ঢাকার শিল্পে গ্যাস সংকট মেটাতে ভোলার গ্যাস এলএনজিতে আনা হবে

ঢাকা ও আশপাশের শিল্প-কারখানায় দীর্ঘদিন ধরে তীব্র গ্যাস সংকট মোকাবিলায় ভোলার প্রাকৃতিক গ্যাস এলএনজিতে রূপান্তর করে সরবরাহের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ ও পেট্রোবাংলা। প্রাথমিকভাবে দেশী-বিদেশী নয়টি কোম্পানি আগ্রহ দেখালেও চারটি প্রতিষ্ঠানকে চূড়ান্তভাবে সংক্ষিপ্ত তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। অনুমোদন পেলে কোম্পানিগুলো ১২ থেকে ২৪ মাসের মধ্যে সরবরাহ শুরু করবে।

জ্বালানি বিভাগ জানায়, ভোলার গ্যাস এলএনজি আকারে সরবরাহের জন্য চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানগুলো হলো:

  • রাশিয়ার গ্যাজপ্রম ইপি ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড,
  • চীনের চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইম্পোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশন (সিএমসি)সিএনপিসি চাংগিং ড্রিলিং ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি,
  • সিঙ্গাপুরভিত্তিক জিসিজি এলএনজি কোম্পানি

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, “ঢাকা ও আশপাশের শিল্প এলাকায় গ্যাসের তীব্র সংকটের কারণে ভোলার এলএনজি সরবরাহে শিল্প মালিকদের আগ্রহ রয়েছে। প্রক্রিয়াটি জটিল হলেও আমরা দ্রুত অগ্রগতি করার চেষ্টা করছি।”

এর আগে ক্ষমতাচ্যুত সরকার ইন্ট্রাকো সিএনজিকে ভোলা থেকে কমপ্রেসড ন্যাচারাল গ্যাস (CNG) আনার দায়িত্ব দিয়েছিল। তবে দৈনিক সরবরাহ মাত্র ৫ মিলিয়ন ঘনফুট, যা চাহিদার তুলনায় সীমিত। নতুন উদ্যোগে এলএনজি আনার মাধ্যমে চাহিদা পূরণ এবং শিল্প-কারখানায় পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।

সরবরাহ প্রক্রিয়ায় প্রতিটি ঘনমিটারের জন্য মূল্য নির্ধারণ প্রস্তাব ৪৭.৫০ টাকা হিসেবে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে (বিইআরসি) পাঠানো হয়েছে। এই প্রস্তাব ২৩ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সভায় চূড়ান্ত করা হবে; না হলে গণশুনানির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

জ্বালানি বিভাগ সূত্র জানায়, দৈনিক ৩০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি নদীপথে ভোলা থেকে আনা হবে। ঢাকায় পৌঁছালে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের অধীনে ৩২টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করা হবে। এ প্রতিষ্ঠানগুলোর মোট চাহিদা প্রায় ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট।

ভোলায় এখন পর্যন্ত তিনটি গ্যাস ক্ষেত্রের নয়টি কূপ থেকে দৈনিক উৎপাদনক্ষমতা ১৯০ মিলিয়ন ঘনফুট হলেও বর্তমানে মাত্র ৭০ মিলিয়ন ঘনফুট উত্তোলন হচ্ছে। পেট্রোবাংলা আরও ১৫টি কূপ খননের কাজ করছে। সরকারি ও বেসরকারিভাবে নতুন শিল্প-কারখানা নির্মাণ হলে ভোলার গ্যাসের চাহিদা বাড়বে, যেখানে এলএনজি আনার মাধ্যমে চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম




তালতলীর ‘ভাইরাস আক্রমণে কোটি টাকার ক্ষতি: কৃষকরা দেনার মধ্যে বিপর্যস্ত

বরগুনার তালতলী উপজেলার সওদাগরপাড়া এলাকার ‘সবজি গ্রামে’ শিম চাষিরা এবছর ভাইরাস আক্রমণে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন। গাছের পাতা, ফুল ও শিম হলুদ হয়ে যাওয়ায় একেক কৃষক প্রায় লাখ টাকা দেনায় পড়েছেন। এ বছর স্থানীয় বাজার ও পাইকারি বাজারে শিম বিক্রি সম্ভব হবে না বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

কৃষক আব্দুল মান্নান ফকির বলেন, “আমরা প্রায় এক লাখ টাকা খরচ করেছি, কিন্তু শিম গাছ নষ্ট হয়ে গেছে। এখন মরণ ছাড়া কোনো উপায় নেই।” তাঁর মতো আরও দুই শতাধিক কৃষক একই অবস্থার মধ্যে রয়েছেন। চলতি মৌসুমে এই অঞ্চলের শিম চাষ থেকে প্রায় ৬ থেকে ৭ কোটি টাকার ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এ এলাকার কৃষকরা দীর্ঘ দেড় দশক ধরে সমবায় পদ্ধতিতে শিম ও অন্যান্য সবজি চাষ করে আসছেন। প্রতিবছর জেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ৬-৭ কোটি টাকার শিম বিক্রি হয়। তবে এবছর ভাইরাসের কারণে ২২ একরের মধ্যে ২০ একর জমিতে শিম গাছ নষ্ট হয়েছে।

কৃষক মো. আরিফ বলেন, “চেয়ারম্যান, মেম্বার বা কৃষি কর্মকর্তাদের কোনো সহযোগিতা নেই। লাখ টাকা খরচ করে চাষ করেছি, কিন্তু লাভের কোনো আশা নেই।” সেলিম ফকিরও জানিয়েছেন, “সরকারিভাবে সাহায্যের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেলেও কোনো সহায়তা পাইনি।”

বরগুনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক রথীন্দ্র নাথ বিশ্বাস জানান, প্রাথমিকভাবে মাঠ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পটুয়াখালী কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়েছে। কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, “প্রতি বছর এক ধরনের সবজি চাষ না করা এবং বিভিন্ন সবজি চাষ করলে ভাইরাসের আক্রমণ প্রতিরোধ সম্ভব।”

তিনি আরও জানান, সরকারিভাবে প্রণোদনা থাকলেও ক্ষতিগ্রস্ত সকল কৃষককে সম্পূর্ণ সহায়তা দেওয়া সম্ভব নয়। তবে প্রদর্শনী ও প্রকল্পের মাধ্যমে কিছু কৃষককে সহায়তা করা হচ্ছে।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম




শহীদ ওসমান হাদির স্মরণে নলছিটিতে অর্ধদিবস দোকানপাট বন্ধ

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শহীদ শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পর তার জন্মস্থান ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলাজুড়ে এখনো শোকের আবহ বিরাজ করছে। গ্রাম থেকে শহর—সর্বত্র চলছে শোক, বেদনা ও শ্রদ্ধার বহিঃপ্রকাশ।

শহীদ ওসমান হাদির স্মরণে শনিবার (২০ ডিসেম্বর) নলছিটি উপজেলা ব্যবসায়ী সমিতির উদ্যোগে অর্ধদিবস দোকানপাট বন্ধ রাখা হয়। দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত উপজেলার সকল ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে। একই সঙ্গে সকাল থেকেই শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়।

এ উপলক্ষে সকালে নলছিটি পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকায় শোকবার্তা প্রচারের জন্য মাইকিং করা হয়। ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ কালো ব্যাজ ধারণ করে শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

নলছিটি পৌর বস্ত্র ব্যবসায়ী কমিটির সভাপতি নেওয়াজ হোসাইন বলেন, “শরিফ ওসমান হাদি শুধু একজন ব্যক্তি নন, তিনি নলছিটির মানুষের গর্ব। তাঁর সাহসী অবস্থান ও প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর আমাদের অনুপ্রেরণা। তাঁর স্মরণে এই কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, শহীদ ওসমান হাদির পরিচিতি এখন আর নলছিটির গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই। তাঁর আদর্শ, সংগ্রাম ও আত্মত্যাগ সারা দেশে মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে।

ব্যবসায়ী নেতা শাহাদাত ফকির, রফিকুল ইসলাম ও জিয়াউল কবীর মিঠু বলেন, “শরিফ ওসমান হাদি ছিলেন একজন জাতীয় বীর। এমন একজন সাহসী ও সম্ভাবনাময় নেতৃত্বশীল মানুষকে হারিয়ে দেশ অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়েছে।”

তারা শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বিএনপির মনোনয়নে চমক আসছে যেসব আসনে, সুখবরের অপেক্ষায় একাধিক নেতা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাদের প্রার্থী তালিকায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রদবদলের ইঙ্গিত দিয়েছে। দলটির তিন দিনের কেন্দ্রীয় কর্মশালায় যাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, তাদের মনোনয়ন প্রায় নিশ্চিত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অন্যদিকে যাদের ডাকা হয়নি, সেই সব আসনে প্রার্থী পরিবর্তনের সম্ভাবনা জোরালো হচ্ছে।

দলীয় সূত্র জানায়, কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের তালিকা বিএনপির হাইকমান্ডের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের প্রতিফলন। ফলে কয়েকটি আসনে নতুন মুখ বা পরিবর্তিত প্রার্থীর আগমনের বিষয়টি প্রায় নিশ্চিত বলেই ধরা হচ্ছে।

বিশেষ করে ঝালকাঠি-২, চট্টগ্রাম-৪, চট্টগ্রাম-৬ ও যশোর-৬ আসনে পরিবর্তনের আভাস মিলেছে। ঝালকাঠি-২ আসনের ঘোষিত প্রার্থী ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টু এবং চট্টগ্রাম-৬ আসনের গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীসহ কয়েকজনকে কর্মশালায় আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। আবার চট্টগ্রাম-৪ আসনে পূর্বঘোষিত প্রার্থী কাজী সালাউদ্দিনের পরিবর্তে আসলাম চৌধুরীকে কর্মশালায় ডাকা হয়, যা রদবদলের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এদিকে এখনো ফাঁকা থাকা ২৮টি আসনের মধ্যেও সুখবর পাচ্ছেন কয়েকজন নেতা। লক্ষ্মীপুর-১ আসনে শাহাদাত হোসেন সেলিম এবং লক্ষ্মীপুর-৪ আসনে আশরাফ উদ্দিন নিজানকে কর্মশালায় আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ফলে এই দুই আসনে ধানের শীষে নির্বাচন করবেন তারা—এমনটাই ধারণা করা হচ্ছে। বাকি ফাঁকা আসনের কিছু মিত্রদের জন্য সংরক্ষিত থাকলেও চূড়ান্ত ঘোষণা আসবে শিগগিরই।

বাগেরহাট জেলার চারটি সংসদীয় আসনেও বিএনপি তাদের সম্ভাব্য প্রার্থী প্রায় চূড়ান্ত করেছে। বাগেরহাট-১ আসনে কপিল কৃষ্ণ মন্ডল, বাগেরহাট-২ আসনে ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন, বাগেরহাট-৩ আসনে ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম এবং বাগেরহাট-৪ আসনে সোমনাথ দে—এই চারজনই গুলশানে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন। এতে তাদের মনোনয়ন নিশ্চিতের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।

দলীয় সূত্র আরও জানায়, যাদের ডাকা হয়নি, তা ইচ্ছাকৃত সিদ্ধান্ত। এতে বোঝা যায়—যাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, তারাই বিএনপির চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী মাঠে থাকবেন। পাশাপাশি শরিক দলগুলোর জন্য ছাড় দেওয়া আসন নিয়েও দ্রুত সমাধান আসবে।

উল্লেখ্য, গত ৩ নভেম্বর বিএনপি প্রথম দফায় ২৩৬টি আসনে এবং ৪ ডিসেম্বর আরও ৩৬টি আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করে। মোট ২৭২টি আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে।

কর্মশালাগুলোতে ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথি হিসেবে যুক্ত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি প্রার্থীদের নির্বাচনী কৌশল, ভোটার ব্যবস্থাপনা, কেন্দ্রভিত্তিক এজেন্ট নিয়োগ, ডিজিটাল প্রচারণা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবস্থাপনা নিয়ে দিকনির্দেশনা দেন।

দলীয় নেতারা বলছেন, এসব কর্মশালার মাধ্যমে বিএনপি নির্বাচনের জন্য মাঠপর্যায়ে সুসংগঠিত প্রস্তুতি নিচ্ছে। ভোটারদের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়া, গুজব ও অপপ্রচার মোকাবিলা এবং কেন্দ্রভিত্তিক শক্ত অবস্থান তৈরিই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




হাদি হত্যার বিচার ও গ্রেপ্তারের দাবিতে ঝালকাঠিতে তৃতীয় দিনের মতো অবরোধ

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে তার নিজ জেলা ঝালকাঠিতে টানা তৃতীয় দিনের মতো বরিশাল-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে ছাত্র-জনতা।

রোববার (২১ ডিসেম্বর) বেলা ২টার দিকে ঝালকাঠি শহরের কলেজ মোড় এলাকায় বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা জড়ো হন। পরে তারা বরিশাল-খুলনা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করলে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এতে সড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয় এবং যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ঝালকাঠি গণঅধিকার পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান সাগর বলেন, “ভারতীয় আগ্রাসন ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়ার কারণেই শরীফ ওসমান হাদিকে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার এতদিন পেরিয়ে গেলেও মূল অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা হয়নি। আমরা আমাদের ভাইয়ের হত্যার বিচার না পাওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়বো না।”

তিনি আরও বলেন, “হাদি শহিদ হয়েছেন। প্রয়োজন হলে আমরাও শহিদ হতে প্রস্তুত। কিন্তু এই হত্যার বিচার আদায় করেই আমরা ঘরে ফিরবো।”

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ঝালকাঠি জেলার যুগ্ম আহ্বায়ক ইয়াসিন ফেরদৌস ইফতি বলেন, “হাদি হত্যার পেছনে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র রয়েছে। যারা এই হামলার সঙ্গে জড়িত, তাদের এখনো আইনের আওতায় আনা হয়নি। এটি প্রশাসনের চরম ব্যর্থতা।”

সংগঠনটির জেলা সদস্য সচিব রাইয়ান বিন কামাল অভিযোগ করে বলেন, “গত কয়েক দিন ধরে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো ঊর্ধ্বতন প্রশাসনিক কর্মকর্তা এসে আমাদের দাবির কথা শোনেননি। আজ পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে না আসা পর্যন্ত আমরা সড়ক ছাড়বো না।”

এদিকে ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, অবরোধের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে এবং আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তবে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ঝালকাঠির পুলিশ সুপার মিজানুর রহমানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশাল বিমানবন্দরের নাম ‘শহীদ ওসমান হাদি’ করার দাবি

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বরিশালের বাবুগঞ্জে বিক্ষোভ মিছিল ও ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। একই সঙ্গে বরিশাল বিমানবন্দরের নাম ‘শহীদ ওসমান হাদি’ করার দাবি জানান আন্দোলনকারীরা।

রোববার (২১ ডিসেম্বর) সকাল ১০টার দিকে বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বরিশাল জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি সবুজ আকনের নেতৃত্বে এই কর্মসূচি শুরু হয়। সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতাকর্মীরা সেখানে জড়ো হন। পরে জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে তারা ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেন।

অবরোধের কারণে প্রায় এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে ঢাকার সঙ্গে বরিশালের সরাসরি যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে। সড়কের উভয় পাশে ছোট-বড় দুই শতাধিক যানবাহন আটকে পড়ে, এতে যাত্রী ও চালকদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। বিক্ষোভ চলাকালে আন্দোলনকারীরা ব্যানার, ফেস্টুন ও বিভিন্ন স্লোগানের মাধ্যমে তাদের দাবি তুলে ধরেন।

বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা বলেন, ওসমান হাদি ছিলেন একজন প্রতিবাদী ও বিপ্লবী রাজনৈতিক নেতা। তাকে প্রকাশ্যে গুলি করা হয় এবং পরবর্তীতে বিদেশে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এই হত্যাকাণ্ড কোনোভাবেই বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এর পেছনে গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে। বক্তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

সমাবেশে ছাত্রনেতা সবুজ আকন বলেন, “ওসমান হাদিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। ভারতের আগ্রাসী ভূমিকার বিরুদ্ধে কথা বলার কারণেই তাকে টার্গেট করা হয়। এই হত্যার দায় প্রশাসন ও শেখ হাসিনার সরকার এড়াতে পারে না। আওয়ামী লীগ বাংলাদেশকে জঙ্গিবাদী রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়।”

তিনি আরও বলেন, “ওসমান হাদি বরিশালের সন্তান। তার আত্মত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবে বরিশাল বিমানবন্দরের নাম ‘শহীদ ওসমান হাদি’ রাখা উচিত। এটি শুধু একটি নামকরণ নয়, বরং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রতীক হবে।”

বেলা ১১টার দিকে অবরোধ শুরু হয়ে সাড়ে ১২টার দিকে তা প্রত্যাহার করা হলে মহাসড়কে পুনরায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




হাতিয়ায় নির্বাচনী হুমকি: প্রধান অভিযুক্ত অমি আটক

নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রার্থী আবদুল হান্নান মাসউদের প্রতি হত্যার হুমকির অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, আর এ ঘটনায় মূল অভিযুক্ত হিসেবে ইসরাত রায়হান অমিকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার রাত সোয়া ১১টার দিকে চরঈশ্বর ইউনিয়নের নন্দ রোড এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আটক অমি সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হালিম আজাদের ছেলে, এবং এলাকার রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ সক্রিয় ছিলেন।
এর আগে ১৮ ডিসেম্বর রাতে জাতীয় নাগরিক পার্টির হাতিয়া উপজেলা সমন্বয়কারী শামছল তিব্রিজ কর্তৃক থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়, যেখানে উল্লেখ করা হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘Israt Raihan Ome’ ও ‘Rupak Nandi’ নামের আইডি থেকে প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। মেসেঞ্জারে পাঠানো বার্তাগুলোতে অমি নির্বাচনী মাঠে বাধা সৃষ্টি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঘটানোর ইঙ্গিত দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।

এ অভিযোগ ওঠার পর থেকেই বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয় জনমনে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। নির্বাচনী পরিবেশকে অস্থিতিশীল করার পাশাপাশি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় হুমকি দেওয়ায় বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নেয় প্রশাসন। জিডিতে অমির পাশাপাশি আরও ছয়জনের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যাদের বিরুদ্ধে একই ধরনের হুমকির সমর্থন ও সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশ জানায়, আটক অমি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হুমকির অভিযোগ সম্পর্কে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিলেও ঘটনা অস্বীকার করার চেষ্টা করেন। তবে মেসেঞ্জার স্ক্রিনশট, জিডি এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা মামলার তদন্তকে আরও এগিয়ে নিতে সাহায্য করছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে বলে জানান হাতিয়া থানার কর্মকর্তা-ইন-চার্জ মো. সাইফুল আলম।
এদিকে, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এমন হুমকি স্থানীয় রাজনৈতিক পরিবেশে অস্থিরতা তৈরি করেছে। সাধারণ ভোটাররা বলছেন—নির্বাচনী মাঠে ভয়-ভীতি ও সন্ত্রাসের মাধ্যমে কেউ যদি গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে, তবে প্রশাসনের উচিত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে—এ ধরনের অপতৎপরতা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ছাড়া বন্ধ করা যাবে না।
এ ঘটনার পর জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতাকর্মীরা নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন এবং নির্বাচন কমিশন ও পুলিশ প্রশাসনের কাছে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে স্থানীয়রা চান—ভোটের মাঠ সবার জন্য সমানভাবে উন্মুক্ত থাকুক এবং কোনো প্রকার সন্ত্রাস বা হুমকি ছাড়া শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় থাকুক।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



নজরুলের পাশে চিরনিদ্রায় হাদি

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক শরিফ ওসমান হাদির দাফন সম্পন্ন হয়েছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধি চত্বরে। শনিবার দুপুরে রাজধানীতে লাখো মানুষের শোক ও আবেগঘন পরিবেশে তার শেষ যাত্রা সম্পন্ন হয়। সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা থেকে শুরু হওয়া মরদেহবাহী ফ্রিজার ভ্যান বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় পৌঁছালে জনতার ঢল নেমে আসে। স্বজন, সহযোদ্ধা, রাজনীতিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বসহ সাধারণ মানুষ রাস্তাজুড়ে দাঁড়িয়ে তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানান। এ সময় চোখেমুখে ছিল শোক আর ক্ষোভের মিশ্র ছাপ।
দুপুর আড়াইটায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ইমামতি করেন হাদির বড় ভাই আবু বকর সিদ্দিক। জানাজা শেষে মরদেহ বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে নিয়ে যাওয়া হলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও টিএসসি এলাকাজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। ফ্রিজার ভ্যান থেকে মরদেহ নামানোর সময় তার সমর্থকদের মধ্যে কান্না ও শোকের ধ্বনি ছড়িয়ে পড়ে। বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে দাফন কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। তার কবরটি নজরুলের খুব কাছে—যা তার অনুসারীদের কাছে এক প্রতীকী মর্যাদা ও সম্মানের স্থান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
হাদির মৃত্যু দেশব্যাপী শোকের স্রোত বয়ে আনে। ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পুরানা পল্টনে রিকশায় থাকা অবস্থায় তিনি সন্ত্রাসী হামলার শিকার হন। মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে সিঙ্গাপুরে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার তার মৃত্যু হয়। পরদিন সন্ধ্যায় বিমান বাংলাদেশের ফ্লাইটে মরদেহ দেশে আনা হয়। রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় এ তরুণ নেতা সম্প্রতি ঢাকা-৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র এবং সাংস্কৃতিক জাগরণের লক্ষ্যে গড়ে তুলেছিলেন ‘ইনকিলাব মঞ্চ’ ও ‘ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার’—যার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের মাঝে নতুন রাজনৈতিক চিন্তার বীজ বপন করেছিলেন তিনি।
তার সহযোদ্ধা, শ্রেণি-সংগঠন নেতৃবৃন্দ এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হাদির মৃত্যু কেবল একটি পরিবার বা সংগঠনের ক্ষতি নয়—এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক আন্দোলনের এক উদীয়মান নেতৃত্বের নির্মম পরিসমাপ্তি। তরুণ প্রজন্মের কাছে তিনি ছিলেন একটি বিকল্প চিন্তার প্রতীক। তাই নজরুলের পাশে তার চিরনিদ্রা গ্রহণ অনেকের কাছে স্বাধীনতা, ন্যায় এবং পরিবর্তনের সংগ্রামের ধারাবাহিকতার象 একটি চিরস্থায়ী প্রতীক হয়ে রইল। কবরস্থানে উপস্থিত সাধারণ মানুষের ভাষায়—হাদি ছিলেন প্রতিবাদী কণ্ঠ, ন্যায়বিচারের দাবিতে দৃঢ়চেতা এক তরুণ, যার শূন্যতা পূরণ হবে না সহজে।

“মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম “

 




ভাইয়ের ইমামতিতে শহীদ হাদির জানাজা অনুষ্ঠিত

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই আন্দোলনের সম্মুখ সারির নেতা শরিফ ওসমান হাদির জানাজা শনিবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় বরেণ্য ব্যক্তিবর্গ ও জনসাধারণের উপস্থিতিতে সম্পন্ন হয়েছে। দুপুর আড়াইটার দিকে জানাজা শুরু হয়, যেখানে অংশ নেন বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা। বৃহৎ পরিসরে আয়োজিত এ জানাজায় হাজারো মানুষের উপস্থিতি প্রাঙ্গণজুড়ে ভক্ত-অনুসারীদের আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করে। দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচিত এই তরুণ নেতার মৃত্যু সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর শোকের আবহ সৃষ্টি করেছে।
পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বড় ভাই আবু বকর সিদ্দিক, যিনি জানাজার ইমামতি দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ভাইয়ের জন্য দোয়া চাইতে সবাইকে আহ্বান করেন। জানাজা ঘিরে পুরো এলাকায় ছিল কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে এবং কোনো প্রকার নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়াতে বিশেষ নজরদারি রাখা হয়। রাজনৈতিক নেতারা হাদির অবদান, সাহসিকতা ও তরুণ প্রজন্মের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতার কথা স্মরণ করেন। অনেকেই জানান, এই মৃত্যু দেশের রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাসে নতুনভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসসহ জাতীয় পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা জানাজায় উপস্থিত থেকে তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তাদের মতে, গণআন্দোলনে সক্রিয় নেতৃত্ব এবং জনগণের দাবি-দাওয়া নিয়ে কথা বলার সাহস দেখানোর মধ্য দিয়ে তিনি নিজস্ব অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছিলেন। তার মৃত্যুতে আন্দোলনপন্থী শক্তি এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে শূন্যতার অনুভূতি তৈরি হয়েছে। জানাজা উপলক্ষে দক্ষিণ প্লাজায় মানুষের ঢল নেমেছিল—হাঁটা, গাড়ি কিংবা মোটরসাইকেলে হাজারো মানুষ অংশ নেন। বিভিন্ন জেলা থেকেও সমর্থকরা উপস্থিত হন।
নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলাপূর্ণ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পক্ষ থেকে ড্রোন ব্যবহার নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। পাশাপাশি, অংশগ্রহণকারীদের ব্যাগ ও ভারী বস্তু না আনার অনুরোধ জানানো হয়েছিল যেন কোনো প্রকার বিঘ্ন সৃষ্টি না হয় এবং অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করা যায়। জানাজা শেষে জনসাধারণ শহীদ হাদির বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন। কর্মী ও রাজনৈতিক সমর্থকদের অনেকেই জানান, তার আদর্শ ও চিন্তাধারা ভবিষ্যতে আন্দোলন-সংগ্রামকে অনুপ্রাণিত করবে। তরুণদের জন্য একজন পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে হাদির নাম স্মরণীয় হয়ে থাকবে—এমনটাই মন্তব্য বিশ্লেষকদের।

“মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম “

 




ধ্বংসাত্ক কোনো কিছু করে হাদি ভাইকে ধারণ করা যাবে না: হাসনাত আবদুল্লাহ

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :  নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে হাসনাত আবদুল্লাহ  লেখেন,“কোনো কিছু ধ্বংস করে হাদি ভাইকে ধারণ করা যাবে না” হাদিকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট অবস্থান গ্রহণের মাধ্যমে, একটি শক্তিশালী সাংস্কৃতিক (কালচারাল) ইস্ট্যাব্লিশমেন্ট গড়ে তুলে, আজাদির প্রশ্নে আপসহীন থেকে এবং জনতার প্রশ্নে সৎ ও স্বচ্ছ থাকার মাধ্যমে।

তিনি আরও বলেন, “আমাদের পথ ধ্বংসের নয়, পুনর্গঠনের। সবাই শান্ত থাকুন, ঐক্যবদ্ধ থাকুন।

উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পুরানা পল্টনে নির্বাচনী প্রচারণার সময় সন্ত্রাসীদের গুলিতে গুরুতর আহত হন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি। প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য গত সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাত পৌনে ১০টার দিকে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে শনিবার (২০ ডিসেম্বর) সারাদেশে রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে।