ডিজেল, পেট্রোল, কেরোসিন ও অকটেনের দাম লিটার প্রতি ২ টাকা কমলো

দেশে জ্বালানি তেলের দাম লিটার প্রতি ২ টাকা হ্রাস করা হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, এই নতুন দাম ১ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।

নতুন দামের বিবরণ অনুযায়ী:

  • ডিজেল: ১০২ টাকা থেকে কমিয়ে ১০০ টাকা
  • কেরোসিন: ১১৪ টাকা থেকে কমিয়ে ১১২ টাকা
  • পেট্রোল: ১১৮ টাকা থেকে কমিয়ে ১১৬ টাকা
  • অকটেন: ১২২ টাকা থেকে কমিয়ে ১২০ টাকা

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ভর্তুকি প্রদান থেকে বের হয়ে আসার সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে ২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি জারি করা হয়েছে “জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ নির্দেশিকা”। এর মাধ্যমে মার্চ থেকে জ্বালানি তেলের দাম আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমন্বয় করা হচ্ছে।

বিশ্ববাজারে ডিজেলের দাম বেশি হলেও দেশের ব্যক্তিগত যানবাহনে বেশি ব্যবহৃত পেট্রোল ও অকটেনকে বিলাসী দ্রব্য হিসেবে ধরে রাখা হয়। এজন্য অকটেনের দাম নির্ধারণে ডিজেলের সঙ্গে লিটার প্রতি ন্যূনতম ১০ টাকা পার্থক্য বজায় রাখার জন্য ‘α’ ফ্যাক্টর প্রযোজ্য হয়।

দেশে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ইতিহাস উল্লেখযোগ্য। ২০২২ সালের ৫ আগস্ট বিপিসি লিটার প্রতি ডিজেল ও কেরোসিন ৩৪ টাকা এবং পেট্রোল ও অকটেন ৪৬ টাকা বৃদ্ধি করেছিল। তখন ডিজেল ও কেরোসিনের দাম ১১৪ টাকা, পেট্রোল ও অকটেন ১৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়। সেই সময় গণপরিবহনের ভাড়া সর্বোচ্চ ২২ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। এর আগের নটিশ অনুযায়ী ২০২১ সালের নভেম্বর ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটার প্রতি ৬৫ টাকা থেকে ৮০ টাকায় উন্নীত করা হয়েছিল, তখনও গণপরিবহনের ভাড়া প্রায় ২৭ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।

মূলত আন্তর্জাতিক বাজারের দাম ও ভর্তুকি নীতি পরিবর্তনের কারণে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে দেশীয় ভোক্তাদের জন্য জ্বালানি তেলের দাম নিয়মিত সমন্বয় করা হচ্ছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




স্বর্ণের দাম আবার বাড়ল, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৫৯ হাজার ৬৯৯ টাকা

দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম আবার বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। মাত্র ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দাম ভরিতে এক লাফে ৪ হাজার ৮২ টাকা বাড়ানো হয়েছে। নতুন নির্ধারিত দাম অনুযায়ী ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ পড়বে ২ লাখ ৫৯ হাজার ৬৯৯ টাকা

বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাতে জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) থেকে কার্যকর হবে।

নতুন দাম অনুযায়ী অন্যান্য ক্যারেটের স্বর্ণের দামও বাড়ানো হয়েছে। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি এখন পড়বে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৯১৮ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১২ হাজার ৫১৮ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি ১ লাখ ৭৩ হাজার ৯১০ টাকা

এর আগে একই দিনে সকালে বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। তখন ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ১৫ হাজার ৭৪৬ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৫৫ হাজার ৬১৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। অন্য ক্যারেটের দামও কমানো হয়েছিল— ২১ ক্যারেট ২ লাখ ৪৪ হাজার ১১ টাকা, ১৮ ক্যারেট ২ লাখ ৯ হাজার ১৩৬ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতি ১ লাখ ৭১ হাজার ৮৬৯ টাকা

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক স্বর্ণের মূল্যবৃদ্ধি এবং দেশের বাজারে চাহিদা বৃদ্ধির কারণে এই দ্রুত পরিবর্তন ঘটেছে। বিনিয়োগকারীদের জন্য স্বর্ণ এখন আবার আকর্ষণীয় হতে পারে, তবে দাম ওঠানামার ফলে সাবধানতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ফাস ফাইন্যান্স শেয়ার সপ্তাহের সর্বোচ্চ পতনের শীর্ষে

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)-এ বিদায়ী সপ্তাহে (২৫-২৯ জানুয়ারি, ২০২৬) লেনদেনে অংশ নেওয়া কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে আর্থিক খাতের ফাস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড-এর শেয়ারের দাম সবচেয়ে বেশি কমেছে। বিনিয়োগকারীদের কম আগ্রহের কারণে কোম্পানিটির শেয়ার ডিএসইর সাপ্তাহিক দাম কমার তালিকার শীর্ষে উঠেছে।

ডিএসইর সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনা সূত্রে জানা গেছে, বিদায়ী সপ্তাহে ফাস ফাইন্যান্সের শেয়ার দর ২৮.৭৪ শতাংশ কমেছে। আগের সপ্তাহের সমাপনী মূল্য ছিল ০.৮৭ টাকা, যা কমে দাঁড়িয়েছে ০.৬২ টাকায়। এই পতনের কারণে কোম্পানিটি সাপ্তাহিক তালিকার শীর্ষে অবস্থান করেছে।

এছাড়া, ডিএসইতে সাপ্তাহিক দাম কমার শীর্ষ তালিকায় অন্যান্য কোম্পানিগুলোর অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ। উল্লেখযোগ্যভাবে, পিপলস লিজিং শেয়ার দর ২৮.৭৪ শতাংশ, ফারইস্ট ফাইন্যান্স ১৭.২৮ শতাংশ, জেনারেশন নেক্সট ১১.৫৪ শতাংশ, রানারঅটোর ১০.৯৯ শতাংশ, এনার্জিপ্যাক পাওয়ার জেনারেশন ৯.৯৪ শতাংশ, ভিএফএস থ্রেড ডাইং ৯.৮৪ শতাংশ, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং ৯.২৩ শতাংশ, প্রিমিয়ার লিজিং ৮.০৬ শতাংশ এবং জিকিউ বলপেন ৬.৬২ শতাংশ পতিত হয়েছে।

সপ্তাহের এই পতন বিনিয়োগকারীদের জন্য সতর্কবার্তা স্বরূপ। বিশেষ করে আর্থিক খাতের শেয়ারে দর কমার ফলে বাজারে সতর্কতা বৃদ্ধি পেতে পারে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিনিয়োগকারীদের ধৈর্য ও বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা জরুরি, কারণ দীর্ঘমেয়াদে বাজারে ওঠানামা স্বাভাবিক।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




রিমার্কের আধুনিক প্যাকেজিং ইন্টারন্যাশনাল প্লাস্টিক ফেয়ারে আলোচিত

রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) চার দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক প্লাস্টিক ফেয়ার-২০২৬ এ নজর কেড়েছে রিমার্ক এলএলসি ইউএসএ-এর অ্যাফিলিয়েটেড প্রতিষ্ঠান ‘রিমার্ক সুপার প্যাক’। ফেয়ারে তারা বিশ্বমানের অত্যাধুনিক প্রযুক্তির প্যাকেজিং প্রদর্শন করেছে, যা দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তা ও দর্শনার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও প্রশংসা কুড়িয়েছে।

দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এসব প্যাকেজিং ও মোল্ড প্রদর্শন করে অংশগ্রহণকারীরা মুগ্ধ হয়েছেন। মেলায় বিপুল পরিমাণ অর্ডারের পাশাপাশি বিভিন্ন কোম্পানির উল্লেখযোগ্য মোল্ড অর্ডার নিশ্চিত করেছে প্রতিষ্ঠানটি। অংশগ্রহণকারীরা জানিয়েছেন, এত উন্নত প্রযুক্তির প্যাকেজিং দেশে তৈরি করা সম্ভব বলে তারা অবাক।

রিমার্ক সুপার প্যাকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক সোহেল রানা বলেন, “সবশেষ প্রযুক্তির প্যাকেজিং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরাই আমাদের উদ্দেশ্য। দেশি-বিদেশি ব্যবসায়ীদের আগ্রহ দেখে আমরা অত্যন্ত আশাবাদী।”

প্যাকেজিং বিভাগের এডিশনাল এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর প্রকৌশলী সুমন সরকার জানান, “আমরা বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে আধুনিক ডিজাইন ও আকর্ষণীয় প্যাকেজিং উপস্থাপন করেছি। দেশীয় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা থেকে শুরু করে বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান পর্যন্ত সবাই আমাদের পণ্য দেখে অভিভূত হয়েছে। ইতিমধ্যে কয়েক শত অর্ডার কনফার্ম হয়েছে এবং আগ্রহ দেখিয়েছে হাজারের বেশি কোম্পানি।”

মোল্ড অ্যান্ড ডাই বিভাগের এডিশনাল এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর মো. আলি রেজা বলেন, “আমাদের প্রদর্শিত প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী পণ্য অংশগ্রহণকারীর প্রত্যাশার বাইরে ছিল। দেশেই নিজের পছন্দমতো মোল্ড তৈরির সুবিধা আমরা সম্ভব করেছি। ইতিমধ্যে বিভিন্ন কোম্পানির অর্ডার কনফার্ম হয়েছে এবং আমরা আশা করি এই খাতে সর্বোচ্চ মানের সেবা প্রদান করতে পারব।”

রিমার্কের স্টলে আসা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা এরফানুল কবীর জানান, “আমি রীতিমতো অভিভূত হয়েছি। বিশেষ করে রিমার্কের নিওর, সিওডিল ও অন্যান্য পণ্যের প্যাকেজিং দেখে আমি ভেবেছিলাম এগুলো আমদানি করা হয়েছে। কিন্তু দেশেই এই মানের উৎপাদন সম্ভব, এটি সত্যিই আমাদের উৎসাহিত করেছে। এ ধরনের প্যাকেজিং ব্যবহার করলে আমাদের পণ্য রপ্তানিমুখী হওয়া সহজ হবে।”

বিপিজিএমইএ-এর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট কে এম ইকবাল হোসেন বলেন, “রিমার্কের প্রদর্শিত প্যাকেজিং আন্তর্জাতিক মানের। কসমেটিকসসহ অন্যান্য খাতের প্যাকেজিং এই খাতকে আরও এগিয়ে নেবে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




সুপার বোর্ড পার্টনার্স ফেস্টিভ্যাল থাইল্যান্ডে সফলভাবে অনুষ্ঠিত

সুপার বোর্ড-এর উদ্যোগে প্রথমবারের মতো থাইল্যান্ডে আয়োজিত হলো সুপার বোর্ড পার্টনার্স ফেস্টিভ্যাল-২০২৬। ১৫ থেকে ১৯ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত এই বিশেষ পার্টনার্স মিটে প্রায় ২০০ জন ব্যবসায়িক অংশীদার (ডিলার) অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সুপার বোর্ড-এর শীর্ষ ব্যবস্থাপনা সদস্যরা। আয়োজনের সময় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও বিনোদনমূলক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ পান অংশগ্রহণকারীরা। এর মধ্যে রয়েছে কোরাল আইল্যান্ড ভ্রমণ, প্যারাসেইলিং, স্কুবা ডাইভিং, পাতায়া বিচ ভ্রমণ, আন্তর্জাতিক রিভার ব্রিজ ও সাফারি, মেরিন ওয়ার্ল্ড ট্যুর।

ব্যবসায়িক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা ও সমন্বয় সাধনের জন্য ব্যাংককের অ্যাম্বাসেডর হোটেল কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত হয় বিশেষ বিজনেস সেশন। ফেস্টিভ্যালের সমাপনী দিনে গত বছরের সেলস প্রোমোশনাল প্রোগ্রামের রিওয়ার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অংশীদারদের অবদানকে সম্মান জানানো হয়।

সুপার বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই পার্টনার্স ফেস্টিভ্যাল ব্যবসায়িক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় ও গতিশীল করবে। অংশীদারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক সুযোগ তৈরি করতে এই আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিলামে কিনলো ৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার

নিলামের মাধ্যমে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে ঢুকেছে আরও ৫৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, পাঁচটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক ৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার কিনেছে। এই নিলামের ডলারের বিনিময় হার ছিল ১২২ টাকা ৩০ পয়সা। কাটঅফ মূল্যও নির্ধারিত হয় একই হিসাবে, যা নিলামের স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ী কার্যকর হয়েছে।

এর আগে চলতি জানুয়ারিতে বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন দফায় মোট ৭৯৮ মিলিয়ন বা ৭৯ কোটি ৮০ লাখ ডলার কেনাকাটা করেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিয়মিতভাবে নিলামের মাধ্যমে ডলার সংগ্রহ করে চলেছে। এখন পর্যন্ত চলতি অর্থবছরে মোট কেনা হয়েছে ৩৯৩ কোটি ৩৫ লাখ ডলার বা ৩.৯৩ বিলিয়ন ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এই উদ্যোগ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত নিলামের মাধ্যমে ডলার কিনলে বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বাড়ে, বাজারে দাম স্থিতিশীল থাকে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য প্রয়োজনীয় মুদ্রা সহজলভ্য হয়।

বৈদেশিক বিনিময় বাজারে নিয়মিত এ ধরনের নিলাম দেশের ব্যবসায়িক ও আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সহায়ক। এ ধরনের কার্যক্রম দেশের মুদ্রানীতি এবং অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




শ্রীকাইল গ্যাস প্রকল্প বাতিল, বাড়ছে গ্যাস সংকটের শঙ্কা

শ্রীকাইল গ্যাস ফিল্ডের উৎপাদন ধরে রাখতে নেওয়া ‘ওয়েলহেড গ্যাস কম্প্রেসর ক্রয় ও স্থাপন’ প্রকল্পের দরপত্র মাঝপথে বাতিল হওয়ায় দেশের জ্বালানি খাতে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে শ্রীকাইলের চারটি গুরুত্বপূর্ণ কূপের ভবিষ্যৎ যেমন অনিশ্চয়তায় পড়বে, তেমনি চলমান গ্যাস সংকট আরও তীব্র হতে পারে।

বাপেক্সের অধীনে শ্রীকাইল ২, ৩, ৪ ও ইস্ট–১ কূপে দীর্ঘদিন গ্যাস উত্তোলনের ফলে কূপমুখের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। এর ফলে ট্রান্সমিশন লাইনে প্রয়োজনীয় ইনলেট চাপ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছিল। এই সমস্যা সমাধান ও উৎপাদন ধস ঠেকাতে প্রতিটি ১০ মিলিয়ন ঘনফুট ক্ষমতাসম্পন্ন তিনটি কম্প্রেসর স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দৈনিক প্রায় ২০ মিলিয়ন ঘনফুট অতিরিক্ত গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার কথা ছিল, যা এলএনজি আমদানি নির্ভরতা কমাতেও সহায়ক হতো।

প্রকল্পটির কাজ পায় রোমানিয়ার প্রতিষ্ঠান এসসি ইউরো গ্যাস সিস্টেম এসআরএল। ২০২৪ সালের মার্চে চুক্তি সম্পাদনের পর স্থানীয় অংশীদারদের মাধ্যমে কাজ শুরু হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দাবি অনুযায়ী, স্থানীয় পর্যায়ের কাজের অগ্রগতি হয়েছে প্রায় ৭০ শতাংশ এবং বিদেশি অংশে প্রায় ৬৫ শতাংশ। এই পর্যায়ে এসে হঠাৎ চুক্তি বাতিলের নোটিশ দেওয়া হয়েছে, যা তাদের জন্য বড় আর্থিক ক্ষতির কারণ হবে বলে অভিযোগ করা হয়।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্থানীয় প্রতিনিধি মনিরুল হুদা বলেন, চুক্তি অনুযায়ী কাজের বিপরীতে আংশিক বিল পরিশোধ করার কথা থাকলেও তা দেওয়া হয়নি। বিল না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে কাজ বন্ধ রাখতে হয়েছে। তার দাবি, প্রকল্পে বিলম্বের জন্য বাপেক্সই মূলত দায়ী। চুক্তির দুই মাসের মধ্যে এলসি খোলার কথা থাকলেও তা দেওয়া হয়েছে পাঁচ মাস পর, ২০২৪ সালের আগস্টে। এক বছরের এলসির মেয়াদ শেষে মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করলেও সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। তিনি আরও অভিযোগ করেন, নতুন করে টেন্ডার আহ্বানের মাধ্যমে পছন্দের কোনো পক্ষকে কাজ দেওয়ার উদ্দেশ্য থাকতে পারে। এ কারণে তারা আদালতে রিট দায়ের করতে বাধ্য হয়েছেন।

অন্যদিকে প্রকল্প পরিচালক ও বাপেক্সের জিএম হাসানুজ্জামান সিকদার দাবি করেছেন, চুক্তি সরাসরি বাতিল করা হয়নি। টানা তিন মাস কাজ বন্ধ থাকায় নিয়ম অনুযায়ী বাতিলের নোটিশ দেওয়া হয়েছে। বাপেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. ফজলুল হক বলেন, সংশ্লিষ্ট বিদেশি কোম্পানি চিঠির মাধ্যমে জানিয়েছে যে তারা আর চুক্তির সঙ্গে নেই। সে কারণেই নিয়ম মেনেই বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং এখানে কোনো অসৎ উদ্দেশ্য নেই।

প্রকল্প বাতিল হলে গ্যাস উৎপাদনে কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে—এমন প্রশ্নে বাপেক্স কর্মকর্তারা সরাসরি কোনো স্পষ্ট উত্তর দিতে পারেননি। তারা স্বীকার করেছেন, কূপগুলোর উৎপাদন ধীরে ধীরে কমছে, তবে কম্প্রেসর না বসালে কী পরিমাণ ক্ষতি হবে তা নতুন করে সমীক্ষা ছাড়া নিশ্চিত করে বলা কঠিন।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে দেশের গ্যাস পরিস্থিতি অত্যন্ত চাপের মধ্যে রয়েছে। চাহিদা বাড়লেও দেশীয় উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে কমছে। আগামী দুই বছরে বড় পরিসরে আমদানি বাড়ানোর সুযোগও সীমিত। এমন অবস্থায় শ্রীকাইল গ্যাস ফিল্ডের উৎপাদন ব্যাহত হলে জাতীয় পর্যায়ে জ্বালানি নিরাপত্তা বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের দিকে শ্রীকাইল থেকে দৈনিক প্রায় ৩১ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন হতো। সর্বশেষ ২৯ জানুয়ারি সেই উৎপাদন নেমে এসেছে মাত্র ১২ দশমিক ৮ মিলিয়ন ঘনফুটে। এই ধস ঠেকাতেই মূলত কম্প্রেসর প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছিল। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রকল্প বাতিলের আগে পূর্ণাঙ্গ ও স্বচ্ছ যাচাই-বাছাই জরুরি ছিল। অন্যথায় প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের কারণে দেশকে আরও গভীর জ্বালানি সংকটে ঠেলে দেওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




নুরের বিরুদ্ধে শোকজ নোটিশ, ব্যাখ্যা চেয়েছে অনুসন্ধান কমিটি

নির্বাচন-পূর্ব আচরণবিধি লঙ্ঘন ও নির্বাচনী অপরাধের অভিযোগে পটুয়াখালী-৩ (দশমিনা-গলাচিপা) আসনের বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থী এবং গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি।

বৃহস্পতিবার ২৯ জানুয়ারি দশমিনা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অবস্থিত কমিটির অস্থায়ী কার্যালয় থেকে এই নোটিশ জারি করা হয়। এতে স্বাক্ষর করেন কমিটির সদস্য ও সিভিল জজ সাব্বির মো. খালিদ।

নোটিশ সূত্রে জানা গেছে, আইনজীবী এনামুল হকের করা লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে নুরুল হক নুরের বিরুদ্ধে এই শোকজ জারি করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. হাসান মামুনকে নিয়ে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়েছে, যা নির্বাচনী পরিবেশকে প্রভাবিত করতে পারে।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, এই কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫-এর ১৫(ক) এবং ১৬(গ), (ছ) ধারার লঙ্ঘন হয়েছে। এতে নির্বাচনী আচরণবিধির গুরুতর ব্যত্যয়ের অভিযোগ আনা হয়েছে।

এ ছাড়া আরেকটি অভিযোগে বলা হয়, গত ২৬ জানুয়ারি রাতের দিকে দশমিনা উপজেলার চরবোরহান এলাকার পাগলা বাজার সেন্টারে অবস্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. হাসান মামুনের নির্বাচনী অফিসে নুরুল হক নুরের অনুসারী কর্মী-সমর্থকেরা ভাঙচুর চালায়। এ সময় ওই প্রার্থীর কয়েকজন সমর্থক আহত হন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ঘটনাকে আচরণবিধিমালার ৬(ক) ধারার পরিপন্থী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

নোটিশে স্পষ্টভাবে বলা হয়, আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে সশরীরে অথবা আইনগত প্রতিনিধির মাধ্যমে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যাখ্যা না দিলে অভিযোগের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং বিষয়টি নির্বাচন কমিশনে প্রতিবেদন আকারে পাঠানো হবে।

এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে নুরুল হক নুর বলেন, তিনি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নোটিশ হাতে পাননি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছেন বলে জানান। তিনি বলেন, আইনের প্রতি তাঁর পূর্ণ শ্রদ্ধা রয়েছে এবং নোটিশ হাতে পেলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সামনে হাজির হয়ে নিজের বক্তব্য উপস্থাপন করবেন।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পিরোজপুরের তিন আসনে ভোটের অঙ্ক

বরিশাল বিভাগের নদীবেষ্টিত জেলা পিরোজপুরে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনীতির মাঠে তৈরি হয়েছে নতুন সমীকরণ। ঝড়, বন্যা ও নদীভাঙনের সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকা এই জেলার মানুষ এখন ভোটের হিসাব কষছেন। আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে পিরোজপুরের তিনটি আসনেই এবার মূল লড়াই হতে যাচ্ছে বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় পার্টি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে।

জেলার তিনটি সংসদীয় আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে মোট ১৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত হাট-বাজার, চায়ের দোকান, গ্রাম-গঞ্জ—সবখানেই ভোটের আলোচনা। প্রার্থীদের পাশাপাশি কর্মী-সমর্থকরাও ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন।


পিরোজপুর–১ : বিএনপি–জামায়াতের হেভিওয়েট লড়াই

সদর উপজেলা, নাজিরপুর ও ইন্দুরকানী উপজেলা নিয়ে গঠিত পিরোজপুর–১ আসনের মোট ভোটার ৩ লাখ ৯২ হাজারের বেশি। এই আসনে এবার সরাসরি মুখোমুখি লড়াই হচ্ছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে।

ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মাঠে রয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক প্রিন্সিপাল আলমগীর হোসেন। অপরদিকে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মাসুদ সাঈদী

নাজিরপুর উপজেলায় বিপুলসংখ্যক ভোটার ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ভোট এখানে জয়-পরাজয়ের বড় নিয়ামক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই উপজেলার ভোট যেদিকে যাবে, ফলাফলও সেদিকেই ঝুঁকবে। সদর ও পৌর এলাকায় বিএনপি প্রার্থীর শক্ত ভোটব্যাংক থাকলেও, ইন্দুরকানীতে জামায়াত প্রার্থীর পারিবারিক ও সাংগঠনিক প্রভাবও কম নয়। ফলে আসনটি নিয়ে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত উত্তেজনা থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


পিরোজপুর–২ : ত্রিমুখী লড়াইয়ে মূল দ্বন্দ্ব বিএনপি ও জামায়াত

কাউখালী, ভান্ডারিয়া ও নেছারাবাদ উপজেলা নিয়ে গঠিত পিরোজপুর–২ আসনের ভোটার সংখ্যা চার লাখের বেশি। এখানে প্রার্থী রয়েছেন সাতজন।

জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে দীর্ঘদিন ধরেই প্রচারে আছেন শামীম সাঈদী। অন্যদিকে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে প্রার্থী হয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতা আহম্মদ সোহেল মনজুর। এছাড়া জাতীয় পার্টি ও একাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থী মাঠে থাকায় এই আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

তবে স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শেষ পর্যন্ত মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যেই। দিন যত গড়াচ্ছে, প্রচারণার উত্তাপও তত বাড়ছে।


পিরোজপুর–৩ : বিএনপি এগিয়ে, ইসলামী আন্দোলনের চ্যালেঞ্জ

মঠবাড়িয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত পিরোজপুর–৩ আসনের ভোটার সংখ্যা প্রায় ২ লাখ ৪১ হাজার। এখানে ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিএনপির প্রার্থী রুহুল আমিন দুলাল দীর্ঘদিনের ত্যাগী নেতা হিসেবে এলাকায় বেশ জনপ্রিয়। তার বিপরীতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী রুস্তম আলী ফরাজী শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। এছাড়া জাতীয় পার্টি ও অন্যান্য দলের প্রার্থীরাও মাঠে রয়েছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আসনে বিএনপি কিছুটা এগিয়ে থাকলেও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী শেষ মুহূর্তে সমীকরণ বদলে দিতে পারেন।


সব মিলিয়ে পিরোজপুরের তিনটি আসনেই ভোটের লড়াই জমে উঠেছে। একটিতে বিএনপি তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও, বাকি দুই আসনে জামায়াতের সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে—এমনটাই মনে করছেন স্থানীয় রাজনীতি সংশ্লিষ্টরা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




প্রতিশ্রুতির ঝুলি নিয়ে মাঠে প্রার্থীরা, সরগরম বরিশাল–৫

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বরিশাল–৫ আসনে নির্বাচনী প্রচারণা এখন তুঙ্গে। উন্নয়ন পরিকল্পনা, রাজনৈতিক দর্শন ও প্রতিশ্রুতি তুলে ধরে ভোটারদের মন জয় করতে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা। গণসংযোগ, উঠান বৈঠক ও পথসভায় মুখর হয়ে উঠেছে নগরীর পাড়া-মহল্লা।

নির্বাচনী মাঠে এই আসনে মূলত তিন প্রার্থীর সক্রিয় প্রচারণা চোখে পড়ছে। প্রতিদিনই তারা নিজ নিজ কর্মসূচি ও অঙ্গীকার তুলে ধরে ভোটারদের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছেন।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিকেলে নগরীর কাশিপুর এলাকায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও বরিশাল–৫ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে ঘরে ঘরে গিয়ে ভোট প্রার্থনা করেন। এ সময় তিনি এলাকার উন্নয়ন, নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি ও জনস্বার্থে কাজ করার আশ্বাস দেন।

অন্যদিকে, সকালে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) মনোনীত প্রার্থী ডা. মনীষা চক্রবর্তী নগরীর সদর রোডসহ বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ চালান। তিনি সাধারণ মানুষের কাছে তার রাজনৈতিক আদর্শ, গণতান্ত্রিক কর্মসূচি ও জনবান্ধব রাজনীতির কথা তুলে ধরে ভোট চান।

এ ছাড়া সকাল ১০টার দিকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকায় গণসংযোগ করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত বরিশাল–৫ ও ৬ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম (শায়খে চরমোনাই)। এ সময় তিনি বরিশালকে ন্যায়ভিত্তিক, দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক জনপদ হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার তুলে ধরেন ভোটারদের সামনে।

প্রার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন ওয়ার্ড ও পাড়া-মহল্লায় তাদের সমর্থকরাও মাইকিং, লিফলেট বিতরণ ও দলীয় প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। সব মিলিয়ে দিন যতই এগোচ্ছে, বরিশাল–৫ আসনের নির্বাচনী মাঠ ততই উত্তপ্ত ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫