বিচার প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত পুনর্বহাল সম্ভব নয়: হাসনাত আব্দুল্লাহ

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, “বিচার প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিডিআর সদস্যদের চাকরিতে পুনর্বহাল করা সম্ভব নয়।” তিনি এই মন্তব্যটি বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে চাকরিচ্যুত বিডিআর সদস্যদের উদ্দেশ্যে করেন।

হাসনাত আব্দুল্লাহ আরও বলেন, “যতই আবেগতাড়িত হই না কেন, কোন সরকারই বিচার প্রক্রিয়া নিশ্চিত হওয়া ব্যতীত চাকরিতে পুনর্বহাল করতে পারে না।” তিনি এও বলেন, “বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত পুনঃবহাল সম্ভব নয়, এটি বাস্তবতা।”

হাসনাত আব্দুল্লাহ আন্দোলনকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেন, “৯ আগস্ট থেকে আমরা আপনাদের সাথে আছি, এবং আপনাদের সাথেই থাকব।” তিনি আরও বলেন, “সরকার যখন প্রথম গঠিত হয়, আমরা প্রথমেই বলেছি, এটি বিডিআর বিদ্রোহ নয়, এটি গণতন্ত্রকে সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।”

এছাড়া তিনি উল্লেখ করেন, ইতিমধ্যে বেশ কিছু বিডিআর সদস্য জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, “আপনার জন্য যে কমিশন গঠিত হয়েছে, সেই কমিশনের একটি ধারা নিয়ে আমরা প্রশ্ন তুলেছি।” তিনি সরকারের বিচার কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন, বিশেষ করে বিডিআর হত্যাকাণ্ডের সুবিচার ও সঠিক বিচার প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার বিষয়ে।

আন্দোলনকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে হাসনাত বলেন, “আপনারা অন্তত ১৫ দিন পর পর প্রতিবিধি দেবেন, এবং আইন মন্ত্রণালয়ের সাথে বসে আলোচনা করবেন।” তিনি আরও জানান, “এই সপ্তাহের মধ্যে আইন মন্ত্রণালয়ের পরামর্শে ৩ সপ্তাহের মধ্যে আলোচনার ব্যবস্থা করা হবে।”

তবে আন্দোলনরত বিডিআর সদস্যরা হাসনাত আব্দুল্লাহর বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং তাদের জন্য গঠিত কমিশন সংস্কার ও দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




জুলাই-আগস্টে নিহতের সংখ্যা ১৪০০, আশঙ্কা জাতিসংঘের

জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন বাংলাদেশে গত বছরের জুলাই ও আগস্টে ১৪০০ এরও বেশি মানুষ নিহত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন আজ (১২ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্টের মধ্যে ১,৪০০ এর বেশি মানুষের হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, যার মধ্যে অধিকাংশই বাংলাদেশ নিরাপত্তাবাহিনীর গুলিতে নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১২-১৩ শতাংশ শিশু ছিল। এছাড়া, বাংলাদেশ পুলিশের ৪৪ জন কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন বলে জানানো হয়।

জাতিসংঘের প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, গত বছরের ছাত্র-নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভের সময় সাবেক সরকার ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর দ্বারা গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। বিক্ষোভকারীদের সহিংসভাবে দমন করার জন্য সরকারি নির্দেশনার মাধ্যমে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, যা তদন্তের দাবি রাখে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার ভলকার তুর্ক এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “এই নৃশংস প্রতিক্রিয়া ছিল সাবেক সরকারের একটি পরিকল্পিত এবং সমন্বিত কৌশল, যা জনতার বিরোধিতার মুখে ক্ষমতা আঁকড়ে রাখতে চেয়েছিল।”

তিনি আরও বলেন, “যতটুকু প্রমাণ আমরা সংগ্রহ করেছি তা রাষ্ট্রীয় সহিংসতার এবং লক্ষ্যভিত্তিক হত্যাকাণ্ডের একটি উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরে, যা মানবাধিকার লঙ্ঘনের সবচেয়ে গুরুতর রূপ হতে পারে।”

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালের সাবেক পুলিশ কমিশনার সাইফুল ইসলাম আটক

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) সাবেক কমিশনার সাইফুল ইসলামকে রাজধানী ঢাকা থেকে আটক করা হয়েছে। সিএমপির বর্তমান কমিশনার হাসিব আজিজ আজ বুধবার তার আটক হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সাইফুল ইসলাম ২০২৪ সালের ৪ জুলাই থেকে ২১ আগস্ট পর্যন্ত সিএমপি কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের চান্দগাঁও থানায় দায়ের হওয়া একটি গুলির ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে, যেখানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে একজন নিহত হন। এই মামলায় সাইফুল ইসলাম এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার হয়েছেন এবং তাকে চট্টগ্রামে আনা হচ্ছে।

২০১৪ সালে সিএমপির কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে তিনি এমআরটি পুলিশের ডিআইজি, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার এবং চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া, তিনি বরিশাল ও বরগুনা জেলার পুলিশ সুপার হিসেবেও কাজ করেছেন এবং ২০১২ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (বন্দর) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে পুকুরের পাড় থেকে পাঁচটি পাইপগান উদ্ধার

বরিশাল জেলা, বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নের খানপুরা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) পেছনের পুকুরের পাড় থেকে বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পাঁচটি পাইপগান উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনার পর স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশ জানায়, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে স্থানীয়রা পুকুর পাড়ে বাজারের ব্যাগে মোড়ানো একটি সন্দেহজনক বস্তু দেখতে পায় এবং তা থানায় জানায়। খবর পেয়ে এয়ারপোর্ট থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে ব্যাগটি খোলার পর পাঁচটি পাইপগান উদ্ধার করে। পরে এসব অস্ত্র থানায় হস্তান্তর করা হয়।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) সুশান্ত সরকার সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, বর্তমানে দেশব্যাপী “অপারেশন ডেভিল হান্ট” চালু রয়েছে। এর অংশ হিসেবে এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ ওই এলাকার অভিযান পরিচালনা করছে। ধারণা করা হচ্ছে, অপরাধীরা অভিযান শুরুর আগেই এ অস্ত্রগুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে চলে গেছে।

এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




পটুয়াখালীতে কনটেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফির বাড়িতে অগ্নিসংযোগ

পটুয়াখালীর কলাপাড়ার জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফির গ্রামের বাড়ি দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে পুড়ে গেছে। মঙ্গলবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে তিনি এ অভিযোগ করেন।

স্ট্যাটাসে কাফি লেখেন, “মধ্যরাতে আমার বাড়ির ঘর, রান্না-ঘর সম্পূর্ণ পুড়িয়ে দিয়েছে। কোন দেশের জন্য, কাদের জন্য কথা বলছিলাম? যুদ্ধ করেছিলাম এবং করছি। কিন্তু নিরাপত্তা পাইনি।”

কলাপাড়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশন অফিসার মো. ইলিয়াস হোসাইন জানান, “রাত সোয়া ২টার দিকে আমাদের মোবাইলে কল আসে নুরুজ্জামান কাফির বাসায় আগুন লেগেছে। আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হই। তবে ঘর সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। আশপাশের এলাকায় আগুন ছড়াতে দেইনি। কেউ হতাহত হয়নি।”

২০১৯ সাল থেকে কনটেন্ট তৈরি শুরু করেন কাফি। বরিশালের আঞ্চলিক ভাষায় ভিডিও বানিয়ে দেশের বিভিন্ন সমস্যা, দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যঙ্গাত্মক প্রতিবাদ জানান তিনি।

সম্প্রতি বইমেলায় তার লেখা বই প্রকাশিত হয়, যা নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এক ভিডিওতে এ প্রসঙ্গে দুঃখ প্রকাশ করে কাফি বলেন, “আমার সঙ্গে অন্যায় করা হচ্ছে। যেকোনো কিছু নিয়ে সমালোচনা করা হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “একটি নাটকের ক্লিপ থেকে স্ক্রিনশট নিয়ে ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে। বইমেলায় বান্ধবীর হাত ধরা নিয়েও বিতর্ক করা হচ্ছে। আমি ভুল বুঝতে পেরে সরিও বলেছি।”

এ ঘটনার পরপরই তার বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটায় নেটিজেনদের মধ্যে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




২৬ সালে ঢাকায় ইলেকট্রিক বাস নামাতে চায় সরকার

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ঢাকা মহানগীর গণপরিবহন ব্যবস্থা উন্নয়ন ও বায়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণে ২০২৬ সালে শহরে বৈদ্যুতিক বাস নামাতে চায় সরকার।

‘বাংলাদেশ ক্লিন এয়ার প্রজেক্ট’ নামে এ প্রকল্পের আওতায় শুরুতে ঢাকার তিনটি রুটে চালানো হবে এসব বাস। এই প্রকল্পে অর্থায়ন করবে বিশ্বব্যাংক।

মঙ্গলবার এ বিষয়ে অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠকের পর ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ, ডিটিসিএ পরিচালক (পরিকল্পনা) ধ্রুব আলম সাংবাদিকদের এ তথ্য দিয়েছেন।

তিনি বলেন, প্রকল্প শুরু হওয়ার কথা রয়েছে চলতি বছরের জুলাই মাসে। শেষ হবে ২০৩০ সালের জুন মাসে।

ডিটিসিএ পরিচালক ধ্রুব আলম বলেন, “এ প্রকল্পে আর্থিক সহযোগিতা করতে সম্মত হয়েছে বিশ্ব ব্যাংক। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী জুনে আর্থিক সহযোগিতার বিষয়টি বিশ্বব্যাংকের বোর্ডে অনুমোদনের কথা রয়েছে।

“আর আমাদের এখানে ডিপিপি অনুমোদন হতে জুন মাস। এরপর প্রকল্পের পরিচালক নিয়োগ করা হবে।”

এই প্রকল্পে বিশ্বব্যাংক ৩০০ মিলিয়ন দেবে তুলে ধরে তিনি বলেন, এরমধ্যে ১০০ মিলিয়ন ডলার পরিবেশ অধিদপ্তর ও ২০০ মিলিয়ন ডলার পাবে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের ২০০ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে ডিটিসিএ ১৫০ মিলিয়ন এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপকক্ষ-বিআরটিএ পাবে ৫০ মিলিয়ন ডলার।

ধ্রুব আলম বলেন, “আমরা আশা করছি, অন্তত ২-৩টি রুটে পুরোপুরি ইলেকট্রিক বাস সার্ভিস চালু করা এবং সেটা ২০২৬ সালের মধ্যে।

“বাসগুলো পরিচালনার জন্য নতুন কোম্পানি গঠন করে কেউ আসতে পারে, বিদ্যমান কোম্পানিগুলো পেতে পারে অথবা সরকার কোম্পানি গঠন করেও এসব বাস চালাতে পারে। এখনো অপারেশনাল প্ল্যান ঠিক হয়নি।”

কোন রুটে এসব বাস চলতে পারে, এমন প্রশ্নে ডিটিসিএ পরিচালক বলেন, এখনও রুট নির্ধারণ করা হয়নি। তবে গাজীপুর থেকে উত্তরা হয়ে বাসগুলো শহরের মধ্যে চলাচল করবে।

“বাসগুলোর আকার হবে লম্বা, সেজন্য কোন কোন রুটে এসব বাস চলতে পারে সেগুলো বাছাই করতে হবে। গাজীপুরে, উত্তরা থেকে দক্ষিণের দিকে যাবে, এটা নিশ্চিত।

“কিন্তু দক্ষিণের কোন এলাকা পর্যন্ত যাবে সেটা এখনও ঠিক হয়নি। রুট ঠিক করার জন্য সমীক্ষা হবে প্রকল্পের মধ্যেই।”




৫৩ বছর যারা দেশ পরিচালনা করেছে, তারা আমাদের ধোঁকা দিয়েছে : চরমোনাই পীর

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেছেন, ইসলামী আন্দোলনকে ৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়ার তৌফিক আল্লাহ আমাদের দান করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইসলামী আন্দোলনকে ছোট করে দেখা যাবে না। দেশের শত্রুতা বা ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের মুহূর্তে, ইসলামী আন্দোলন যখন রাজপথে আওয়াজ তোলে, তখন অপরাধীদের ভিত কাঁপিয়ে ওঠে।

মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৫টার দিকে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে ইসলামী আন্দোলনের এক গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

চরমোনাই পীর বলেন, “৫৩ বছর যারা এই দেশ পরিচালনা করেছে, তারা আমাদের বারবার ধোঁকা দিয়েছে। ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য তারা আমাদের ব্যবহার করেছে, কিন্তু ক্ষমতায় বসে ইসলামী দলগুলোর কথা ভুলে গেছে। আমরা চাই, ইসলামকে আর কেউ ধ্বংস করতে না পারে। ইসলামী আন্দোলন কখনোই কারও হাতের খেলনা হয়নি, ভবিষ্যতেও হবে না।”

তিনি আরও বলেন, “দেশে ছাত্র-জনতার গণবিপ্লবে সংঘটিত গণহত্যার বিচার, দুর্নীতিবাজদের গ্রেপ্তার এবং তাদের অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার পাশাপাশি, নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করা, সংখ্যানুপাতিক (পিআর) পদ্ধতিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ সাত দফা দাবি বাস্তবায়ন করতে হবে।”

এছাড়া, গণসমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ইসলামী আন্দোলনের উপজেলা সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) মোসাদ্দেক হোসেন বাচ্চু হাওলাদার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলনের পটুয়াখালী জেলা সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, সহ-প্রশিক্ষণ সম্পাদক হাফেজ মুহাম্মদ রুহুল আমিন, সাবেক উপজেলা সভাপতি আমির হোসেন মোল্লা, উপজেলা সাধারণ সম্পাদক হাফেজ মুহাম্মদ আবদুল হান্নান, ইসলামী যুব আন্দোলনের সভাপতি এম এ ইউসুফ আলী, ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের উপজেলা সভাপতি হাফেজ মুহাম্মদ সালাউদ্দিন আরিয়ান প্রমুখ।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পায়রা তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে উত্তেজনা, নিরাপত্তাহীনতায় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় অবস্থিত পায়রা তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে চলমান আন্দোলনের জেরে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগ করেছেন। স্থানীয় গ্রামবাসীর আট দফা দাবিকে কেন্দ্র করে কয়েক মাস ধরে চলা আন্দোলনের মধ্যে সম্প্রতি ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা রবিউল আউয়ালের ‘নিখোঁজ’ হওয়া এবং পরে উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বিদ্যুৎকেন্দ্রের সভাকক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্মকর্তারা। সভায় মানবসম্পদ ও প্রশাসন বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ ভূঁইয়া বলেন, “সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ঘটনার জেরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, যা আমাদের হয়রানির শামিল। পাশাপাশি আন্দোলনকারীদের হুমকির কারণে বিদ্যুৎকেন্দ্রে থাকা ৩১৭ জন বিদেশিসহ সবাই অনিরাপদবোধ করছেন।”

তিনি আরও বলেন, “পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র দেশের দৈনিক বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ১০ শতাংশ পূরণ করে। এই কেন্দ্রের কার্যক্রম ব্যাহত হলে জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ সরবরাহে প্রভাব পড়তে পারে। তবে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গুজব ছড়িয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে।”

স্থানীয় সূত্র জানায়, তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণকাজের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামবাসী ক্ষতিপূরণসহ আট দফা দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন। ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতা রবিউল আউয়াল এ আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। গত বৃহস্পতিবার রাতে তিনি নিখোঁজ হন, পরে রোববার ঢাকার কামরাঙ্গীরচর এলাকা থেকে তাঁকে উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় তাঁর পরিবার বিদ্যুৎকেন্দ্রের ছয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করে।

এ বিষয়ে কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ জুয়েল ইসলাম বলেন, “পায়রা তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হওয়ায় এটি সর্বোচ্চ নিরাপত্তার আওতায় রয়েছে। সেখানে পুলিশের পাশাপাশি এপিবিএনের সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করছেন। এরপরও কেউ যদি নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন, আমরা তা গুরুত্বের সঙ্গে দেখব।”

এদিকে রবিউল আউয়ালের বড় ভাই তুষার আল মামুন দাবি করেন, “আমার ভাই এলাকাবাসীর স্বার্থে অনিয়মের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছিল। তাকে থামানোর চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু সে কোনো প্রলোভনে পা দেয়নি। তাকে অপহরণ করা হয়েছিল, এতে কোনো সন্দেহ নেই। আমরা চাই, প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন হোক।”

অন্যদিকে, বিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্মকর্তারা বলছেন, অপপ্রচার ও অস্থিরতার কারণে কেন্দ্রের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তারা এ পরিস্থিতির দ্রুত সমাধান ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

 

মো:  আল আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



বিমসটেক এবং সার্ক এর মধ্যে কোনও বিরোধপূর্ণ স্বার্থ নেই: মহাসচিব

বিমসটেক মহাসচিব ইন্দ্র মণি পান্ডে আজ বলেছেন, বহু-খাত ভিত্তিক কারিগরি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বিষয়ক বে অফ বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ (বিমসটেক) এবং দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) এর মধ্যে কোনও বিরোধ নেই। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট দেশগুলো একই সাথে একাধিক আঞ্চলিক প্ল্যাটফর্মে অংশগ্রহণ করতে পারে, এবং এই বিষয়টি উভয় সংস্থার সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে কোনও দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করে না।

তিনি আরও বলেন, ‘বেশ কিছু দেশ সার্ক এবং বিমসটেক উভয় সংস্থার সদস্য, এবং বেশ কয়েকটি দেশ আসিয়ানের অংশও। একাধিক আঞ্চলিক গোষ্ঠীতে সম্পৃক্ত থাকার মধ্যে কোনো বিরোধ নেই।’

ঢাকার গুলশানে বিমসটেক সচিবালয়ে কূটনৈতিক সংবাদদাতা সমিতির (ডিক্যাব) সদস্যদের সাথে ব্রিফিংকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। ভারতের এবং পাকিস্তানের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে সার্কের কার্যকারিতা নিয়ে চলমান আলোচনার প্রেক্ষিতে তিনি এই বক্তব্য দেন।

পান্ডে আরও উল্লেখ করেন, উভয় সংস্থা আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে আলাদা হলেও পরিপূরক ভূমিকা পালন করে। বিমসটেক দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে অর্থনৈতিক ও কারিগরি সহযোগিতার উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে, যেখানে সার্ক ঐতিহাসিকভাবে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বৃহত্তর আঞ্চলিক সহযোগিতার উপর মনোনিবেশ করেছে।

আসন্ন বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলন সম্পর্কে সর্বশেষ অগ্রগতি জানিয়ে তিনি বলেন, ৪ এপ্রিল থাইল্যান্ডে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলনে সদস্য দেশগুলোর সরকার প্রধানরা উপস্থিত থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে। মহাসচিব জানান, শীর্ষ সম্মেলনের সময় আনুষ্ঠানিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক পরামর্শের মাধ্যমে সরকার প্রধানদের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক আয়োজন করা হবে।

বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা সম্পর্কে পান্ডে আরও বলেন, “বিমসটেকের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ সংগঠনটির শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে।” তিনি বিমসটেকের আঞ্চলিক এজেন্ডা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য বাংলাদেশের সরকারের অব্যাহত সহযোগিতা ও সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত বিমসটেকের সদস্য রাষ্ট্রগুলো হলো: বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, মিয়ানমার, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ড। সংস্থাটির লক্ষ্য আঞ্চলিক সংহতি জোরদার করা, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বাণিজ্য সুবিধা সৃষ্টি করা।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




নৌকাসহ চার জেলেকে ধরে নিয়ে গেল আরাকান আর্মি

কক্সবাজারের টেকনাফে নাফ নদীর মোহনায় মাছ ধরতে গিয়ে অস্ত্রের মুখে জিম্মি হয়ে মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির হাতে ৪ জেলে আটক হয়েছেন। মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টার দিকে টেকনাফের শাহপরীরদ্বীপের গোলারচর মুখ এলাকা থেকে তাদের ধরে নিয়ে যায়।

আটক হওয়া জেলেরা হলেন- টেকনাফ শাহপরীরদ্বীপ দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা নৌকার মাঝি মো. হাছান (৩০), আবদু রকিম (২০), মো. জাবের (২৬), মো. হাছান (১৬)।

এ বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ এহসান উদ্দিন জানান, “জেলেদের ধরে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি আমরা শুনেছি। তাদের ফেরত আনতে আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে।”

টেকনাফের বিজিবি ব্যাটালিয়ন-২-এর কমান্ডিং অফিসার (সিও) লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিকুর রহমান জানান, “তারা এ বিষয়ে এখনও কোন লিখিত অভিযোগ পাননি, তবে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে এবং সমস্যার সমাধানে কাজ চলছে।”

এ ঘটনার পর শাহপরীর দ্বীপের দক্ষিণ নৌঘাটের সভাপতি বশির আহমেদ বলেন, “আজ সকালে নিয়মিত মাছ ধরতে যাওয়ার সময় মিয়ানমারের আরাকান আর্মি জেলেদের নৌকাসহ ধরে নিয়ে গেছে। এতে পুরো জেলে পল্লিতে উৎকণ্ঠা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও বিজিবিকে অবহিত করা হয়েছে।”

উল্লেখ্য, গত বছর ৬ অক্টোবর একই এলাকায় ৬টি মাছ ধরার ট্রলারসহ ৫৮ জন জেলে গভীর সাগরে মাছ ধরতে যান। তাদের ৯ অক্টোবর মিয়ানমার নৌবাহিনী অপহরণ করেছিল এবং গুলি চালিয়ে তিন জেলেকে আহত করেছিল, এক জেলে ঘটনাস্থলে মারা যান।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম