বিদেশি পর্যটকরা ঢাকার যে মসজিদ দেখতে আসেন

ঢাকার পুরান ঢাকার আরমানিটোলা এলাকায় অবস্থিত তারা মসজিদ এখন একটি প্রধান পর্যটন স্থান হয়ে উঠেছে, যেখানে বিদেশি পর্যটকরা ধর্মীয় স্থাপত্য এবং বাংলাদেশের ঐতিহ্য উপভোগ করতে আসেন। মসজিদের ভেতরে বিচিত্র নকশা এবং অলংকরণ যেমন, প্রাচীন টাইলস, রঙিন কাচের টুকরা, চিনামাটির ফলকসহ নানা উপকরণ ব্যবহৃত রয়েছে, যা পর্যটকদের মুগ্ধ করে। বিশেষ করে ‘চিনি টিকরি’ নকশা, যেখানে কাচের টুকরা দিয়ে মসজিদের দেয়াল এবং গম্বুজ সাজানো হয়েছে, একে অনন্য করে তোলে।

প্রথম দর্শনেই এই মসজিদটির ভেতরের গম্বুজ ও দেয়ালের ডিজাইন পর্যটকদের চোখ ধাঁধিয়ে দেয়। বিকেলে বাতি জ্বালালে দেয়ালে কাচের টুকরোগুলোর রঙিন আলো এমনভাবে প্রতিফলিত হয় যে, মসজিদটি আরও রহস্যময় হয়ে ওঠে।

তারা মসজিদটির নির্মাণকাল নিয়ে কিছু মতপার্থক্য থাকলেও ইতিহাসবিদ মুনতাসীর মামুন তার বই ‘ঢাকা: স্মৃতি বিস্মৃতির নগরী’-তে এই মসজিদের নির্মাণকাল ১৮শ শতকের শেষ ভাগ বলে উল্লেখ করেছেন। বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী, মসজিদটির নির্মাণকাল ১৯শ শতকের প্রথম দিকের। মসজিদটি নির্মাণ করেছিলেন ধনাঢ্য জমিদার মীর্জা গোলাম পীর, যিনি মসজিদটি ওয়াকফ করে গিয়েছিলেন।

বর্তমানে, মসজিদটির আকর্ষণ শুধু স্থানীয় মুসল্লিদের জন্য নয়, বরং বহু বিদেশি পর্যটক এবং বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতরা এখানে দর্শনীয় স্থান হিসেবে আসেন। ঢাকার প্রধান দর্শনীয় স্থান হিসেবে **তারা মসজিদ** বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের ওয়েবসাইটেও উল্লেখ রয়েছে।

মসজিদটির সংস্কার কাজ শুরু হয়েছিল ১৯২৬ সালে, যখন আরমানিটোলার ব্যবসায়ী আলী জান ব্যাপারী বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ করে এটি সংস্কার করেন। ১৯৮৭ সালে মসজিদটি আবারো সংস্কার করা হয় এবং এর পর থেকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হচ্ছে।

তারা মসজিদটি একটি আকর্ষণীয় স্থাপত্য নিদর্শন হিসেবে দাঁড়িয়ে রয়েছে, যেখানে পর্যটকরা ঢাকার ঐতিহ্য এবং স্থাপত্যশৈলীর এক অনন্য সম্মিলন দেখতে পান। পুরোনো ঢাকার ঘিঞ্জি পরিবেশের মধ্যে মসজিদটি এক নিঃসঙ্গ শান্তির স্থান, যা সত্যিই দর্শনীয়।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ভোলায় যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ, আহত ২৫ জন

ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় দুটি যাত্রীবাহী বাসের মধ্যে ভয়াবহ মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ২৫ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। আজ (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ভোলা-চরফ্যাশন আঞ্চলিক মহাসড়কের মানিকার হাট সংলগ্ন ইদারা বাজার মোড় এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোলা থেকে চরফ্যাশনগামী নাবিল নুর পরিবহণের একটি বাস এবং চরফ্যাশন থেকে ভোলা আসা প্রিন্স অব লাবিবা বাসটি একে অপরকে মুখোমুখি সংঘর্ষ করে। এ সময় প্রিন্স অব লাবিবা বাসটি রাস্তার পাশে থাকা একটি ডোবায় পড়ে যায়, যা উদ্ধারকাজে বাধার সৃষ্টি করে। সংঘর্ষে কমপক্ষে ২০ থেকে ২৫ জন যাত্রী আহত হন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয়রা আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য পাঠান।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনাকবলিত বাস দু’টির মধ্যে প্রিন্স অব লাবিবা বাসের একটি অংশ ডোবায় পড়ে যাওয়ায় এতে অন্য কোনো যাত্রী আটকা পড়ে আছেন কিনা, তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তবে পুলিশ ও ফায়ারসার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে আহতদের নিরাপদে হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়ার জন্য কাজ করছেন।

বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিদ্দিকুর রহমান জানান, এ দুর্ঘটনায় ২০ থেকে ২৫ জন যাত্রী আহত হয়েছেন, তবে বাসের মধ্যে আরো কেউ আটকা আছেন কিনা, তা জানার জন্য উদ্ধার কাজ অব্যাহত রয়েছে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে মাঝ নদীতে রশি টানিয়ে স্পিডবোট চলাচলে বাধা: চাঁদাবাজির অভিযোগ

বরিশালের নদীতে স্পিডবোট চলাচলে বাধা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে এক বিএনপি নেতার লোকজনের বিরুদ্ধে। স্থানীয় স্পিডবোট মালিকদের দাবি, নদীতে স্পিডবোট চলাচল করলে তাদের উপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয় এবং চাঁদার দাবিতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ৫ আগস্টের পর থেকে তালতলী-মেহেন্দিগঞ্জের পাতারহাটসহ বিভিন্ন রুটে চলাচলরত স্পিডবোট মালিকদের কাছ থেকে প্রতি মাসে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে আসছেন শাহেদাবাদ ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও ইউপি সদস্য মো. মোকলেছ মেম্বার এবং তার লোকজন। চাঁদা না দেয়ায় তারা স্পিডবোট চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে এবং নদী অবরোধ করে রাখে।

এ বিষয়ে বোট মালিকরা বরিশাল সদর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন এবং নদীবন্দর কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসকের দপ্তরে অভিযোগ জানিয়েছেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বরিশাল সদর সহকারী কমিশনার ভূমি ২ ফেব্রুয়ারি উভয়পক্ষকে ডেকে পাঠান এবং তদন্ত শুরু করেন।

বিষয়টি তদন্ত করতে গিয়ে জানা গেছে, অভিযুক্ত বিএনপি নেতা মোকলেছ মেম্বারসহ তার লোকজন ৪০-৫০ জনের একটি দল স্পিডবোট মালিকদের উপর হামলা চালিয়ে মারধর করে এবং খুন-জখমের হুমকি দেয়। এরপর আহতরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দেন।

স্পিডবোটের মালিক মজনু আকন অভিযোগ করে বলেন, ‘‘তালতলী ঘাট থেকে স্পিডবোট চলাচলে দীর্ঘদিন ধরে মোকলেছ মেম্বার বাধা দিচ্ছেন এবং প্রতি মাসে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করছেন। এখন তারা নদী আটকে স্পিডবোট চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে।’’

এদিকে, বিএনপি নেতা মোকলেছ মেম্বার চাঁদা দাবির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, ‘‘এলাকার নদী পাড় ভেঙে যাওয়ায় স্থানীয়রা নদী অবরোধ করেছেন, চাঁদাবাজির বিষয়টি মিথ্যা।’’

বরিশাল সদর সহকারী কমিশনার ভূমি মো. আজহার ইসলাম জানিয়েছেন, ‘‘বিষয়টি তদন্ত করা হবে এবং পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য ব্যবস্থা নেয়া হবে।’’ স্পিডবোট চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। তারা দ্রুত সমস্যার সমাধান চেয়ে প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছেন।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




জামায়াতকে মুনাফিক বললেন রিজভী

ইসলামের নামে রাজনীতি করে জনগণের সঙ্গে মুনাফিকি করছে জামায়াত, এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ‘‘গণতন্ত্র হলো বিষমাখানো দুধের মাখনের মতো। নির্বাচনে যাবেন না বললেও, বিগত সময়ে শেখ হাসিনার আঁচল ধরে নির্বাচনে গেছেন। প্রতিটি সময় জামায়াত জনগণের সঙ্গে মুনাফেকি করছে।’’

বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ফেনীর সোনাগাজী ছাবের মোহাম্মদ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ‘‘আমরা বিএনপি পরিবার’’ আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘‘আপনারা ইশারা ইঙ্গিতে বিএনপিকে দোষারোপ করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু জনগণ জানে কারা নিজেদের আঙ্গিকার রক্ষা করে। খালেদা জিয়া জেল খেটেছেন, তারেক রহমান দেশ ছেড়েছেন, তবুও দেশকে রক্ষা করার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। নির্যাতিত ও অসহায়দের পাশে দাঁড়িয়েছে আমরা বিএনপি পরিবার। এই কার্যক্রম চলমান থাকবে।’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘বাংলাদেশে আগে ছিল একজন শত্রু পক্ষ, এখন অনেক শত্রু পক্ষ দেখা যাচ্ছে। সম্প্রতি এক সরকারি কর্মকর্তা লিফলেট বিতরণ করেছে, অথচ আওয়ামী দোসরদের বিচারের আওতায় না আনার কারণে তারা এরকম কাজ করার সাহস পায়। বর্তমান সরকার ভ্যাট ও ট্যাক্স বসিয়ে নিম্নআয়ের মানুষের সমস্যা সৃষ্টি করছে। এসব বিষয়ে আমরা প্রতিবাদ করব না?’’

সমাবেশে ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। অনুষ্ঠানে বিএনপির সিনিয়র কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশে ‘‘আমরা বিএনপি পরিবার’’ আয়োজনে ফেনী, নোয়াখালী ও লক্ষীপুরে বিএনপি নির্যাতিত শহীদ পরিবার ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত শহীদ পরিবারের মাঝে আর্থিক সহযোগিতা দেয়া হয়।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




‘গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসিয়ে দেওয়া হয় শেখ হাসিনা হত্যাচেষ্টা মামলার রায়’

হাইকোর্টের বিচারপতি মুহম্মদ মাহবুব-উল ইসলাম ও বিচারপতি মো. হামিদুর রহমানের বেঞ্চ শরণার্থী হয়ে শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা মামলার রায় সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। আদালত দাবি করেছে যে, বিচারিক আদালতের রায় ছিল পক্ষপাতদুষ্ট, অমানবিক এবং বিচারকের ব্যক্তিগত মতামত থেকে পরিচালিত। একই সাথে, হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণে রায়কে ‘গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসিয়ে দেওয়া’ বলে উল্লেখ করা হয়।

বিচারকরা জানান, বিচারিক আদালতের রায়ে বিচারকের কোনো মনন প্রতিফলিত হয়নি, বরং এটি ছিল বিদ্বেষপূর্ণ। আদালত আরও উল্লেখ করেন যে, মামলার সাক্ষ্যপ্রমাণ নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করা হয়, কারণ প্রকৃতপক্ষে কোনো নিরপেক্ষ সাক্ষী না থাকলেও, রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে ৩৭ জন পক্ষপাতদুষ্ট সাক্ষী হাজির করা হয়েছিল। এই মামলার মূল অভিযোগ, যা ১৯৯৪ সালে পাবনার ঈশ্বরদী রেল স্টেশনে ঘটেছিল, তার কোনো নিরপেক্ষ সাক্ষী পাওয়া যায়নি।

আদালত আরও জানায়, বিচারিক আদালতের রায় ছিল অমানবিক, কারণ রায়ের প্রেক্ষিতে আসামিদের প্রতি কোনো সহানুভূতি প্রদর্শন করা হয়নি। এবং, বিচারপতি মাহবুব-উল ইসলাম বলেন, “আমরা চাই না তারা আর এক সেকেন্ডও কারাগারে থাকুক। এখনই তাদের মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।”

এদিন, আদালত রায় ঘোষণা করার আগে আদালত জানায়, ফেব্রুয়ারি মাসটি ভাষা আন্দোলনের মাস হিসেবে স্মরণীয়। সুতরাং, এই ঐতিহাসিক মাসে রায়টি বাংলায় দেওয়া হয়।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




দেশকে ৪টি প্রদেশে ভাগ করার সুপারিশ জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের

জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন তাদের সুপারিশ জমা দিয়েছে, যেখানে দেশের প্রশাসনিক সংস্কারে ব্যাপক পরিবর্তনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। কমিশনের প্রধান আবদুল মুয়ীদ চৌধুরী প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে এই সুপারিশ পেশ করেন।

প্রধান সুপারিশ হিসেবে দেশকে ৪টি প্রদেশে ভাগ করার প্রস্তাব রয়েছে। কুমিল্লা এবং ফরিদপুরকে পৃথক বিভাগ হিসেবে গঠন করারও সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া, ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ নিয়ে একটি নতুন ‘গ্রেটার সিটি ঢাকা’ বা রাজধানী শহর গঠনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া, কমিশন ইমিগ্রেশনের জন্য পুলিশের আলাদা ইউনিট গঠনের এবং পাবলিক সার্ভিস পৃথক করে তিনটি আলাদা পাবলিক সার্ভিস কমিশন গঠনের প্রস্তাবও করেছে। কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী, বর্তমানে বিদ্যমান পাবলিক সার্ভিস কমিশনকে ভেঙে তিনটি পৃথক কমিশন তৈরি করা হবে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ হচ্ছে বিচার বিভাগীয় সংস্কারের ক্ষেত্রে বিসিএস পরীক্ষার মতো অ্যটর্নি সার্ভিস নিয়োগের ব্যবস্থা। এতে বিচার বিভাগকে আরও স্বাধীন এবং শক্তিশালী করা যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

এদিনের সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম, উপ–প্রেস সচিব মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ মজুমদার এবং অপূর্ব জাহাঙ্গীর।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়িতে ভাঙচুরের ঘটনা, উত্তপ্ত পরিস্থিতি

৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ তারিখে রাত ৮টার দিকে ঢাকার ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক বাড়ির গেট ভেঙে বিক্ষুব্ধ ছাত্র জনতা বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে। স্লোগান দিয়ে তারা বাড়িটির বিভিন্ন অংশ ভাঙচুর করতে থাকে। এই পরিস্থিতি সরাসরি সম্প্রচারে দেখা যায় যে, শত শত ছাত্রজনতা বাড়ির ক্ষতিসাধন করছে, এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মিরপুর রোডে অবস্থান নিয়েছেন।

মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে ছাত্রলীগের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে জানানো হয় যে, আওয়ামী লীগ সভাপতি ভারতে অবস্থান করলেও বুধবার রাতে ছাত্রদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখবেন এবং এরপর ধানমন্ডি-৩২ অভিমুখে একটি “বুলডোজার মিছিল” আয়োজন করা হবে।

এরপর, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে এক পোস্টে বলেন, “আজ রাতে বাংলাদেশ ফ্যাসিবাদের তীর্থভূমি মুক্ত হবে।”

এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা তার ফেসবুক আইডি থেকে উৎসবের কথা জানান। তবে, ঘটনাটি বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এবং পুলিশ এবং অন্য নিরাপত্তা বাহিনী এলাকা নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে ছাত্রের বিরুদ্ধে মামলা

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুল কাদির সোহানের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ এনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগকারী নারী শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সদস্য এবং তিনি নিজেই বাদী হয়ে ৫ ফেব্রুয়ারি রাতে বরিশাল বন্দর থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা এজাহারভুক্ত হয় এবং সোহানকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলার সূত্রে জানা যায়, প্রায় চার মাসের সম্পর্কের পর অভিযুক্ত সোহান ৫ ফেব্রুয়ারি, মঙ্গলবার, বিকেলে ভুক্তভোগী নারীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন-১ এর ৬ষ্ঠ তলায় পড়াশোনা করতে গিয়ে ফোন করে সিঁড়িতে ডেকে নেয়। সেখানে সোহান তাকে জোরপূর্বক সিঁড়ি দিয়ে টেনে নিয়ে ছাদের দিকে নিয়ে যায় এবং ধর্ষণচেষ্টার চেষ্টা করে। দুই হাতে প্রতিরোধ করতে থাকলে সোহান তাকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেয়, যার ফলে ভুক্তভোগীর বাম হাতে আঘাত লাগে।

ঘটনার পর, ভুক্তভোগী কান্না করতে করতে চিৎকার দেন, যা শুনে অন্যান্য সহপাঠীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এরপর তারা ভুক্তভোগীকে সহায়তা করতে তার বিভাগের চেয়ারম্যান এবং ছাত্র উপদেষ্টা কাজী মো. জাহাঙ্গীর কবিরের মাধ্যমে লিখিত অভিযোগ প্রদান করেন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ঘটনাটি জানার পর দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনায় বসে এবং উত্তেজনাকর পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হয়। সর্বশেষ, প্রক্টর, বিভাগের শিক্ষক এবং ভুক্তভোগী থানায় গিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন।

অপরদিকে, সোহান তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, তার ও ভুক্তভোগীর দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তিনি বলেন, “আমি তাকে খুঁজতে গিয়ে লিফটের ৬ষ্ঠ তলায় পৌঁছেছিলাম এবং সেখানে আমার সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয়, কিন্তু ধর্ষণচেষ্টার কোন ঘটনা ঘটেনি।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. এটিএম রফিকুল ইসলাম জানান, এটি একটি দুঃখজনক ঘটনা এবং তারা বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নিয়েছেন। তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে একাডেমিক শাস্তি দেওয়া হবে এবং আইনের মাধ্যমে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পাশে থাকবেন।

বন্দর থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, মামলার ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




আ’লীগের ইতিহাস বিকৃতি ও গণতন্ত্রের হত্যার অভিযোগ

পিরোজপুর জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক ও শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্য জোট বরিশাল বিভাগের আহ্বায়ক অধ্যক্ষ আলমগির হোসেন অভিযোগ করেছেন যে, আওয়ামী লীগ সরকার সঠিক ইতিহাস ও গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে। তিনি বলেন, শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতা ঘোষণাকে ভুলভাবে উপস্থাপন করে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের প্রচারণা দেশের জনগণের কাছে ভুল বার্তা পৌঁছে দিয়েছে।

৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ তারিখে নেছারাবাদের অলংকারকাঠী মনিরাম মাধ্যমিক ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া ও বিচিত্রানুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আলমগির হোসেন এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন, সেটি ইচ্ছাকৃতভাবে বিকৃত করেছে বর্তমান সরকার।

তিনি বলেন, “বিএনপি মনে করে, বাংলাদেশের সঠিক ইতিহাস জনগণের সামনে তুলে ধরা জরুরি, বিশেষত শিক্ষার্থীদের মধ্যে সঠিক ইতিহাসের চর্চা করানো প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের পাঠ্য বইয়ে জিয়া পরিবার সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য দেওয়া হয়েছে এবং ১৬ বছর ধরে শিশুদের ভুল ইতিহাস শেখানো হয়েছে।”

আলমগির হোসেন আরও বলেন, “আজকের শিক্ষকদের মর্যাদা একেবারে ধ্বংস হয়ে গেছে, কারণ তাঁদের বেতন মাত্র ১২ হাজার টাকা। এভাবে শিক্ষকরা কীভাবে জাতি গঠন করতে পারবেন?”

এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নেছারাবাদ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ওয়াহিদুজ্জামান ওয়াহিদ, স্বরূপকাঠি পৌরসভার সাবেক মেয়র শফিকুর রহমান ফরিদ, নেছারাবাদ উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নাসির উদ্দিন খলিফা, নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বনি আমিন এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা। এখন সময় এসেছে সঠিক ইতিহাসকে তুলে ধরা এবং জনগণকে সঠিক তথ্য প্রদান করা।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




হাসিনার ভাষণ মিডিয়ায় প্রচার করা মানে হাসিনাকে ফ্যাসিলিটেট করা: হাসনাত

রাজধানী ঢাকার বাংলামোটরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক সংবাদ সম্মেলনে হাসনাত আবদুল্লাহ, যিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক, তিনি আওয়ামী লীগ এবং তার নেতৃত্বাধীন সরকারকে তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “হাসিনা ও ফ্যাসিবাদের পুনর্বাসন কোনোভাবেই বাংলাদেশের মিডিয়াতে প্রতিষ্ঠিত হতে দেয়া যাবে না।”

হাসনাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, “যদি কোনো মিডিয়া হাসিনার ভাষণ প্রচার করে, তবে সেটা স্পষ্টভাবে তার (হাসিনা) ফ্যাসিলিটেশন হিসেবে দেখা হবে। সেই মিডিয়া জাতির আশা ও আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।” তিনি উল্লেখ করেন যে, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বিদ্রোহী ছাত্র সংগঠনগুলো চলমান সংগ্রাম অব্যাহত রাখবে।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “আমি মিডিয়াকে লক্ষ্য করে বলছি, কেন হাসিনা ও তার সরকারের অন্যায় কর্মকাণ্ড তুলে ধরা হয় না? কেন মিডিয়া তাকে ‘ফ্যাসিবাদী খুনি’ লিখে প্রকাশ করে না?” তিনি অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনা তার রাজনৈতিক ক্ষমতা ধরে রাখতে ২০০০ জনেরও বেশি মানুষকে হত্যা করেছেন। তাঁর মতে, শেখ হাসিনার ক্ষমতায় থাকার কারণে বাংলাদেশে গণতন্ত্রের অবক্ষয় হয়েছে।

হাসনাত আরও জানান যে, আগামী ৫ আগস্টের পর বিরোধী রাজনৈতিক দলের সাথে বৈঠক ও মতপার্থক্য হতে পারে। তবে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, হাসিনা ও ছাত্রলীগের বিষয়ে তাদের অবস্থান কিছুতেই নরম হবে না। “হাসিনা ও ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে কোনো সুশীলতা চলবে না,” বলেন হাসনাত। তার মতে, গণ-অভ্যুত্থানের কারণে হাসিনার রাজনীতির পরিসমাপ্তি ঘটেছে এবং ছাত্রলীগের কার্যক্রমও তাদের কাছে শেষ হয়ে গেছে।

সংবাদ সম্মেলনে হাসনাত আবদুল্লাহর সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক নাসীরউদ্দীন পাটওয়ারী, সদস্যসচিব আখতার হোসেন এবং মুখপাত্র সামান্তা শারমিন প্রমুখ।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম