অপারেশন ‘ডেভিল হান্ট’ চালাবে যৌথ বাহিনী

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় আনতে যৌথ বাহিনীর সমন্বয়ে বিশেষ অভিযান ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগের পরিচালক ফয়সল হাসান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শুক্রবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে গাজীপুরে ছাত্র-জনতার ওপর সন্ত্রাসী আক্রমণের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে এক জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে সংশ্লিষ্ট এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার লক্ষ্যে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যৌথ বাহিনীর এই অভিযান শনিবার থেকেই গাজীপুরসহ সারাদেশে শুরু হবে।

অভিযান সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে রবিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

শুক্রবার রাতে গাজীপুরে ছাত্র-জনতার ওপর একদল সন্ত্রাসী হামলা চালায়। এতে বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয় এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে যৌথ বাহিনী মাঠে নামে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ছয় সংস্কার কমিশনের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ আজ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত বছরের আগস্টে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান সাবেক স্বৈরাচারী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর রাষ্ট্র সংস্কারে গঠন করা হয় ছয়টি সংস্কার কমিশন। আজ শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) এই কমিশনগুলোর পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।

একই সঙ্গে কমিশনের প্রধানরা পরবর্তী আশু করণীয়, মধ্য মেয়াদি পরিকল্পনা বা ভবিষ্যতে নির্বাচিত সরকার কী করতে পারে— সেটির সর্বসম্মত সুপারিশমালা পেশ করবেন।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, গত বছরের ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নিয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনুস রাষ্ট্রের বিভিন্ন খাতে সংস্কারের জন্য ছয়টি সংস্কার কমিশন গঠন করে দেন। এসব কমিশনকে ৯০ দিন বা তিন মাসে অর্থাৎ ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়।

এরপর নির্ধারিত সময়ের ১৫ দিন পর গত ১৫ জানুয়ারি সংবিধান, নির্বাচন কমিশন, পুলিশ সংস্কার ও দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক এই চারটি সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার কাছে পেশ করা হয়। অপরদিকে জনপ্রশাসন ও বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশন গত বুধবার প্রতিবেদন জমা দেয়।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আজ শনিবার সংস্কার কমিশনের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন ও সুপারিশমালা রাজনৈতিক দল ও গণঅভ্যুত্থানের পক্ষের শক্তির কাছে পাঠানো হবে। এরপর রাজনৈতিক দল ও গণঅভ্যুত্থানের পক্ষের সব শক্তির সঙ্গে আলোচনা এবং সমঝোতাক্রমে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে হবে।‌ এ তারিখ রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করেই ঠিক করা হবে।




আইন মন্ত্রণালয়ের সংস্কার কার্যক্রম: ছয় মাসে অন্তর্বর্তী সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি

  1. নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হতে যাচ্ছে ৮ ফেব্রুয়ারি। এই সময়ের মধ্যে সরকার বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানের সংস্কারে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। বিশেষ করে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিচারব্যবস্থার উন্নয়ন ও ডিজিটালাইজেশনে নেওয়া হয়েছে যুগান্তকারী উদ্যোগ।

বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয়ের উদ্যোগ

অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার দাবি দীর্ঘদিনের। জাতীয় ঐক্যমতের ভিত্তিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা বিচার ব্যবস্থার স্বাধীনতা ও কার্যকারিতা বাড়াবে।

গায়েবি’ মামলা চিহ্নিত ও প্রত্যাহারের উদ্যোগ

বিগত সরকারের সময় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে দায়ের করা ‘গায়েবি’ মামলা চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া চলছে। একইসঙ্গে হয়রানিমূলক ফৌজদারি মামলাগুলোও বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আইন প্রক্রিয়ায় ডিজিটালাইজেশন

আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৩৬ ধরনের ডকুমেন্টের সত্যায়ন প্রক্রিয়া ডিজিটাল করা হয়েছে, যা জনসাধারণের সময় ও খরচ সাশ্রয়ে ভূমিকা রাখবে। একইসঙ্গে উচ্চ আদালতে ই-ফাইলিং চালু হয়েছে এবং মডেল ই-কোর্ট স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যা ভবিষ্যতে সারাদেশে সম্প্রসারিত হবে।

বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের সুপারিশ

৩ অক্টোবর বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশন গঠন করা হয় এবং সম্প্রতি কমিশন প্রধান সাবেক বিচারপতি শাহ আবু নাঈম মমিনুর রহমান সরকারের কাছে ২৮ দফা সুপারিশ সম্বলিত প্রতিবেদন হস্তান্তর করেছেন। এর মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নিয়োগ, শৃঙ্খলা রক্ষা এবং বিচার ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ অন্যতম।

অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও তদন্ত সংস্থা পুনর্গঠন

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়েছে এবং তদন্ত সংস্থার নতুন কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। চলমান মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রসিকিউশন টিমকে আরও শক্তিশালী করা হয়েছে।

বিচারক ও আইন কর্মকর্তাদের নিয়োগ

সুপ্রিম কোর্টে আপিল বিভাগে ৫ জন, হাইকোর্ট বিভাগে ২৩ জন এবং অধঃস্তন আদালতে ১০৯ জন বিচারক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া এটর্নি জেনারেল অফিসে ২৩৯ জন আইন কর্মকর্তা ও দেশের বিভিন্ন জেলার আদালতে প্রায় ৪ হাজার আইন কর্মকর্তা নিয়োগ পেয়েছেন।

বিচার ব্যবস্থা আধুনিকীকরণ ও অবকাঠামো উন্নয়ন

২৩টি জেলার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ভবন, ৬টি চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ভবন, ৫টি মহানগর দায়রা জজ ভবন ও ১০টি জেলা জজ আদালত ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ২৩টি জেলা জজ আদালতের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও চূড়ান্ত করা হয়েছে।

গুম বিরোধী তদন্ত কমিশন ও সনদ অনুসমর্থন

গুম বিরোধী আন্তর্জাতিক সনদ অনুসমর্থনের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং অতীতে গুম হওয়া ব্যক্তিদের সন্ধান ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়েছে।

সংস্কারের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি

আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, বিচার বিভাগের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিদ্যমান আইনগুলো যুগোপযোগী করার পাশাপাশি সাইবার আইন সংশোধন বা বাতিলের বিষয়েও কাজ চলছে।

এই ছয় মাসে অন্তর্বর্তী সরকার আইনি সংস্কারে যে অগ্রগতি দেখিয়েছে, তা ভবিষ্যতে দেশের বিচার ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, কার্যকর ও জনবান্ধব করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।

মো: আল-আমিন




রিশাদের দুর্দান্ত ফিনিশিং, টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন ফরচুন বরিশাল

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ফাইনালে চিটাগং কিংসের প্রথমবারের মতো শিরোপা জয়ের স্বপ্ন ভেঙে দিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হলো ফরচুন বরিশাল। রিশাদ হোসেনের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ১৯৫ রানের লক্ষ্য ছুঁয়ে ইতিহাস গড়ল বরিশাল।

ফাইনালে উত্তেজনার পরিপূর্ণ ম্যাচ

মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে টস হেরে প্রথমে ব্যাটিং করে ৩ উইকেট হারিয়ে ১৯৪ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করায় চিটাগং কিংস। জবাবে, ১৯.৩ ওভারে ৩ উইকেট হাতে রেখে জয় তুলে নেয় বরিশাল, যা বিপিএল ফাইনালে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড।

উড়ন্ত সূচনা ফরচুন বরিশালের

১৯৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে অধিনায়ক তামিম ইকবাল ও তাওহিদ হৃদয় ৭৬ রানের দারুণ জুটি গড়েন। তামিম মাত্র ২৫ বলে অর্ধশতক তুলে নেন। তবে নবম ওভারে শরিফুল ইসলামের বলে তামিম (৫২) ও ডেভিড মালান (১) ফিরে গেলে কিছুটা চাপে পড়ে বরিশাল। হৃদয়ও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি, ২৮ বলে ৩২ রান করেন।

রিশাদের ব্যাটে নাটকীয় সমাপ্তি

শেষদিকে ফরচুন বরিশালের জয়ের পথ মসৃণ করেন রিশাদ হোসেন। ৬ বলে ১৮ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে দলকে শিরোপা এনে দেন এই তরুণ ক্রিকেটার।

চিটাগং কিংসের দুর্দান্ত ব্যাটিং

এর আগে চিটাগং কিংসের হয়ে ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমন ও খাজা নাফে দারুণ সূচনা এনে দেন। বিপিএল ফাইনালে প্রথমবারের মতো এক দলের দুই ওপেনার অর্ধশতক হাঁকান। পাওয়ারপ্লেতে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৫৭ রান তোলে চিটাগং। ইমন ৩০ বলে হাফ-সেঞ্চুরি করেন, আর নাফে ৪৪ বলে ৬৬ রান করেন।

তবে নাফে ফিরে যাওয়ার পরেও ইমন ও গ্রাহাম ক্লার্ক চিটাগংয়ের রানের গতি ধরে রাখেন। ক্লার্ক ২৩ বলে ৪৪ রান করেন, তবে রান আউট হয়ে ফিরে যান। ইমন অপরাজিত থাকেন ৪৯ বলে ৭৮ রান করে।

মোহাম্মদ আলির দুর্দান্ত বোলিং

চিটাগং কিংসের রান আরও বড় হতে পারতো, কিন্তু ফরচুন বরিশালের বোলাররা নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেন। বিশেষ করে পাকিস্তানি পেসার মোহাম্মদ আলি ৪ ওভারে মাত্র ২১ রান দিয়ে ১ উইকেট নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

বরিশালের অবিস্মরণীয় জয়

ফাইনালে রেকর্ড রান তাড়া করে জয় তুলে নিয়ে বিপিএলে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখল ফরচুন বরিশাল। বিশেষ করে রিশাদ হোসেনের শেষ মুহূর্তের দুর্দান্ত ব্যাটিং এই জয়ে বড় অবদান রাখে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




কলাপাড়ায় গণ অধিকার পরিষদের নেতা রবিউল আউয়াল অন্তর নিখোঁজ

পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়ায় গণ অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির মুক্তিযোদ্ধা ও স্বাধীনতা বিষয়ক সহ-সম্পাদক রবিউল আউয়াল অন্তর (৩০) বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে নিখোঁজ হয়েছেন। তিনি কলাপাড়া পৌরশহরের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে মোটরসাইকেলযোগে বাড়ি ফিরছিলেন। তবে কিছুক্ষণ পর তার মোটরসাইকেলটি কলাপাড়া-পটুয়াখালী মহাসড়কের পায়রা পোর্টের রজপাড়া মাদ্রাসা সংলগ্ন সড়কে পার্কিং অবস্থায় পাওয়া যায়। মোটরসাইকেলের পাশে একটি হেলমেটও উদ্ধার করা হয়। তার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় অন্তরের বড় ভাই তুষার আল মামুন থানায় অভিযোগ করেছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রবিউল আউয়াল অন্তর কলাপাড়া পৌর শহরের ডিজিটাল প্রিন্টিং প্রেস ‘গ্রাফিক্স ওয়াল’ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে রাত ১১টার দিকে বাড়ি ফিরছিলেন। পরে গভীর রাতে পুলিশের কল পেয়ে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি জানতে পারেন।

রবিউল আউয়ালের বাবা মো. সোলায়মান জানান, তার ছেলে পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের ক্ষতিপূরণ আদায়, তাদের সদস্যদের চাকরি এবং আট দফা দাবি আদায়ের জন্য দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছিলেন। তাদের পরিবারের সদস্যরা এখন আতঙ্কিত এবং উৎকণ্ঠায় রয়েছেন।

কলাপাড়া থানার ওসি মো. জুয়েল ইসলাম জানান, পায়রা পোর্ট ফোরলেন সড়কের নিরাপত্তা কর্মীরা পরিত্যক্ত মোটরসাইকেলটি দেখে থানায় অবহিত করেন, পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সেটি উদ্ধার করে। রবিউল আউয়াল অন্তরের নাম খচিত মোটরসাইকেলটি পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, এ ঘটনায় পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার একাধিক ইউনিট অনুসন্ধান করছে, তবে বিষয়টি গোপন রাখা হচ্ছে।

 

মো: আল-আমিন




পটুয়াখালী ইপিজেড: অর্থনীতির নতুন দিগন্ত

উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালীর অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আনতে নির্মাণ করা হচ্ছে রফতানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা (ইপিজেড)। সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের পাঁচকোরালিয়া গ্রামে ৪১৮ একর জমির ওপর এই বিশাল প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। এটি সম্পন্ন হলে কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ এবং ব্যবসার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রকল্পের অগ্রগতি

২০২৩ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। ২০২৬ সালের মধ্যে বিনিয়োগকারীদের জন্য প্লট বরাদ্দ দেওয়া হবে বলে জানা গেছে। প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১,৪৪৩ কোটি টাকা, যার মধ্যে ১,১০৫ কোটি টাকা আসবে সরকারি তহবিল থেকে এবং বাংলাদেশ রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেপজা) দেবে ৩৩৮ কোটি টাকা।

প্রকল্প পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম জানান, আগামী ছয় মাসের মধ্যে পুরো মাটি ভরাটের কাজ শেষ হবে। বর্তমানে ১৩০ একর জমিতে বালু ভরাটের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ১৫৪টি পরিবারের জন্য আবাসন নির্মাণের কাজ চলছে। পাশাপাশি ড্রেন, ফুটপাত, কালভার্ট, স্কুলসহ আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলছে।

কী থাকছে ইপিজেডে?

৩০৬টি শিল্প প্লট

৩ লাখ মিটার দীর্ঘ রাস্তা

৩০ হাজার মিটার ড্রেনেজ ব্যবস্থা

১০টি অফিস ও আবাসিক ভবন

হেলিপ্যাড ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সুবিধা

বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ

ইপিজেডে প্লট বরাদ্দের আগেই দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আগ্রহ দেখিয়েছেন। তাদের মূল দাবি, জ্বালানি ও অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিত করা হলে বিনিয়োগ আরও সহজ হবে।

প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সচিব মো. সাইফুল্লাহ পান্না জানান, ২০২৬ সালের শুরুতে বিনিয়োগকারীদের প্লট বরাদ্দ দেওয়া হবে। দ্রুত কাজ সম্পন্ন হলে পটুয়াখালীর অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আসবে।

স্থানীয়দের স্বপ্ন ও কর্মসংস্থান

এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ২ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা আশাবাদী যে, ইপিজেড চালু হলে বাসাভাড়া, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

স্থানীয় বাসিন্দা আবুল বাসার বলেন, “আমাদের এলাকার অনেক তরুণ এখনো বেকার। ইপিজেড চালু হলে তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।”

জমিদাতা পরিবারের জন্য বিশেষ সুবিধা

প্রকল্পের জমিদাতা ১২৬টি পরিবারের জন্য আশ্রয়ণ এলাকা নির্মাণ করা হবে, যেখানে থাকবে আধুনিক স্যানিটেশন, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা।

পটুয়াখালী ইপিজেড শুধুমাত্র একটি শিল্প এলাকা নয়, এটি উপকূলীয় অর্থনীতিকে এগিয়ে নেওয়ার এক বিশাল সুযোগ। বিনিয়োগকারীদের সঠিক সুবিধা দেওয়া হলে এটি দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্প হাব হয়ে উঠতে পারে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




আওয়ামী লীগের শাসন ও বিভাজনের বিরুদ্ধে জামায়াত আমিরের বক্তব্য

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আওয়ামী লীগ দেশের সব সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করেছে এবং প্রশাসন ও বিচার ব্যবস্থাকে পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তিনি বলেন, “সংবিধানে যেসব অধিকার দেওয়া হয়েছে, তা নিশ্চিত করা হবে। শাসন ক্ষমতায় যারা আসবে, তাদের দায়িত্ব দেশের নাগরিকদের অধিকার নিশ্চিত করা, যা কোনো দয়ার দান নয়।”

আজ শুক্রবার নারায়ণগঞ্জের ওসমানী পৌর স্টেডিয়ামে জামায়াতে ইসলামীর জেলা ও মহানগর শাখার আয়োজনে এক বিশাল জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, “দেশের প্রতিটি নাগরিকের অধিকার পাওয়ার অধিকার রয়েছে এবং বৈষম্য সমাজে কোনোভাবেই সহ্য করা যাবে না। মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা ছিল সকল নাগরিকের সমান অধিকার।”

নারায়ণগঞ্জের সাবেক এমপি শামীম ওসমানকে উদ্দেশ্য করে জামায়াত আমির বলেন, “নারায়ণগঞ্জের জনগণ অনেক সময় ধরে কষ্ট ভোগ করেছে, এই শহরকে সন্ত্রাসের রাজধানী বানানো হয়েছিল। এ সময় তিনি গোলাম আযমের বিরুদ্ধে সড়কে ৭২ ফুট লম্বা ব্যানারের কথা উল্লেখ করেন, যেখানে লেখা ছিল ‘নারায়ণগঞ্জে গোলাম আযমের প্রবেশ নিষিদ্ধ।’

তিনি আরও বলেন, “শামীম ওসমান বলেছিলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে খুনের মামলা করা হবে,’ কিন্তু তিনি মনে করেন, সরকারের জুলুমের কারণে গোলাম আযম মারা গেছেন। দাম্ভিকতা ও অহংকার কখনো ভালো ফল দেয় না, সন্ত্রাসকে প্রশ্রয় দেওয়া উচিত নয়।”

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “গত ৫৪ বছর ধরে আওয়ামী লীগ জাতিকে বিভক্ত করে রেখেছে। তারা পাহাড়িদের নিয়ে বিভক্তি সৃষ্টি করেছে এবং আজও ওই বিভক্তি চলমান রয়েছে। এখনো সেখানকার শান্তি প্রতিষ্ঠা হয়নি।”

তিনি আরো বলেন, “শেখ হাসিনা পালিয়ে গিয়েও দেশে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে চাচ্ছেন। দেশের টাকা চুরি-ডাকাতি করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। সেই টাকা ফিরিয়ে এনে জনগণের উন্নয়নে ব্যয় করতে হবে।”

এ সময় জামায়াতে ইসলামীর অন্যান্য নেতারাও উপস্থিত ছিলেন, যার মধ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, ঢাকা দক্ষিণ অঞ্চলের সাইফুল আলম খান মিলন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম, ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন ও দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল উপস্থিত ছিলেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




শিগগিরই আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসছে: উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ

বাংলাদেশে রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার বিষয়ে সরকার শিগগিরই পদক্ষেপ নিতে পারে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করার ব্যাপারে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও এক ধরনের ঐকমত্য তৈরি হয়েছে। দেশের জনগণ তাদের অগণতান্ত্রিক কার্যকলাপ মেনে নিতে পারেনি বলেই ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের আগে ও পরে এই দলটিকে নিষিদ্ধ করার দাবি আরও জোরালো হয়েছে।

শুক্রবার বার্তা সংস্থা বাসস-এর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি জানান, বিচারিক প্রক্রিয়া ছাড়াও চারটি আইন রয়েছে, যেখানে নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে যে কোনো দলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব। তবে এ বিষয়ে সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো আসেনি।

তথ্য অনুযায়ী, বিচারিক প্রক্রিয়ায় আওয়ামী লীগের সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে তাদের দলীয় নিবন্ধন বাতিলসহ অন্যান্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। তবে, সবকিছুই আইনের আওতায় থেকে হবে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থীদের নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের বিষয়ে তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়েছে। ইতিহাস বলছে, যারা গণঅভ্যুত্থান ঘটায়, তারা পরবর্তী রাজনৈতিক কাঠামোয় জড়িত না থাকলে তাদের অর্জনগুলো নষ্ট হয়ে যায়।

এ কারণে অনেক শিক্ষার্থী নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের চিন্তা করছে। তবে দলটির নাম এখনো চূড়ান্ত হয়নি এবং ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয়ার্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে।

নতুন দল গঠনে সরকারের কোনো প্রতিনিধি থাকবে কিনা জানতে চাইলে আসিফ মাহমুদ বলেন, যারা সরকারে আছেন, তারা যদি নতুন রাজনৈতিক দলে যোগ দিতে চান, তবে অবশ্যই সরকার থেকে পদত্যাগ করতে হবে।

কারণ বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন এবং ফ্যাসিস্ট শক্তির বিচার নিশ্চিত করা। কোনো ধরনের স্বার্থের সংঘাত যেন তৈরি না হয়, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা নেওয়া হবে।

সংস্কার ও নির্বাচনের বিষয়ে তিনি বলেন, দুটি বিষয় সাংঘর্ষিক নয় বরং পরস্পর সম্পূরক।

তিনি বলেন, ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর মানুষের প্রত্যাশা ছিল, কোনো একক দলকে ক্ষমতায় বসালে তারা পূর্বের মতোই শাসন করবে। তাই সরকার একটি ইতিবাচক রাজনৈতিক কাঠামো নির্মাণের দায়িত্ব নিয়েছে।

এদিকে, সংস্কার কমিশনের ছয়টি প্রতিবেদন যথাযথভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করা হবে বলে তিনি জানান।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনার সময় যারা বলেছিল যে, বিদ্যমান কাঠামোয় নির্বাচন সম্ভব নয়, তারা এখন কিভাবে সেই কাঠামোর মধ্যেই নির্বাচন চাচ্ছে, সেটি পরিষ্কার হওয়া দরকার।

তিনি আরও বলেন, “সংস্কার ছাড়া নির্বাচন করলে যে দলই ক্ষমতায় আসুক, তাদের জন্য সরকার পরিচালনা কঠিন হয়ে যাবে। এজন্যই আমাদের ছয়টি সংস্কার কমিশনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




তেল সংকট বাড়ছে, সামান্য কমেছে চালের দাম

দেশের বাজারে বেশিরভাগ পণ্যের দাম স্বাভাবিক থাকলেও চাল ও সয়াবিন তেলের বাজারে অস্থিরতা কাটছে না। সাম্প্রতিক সময়ে চালের দাম কিছুটা কমলেও সয়াবিন তেলের সংকট আরও বেড়েছে। সরবরাহ কম থাকায় ভোক্তারা চড়া দামে তেল কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।

তেল সংকটের কারণ কী?

রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বেশিরভাগ দোকানে সয়াবিন তেলের সরবরাহ কমে গেছে। কিছু দোকানে তেল থাকলেও তা চাহিদার তুলনায় অনেক কম। ব্যবসায়ীরা বলছেন, উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ও বড় ডিলাররা তেলের সরবরাহ সীমিত করে ফেলেছে, যার ফলে বাজারে সংকট তৈরি হয়েছে।

খুচরা বিক্রেতারা অভিযোগ করছেন, কোম্পানিগুলো সরাসরি অর্ডার নিচ্ছে না। বরং, কিছু ডিলার বাজার নিয়ন্ত্রণ করে বেশি দামে তেল বিক্রি করছে। ফলে খুচরা বিক্রেতাদের লাভ হচ্ছে না, আর ভোক্তাদের বেশি দামে তেল কিনতে হচ্ছে।

এক ব্যবসায়ী জানান, অনেক কোম্পানি তেল কেনার জন্য চাপাতা, আটা বা অন্যান্য পণ্যও নিতে বাধ্য করছে। এতে ব্যবসায়ীরা চাপে পড়ছেন, কারণ সব পণ্য বিক্রি করা তাদের জন্য সহজ নয়।

চালের দাম কিছুটা কমেছে

বাজারে চালের দাম কিছুটা কমলেও তা খুচরা পর্যায়ে এখনো পুরোপুরি প্রভাব ফেলেনি। পাইকারি বাজারে মোটা চালের দাম প্রতি কেজিতে ১-২ টাকা কমেছে। খুচরা বাজারে এই প্রভাব পড়তে কয়েকদিন সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে বর্তমানে চালের দাম নিম্নরূপ:

মোটা চাল: ৫৫-৬০ টাকা প্রতি কেজি

মাঝারি চাল: ৬৫-৬৮ টাকা প্রতি কেজি

সরু চাল: ৭২-৮৫ টাকা প্রতি কেজি

ব্যবসায়ীরা বলছেন, চালের আমদানি বাড়ার ফলে মোকামে দাম কিছুটা কমছে। তবে গত কয়েক মাসে চালের দাম কেজিপ্রতি ৪-৬ টাকা বেড়েছিল, যা পুরোপুরি কমতে সময় লাগবে।

সবজি ও অন্যান্য পণ্যের বাজার

শীতকালীন সবজির সরবরাহ ভালো থাকায় বাজারে দাম এখনো স্বাভাবিক রয়েছে। নতুন আলু ২০-২৫ টাকা, পেঁয়াজ ৫০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। বেশিরভাগ সবজি ৩০-৫০ টাকা কেজির মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। ফুলকপি ও বাঁধাকপি প্রতি পিস ২০-৩০ টাকা এবং লাউ ৫০-৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

তবে মুরগির বাজার এখনো চড়া।

ব্রয়লার মুরগি: ১৯০-২০০ টাকা প্রতি কেজি

সোনালী মুরগি: ৩২০-৩৪০ টাকা প্রতি কেজি

ডিম: প্রতি ডজন ১৩০-১৩৫ টাকা

রমজান সামনে রেখে ডাল ও ছোলার দামে তেমন পরিবর্তন হয়নি। মসুর ডাল ১৩০-১৪০ টাকা ও ছোলা ১১০-১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, রমজানকে কেন্দ্র করে বড় ব্যবসায়ীরা বাজার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। সরকার বাজার মনিটরিং বাড়ালে তেলের সংকট এবং চালের দাম আরও কমতে পারে।

 

মো: আল-আমিন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে সরকার

দেশের বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের যেকোনো অপচেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে বলে জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। আজ প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, সম্প্রতি কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠী দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করছে। বিভিন্ন স্থানে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটছে। সরকার এ ধরনের অপরাধ কঠোর হাতে দমন করবে এবং এর সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।

সরকার নাগরিকদের জানমাল রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, যদি কেউ পরিকল্পিতভাবে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করে, তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত ব্যবস্থা নেবে এবং দোষীদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ইতোমধ্যে সারাদেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং যে কোনো ধরনের সহিংসতার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।

এদিকে, বিশ্লেষকদের মতে, দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করার যেকোনো প্রচেষ্টা অর্থনৈতিক অগ্রগতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সরকার এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

মো: আল-আমিন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম