বিদেশি পর্যটকরা ঢাকার যে মসজিদ দেখতে আসেন

ঢাকার পুরান ঢাকার আরমানিটোলা এলাকায় অবস্থিত তারা মসজিদ এখন একটি প্রধান পর্যটন স্থান হয়ে উঠেছে, যেখানে বিদেশি পর্যটকরা ধর্মীয় স্থাপত্য এবং বাংলাদেশের ঐতিহ্য উপভোগ করতে আসেন। মসজিদের ভেতরে বিচিত্র নকশা এবং অলংকরণ যেমন, প্রাচীন টাইলস, রঙিন কাচের টুকরা, চিনামাটির ফলকসহ নানা উপকরণ ব্যবহৃত রয়েছে, যা পর্যটকদের মুগ্ধ করে। বিশেষ করে ‘চিনি টিকরি’ নকশা, যেখানে কাচের টুকরা দিয়ে মসজিদের দেয়াল এবং গম্বুজ সাজানো হয়েছে, একে অনন্য করে তোলে।
প্রথম দর্শনেই এই মসজিদটির ভেতরের গম্বুজ ও দেয়ালের ডিজাইন পর্যটকদের চোখ ধাঁধিয়ে দেয়। বিকেলে বাতি জ্বালালে দেয়ালে কাচের টুকরোগুলোর রঙিন আলো এমনভাবে প্রতিফলিত হয় যে, মসজিদটি আরও রহস্যময় হয়ে ওঠে।
তারা মসজিদটির নির্মাণকাল নিয়ে কিছু মতপার্থক্য থাকলেও ইতিহাসবিদ মুনতাসীর মামুন তার বই ‘ঢাকা: স্মৃতি বিস্মৃতির নগরী’-তে এই মসজিদের নির্মাণকাল ১৮শ শতকের শেষ ভাগ বলে উল্লেখ করেছেন। বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী, মসজিদটির নির্মাণকাল ১৯শ শতকের প্রথম দিকের। মসজিদটি নির্মাণ করেছিলেন ধনাঢ্য জমিদার মীর্জা গোলাম পীর, যিনি মসজিদটি ওয়াকফ করে গিয়েছিলেন।
বর্তমানে, মসজিদটির আকর্ষণ শুধু স্থানীয় মুসল্লিদের জন্য নয়, বরং বহু বিদেশি পর্যটক এবং বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতরা এখানে দর্শনীয় স্থান হিসেবে আসেন। ঢাকার প্রধান দর্শনীয় স্থান হিসেবে **তারা মসজিদ** বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের ওয়েবসাইটেও উল্লেখ রয়েছে।
মসজিদটির সংস্কার কাজ শুরু হয়েছিল ১৯২৬ সালে, যখন আরমানিটোলার ব্যবসায়ী আলী জান ব্যাপারী বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ করে এটি সংস্কার করেন। ১৯৮৭ সালে মসজিদটি আবারো সংস্কার করা হয় এবং এর পর থেকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হচ্ছে।
তারা মসজিদটি একটি আকর্ষণীয় স্থাপত্য নিদর্শন হিসেবে দাঁড়িয়ে রয়েছে, যেখানে পর্যটকরা ঢাকার ঐতিহ্য এবং স্থাপত্যশৈলীর এক অনন্য সম্মিলন দেখতে পান। পুরোনো ঢাকার ঘিঞ্জি পরিবেশের মধ্যে মসজিদটি এক নিঃসঙ্গ শান্তির স্থান, যা সত্যিই দর্শনীয়।
মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম








