বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় প্রয়োজন পৃথক প্রসিকিউশন ও কোর্ট সচিবালয় : প্রধান বিচারপতি

বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে একটি স্বতন্ত্র প্রসিকিউশন সার্ভিস গঠন এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ।

রাজশাহীর গ্রান্ড রিভার ভিউ হোটেলে আয়োজিত ‘জুডিশিয়াল ইন্ডিপেন্ডেন্স অ্যান্ড এফিসিয়েন্সি ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক আঞ্চলিক সেমিনারে প্রধান বিচারপতি এই মন্তব্য করেন। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ও ইউনাইটেড ন্যাশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (ইউএনডিপি) যৌথভাবে এ সেমিনারের আয়োজন করে।

প্রধান বিচারপতি বলেন, বিচার বিভাগে কাঙ্ক্ষিত দক্ষতা ও স্বচ্ছতা আনতে হলে স্বাধীন প্রসিকিউশন ব্যবস্থা অপরিহার্য। পাশাপাশি, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করা হলে বিচার বিভাগের নীতি নির্ধারণ, বাজেট ব্যবস্থাপনা ও বিচারকদের বদলি-প্রশাসনে স্বচ্ছতা আসবে।

সেমিনারে প্রধান বিচারপতি বিচার বিভাগ সংস্কারের রোডম্যাপ তুলে ধরে বলেন, উচ্চ আদালতের বিচারক নিয়োগের নতুন অধ্যাদেশ, প্রসিকিউটরদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বিচারকদের জন্য অবকাঠামোগত উন্নয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, “দুর্বল তদন্ত ও অপেশাদার প্রসিকিউশন ন্যায়বিচারের পথে বড় বাধা। এজন্য প্রসিকিউটরদের প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।”

প্রধান বিচারপতি সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে বলেন, বিচার বিভাগকে কার্যকর ও স্বাধীন করতে হলে পৃথক সচিবালয় অপরিহার্য। সরকারের কাছে এ বিষয়ে একটি বিস্তারিত প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে এবং এটি সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে।

তিনি আরও জানান, এই সচিবালয় গঠিত হলে বাজেট বরাদ্দ, অবকাঠামো উন্নয়ন ও বিচারকদের নিয়োগ-প্রশাসন আরও স্বচ্ছ হবে।

সেমিনারে ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফান লিলার বলেন, প্রধান বিচারপতির ঘোষিত বিচার বিভাগ সংস্কারের রোডম্যাপ সময়োপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বাংলাদেশে বিচার ব্যবস্থার আধুনিকায়নে ইউএনডিপির পক্ষ থেকে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম। রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলার বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তারা সেমিনারে অংশ নেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




গ্যাস সংকটের আশঙ্কা, ২০২৬ সালে বড় বিপর্যয়?

দেশে প্রতিদিনই কমছে গ্যাসের উৎপাদন, যার ফলে ক্রমাগত বেড়ে চলেছে সংকটের শঙ্কা। জানুয়ারি মাসে গ্যাস উৎপাদন কমেছে ১৯ মিলিয়ন ঘনফুট। ১ জানুয়ারি যেখানে মোট উৎপাদন ছিল ১৯২৯ মিলিয়ন ঘনফুট, ৩০ জানুয়ারিতে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১৯১১ মিলিয়নে। অথচ ২০২০ সালের ১ জানুয়ারিতে বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ড কোম্পানি ৭০৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করলেও ২০২৫ সালের ৩০ জানুয়ারিতে এটি নেমে এসেছে ৪৯৯ মিলিয়নে। একই সময়ে বহুজাতিক কোম্পানির অধীনে থাকা ৪টি গ্যাস ফিল্ড থেকে সরবরাহ পাওয়া যেত ১৬৫৬ মিলিয়ন ঘনফুট, যা ২০২৫ সালের ৩০ জানুয়ারিতে কমে দাঁড়িয়েছে ১১৬১ মিলিয়নে।

উৎপাদন হ্রাসের এই প্রবণতা বিদ্যমান থাকলে গ্যাস সংকট আরও তীব্র হতে পারে। দেশের সবচেয়ে বড় গ্যাসক্ষেত্র বিবিয়ানার মজুদ দ্রুত ফুরিয়ে আসছে, যা ২০২৬ সালের মধ্যে শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বর্তমানে বিবিয়ানার দৈনিক উৎপাদন ৯৭২ মিলিয়ন ঘনফুট হলেও এই মজুদ শেষ হলে দেশীয় উৎসের গ্যাসের পরিমাণ এক লাফে ১০০০ মিলিয়ন ঘনফুট কমে যাবে।

বিভিন্ন সূত্র জানাচ্ছে, গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ফারাক ক্রমশ বাড়ছে। পেট্রোবাংলার সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালের জুলাইয়ে বিবিয়ানার অবশিষ্ট মজুদ দেখানো হয় ১৩৪ বিসিএফ। এরপর বলা হয়েছিল, বিবিয়ানার মজুদ আরও ১ টিসিএফ বাড়তে পারে। কিন্তু ১৯ মাস কেটে গেলেও মজুদ বেড়েছে কি না, সে বিষয়ে কোনো স্বচ্ছ তথ্য পাওয়া যায়নি।

দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলোর সংস্কারের মাধ্যমে গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে রশিদপুর-৭ এবং কৈলাশটিলা-৭ কূপগুলো সংস্কারের মাধ্যমে দৈনিক গ্যাস উৎপাদন ৩০ মিলিয়ন ঘনফুট পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। রশিদপুর-৭ কূপের মধ্যম স্তরে বিপুল গ্যাসের মজুদ রয়েছে, যা উত্তোলন করা হলে দৈনিক ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ বাড়তে পারে। একইভাবে কৈলাশটিলা-৭ কূপের ওপরের স্তর থেকে গ্যাস উত্তোলনের জন্য ওয়ার্কওভার প্রয়োজন।

২০১১ সালে আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্লামবার্জার পরিচালিত এক সমীক্ষায় বলা হয়েছিল, বিদ্যমান গ্যাসক্ষেত্রগুলোর সংস্কারের মাধ্যমে দৈনিক ৪০০-৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব, যার জন্য সর্বোচ্চ ১২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় হতে পারে। কিন্তু এক যুগ পেরিয়ে গেলেও সে অনুযায়ী কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারের অদূরদর্শী নীতির কারণেই গ্যাস সংকট তৈরি হয়েছে। শেখ মুজিবুর রহমান সরকার ছাড়া আর কোনো সরকারই এই খাতে কার্যকর ভূমিকা নেয়নি বলে মন্তব্য করেছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ মকবুল ই এলাহী চৌধুরী। তিনি বলেন, গ্যাস অনুসন্ধানে দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা করা হয়েছে, যার ফলে দেশ আজ ভয়াবহ সংকটের মুখে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন বলেন, “গ্যাস উৎপাদন ধরে রাখতে হলে বছরে কমপক্ষে ১০টি নতুন অনুসন্ধান কূপ খনন করা জরুরি। এলএনজি আমদানি সীমিত রাখা উচিত, কারণ এর ব্যয় আমাদের অর্থনীতির জন্য মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করবে।”

অন্যদিকে ক্যাবের সিনিয়র সহসভাপতি ড. এম শামসুল আলম বলেছেন, “বিবিয়ানার মজুদ সংকট নিয়ে বহুবার সতর্ক করা হয়েছিল, কিন্তু তা আমলে নেওয়া হয়নি। এখন জরুরি ভিত্তিতে নতুন গ্যাসক্ষেত্র উন্নয়ন ও অনুসন্ধান কূপ খনন ছাড়া বিকল্প নেই।”

পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান রেজানুর রহমান জানিয়েছেন, সম্ভাবনাময় কূপ রশিদপুর-৭, কৈলাশটিলা-৭ এবং সিলেট-৯-এর কাজ শুরু হয়েছে। দীর্ঘসূত্রিতা এড়াতে ডিপিপি ছাড়াই কোম্পানির নিজস্ব অর্থায়নে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে।

নতুন অনুসন্ধান কূপ খনন: ২০২৬ সালের আগেই অন্তত ১০টি নতুন অনুসন্ধান কূপ খনন করতে হবে।

পুরাতন কূপ সংস্কার: রশিদপুর-৭, কৈলাশটিলা-৭ ও অন্যান্য কূপ সংস্কার করে গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে হবে।

গ্যাসের অপচয় বন্ধ: সিস্টেম লস কমিয়ে গ্যাস চুরি রোধ করা জরুরি। বর্তমানে প্রতিদিন ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস চুরি হচ্ছে, যা দেশের জন্য বিশাল ক্ষতি।

এলএনজি আমদানির বিকল্প খোঁজা: বিদেশি গ্যাসের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধির দিকে মনোযোগ দিতে হবে।

গ্যাস সংকট মোকাবেলায় এখনই কার্যকর উদ্যোগ না নিলে ২০২৬ সালের মধ্যে দেশের জ্বালানি খাতে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পর্দা উঠছে এক ‘অন্য বইমেলার’

ফিরে দেখা ২০২৪ সমগ্র বাংলাদেশ বিশ্ব ক্রিকেট খেলা বাণিজ্য হ্যালো গ্লিটজ লাইফস্টাইল টেক সব খবর

বাংলাদেশ
পর্দা উঠছে এক ‘অন্য বইমেলার’
তুমুল গণআন্দোলনে দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ঠিক ছয় মাসের মাথায় দ্বার খুলছে বইমেলার। এবার প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান বেড়েছে শতাধিক, বেড়েছে আয়তনও। সেইসঙ্গে মেলার রঙ, প্রতিপাদ্য আর দৃশ্যপটেও এসেছে পরিবর্তন। গণআন্দোলনের স্মরণে থাকছে ‘জুলাই
চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ এবার সেজেছে লাল-কালো আর সাদা রঙে; ফুটিয়ে তোলা হয়েছে বিপ্লব, শোক আর আশার প্রদীপ।

ভাষার মাসের প্রথম দিন শনিবার সেখানে পর্দা উঠছে অমর একুশে বইমেলার, যেখানে ভাষা শহীদ, ভাষা সংগ্রামী ও মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের পাশাপাশি চব্বিশের জুলাই আন্দোলনের শহীদদের প্রতিও শ্রদ্ধা আর স্মৃতি ধারণ করা হয়েছে।

তুমুল গণআন্দোলনে দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ঠিক ছয় মাসের মাথায় দ্বার খুলছে বইমেলার। এবার প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান বেড়েছে শতাধিক, বেড়েছে আয়তনও। সেইসঙ্গে মেলার রঙ, প্রতিপাদ্য আর দৃশ্যপটেও এসেছে পরিবর্তন। আর গণআন্দোলনের স্মৃতি স্মরণে থাকছে ‘জুলাই চত্বর’।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস শনিবার বিকালে বইমেলা উদ্বোধন করবেন। ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান: নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ’ প্রতিপাদ্য নিয়ে ভাষার মাস জুড়ে চলবে মেলা।

শুক্রবার মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, স্টলগুলোর কাঠামো দাঁড়িয়ে গেলেও শেষ মুহূর্তে রঙ আর বইয়ের র‌্যাক তৈরিতে ব্যস্ত প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা। ভেসে আসছিল হাতুড়ি-পেরেকের ঠুকঠুক শব্দ।

মেলার আয়োজক প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশকদের দ্রুত কাজ শেষ করার তাগাদা দিলেও অনেক প্রকাশক এখনও কাজ শেষ করতে পারেননি। বাংলা একাডেমির কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও দাপ্তরিক নানা কাজের পাশাপাশি ব্যস্ত বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সাজানো নিয়ে।

প্রকাশকরা বলছেন, একদিকে বই ছাপানোর ব্যস্ততা, অন্যদিকে মেলার মাঠে স্টল গোছানোর কাজ। সব মিলিয়ে তাদের এখন দম ফেলার ফুরসত নেই। কাঁটাবন, বাংলাবাজারের প্রেস থেকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মেলার মাঠে ছুটে বেড়াচ্ছেন বিভিন্ন প্রকাশনা সংস্থার কর্মীরা।

আগামী প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী ওসমান গণি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “প্রতিবারই মেলায় সপ্তাহ-দশদিন আগে প্রকাশকদের স্টল বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এবার ২২ তারিখ আমরা স্টল পেয়েছি। মেলার মাঠে ঘুরে দেখেছি অনেকেই কাজ শেষ করে ফেলেছেন। আশা করি প্রথম দিন থেকেই এবার মেলা জমে উঠবে।”




প্রধান উপদেষ্টা হওয়ার জন্য যেভাবে ফোন পাই : ড. ইউনূস

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: প্যারিসের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। এমন সময় ঢাকায় আন্দোলনকারী ছাত্রনেতাদের ফোন, বললেন আপনাকে সরকার হতে হবে। তিনি বলেছিলেন, ‘না, আমি সেই ব্যক্তি নই। আমি এর কিছুই জানি না।

আমি এরসঙ্গে যুক্ত হতেও চাই না। তারা নাছোড়বান্দা কিছুতেই ছাড়লেন না, শেষ পর্যন্ত রাজি হলাম’ এমনটাই বলছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলন উপলক্ষ্যে সম্প্রতি সুইজারল্যান্ডের দাভোস সফর করেন প্রধান উপদেষ্টা। সে সময় ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের বৈদেশিকবিষয়ক প্রধান ভাষ্যকার গিডেয়েন রাখমানের উপস্থাপনায় একটি পডকাস্টে কথা বলেন তিনি।

সেখানে তিনি প্রধান উপদেষ্টা হতে রাজি হওয়ার বিষয় নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন। ‘রাখমান রিভিউ’ নামের ওই পডকাস্ট অনুষ্ঠানে কথোপকথন লিখিত আকারে গতকাল বৃহস্পতিবার প্রকাশ করা হয়েছে।
সেখানে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘আমি যখন প্রথম ফোনকল পাই, তখন আমি প্যারিসের হাসপাতালে ছিলাম। আমার ছোট্ট একটি অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল।

তখন তারা (ছাত্রনেতারা) ফোন দিল। যদিও আমি বাংলাদেশে কী ঘটছে, সেসব খবর প্রতিদিন মুঠোফোনে দেখতাম। তখন তারা বলল, তিনি (শেখ হাসিনা) চলে গেছেন। এখন আমাদের সরকার গঠন করতে হবে। দয়া করে, আমাদের জন্য সরকার গঠন করুন।

কারা আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল- এমন প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা। আমি তাদের কাউকেই চিনতাম না। কখনো তাদের সম্পর্কে শুনিনি। কাজেই আমি তাদের বিকল্প কাউকে খোঁজার বিষয়ে বোঝানোর চেষ্টা করছিলাম। তাদের বলেছিলাম, বাংলাদেশে অনেক ভালো নেতা আছেন। তোমরা তাদের খুঁজে নাও। তারা বলছিল, না, না, না। আপনাকেই থাকতে হবে। আমরা কাউকে পাইনি। আমি বলেছিলাম, জোরালো চেষ্টা করো। তারা বলল, আমাদের হাতে পর্যাপ্ত সময় নেই। তখন বলেছিলাম, অন্তত একটা দিন চেষ্টা করো। না পেলে ২৪ ঘণ্টা পর আমাকে আবার ফোন করো।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, তারা (ছাত্রনেতারা) আবার আমাকে ফোন করল। বলল, আমরা অনেক চেষ্টা করেছি। কিন্তু সম্ভব হয়নি। আপনাকে অবশ্যই দেশে ফিরতে হবে। শেষ পর্যন্ত আমি বললাম, দেখো, তোমরা রাজপথে জীবন দিয়েছো। প্রচুর রক্তক্ষয় হয়েছে। তোমরা সম্মুখসারিতে আছো। যেহেতু তোমরা এসব করতে পেরেছ, এখন ইচ্ছা না থাকলেও তোমাদের জন্য আমারও কিছু করা উচিত। আর এটাই সেই সময়। সরকারের সংস্কার করতে হবে। আমি রাজি। তোমরা কি একমত? তারা আর কোনো কথা বলেনি।

সেই দিনের অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ঘণ্টা দুয়েক পর হাসপাতালের একজন নার্স এলেন। তিনি আমাকে একটি ফুলের তোড়া উপহার দিলেন। আমি বললাম, এটা কেন? তখন ওই নার্স বললেন, আপনি বাংলাদেশের ‘প্রধানমন্ত্রী’, আমরা এটা জানতাম না। আমি বললাম, এটা আপনি কোথা থেকে জানলেন? তখন তিনি বললেন, “সব গণমাধ্যমে, সব টেলিভিশনে সংবাদ প্রচার হচ্ছে, আপনি বাংলাদেশের ‘প্রধানমন্ত্রী’। আমি বললাম, আমি আপনার কাছ থেকেই এটা জানলাম।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘এরও ঘণ্টা দুয়েক পর ওই বোর্ড সদস্যরাদসহ হাসপাতালের প্রধান আসেন। তারা ফুলের তোড়া দিয়ে নতুন ‘প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে আমাকে শুভেচ্ছা জানান। সঙ্গে এটাও বলেন যে বিকেলের আগে আমাকে হাসপাতাল ছাড়ার বিষয়ে অনুমতি দেওয়া হবে না।




বাউফল ব্যবসায়ী অপহৃত এর ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারীসহ তিন ডাকাত গ্রেপ্তার

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালাইয়া বন্দরের মার্চেন্টপট্টি এলাকার ৭৬ বছরের ব্যবসায়ী শিবানন্দ রায় বণিক (শিবু বণিক) অপহরণের মূল পরিকল্পনাকারীসহ তিন ডাকাতকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় অপহরণের কাজে ব্যবহৃত ইঞ্জিনচালিত ট্রলারটিও জব্দ করা হয়।

তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে পটুয়াখালী জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সাজেদুল ইসলাম এবং মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বাউফল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আতিকুল ইসলামের নেতৃত্বে গোয়েন্দা পুলিশ একটি দল শুক্রবার ঢাকা, গাজীপুর এবং বাউফল জেলার চন্দ্রদ্বীপ এলাকায় অভিযান চালিয়ে অপহরণের মূল পরিকল্পনাকারীসহ তিন ডাকাতকে গ্রেপ্তার করে।

আবদুল্লাহ আল নোমান (২২), বাউফল উপজেলার বড়ডালিমা গ্রামের বাসিন্দা এবং অপহরণের মূল পরিকল্পনাকারী,

মো. কাওছার হোসেন (২৩), চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের বাসিন্দা,

মো. বেল্লাল হোসেন (২৫), মতলেব হাওলাদারের ছেলে।

অপহরণের ঘটনা:
৩ জানুয়ারি রাত সোয়া ১০টার দিকে, শিবু বণিকের দোকানের দুই কর্মচারীকে বেঁধে ৯ সদস্যের একটি ডাকাত দল ৫ লক্ষাধিক টাকা লুট করে এবং ব্যবসায়ী শিবু বণিককে ট্রলারে করে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে তাঁকে একটি নির্জন জায়গায় আটকে রেখে পরিবারের কাছে এক কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।

উদ্ধার এবং গ্রেপ্তার:
অপহরণের দুই দিন পর ৫ জানুয়ারি রাতে বাউফল থানার পরিদর্শক আতিকুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশ কচুয়া গ্রাম থেকে শিবু বণিককে উদ্ধার করে। একই সময় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়, যাদের কাছ থেকে ৫টি দেশি অস্ত্র, ৭টি মুঠোফোন, ২ জোড়া জুতা এবং দেড় লাখ টাকা লুটের টাকা জব্দ করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন:

ঝালকাঠি সদর উপজেলার মাসুদ শরীফ (২৪),

বাউফলের মিরাজ মৃধা (২০),

মো. জহির (২৭),

বিধান চন্দ্র মিস্ত্রি (২২),

ভোলার চর পাচুকিয়ার এক কিশোর।

পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার জাহিদ বলেন, গ্রেপ্তারকৃতরা অপহরণ ও ডাকাতি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। স্বল্প সময়ে কোটিপতি হওয়ার লোভে পরিকল্পিতভাবে তারা শিবু বণিককে অপহরণ এবং দোকানে ডাকাতি করেছিলেন।

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন জানান, অপহরণের মূল পরিকল্পনাকারীসহ ৯ সদস্যের ডাকাত দলের আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শিগগিরই বাকী আসামিদেরও গ্রেপ্তার করা হবে।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




আনন্দবাজারের সেনাবাহিনীসংক্রান্ত প্রতিবেদন মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর: প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর বলে জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং।

শুক্রবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানায়, “বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সম্পর্কে আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বাস্তবতার কোনো মিল নেই, বরং এটি যেন বলিউডের রোমান্টিক কমেডির কল্পকাহিনি।”

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “বাংলাদেশের জনগণ ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে অসম্মান করার কৌশল হিসেবে ভারতীয় গণমাধ্যম দীর্ঘদিন ধরে অপতথ্য প্রচারের মাধ্যমে হাইব্রিড যুদ্ধের অংশ হিসেবে কাজ করছে।”

প্রেস উইং-এর বক্তব্য অনুযায়ী, অপপ্রচারের একটি বিশেষ পদ্ধতি হলো ভিত্তিহীন গল্প তৈরি করা, যেখানে নামহীন সূত্র থেকে তথ্য উদ্ধৃতির নামে বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়। এরপর বিভিন্ন সংস্থা সেটি প্রচার করে বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ানোর চেষ্টা করে।

বিবৃতিতে বলা হয়, “যখন বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা যথেষ্ট চটকদার হয়, তখন অন্যান্য সংবাদমাধ্যম এটি গ্রহণ করে। ফলে সাধারণ মানুষ, যারা বিশ্ব পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চান কিন্তু বিশদ বিশ্লেষণের সময় পান না, তারাও এই মিথ্যা প্রচারণা বিশ্বাস করতে পারেন।”

প্রেস উইং আনন্দবাজারের উদ্দেশে প্রশ্ন রেখে বলেছে, “আপনারা কি প্রকৃত সাংবাদিকতার নীতি অনুসরণ করবেন, নাকি বিভ্রান্তিমূলক প্রচারের মাধ্যমে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করবেন?”

বিবৃতির শেষ অংশে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জোর দিয়ে বলে, “বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সম্পর্কে আনন্দবাজারের প্রতিবেদন বাস্তবতা বিবর্জিত, এটি কেবলমাত্র একটি কাল্পনিক কাহিনি।”

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



অমর একুশে বইমেলা ২০২৫: জমকালো আয়োজনে প্রস্তুত বাংলা একাডেমি

দেশের সর্ববৃহৎ বইমেলা অমর একুশে বইমেলা ২০২৫ আগামীকাল থেকে শুরু হচ্ছে। বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই বইমেলার উদ্বোধন করবেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বিকেল ৩টায় একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে মেলার সূচনা করবেন তিনি।

এবারের বইমেলার প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে “জুলাই গণঅভ্যুত্থান : নতুন বাংলাদেশ নির্মাণ”।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও বিশেষ অতিথিরা

বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। স্বাগত বক্তব্য দেবেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজম।

বইমেলার বিস্তৃতি ও অংশগ্রহণ

এবারের বইমেলায় ৭০৮টি প্রকাশক ও প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ৯৯টি স্টল এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ৬০৯টি স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, ৩৭টি প্যাভিলিয়ন থাকবে, যার মধ্যে বাংলা একাডেমিতে একটি এবং উদ্যানে ৩৬টি।

লিটল ম্যাগাজিন কর্নারটি বরাবরের মতোই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের উন্মুক্ত মঞ্চের কাছে গাছের নিচে থাকবে, যেখানে প্রায় ১৩০টি লিটল ম্যাগাজিন স্টল থাকবে।

নিরাপত্তা ও বিশেষ ব্যবস্থা

মেলায় দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে থাকবে পুলিশ, র‍্যাব, আনসার ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। মেলা প্রাঙ্গণে তিন শতাধিক সিসিটিভি ক্যামেরা ও আর্চওয়ে গেট স্থাপন করা হবে।

প্রবেশ ও বহির্গমন সুবিধার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি, দোয়েল চত্বর, এমআরটি বেসিং প্ল্যান্ট এবং ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ সংলগ্ন চারটি প্রবেশ ও বের হওয়ার পয়েন্ট নির্ধারণ করা হয়েছে।

সুবিধা ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ

মেলায় ৩০টি শৌচাগার স্থাপন করা হয়েছে, যা মেলার ইতিহাসে সর্বোচ্চ। খাবারের স্টলগুলো মেলার সীমানা বরাবর সাজানো হবে।

এবারের বইমেলা হবে পরিবেশবান্ধব ও শূন্য-বর্জ্য নীতির অধীনে পরিচালিত। প্লাস্টিকের ব্যবহার সীমিত করে পাট, কাপড় ও কাগজের ব্যাগ ব্যবহারে উৎসাহিত করা হবে।

শিশু প্রহর ও বিশেষ আয়োজন

প্রতি শুক্র ও শনিবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত বিশেষ ‘শিশু প্রহর’ থাকবে। শিশুদের জন্য থাকছে শিল্পাচার্য, আবৃত্তি, সংগীত প্রতিযোগিতা এবং বিভিন্ন বিনোদনমূলক কার্যক্রম।

প্রতিদিন বিকেল ৪টায় সেমিনার ও সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।

মেলার সময়সূচি

প্রতি কর্মদিবসে: বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা

সরকারি ছুটির দিনে: সকাল ১১টা থেকে রাত ৯টা (দুপুরের খাবার ও নামাজের জন্য এক ঘণ্টা বিরতি)

২১শে ফেব্রুয়ারি: সকাল ৮টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত

পুরস্কার ও সম্মাননা

বিগত বছরগুলোর মতো এবারও চিত্তরঞ্জন সাহা স্মৃতি পুরস্কার, মুনির চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার, রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই স্মৃতি পুরস্কার এবং কাইয়ুম চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার প্রদান করা হবে।

বাংলা সাহিত্যের বৃহত্তম এই উৎসব নিয়ে লেখক, পাঠক ও প্রকাশকদের মধ্যে বিপুল উৎসাহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি: জনসাধারণের উদ্বেগ

দেশে ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি এক টাকা বাড়িয়ে ১০৫ টাকা করা হয়েছে। একইভাবে অকটেন ও পেট্রোলের দামও এক টাকা করে বেড়ে যথাক্রমে ১২৬ ও ১২২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন এই মূল্য শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) থেকে কার্যকর হয়েছে।

সরকারি ঘোষণা ও মূল্য সমন্বয়

শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নতুন দর ঘোষণা করে। সরকার জানিয়েছে, বিশ্ববাজারের দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামার ওপর ভিত্তি করে প্রতি মাসে দেশে তেলের দাম সমন্বয় করা হবে।

পূর্ববর্তী মূল্য পরিবর্তন

এর আগে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি ১ টাকা কমিয়ে ১০৪ টাকা করা হয়েছিল, তবে অকটেন ও পেট্রোলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়। ২০২২ সালের ৫ আগস্ট সরকার এক ধাপে ডিজেল ও কেরোসিনের দাম ৩৪ টাকা এবং অকটেন ও পেট্রোলের দাম ৪৬ টাকা পর্যন্ত বাড়ায়, যা ইতিহাসে নজিরবিহীন।

২০২১ সালের নভেম্বরে ডিজেল ও কেরোসিনের দাম ৬৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮০ টাকা করা হয়। সেই সময়ও পরিবহন ভাড়া প্রায় ২৭ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।

মূল্য বৃদ্ধির কারণ ও প্রভাব

সরকার জ্বালানি তেলের দামে ভর্তুকি কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং এতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) চাপ রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অকটেন ও পেট্রোল মূলত ব্যক্তিগত যানবাহনে ব্যবহৃত হয় বলে এগুলোকে বিলাস দ্রব্য হিসেবে গণ্য করা হয়, তাই ডিজেলের তুলনায় এগুলোর মূল্য বেশি রাখা হয়।

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে পরিবহন খরচ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেবে। ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনগণ নতুন মূল্য বৃদ্ধির কারণে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




জুলাই মাসের গণ-আন্দোলনে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের নির্দেশ রাজনৈতিক নেতৃত্ব থেকেই এসেছিল: এইচআরডব্লিউ

বিশ্বের অন্যতম স্বনামধন্য মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) জানিয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশে গণ-আন্দোলনের সময় পুলিশকে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের নির্দেশ সরাসরি রাজনৈতিক নেতৃত্ব থেকেই এসেছিল। ২৭ জানুয়ারি প্রকাশিত সংস্থাটির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্দোলন দমনে অতিরিক্ত শক্তি ব্যবহারের নির্দেশ পুলিশ কর্মকর্তারা রাজনৈতিক নেতাদের কাছ থেকেই পেয়েছিলেন। একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা তাদের সাক্ষাৎকারে এ বিষয়ে বক্তব্য দিয়েছেন।

প্রতিবেদনটি প্রধান উপদেষ্টার কাছে হস্তান্তর

এইচআরডব্লিউ’র এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক ইলেন পিয়ার্সনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল ৫০ পৃষ্ঠার এই প্রতিবেদনটি ২৮ জানুয়ারি মঙ্গলবার প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে হস্তান্তর করে। প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল ‘বর্ষা-বিপ্লব পরবর্তী: বাংলাদেশের নিরাপত্তা খাতের স্থায়ী সংস্কারের রোডম্যাপ’।

পুলিশ কর্মকর্তাদের সাক্ষাৎকার ও অভিযোগ

প্রতিবেদনে এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেছেন, ‘আমার মনে হয়, আন্দোলনের সময় পুলিশের ভূমিকা মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের বদলে রাজনৈতিক নেতাদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছিল।’

অপর এক কর্মকর্তা জানান, ‘আমাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, এমনকি আশপাশের বাড়ি থেকে যারা আন্দোলন দেখছিল, তাদের ওপরও গুলি চালাতে। মূল উদ্দেশ্য ছিল আতঙ্ক সৃষ্টি করা, যাতে কেউ দেখার চেষ্টা না করে।’

পুলিশের জন্য কঠোর নির্দেশনা

এইচআরডব্লিউ’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্দোলন চলাকালে পুলিশ কর্মকর্তারা প্রাণঘাতী বলপ্রয়োগের জন্য বারবার সরাসরি ও প্রচ্ছন্ন নির্দেশ পেয়েছিলেন।

একজন কর্মকর্তা ব্যাখ্যা করেন, ‘সিনিয়র কর্মকর্তারা আমাদের নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, যারা ‘অরাজকতা’ সৃষ্টি করছে, তাদের কাউকে ছাড় না দেওয়া এবং কঠোর হওয়ার জন্য।’

তিনি আরও বলেন, ‘তারা সরাসরি ‘গুলি চালাও’ না বললেও নির্দেশ ছিল স্পষ্ট; সর্বোচ্চ বল প্রয়োগ করো, যা প্রয়োজন মনে করো, তা-ই করো।’

সিসিটিভির মাধ্যমে গুলি চালানোর নির্দেশ

একজন কর্মকর্তা জানান, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সদর দপ্তরের সিনিয়র কর্মকর্তারা সরাসরি সিসিটিভি ফুটেজ দেখে মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের গুলি চালানোর নির্দেশ দিচ্ছিলেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ও পুলিশ মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হাবিবুর রহমানকে এ নির্দেশ দিয়েছিলেন, যিনি পরে ডেপুটি কমিশনারদের মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন করেন।

ছাত্র আন্দোলনকারীদের অপহরণ ও নির্যাতন

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৬ জুলাই ছয়জন ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক ঢাকার একটি হাসপাতালে আহত অবস্থায় চিকিৎসা নিতে গেলে সাদা পোশাকের পুলিশ তাদের অপহরণ করে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, তাদের এক সপ্তাহ ধরে গোপন স্থানে আটক রাখা হয় এবং একটি ভিডিও বিবৃতি দিতে বাধ্য করা হয়, যেখানে তারা আন্দোলন বন্ধের ঘোষণা দেন। তবে ১ আগস্ট তাদের মুক্তি দেওয়া হয়।

৫ আগস্টের পর পুলিশের ভূমিকা ও সহিংসতা

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেন এবং দেশত্যাগ করে ভারতে চলে যান। এরপরও পুলিশ কিছু সহিংস ঘটনার জন্ম দেয়।

৫ আগস্ট আশুলিয়ায় পুলিশ বিক্ষোভে হতাহতদের বহনকারী গাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়।

এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ‘হাতকড়া পরা অবস্থায় অন্তত একজনকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হয়।’

৫৫ বছর বয়সী রাজিয়া বেগম বলেন, ‘আমার জীবনে আমি প্রথমবার নিরপরাধ মানুষকে এভাবে জীবন্ত পুড়িয়ে মারতে দেখলাম।’

তিনি জানান, ‘প্রতিবেশীরা আগুন নেভানোর চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের ওপরও গুলি চালায়।’

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও সুপারিশ

এইচআরডব্লিউ’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের নিরাপত্তা খাতের স্থায়ী সংস্কার করা না হলে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। সংস্থাটি বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ কমানো এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

সূত্র : বাসস


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



পটুয়াখালীতে ২৪২টি আয়রন ব্রিজ জড়াজীর্ণ, জনদুর্ভোগ চরমে

পটুয়াখালী জেলার আটটি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত ২৪২টি আয়রন ব্রিজ সংস্কারের অভাবে জড়াজীর্ণ হয়ে পড়েছে। এসব ব্রিজ দিয়ে একসময় স্থানীয়রা উপজেলা ও জেলা শহরসহ বিভিন্ন স্থানে সহজে যাতায়াত করতেন। তবে বর্তমানে ব্রিজগুলোর বেহাল অবস্থার কারণে শিক্ষার্থীসহ সাধারণ জনগণ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। দ্রুত এসব ব্রিজ সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।

পুরনো ব্রিজ, নতুন সংকট

পটুয়াখালী স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ১৯৯০ সাল থেকে ২০০০ সালের মধ্যে জেলার গ্রামীণ সড়কে যোগাযোগ সহজ করতে এসব আয়রন ব্রিজ নির্মাণ করেছিল। তবে দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় এগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এছাড়া, জলযানের ধাক্কায় বেশ কিছু ব্রিজ আংশিক বা সম্পূর্ণরূপে ভেঙে গেছে।

ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজের পরিসংখ্যান

পটুয়াখালী এলজিইডি ২৪২টি ব্রিজকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। উপজেলার ভিত্তিতে ব্রিজগুলোর অবস্থা নিম্নরূপ—

বাউফল: ৬৩টি

মির্জাগঞ্জ: ৫৬টি

পটুয়াখালী সদর: ৪২টি

গলাচিপা: ৩৫টি

দশমিনা, রাঙ্গাবালী, কলাপাড়া: ১০টি করে

এর মধ্যে ৪টি ব্রিজ মেরামতযোগ্য হলেও বাকিগুলো প্রতিস্থাপন বা নতুন করে নির্মাণ করতে হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজগুলোর করুণ দশা

দুমকি উপজেলার লেবুখালী সরকারি হাবিবুল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশের ভাড়ানী খালের আয়রন ব্রিজটি ২০২১ সালে বালুভর্তি ট্রলারের ধাক্কায় ভেঙে পড়ে। ফলে দু’পাড়ের যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আব্দুস সালাম জানান, বাজারের কয়েক হাজার মানুষ এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী-শিক্ষকরা এই ব্রিজ ব্যবহার করতেন। এখন তাদের ঝুঁকি নিয়ে খেয়া-নৌকায় পার হতে হচ্ছে। মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হলেও ব্রিজটি পুনর্নির্মাণের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

অন্যদিকে, কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলী ইউনিয়নের লক্ষীবাজার সংলগ্ন খাপড়াভাঙ্গা নদীর আয়রন ব্রিজটি ২০২০ সালের ২ এপ্রিল প্রবল জোয়ারের চাপে ভেঙে পড়ে। ফলে অন্তত ১৫ গ্রামের মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

জনদুর্ভোগ ও প্রশাসনের পদক্ষেপ

গলাচিপা উপজেলার আমখোলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনির হোসেন জানান, তাঁর এলাকায় পাঁচটি আয়রন ব্রিজ বহুদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। তিনি একাধিকবার এলজিইডি অফিসে চিঠি দিলেও এখনো কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

পটুয়াখালী এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী হোসেন আলী মীর জানান, ‘জেলার ২৪২টি জড়াজীর্ণ ব্রিজের তালিকা করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। নির্দেশনা পেলে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হবে। বরাদ্দপ্রাপ্তি সাপেক্ষে দ্রুত সংস্কার বা নতুন ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

জনপ্রত্যাশা

জেলার গুরুত্বপূর্ণ এসব ব্রিজ দ্রুত সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ করা না হলে জনদুর্ভোগ আরও তীব্র হবে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম