কাশ্মীর কখনো ভারতের ছিল না, ভবিষ্যতেও হবে না: পাকিস্তান জাতিসংঘে

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে পাকিস্তান জানিয়েছে, জম্মু ও কাশ্মীর কখনো ভারতের অংশ ছিল না এবং ভবিষ্যতেও ভারতের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি পাবে না। মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) জাতিসংঘে দেওয়া বক্তব্যে পাকিস্তানের মিশনের কাউন্সিলর ও রাজনৈতিক সমন্বয়কারী গুল কায়সার সারওয়ানি এ অবস্থান স্পষ্ট করেন।

তিনি বলেন, “কাশ্মীর ভারতের অংশ নয়, ছিলও না এবং হবেও না। এটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিরোধপূর্ণ অঞ্চল। বিষয়টি শুধু পাকিস্তানের নয়, জাতিসংঘেরও একটি ইস্যু। ভারত নিজে জাতিসংঘে এই বিষয় উত্থাপন করেছিল এবং কাশ্মীরের জনগণকে গণভোটের মাধ্যমে তাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের সুযোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তবে প্রায় আট দশক পেরিয়ে গেলেও সেই প্রতিশ্রুতি এখনও বাস্তবায়িত হয়নি।”

গুল কায়সার আরও উল্লেখ করেন, “ভারত কাশ্মীরে ব্যাপক সামরিক উপস্থিতি বজায় রেখেছে, মৌলিক স্বাধীনতা দমন করছে, ভিন্নমতকে স্তব্ধ করছে এবং জনসংখ্যাগত চরিত্র পরিবর্তনের নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে। এসব আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন এবং দখলদার শক্তি হিসেবে ভারতের আইনি দায়বদ্ধতার বিরুদ্ধে।”

সিন্ধু জল চুক্তি নিয়ে পাকিস্তানের কূটনীতিক বলেন, ভারতের মন্তব্য তথ্য বিকৃত ও চুক্তির ভুল ব্যাখ্যা। তিনি বলেন, চুক্তির কোনো ধারা একতরফাভাবে স্থগিত বা পরিবর্তন করার সুযোগ দেয় না। এ ধরনের পদক্ষেপ রাজনৈতিক স্বার্থে চুক্তিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের সমতুল্য।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে পহেলগাম হামলার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। এরপর ভারত সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত করার ঘোষণা দেয়, যা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও জটিল করেছে।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




শ্রমশক্তি রফতানিতে বড় বাধা দালাল চক্র: প্রধান উপদেষ্টা

রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক অভিবাসী ও প্রবাসী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, বিদেশে শ্রমশক্তি রফতানিতে সবচেয়ে বড় বাধা দালাল চক্র। তিনি উল্লেখ করেন, “শ্রমশক্তি রফতানি পুরোপুরি দালাল বেষ্টিত। প্রতিটি ধাপে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এই খাতকে দালাল মুক্ত না করলে খাতের উন্নয়ন সম্ভব নয়।”

ড. ইউনূস আরও বলেন, “পৃথিবীতে তরুণ প্রজন্মের অভাব, অথচ আমাদের দেশে তারুণ্যের ভান্ডার রয়েছে। এটি সোনার চেয়েও মূল্যবান। সারা পৃথিবীকে আমাদের তরুণদের সুযোগ নিতে হবে।”

অনুষ্ঠানে প্রবাসী কল্যাণ উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল প্রবাসীদের কল্যাণে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “পরবর্তী সরকার যদি বাংলাদেশের মানুষের প্রতি সঠিক দৃষ্টি রাখে, ঈমানদার ও কৃতজ্ঞ হয়, তাহলে প্রবাসী কল্যাণে আরও অনেক কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে।”


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




তারেক রহমানের দেশে ফেরার ঘোষণা, এয়ারপোর্টে ভিড় না করার আহ্বান

লন্ডন থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি লন্ডনে অবস্থানরত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে অনুরোধ জানিয়ে বলেছেন, তাকে বিদায় জানাতে কেউ এয়ারপোর্টে যাওয়া উচিত নয়

মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) যুক্তরাজ্য বিএনপির আয়োজিত মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তারেক রহমান বলেন, “প্রিয় ভাই ও বোনেরা, আপনাদের সঙ্গে আমি দীর্ঘ ১৮ বছর কাটিয়েছি। আজ যুক্তরাজ্যে যারা আছেন, বিশেষ করে ইয়াং জেনারেশনের প্রতি আমার অনুরোধ—২৫ তারিখে আমি দেশে চলে যাচ্ছি, দয়া করে কেউ এয়ারপোর্টে যাবেন না।”

তিনি আরও বলেন, এয়ারপোর্টে ভিড় হলে হট্টগোল সৃষ্টি হতে পারে এবং আন্তর্জাতিকভাবে দেশের সুনাম ক্ষুণ্ণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। “যারা সেদিন এয়ারপোর্টে যাবেন না, আমি ধরে নেব তারা দল ও দেশের সম্মানের প্রতি মর্যাদা রেখেছেন,” যোগ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে তারেক রহমান বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও নিজের জন্য নেতাকর্মীদের দোয়া কামনা করেন। দেশে ফেরার ঘোষণার পর বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




সিনে কার্নিভাল ৪.০ অনুষ্ঠিত, আনন্দ-সৃজনশীলতায় ভরপুর তিন দিন

ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল (ডিআইএমএফএফ) ও ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব) এর মিডিয়া অ্যান্ড জার্নালিজম বিভাগের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সিনে কার্নিভাল ৪.০ সফলভাবে সমাপ্ত হয়েছে। তিন দিনব্যাপী এই উৎসব দর্শক ও অংশগ্রহণকারীদের জন্য এক স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে ওঠে।

দর্শনার্থীদের জন্য বেলুন শ্যুটার, নাগরদোলা, ৩৬০° ঘূর্ণায়মান ছবি এবং গানের আসর সহ নানান ইন্টারঅ্যাকটিভ কার্যক্রম আয়োজন করা হয়, যা উৎসবের আনন্দ দ্বিগুণ করে।

প্রদর্শনীর অন্যতম আকর্ষণ ছিল এক্সক্লুসিভ ‘সিনেমাঘর’ সেশন, যেখানে বাংলাদেশী চলচ্চিত্র অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন। শেষ দিনে ‘নূর’ চলচ্চিত্র প্রদর্শন ও আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে অংশগ্রহণ করেন অভিনেতা আরিফিন শুভ, অভিনেত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী, অ্যাসোসিয়েট প্রডিউসার ও সাউন্ড ডিজাইনার রিপন নাথ এবং অ্যাসোসিয়েট প্রডিউসার রাফায়েল আহসান

প্রথম দুই দিনে ‘দেলুপি’ এবং ‘বাড়ির নাম শাহানা’ চলচ্চিত্র প্রদর্শন ও আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়, যা তরুণ দর্শক ও উদীয়মান চলচ্চিত্র নির্মাতাদের সৃজনশীলতা ও গল্প বলার দক্ষতা উন্নয়নে অনুপ্রেরণা যোগায়।

কার্নিভালে ৪০টিরও বেশি স্টল ছিল, যেখানে গয়না, সুগন্ধি, খাবার, পোশাক, হোম ডেকর, মেকআপ ও মেহেদি প্রভৃতি পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রি হয়। রঙিন সাজসজ্জা এবং শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীদের অংশগ্রহণে পুরো প্রাঙ্গণ জুড়ে প্রাণচঞ্চল ও আনন্দঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

এই আয়োজনের মাধ্যমে ডিআইএমএফএফ শিক্ষার্থী ও উদীয়মান চলচ্চিত্র নির্মাতাদের মধ্যে চলচ্চিত্র সংস্কৃতি ও শিল্প-সংক্রান্ত অংশগ্রহণকে আরও উৎসাহিত করেছে।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ করতে হবে বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গড়ে

পিরোজপুর-১ আসনের জামায়াতে ইসলামী সংসদ সদস্য প্রার্থী মাসুদ সাঈদী বলেছেন, বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের ৫৪ বছর অতিক্রম হলেও আমরা আজও সেই কাঙ্ক্ষিত বৈষম্যহীন ও শোষণমুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে পারিনি।

মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী পিরোজপুর জেলা শাখার আয়োজনে শহরের সিও অফিস থেকে শুরু করে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে টাউন ক্লাবে বিজয় র‍্যালি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ তাফাজ্জাল হোসাইন ফরিদ অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন।

মাসুদ সাঈদী সমাবেশে বলেন, “১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে যারা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের স্বপ্ন ছিল একটি মর্যাদাশীল, ন্যায়ভিত্তিক ও শোষণমুক্ত বাংলাদেশ। শহীদদের রক্তের ঋণ পরিশোধ করতে হলে আমাদের বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গড়ে তুলতে হবে।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, “দুঃখজনকভাবে যারা শুধু মুখে স্বাধীনতার চেতনাকে বলেছে, তারা তা অন্তরে ধারণ করেনি। অনেকেই দুর্নীতিবাজ, লুটেরা ও সন্ত্রাসী হয়ে উঠেছেন। কিন্তু জামায়াত ইসলামী স্বাধীনতার চেতনাকে অন্তরে ধারণ করে। যদি আমরা ঐক্যবদ্ধ হই, তবে একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।”

মাসুদ সাঈদী বলেন, “হাদীর ওপর হামলা কোনো ব্যক্তির নয়; এটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত। আমাদের সবার দায়িত্ব ঐক্যবদ্ধভাবে এর বিরুদ্ধে দাঁড়ানো। প্রকৃত দেশপ্রেম মানে সততা, ন্যায় ও জবাবদিহিতা। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের কোনো নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি বা টেন্ডারবাজির মামলা নেই, যা প্রকৃত স্বাধীনতার চেতনার প্রমাণ।”

এছাড়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ জহিরুল হক, সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা শেখ আব্দুর রাজ্জাক, পৌর আমীর মো: ইসাহাক আলী খান, ছাত্রশিবির জেলা সভাপতি মো: ইমরান খান ও অন্যান্য পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




দখল ও দূষণে অস্তিত্ব সংকটে বরগুনার খাকদোন নদ

এক সময়ের খরস্রোতা বরগুনা জেলা শহরের খাকদোন নদ এখন নাব্য সংকট, দখলদারত্ব ও অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণের চাপে অস্তিত্ব হারানোর পথে। পশ্চিমে বিষখালী নদী ও পূর্বে পায়রা নদীকে সংযুক্ত করা প্রায় ২২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নদটির অন্তত আট কিলোমিটার অংশ ইতোমধ্যে পলি জমে ভরাট হয়ে গেছে। নদের দুই পাড় দখল করে বসতবাড়ি নির্মাণ, নির্বিচারে বর্জ্য ফেলা এবং একের পর এক নিচু সেতু নির্মাণে নদটি ক্রমেই মরা খালে পরিণত হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, খাকদোন নদে নির্মিত ২১টি নিচু সেতুর কারণে জোয়ারের সময়ও নৌযান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এসব সেতুর নিচ দিয়ে বড় নৌকা, ট্রলার কিংবা ইঞ্জিনচালিত লঞ্চ চলাচল করতে পারছে না। ফলে নদীপথে যোগাযোগ কার্যত বন্ধের পথে। পাশাপাশি নদীর তীরজুড়ে প্রভাবশালীদের অবৈধ দখল এবং শহরের আবর্জনা ফেলার কারণে নদীর স্বাভাবিক স্রোতধারা নষ্ট হয়ে গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিআইডব্লিউটিএর মাধ্যমে একাধিকবার ড্রেজিং করা হলেও উত্তোলিত বালু যথাযথভাবে অপসারণ করা হয়নি। বর্ষা মৌসুমে সেই বালুই আবার নদীতে ফিরে এসে নাব্য সংকট আরও বাড়িয়ে তুলছে। তাদের ভাষ্য, ‘ড্রেজিংয়ের নামে কোটি কোটি টাকা ব্যয় হলেও নদীর প্রকৃত কোনো উন্নয়ন হয়নি।’

বরগুনা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মোস্তফা কাদের বলেন, খাকদোন নদের প্রাণ ফেরাতে হলে বিষখালী থেকে পায়রা নদী পর্যন্ত পুরোনো নকশা অনুযায়ী পুনঃখনন জরুরি। একই সঙ্গে নদীর স্বাভাবিক স্রোতধারা নিশ্চিত করতে হবে এবং নিচু সেতুগুলোর পরিবর্তে পরিকল্পিত উচ্চ সেতু নির্মাণ করতে হবে।

বরগুনা জেলা নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন কামাল বলেন, খাকদোন নদ দখলমুক্ত করতে বিভিন্ন সময় উদ্যোগের কথা শোনা গেলেও বাস্তবে তার কোনো ফল পাওয়া যায়নি। বছরের পর বছর ধরে প্রকল্পের কথা বলা হলেও কার্যকর কোনো কাজ দৃশ্যমান হয়নি। নদীর নাব্য ফেরাতে এখনো দৃঢ় ও কার্যকর পদক্ষেপের অভাব রয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, খাকদোন নদের নাব্য পুনরুদ্ধারে একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল হান্নান প্রধান জানান, কেওড়াবুনিয়া থেকে পায়রা নদীর সংযোগস্থল হয়ে পশ্চিমে বিষখালী নদী পর্যন্ত প্রায় ২২ কিলোমিটার নদীপথ আগের নকশা অনুযায়ী প্রশস্ত করে পুনঃখননের পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি আরও জানান, বরগুনা জেলায় বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় অর্ধশতাধিক খাল খনন করা হয়েছে। পাশাপাশি কচুরিপানা অপসারণ ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। নদী ও খাল দখলমুক্ত করা একটি চলমান প্রক্রিয়া বলেও জানান তিনি। খাকদোন নদের দখলদারদের উচ্ছেদে সংশ্লিষ্ট সব বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে স্থানীয়রা মনে করছেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে এক সময়ের গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ সম্পূর্ণভাবে হারিয়ে যাবে। খাকদোন নদ বাঁচানো এখন বরগুনাবাসীর জন্য সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




নানা সংকটে বরগুনার শুঁটকিশিল্প, হুমকিতে উপকূলের ঐতিহ্য

প্রায় আট মাসের নীরবতা কাটিয়ে আবারও কর্মচাঞ্চল্য ফিরেছে বরগুনার উপকূলীয় শুঁটকিপল্লীগুলোতে। তালতলী উপজেলার আশারচর, নিদ্রারচর, সোনাকাটাসহ বিভিন্ন এলাকায় হাজারো জেলে, শ্রমিক ও ব্যবসায়ীর পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে শুঁটকিপল্লী। মহাজনের কাছ থেকে দাদন নিয়ে পুরোদমে কাজে নেমেছেন জেলেরা। রোদে মাছ শুকাতে ব্যস্ত নারী-পুরুষ ও শিশু শ্রমিকরা। তবে প্রাণচাঞ্চল্যের আড়ালেই জমে উঠেছে নানা সংকট, যা ধীরে ধীরে হুমকির মুখে ফেলছে এই সম্ভাবনাময় শিল্পকে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রাকৃতিক ও বিষমুক্ত উপায়ে উৎপাদিত বরগুনার শুঁটকির চাহিদা দেশজুড়ে রয়েছে। সরকারি সহায়তা ও পরিকল্পিত উদ্যোগ পেলে এ শিল্প আরও বিকশিত হতে পারত। কিন্তু যোগাযোগব্যবস্থা, অবকাঠামোর অভাব, স্বাস্থ্য ও স্যানিটেশন সংকটসহ একাধিক সমস্যায় ঐতিহ্যবাহী শুঁটকিশিল্প আজ ধুঁকছে।

প্রতি বছর নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলে শুঁটকির মূল মৌসুম। তবে প্রস্তুতি শুরু হয় অক্টোবর থেকেই। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে জেলে ও শ্রমিকরা তালতলীর আশারচর, নিদ্রারচরসহ উপকূলীয় শুঁটকিপল্লীগুলোতে এসে কাজ শুরু করেন। পুরো মৌসুমজুড়ে দিন-রাত শুঁটকি উৎপাদনেই কাটে তাদের সময়।

এ বছর রাসায়নিক ও অতিরিক্ত লবণ ছাড়াই স্বাস্থ্যসম্মত শুঁটকি উৎপাদনের চেষ্টা করছেন ব্যবসায়ীরা। এতে শুঁটকির মান ভালো হচ্ছে বলে জানান তারা। মিঠা পানির দেশি মাছের শুঁটকির জন্য বিশেষভাবে পরিচিত আশারচর ও নিদ্রারচর। এ মৌসুমে এসব পল্লীতে সহস্রাধিক জেলে ও শ্রমিক কাজ করছেন।

ব্যবসায়ীরা জানান, আশারচর ও নিদ্রারচর থেকে প্রতি সপ্তাহে গড়ে প্রায় ১০০ মণ শুঁটকি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়। চট্টগ্রাম, খুলনা, জামালপুর, সৈয়দপুরসহ বিভিন্ন বাজারে এসব শুঁটকির চাহিদা রয়েছে। কিছু শুঁটকি বিদেশেও রপ্তানি হয়। তবে সরকারিভাবে রপ্তানির সুযোগ পেলে আরও বেশি লাভবান হওয়া সম্ভব বলে দাবি তাদের।

সরেজমিনে দেখা যায়, শুঁটকিপল্লীতে প্রায় ৫০টির মতো অস্থায়ী ঘরে জেলে ও শ্রমিকরা বসবাস করছেন। কেউ মাছ পরিষ্কার করছেন, কেউ মাচায় ছড়িয়ে দিচ্ছেন, আবার কেউ শুকনো মাছ সংগ্রহ করে গুদামজাত করছেন। নদী থেকে আনা মাছ নারী ও শিশু শ্রমিকরা পরিষ্কার করে ধুয়ে রোদে শুকান। তিন থেকে চার দিনের রোদে মাছ শক্ত হয়ে শুঁটকিতে পরিণত হয়।

এখানে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ প্রজাতির সামুদ্রিক ও মিঠা পানির মাছের শুঁটকি তৈরি হয়। এর মধ্যে রূপচাঁদা, ছুরি, লইট্টা, তপসে, কোরাল, চিংড়ি, ভোল, মেদসহ নানা জাতের মাছ রয়েছে। বর্তমানে ছুরি মাছের শুঁটকি কেজিপ্রতি ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, রূপচাঁদা এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা এবং লইট্টা ৬০০ থেকে এক হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

তবে লাভের আশার মধ্যেও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। ব্যবসায়ীরা জানান, প্রধান সড়ক থেকে শুঁটকিপল্লী পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তা অত্যন্ত বেহাল। ট্রাক ঢুকতে না পারায় পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। ফলে লাভ কমে যাচ্ছে।

শুঁটকিপল্লীতে দীর্ঘদিন কাজ করা নারী শ্রমিক কুলসুম বেগম বলেন, “আমরা নারী-পুরুষ সবাই সমানভাবে কাজ করি, কিন্তু এখানে নারীদের জন্য কোনো টয়লেট ব্যবস্থা নেই। এতে আমাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। স্থায়ী টয়লেট ও টিউবওয়েলের ব্যবস্থা করা হলে অনেক উপকার হতো।”

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও শুঁটকিশিল্পের সংকটের কথা তুলে ধরছেন। সোনাকাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফরাজি মো. ইউনুছ বলেন, এক সময় এখানকার শুঁটকিশিল্পের সঙ্গে প্রায় তিন থেকে চার লাখ মানুষের জীবিকা জড়িত ছিল। কিন্তু বর্তমানে অবকাঠামো, যোগাযোগ, শিক্ষা ও চিকিৎসা সংকটের কারণে শিল্পটি পিছিয়ে পড়ছে। তিনি আরও বলেন, পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের অপরিশোধিত বর্জ্যে সাগরের পানি দূষিত হচ্ছে, এতে মাছের উৎপাদন কমে যাচ্ছে—যা শুঁটকিশিল্পের জন্য বড় হুমকি।

বরগুনার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ জিয়া উদ্দিন জানান, শুঁটকিশিল্প একটি সম্ভাবনাময় খাত। এখানে কয়েক হাজার মানুষের কর্মসংস্থান রয়েছে। সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এদিকে তালতলীর ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেবক মণ্ডল জানান, শুঁটকিশিল্পকে এগিয়ে নিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সমস্যাগুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে বরগুনার উপকূলীয় শুঁটকিপল্লী এখন সম্ভাবনা ও সংকট—দুটোরই মুখোমুখি। সময়মতো কার্যকর উদ্যোগ না নিলে দেশের এই ঐতিহ্যবাহী শিল্পটি হারিয়ে যাওয়ার শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




‘রাজাকার’ বলাকে কেন্দ্র করে ভোলায় বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, আহত ১৫

ভোলার সদর উপজেলার ভেলুমিয়া ইউনিয়নে বিজয় দিবসের শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ‘রাজাকার’ বলাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এ সহিংসতায় অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। এ সময় কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগও উঠেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সকালে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে জেলা জামায়াতের উদ্যোগে ভোলা সদরে একটি শোভাযাত্রা বের করা হয়। এতে সদর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের জামায়াত নেতাকর্মীরা অংশ নেন। বেলা আনুমানিক ১১টার দিকে শোভাযাত্রাটি ভেলুমিয়া বাজার এলাকায় পৌঁছালে জামায়াত কর্মী আবুল বাশারকে ‘রাজাকার’ বলে মন্তব্য করেন বিএনপি কর্মী রিয়াজ। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি ও পরে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

একপর্যায়ে রিয়াজ চোখে আঘাত পান এবং উত্তেজনার মধ্যে বিএনপির কয়েকজন কর্মী আবুল বাশারকে মারধর করেন। পরে আহত দুজনকে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনার জেরে সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এশার নামাজের আগে বিএনপির নেতাকর্মীরা ভেলুমিয়া বাজারে বিজয় দিবস উপলক্ষে একটি মিছিল বের করেন। মিছিলটি চরন্দ্রপ্রসাদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে পৌঁছালে জামায়াত কর্মীদের সঙ্গে উভয় পক্ষের মধ্যে ফের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে সংঘর্ষ বেধে যায়।

সংঘর্ষ চলাকালে ইটপাটকেল নিক্ষেপ, হামলা ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে ভেলুমিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি আবদুল হান্নানসহ অন্তত ১৩ জন আহত হন। আহতদের কেউ স্থানীয়ভাবে, কেউ ভোলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। সংঘর্ষের সময় বাজারের পাঁচ থেকে ছয়টি দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনার পর রাত ৯টার দিকে ভোলা সদর উপজেলা জামায়াত কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে দলটি। সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা জামায়াতের আমির কামাল হোসেন দাবি করেন, বিএনপি নেতাকর্মীরা পরিকল্পিতভাবে দুই দফা হামলা চালিয়ে জামায়াতের অন্তত ১০ জন নেতাকর্মীকে আহত করেছেন, যাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিজয় দিবসে জামায়াতের মিছিল মেনে নিতে না পেরে এই সহিংসতা চালানো হয়েছে।

অন্যদিকে ভেলুমিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম বলেন, দুপুরের ঘটনাটি নিয়ে রাতে আলোচনায় বসার কথা ছিল। কিন্তু রাতে বিএনপির বিজয় মিছিল চলাকালে কিছু জামায়াত-শিবির কর্মী উসকানিমূলক আচরণ করলে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। তার দাবি, ইটপাটকেল নিক্ষেপের ফলে বিএনপিরও কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন।

এ বিষয়ে ভোলা সদর উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব হেলাল উদ্দিন বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির সম্পর্ক ভালো থাকলেও কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের কারণে জামায়াত সংঘাতমুখী অবস্থান নিয়েছে। নির্বাচন বানচাল করতেই তারা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও নৌবাহিনী মোতায়েন রয়েছে। উভয় পক্ষকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরিশালে নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ‘বানৌজা অদম্য’ প্রদর্শন

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বরিশালে সর্বসাধারণের জন্য বাংলাদেশ নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ‘বানৌজা অদম্য’ প্রদর্শন করা হয়েছে। এ প্রদর্শনী ঘিরে নগরবাসীর মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে।

মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত নগরীর কীর্তনখোলা নদীর তীরে মুক্তিযোদ্ধা পার্ক সংলগ্ন বিআইডব্লিউটিএ ঘাটে যুদ্ধজাহাজটি দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সাধারণ মানুষ চার ঘণ্টা ধরে জাহাজে প্রবেশ করে পরিদর্শনের সুযোগ পান।

দুপুরের পর থেকেই যুদ্ধজাহাজটি দেখতে বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ ও শিশুদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে অনেকেই জাহাজ পরিদর্শনে আসেন। কাছ থেকে নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ দেখার সুযোগ পেয়ে দর্শনার্থীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।

নতুন বাজার এলাকার বাসিন্দা বিধান মণ্ডল বলেন, “যুদ্ধজাহাজ সাধারণ মানুষের দেখার সুযোগ খুব একটা পাওয়া যায় না। বিজয় দিবসের মতো গুরুত্বপূর্ণ দিনে এমন আয়োজন আমাদের জন্য গর্বের।”

রূপাতলী এলাকার এক অভিভাবক বলেন, “শিশুদের নৌবাহিনী সম্পর্কে ধারণা দেওয়া এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করার জন্যই এখানে নিয়ে এসেছি। জাহাজটি ঘুরে দেখতে পেরে আমরা সবাই খুব আনন্দিত।”

যুদ্ধজাহাজটির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আরিফ হোসেন বলেন, “বানৌজা অদম্য সমুদ্রে আন্তঃ ও বহিঃশত্রু মোকাবিলায় সক্ষম একটি আধুনিক যুদ্ধজাহাজ। দেশের সামুদ্রিক সম্পদ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এটি নিয়মিত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, সাধারণ জনগণকে নৌবাহিনীর সক্ষমতা ও কার্যক্রম সম্পর্কে জানাতেই বিজয় দিবসে এই প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে।

প্রদর্শনী চলাকালে জাহাজে দায়িত্বপ্রাপ্ত নৌসদস্যরা দর্শনার্থীদের জাহাজের বিভিন্ন অংশ, সরঞ্জাম ও কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেন।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে বেড়েছে ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপ

শয্যা সংকটে এক বেডে চিকিৎসা নিচ্ছে তিন শিশু

বরিশালে হঠাৎ করে ঠান্ডা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপ উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে শিশুরা। রোগীর চাপ সামলাতে না পেরে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে তীব্র শয্যা সংকট দেখা দিয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে একটি বেডে তিনজন শিশুকে একসঙ্গে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি হওয়া অধিকাংশ শিশুই নিউমোনিয়া, জ্বর, ঠান্ডা, কাশি ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় আক্রান্ত। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রতিদিনই রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অন্তত তিনগুণ বেশি শিশু রোগী ভর্তি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় প্রতিটি বেডেই অতিরিক্ত রোগী। মেঝেতেও অনেক শিশুকে শুইয়ে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। মেহেন্দীগঞ্জ থেকে আসা আরজু বেগম বলেন, “আমার ছেলেটা নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত। অনেক কষ্টে একটা বেড পেলেও সেখানে আরও দুইজন রোগী আছে। ঠিকমতো বসা বা শোয়ার জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না।”

একাধিক রোগীর স্বজন জানান, একই বেডে তিনজন শিশুকে রেখে চিকিৎসা দিতে হওয়ায় শিশু ও অভিভাবক—উভয়েই চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। প্রয়োজনীয় বিশ্রাম ও স্বাচ্ছন্দ্য না থাকায় রোগীদের কষ্ট আরও বেড়ে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. মো. নুরুল আলম বলেন, “শীতকালে শিশুদের ক্ষেত্রে অভিভাবকদের আরও সচেতন হতে হবে। শিশুদের গরম কাপড় পরানো, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, গরম পানি পান করানো ও প্রয়োজনে গরম পানি দিয়ে গোসল করানো জরুরি। এতে অনেক ক্ষেত্রে বাসাতেই প্রাথমিক চিকিৎসা সম্ভব।”

তিনি আরও বলেন, রোগীর চাপ অনেক বেড়েছে। কিছুটা চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হলেও চিকিৎসাসেবায় কোনো ঘাটতি রাখা হচ্ছে না।

হাসপাতালের উপ-পরিচালক একেএম নাজমুল আহসান বলেন, “রোগীর সংখ্যা বেশি হলেও সবাইকে চিকিৎসার আওতায় আনা হচ্ছে। যেসব শিশু বেশি সংকটাপন্ন, তাদের বিশেষভাবে নজরদারিতে রাখা হচ্ছে।”

হাসপাতাল সূত্র জানায়, শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে অনুমোদিত শয্যা রয়েছে মাত্র ৪১টি। অথচ প্রতিদিন শতাধিক শিশু সেখানে ভর্তি থাকছে। এ ছাড়া বহির্বিভাগে প্রতিদিন চিকিৎসা নিচ্ছে প্রায় পাঁচ শতাধিক শিশু, যাদের অধিকাংশই ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত।

চিকিৎসকরা বলছেন, শীতের এই সময়টায় শিশুদের প্রতি বাড়তি যত্ন ও সতর্কতা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম