রাষ্ট্র সংস্কারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ অন্তর্বর্তী সরকার : উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম

বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এবং ট্রাস্টের চেয়ারম্যান মো. নাহিদ ইসলাম বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার বিদ্যমান রাষ্ট্রকাঠামোর আমূল সংস্কারের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদ চিরতরে নির্মূল করতে চায়।
অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয় ‘জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও আহত সাংবাদিক এবং অসুস্থ ও অসচ্ছল সাংবাদিকদের কল্যাণ অনুদান ও সাংবাদিক সন্তানদের বৃত্তি প্রদান’ উপলক্ষে। প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি বলেন, ‘যে কাঠামো থেকে গেলে বারবার ফ্যাসিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে, সেই কাঠামোকে বদলাতেই হবে। এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া, তবে এই কাঠামো তৈরির পর যে কোনো সরকার ক্ষমতায় এলেও এর ভিত্তি অটুট থাকবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আন্দোলন করেছি ধাপে ধাপে। রাষ্ট্র সংস্কার, কোটা সংস্কার, নির্যাতন ও হত্যার বিচার, এবং ফ্যাসিবাদের অবসান নিশ্চিত করতে হবে। যারা এসব অন্যায়ের সঙ্গে জড়িত, বিশেষ করে সাবেক সরকার প্রধান শেখ হাসিনার বিচার অবশ্যই হবে। আমরা দমন-পীড়ন চাই না, বরং আইনি ব্যবস্থার মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করব।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশকে নিয়ে অনেক ষড়যন্ত্র চলছে। আন্তর্জাতিক মহলে আমাদের গণমাধ্যম নিয়ে ভ্রান্ত ধারণা ছড়ানো হচ্ছে। বাস্তবে গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে কাজ করছে এবং সরকার কোনো চাপ প্রয়োগ করছে না। তবে ফ্যাসিবাদকে পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া হবে না।’
তিনি গণমাধ্যম কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘বিগত সময়গুলোতে দলীয়করণ সবখানে প্রবেশ করেছিল, গণমাধ্যমও ব্যতিক্রম ছিল না। তবে অনেকে ঝুঁকি নিয়ে সত্য প্রচার করেছেন। সেই যুগে ইন্টারনেট না থাকলেও প্রকৃত সত্য জনগণের কাছে পৌঁছেছে সাহসী সাংবাদিকদের কারণে।’
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘ছাত্র ও শ্রমিকদের পাশাপাশি সাংবাদিকরাও লড়াই করেছেন। আমরা তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। সরকার তাদের সহায়তা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে। শহীদ সাংবাদিকদের পরিবারের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে, সেই উপলব্ধি থেকেই আমরা তাদের জন্য অনুদান দিচ্ছি।’
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ আবদুল্লাহ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান মাহবুবা ফারজানা।
তথ্য সচিব মাহবুবা ফারজানা বলেন, ‘শহীদ ও আহত সাংবাদিকদের পরিবারের প্রতি আমাদের দায়িত্ব রয়েছে। সাংবাদিকরা ন্যায় ও সত্যের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন, তাদের প্রতি জাতির ঋণ রয়েছে। এই অনুদান তাদের অধিকার, যা আইন অনুযায়ী নিশ্চিত করা হয়েছে।’
তিনি আরও জানান, ‘তথ্য উপদেষ্টার আন্তরিক প্রচেষ্টায় অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে দুই কোটি টাকা অনুদান অনুমোদিত হয়েছে। ভবিষ্যতে প্রবীণ সাংবাদিকদের জন্য পেনশন ব্যবস্থা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। নিয়মিত বৃত্তি প্রদান কার্যক্রমও অব্যাহত থাকবে।’
অনুষ্ঠানে সাংবাদিক নেতা, জাতীয় প্রেস ক্লাবের নেতৃবৃন্দ, শহীদ সাংবাদিকদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। অনুদানপ্রাপ্ত সাংবাদিক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের হাতে চেক তুলে দেন তথ্য উপদেষ্টা।
—
মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম








