রাজনৈতিক দল গঠনের সিদ্ধান্ত হয়নি: তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম

অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম জানিয়েছেন, তিনি এখনো কোনো রাজনৈতিক দল গঠনের বা পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেননি। যদি এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তবে তা নিজেই আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেবেন।

বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

সরকারে থেকে রাজনৈতিক দলে থাকব না’

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে নাহিদ ইসলাম বলেন, “সরকারে থেকে রাজনৈতিক দলে থাকব না। যদি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিই, তাহলে তা আমি নিজেই জানাব। রাজনৈতিক দলে যোগ দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হলে, আমরা সরকার ছাড়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেব। আমার বা আসিফের পক্ষ থেকে এমন কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আমরা সরকারের কার্যক্রম পরিচালনাতেই ব্যস্ত আছি।”

এদিকে, একটি দৈনিক পত্রিকায় উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম ও আসিফের পদত্যাগের খবর প্রকাশিত হয়।

প্রতিবেদনটি কোথা থেকে এসেছে, পরিষ্কার নয়’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাহিদ ইসলাম বলেন, “প্রতিবেদনটি আমি দেখেছি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এর প্রচার হয়েছে। তবে পত্রিকাটি কোথা থেকে এমন তথ্য পেয়েছে, তা পরিষ্কার নয়।”

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদের বিক্ষোভ, কর্মসূচি প্রতিহতের ঘোষণা

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের কর্মসূচির প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করেছে। ‘সাধারণ শিক্ষার্থী’ ব্যানারে বুধবার (২৯ জানুয়ারি) রাত ১০টায় মিছিলটি ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাউন্ডে শেষ হয়। পরে সেখানে এক প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে বাংলা বিভাগের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী আশিক আহমেদ বলেন, **“স্বৈরাচারী সংগঠন ছাত্রলীগের এ দেশে কোনো জায়গা হবে না। যদি তারা কোনো সাংগঠনিক কর্মসূচি গ্রহণ করে, তা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।”**

আইন বিভাগের শিক্ষার্থী সিরাজুল ইসলাম বলেন, **“নিষিদ্ধ সংগঠনের বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে। খুন-গুমের মতো জঘন্য অপরাধের দায়ে এ সংগঠনের বিচার বাংলার মাটিতেই হবে। আগামী নির্বাচনে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারকে কোনোভাবেই অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হবে না।”

রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী রাকিব আহমেদ বলেন, **“ফ্যাসিস্ট সরকার ও তাদের সহিংস সংগঠন ছাত্রলীগ বাংলার জমিনে কোনোভাবেই টিকতে পারবে না। যাদের হাতে রক্ত ঝরেছে, তারা ভবিষ্যতে কোনো রাজনৈতিক স্বপ্ন দেখতেই পারবে না। প্রয়োজনে আবারও ছাত্রসমাজ রাজপথে নামবে।”লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী মো. সোহাগ হোসেনের সঞ্চালনায় বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেন সিফাত, মাইনুল, জাহিদুল ইসলাম, মমিনুল ইসলাম রানা প্রমুখ।

উল্লেখ্য, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
🔹 ১-৫ ফেব্রুয়ারি: লিফলেট ও প্রচারপত্র বিতরণ
🔹 ৬ ফেব্রুয়ারি: প্রতিবাদ মিছিল ও সমাবেশ
🔹 ১০ ফেব্রুয়ারি: বিক্ষোভ সমাবেশ
🔹 ১৬ ফেব্রুয়ারি: সড়ক, রেল, জল ও বিমানবন্দর অবরোধ
🔹 ১৮ ফেব্রুয়ারি: সকাল-সন্ধ্যা হরতাল

শিক্ষার্থীরা ঘোষণা দিয়েছেন, এসব কর্মসূচি প্রতিহত করতে তারা রাজপথে থাকবে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




প্রধান উপদেষ্টার বৈঠক নিয়ে অপপ্রচার, কড়া প্রতিক্রিয়া সরকারের

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এবং ওপেন সোসাইটি ফাউন্ডেশনের সভাপতি অ্যালেক্স সোরোসের মধ্যে বৈঠক নিয়ে ভারতীয় সাপ্তাহিক দ্য অর্গানাইজার-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং।

আজ প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ ‘সিএ প্রেস উইং ফ্যাক্টস’-এ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভারতের এই সংবাদমাধ্যম একটি নতুন প্রচারণা চালাচ্ছে, যার উদ্দেশ্য বাংলাদেশ সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা এবং শেখ হাসিনার পুনরায় ক্ষমতায় ফেরার পথ সুগম করা।

প্রেস উইং আরও জানায়, দ্য অর্গানাইজার তাদের প্রতিবেদনে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস ও অ্যালেক্স সোরোসের বৈঠককে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে উপস্থাপন করেছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর।

বিবৃতিতে বলা হয়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নিশ্চিত যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং তার দল এই প্রচারণার অসত্যতা বুঝতে সক্ষম হবেন। একই সঙ্গে, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির এই অপচেষ্টা ব্যর্থ হবে।

বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাস এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর অবগত যে অধ্যাপক ইউনূস বিভিন্ন শ্রেণির ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করেন, যার মধ্যে রয়েছেন—উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী, নাগরিক সমাজের নেতারা এবং এমন ব্যক্তিরাও, যারা বাংলাদেশ সরকার সম্পর্কে সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি রাখেন।

সরকারের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, তারা ট্রাম্প প্রশাসনকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা প্রতিহত করতে এবং বিভিন্ন দেশের মধ্যে কৃত্রিম বিভাজন রোধ করতে যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য মিত্রদের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ চালিয়ে যাবে।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




নারীদের ক্রীড়া ক্ষেত্রে বাধা, সরকারের কড়া হুঁশিয়ারি

সাম্প্রতিক সময়ে নারীদের বিনোদনমূলক ও ক্রীড়া কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। বিশেষ করে, দুটি নারী ফুটবল ম্যাচ পরিচালনায় বাধার ঘটনা নিয়ে সরকার কড়া নিন্দা জানিয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের নারীরা পুরুষদের মতোই সমান অধিকার ভোগ করে। সরকার নারীদের সব ধরনের অধিকার নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কেউ যদি নারীদের অধিকার লঙ্ঘন করে বা বেআইনি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, তাহলে তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সরকার আরও জানিয়েছে, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সব নাগরিকের প্রতি বৈষম্য বা নিপীড়নের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এরই মধ্যে দিনাজপুর ও জয়পুরহাট জেলা প্রশাসনকে স্থগিত হওয়া নারী ফুটবল ম্যাচ পুনরায় আয়োজনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসকরা জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে তাদের এলাকায় নারী ফুটবল, ক্রিকেট ও কাবাডি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

সরকারের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে দেশের অন্যতম বৃহৎ যুব উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে শত শত উপজেলা ও জেলা শহরে ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়েছে। এমনকি প্রত্যন্ত গ্রামেও হাজারো মেয়ে ফুটবল, ক্রিকেট ও কাবাডিতে অংশ নিয়েছে।

এদিকে, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস সবসময় নারী অধিকারের পক্ষে কাজ করেছেন। তার প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংকের ৯০ শতাংশেরও বেশি মালিকানা ছিল নারীদের হাতে। সম্প্রতি তিনি ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে বৈঠক করে বাংলাদেশে নারী ফুটবলের উন্নয়নে সহযোগিতা চেয়েছেন।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বরিশালে দারিদ্র্যের হার সবচেয়ে বেশি

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, দেশের দারিদ্র্যের মানচিত্রে সবচেয়ে বেশি দরিদ্র মানুষ বরিশাল বিভাগে বসবাস করে। বিভাগের ২৬.৬ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে রয়েছে, যা দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ।

বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) রাজধানীর বিআইসিসি সম্মেলন কক্ষে প্রকাশিত “বাংলাদেশের দারিদ্র্য মানচিত্র ২০২২” প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন।

বিশ্বব্যাংক, বিশ্ব খাদ্য সংস্থা (ডব্লিউএফপি) ও বিবিএসের যৌথ গবেষণায় জানা যায়, বরিশালের গ্রাম এলাকায় ২৮.১ শতাংশ এবং শহর এলাকায় ২১.৭ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যের মধ্যে বাস করছে। অন্যদিকে, চট্টগ্রাম বিভাগে দারিদ্র্যের হার সবচেয়ে কম। বিভাগটির ১৫.২ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে রয়েছে। শহর এলাকায় এই হার ১৭.৮ শতাংশ এবং গ্রামে মাত্র ৯.৯ শতাংশ।

বরিশালের পর সবচেয়ে বেশি দরিদ্র মানুষ রয়েছে ময়মনসিংহ বিভাগে, যেখানে ২৪.২ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাস করে। ঢাকায় দারিদ্র্যের হার বেড়ে ১৯.৬ শতাংশ হয়েছে। তবে রাজশাহী ও ময়মনসিংহ বিভাগে দারিদ্র্যের হার কিছুটা কমেছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দরিদ্র মানুষ বাস করে মাদারীপুর জেলার ঢাসার উপজেলায়, যেখানে ৬৩.২ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে রয়েছে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরগুনায় মায়ের জানাজাতেও অংশ নিতে দেওয়া হয়নি ল্যান্স নায়েক আলতাফকে

কারাবাসের ১৬ বছরে পৃথিবী থেকে চির বিদায় নিয়েছেন মা, বোন, বোনের স্বামী, ভাগ্নিসহ ২৬ স্বজন। তাদের কারোর শেষ বিদায় জানাতে পারেননি ল্যান্স নায়েক আলতাফ হোসেন। গর্ভধারিণী মমতাময়ী মায়ের মৃত্যুর খবর জানানো হলেও, কারা কর্তৃপক্ষ উত্তরে বলেছিলেন- তাকে পাঠানো সম্ভব না।

এ বিষয়ে কথা বলেছেন বিডিআর সদস্য ল্যান্স নায়েক আলতাফ হোসেন। তিনি বলেন, “পৃথিবী থেকে চিরবিদায় নেওয়া আমার মা, বোনসহ ২৬ স্বজনের শেষ বিদায়ও আমি জানাতে পারিনি।” তার দীর্ঘ ১৬ বছরের কারাবাসে একে একে চলে গেছেন পরিবারের অনেক সদস্য। তবে সবচেয়ে যন্ত্রণার বিষয় ছিল, তার মা আমেনা বেগমের মৃত্যুর পর একবারের জন্যও প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়নি।

আলতাফ হোসেন বরগুনা সদর উপজেলার ১নং বদরখালী ইউনিয়নের বাওয়ালকার গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ২০০৯ সালের পিলখানা বিদ্রোহের ঘটনায় দীর্ঘ ১৬ বছর কারাবন্দি ছিলেন। ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে বিস্ফোরক আইনের মামলায় জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর ১৬ বছর পর তিনি তার বাড়িতে ফিরে আসেন।

কারাবাসের সময় তার পরিবারে ঘটে গেছে একাধিক মর্মান্তিক ঘটনা। ২০০৯ সালের পর থেকে একে একে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তার ভাগ্নী, বোন, বোনের স্বামী, চাচা, এবং শেষ পর্যন্ত মা আমেনা বেগম। মায়ের মৃত্যুর খবর পেলেও তাকে শেষবারের মতো দেখার সুযোগ মেলেনি।

নিজ বাড়িতে ফিরে এসে আলতাফ হোসেন বলেন, “দীর্ঘ ১৬ বছর পর বাড়ি ফিরে এসেছি, কিন্তু জীবনের অনেক কিছুই হারিয়ে ফেলেছি। আমার মায়ের মুখ একবারও দেখতে পাইনি।”

এছাড়াও তার স্ত্রী শিরীন সুলতানা বলেন, “দীর্ঘ সময় ধরে একা থাকার কষ্ট আমি একাই অনুভব করেছি। আমাদের সংসারের অনেক কিছুই আমার একক প্রচেষ্টায় চালাতে হয়েছে। স্বামী ছাড়া সংসার চালানো কতটা কষ্টের, তা আমি জানি।” তিনি আরও বলেন, “কোনো সরকার বা প্রতিষ্ঠান আমাদের সাহায্য করেনি। এমনকি আমার শাশুড়ির মৃত্যুর সময়ও কারাগারে থেকে স্বামীর জানাজায় অংশ নিতে দেওয়া হয়নি।”

এই ঘটনাতে সামাজিক ও রাজনৈতিক অসঙ্গতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আলতাফ হোসেনের মতো সবারই পরিবারে কোন না কোন ব্যক্তির মৃত্যুর খবর শোনার পর তাকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়ার বিষয়ে অবহেলা করা হয়েছে। আলতাফ হোসেনের মতো লোকদের পুনর্বহালের দাবি নতুন করে উঠছে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




“সচিবালয়ে আনসার বিদ্রোহ: ৬৪৮ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, ৪৪৭ সদস্যকে অব্যাহতি”

বাংলাদেশ সচিবালয়ে আনসার বাহিনীর সদস্যদের বিদ্রোহের ঘটনায় বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ৬৪৮ জন আনসারের বিরুদ্ধে কার্যক্রম চলমান, আর ৪৪৭ জন সদস্যকে বাহিনী থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। গত বছরের ২৫ আগস্ট সচিবালয়ে ঘটে যাওয়া অরাজকতার ঘটনা নিয়ে এখনো তদন্ত চলছে।

এ ঘটনায় আনসারের সাবেক ডিজি ও সাবেক পানি সম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীমের ভাই, এ কে এম আমিনুল ইসলাম অভিযোগে থাকলেও এখনও তিনি ধরা পড়েননি। তাকে নিয়ে তদন্ত চলছে এবং গতিবিধি নজরদারিতে রয়েছে।

সচিবালয়ে বিদ্রোহের ঘটনায় মোট ৪৪৭ আনসার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাদের বিরুদ্ধে ১১টি মামলা দায়ের করা হয়। বিদ্রোহী সদস্যদের মধ্যে এখনো কিছু পলাতক রয়েছেন। ৬৪৮ জনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং ৮,৬১০ জন আনসারের সদস্যপদ সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক আব্দুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ কোনো মন্তব্য করেননি, তবে পুলিশ জানিয়েছে, অভিযানে বিশৃঙ্খলাকারী আনসার সদস্যদের আটক করা হয়েছে এবং তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান।

এ ঘটনার পর বাহিনীর অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা শাখা পরিস্থিতি নজরদারি বাড়িয়েছে যাতে পুনরায় কোনো বিদ্রোহ সৃষ্টি না হয়।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




“বিচারপতি শাহেদ নূরউদ্দিনের পদত্যাগপত্র রাষ্ট্রপতির কাছে”

ফ্যাসিবাদী সরকারের সহযোগী হওয়ার অভিযোগে হাইকোর্টের বিচারপতি শাহেদ নূরউদ্দিন রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) আপিল বিভাগের গণমাধ্যমবিষয়ক কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানী ঢাকার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা ঘটেছিল, যার বিচারিক রায় ঘোষণা করেছিলেন বিচারপতি শাহেদ নূরউদ্দিন। তার পদত্যাগের পরিপ্রেক্ষিতে দেশে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে বিচারপতি নূরউদ্দিনের পদত্যাগ এবং তার বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগগুলি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




“পরীমণি: ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে প্রশ্ন বন্ধ করতে চাই”

ঢালিউডের আলোচিত অভিনেত্রী পরীমণি প্রায়ই লাইমলাইটে থাকেন, কিন্তু তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বেশিরভাগ আলোচনা হয়ে থাকে। সম্প্রতি পরীমণি নিজের সোশ্যাল মিডিয়া একাউন্টে এক দীর্ঘ পোস্ট শেয়ার করেছেন, যেখানে তিনি নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বাড়তি আলোচনা এবং মিডিয়ার মনোযোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

ফেসবুকে পরীমণি জানান, তার জীবনেও এমন অনেক প্রশ্ন এসেছে যেগুলো সে নিজেই নিজের কাছ থেকে জানতে চেয়েছে। তিনি বলেন, “পরী, আপনি কর্মজীবনে কি এমন কাজ করেছেন যা সাধারণ জনগণের এত আগ্রহ সৃষ্টি করেছে? কেন আপনার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে এত আলোচনা হয়?”

এছাড়া, পরীমণি আরও বলেন, “আমার সাকসেসফুল ক্যারিয়ারের চেয়ে আমার সুস্থ জীবন যাপনের গুরুত্ব অনেক বেশি। আমি আমার বাচ্চাদের জন্য একটি সুন্দর ও সুস্থ জীবন চেয়েছি।”

শেষে, পরীমণি সমাজের প্রতি একটি বিশেষ অনুরোধ করেছেন। তিনি বলেন, “আমার প্রথম অনুরোধ, প্লিজ এবার একটু ছেড়ে দিন আমাকে। আমার কাজের বাইরে আমার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আর টানাটানি কইরেন না, আল্লাহর ওয়াস্তে!”

পরীমণি আরও বলেন, “আমি নায়িকা, আমি মেয়ে, সব কিছু ছাড়িয়ে আমি মানুষ। এই পৃথিবীর সমস্ত মানুষের কাছে আমি প্রার্থনা করছি- হে মানুষ, তুমি আমার উপর একটু রহম কর।”

পরীমণির এমন আহ্বান এবং মনোভাবের পরিবর্তনকে কিছুটা বিস্ময়কর হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে, গত সপ্তাহে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর তার অবস্থান কতটা পরিবর্তিত হয়েছে, তা সময়ের সাথে পরিষ্কার হবে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




দহগ্রাম সীমান্তে বাঁশের বেড়া দেওয়ার চেষ্টা বিএসএফের

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম সীমান্তের শূন্যরেখায় কাঁটাতারের বেড়ায় বাঁশের বাতা বেঁধে শক্ত করার চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। এ ঘটনায় সম্প্রতি একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে বিএসএফ সদস্যরা ভারতীয় ভূখণ্ডে বাঁশের পাতা লাগাচ্ছে, যদিও বিজিবি তাদের বাধা দিয়েছে।

এ ঘটনার সূত্রপাত ২৮ জানুয়ারি, মঙ্গলবার দুপুরে দহগ্রাম ইউনিয়নের হাঁড়িপাড়া সীমান্তে, যেখানে বিএসএফ তাদের পুরানো কাঁটাতারের বেড়া শক্ত করার জন্য বাঁশের বাতা ব্যবহার করছে। বিজিবি সদস্যরা তাদের কাজ বন্ধ করতে বললেও বিএসএফ তাতে তর্ক জুড়ে দেয় এবং তাদের কাজ চালিয়ে যেতে থাকে। এক বিএসএফ সদস্যকে হিন্দিতে বলতে শোনা যায়, “আমরা কাজ করবো, তোমার যা করার তুমি করো।”

এটি একটি নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে, কারণ ১০ জানুয়ারি উভয় বাহিনীর ডিআইজি পর্যায়ের বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল যে, সীমান্তে কোনো নির্মাণ কাজ চলবে না। তবে, বিএসএফ তাদের এই উদ্যোগ চালিয়ে যাচ্ছে। এর আগে, দহগ্রাম সীমান্তের শূন্যরেখায় প্রায় দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ একটি বেড়া নির্মাণ করেছিল ভারত, যেটি নিয়ে সীমান্তে চরম উত্তেজনা দেখা দেয়।

স্থানীয় বাসিন্দা শিক্ষক রেজা বলেন, “ভারতীয় বিএসএফ সবসময় সীমান্তে জোর খাটিয়ে তাদের কাজ করার চেষ্টা করে।”

৫১ বিজিবি পাটগ্রাম ক্যাম্পের সুবেদার মো. জামিল জানান, বিজিবির বাধার পর বিএসএফ তাদের কাজ বন্ধ করেছে। তবে, বিএসএফ এখনো তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছে।

এ বিষয়ে ৫১ বিজিবির পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সেলিম আল-দীনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম