রথম আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেন এনামুল কবির নামে এক ব্যবসায়ী। তার দাবি, ২০১৮ সালে তিনি ১০ দিন গুম ছিলেন।

২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় হওয়া সকল গুমের অভিযোগ তদন্তের আবেদন করেছেন এনামুল কবির। তার অভিযোগ, এই সময়ে গুমের ঘটনা বেড়ে যাওয়ার ফলে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

অনেকেই মনে করেন, শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে ভারত ন্যায়বিচারের পথে থাকছে না। এ নিয়ে টবি ক্যাডম্যানসহ অনেক মানবাধিকারকর্মী এবং আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা তার বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

বাংলাদেশের ইতিহাসে এই ধরণের গণঅভ্যুত্থান এবং গুমের অভিযোগ রাজনীতির গভীর সংকটকে চিহ্নিত করছে বলে বিশ্লেষকদের অভিমত।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী আবুধাবি পোর্টস ও মাসদার

বাংলাদেশের বন্দর উন্নয়ন, ব্যবস্থাপনা, লজিস্টিকস এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিশাল বিনিয়োগের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুটি বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান—আবুধাবি পোর্টস গ্রুপ এবং মাসদার।

গতকাল (২৮ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায়, আবুধাবি পোর্টস গ্রুপের সিইও আহমাদ ইব্রাহিম আল মুতাওয়া এবং মাসদারের এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের উন্নয়ন ও বিনিয়োগ প্রধান ফাতিমা আলমাধলুম আলসুওয়াইদি বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ বৈঠকে বাংলাদেশে তাদের বিনিয়োগ পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।

প্রধান উপদেষ্টা বিনিয়োগের এ প্রস্তাবকে অত্যন্ত উৎসাহব্যঞ্জক বলে উল্লেখ করেন এবং বলেন, “বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আপনারা আপনার দল নিয়ে আসুন এবং যতগুলো প্ল্যান্ট স্থাপন করতে চান, তার জন্য কাজ শুরু করুন।”

আবুধাবি পোর্টস গ্রুপ বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বন্দরে বিনিয়োগে বিশেষ আগ্রহ দেখিয়েছে। তারা যৌথ উদ্যোগে অর্থায়ন, পরিচালনা এবং মাল্টিপারপাস টার্মিনালসহ প্রস্তাবিত তিনটি বে টার্মিনালের একটি উন্নয়নে কাজ করতে চায়। এছাড়া, তারা বাংলাদেশের বন্দরে জাহাজ চলাচল বৃদ্ধি এবং লজিস্টিকস সুবিধা উন্নত করতে বদ্ধপরিকর।

আবুধাবি পোর্টস গ্রুপ ইতোমধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ডিপি ওয়ার্ল্ড, ডেনমার্কের এপি মোলার মায়ারস্ক এবং সৌদি আরবের রেড সি গেটওয়ে টার্মিনালের মতো বিশ্বখ্যাত কোম্পানিগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান তৈরি করেছে।

মাসদার কোম্পানি বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে পুনরুদ্ধারকৃত জমিতে ২৫০ মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপন করতে চায়। এ জন্য তারা ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে। মাসদারের আঞ্চলিক বিনিয়োগ প্রধান ফাতিমা আলমাধলুম আলসুওয়াইদি বলেন, “আমরা বাংলাদেশে নতুন প্রযুক্তি এবং ধারণা প্রদর্শনে আগ্রহী।”

বৈঠকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আব্দুল্লাহ আলি আলহুমুদি উপস্থিত ছিলেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিশ্ব সরকার সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণপত্র হস্তান্তর করেন।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার কথা বিবেচনা করে এই বিনিয়োগ পরিকল্পনা দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ মেনেই রাজনীতি করতে হবে: মাহফুজ আলম

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বলেছেন, বাংলাদেশের জন্ম এবং এ দেশের মানুষের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামকে স্বীকার করেই রাজনীতি করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া মানে রাষ্ট্রের ভিত্তির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা।

মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, “মুক্তিযুদ্ধ মানেই বাংলাদেশ। এর বিপক্ষে যারা যাবেন, তারা অতীতে পরাজিত হয়েছেন, ভবিষ্যতেও পরাজিত হবেন।”

পোস্টে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময়কার ঘটনাবলী নিয়ে তর্ক-বিতর্ক হতে পারে, সমালোচনাও হতে পারে। তবে সবকিছুই হতে হবে মুক্তিযুদ্ধের মূল আদর্শ মেনে নিয়ে। তিনি আরও বলেন, “শেখ মুজিবুর রহমানের মতো জাতীয় নেতার অবদান অস্বীকার করা যায় না। ’৭২-এর পূর্বের শেখ মুজিবকে আমরা প্রাপ্য গুরুত্ব দেব, তবে তার ফ্যাসিস্ট আচরণ নিয়েও আলোচনা করব।”

মাহফুজ আলম উল্লেখ করেন, মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যেও বিভক্তি ছিল। কেউ কেউ ফ্যাসিস্ট বা তাবেদার হয়ে উঠলেও মুক্তিযুদ্ধ ছিল জনগণের সংগ্রাম। তিনি বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের পরবর্তী ১০ বছরের ইতিহাসে দেখা যায়, মুজিববাদী এবং ভারতবিরোধী মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যকার লড়াই। তবে কেউই মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করেননি। এটি ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ।”

উপদেষ্টা আরও বলেন, “এদেশে রাজনীতি করতে হলে ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ ও ’২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতাকে স্বীকার করতেই হবে। যারা এই আদর্শকে অস্বীকার করবেন, তারা ছাত্র-জনতার কাছে পরাজিত হবেন।”

তিনি বলেন, “জুলাই বিপ্লব বাংলাদেশকে ঐক্যবদ্ধ করেছে। এই বিপ্লব ছিল ছাত্র-জনতার সর্বজনীন অভ্যুত্থান। ধর্ম, বর্ণ বা রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল।”

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




সমঝোতা হয়নি, আজও বন্ধ থাকতে পারে ট্রেন চলাচল

সোমবার (২৮ জানুয়ারি) প্রথম প্রহর থেকে বেতন ও আনুতোষিক সুবিধার দাবিতে রেলওয়ের রানিং স্টাফদের কর্মবিরতির কারণে সারাদেশে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এই কর্মসূচির ফলে যাত্রীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।

রেলওয়ে রানিং স্টাফ ও শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. মজিবুর রহমান জানিয়েছেন, রানিং অ্যালাউন্সসহ অন্যান্য দাবি মেনে নিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন তারা। তার ভাষায়, “১৬২ বছরের পুরনো একটি নিয়ম হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়া মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।”

দাবি পূরণের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে স্পষ্টীকরণ চিঠি চেয়েছেন তারা। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের চিঠি তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয় বলে জানান তিনি।

দিনভর দফায় দফায় রেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক হলেও সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। এতে বুধবারও ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এদিকে, ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় বিভিন্ন স্টেশনে যাত্রীরা টিকিটের টাকা ফেরত নিতে ভিড় জমাচ্ছেন। ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বরিশালে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে উত্তাল, বাসে আগুন

বরিশালের ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের এক ছাত্রী বাসে হাফভাড়া চাওয়ার ঘটনায় অপমানিত হলে উত্তাল হয়ে ওঠে রূপাতলী বাস টার্মিনাল।

মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী ও বাস শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এতে এক পর্যায়ে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা একটি বাসে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং বেশ কয়েকটি বাস ভাঙচুর করে।

বিএম কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের এক ছাত্রী বাসে হাফভাড়া চাইলে হেলপার তা অস্বীকৃতি জানায়। কথাকাটাকাটির সময় ছাত্রীটিকে অপমানজনক কথাবার্তা বললে খবরটি দ্রুত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। সন্ধ্যার দিকে শিক্ষার্থীরা রূপাতলী বাস টার্মিনালে জড়ো হয়ে প্রতিবাদ শুরু করে।

সংঘর্ষ ও উত্তেজনা: শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করার সময় বাস শ্রমিকরা লাঠিসোটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাদের উপর হামলা চালায়। এতে তিন শিক্ষার্থী আহত হন। এর জেরে উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে আগুন জ্বালায়। বাসে আগুন দেওয়ার পাশাপাশি কয়েকটি বাস ভাঙচুর করা হয়।

পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ এবং সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়। বরিশাল ট্রাফিক বিভাগের পরিদর্শক বিদ্যুৎ চন্দ্র দে জানান, দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও সেনাবাহিনী একসঙ্গে কাজ করেছে।

শিক্ষার্থীদের দাবি: শিক্ষার্থীরা হাফভাড়া নিশ্চিত করার পাশাপাশি দায়ী শ্রমিকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। তারা জানায়, শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো পূরণ না করা হলে আন্দোলন চালিয়ে যাবে।

ঘটনার প্রতিবাদে বাস মালিক সমিতি বরিশাল বিভাগের সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে। বাস মালিক সমিতির সভাপতি জিয়াউদ্দিন সিকদার বলেন, শিক্ষার্থীদের উচিত ছিল বাস মালিক এবং শ্রমিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা। এই ঘটনার ফলে নগরীর যানবাহন চলাচলে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে।

বিভিন্ন সংগঠন শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। তবে সাধারণ যাত্রীরা এই পরিস্থিতিতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর তৎপরতায় পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও এলাকাজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা চলছে।

“মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”




জনগণের বিপক্ষে কাজ করলে ৫ আগস্টের মতো পরিণতি হবে: তারেক রহমান

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, “জনগণের বিপক্ষে কাজ করলে ৫ আগস্টের মতোই পরিণতি হবে।” তিনি বলেন, জনগণের বিপক্ষে কাজ করলেই যে পরিণতি আসবে, তার এক উজ্জ্বল উদাহরণ ৫ আগস্ট ঘটেছিল। সেই সময়েই জনগণের ক্ষোভ ছিল স্পষ্ট, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় একটি পাঠ হিসেবে রয়ে গেছে।

মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) খুলনায় বিএনপির এক কর্মশালায় দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে এ মন্তব্য করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের জনগণ বিএনপির ওপর আস্থা রাখতে চায়। কেউ এই আস্থা নষ্ট করার চেষ্টা করলে তাকে দলের পক্ষ থেকে বহিষ্কার করা হবে।”

এছাড়া, দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তারেক রহমান আরও বলেন, “আমাদের স্বার্থপর হতে হবে, এবং এটা মনে রাখতে হবে যে, আমরা অনেক ত্যাগের মধ্য দিয়ে এখানে এসেছি।”

তিনি বলেন, “বিএনপি যদি আবার সরকারে আসতে পারে, তবে যে কোনো নেতাকর্মী যদি দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করে বা চাঁদাবাজি ও অন্যান্য অপকর্মে জড়িত থাকে, তাকে শুধুমাত্র বহিষ্কার করা হবে না, আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অন্যায় হলে একটুও প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।”

এসময় তিনি বিএনপির নেতাকর্মীদের কাছে জনগণের মধ্যে ৩১ দফা তুলে ধরার আহ্বান জানান এবং তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, “জনগণই আমাদের শক্তি, তাই জনগণের বিপক্ষে কাজ করা যাবে না।”

কর্মশালায় বিএনপির বিভিন্ন শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন, যেমন সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিব, কাজী আলাউদ্দীন, ডা. শহিদুল আলম, এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




 মার্চ থেকে টাঙ্গাইলের শালবন উদ্ধারে কার্যক্রম শুরু

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান জানিয়েছেন, টাঙ্গাইলের মধুপুর গড়ের শালবন পুনরুদ্ধার কার্যক্রম আগামী মার্চ থেকে শুরু হবে। মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) রাজধানীর বন ভবনে ‘সহ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মধুপুর গড়ের শালবন পুনরুদ্ধার’ শীর্ষক এক কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্যে এ তথ্য জানান তিনি।

তিনি বলেন, “হারিয়ে যাওয়া বনভূমি পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণ প্রকৃতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শালবন উদ্ধারে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি বন নির্ভর জনগোষ্ঠীর প্রয়োজন অনুযায়ী একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হবে। এ কর্মপরিকল্পনা প্রয়োজনে হালনাগাদ করা হবে।”

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান জানান, মার্চের মধ্যেই গেজেট প্রকাশ করে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হবে, যা শালবন পুনরুদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করবে। স্থানীয়দের অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও সক্রিয় সহযোগিতা ছাড়া এ কার্যক্রম সফল হবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও জানান, “ভিলেজ ফরেস্ট রুল প্রণয়ন করা হবে, যা বন নির্ভর জনগোষ্ঠীর অধিকার এবং বন বিভাগের দায়িত্ব নির্ধারণ করবে। এ রুলের মাধ্যমে বন সংক্রান্ত হয়রানিমূলক মামলাগুলো দ্রুত মীমাংসার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

কর্মশালায় প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরীর সভাপতিত্বে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও গবেষকরা মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। অনুষ্ঠানে ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা, পরিবেশবিদ, গণমাধ্যমকর্মী এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ছাত্র আন্দোলনের চাপে সার্বিয়ার প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ

সার্বিয়ার প্রধানমন্ত্রী মিলোসি ভুকেভিক ছাত্র আন্দোলনের চাপে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। দুর্নীতির অভিযোগের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের টানা আন্দোলন পরিস্থিতিকে অগ্নিগর্ভ করে তুলেছিল। মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) প্রধানমন্ত্রী নিজের সিদ্ধান্ত জানিয়ে পদত্যাগের ঘোষণা দেন।

দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে জানা যায়, গত সোমবার বেলগ্রেডের একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবরোধ করেন হাজারো ছাত্র। এ বিক্ষোভে কৃষকরাও তাদের ট্রাক্টর নিয়ে যোগ দেন। সড়ক অবরোধের ঘটনায় রাজধানী অচল হয়ে পড়লে প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।

আন্দোলনের সূত্রপাত গত বছরের ১৫ নভেম্বর নোভি সাদ শহরে রেলস্টেশনের ছাদ ধসে পড়ার ঘটনায়। ওই দুর্ঘটনায় ১৫ জন নিহত হন। শিক্ষার্থীদের দাবি, রেলস্টেশন নির্মাণকালে দুর্নীতি না হলে এ হতাহতের ঘটনা ঘটত না।

প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার ভুকিক আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব দেন এবং সরকারের বড় ধরনের সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেন। তবে শিক্ষার্থীরা সেই প্রস্তাবে সাড়া না দিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যান, যা দেশের ১০০টি শহরে ছড়িয়ে পড়ে।

এর আগে, যোগাযোগমন্ত্রী গোরান ভেসিকও একই আন্দোলনের কারণে পদত্যাগে বাধ্য হন। তবে শিক্ষার্থীদের দাবি ছিল দুর্নীতির মূল হোতা প্রধানমন্ত্রীকেও বিদায় নিতে হবে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বেক্সিমকোর কর্মীদের বেতন পরিশোধের প্রতিশ্রুতি : শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা

বেক্সিমকোর দুটি প্রতিষ্ঠানের বন্ধকি শেয়ার বিক্রি করে ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যেই প্রতিষ্ঠানটির কর্মীদের পাঁচ মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধ করা হবে বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. সাখাওয়াত হোসেন।

মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেলে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বেক্সিমকো বিষয়ক ষষ্ঠ সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

শ্রম উপদেষ্টা জানান, বেক্সিমকো ফার্মা এবং শাহিনপুকুর সিরামিকের বন্ধকি শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে কর্মীদের বকেয়া পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “বেক্সিমকোকে ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে রিজার্ভ জালিয়াতির চেয়েও বড় ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করি আমরা।”

ড. সাখাওয়াত আরও জানান, বেক্সিমকো লিমিটেডের মোট ঋণের পরিমাণ ৪০ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ১৬টি অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের বিপরীতে ১২ হাজার কোটি টাকার ঋণ নেওয়া হয়েছে।

বকেয়া বেতন পরিশোধের এই উদ্যোগ কর্মীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম