ঢাবি এলামনাই বরিশাল বিভাগের স্মরণীয় প্রীতি সম্মেলন

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : কয়েকদিনের ধারাবাহিকতায় শনিবারেও বরিশালের আকাশটা ছিল মেঘলা। মাঘের হাড় কাপাঁনো শীত না থাকলেও অব্যাহত ছিল গুমোট ভাব।

তবে প্রকৃতির এই হেয়ালিপনা একটুও যেন আঁচড় কাটতে পারেনি চরমোনাইয়ের রাজার চরের সমাগমকে।

কাটবেই বা কী করে ওখানে যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশন বরিশাল বিভাগের প্রীতি সম্মেলনকে কেন্দ্র করে বসেছিল ‘বরিশাইল্লা ঢাবিয়ান’দের মিলন মেলা।

অগ্রজ-অনুজ-কিংবা সহপাঠিদের সাথে সাক্ষাতের সময়টা আড্ডা -গল্প  আর ভবিষ্যত কর্ম পরিকল্পনায় রাঙিয়ে নিতে ব্যস্ত ছিল সবাই।

সাথে ছিল ঐতিহ্য আর স্বাদের সমন্বয়ে মজাদার খাবারের আয়োজন। ভোজন রসিকদের মন রাঙাতে সকালে ছিলো খিচুড়ি চিকেন, কুষ্টিয়ার আসল কুলফি মালাই, দুপুরে কলাই শাক, লাল চিংড়ি, খাসি ও গরুর মাংস, চিংড়ি ভুনা, বোম্বাই মরিচের ডাল, খেজুর গুড়ের পায়েস, বিকেলে খেজুরের গুড়ের সাথে চিতাই পিঠা। খাবারের এই আয়োজনে ডায়েটে থাকা ডুয়া সদস্যরাও যেন একদিনের জন্য ভুলে গিয়েছিলেন কঠোর বিধিনিষেধ।

দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে বরিশাল বিভাগে ডুয়া’র প্রায় এক হাজার সদস্যের মধ্যে তিন শতাধিক অংশ নেন।

দিনশেষে একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও র‌্যাফেল ড্রয়ের আয়োজন করা হয়।

প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ডুয়া’র সদস্য সচিব এ টি এম আবদুল বারী ড্যানী। বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন বরিশাল ইউনিভার্সিটির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মামুন-অর-রশিদ এবং বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. ইউনুস আলী সিদ্দিকী।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে আরও বক্তব্য রাখেন ডুয়া অর্থ উপ-কমিটির সদস্য সচিব ও স্যোসাল ইসলামী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজমুস সায়াদাত, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য (দপ্তর) বায়েজীদ বোস্তামী ও মো. তহা। এছাড়াও নিউ ভিশন গ্রুপের এমডি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাইয়ের অর্থ কমিটির সদস্য মো. তারিকুল ইসলাম মনির গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন।

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় আবদুল বারী ড্যানী ডুয়া’র বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির নানা কর্মকান্ড তুলে ধরে বলেন, বর্তমান কমিটির শিক্ষার্থীদের বৃত্তি কর্মসূচি আরও জোরদার করছে। তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের বৃত্তির পরিমাণ আড়াই হাজার টাকা থেকে তিন হাজার টাকায় বৃদ্ধি করা হয়েছে। এছাড়া, ২০২২-২৩ ও ২০২৩-২৪ বছরের শিক্ষার্থীদের বৃত্তি কর্মসূচির আওতায় আনার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

ডুয়া’র সদস্য সচিব বলেন, “আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-এটি আমাদের অহংকার। এই অহংকারের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতাও এসে যায়। যে কারণে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন কর্মকান্ডে দেশে ও বিদেশে অবস্থান করা শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছি। এরই ধারাবাহিকতায় আজকের বরিশাল বিভাগীয় সম্মেলনে উপস্থিত হয়েছি।”

তিনি বলেন, “আমরা পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন বিভাগে ও জেলা শহরে অ্যালামনাই অ্যাসেোসিয়েশনের সদস্যদের খুঁজে বের করতে সম্মেলন করার প্রয়াস শুরু করেছি। এতে একদিকে কেন্দ্রীয় অ্যালামনাই সঙ্গে শাখা অ্যালমানাইগুলোর আন্তসম্পর্ক যেমন জোরদার হবে, তেমনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন কর্মকান্ডে তাদের অংশগ্রহণও তরাণ্বিত হবে।”

আবদুল বারী ড্যানী বলেন, দীর্ঘদিন যাবত ডুয়া’র সদস্য অন্তর্ভুক্তি কার্যক্রম বন্ধ ছিল। আমরা শীঘ্রই নতুন সদস্য অর্ন্তভুক্তি কার্যক্রম শুরু করবো। এ জন্য একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা ডুয়া’র কাংখিত সম্প্রসারণ করতে চাই, একে গতিশীল করতে চাই এবং বিশ্ববিদালয়ের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে ডুয়া’র সদস্যদের কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত হতে চাই।”




তরুণদের স্বপ্ন দেখতে হবে: অধ্যাপক ইউনূস

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস তরুণদের ভালো কিছু করার স্বপ্ন দেখার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “আপনারা ৯ম সোশ্যাল বিজনেস ইয়ুথ সামিটে অংশগ্রহণ করেছেন। এটি প্রথম ধাপ। এখন দ্বিতীয় ধাপে নিজেদের আরও উন্নত করতে হবে এবং তৃতীয় ধাপে আরও আত্মবিশ্বাসী হতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “এই ধাপগুলো অনুসরণ করলেই হাজার মাইলের যাত্রা সম্পন্ন হবে, এবং আমরা সফলতার সঙ্গে এগিয়ে যেতে পারব।”

স্বপ্ন দেখলে তবেই তা বাস্তবে রূপ নেবে

তরুণদের উদ্দেশে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “আপনারা যদি চিন্তা করেন, স্বপ্ন দেখেন, তাহলে তা ঘটবেই। কিন্তু স্বপ্ন না দেখলে তা কখনোই বাস্তবায়িত হবে না।”

ক্ষুদ্রঋণ থেকে সামাজিক ব্যবসা

নিজের অভিজ্ঞতা স্মরণ করে তিনি বলেন, “ডায়রিয়া মহামারির সময় আমরা একটি সহজ ফর্মুলা তৈরি করি, যা মানুষের জীবন বাঁচিয়েছে। ঠিক তেমনই, সামাজিক ব্যবসাও একটি সহজ ধারণা।”

তিনি বলেন, “ব্যবসা মানে কেবল লাভ করা নয়, বরং এমন একটি ব্যবসা হতে পারে যা সামাজিক সমস্যার সমাধান করবে। টাকা উপার্জন আনন্দের হতে পারে, কিন্তু অন্যকে খুশি করাই পরম আনন্দের।”

স্বাস্থ্য খাতে সামাজিক ব্যবসার গুরুত্ব

স্বাস্থ্য খাতকে সামাজিক ব্যবসার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র উল্লেখ করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্প একটি সামাজিক ব্যবসা হওয়া উচিত, কারণ এটি মানুষের জীবনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত।”

তিনি সবাইকে সামাজিক ব্যবসার ধারণাকে নিজেদের চিন্তাভাবনার অংশ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “মানুষ এটি করবে, কারণ অন্যের সমস্যা সমাধান করাই সবচেয়ে বড় আনন্দের উৎস।”

চ্যারিটি বনাম সামাজিক ব্যবসা

দাতব্য কার্যক্রমের সীমাবদ্ধতা ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “দাতব্য কার্যক্রমের একটি নির্দিষ্ট জীবনচক্র থাকে, কিন্তু সামাজিক ব্যবসার জীবনচক্র অন্তহীন। এটি সমস্যার সমাধানের পাশাপাশি টাকাকেও বারবার পুনর্ব্যবহারযোগ্য করে তোলে।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা যেমন নতুন বাংলাদেশ গড়ছি, তেমনি আমরা একটি নতুন বিশ্ব গড়ার প্রতিশ্রুতি নিচ্ছি।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বিপিএলে বকেয়া পারিশ্রমিক নিয়ে তীব্র অসন্তোষ : যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) চলতি আসরে খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক পরিশোধ না করার অভিযোগ নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। আগেও ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর বিরুদ্ধে সময়মতো অর্থ পরিশোধ না করার অভিযোগ উঠেছিল, তবে এবার পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর হয়ে উঠেছে যে বিদেশি ক্রিকেটাররা ম্যাচ বয়কটের মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন।

শনিবার সন্ধ্যায় মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য উপস্থিত হন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) প্রতিনিধি ও যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ। তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) কর্তৃপক্ষের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেন এবং খেলোয়াড়দের বকেয়া পারিশ্রমিক দ্রুত পরিশোধের ব্যাপারে কড়া নির্দেশনা দেন।

বৈঠক শেষে গণমাধ্যমকে আসিফ মাহমুদ জানান, বিশেষ করে “দুর্বার রাজশাহী” ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে, কারণ তাদের বিরুদ্ধেই সবচেয়ে বেশি অভিযোগ উঠেছে। তিনি বলেন, “রাজশাহীর মালিক জানিয়েছেন, দ্রুত পারিশ্রমিক পরিশোধ করা হবে। যদি তা না করেন, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বিসিবি ইতোমধ্যে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে, যাতে তারা চুক্তি মোতাবেক খেলোয়াড়দের পাওনা বুঝিয়ে দেয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বকেয়া পরিশোধ করা না হলে সংশ্লিষ্ট ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ক্রীড়া উপদেষ্টা।

বিপিএলে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের গুঞ্জন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ক্রীড়া উপদেষ্টা। তিনি বলেন, “এনএসসি থেকে একটি অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিসিবিও একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি করবে। সরকারের পক্ষ থেকে পূর্ণ সহযোগিতা থাকবে, যাতে দ্রুত সমস্যার সমাধান করা যায়।”

দেশের সবচেয়ে বড় ঘরোয়া ক্রিকেট টুর্নামেন্টে অর্থনৈতিক অনিয়ম ও ফিক্সিংয়ের মতো বিতর্কিত ঘটনা ক্রিকেটারদের মনোবলে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। দ্রুত সমাধান না হলে বিপিএলের সুনাম ও ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা দেখা দিতে পারে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




৫৩ বছরের নির্বাচন পদ্ধতিতে ফ্যাসিস্টের জন্ম হয়েছে : চরমোনাই পীর

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাইর পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম বলেছেন, “বিগত ৫৩ বছরে যে পদ্ধতিতে নির্বাচন চলছে, সেই পদ্ধতিতে ফ্যাসিস্ট, খুনি এবং টাকা পাচারকারীর জন্ম হয়েছে।” তিনি আরো বলেন, “বিশ্বের ৯১ দেশে পিআর (সংখ্যানুপাতিক) পদ্ধতির নির্বাচন রয়েছে, যেখানে প্রতিটি ভোটারের মূল্যায়ন করা হয় এবং সংসদে প্রতিটি দলের অংশীদারত্ব থাকে। এভাবে নির্বাচনে এককভাবে কেউ ফ্যাসিস্টের মতো দেশ পরিচালনার সুযোগ পায় না।”

আজ শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) বিকালে ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ব্রজগোপাল টাউন হলে ইসলামী আন্দোলন ভোলা জেলা দক্ষিণের দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

মুফতি রেজাউল করিম বলেন, “স্বাধীনতার ৫৩ বছরে যারা এই দেশ পরিচালনা করেছেন, তাদের মাধ্যমে আমরা যে পরিস্থিতি দেখেছি, তা নতুন করে আর স্মরণ করিয়ে দিতে চাই না। গত ৫৩ বছরে আমরা দেখেছি, রাস্তায় নামলে গুম হয়ে যায়, আর ঘরে থাকলে খুন হয়ে যায়। আমাদের কষ্টার্জিত টাকাগুলো যারা ক্ষমতায় ছিলেন তারা বিদেশে পাচার করে বেগমপাড়া তৈরি করেছেন।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছি, যে সকল সংস্কার প্রয়োজন, সেগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা হোক এবং এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে একটি সুন্দর জাতীয় নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করা হোক। আমরা সতর্কতার সাথে দেশ পরিচালনার আহ্বান জানাচ্ছি, কারণ ইতোমধ্যে ফ্যাসিস্ট ভারত বিভিন্ন মিটিং করে আমাদের দেশের অশান্তি সৃষ্টির ছক তৈরি করেছে।”

মুফতি রেজাউল করিম বলেন, “বিএনপিসহ অন্যান্য দলগুলোর উচিত জাতীয় ঐক্য নিয়ে একত্রে কাজ করা। একসাথে থাকলে দেশ ও জনগণের স্বার্থ রক্ষা করা সম্ভব হবে।”

ইসলামী আন্দোলন ভোলা জেলা দক্ষিণের সভাপতি আলাউদ্দিন তালুকদারের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আবু ইউছুফের সঞ্চালনায় সম্মেলনে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল বিভাগ) উপাধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজুল ইসলাম।

সম্মেলন শেষে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ভোলা জেলা দক্ষিণের পুরনো কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। নতুন কমিটিতে মাওলানা নূরউদ্দিনকে সভাপতি, মাওলানা গোলাম মোরশেদকে সহ-সভাপতি এবং মাওলানা আব্বাস উদ্দিনকে সেক্রেটারি করা হয়েছে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বিবৃতি প্রত্যাখ্যান তিতুমীর শিক্ষার্থীদের, অনশন চালবে

সরকারি তিতুমীর কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর এবং ৭ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীরা গত কয়েকদিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসছে। তারা মহাখালী-গুলশান সড়ক অবরোধ করে ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন, যা সাধারণ মানুষের জন্য চরম ভোগান্তি তৈরি করেছে।

শিক্ষার্থীরা দাবি করছেন, সরকারের তরফ থেকে তাদের দাবির প্রতি কোনো মনোযোগ না দেওয়ায় তারা আমরণ অনশনে বসেছেন। এদিকে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় তাদের আন্দোলনের বিষয়ে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে, কিন্তু শিক্ষার্থীরা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি প্রত্যাখ্যান করে তাদের আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন।

তিতুমীর কলেজের ছাত্র আলী আহমদ জানান, বিশ্ব ইজতেমার জন্য তারা শনিবার সকাল ৬টা থেকে ১১টা পর্যন্ত তাদের আন্দোলন শিথিল রাখবেন। তবে, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অনশন চলবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ঢাকার সাত কলেজ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের কাজ চলছে এবং তিতুমীর কলেজের বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে। মন্ত্রণালয় আন্দোলনকারীদের ধৈর্য ধারণ করার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, এ ধরনের কর্মসূচি জনজীবনে সমস্যা সৃষ্টি করছে এবং কলেজের শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে।

এদিকে, আন্দোলনের জেরে শুক্রবার সকালে অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে দুই শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। গত ২৯ জানুয়ারি থেকে শিক্ষার্থীরা তাদের দাবির জন্য আমরণ অনশন শুরু করেছে। তাদের ৭ দফা দাবি মধ্যে রয়েছে তিতুমীর কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া, শিক্ষার্থীদের আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, এবং আন্তর্জাতিক মানের কোর্স চালু করা।

শিক্ষার্থীরা ইতোমধ্যে সরকারকে তাদের দাবির বিষয়ে একটি সমাধান না দেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সংকল্প প্রকাশ করেছেন।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




পাকিস্তানি সেনা বহরে অজ্ঞাত হামলা, নিহত ১৮

পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে একটি অতর্কিত হামলায় আধাসামরিক বাহিনীর ১৮ সেনা নিহত হয়েছেন এবং আরও তিনজন আহত হয়েছেন। শনিবার (১ ফেব্রুয়ারী) বার্তাসংস্থা এএফপির মাধ্যমে পুলিশের এক কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মানগোচার শহরের কাছে রাস্তা বন্ধ করে সন্ত্রাসীরা ৭০-৮০ জনের একটি দল নিয়ে ফ্রন্টিয়ার কর্পসের সেনাদের বহনকারী গাড়িতে হামলা চালায়। হামলায় নিহত সেনাদের মধ্যে ১৭ জন গাড়িতে ছিলেন এবং তাদের বাঁচাতে যাওয়া আরও এক সেনা প্রাণ হারান।

এদিকে, পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি এই হামলায় নিহত সেনাদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। প্রেসিডেন্ট তার প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন এবং তাদের আত্মার শান্তি কামনা করেন। তিনি নিহত সেনাদের পরিবারের জন্য ধৈর্য ধারণের প্রার্থনাও করেছেন।

এ ঘটনার পর এখনও কেউ এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) ১৮ সেনার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে এবং তারা জানান, বেলুচিস্তানে পৃথক অভিযানে ২৩ সশস্ত্র সন্ত্রাসী নিহত হয়েছেন।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




সিন্ডিকেট করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি এখনো অব্যাহত: শায়খে চরমোনাই

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম শায়খে চরমোনাই বলেছেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় থাকার পরেও দেশের জনগণের নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি। চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, দুর্নীতি এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। শনিবার (১ ফেব্রুয়ারী) বরিশালের অশ্বিনী কুমার টাউন হল মিলনায়তনে ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশের বরিশাল জেলা ও মহানগরের যৌথ উদ্যোগে জেলা ও নগর যুব সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব মন্তব্য করেন তিনি।

শায়খে চরমোনাই বলেন, “আমাদের রাজনীতি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও কল্যাণের জন্য হওয়া উচিত। দুর্নীতি, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি এবং সিন্ডিকেট সৃষ্টি কোনও রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের কাজ হতে পারে না।” তিনি আরও বলেন, “যারা রাজনীতিকে অর্থ উপার্জনের হাতিয়ার বানিয়েছে, তারা অতীতে দেশের দুর্নীতিতে পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন করেছে। রাষ্ট্র সংস্কারের পাশাপাশি যেসব রাজনৈতিক দলের পদপদবি ব্যবহার করে তাদের নেতা-কর্মীরা আঙ্গুল ফুলে বটগাছ হয়ে উঠেছে, তাদের রাজনীতিরও সংস্কার করা প্রয়োজন।”

এই সম্মেলনে ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশের বরিশাল জেলা সভাপতি হাফেজ মাওলানা মুহাম্মাদ সানাউল্লাহর সভাপতিত্বে এবং হাফেজ মাওলানা মুহাম্মাদ রেজাউল করীমের পরিচালনায় বিভিন্ন বিশিষ্ট অতিথি ও নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি আতিকুর রহমান মুজাহিদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আমেরিকার জ্যামাইকা জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মির্জা আবু জাফর বেগ, সংগঠনের কেন্দ্রীয় সংগঠনিক সম্পাদক প্রভাষক মাওলানা মুহাম্মাদ আল আমিন, সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল বিভাগ) মাওলানা মুহাম্মাদ রফিকুল ইসলাম, এবং সংগঠনের কেন্দ্রীয় যুব উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা মুহাম্মাদ ইউনুস তালুকদার।

সম্মেলনে বক্তারা ছাত্র ও যুব সমাজের ভূমিকা তুলে ধরেন এবং এদেশের ভবিষ্যতের জন্য তাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

শেষে, প্রধান অতিথি ২০২৫-২৬ সেশনের জন্য জেলা ও মহানগর কমিটি ঘোষণা করেন। নবগঠিত জেলা কমিটির সভাপতি হলেন হাফেজ মাওলানা মোহাম্মাদ আরমান হোসেন রিয়াদ, সহ-সভাপতি মাওলানা মুফতি মোহাম্মদ শাকিল মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক হাফেজ মাওলানা মোহাম্মাদ সুলাইমান। নবগঠিত মহানগর কমিটির সভাপতি হলেন হাফেজ মাওলানা মোহাম্মাদ রেজাউল করীম, সহ-সভাপতি মাওলানা আইয়ুব আনসারী, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা জাহিদুল ইসলাম।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




স্বৈরাচার যেকোনো সময় মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে: তারেক রহমান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, “স্বৈরাচারের মাথাটা পালিয়ে গেছে। তবে এর কিছু কিছু অবশিষ্ট রয়ে গেছে এবং যেকোনো সময় তা নতুন আঙ্গিকে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে।” তিনি সতর্ক করে বলেন, দেশকে রক্ষা করতে হলে এবং দেশের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার বিকল্প নেই।

শুক্রবার (১ ফেব্রুয়ারি) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ আব্বাস উদ্দিন খান সোহাগপুর মডেল কলেজ মাঠে জেলা বিএনপির সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখছিলেন তারেক রহমান।

এ সময় তিনি আরও বলেন, “দেশে যদি পরিবর্তন আনতে হয়, তা হলে আমাদের মধ্যে মতপার্থক্য সত্ত্বেও, আমরা এক হয়ে কাজ করতে হবে। আমাদের জন্য ৩১ দফা পরিকল্পনা রয়েছে, যার মাধ্যমে আমরা দেশের ভবিষ্যত প্রজন্মের শিক্ষার অধিকার, স্বাস্থ্যের অধিকার, বেকারত্ব দূরীকরণ, কৃষি ও শিল্প খাতে উন্নয়ন করতে চাই।”

তারেক রহমান বলেন, “কৃষককে ন্যায্যমূল্য দিতে চাই এবং দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন বৃদ্ধি যেন জনগণের জন্য দুর্বিষহ না হয়, তার জন্যও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “অচল কল-কারখানাগুলোকে সচল করতে হবে এবং আমাদের অসংখ্য নদী ও খাল খনন করতে হবে। আগামীতে সংসদের মেয়াদ ও সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে, কিন্তু এসবের ফয়সালা জনগণের ভোটের মাধ্যমেই হবে।”

তারেক রহমান গত ১৫ বছরে জনগণের ভোট দেওয়ার অধিকার না থাকার বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, “আমরা ভোটারবিহীন নির্বাচন, ডামি নির্বাচন ও ভোট ডাকাতির নির্বাচন দেখেছি। যদিও কিছু উন্নয়ন দৃশ্যমান হয়েছে, কিন্তু এই উন্নয়ন ঘটানোর নামে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে।”

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বলেন, “বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপিকে ঐক্যবদ্ধ থেকে জাতিকে পথ দেখাতে হবে এবং দেশের অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ঐক্য গড়ে তুলতে হবে, যারা দেশের মানুষের স্বার্থে কাজ করতে চায়।”

সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান মো: বরকত উল্লাহ বুলু, কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ মো: সেলিম ভুইয়া, কেন্দ্রীয় অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন শ্যামল, এবং বিএনপির জেলা নেতৃবৃন্দ।

সম্মেলনের আয়োজনকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় ছিল উৎসবের আমেজ। জেলা বিএনপির এই সম্মেলন দীর্ঘ এক যুগ পর অনুষ্ঠিত হয়, যা জেলার রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন আঙ্গিক নিয়ে আসে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ঝালকাঠিতে আদি কৃষি পরিণত হচ্ছে আধুনিক কৃষিতে

আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে ঝালকাঠি জেলায় কৃষির দৃশ্যপট এক নতুন দিগন্তে পৌঁছেছে। এর ফলে, ঐতিহ্যবাহী কৃষিকাজ এখন হয়ে উঠছে আরও সহজ, দ্রুত ও লাভজনক।

এখনকার কৃষকরা যান্ত্রিক কৃষিযন্ত্রের ব্যবহার বাড়ানোর ফলে কৃষিকাজে সময়, শ্রম ও অর্থের সাশ্রয় করছেন। ঝালকাঠি জেলার ৪৬ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে আমন আবাদ হয়েছে, যেখানে ৯৫ শতাংশ ধান ইতোমধ্যে কৃষকদের গোলায় উঠেছে। জমি চাষাবাদ থেকে শুরু করে বীজতলা প্রস্তুতি, কীটনাশক স্প্রে এবং ধান কাটার মেশিন ব্যবহার করে এক নতুন যুগের সূচনা হয়েছে।

ট্রাক্টর, কাটিং মেশিন, রাইস ট্রান্সপ্লান্টার, কম্বাইন্ড হার্ভেস্টারসহ আধুনিক কৃষিযন্ত্রের মাধ্যমে কৃষকরা তাদের কাজ করছেন। এর ফলে, কৃষির আধুনিকীকরণ ঘটেছে এবং গ্রামীণ কৃষি পদ্ধতির পরিবর্তন ঘটেছে। কৃষিকাজের এই যান্ত্রিকীকরণের ফলে কৃষকরা তাঁদের অতীতের কঠিন পরিশ্রম থেকে মুক্তি পেয়েছেন।

কৃষক এছাক আলী বলেন, “আগে জমি প্রস্তুত করতে অনেক সময় লাগতো। শ্রমিক সংকটের কারণে ধান কাটা নিয়ে নানা সমস্যা ছিল। তবে এখন যন্ত্রের সাহায্যে কাজ দ্রুত হয়ে যাচ্ছে।”

কৃষক ছালাম হাওলাদার বলেন, “এক সময় আমরা গরু চড়ানোর জন্য জমি পতিত রাখতাম, কিন্তু এখন কৃষির বাণিজ্যিকীকরণের ফলে উৎপাদন অনেক বেড়েছে। যন্ত্রের ব্যবহার ও প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে কৃষি আরও উন্নত হবে।”

এছাড়া, রাজাপুর উপজেলার ধান মাড়াই মেশিন পরিচালনা করেন হানিফ হাওলাদার। তিনি জানান, “এখন তিন বিঘা জমির ধান মাড়াই করতে মাত্র এক ঘণ্টা সময় লাগে। আগে এই কাজটি গরু বা মহিষ দিয়ে এক রাতেই শেষ হয়ে যেত।”

ঝালকাঠি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মনিরুল ইসলাম জানান, “যান্ত্রিকীকরণের ফলে কৃষিতে বিপ্লব ঘটছে। এতে উৎপাদন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের হাত থেকে ফসল রক্ষা পাচ্ছে। সরকার কৃষি যান্ত্রিকীকরণের জন্য সমতল এলাকায় ৫০% এবং হাওর উপকূলীয় এলাকায় ৭০% ভর্তুকি দিচ্ছে।”

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




তরুণরা পুরো বিশ্বকে পাল্টে দিতে পারে : সোশ্যাল বিজনেস ইয়ুথ সামিটে প্রধান উপদেষ্টা

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, তরুণরা অসীম সম্ভাবনাময় এবং তারা পুরো বিশ্বকে পাল্টে দিতে পারে।

শনিবার ঢাকায় হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে অনুষ্ঠিত ‘নবম সোশ্যাল বিজনেস ইয়ুথ সামিট’-এ বক্তৃতাকালে তিনি তরুণদের উদ্দেশে বলেন, “আমরা (তরুণরা) কেবল কয়েক বছরের মধ্যে পুরো বিশ্বকে পাল্টে দিতে পারি। এই কক্ষে যারা বসে আছেন, তাদের দিয়েই এটি সম্ভব। এটি খুব সহজ একটি কাজ।”

সামিটে ২৫টি দেশের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করছেন।

প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, “হাজার মাইলের যাত্রা শুরু হয় প্রথম পদক্ষেপ দিয়ে, কিন্তু আসল প্রশ্ন হলো দ্বিতীয় পদক্ষেপে কীভাবে আরও উন্নতি করা যায়।”

তিনি জুলাই বিপ্লবের সময় ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের কথা উল্লেখ করে বলেন, “একটি ফ্যাসিবাদী শাসনকে উৎখাত করতে এক হাজারেরও বেশি তরুণ তাদের জীবন উৎসর্গ করেছেন, আর আহতদের অনেকে হাত-পা হারিয়েছেন। তাদের এই আত্মত্যাগ কেবল একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে।”

ড. ইউনূস বলেন, “আজ পুরো দেশই এক ধরনের জাদুঘরে পরিণত হয়েছে এবং জাতি তরুণদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

তরুণদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত নতুন বাংলাদেশে তিনি বিশ্বের ২৫টি দেশ থেকে আগত প্রতিনিধিদের স্বাগত জানান।