বরিশালে আমির হোসেন আমুর হোয়াইট হাউজ’, বুলডোজার চালাল বিক্ষুব্ধরা

আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা ও সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমুর বরিশালের বাসভবন, যা ‘হোয়াইট হাউজ’ নামে পরিচিত, বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছেন ।

বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাত ২টার দিকে কয়েকশো ছাত্র-জনতা জীবনানন্দ দাশ সড়কে অবস্থিত এই বাড়িতে হামলা চালায়। প্রথমে তারা ভবনের বাইরে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে, পরে প্রধান ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এরপর বুলডোজার দিয়ে পুরো ভবনটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

এর আগে রাত ১২টার দিকে নগরীর কালীবাড়ি রোডে সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর বাসভবনে একইভাবে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। সেখান থেকে বের হয়ে বিক্ষুব্ধরা আমির হোসেন আমুর বাসভবনের সামনে এসে জড়ো হয় এবং ভবনটি ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয়।

হামলার সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে ব্যর্থ হন। বরং তারা দূর থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সাদিক আবদুল্লাহর বাড়ি ভাঙার সময় সেনাবাহিনী বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলেও আমির হোসেন আমুর বাড়ির ক্ষেত্রে তেমন বাধার মুখে পড়তে হয়নি বিক্ষোভকারীদের।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী আকিব বলেন,ফ্যাসিবাদের যতগুলো আস্তানা আছে, আমরা তা গুঁড়িয়ে দিতে চাই। জনগণের টাকা দিয়ে ফ্যাসিস্ট শাসকের দোসরেরা এসব প্রাসাদ গড়ে তুলেছে। এখন সেগুলো ধ্বংসের সময় এসেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মোস্তাফিজ বলেন,ভারতে পালিয়ে গিয়েও ফ্যাসিস্ট হাসিনা আমাদের হুমকি দিচ্ছে। আমরা জানাতে চাই, আর কোনোদিন আওয়ামী লীগের স্থান বাংলায় হবে না।

এর আগে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট এই বাসভবনে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছিল। তবে এবার বিক্ষোভকারীরা আরও আগ্রাসী হয়ে সরাসরি ভবনটি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়।

উল্লেখ্য, আমির হোসেন আমুর স্থায়ী বাড়ি ঝালকাঠি পৌর শহরে হলেও তিনি বরিশালের এই বাসভবনেই বসবাস করতেন এবং এখান থেকেই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন। ২০২৪ সালের নভেম্বরে, আমির হোসেন আমুকে রাজধানীর ধানমন্ডি থেকে গ্রেপ্তার করেছিল গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তার বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা মামলাসহ মোট ১৫টি মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।




বরিশালে বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো সাদেক আবদুল্লাহর বাড়ি

বরিশালে উত্তাল ছাত্র-জনতার বিক্ষোভের মুখে অবশেষে বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো শেখ হাসিনার ভাগ্নে হাসনাত আবদুল্লাহর ও বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর বাড়ি।

বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে বারোটার পর নগরীর কালীবাড়ি রোডের সেরনিয়াবাত ভবন ঘিরে হাজারো বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা জড়ো হয়। ফেসবুকে আগেই এই হামলার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। রাত ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে বিক্ষুব্ধরা বাড়ির দেয়াল ভেঙে বুলডোজার প্রবেশ করানোর চেষ্টা করলে সেনাবাহিনীর সদস্যরা বাধা দেয়।

প্রথমে সেনাবাহিনী বুলডোজারের চাবি নিয়ে নেয় এবং বিক্ষোভকারীদের শান্ত করার চেষ্টা করে। কিন্তু উত্তেজিত ছাত্র-জনতা সেনা সদস্যদের “ছাত্রলীগের দালাল” বলে স্লোগান দিতে থাকে। একপর্যায়ে সেনাবাহিনীর সঙ্গে বিক্ষুব্ধদের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।

সেনাসদস্যদের প্রতিরোধ ব্যর্থ হলে রাত ১টা ২০ মিনিটের দিকে সেনাবাহিনী বুলডোজারের চাবি বিক্ষোভকারীদের হাতে তুলে দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে সরে যায়। এরপরই ছাত্র-জনতা বুলডোজার চালিয়ে সেরনিয়াবাত ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়া শুরু করে।

এই ভবন নিয়ে বহুদিন ধরে আলোচনা চলছিল। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, সাদিক আবদুল্লাহ এই ভবনকে “টর্চার সেল” হিসেবে ব্যবহার করতেন। আওয়ামী লীগবিরোধী অনেককে এখানে আটকে রেখে নির্যাতন করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।

মাহফুজুর রহমান নামের এক শিক্ষার্থী বলেন,এই বাড়ি ছিল ফ্যাসিবাদের প্রতীক। এখানে মানুষ নির্যাতিত হয়েছে, শোষিত হয়েছে। আমরা এই অভিশপ্ত বাড়ি আর বরিশালে থাকতে দেব না।

বিক্ষোভকারী ইয়াকুব মিয়া বলেন,সাদিক আবদুল্লাহর এই বাড়ি ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির স্মারক। তাই আমরা এটিকে ধ্বংস করছি।

এর আগেও এই ভবনে হামলা হয়েছে। গত বছরের ৫ আগস্ট উত্তেজিত জনতা এই ভবনে আগুন ধরিয়ে দেয়। তখন ভবনের ভেতরে আটকা পড়ে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়রসহ তিনজন নিহত হন।

এরপর থেকেই বাড়িটি জনরোষের কেন্দ্রে পরিণত হয়। ৫ ফেব্রুয়ারি শেখ হাসিনার একটি ভাষণের পর ফের বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং ছাত্র-জনতা ধানমন্ডি ৩২ নম্বর ভাঙচুরের পর বরিশালে সেরনিয়াবাত ভবন গুড়িয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বরিশালসহ সারাদেশে রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। আওয়ামী লীগ এই হামলাকে ষড়যন্ত্র ও নৈরাজ্য বলে অভিহিত করেছে, অন্যদিকে ছাত্র-জনতা ও বিরোধী দলগুলোর দাবি, এটি ছিল গণঅভ্যুত্থান।

এদিকে, সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়েও বিতর্ক চলছে। তাদের নিষ্ক্রিয় থাকা ও শেষ পর্যন্ত বিক্ষোভকারীদের কাছে বুলডোজারের চাবি হস্তান্তর করাকে কেউ কেউ নতুন বাস্তবতা বলে দেখছেন।

এই ঘটনার পর বরিশালে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যেকোনো মুহূর্তে নতুন সংঘর্ষের আশঙ্কা করা হচ্ছে। বরিশালের সেরনিয়াবাত ভবন এখন ধ্বংসস্তূপ। এটি শুধু একটি বাড়ি ছিল না, এটি ছিল রাজনৈতিক ক্ষমতার প্রতীক। এক সময়ের ক্ষমতাধর পরিবারের এই পতন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের নতুন দিক নির্দেশ করছে।




মধ্যরাতে ভাঙা হচ্ছে বরিশালের সাদিক আবদুল্লাহর বাড়ি

বরিশালে সাদিক আবদুল্লাহর বাড়িতে ছাত্র জনতার হামলা, আগুন-ভাঙচুর

বরিশাল অফিস: বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর নগরীর কালীবাড়ি রোডের বাসভবনে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে।

বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১২টার পর শতাধিক বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা “সেরনিয়াবাত ভবন” নামের ওই বাড়িতে হামলা চালায়। প্রথমে তারা বাড়ির গেটে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে, পরে প্রধান ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। একইসঙ্গে ভবনের বিভিন্ন স্থানে আগুন ধরিয়ে দেয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে বিক্ষুব্ধরা বাড়ির দেয়াল ভেঙে ভেতরে বুলডোজার প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে। এ সময় সেনাবাহিনীর একটি টিম ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়। তবে উত্তেজিত ছাত্র-জনতা সেনাসদস্যদের উপস্থিতি উপেক্ষা করে “ছাত্রলীগের দালাল” বলে স্লোগান দিতে থাকে। একপর্যায়ে তারা সেনাসদস্যদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়ে।

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত রাত ১টা ৩০ মিনিটের দিকে পরিস্থিতি উত্তপ্ত ছিল এবং সেনাবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালাচ্ছিল।


মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ভোগান্তির স্বীকার লাখো মানুষ,আমতলীতে পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি সেতুর নির্মাণ কাজ

বরগুনার আমতলীর আড়পাঙ্গাশিয়া নদীতে পাঁচ কোটি ৭৩ লাখ ৩৭ হাজার ২৪৮ টাকার সেতুর নির্মাণ কাজ পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি। সাব-ঠিকাদার মো. সগির হোসেনের অবহেলা এবং প্রভাবের কারণে দীর্ঘ সময় ধরে এই কাজ স্থগিত রয়েছে, যার ফলে আমতলী ও তালতলী উপজেলার লাখো মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।

আড়পাঙ্গাশিয়া নদীর ওপর সেতু নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল ২০১০ সালে। তখন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর বেইলি ব্রিজ নির্মাণ করে, যা দিয়ে দুই উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ প্রতিদিন চলাচল করত। তবে ২০১০ সালে ব্রিজটি নড়বড়ে হয়ে পড়লে, ২০২০ সালে নতুন একটি গাডার ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেই সময় ৬০ মিটার দৈর্ঘ্যের আরসিসি গাডার ব্রিজ নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয় এবং পাঁচ কোটি ৭৩ লাখ ৩৭ হাজার ২৪৮ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

ঠিকাদারি কাজ পায় পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলার টিএনএএসআই জেডি নামের একটি প্রতিষ্ঠান, যা ২০২০ সালের এপ্রিল মাসে কাজ শুরু করার কথা ছিল। কিন্তু পরে কাজ সাব-ঠিকাদার মো. সগির হোসেনের কাছে বিক্রি করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, তিনি তৎকালীন সংসদ সদস্য ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর প্রভাব খাটিয়ে কাজ না করে বছর ধরে ফেলে রেখেছেন।

২০২১ সালের এপ্রিল থেকে কাজ শুরুর পর নদীর দুই কিনারে গাডার নির্মাণ করা হলেও, তা অসমাপ্ত অবস্থায় রয়েছে। সাব-ঠিকাদার প্রায় তিন কোটি টাকা উত্তোলন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এখনো তিন বছর পরও কাজ শেষ না হওয়ায় আমতলী ও তালতলী এলাকার মানুষ অবর্ণনীয় ভোগান্তি সহ্য করছে। প্রায় ৪০ কিলোমিটার সড়ক ধরে এই ব্রিজের মাধ্যমে দুই উপজেলার লাখো মানুষ চলাচল করে, কিন্তু বর্তমানে তারা নরবড়ে বেইলি ব্রিজ দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে।

স্থানীয় বাস চালক ও গ্রামের মানুষ এই কাজ দ্রুত শেষ করার দাবি জানাচ্ছেন। আমতলী উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইদ্রিস আলী এবং স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছে, দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য সাব-ঠিকাদারকে চাপ দেওয়া হয়েছে। তবে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোন কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




খুলনায় বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো ‘শেখ বাড়ি’

খুলনায় বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে ‘শেখ বাড়ি’। বুধবার রাত ৯টার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা এই ভাঙচুর চালান।

এদিন, আন্দোলনকারীরা সিটি করপোরেশনের দুটি বুলডোজার ব্যবহার করে বাড়িটি ধ্বংস করতে শুরু করেন। এই সময়, তারা শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দিতে থাকেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাড়ির সামনে অনেক লোক ভিড় জমায়, যদিও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল না। এর আগে, ৪ ও ৫ আগস্টও শেখ বাড়িতে কয়েক দফা ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগ করা হয়েছিল।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ভিন্ন পূজাকে পাওয়া গেলো নতুন গানচিত্রে

জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী বাঁধন সরকার পূজা তার ভক্তদের চমকে দিতে হাজির হয়েছেন এক নতুন গানের সঙ্গে। “এক জনমে হাজার মরণ” শিরোনামের মিউজিক ভিডিওটি প্রকাশিত হয়েছে নতুন বছরের ভালোবাসা দিবসকে সামনে রেখে।

বাঁধন সরকার পূজার দীর্ঘ সঙ্গীত ক্যারিয়ারে রোমান্টিক মেলোডিয়াস গান এবং সফট গানের জন্যই বেশ পরিচিতি রয়েছে। তবে, এই গানটি তার আগের কাজগুলোর থেকে একদম ভিন্ন। পূজা গানটির কণ্ঠে একটি নতুন আঙ্গিক নিয়ে হাজির হয়েছেন, যেখানে তার স্বরটি আগের তুলনায় বেশ মোটা। মিউজিক ভিডিওতেও পূজাকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

গানটির কথা লিখেছেন রাকিব হাসান রাহুল, এবং সুর-সংগীত পরিচালনা করেছেন অদিত রহমান। ভিডিওটি পরিচালনা করেছেন সৈকত রেজা। গানটি ফোক ফিউশন ধারায় এবং এর নতুনত্ব ভক্তদের জন্য এক দারুণ উপহার হিসেবে এসেছে।

বাঁধন সরকার পূজা নিজে বলেন, “এটি আমার এ বছরের প্রথম গান, এবং এটি আমার পুরানো গায়কী থেকে একদম ভিন্ন। আমি বিশ্বাস করি, শ্রোতারা এটি পছন্দ করবেন এবং আমাকে নতুনভাবে আবিষ্কার করবেন।”

গানটি পূজার নিজের ইউটিউব চ্যানেলে ‘পূজা’ এ উন্মুক্ত করা হয়েছে, যেখানে ইতিমধ্যে দর্শকরা প্রশংসা করেছেন এবং নতুন গায়কীকে সবার কাছে ভালোবাসা পাচ্ছেন।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ফেব্রুয়ারি ও মার্চজুড়ে ছাত্র-জনতার দখলে থাকবে রাজপথ : নাহিদ

তথ্যমন্ত্রী নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ফেব্রুয়ারি এবং মার্চ মাসজুড়ে দেশের রাজপথে ছাত্র-জনতার দখল থাকবে এবং তারা ষড়যন্ত্র প্রতিরোধে সক্রিয় থাকবে। তিনি বলেন, ‘‘আমরা আমাদের সংগ্রাম চালিয়ে যাব, এবং ছাত্র-জনতা মাঠে থাকবে।’’

বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বাংলা একাডেমিতে ‘সংবাদপত্রে জুলাই অভ্যুত্থান’ বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এ কথা বলেন। তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম বলেন, “আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ভারতের মধ্যে বসে বাংলাদেশে আতঙ্ক সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। তবে আমরা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিতে চাই যে, আতঙ্ক ছড়িয়ে কোন লাভ হবে না, ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসজুড়ে ছাত্র-জনতা রাজপথে থাকবে।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, “শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য কূটনৈতিক আলোচনা চলছে এবং তাকে ভারতে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর কারণে ভারত সরকারের দায় নিতে হবে।”

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘ভারত শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিয়েছে, এবং আমরা তাদের কাছ থেকে এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানতে চাইব।’’

নাহিদ ইসলামের বক্তব্যে রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে বলা হয়েছে যে, ছাত্র-জনতা এবার রাজপথে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে জুলাই বিপ্লবের শহীদ স্মারক মোড়ক উন্মোচন

বরিশালে অনুষ্ঠিত হলো জুলাই বিপ্লবের শহীদ স্মারক মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর এ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লবের পর থেকে দেশের মানুষ দ্বিতীয়বারের মতো স্বাধীনতা ভোগ করছে এবং এ সময় দেশের ছাত্র-জনতাই ফ্যাসিস্ট শক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল।

প্রধান অতিথি আরো বলেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার পর, ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব ছিল বাংলাদেশের দ্বিতীয় স্বাধীনতা সংগ্রাম। এই বিপ্লবে অংশগ্রহণকারী শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে স্মারকটি উন্মোচন করা হলো। স্মারকে ৭১৭ জন শহীদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে বরিশাল বিভাগের ১৪১ জন শহীদের নাম রয়েছে। এছাড়া, তিনি জানান যে, শহীদদের সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে এবং স্মারকে মোট ২৫০০ পৃষ্ঠার তথ্য থাকবে।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় ছাত্র-জনতা এই আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছিল।” বরিশালে অনুষ্ঠিত এ মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানটি ঢাকাস্থ জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে সরাসরি লাইভ সম্প্রচার করা হয়, যেখানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানও যুক্ত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর বরিশাল মহানগরের আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবর, কর্মপরিষদের সদস্য আমিনুল ইসলাম খসরু এবং জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত পরিবারের সদস্যরা।

এ ধরণের অনুষ্ঠান শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এবং বাংলাদেশের ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কে মনে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে ভাঙা হলো শেখ মুজিবের ম্যুরাল

ঢাকার ধানমন্ডি-৩২ নম্বরে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক বাড়ির ভেতরে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা প্রবেশ করে ম্যুরাল ভাঙচুর করেছে। বুধবার রাত ৮টার দিকে পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিক্ষোভকারীরা বাড়ির গেট ভেঙে প্রবেশ করেন এবং বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালটি ভেঙে ফেলেন। শিক্ষার্থীরা বুলডোজার দিয়ে বাড়িটি ভাঙার প্রস্তুতি নিয়ে থাকলেও নিজেদের হাতে ভাঙচুর শুরু করেন।

বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা দাবি করেন, ‘আমরা এখানেই আছি, বুলডোজার আসুক বা না আসুক, আমরা এই ম্যুরাল ভেঙে ফেলব।’ তারা আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রথম স্বৈরাচারের চিহ্ন মুছে দিতে চায় আমরা। শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে তারা প্রতিবাদ জানাচ্ছে এবং তার শাসনকালে ছাত্র হত্যার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তির দাবি করছে।’

শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘আমরা শেখ মুজিবের ম্যুরাল ভেঙে ঐতিহাসিক অবদানকে মুছে দিতে চাই না, তবে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার কোনো চিহ্ন বাংলাদেশে থাকতে দেওয়া হবে না।’ তারা আরও বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের অস্তিত্ব পুরোপুরি রক্ষা করা হবে, তবে তারা দেশ থেকে পালিয়ে গিয়েছিল এমন ব্যক্তিদের শাস্তি দাবি করছেন।’

এ ঘটনাটি আবারও রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে এবং শেখ হাসিনার বিরোধিতাকারী গোষ্ঠীগুলোর ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




সরিষার ফলনে রঙ্গিন স্বপ্ন দেখছেন বরিশালের কৃষকরা

বরিশালের কৃষকরা এবার সরিষার ফলনে রঙ্গিন স্বপ্ন দেখছেন। জেলার মাঠে মাঠে ফোঁটানো হলুদ সরিষা ফুল কৃষকদের মুখে আনন্দের হাসি ফুটিয়ে তুলেছে। দিন দিন কম খরচে বেশি লাভ হওয়ার কারণে এই চাষ বরিশাল অঞ্চলে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে, ভোজ্যতেলের দাম বৃদ্ধির পর সরিষার চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় কৃষকরা এই চাষে আরও বেশি ঝুঁকছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবছর সরিষার ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে আশা করছেন তারা।

বরিশাল সদর উপজেলার চাঁদপুরা ইউনিয়নের দূর্গাপুর গ্রাম, সায়েস্তাবাদ ইউনিয়নসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় এবার সরিষার আবাদ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। শীতকালীন কুয়াশাচ্ছন্ন সকালগুলোতে সরিষা ফুলের সৌন্দর্য যেন মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখে প্রত্যেককে। মাঠের পর মাঠে সরিষা ফুলের সমারোহ এক অপরূপ দৃশ্য উপস্থাপন করছে।

বরিশাল কৃষি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রেজাউল করিম জানান, গত বছরের তুলনায় এবছর সরিষার আবাদ বৃদ্ধি পেয়েছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে, যার ফলে তাদের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। সরিষার ফুলের মাঝখানে হিমেল হাওয়ায় দুলতে দুলতে কৃষকের মুখে হাসি ফুটছে। এছাড়া, কৃষি প্রেমীরা সরিষার ফুলের মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্য উপভোগ করতে মাঠে আসছেন এবং সেলফি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করছেন।

এছাড়া, এবছর সরিষার বীজ আসতে শুরু করেছে এবং আবহাওয়া অনুকূল থাকলে কৃষকরা আরও ভালো ফলনের আশা করছেন। গত বছর সরিষার বাজার মূল্য ভাল থাকায়, এবছরও সরিষা চাষে কৃষকরা আগ্রহী।

বরিশাল সদর উপ-সহকারী কৃষি অফিসার শামিমা আক্তার জানিয়েছেন, এবছর সরিষার ফলন আগের চেয়ে ভালো হয়েছে এবং তারা তাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সক্ষম হয়েছেন।

বরিশাল কৃষি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রেজাউল করিম আরো জানান, গত বছর বরিশাল জেলায় ৫,৫০০ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ হয়েছিল। এ বছর তা বেড়ে ৬,৬২৯ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে। বাবুগঞ্জ, মুলাদী ও বানারীপাড়া উপজেলায় সরিষার আবাদ সবচেয়ে বেশি হয়েছে। তিনি আশাবাদী যে, কৃষকরা লাভবান হওয়ায় ভবিষ্যতে সরিষার চাষ আরও বৃদ্ধি পাবে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম