বাদ জুমা দেশের সব মসজিদে হাদির রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র জুলাই বিপ্লবীর অগ্রনী সৈনিক  শহীদ শরিফ ওসামন হাদির রুহের মাগফিরাত কামনা করে শুক্রবার বাদ জুমা দেশের সকল মসজিদে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

এ পরিপ্রেক্ষিতে দেশের সকল মসজিদে শুক্রবার বাদ জুমা শরিফ ওসমান হাদির রুহের মাগফিরাত কামনা করে মসজিদের খতিব-ইমামকে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করার জন্য অনুরোধ করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।

দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র জুলাই বিপ্লবী শরিফ ওসমান হাদি বৃহস্পতিবার রাতে সিঙ্গাপুরে একটি হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজেউন)।




প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :  ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র জুলাই বিপ্লবের অগ্রনী সৈনিক শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে উত্তাল সারা দেশ । এর জের ধরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে অবস্থিত প্রথম আলোর প্রধান কার্যালয় ও ফার্মগেটে ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলা চালিয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনী ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। অগ্নিসংযোগের পর কার্যালয় দুটির সামনে জড়ো হওয়া শত শত ছাত্র-জনতা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষোভে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে বের হতে থাকে ছাত্র জনতা। শুরুতে বিক্ষুব্ধ জনতা শাহবাগের দিক থেকে মিছিল নিয়ে প্রথম আলো কার্যালয়ের সামনে উপস্থিত হন। এ সময় তারা প্রথম আলো ও ভারতবিরোধী নানা স্লোগান দেন। একপর্যায়ে কিছু লোকজন অফিসের ভেতরে প্রবেশ করে ভাঙচুর করেন। সেখানকার কাগজপত্র, কম্পিউটার নিচে ফেলে দেন। এছাড়া কার্যালয়ের সামনে অগ্নিসংযোগও করেন। প্রথম আলোর সামনে অগ্নিসংযোগের পর খানিকটা দূরে অবস্থিত বহুতল ডেইলি স্টার ভবনের সামনে জড়ো হয় বিক্ষুব্ধরা। তারা একপর্যায়ে ডেউলি স্টার ভবনের ভেতরে ঢুকে পড়েন এবং অগ্নিসংযোগ করেন।

বিক্ষুব্ধ জনতাকে অগ্নিসংযোগ থেকে নিবৃত করার চেষ্টা করতে দেখা গেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে।

ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহজাহান শিকদার বলেন, প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের আগুনের ঘটনায় আমাদের তিনটি ফায়ার স্টেশনের মোট আটটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। কিন্তু বিক্ষুব্ধ জনতার কারণে ইউনিটগুলো বিভিন্ন স্থানে আটকা পড়ে। সেনাবাহিনীর সহায়তায় প্রথম আলোতে দুটি ইউনিট ও ডেইলি স্টারে একটি ইউনিট আগুন নির্বাপণের কাজ করছে। পুলিশের সহায়তায় অন্য ইউনিটগুলো ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে।




ট্রাভেল পাসের জন্য আবেদন করেছেন তারেক রহমান

লন্ডনে দীর্ঘ সময় অবস্থানের পর দেশে ফেরার প্রক্রিয়া দ্রুত এগোচ্ছে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের। নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, বিদেশে অবস্থানকালীন আইনগত কাগজপত্র সম্পূর্ণ করতে তিনি যুক্তরাজ্যে অবস্থিত বাংলাদেশের হাইকমিশনে ট্রাভেল পাসের জন্য আবেদন করেছেন। রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সাধারণ মানুষও তার দেশে ফেরা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা করছেন, ফলে বিষয়টি এখন জাতীয় পরিমণ্ডলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে নতুন উদ্দীপনা। রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ, জাতীয় রাজনীতি ও আগামী দিনের আন্দোলন—সবকিছুর সঙ্গে তার ফেরা সরাসরি সম্পৃক্ত হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সূত্র বলছে, ট্রাভেল পাসের ফরম পূরণ ও দাখিলের বিষয়টি তারেক রহমান নিজে সম্পন্ন করলেও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে দলীয় এক প্রতিনিধির মাধ্যমে তা পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়টি কূটনৈতিক মহলেও গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। কারণ, ট্রাভেল পাসের জন্য আবেদন মানেই দেশে ফেরার একটি আনুষ্ঠানিক ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে অনুষ্ঠিত এক সভায় তিনি সরাসরি ঘোষণা দেন যে ২৫ ডিসেম্বর তিনি দেশে ফিরবেন। দলীয় মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও একই তারিখ নিশ্চিত করেছেন। এতে বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঝে নতুন করে প্রস্তুতি ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। দেশে ফেরার দিন-ক্ষণ ঘিরে শুরু হয়েছে তৎপরতা—রাজনৈতিক উত্তাপ, আইনগত প্রস্তুতি ও গণমাধ্যমের জোরালো আলোচনা।

বিএনপি নেতারা নিশ্চিত করেছেন, জাতীয় বিমান সংস্থার একটি নির্ধারিত ফ্লাইটে তিনি দেশে ফিরবেন, এবং ঢাকায় অবতরণ করার সম্ভাব্য সময় দুপুরের কাছাকাছি। এ ছাড়া তার ব্যক্তিগত সফরসূচিতে রয়েছে লন্ডন থেকে সিলেট, তারপর ঢাকায় পৌঁছানো। মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত—এটিও আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তন জাতীয় রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে বলে অনেকেই মনে করছেন। বিশেষত আগামী দিনের জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ, দল পুনর্গঠন, নেতৃত্ব শক্তিশালী করা এবং রাজনৈতিক কর্মসূচি ত্বরান্বিত করার মতো বিষয়গুলোতে এ প্রত্যাবর্তনের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি।

বিশ্লেষকদের ভাষ্য—তারেক রহমানের দেশে ফেরা শুধু একজন রাজনৈতিক নেতার প্রত্যাবর্তন নয়; এটি তৎকালীন রাজনৈতিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে। বিএনপির উচ্চ পর্যায় থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যন্ত আন্দোলন-সংগঠন ও রাজনৈতিক কার্যক্রমে নতুন গতি আসবে বলে দলটি মনে করছে। একই সাথে বিরোধী রাজনৈতিক অঙ্গনে তৈরি হবে নতুন সমীকরণ, চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনার মিশ্র অবস্থা। সব মিলিয়ে, তারেকের ট্রাভেল পাস আবেদন ও ফেরা—জাতীয় রাজনীতির গতি-প্রকৃতি পাল্টে দিতে পারে—এমনটাই বলছেন পর্যবেক্ষকরা।

“মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম “

 




ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদীর মৃত্যু

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হিসেবে পরিচিত তরুণ রাজনৈতিক কর্মী ও জনআন্দোলন সংগঠক ওসমান হাদি আর নেই। সিঙ্গাপুরের জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মাত্র ৩৩ বছর বয়সে তার মৃত্যু দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে। পরিবার, সংগঠন এবং অনুসারীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল তিনি সুস্থ হয়ে দেশে ফিরবেন; তবে শেষ পর্যন্ত গুরুতর শারীরিক জটিলতা থেকে আর ফিরে আসা হলো না।

বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) ইনকিলাব মঞ্চের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। সেখানে তাকে ‘বিপ্লবী’ হিসেবে উল্লেখ করে শোকবার্তা প্রকাশ করা হয়। সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, রাষ্ট্র ও জনগণের অধিকারের পক্ষে কথা বলা এবং প্রতিবাদ-সংগ্রামের রাজনীতিতে তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার অবস্থান ও বক্তব্য বহু তরুণকে আন্দোলনের প্রতি অনুপ্রাণিত করেছিল।

যদিও মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি, তবে জানা গেছে তিনি দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক অসুস্থতার কারণে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। তার মৃত্যুতে ইনকিলাব মঞ্চ ছাড়াও বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন, নাগরিক সমাজ, মানবাধিকারকর্মী এবং রাজনৈতিক সচেতন মহলে শোকের ছায়া নেমে আসে। অনেকেই মনে করেন, তার মতো তরুণ নেতার অকাল প্রয়াণ আন্দোলন ও রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে একটি শূন্যতা তৈরি করবে।

ইনকিলাব মঞ্চ তাদের শোকবার্তায় উল্লেখ করে, জাতীয় স্বার্থ, প্রতিবাদ এবং জনগণের অধিকার—এসব ইস্যুতে হাদি ছিলেন আপসহীন কণ্ঠ। তার সংগঠনের নেতাকর্মীরা জানান, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রশ্নে তিনি ছিলেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রতিনিধি। তার মৃত্যুর ঘটনায় সংগঠনের বিভিন্ন কর্মসূচি শোকসপ্তাহ ঘোষণার মাধ্যমে স্থগিত করা হতে পারে বলে জানা গেছে।

ওসমান হাদীর মৃত্যুতে পরিবার, সহকর্মী এবং রাজনৈতিক মহল গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তার স্মৃতিকে সম্মান জানিয়ে শোকসভা আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রবাসী সংগঠনের পক্ষ থেকেও শোক ও সমবেদনা জানানো হচ্ছে। তার রাজনৈতিক জীবনের লক্ষ্য ও আদর্শ আগামী দিনে তার অনুসারীদের অনুপ্রাণিত করবে—এমন প্রত্যাশা অনেকের কণ্ঠে শোনা গেছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ভারতের পরামর্শ প্রত্যাশা নয়: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রতিবেশী ভারতের সদ্য প্রদত্ত মন্তব্য নিয়ে স্পষ্ট ও কঠোর অবস্থান জানালেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। তিনি পরিষ্কারভাবে বলেন, বাংলাদেশের নির্বাচন কীভাবে হবে—তা নির্ধারণ করার ক্ষমতা শুধুমাত্র বাংলাদেশের জনগণ এবং বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের। অন্য কোনো রাষ্ট্রের নির্দেশনা বা পরামর্শ গ্রহণ করার প্রয়োজন নেই এবং এই ধরনের মন্তব্য বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণও নয়।

বুধবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সংবাদকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, বাংলাদেশ একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে, যেখানে ভোটাররা মর্যাদার সঙ্গে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিগত পনেরো বছরে যে নির্বাচনব্যবস্থা প্রশ্নবিদ্ধ ছিল, তার সময় ভারতের নীরবতা ছিল স্পষ্ট। অথচ এখন নির্বাচন সংস্কারের পথে হাঁটতেই পরামর্শ প্রদানকে তিনি অযৌক্তিক মনে করেন।

তিনি আরও জানান, নির্বাচন পরিচালনা ও গণতান্ত্রিক চর্চা সুসংহত করতে প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ সম্পর্কে বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই সচেতন। নির্বাচনের ফল জনগণের ভোটেই নির্ধারিত হবে—এটাই সরকারের অঙ্গীকার। পাশাপাশি কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক তলব ও পাল্টা তলবকে তিনি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবে উল্লেখ করেন। সার্বভৌমত্ব বিষয়ক মতপার্থক্য থাকলে কূটনৈতিকভাবে প্রতিক্রিয়া স্বাভাবিক বলেও তিনি ব্যাখ্যা করেন।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা প্রতিবেশী দেশে অবস্থান করে সম্প্রতি সামাজিক ও প্রচলিত গণমাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে বক্তব্য দিচ্ছেন। এগুলোকে উসকানিমূলক বলে দাবি করেন তিনি এবং সেসব বক্তব্য বন্ধে বাংলাদেশ যে অনুরোধ জানাতে পারে, সেটি আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনৈতিক নীতির বিরোধী নয়।

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অটুট রাখতে হলে উভয়কেই দায়িত্বশীল ও ভারসাম্যপূর্ণ ভূমিকা নিতে হবে। মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে সহযোগিতাপূর্ণ পর্যায়ে ধরে রাখার দিকে ঢাকা অঙ্গীকারবদ্ধ।

এদিকে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের নিরাপত্তা বিষয়ে নয়াদিল্লির উদ্বেগের প্রেক্ষিতে তিনি জানান, আজকের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কূটনৈতিক এলাকায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ তার আন্তর্জাতিক দায়িত্ব এবং ভিয়েনা কনভেনশনের শর্ত পূরণে সক্ষম—এটিও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, অতীতে আগরতলা ও কলকাতায় বাংলাদেশের মিশনের বাইরে প্রতিবাদ কর্মসূচি হয়েছে এবং আগরতলায় হামলাও হয়েছে। সে প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ সর্বোচ্চ সতর্কতা ও পেশাদারিত্ব বজায় রেখে কাজ করছে বলেও তিনি জানান।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




সৌদিতে মাঝারি ভূমিকম্প, ক্ষয়ক্ষতির খবর নেই

সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলে আরব সাগর উপকূলবর্তী এলাকায় বুধবার স্থানীয় সময় দুপুরে মাঝারি মাত্রার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। স্থানীয় ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্যমতে, দুপুর প্রায় ২টা ১১ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে এবং স্বল্প সময়ের জন্য স্থাপনা ও বসতবাড়িতে কম্পন দেখা গেলেও কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল পূর্বাঞ্চলের ভূগর্ভে প্রায় ৫০ কিলোমিটার গভীরে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৩। ভূতাত্ত্বিক বিশ্লেষণে জানা যায়, আরবীয় টেকটোনিক প্লেট এবং ইউরেশিয়ান প্লেটের সংঘর্ষজনিত সক্রিয়তার কারণে এলাকাটি প্রায়শই হালকা থেকে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পের প্রভাব অনুভব করে থাকে।

সৌদি আরবের ভূতাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশটির বেশিরভাগ এলাকা বড় ধরনের ভূমিকম্পের ঝুঁকিমুক্ত হলেও পূর্বাঞ্চল এবং এর আশপাশে টেকটোনিক সীমানার কারণে সামান্য নড়াচড়ার ঘটনা অস্বাভাবিক নয়। ফলে ভূমিকম্প প্রস্তুতি থাকা এবং ভূমিকম্প-সহনীয় নগর পরিকল্পনা গ্রহণের পরামর্শ পুনরায় গুরুত্ব পেয়েছে।

ভূমিকম্পের খবর নিশ্চিত হওয়ার পর স্থানীয় প্রশাসন সতর্কবার্তা জারি না করলেও জনগণকে আতঙ্ক সৃষ্টি না করার অনুরোধ করেছে। ভবিষ্যতে ক্ষুদ্র বা মাঝারি ভূমিকম্প হলে নিরাপত্তা বিধি মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়।

সাম্প্রতিক সময়েই অঞ্চলে বেশ কয়েকটি ভূমিকম্প ঘটেছে। চলতি মাসের শুরুর দিকে বাহরাইনে হালকা মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছিল। একইভাবে ইরাক, ওমান ও সৌদি আরবের বিভিন্ন এলাকায় বছরজুড়ে ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে, যা টেকটোনিক সক্রিয়তার ধারাবাহিকতা নির্দেশ করে।

ভূকম্পনবিজ্ঞানীরা মনে করেন, মধ্যপ্রাচ্যের টেকটোনিক বলয় সম্পূর্ণ স্থিতিশীল নয়, তাই মাঝেমধ্যে এমন কম্পন দেখা যেতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, আতঙ্কিত হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও পর্যবেক্ষণ গুরুত্ব দিয়ে পরিচালনা করাই সমাধান।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




হাদির অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন

সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অগ্রভাগের সাহসী নেতা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক হওয়ায় তাকে দেখতে উপস্থিত হন সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. ভিভিয়ান বালাকৃষ্ণান। বুধবার স্থানীয় সময় হাসপাতালে পৌঁছে তিনি হাদির সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে চিকিৎসকদের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং পুরো চিকিৎসা প্রক্রিয়া নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন।

রাতের দিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সরাসরি ফোনযোগে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসকে হাদির ওপর চলমান চিকিৎসা সম্পর্কে অবহিত করেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। ফোনালাপে তিনি জানান—হাদির অবস্থা এখনো অত্যন্ত সংকটাপন্ন এবং নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। চিকিৎসকরা তার অবস্থার উন্নতির জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন।

হাদির ওপর হামলার ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষত তিনি রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করায়, তাঁর উপর হামলার প্রতিক্রিয়া দেশ-বিদেশে গভীর আলোচনা তৈরি করেছে। চিকিৎসাধীন হাদিকে দেখতে সিঙ্গাপুর সরকারের উচ্চপর্যায়ের নেতার উপস্থিতি বিষয়টিকে আন্তর্জাতিক গুরুত্ব এনে দিয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টা দেশবাসীকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে হাদির সুস্থতা কামনায় দোয়া ও প্রার্থনায় অংশ নিতে অনুরোধ জানিয়েছেন। রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভিন্ন মহল থেকে দাবি উঠেছে—হাদির ওপর হামলার ঘটনায় দায়ীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার দাবি জানানো হচ্ছে।

রাজনৈতিক অঙ্গনে হাদিকে একজন সাহসী ও আপোষহীন চরিত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। গণঅভ্যুত্থানের দিনগুলোতে তিনি যেভাবে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন—তা তাঁর জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতাকে আরও উজ্জ্বল করেছে। বর্তমানে তাঁর চিকিৎসার প্রতিটি মুহূর্ত নিয়ে জনমনে উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

মো: আল-আমিন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পুলিশ বাধার মুখে জুলাই ঐক্যের ‘লং মার্চ টু ইন্ডিয়ান হাইকমিশন’

বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) দুপুরে জুলাই ঐক্যের ডাকা ‘মার্চ টু ইন্ডিয়ান হাইকমিশন’ কর্মসূচি পুলিশের বাধার মুখে পড়েছে। বিকাল ৩টার দিকে রামপুরা ব্রিজ থেকে মিছিল শুরু হলেও উত্তর বাড্ডা (হোসেন মার্কেট) এলাকায় তারা আটকানো হয়।

জুলাই ঐক্য জানায়, এই কর্মসূচি ভারতের প্রক্সি শক্তি এবং জুলাই–আগস্ট আন্দোলনের হত্যাকাণ্ডে জড়িত অপরাধীদের দেশে ফিরিয়ে আনতে এবং চলমান ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে আয়োজিত হয়েছে। এতে আন্দোলনে সক্রিয় থাকা বিভিন্ন সংগঠন, ডাকসু ও জাকসুর নেতা, শিক্ষার্থীসহ দেশের বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ অংশ নেন।

পুলিশ রামপুরা থেকে ভারতীয় দূতাবাস পর্যন্ত কঠোর নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছে। বাড্ডা–গুলশান লিঙ্ক রোড ব্যারিকেড দিয়ে বন্ধ রাখা হয়।

এর আগে মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) জুলাই ঐক্যের সংগঠক এবি জুবায়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কর্মসূচির ঘোষণা দেন। সেখানে বলা হয়, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে ভারতের প্রভাবশালী শক্তিগুলো বাংলাদেশবিরোধী ষড়যন্ত্রে জড়িত। কর্মসূচির নেতৃত্বে থাকবেন জুলাই ঐক্যের সংগঠকরা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজে ইউরোলজি বিভাগের দুরবস্থা

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কিছু বিভাগের চিকিৎসা উন্নতি পেলেও ইউরোলজি বিভাগে রোগীদের সেবা এখনও বেহাল। রোগীরা তিন থেকে চার মাসেও চিকিৎসা সম্পন্ন করতে না পারায় সুস্থ হওয়ার বদলে অনেকের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, ধীরগতিতে সেবা প্রদানের ফলে রোগীরা বাইরের বেসরকারি ক্লিনিকের দিকে ঝুঁকছেন।

দক্ষিনাঞ্চলের হতদরিদ্র মানুষের একমাত্র চিকিৎসা ভরসা এই হাসপাতাল। পটুয়াখালী, বরগুনা, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও শরীয়তপুরের মতো জেলার অনেক রোগী দীর্ঘদিন চিকিৎসা না পাওয়ার অভিযোগ করেন। অনেকেই অপারেশন শিডিউল পান না, কারণ অপারেশন শুধুমাত্র বৃহস্পতিবার সকালে এবং মাসে মাত্র ২–৩টি করা হয়। অথচ সার্জারী বিভাগের চারটি ইউনিটে সহস্রাধিক রোগীর অস্ত্রোপচার প্রয়োজন।

ধীরগতির চিকিৎসা সেবার কারণে রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। অনেক রোগী দীর্ঘ দূরত্ব পাড়ি দিয়ে হাসপাতালে আসার পরও পূর্ণ সুস্থ না হয়ে বাড়ি ফিরতে বাধ্য হন।

হাসপাতালের ইউরোলজি বিভাগে অপারেশন সপ্তাহে একদিন করা হয়। হাসপাতালের পরিচালক জানিয়েছেন, দ্রুত সমস্যা সমাধানের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া নিউরোলজি বিভাগে প্রতিদিন গড়ে ২০ জন রোগী ভর্তি থাকায় তাদের দ্রুত সেবা নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরিশালে আমন ধানের রেকর্ড ফলন, কিন্তু দরপতনে হতাশ কৃষক

বরিশালের মাঠে শেষ অগ্রহায়ণ থেকে শুরু হয়ে এখনো আমন ধান কাটার ধুম লেগে আছে। সব প্রাকৃতিক দুর্যোগ অতিক্রম করে এবার বরিশালে সর্বকালের সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টন আমন চাল ঘরে তোলার লক্ষ্য অর্জন হতে চলেছে। তবে উচ্চ উৎপাদনের আনন্দ overshadow করছে ধানের কম দাম, যা কৃষকদের হতাশ করছে।

বরিশাল কৃষি অঞ্চলে এখনো প্রায় ৬৫ শতাংশ ধান কাটা শেষ হয়েছে। শীতের সকালে সোনালী সূর্যের আলোয় কৃষকরা মাঠে নামেন ধান কেটে ঘরে তোলার জন্য।

তবে উৎপাদন ব্যয়ের তুলনায় ধানের বাজারমূল্য কৃষকদের সন্তুষ্ট করছে না। কৃষকরা জানান, হাজার টাকারও বেশি খরচে উৎপাদিত ধান বিক্রি হচ্ছে ১,১০০ থেকে ১,১৫০ টাকা প্রতি মান, যেখানে সার, কীটনাশক ও শ্রম খরচ বেড়ে গেছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের বরিশাল অঞ্চলের তথ্য অনুযায়ী, সমাপ্ত খরিপ-২ মৌসুমে বরিশাল অঞ্চলে ৯ লাখ হেক্টরের বেশি জমিতে আমন ধান আবাদ হয়েছে। এই আবাদ থেকে প্রায় ২৪ লাখ টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করে ২৫ লাখ টনে পৌঁছাতে পারে। কাটা ধানের গড় ফলন ৩.০৫ টন প্রতি হেক্টর, যা উৎপাদনে লক্ষ্য অতিক্রমের আশ্বাস দিচ্ছে।

তবে উচ্চ ফলনশীল ও উফশী জাতের ধানের আবাদ এখনও ৬৫ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ। স্থানীয় সনাতন জাতের ধানের আবাদ ৩৫ শতাংশ, হাইব্রিড ধানের আবাদ ১ শতাংশেরও কম। সনাতন ধানের গড় ফলন ১.৬৮ টন/হেক্টর, উফশী ২.৮৯ টন, হাইব্রিড ৩.৯০ টন প্রতি হেক্টর।

কৃষকরা অভিযোগ করছেন, উচ্চ ফলনশীল জাতের ধানের বীজ এবং উৎপাদন প্রযুক্তি জ্ঞানের অভাবে কম জমিতে বেশি ধান উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না। কৃষিবিদরা মনে করছেন, যদি আবাদে উফশী ও হাইব্রিডের অনুপাত বৃদ্ধি করা যায়, তবে বরিশালের আমনের উৎপাদন ৩০ লাখ টনে উন্নীত করা সম্ভব, আর খাদ্য উদ্বৃত্তও বর্তমান ১৪ লাখ টন থেকে ২০ লাখ টনে বৃদ্ধি করা যেতে পারে।

বরিশাল অঞ্চলের প্রধান কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম শিকদার জানান, দক্ষিণাঞ্চলে উচ্চ ফলনশীল জাতের আবাদ বৃদ্ধির জন্য প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া, আসন্ন রবি মৌসুমে বরিশাল অঞ্চলের ৩.৮৩ লাখ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের বীজতলা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে।

এদিকে, ধানের আশাতীত সাফল্যের মধ্যেও দরপতনে কৃষকের মুখে হাসি নেই। তবুও মাঠের দৃশ্যকলা ও কৃষকদের পরিশ্রম তাদের উৎসাহ বজায় রাখছে। তারা মনে করেন, “যারা যোগায় ক্ষুধার অন্ন, আমরা আছি তাদের জন্য।”


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম