পোস্টারবিহীন নির্বাচন, বিপাকে বরিশালের ছাপাখানা ব্যবসায়ীরা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এবার দেশে প্রথমবারের মতো পোস্টারবিহীন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তে ভরা মৌসুমেও বরিশালের ছাপাখানাগুলোতে নেমে এসেছে চরম স্থবিরতা। ফলে হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন ছাপাখানার মালিক ও শ্রমিকরা।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে নগরীর ফকির বাড়ি রোড এলাকার বিভিন্ন ছাপাখানা ঘুরে দেখা যায়, যেখানে একসময় নির্বাচন মৌসুমে দিনরাত ব্যস্ততা থাকত, সেখানে এখন অলস সময় কাটাচ্ছেন শ্রমিকরা। অনেক ছাপাখানায় শ্রমিকসংখ্যা থাকলেও কাজ নেই বললেই চলে।

ছাপাখানা মালিক ও শ্রমিকরা জানান, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আগেভাগেই বিপুল পরিমাণ কাগজ, কালি ও অন্যান্য উপকরণ কিনে মেশিন প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ পোস্টার ছাপার ওপর নিষেধাজ্ঞা আসায় তারা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বরিশাল নগরীতে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৬০টি ছাপাখানা রয়েছে। জাতীয় নির্বাচন এলেই এসব ছাপাখানায় ২৪ ঘণ্টা কাজ চলত। কিন্তু এবার পোস্টার ছাপার সুযোগ না থাকায় অধিকাংশ ছাপাখানা কার্যত বন্ধের পথে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিউ আর্ট প্রেসের মালিক খলিলুর রহমান বলেন, পোস্টারবিহীন নির্বাচনের কারণে তিনি বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কায় রয়েছেন। নির্বাচন ঘিরে অন্যান্য বই-খাতা ছাপার কাজও কমে গেছে। ফলে শ্রমিকদের বসিয়ে বসিয়ে বেতন দিতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতি দীর্ঘদিন চললে ছাপাখানা বন্ধ করা ছাড়া উপায় থাকবে না বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, এই সময়ে সাধারণত লাখ লাখ পোস্টারের অর্ডার পাওয়া যেত। এখন কেবল ভিজিটিং কার্ড ও রসিদের মতো ছোটখাটো কাজ হচ্ছে, যা দিয়ে একটি ছাপাখানা চালানো সম্ভব নয়। পোস্টার নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার দাবি জানান তিনি।

শ্রমিকদের অবস্থাও একই রকম হতাশাজনক। নিউ আর্ট প্রেসের শ্রমিক শাহিন বলেন, আগে নির্বাচন এলেই দিনরাত কাজ করে বাড়তি আয় হতো। এখন কাজ না থাকায় অনেকেই বিকল্প পেশায় যাওয়ার কথা ভাবছেন।

মানহা অফসেট প্রেসের শ্রমিক ছাব্বির বলেন, আগে নির্বাচন মৌসুমে বিশ্রামের সময়ই পাওয়া যেত না। এখন উল্টো কাজ না থাকায় দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে—মালিক কতদিন বেতন দিতে পারবেন, সেটাই বড় প্রশ্ন।

বরিশাল ছাপাখানা মালিক সমিতির সভাপতি সুলতান মাহমুদ বলেন, ছাপাখানার ব্যবসা মূলত পোস্টারকেন্দ্রিক। নির্বাচন মৌসুমে পোস্টার ছাপিয়ে যে আয় হতো, তা দিয়েই বছরের অনেক খরচ মেটানো যেত। এখন লাভ তো দূরের কথা, ব্যাংক ঋণ নিয়ে শ্রমিকদের বেতন দিতে হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, নিয়মিত ভ্যাট, ট্যাক্স, দোকান ও গোডাউন ভাড়া, শ্রমিকদের বেতন—সব মিলিয়ে ছাপাখানা মালিকরা চরম চাপে আছেন। ডিজিটাল প্রচারণার প্রভাবের পাশাপাশি পোস্টার নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত এই খাতকে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে ফেলেছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের কথা বিবেচনা করে সরকারের সহায়তা প্রয়োজন বলেও দাবি করেন তিনি।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




সাইবার মামলায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী কর্মকর্তা কারাগারে

সাইবার আইনে দায়ের করা মামলায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শারীরিক শিক্ষা দপ্তরের সহকারী পরিচালক সেলিনা বেগমের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বরিশাল অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে শুনানি শেষে বিচারক এ আদেশ দেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার তদন্ত ও উপস্থাপিত নথিপত্র পর্যালোচনা করে আদালত জামিন না মঞ্জুর করে আসামিকে জেল হাজতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন।

মামলার এজাহার ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, সেলিনা বেগমের বিরুদ্ধে একাধিক বিয়ে, সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন, ব্ল্যাকমেইল, সাইবার মাধ্যমে হয়রানি ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত বছরের ৫ ডিসেম্বর তার বিরুদ্ধে সাইবার ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা দায়ের করা হয়।

এদিকে সম্প্রতি লালমনিরহাট জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাবেক এক সাংস্কৃতিক কর্মকর্তাকে অফিস কক্ষে নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। ওই ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অভিযোগও মামলার প্রেক্ষাপটে গুরুত্ব পাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ ইমন জানান, আদালত ও তদন্তকারী কর্মকর্তাকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগ ওঠায় জামিনের বিরোধিতা করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তাঁদের আবেদনের সঙ্গে একমত পোষণ করে জামিন নামঞ্জুর করেন।

এ বিষয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম বলেন, বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পরবর্তী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বিএনপি ক্ষমতায় এলে বিদেশে পাচার করা অর্থ ফিরিয়ে আনা হবে: মেজর হাফিজ

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে বিদেশে পাচার করা অর্থ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ (বীরবিক্রম)।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যার পর ভোলার লালমোহন উপজেলার ৬ নম্বর ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নের পেশকারহাট বাজারে ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মেজর হাফিজ অভিযোগ করেন, দীর্ঘ সময় ধরে নির্বাচনের নামে প্রহসন করে ক্ষমতায় থেকে একটি গোষ্ঠী দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ লুট করে বিদেশে পাচার করেছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এই সময়ে দেশের উন্নয়নের চেয়ে ব্যক্তি ও গোষ্ঠীগত স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। অন্যায় ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বললেই দমন-পীড়নের শিকার হতে হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

তিনি আরও বলেন, বিগত সরকার আমলে দেশের অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বাংলাদেশ অন্তত দেড় দশক পিছিয়ে পড়েছে। বিদেশে অবৈধভাবে গড়ে তোলা সম্পদ উদ্ধারে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মেজর হাফিজ উপস্থিত জনগণের উদ্দেশে বলেন, ধর্মের নামে যেন কেউ প্রতারণার শিকার না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। তিনি আশ্বাস দেন, নির্বাচিত হলে লালমোহন ও তজুমদ্দিন এলাকায় কোনো ধরনের অপকর্ম বরদাশত করা হবে না। ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে তাঁকে নির্বাচিত করলে জনগণ তাঁর কাছ থেকে জবাবদিহিতা আদায় করতে পারবে বলেও তিনি প্রতিশ্রুতি দেন।

সভায় ফরাজগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি গিয়াস উদ্দিনের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. জাফর ইকবাল, সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বাবুল, উপজেলা যুবদলের সভাপতি শাহিনুল ইসলাম কবির হাওলাদারসহ বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




পুলিশ ফাঁড়িতে তালাবদ্ধ হয়ে থাকছে সদস্যরা: ব্যারিস্টার ফুয়াদ

বরিশাল-৩ আসনে নির্বাচনী পরিবেশ ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে বলে অভিযোগ করেছেন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। তিনি দাবি করেন, ভোটারদের মধ্যে ভয়ভীতি সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং নারী কর্মী ও সমর্থকদের নানাভাবে হুমকি ও হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রহমতপুর বাজার এলাকায় নির্বাচনী গণসংযোগকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, তিনি এমন সব এলাকায় গণসংযোগ করছেন, যেখানে আগে কোনো প্রার্থী পৌঁছাননি। ভোটারদের কাছ থেকেই তিনি শুনেছেন—তাদের এলাকায় এই প্রথম কোনো প্রার্থী সরাসরি এসেছেন। এভাবেই তিনি জনগণের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন বলে জানান।

তিনি বলেন, ভোটারদের প্রধান উদ্বেগ নিরাপত্তা নিয়ে। তারা জানতে চাইছে—ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারবে কি না এবং ভোট দেওয়ার পর এলাকায় নিরাপদে থাকতে পারবে কি না। এই অনিশ্চয়তা গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য বড় হুমকি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ব্যারিস্টার ফুয়াদের অভিযোগ, একটি বড় রাজনৈতিক দলের নাম ব্যবহার করে একটি ক্ষুদ্র গোষ্ঠী এলাকায় সন্ত্রাস ও আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। তারা মূলধারার রাজনৈতিক কর্মী নয়; বরং হাইব্রিড অপরাধী ও গ্যাংস্টার। এরা ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যেতে নিরুৎসাহিত করছে এবং নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট দিলে বিপদের হুমকি দিচ্ছে।

তিনি দাবি করেন, মুলাদীর একাধিক এলাকায় তাঁর জোটের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে নারী ভোটার ও নারী কর্মীদের লক্ষ্য করে ভয়াবহ হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ধর্ষণ, শারীরিক নির্যাতন, এলাকা ছাড়া করা ও মিথ্যা মামলা দেওয়ার ভয় দেখানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে সংখ্যালঘু পরিবারগুলোকেও হয়রানি করা হচ্ছে বলে জানান।

ব্যারিস্টার ফুয়াদ আরও বলেন, ভোটকেন্দ্র দখল ও ভোটারদের ভয় দেখানো চক্রের সদস্যদের নাম ও ছবি সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থার কাছে দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, ভোটকেন্দ্রের আধা কিলোমিটারের মধ্যে কোনো বেআইনি তৎপরতা দেখা দিলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মুলাদীর বাটামারা ও ছবিপুর এলাকায় বোমা বিস্ফোরণের প্রস্তুতির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এসব এলাকায় সন্ধ্যার পর পুলিশ সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতার কারণে দরজা-জানালা বন্ধ করে ফাঁড়িতে বসে থাকতে বাধ্য হচ্ছে। তাঁর মতে, যৌথ বাহিনীর সমন্বিত অভিযান ছাড়া এসব এলাকায় নির্ভয়ে ভোটগ্রহণ সম্ভব নয়।

ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর বিষয়ে তিনি বলেন, এই আসনের অনেক ভোটকেন্দ্রই অত্যন্ত স্পর্শকাতর। এমন পরিস্থিতিতে প্রয়োজন হলে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সমন্বিত ব্যবহারের এখতিয়ার সরকারের রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর আহ্বান জানান।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




নিরাপত্তা ও সমান সুযোগ ছাড়া গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয়: ফয়জুল করীম

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নিরাপত্তা, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা ও সমান সুযোগ নিশ্চিত না হলে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির এবং বরিশাল-৫ ও বরিশাল-৬ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বরিশাল সদর উপজেলায় গণসংযোগ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ভয়ভীতি, হয়রানি ও পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ চলমান থাকলে জনগণের প্রত্যাশিত অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে। তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক পরিচয় বিকৃত করে গ্রেপ্তারসহ নানা ধরনের হয়রানি করা হচ্ছে, যা নির্বাচনী পরিবেশকে অস্বাভাবিক করে তুলছে।

ফয়জুল করীম বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে দেশের মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিল। বর্তমানে ভোটারদের মধ্যে নতুন করে আগ্রহ ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। তবে সেই আগ্রহ ধরে রাখতে হলে সরকার ও প্রশাসনকে সব রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ও কর্মীদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ ছাড়া কোনোভাবেই অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

নিরাপত্তা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মাঠে সেনাবাহিনী ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট থাকার পরও যদি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে, তবে তা প্রশাসনিক ব্যর্থতারই বহিঃপ্রকাশ। ভোটাররা দল-মত নির্বিশেষে সবার আগে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চায়—এই বাস্তবতা প্রশাসনকে গুরুত্বের সঙ্গে অনুধাবন করতে হবে।

ইসলামী আন্দোলনের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, জুলুম, সন্ত্রাস, মাস্তানি ও গুন্ডামিমুক্ত রাজনীতির কারণে সাধারণ মানুষের আস্থা দিন দিন এই দলের প্রতি বাড়ছে। সাম্প্রতিক সময়ে শেরপুরে প্রাণহানির ঘটনা, ভোলায় নারী কর্মীদের ওপর হামলা এবং বরিশালে ভয়ভীতির পরিবেশকে উদ্বেগজনক উল্লেখ করে তিনি এসব ঘটনায় প্রশাসনের নিরপেক্ষ ও কঠোর ভূমিকা কামনা করেন।

নারী ভোটারদের বিষয়ে ফয়জুল করীম বলেন, ইসলামে নারীদের মর্যাদা সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রতিষ্ঠিত। সে কারণেই নারী ভোটারদের একটি বড় অংশ হাতপাখা প্রতীকের প্রতি আস্থাশীল হবে বলে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন। ভবিষ্যতে নারী ভোটারদের এই সমর্থন আরও বিস্তৃত হবে বলেও তিনি মনে করেন।

সামগ্রিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে তিনি বলেন, অনুকূল পরিবেশ না থাকায় মাঠে অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে। তবে শান্তি, নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা গেলে ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে এবং বরিশাল-৫ ও বরিশাল-৬ আসনে হাতপাখা প্রতীকের বিজয় নিশ্চিত হবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বাংলাদেশে থিম্যাটিক বন্ডের নতুন যুগ শুরু: বিএসইসি-ইউএনডিপির সমঝোতা

বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে পরিবেশবান্ধব এবং সামাজিক উন্নয়নভিত্তিক বিনিয়োগকে আরও উৎসাহিত করতে নতুন ধাপ নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এবং জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)। পুঁজিবাজারে থিম্যাটিক বন্ড বা নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যের বন্ডের বাজারকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বুধবার দুই সংস্থার মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিএসইসি ভবনে অনুষ্ঠিত ‘সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স কোলাবোরেশন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে স্বাক্ষর করেন বিএসইসির চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ এবং ইউএনডিপি বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফান লিলার। সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে বাংলাদেশে টেকসই অর্থায়ন কাঠামো গড়ে তোলা, থিম্যাটিক বন্ড ইস্যুকারীদের ইস্যুর আগে ও পরে কারিগরি সহায়তা, এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর অভিজ্ঞতা বিনিময়ে কাজ করার সুযোগও থাকবে।

এছাড়া ইউএনডিপি প্রকল্প পর্যবেক্ষণ, বন্ড রিপোর্টিং সক্ষমতা বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী প্রভাব পরিমাপ ও ব্যবস্থাপনা কাঠামো প্রবর্তন এবং তৃতীয় পক্ষীয় সত্যায়ন ব্যবস্থার বিকাশে সহায়তা করবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে গ্রিন, সোশ্যাল, ক্লাইমেট, এসডিজি ও অন্যান্য থিম্যাটিক বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখা সম্ভব হবে।

থিম্যাটিক বন্ড হলো একটি বিশেষ ধরনের বন্ড, যার মাধ্যমে সংগ্রহ করা অর্থকে নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে ব্যয় করতে হয়। উদাহরণস্বরূপ:

  • গ্রিন বন্ড: পরিবেশবান্ধব প্রকল্প যেমন সৌরবিদ্যুৎ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা।
  • সোশ্যাল বন্ড: স্বাস্থ্যসেবা, সাশ্রয়ী আবাসন, শিক্ষা ও অন্যান্য সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম।
  • সাসটেইনেবিলিটি বন্ড: গ্রিন ও সোশ্যাল প্রকল্প উভয়ের জন্য।
  • ক্লাইমেট বন্ড: জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় বড় প্রকল্পে অর্থায়ন।
  • এসডিজি বন্ড: জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য।

বিএসইসির চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ বলেন, “নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে আমাদের লক্ষ্য বাজার ব্যবস্থাপনার ধারাবাহিক উন্নয়ন, সুশাসন জোরদার করা, স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা সুদৃঢ় করা। থিম্যাটিক বন্ডের বিকাশ পুঁজিবাজারকে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের উৎস হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

ইউএনডিপি বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফান লিলার বলেন, “বাংলাদেশে থিম্যাটিক বন্ডের মাধ্যমে পরিবেশ ও সামাজিক খাতে দীর্ঘমেয়াদি পুঁজি আহরণের সম্ভাবনা অনেক বেশি। এটি দেশকে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণে সাহায্য করতে পারে, মধ্যম আয়ের ফাঁদ এড়িয়ে যেতে সাহায্য করবে এবং জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় বিনিয়োগকে উৎসাহিত করবে।”

সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ইউএনডিপির বাংলাদেশের প্রোগ্রাম স্পেশালিস্ট ড. মালিহা মুজাম্মিল, কান্ট্রি ইকোনমিক অ্যাডভাইজার ওয়াইস প্যারে এবং বিএসইসির কমিশনার মো. আলী আকবর, ফারজানা লালারুখসহ উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




আজম জে চৌধুরীর দাবি: বর্তমান সরকার ব্যবসায়ীদের মতামত নিচ্ছে না

ইস্ট কোস্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজম জে চৌধুরী বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সেমিনার ও ইআরএফ শিক্ষাবৃত্তি অনুষ্ঠানে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে ‘এনজিওদের সরকার’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, এই সরকার কোনো বিষয়ে ব্যবসায়ীদের মতামত গ্রহণ করেনি। যেহেতু সরকারে থাকা কর্মকর্তারা এনজিও থেকে এসেছেন, তারা সারাদেশ পরিচালনার জন্য এনজিওগুলোর মাধ্যমেই কাজ করছেন।

আজম জে চৌধুরী আরও বলেন, দেশে আদৌ কোনো সংস্কার হয়েছে কি না তা প্রশ্নবিদ্ধ। জমির মিউটেশন করার প্রক্রিয়ায় জেলা প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট অফিসের মাধ্যমে যে হয়রানি ও চাঁদাবাজি চলছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক। পূর্বে ৫০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা ঘুষ দিতে হতো, এখন তা বেড়ে প্রায় ১০ লাখ টাকা, যা সাধারণ নাগরিক ও ব্যবসায়ীদের জন্য অত্যন্ত কষ্টসাধ্য।

সেমিনারে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত দেশের অর্থনীতি এবং বিনিয়োগ পরিস্থিতি জানা। তিনি যুক্ত করেন, আইএমএ’র বেশ কিছু সুপারিশ বাস্তবায়ন করা হয়েছে, কিন্তু মাইক্রো ও ম্যাক্রো লেভেলে অর্থনৈতিক সংস্কার দেখা যায়নি। বন্দরে মালামাল খালাস প্রক্রিয়া এখনও সময়সাপেক্ষ; অনেক ক্ষেত্রে একদিনের মধ্যে খালাস হওয়ার কথা থাকলেও দেড় মাস পর্যন্ত মালামাল আটক থাকে।

আজম জে চৌধুরী বলেন, মাইক্রো লেভেলে যে ভোগান্তি ব্যবসায়ীদের হয়, তা ম্যাক্রো লেভেলের অর্থনৈতিক সংস্কারের অংশ নয়। তিনি আরও বলেন, বিনিয়োগ বাড়ানো এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য কার্যকর নীতি প্রয়োজন। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার প্রাইভেট খাতের সঙ্গে সমন্বয় না করায় অর্থনৈতিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এলপিজি ও এলএনজি সরবরাহ সঠিকভাবে হচ্ছে না, কোনো নীতি-নিয়ন্ত্রণ কার্যকর হচ্ছে না।

সেমিনারের প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। সভাপতিত্ব করেন ইআরএফ প্রেসিডেন্ট দৌলত আকতার মালা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ন্যাশনাল লাইফ ইন্সুরেন্সের চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন, ব্র্যাক ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ আবদুল মোমেন, ইসলামী ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম কামালউদ্দিন জসিম, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শামসুল ইসলাম, ইআরএফের সাবেক প্রেসিডেন্ট শামসুল হক জাহিদ, ন্যাশনাল লাইফ ইন্সুরেন্সের সিইও মো. কাজিম উদ্দিন, এবং ইআরএফ সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বন্ধ তালিকায় থাকা ৫ এনবিএফআই শেয়ারে বড় দরপতন

দেশের নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর (এনবিএফআই) মধ্যে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি বিনিয়োগকারীদের জন্য উদ্বেগজনক রূপ নিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের ৯টি এনবিএফআইকে বন্ধ বা অবসায়নের প্রক্রিয়ায় আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। মঙ্গলবার এর মধ্যে তিনটি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সূচকে উন্নতির সুযোগ দেওয়া হয় এবং বাকি ছয়টি প্রতিষ্ঠান অবসায়নের জন্য চূড়ান্ত করা হয়েছে।

নতুন করে বন্ধের তালিকায় থাকা ছয়টির মধ্যে পাঁচটি প্রতিষ্ঠান দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত রয়েছে। এই পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারগুলোতে বুধবার সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ সীমা অনুযায়ী বড় দরপতন হয়েছে। অন্যদিকে, তিনটি প্রতিষ্ঠান অর্থনৈতিক সূচকে উন্নতির সুযোগ পাওয়ায় সেগুলোর শেয়ার আজ উল্লিখিত সীমায় বৃদ্ধি পেয়েছে।

চূড়ান্ত বন্ধের তালিকায় থাকা পাঁচটি কোম্পানি হলো—ফাস ফাইন্যান্স, প্রিমিয়ার লিজিং, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস। আর বন্ধ তালিকা থেকে আর্থিক সূচকে উন্নতির সুযোগ পেয়েছে জিএসপি ফাইন্যান্স, প্রাইম ফাইন্যান্স এবং বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি) লিমিটেড।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বন্ধ তালিকায় থাকা ফাস ফাইন্যান্সের শেয়ারদর আজ ৮ পয়সা বা ১০ শতাংশ কমে ৬৯ পয়সায় নেমেছে। প্রিমিয়ার লিজিংয়ের দর ৭ পয়সা বা ১০ শতাংশ কমে ৬৩ পয়সায়, ফারইস্ট ফাইন্যান্সের দর ৮ পয়সা বা প্রায় ১০ শতাংশ কমে ৭৪ পয়সায়, পিপলস লিজিংয়ের দর ৮ পয়সা বা ১০ শতাংশ কমে ৬৯ পয়সায় এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের দর ৭ পয়সা বা প্রায় ১০ শতাংশ কমে ৬৬ পয়সায় নেমেছে।

এই পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে আজ খুব সামান্য পরিমাণ হাতবদল হয়েছে। বড় দরপতনের পরও বন্ধ তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ার কেনার প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ নেই।

অন্যদিকে, আর্থিক সূচকে উন্নতির সুযোগ পাওয়া তিনটি কোম্পানির শেয়ারও আজ বৃদ্ধি পেয়েছে। জিএসপি ফাইন্যান্সের শেয়ারদর ১০ পয়সা বা প্রায় ৬ শতাংশ বেড়ে ১ টাকা ৯০ পয়সা, প্রাইম ফাইন্যান্সে ১০ পয়সা বা প্রায় ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১ টাকা ৪০ পয়সা, এবং বিআইএফসির শেয়ারদর ১০ পয়সা বা প্রায় ৭ শতাংশ বেড়ে ১ টাকা ৬০ পয়সায় উঠেছে। সার্কিট ব্রোকারের নিয়ম অনুযায়ী একদিনে শেয়ারের দাম সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ বৃদ্ধি বা পতন হতে পারে।

গত সপ্তাহে পুঁজিবাজারে গুঞ্জন ছড়িয়েছিল যে আগের তালিকায় থাকা ৯টি এনবিএফআই-এর সবগুলোই অবসায়নের পথে যাবে না। তবে কোন প্রতিষ্ঠান অবসায়নের মধ্যে যাবে এবং কোনটি যাবে না, সেই তথ্য সম্পূর্ণ অজানা ছিল। এতে তালিকাভুক্ত ৮টি এনবিএফআই-তে অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গিয়েছিল।

বর্তমানে বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থান নেয়ার পাশাপাশি বাজার পরিস্থিতি মনিটর করছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই চূড়ান্ত তালিকা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ ও কোম্পানি পরিচালনার ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




আরইবিতে ওরিয়েন্ট ইলেকট্রিকের বিশেষ সুবিধা নিয়ে প্রশ্ন

পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, চীনা প্রতিষ্ঠান ওরিয়েন্ট ইলেকট্রিক ইন্টারন্যাশনাল গ্রুপ লিমিটেডকে নিয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পরও কোম্পানিটি বহাল তবিয়তে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। দেশের বিভিন্ন বিদ্যুৎ ও পল্লী বিদ্যুৎ প্রকল্পে মালামাল বিলম্ব এবং দরপত্র শর্ত লঙ্ঘনের কারণে এই কোম্পানির কর্মকাণ্ড নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহল উদ্বিগ্ন।

এক দরপত্র (প্যাকেজ নং পিবিএসএফ/২৪-২৫/জি-৫৫) অনুযায়ী ২৫ জানুয়ারির মধ্যে ৩০ হাজার কাটআউট এবং ৩০ হাজার ব্যারেল সরবরাহ দেওয়ার কথা ছিল। তবে ওরিয়েন্ট কেবল ১৬ হাজার কাটআউট এবং ২১ হাজার ব্যারেল সরবরাহ করেছে। এ কারণে পরিদর্শন টিম কিছু লট বাতিল ঘোষণা করেছে। জানা গেছে, বাতিল হওয়া ব্যারেলগুলো এখনও আরইবিতে নেওয়ার তৎপরতা চলছে, যা মাঠ পর্যায়ের কাজকে জটিল করে তুলতে পারে।

সংবাদ সূত্রে জানানো হয়, ওরিয়েন্ট ইলেকট্রিক দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়মের দায় তাদের লোকাল পার্টনারদের ওপর চাপিয়ে দিয়ে দায়িত্ব এড়িয়ে এসেছে। আগের একাধিক দফায় স্থানীয় কোম্পানি এমএম করপোরেশনকে নির্ধারিত সময়ের বাইরে সরবরাহের জন্য কালো তালিকাভুক্ত করা হলেও মূল কোম্পানিটি ধরা পড়েনি। এমন আচরণ আরইবিতে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবকেই ইঙ্গিত করছে বলে মনে করা হচ্ছে।

২০২৩ সালে ওরিয়েন্ট ইলেকট্রিকের লোকাল পার্টনার মাহবুব ট্রেডারের মাধ্যমে লাইটিং এরেস্টার সরবরাহের ক্ষেত্রে ৪ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়। তবে ওই সময়ও মূল কোম্পানি ওরিয়েন্টের কারণে বিলম্বিত সরবরাহের বিষয়টি প্রকাশ করা হয়েছিল। আরইবির পরিচালক বলেন, বিষয়টি প্রকল্প পরিচালকের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত।

সংবাদ ও তথ্য অনুসারে, আরইবিতে উপরের স্তরের চাপের কারণে ওরিয়েন্ট ইলেকট্রিকের বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সমস্যা দেখা দিচ্ছে। স্থানীয় এবং বিদেশি কোম্পানির মধ্যে পার্থক্য ও অনিয়মের বিষয়গুলোও বর্তমানে আলোচনার বিষয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প বাস্তবায়নে ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ফার্নেস অয়েলের দামের গণশুনানি হবে প্রথমবার

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) প্রথমবারের মতো ফার্নেস অয়েলের দাম নির্ধারণের গণশুনানি নিতে যাচ্ছে। আজ (২৯ জানুয়ারি) আইইবি ভবনের কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত হবে এই শুনানি, যেখানে প্রযোজ্য পক্ষগুলো তাদের মতামত এবং প্রস্তাব উপস্থাপন করবেন।

আগের সময়ে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) নিজস্বভাবে ফার্নেস অয়েলের দাম নির্ধারণ করত, বিইআরসিকে পাশ কাটিয়ে। অন্তবর্তীকালীন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর ২০২৩ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ফার্নেস অয়েল এবং জেট এ-১ এর দাম নির্ধারণের এখতিয়ার বিইআরসির উপর ন্যস্ত করা হয়। এরপর ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি বিপিসি জেট ফুয়েল ও ফার্নেস অয়েলের দাম নির্ধারণের প্রস্তাব জমা দেয়। বিইআরসি শুধু জেট ফুয়েলের গণশুনানি করে মে মাসে সেই দাম ঘোষণা করেছে এবং প্রতিমাসে সমন্বয় করা হচ্ছে। ফার্নেস অয়েলের ক্ষেত্রে এখনো নির্ধারণ হয়নি।

বিপিসি ২০১২ সালের পর বিইআরসির লাইসেন্স নবায়ন না করায় ফার্নেস অয়েলের দাম ঝুলে ছিল। এখন বিইআরসি গণশুনানি করে লাইসেন্স নবায়ন ও দাম নির্ধারণে এগোচ্ছে। ফার্নেস অয়েলের চাহিদা দেশের ডিজেলের পর দ্বিতীয় বৃহত্তম। প্রধান ক্রেতা হলো বিদ্যুৎ কেন্দ্র। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দেশব্যাপী ৯ লাখ ৫৫ হাজার ৯১২ মে. টন ফার্নেস অয়েল বিক্রি হয়েছে। এর মধ্যে ৩৪.৮৭ শতাংশ স্থানীয় পরিশোধন থেকে এবং ৬৫.১৪ শতাংশ আমদানি করা হয়েছে।

২০০৩ সালে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন আইনের মাধ্যমে বিইআরসি গঠন করা হয়। আইন অনুযায়ী সব ধরণের জ্বালানির দাম নির্ধারণের ক্ষমতা থাকলেও কার্যত গ্যাস ও বিদ্যুতের দর নির্ধারণে সীমাবদ্ধ ছিল। ২০২৩ সালে আগের সরকার আইন সংশোধন করে নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে দাম সমন্বয়ের সুযোগ যোগ করলে প্রতিষ্ঠানটি কার্যত কার্যহীন হয়ে পড়ে। অন্তবর্তীকালীন সরকার সেই সংশোধনী বাতিল করে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দর নির্ধারণের একক ক্ষমতা ফিরিয়ে দিয়েছে।

এখনও ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হচ্ছে। ২০২৩ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি “জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ নির্দেশিকা” প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে দাম সমন্বয় করা হয়। তবে ফার্নেস অয়েল ও অন্যান্য জ্বালানির জন্য এখনও প্রবিধানমালা ঝুলে রয়েছে।

কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. এম. শামসুল আলম বলেন, “বিপিসি একই সঙ্গে বিক্রেতা ও দাম নির্ধারক, এতে জবাবদিহিতা নেই। গণশুনানিতে যুক্তিতর্কের মাধ্যমে কোম্পানির অনিয়ম ও দুর্নীতি উঠে আসে, যা ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষা করতে সহায়ক।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, “প্রবিধানমালা না থাকায় অন্যান্য জ্বালানির দাম এখনো সমন্বয় করা সম্ভব হচ্ছে না, যা নীতিগত সমস্যার সৃষ্টি করছে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম