ঢাকার শিল্পে গ্যাস সংকট মেটাতে ভোলার গ্যাস এলএনজিতে আনা হবে

ঢাকা ও আশপাশের শিল্প-কারখানায় দীর্ঘদিন ধরে তীব্র গ্যাস সংকট মোকাবিলায় ভোলার প্রাকৃতিক গ্যাস এলএনজিতে রূপান্তর করে সরবরাহের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ ও পেট্রোবাংলা। প্রাথমিকভাবে দেশী-বিদেশী নয়টি কোম্পানি আগ্রহ দেখালেও চারটি প্রতিষ্ঠানকে চূড়ান্তভাবে সংক্ষিপ্ত তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। অনুমোদন পেলে কোম্পানিগুলো ১২ থেকে ২৪ মাসের মধ্যে সরবরাহ শুরু করবে।
জ্বালানি বিভাগ জানায়, ভোলার গ্যাস এলএনজি আকারে সরবরাহের জন্য চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানগুলো হলো:
- রাশিয়ার গ্যাজপ্রম ইপি ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড,
- চীনের চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইম্পোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশন (সিএমসি) ও সিএনপিসি চাংগিং ড্রিলিং ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি,
- সিঙ্গাপুরভিত্তিক জিসিজি এলএনজি কোম্পানি।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, “ঢাকা ও আশপাশের শিল্প এলাকায় গ্যাসের তীব্র সংকটের কারণে ভোলার এলএনজি সরবরাহে শিল্প মালিকদের আগ্রহ রয়েছে। প্রক্রিয়াটি জটিল হলেও আমরা দ্রুত অগ্রগতি করার চেষ্টা করছি।”
এর আগে ক্ষমতাচ্যুত সরকার ইন্ট্রাকো সিএনজিকে ভোলা থেকে কমপ্রেসড ন্যাচারাল গ্যাস (CNG) আনার দায়িত্ব দিয়েছিল। তবে দৈনিক সরবরাহ মাত্র ৫ মিলিয়ন ঘনফুট, যা চাহিদার তুলনায় সীমিত। নতুন উদ্যোগে এলএনজি আনার মাধ্যমে চাহিদা পূরণ এবং শিল্প-কারখানায় পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।
সরবরাহ প্রক্রিয়ায় প্রতিটি ঘনমিটারের জন্য মূল্য নির্ধারণ প্রস্তাব ৪৭.৫০ টাকা হিসেবে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে (বিইআরসি) পাঠানো হয়েছে। এই প্রস্তাব ২৩ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সভায় চূড়ান্ত করা হবে; না হলে গণশুনানির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
জ্বালানি বিভাগ সূত্র জানায়, দৈনিক ৩০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি নদীপথে ভোলা থেকে আনা হবে। ঢাকায় পৌঁছালে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের অধীনে ৩২টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করা হবে। এ প্রতিষ্ঠানগুলোর মোট চাহিদা প্রায় ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট।
ভোলায় এখন পর্যন্ত তিনটি গ্যাস ক্ষেত্রের নয়টি কূপ থেকে দৈনিক উৎপাদনক্ষমতা ১৯০ মিলিয়ন ঘনফুট হলেও বর্তমানে মাত্র ৭০ মিলিয়ন ঘনফুট উত্তোলন হচ্ছে। পেট্রোবাংলা আরও ১৫টি কূপ খননের কাজ করছে। সরকারি ও বেসরকারিভাবে নতুন শিল্প-কারখানা নির্মাণ হলে ভোলার গ্যাসের চাহিদা বাড়বে, যেখানে এলএনজি আনার মাধ্যমে চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে।
মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম









