অর্থনৈতিক পুনর্গঠন ও গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশের পাশে থাকবে ওপেন সোসাইটি ফাউন্ডেশন

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ওপেন সোসাইটি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অ্যালেক্স সোরোস। বুধবার অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে বাংলাদেশের অর্থনীতি পুনর্গঠন, পাচারকৃত সম্পদ পুনরুদ্ধার, ভুল তথ্যের বিরুদ্ধে লড়াই এবং গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সংস্কার বাস্তবায়নের বিষয়ে আলোচনা হয়।

অ্যালেক্স সোরোস ও ওপেন সোসাইটি ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট বিনাইফার নওরোজির নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গৃহীত সংস্কার কর্মসূচির প্রতি সমর্থন জানায়।

গণঅভ্যুত্থান ও সংস্কার নিয়ে আলোচনা

বৈঠকে অ্যালেক্স সোরোস বলেন, “ছাত্র-নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও অর্থনীতি পুনর্গঠনের উদ্যোগ প্রশংসনীয়।”

তারা জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান, আন্দোলনে হতাহতদের জন্য ন্যায়বিচার, অর্থনৈতিক সংস্কার, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, পাচার হওয়া সম্পদ পুনরুদ্ধার, সাইবার নিরাপত্তা আইন এবং রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনা করেন।

অ্যালেক্স সোরোস বলেন, “আমরা এসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের প্রচেষ্টাকে সমর্থন করতে প্রস্তুত।”

অর্থনৈতিক পুনর্গঠন ও সম্পদ পুনরুদ্ধার

প্রধান উপদেষ্টা শেখ হাসিনার ১৬ বছরের শাসনামলে পাচার হওয়া ২৩৪ বিলিয়ন ডলার ফিরিয়ে আনতে “সম্পদ সনাক্তকরণ” কার্যক্রমে ওপেন সোসাইটি ফাউন্ডেশনের সহায়তা চান। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি “বিপর্যস্ত ও যুদ্ধবিধ্বস্ত” অর্থনীতি উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে এবং পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “বাংলাদেশের গণমাধ্যম এখন অভূতপূর্ব স্বাধীনতা উপভোগ করছে, তবে ভুল তথ্য ও অপপ্রচার মোকাবিলার জন্য আরও প্রচেষ্টা দরকার।”

এলডিসি উত্তরণে সহায়তা

ওপেন সোসাইটি ফাউন্ডেশন বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রক্রিয়ায় সহায়তা করার আগ্রহ প্রকাশ করে। অধ্যাপক ইউনূস এ পদক্ষেপকে স্বাগত জানান এবং বলেন, “আমাদের নিরবচ্ছিন্ন উত্তরণ নিশ্চিত করতে পরিকল্পনা করতে হবে।”

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




গণহত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগকে কর্মসূচি করতে দেওয়া হবে না: প্রেস সচিব

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, জুলাই-আগস্ট গণহত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগকে কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করতে দেওয়া হবে না। পাশাপাশি, নারকীয় হত্যাকাণ্ডের জন্য দলটিকে জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।

বুধবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

এক প্রশ্নের উত্তরে শফিকুল আলম বলেন, “আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মসূচি আগামী ফেব্রুয়ারিতে রয়েছে। কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশের জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে এবং আমরা দেশকে সহিংসতার দিকে ঠেলে দেওয়ার কোনো প্রচেষ্টাকে প্রশ্রয় দেব না।”

তিনি আরও বলেন, “যারা খুনের রাজনীতি করেছে, তারা কোনো প্রতিবাদ-সমাবেশ করলে বাংলাদেশের জনগণ তার কঠোর জবাব দেবে। আওয়ামী লীগকে রাজনীতি করতে হলে অবশ্যই গণহত্যার বিচারের মুখোমুখি হতে হবে এবং প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। তাদের রাজনীতি করতে হলে ক্লিন ইমেজ নিয়ে আসতে হবে।”

প্রেস সচিব বলেন, “আওয়ামী লীগের কোনো নেতা বা কর্মী কি গণহত্যার জন্য অনুতপ্ত? তারা কি এ জন্য ক্ষমা চেয়েছে? ৭১টি শিশুকে হত্যা করা হয়েছে, হেলিকপ্টার থেকে গুলি চালানো হয়েছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত কেউ এর দায় স্বীকার করেনি। বরং তারা মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “আওয়ামী লীগের ভেতর থেকে কেউ কি বলেছেন—হাসিনার এই কিলিং আমরা মানি না? আমরা ক্লিন ইমেজের নেতৃত্ব চাই? একজনও বলেনি। বরং দলটির অনেক নেতা মিথ্যা কথা বলছে, গুজব ছড়াচ্ছে।”

এর আগে বিকেলে শফিকুল আলম তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দেন, যেখানে আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ প্রসঙ্গে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়।

তিনি লেখেন, “পৃথিবীর কোনো দেশ কি একদল খুনি এবং দুর্নীতিবাজ চক্রকে আবার ক্ষমতায় আসতে দেবে? কোনো দেশই জবাবদিহিতা ছাড়া স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফেরার অনুমতি দেয় না। বাংলাদেশের জনগণ এই খুনিদের বিরুদ্ধে কঠিন জবাব দেবে।”

তিনি আরও বলেন, “মিত্রবাহিনী কি নাৎসিদের বিক্ষোভ করার অনুমতি দিয়েছিল? যতক্ষণ না আওয়ামী লীগ গণহত্যার দায় স্বীকার করে, অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করে এবং তাদের ফ্যাসিবাদী আদর্শ ত্যাগ করে, ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়া হবে না।”

শফিকুল আলম বলেন, “আওয়ামী লীগ যদি অবৈধভাবে বিক্ষোভ করার সাহস দেখায়, তবে তাদের আইনের মুখোমুখি হতে হবে।”

মিডিয়া ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদারও উপস্থিত ছিলেন।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ব্যাংক খাতে চুরি নিয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টার স্পষ্ট বার্তা

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেছেন, উচ্চ পর্যায়ের নেতৃত্বের সহায়তায় পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ব্যাংক থেকে অর্থ চুরি হয়েছিল।

তিনি বলেন, “আমাদের ব্যাংক থেকে অর্থ চুরি দুর্ঘটনাজনিত ছিল না। এটি সর্বোচ্চ পর্যায়ের কর্তৃপক্ষের সহায়তায় সম্ভব হয়েছে।”

গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ইন্টিগ্রেটেড অনলাইন অথেনটিকেশন ম্যানেজমেন্ট (অ্যাপোস্টিল কনভেনশন ১৯৬১) বাস্তবায়নের প্রথম পর্যায়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

কিছু ব্যাংককে ইচ্ছাকৃতভাবে দুর্বল করার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ভালো ব্যাংকগুলোকে পরিকল্পিতভাবে খারাপ ঋণের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এসব অনিয়ম উচ্চ পর্যায়ের সহযোগিতা ছাড়া সম্ভব ছিল না।

নতুন চালু হওয়া অথেনটিকেশন ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি প্রতিরোধের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, “এটি একটি ছোট পদক্ষেপ, তবে এটি আমাদের অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। যেখানে দুর্নীতির সুযোগ আছে, সেখানে দুর্নীতি সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করা কঠিন। তাই দুর্নীতি দমনের জন্য আমাদের অবশ্যই এই সুযোগগুলো বন্ধ করতে হবে।”

বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি প্রসঙ্গে মন্তব্য

ইতালিতে ৬০,০০০ বাংলাদেশি পাসপোর্ট আটকে থাকার প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, এটি ডকুমেন্টের বিশ্বাসযোগ্যতার সমস্যার কারণে হয়েছে। তিনি জানান, বাংলাদেশের একজন দালাল ইতালির একটি সংস্থার কাছ থেকে অনুমোদন পেলেও, প্রতিষ্ঠানটির যথাযথ সক্ষমতা না থাকায় এ সমস্যা দেখা দিয়েছে।

বাংলাদেশের ভাবমূর্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “একটি দেশের ভাবমূর্তি একদিনে তৈরি হয় না, রাতারাতি নষ্টও হয় না। ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার সময় যখন সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশি প্রাণ হারান, তখন শুধুমাত্র ইতিবাচক বিবৃতি দিয়ে আমাদের ভাবমূর্তি রক্ষা করা সম্ভব নয়।”

তিনি আরও বলেন, ইতিবাচক পদক্ষেপগুলো আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের অবস্থান উন্নত করতে সাহায্য করে। যেমন, যখন একজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ট্যাক্সি ড্রাইভার বিদেশে হারানো অর্থ ফেরত দেন, তখন আমাদের সুনাম বৃদ্ধি পায়। কিন্তু যখন একজন সংসদ সদস্য দুর্নীতির দায়ে বিদেশে কারাবন্দি হন, তখন আমাদের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

বাংলাদেশের বিদেশি মিশনগুলোতে জনবল সংকটের বিষয়ে তিনি কাতারের উদাহরণ টেনে বলেন, “কাতারে প্রতিদিন যদি একটি মিশনকে ৩০০ পাসপোর্ট বিতরণ করতে হয়, তাহলে তারা অন্য কোনো পরিষেবা কীভাবে দেবে?”

তিনি জানান, মিশনগুলোতে জনবল বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিষেবাগুলো ডিজিটালাইজ করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমাদের সিস্টেমকে আধুনিকীকরণ করতে হবে যাতে পাসপোর্ট আবেদনকারীদের আর মিশনে যেতে না হয়, বরং পাসপোর্ট সেবা যথাযথ নথিপত্রসহ তাদের কাছে পৌঁছে যায়।”

অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র সচিব মো. জসিম উদ্দিন, সংস্কার বিষয়ক মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব মাহমুদুল হোসেন খান ও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী বক্তব্য রাখেন।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ নিষিদ্ধ, ফ্যাসিবাদী আদর্শ ত্যাগ না করলে অনুমতি নয়

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রেস সেক্রেটারি শফিকুল আলম সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, আওয়ামী লীগ তাদের বর্তমান নেতৃত্ব ও ফ্যাসিবাদী আদর্শ ত্যাগ না করা পর্যন্ত কোনো বিক্ষোভ করার অনুমতি পাবে না। তিনি মিত্রবাহিনী ও নাৎসি বাহিনীর প্রসঙ্গ টেনে প্রশ্ন রেখেছেন— “মিত্রবাহিনী কি নাৎসিদের বিক্ষোভ করার অনুমতি দিয়েছিল?”

বুধবার (২৯ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এসব কথা বলেন।

শফিকুল আলম তার পোস্টে লিখেছেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কখনোই ন্যায্য কোনো বিক্ষোভ বন্ধ করেনি বা নিষিদ্ধ করেনি। আমরা জনগণের সমাবেশ করার স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। ঢাকায় গত সাড়ে পাঁচ মাসে অন্তত ১৩৬টি বিক্ষোভ হয়েছে, যা ট্রাফিক সমস্যার কারণ হয়েছে। কিন্তু সরকার কখনো কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করেনি।”

তবে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, “আমরা কি ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগকে বিক্ষোভ করার সুযোগ দিতে পারি? জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের সময় আওয়ামী লীগের ক্যাডাররা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের নির্মমভাবে হত্যা করেছিল। এ দলটি গণহত্যা, দমন-পীড়ন ও রাষ্ট্রীয় দুর্নীতির জন্য দায়ী।”

শফিকুল আলম আরও বলেন, “নিউ ইয়র্কভিত্তিক হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, শেখ হাসিনা ১৬ বছরের শাসনামলে গণহত্যা, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তার শাসনামলে একটি ‘চোরতন্ত্র’ (ক্লেপ্টোক্রেসি) কায়েম হয়েছিল, যার মাধ্যমে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার বিদেশে পাচার করা হয়েছে। তার পরিবার ও ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে এখন দুর্নীতির তদন্ত চলছে।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, “দেশে প্রায় সাড়ে তিন হাজার মানুষ গুম হয়েছেন, তিন হাজারের বেশি মানুষকে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা করা হয়েছে। শাপলা চত্বরে গণহত্যার ঘটনাও ঘটেছে। বিরোধী নেতাকর্মীদের নামে প্রায় ৬০ লাখ ভুয়া মামলা দেওয়া হয়েছে। এমনকি প্রথম হিন্দু প্রধান বিচারপতিকেও নির্মম নির্যাতনের মাধ্যমে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে।”

শফিকুল আলম স্পষ্ট করে বলেন, “যতক্ষণ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ গণহত্যা, খুন, লুটপাটের জন্য ক্ষমা না চাইবে, যতক্ষণ না তাদের অপরাধীরা বিচারের মুখোমুখি হবে এবং ফ্যাসিস্ট আদর্শ থেকে নিজেদের আলাদা করবে, ততক্ষণ তাদের কোনো বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়া হবে না।”

তিনি বলেন, “কোনো সভ্য দেশ কি একদল খুনি ও দুর্নীতিবাজ চক্রকে আবার ক্ষমতায় আসার সুযোগ দেবে? বাংলাদেশের জনগণ কখনো তাদের বিক্ষোভ-সমাবেশ মেনে নেবে না।”

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “বাংলাদেশের জনগণ আওয়ামী লীগের কোনো অবৈধ বিক্ষোভ সহ্য করবে না। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জনগণের পক্ষ নিয়ে কাজ করছে এবং সহিংসতার পথে দেশকে ঠেলে দেওয়ার কোনো ষড়যন্ত্র বরদাশত করা হবে না। আওয়ামী লীগের ব্যানারে কেউ বিক্ষোভ করার চেষ্টা করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বরিশালে শিক্ষার্থী-শ্রমিক সংঘর্ষে উত্তেজনা, ১৫ রুটে বাস ধর্মঘট

বরিশাল প্রতিনিধি :: বরিশালে শিক্ষার্থী ও বাস শ্রমিকদের মধ্যকার উত্তেজনাপূর্ণ বিরোধের জেরে দক্ষিণাঞ্চলের ১৫টি রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।

বুধবার (২৯ জানুয়ারি) ভোর থেকে এই কর্মসূচি শুরু হয়েছে । হাফভাড়ার দাবিতে এক ছাত্রীর সঙ্গে বাস শ্রমিকদের বাকবিতণ্ডা ও অপমানজনক আচরণের ঘটনার পর আন্দোলনে নামে শিক্ষার্থীরা। এতে বাস ভাঙচুর ও সংঘর্ষের পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তার দাবিতে শ্রমিকরা অনির্দিষ্টকালের জন্য বাস ধর্মঘটের ঘোষণা দিয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেলে ঝালকাঠি থেকে আসা বিএম কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের এক ছাত্রী বাসে হাফভাড়া চাইলে হেলপার তা অস্বীকার করে এবং অপমানজনক মন্তব্য করে। বিষয়টি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে বিএম কলেজের শিক্ষার্থীরা রূপাতলী বাস টার্মিনালে এসে বিক্ষোভ শুরু করে।

বিক্ষোভ চলাকালে একপর্যায়ে শিক্ষার্থী ও শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ চলাকালে শ্রমিকরা লাঠিসোটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়, এতে তিন শিক্ষার্থী আহত হন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বাস ভাঙচুর করে এবং সড়কে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করে।

শ্রমিকদের দাবি, শিক্ষার্থীরা শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যালয় এবং একাধিক বাসেও ভাঙচুর চালিয়েছে। অন্যদিকে শিক্ষার্থীরা বলছে, তাদের উপর শ্রমিকদের হামলার বিচার না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবে।

এই ঘটনার জেরে মঙ্গলবার রাতেই শ্রমিকরা জরুরি বৈঠক করে বুধবার (২৯ জানুয়ারি) সকাল ৬টা থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ঘোষণা দেয়। ধর্মঘটের ফলে বরিশাল বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ ১৫টি রুটে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

হঠাৎ করে বাস চলাচল বন্ধ হওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। যাত্রীরা বাধ্য হয়ে বিকল্প যানবাহনে অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে বাধ্য হচ্ছেন। কেউ কেউ গন্তব্যে পৌঁছাতে না পেরে ফিরে গেছেন।

শিক্ষার্থীদের দাবি, হাফভাড়া নিশ্চিত করতে হবে। হামলাকারী শ্রমিকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ বন্ধ করতে হবে।

শিক্ষার্থীরা দলবদ্ধভাবে শ্রমিকদের উপর হামলা চালিয়েছে। তাদের অফিস ও যানবাহন ভাঙচুর করা হয়েছে। শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা কর্মবিরতি চালিয়ে যাবে।

বরিশাল রূপাতলী শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম চৌধুরী বলেন,শ্রমিকদের ওপর হামলা করা হয়েছে। আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করা হলে বাস চলাচল বন্ধ থাকবে।

বরিশাল কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, শিক্ষার্থী ও শ্রমিকদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।

এদিকে, বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউদ্দিন সিকদার বলেন, শিক্ষার্থীদের উচিত ছিল শ্রমিকদের সঙ্গে সরাসরি অভিযোগ করা, বাস ভাঙচুর নয়।

বর্তমানে বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ এ পরিস্থিতির কারণে চরম দুর্ভোগে রয়েছেন। প্রশাসন, শিক্ষার্থী ও শ্রমিকদের আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধান না হলে সংকট দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

 




মিত্রবাহিনী কি নাৎসিদের বিক্ষোভ করার অনুমতি দিয়েছিল?

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  মিত্রবাহিনী নাৎসিদের বিক্ষোভ করার অনুমতি দিয়েছিল কি না এমন প্রশ্ন রেখে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সেক্রেটারি শফিকুল আলম বলেছেন, আওয়ামী লীগ তাদের বর্তমান নেতৃত্ব ও ফ্যাসিবাদী আদর্শ থেকে যতক্ষণ নিজেকে আলাদা না করবে ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের বিক্ষোভ করার অনুমতি দেওয়া হবে না। মিত্রবাহিনী কি নাৎসিদের বিক্ষোভ করার অনুমতি দিয়েছিল?

বুধবার (২৯ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এসব কথা বলেন তিনি।

পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আগস্টে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কোনো ন্যায্য বিক্ষোভ বন্ধ বা নিষিদ্ধ করেনি। আমরা সমাবেশ করার স্বাধীনতা এবং সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি। আজ সকালে গণমাধ্যমের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সাড়ে পাঁচ মাসে কেবল ঢাকায় কমপক্ষে ১৩৬টি বিক্ষোভ হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি বিক্ষোভের ফলে ব্যাপক যানজট সৃষ্টি হয়েছে। তবুও, সরকার কখনো বিক্ষোভ-সমাবেশের ওপর কোনও বিধিনিষেধ আরোপ করেননি।’

‘কিন্তু আমাদের কি ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগকে বিক্ষোভ করার সুযোগ দেওয়া উচিত? জুলাই-আগস্টের ভিডিও ফুটেজে স্পষ্ট দেখা যায় যে আওয়ামী লীগের কর্মীরা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের হত্যায় অংশ নিয়েছিল। তাদের পরিচালিত হত্যাকাণ্ডে শহীদ হয়েছেন কয়েকশ তরুণ শিক্ষার্থী, এমনকি নাবালক শিশুরাও। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় গণহত্যা, খুন ও তাণ্ডবের জন্য দায়ী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের দলীয় সরকার।’

ফেসবুক স্ট্যাটাসে আরও লেখেন, ‘গতকাল কয়েকজন বিশিষ্ট মানবাধিকারকর্মীর সাক্ষাৎকারের বরাতে নিউইয়র্ক-ভিত্তিক হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানায়, শেখ হাসিনা তার ১৬ বছরের একনায়কত্বের শাসনামলে সরাসরি হত্যা এবং জোরপূর্বক গুমের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তিনি একটি চোরতন্ত্র (ক্লেপ্টোক্রেসি) এবং খুনি শাসনের নেতৃত্ব দিয়েছেন। নিরপেক্ষ ও স্বাধীন একটি প্যানেল বলছে, শেখ হাসিনার তত্ত্বাবধানে তার ঘনিষ্ঠরা ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার করেছে। দুর্নীতিগ্রস্ত চুক্তি থেকে কোটি কোটি ডলার চুরির দায়ে হাসিনার পরিবারের বিরুদ্ধে এখন তদন্ত চলছে।’

‘এছাড়া প্রায় সাড়ে তিন হাজার ব্যক্তি জোরপূর্বক গুমের শিকার হয়েছেন। প্রায় তিন হাজার জনকে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা করা হয়েছে। শাপলা চত্বরের সমাবেশ এবং মাওলানা সাঈদীর বিচারিক রায়ের পর বিক্ষোভকারীদের ওপর গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে। পুলিশ বাহিনী হাসিনার শাসনামলে পুলিশ লীগে পরিণত হয়েছিল। হাসিনার একনায়কতন্ত্রে প্রায় ষাট লাখ বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ভুয়া ও গায়েবি মামলা দেওয়া হয়। এমনকি দেশের প্রথম হিন্দু প্রধান বিচারপতিকেও নির্মমভাবে মারধর করা হয়, পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয় এবং নির্বাসনে পাঠানো হয়।’

ফেসবুক স্ট্যাটাসে শফিকুল আলম লেখেন, ‘যতক্ষণ না আওয়ামী লীগ এই গণহত্যা, হত্যাকাণ্ড এবং প্রকাশ্য দুর্নীতির জন্য ক্ষমা না চাইবে এবং যতক্ষণ না তাদের অন্যায়কারী নেতাকর্মীরা বিচার ব্যবস্থার কাছে আত্মসমর্পণ করে তাদের অপরাধের জন্য বিচারকার্যের প্রক্রিয়া শুরু করে পাপমোচন করতে উদ্যোগ না নেবে এবং যতক্ষণ না আওয়ামী লীগ তাদের বর্তমান নেতৃত্ব ও ফ্যাসিবাদী আদর্শ থেকে নিজেকে আলাদা না করবে ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের বিক্ষোভ করার অনুমতি দেওয়া হবে না। মিত্রবাহিনী কি নাৎসিদের বিক্ষোভ করার অনুমতি দিয়েছিল?’

‘পৃথিবীর কোনো দেশ কি একদল খুনি এবং দুর্নীতিবাজ চক্রকে আবার ক্ষমতায় আসতে দেবে? কোনো দেশই জবাবদিহিতা ছাড়া স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফেরার অনুমতি দেয় না। বাংলাদেশের জনগণ এই খুনিরা কোনো প্রতিবাদ-সমাবেশ করলে তার বিরুদ্ধে কঠিন জবাব দেবে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বাংলাদেশের জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে। আমরা দেশকে সহিংসতার দিকে ঠেলে দেওয়ার কোনো ধরনের প্রচেষ্টাকে সুযোগ দেব না। আওয়ামী লীগের পতাকাতলে কেউ যদি অবৈধ বিক্ষোভ করার সাহস করে তবে তাকে আইনের মুখোমুখি হতে হবে।’




সৌদি আরবে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন সম্ভাবনা :  উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল

বাংলাদেশের শ্রমবাজারে গুণগত পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, সৌদি আরবে চিকিৎসক, প্রকৌশলী, নার্স ও টেকনিশিয়ানসহ দক্ষ ও আধা-দক্ষ কর্মী পাঠানোর ব্যাপক সুযোগ রয়েছে।

সৌদি মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রীর আমন্ত্রণে গ্লোবাল লেবার মার্কেট কনফারেন্সে অংশগ্রহণ করতে সরকারি সফরে সৌদি আরব যান ড. আসিফ নজরুল। সেখানে তিনি বাংলাদেশের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা নিয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন।

সৌদি আরবে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তারা বিমান টিকিটের উচ্চ মূল্য, রিক্রুটিং এজেন্সির অতিরিক্ত অর্থ আদায়সহ বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। এ বিষয়ে তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন এবং প্রবাসীদের দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর আহ্বান জানান।

ড. আসিফ নজরুল বলেন, সৌদি আরবের ভিশন-২০৩০-এর বিভিন্ন মেগা প্রকল্পে বিপুলসংখ্যক দক্ষ কর্মীর চাহিদা রয়েছে। তবে তথ্যের অভাব, ভিসা প্রসেসের দীর্ঘসূত্রিতা, ভাষাগত প্রতিবন্ধকতা এবং প্রশিক্ষণের ঘাটতির কারণে বাংলাদেশি কর্মীরা কাঙ্ক্ষিত হারে এই সুযোগ গ্রহণ করতে পারছে না। তিনি এসব সমস্যার সমাধানে নিয়মিত শ্রম মেলা, সেমিনার এবং কোম্পানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বাড়ানোর পরামর্শ দেন।

অনুষ্ঠানে তিনি দূতাবাসের ই-ডিমান্ড এটেস্টেশন সিস্টেম উদ্বোধন করেন। এর মাধ্যমে সৌদি কোম্পানিগুলো দূতাবাসে না গিয়েই অনলাইনে নিবন্ধন করে কর্মী চাহিদাপত্র সত্যায়িত করতে পারবে। এতে নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও দ্রুত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন।

জাতীয় নির্বাচনে প্রবাসীদের ভোটাধিকার প্রসঙ্গে তিনি জানান, সরকার এ বিষয়ে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নিতে সম্ভাব্য বিকল্পগুলো যাচাই করছে।

সফর শেষে তিনি ‘তারুণ্যের উৎসব ২০২৫’-এর বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন। অনুষ্ঠানে সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত দেলওয়ার হোসেনসহ সৌদি কোম্পানির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পটুয়াখালীতে অনির্দিষ্টকালের বাস ধর্মঘট, দুর্ভোগে যাত্রীরা

বরিশালে বাস ভাঙচুরের প্রতিবাদে পটুয়াখালীতে অনির্দিষ্টকালের বাস ধর্মঘট শুরু হয়েছে। বুধবার (২৯ জানুয়ারি) সকাল থেকে বাস মালিক সমিতির ডাকে এই ধর্মঘট শুরু হলে সাধারণ যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন।

পর্যটক শিহাব জানান, খুলনা থেকে কুয়াকাটায় বেড়াতে এসে জরুরি প্রয়োজনে ফিরে যেতে হলেও কোনো বাস না পেয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। বাস কাউন্টারের কর্মকর্তারাও জানাতে পারছেন না কখন বাস চলাচল স্বাভাবিক হবে।

অফিসগামী সোহেল মিয়া বলেন, “সকাল থেকে অপেক্ষা করেও কোনো বাস পাইনি। বরিশালে অফিসে পৌঁছাতে বাধ্য হয়ে এখন মোটরসাইকেলে যাচ্ছি।”

পটুয়াখালী বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নাসির খন্দকার জানান, বরিশালে বাস ভাঙচুরের ঘটনায় বিভাগীয় পর্যায়ে আলোচনা হলেও সমাধান হয়নি। ফলে বাধ্য হয়ে তারা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন।

এই ধর্মঘটের ফলে কুয়াকাটাগামী পর্যটকসহ হাজার হাজার সাধারণ মানুষ বিপাকে পড়েছেন। যাত্রীরা দ্রুত সমস্যা সমাধান করে বাস চলাচল স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ভারতের সঙ্গে অসম চুক্তি নিয়ে আলোচনা হবে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

ভারতের সঙ্গে অতীতের সব অসম চুক্তি নিয়ে আলোচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। বুধবার (২৯ জানুয়ারি) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের সীমান্ত সম্মেলন সংক্রান্ত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় ভারতীয়রা ফেন্সিডিলসহ নানা ধরনের মাদক তৈরি করছে, যা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করানো হচ্ছে। যদিও ভারত দাবি করে যে, এগুলো ওষুধ হিসেবে তৈরি করা হয়, তবে বাস্তবে তা মাদক হিসেবেই ব্যবহৃত হচ্ছে। মাদকের প্রবাহ ঠেকাতে দুই দেশের সমন্বয়ে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে তিনি বলেন, ১৫০ গজের মধ্যে কোনো অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে দুই দেশের অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু ভারতীয় কর্তৃপক্ষ একতরফাভাবে কিছু কাজ করতে চায়, যা নিয়মবহির্ভূত। আগামীতে যাতে দুই পক্ষের সম্মতিতেই এসব কার্যক্রম পরিচালিত হয়, সেদিকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

এছাড়া বিএসএফ বা ভারতীয় নাগরিকদের দ্বারা সীমান্তে বাংলাদেশিদের হত্যা, আহত করা, আটক বা ধরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা বন্ধে কঠোর আলোচনার কথা বলেন তিনি। অনুপ্রবেশ, চোরাচালান, অস্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্য পাচার ঠেকানোর বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সীমান্ত নদীগুলোর পানির ন্যায্য বণ্টন, পানি উত্তোলন, বিদ্যমান পানি চুক্তি বাস্তবায়ন এবং রহিমপুর খালের মুখ পুনঃউন্মুক্তকরণ নিয়েও আলোচনা হবে বলে জানান তিনি।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বরিশালে বাস শ্রমিকদের ধর্মঘটের ডাক

বরিশাল প্রতিনিধি :: দীর্ঘ সাড়ে তিন ঘণ্টার সড়ক অবরোধের পর বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হলেও নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। রূপাতলী বাস শ্রমিক ইউনিয়ন আজ (বুধবার) থেকে বরিশাল-কুয়াকাটা এবং বরিশাল-পিরোজপুর রুটে বাস চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে।

মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেলে সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, বাসের সুপারভাইজার অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের পাশাপাশি তার সঙ্গে অসদাচরণ করেন। এই ঘটনার প্রতিবাদে বিএম কলেজের শিক্ষার্থীরা রূপাতলী গোল চত্বরে সড়ক অবরোধ শুরু করেন। সেখানে টায়ার জ্বালিয়ে তারা যান চলাচল বন্ধ করে দেন।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) মোহাম্মদ ইমদাদ হুসাইন জানান, শিক্ষার্থী প্রতিনিধি এবং বাস মালিক সমিতির নেতাদের মধ্যে এক বৈঠকে ৮ দফা দাবিতে সমঝোতা হয়। শিক্ষার্থীরা তাদের দাবিগুলোর মধ্যে হাফ ভাড়ার নিয়ম কঠোরভাবে কার্যকরের আশ্বাস পান। এরপর রাত সাড়ে ৯টার দিকে সড়ক থেকে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়।

অবরোধের ঘটনাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার রাতে বাস শ্রমিক ইউনিয়ন তাদের বাস ভাঙচুর এবং শ্রমিকদের ওপর হামলার অভিযোগ তোলে। তারা নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় বরিশাল-কুয়াকাটা ও বরিশাল-পিরোজপুর রুটে বাস চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে।

রূপাতলী বাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম চৌধুরী জানান, শিক্ষার্থীরা কয়েকটি বাস ভাঙচুর করেছে এবং শ্রমিকদের উপর হামলা চালিয়েছে। এসব ঘটনার প্রতিবাদে মালিক-শ্রমিকরা নিজদের জান-মাল রক্ষায় রুটে বাস বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, বাস চলাচলের সময় যাত্রীদের সঙ্গে আচরণ এবং নির্ধারিত ভাড়ার বিষয়ে পরিষ্কার নিয়ম চালু করতে হবে। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী প্রতিনিধি হাসান রাজু বলেন,আমরা চাই, কোনো বোন আর হেনস্থার শিকার না হোক। আলোচনা ফলপ্রসূ হলেও এর সঠিক বাস্তবায়ন জরুরি।

এদিকে, আন্দোলনের ফলে বরিশাল-ভোলা, বরিশাল-কুয়াকাটা, বরিশাল-বরগুনা এবং বরিশাল-ঝালকাঠি মহাসড়কে যানবাহন চলাচল তিন ঘণ্টা স্থগিত ছিল, যা পরে রাতের মধ্যে পুনরায় চালু হয়। তবে রূপাতলী শ্রমিক ইউনিয়নের ঘোষিত ধর্মঘট নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।