স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার ১২ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ট্রাইব্যুনালে




কাগজে-কলমে কমেছে ২০ হাজার কোটি টাকার খেলাপি ঋণ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : ব্যাংকিং খাতে সংস্কার চলছে কিন্তু থেমে নেই কাগজে-কলমে মন্দ ঋণ কমানোর কার্যক্রম। বর্তমান পরিবর্তিত পরিস্থিতিতেও সুযোগ নিয়ে খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল বা নিয়মিত হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য বলছে, ২০২৪ সালের তিন প্রান্তিকে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) ব্যাংক খাতে ২০ হাজার ৭৩২ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চে) পুনঃতফসিল করা হয় ২ হাজার ৪৪৮ কোটি টাকা, দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) ১০ হাজার ৯২৮ কোটি টাকা এবং তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ৭ হাজার ৩৫৬ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল করে নিয়মিত করা হয়েছে।

আলোচিত সময়ে ব্যাংকগুলোতে আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে এক হাজার ৯২২ কোটি টাকা বেশি খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল করা হয়েছে। এর আগে ২০২৩ সালে তিন প্রান্তিকে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) ব্যাংক খাতে ১৮ হাজার ৮১০ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল করা হয়েছিল।




পিরোজপুরে খালে যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার, রহস্যময় মৃত্যু

 

পিরোজপুরের নেছারাবাদে একটি খাল থেকে অজ্ঞাত পরিচয়ে ৩৫ বছর বয়সী এক যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে সুটিয়াকাঠী গ্রামের জোড়া ব্রিজ এলাকার কেরানি বাড়ির সামনে খাল থেকে ভাসমান অবস্থায় মরদেহটি পাওয়া যায়।

পিরোজপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (নেছারাবাদ সার্কেল) সাবিহা মেহেবুবা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্থানীয় বাজারে যাওয়ার পথে পথচারীরা খালে ভাসমান মরদেহটি দেখতে পান। এর পর স্থানীয় চৌকিদারকে জানালে তিনি নেছারাবাদ থানায় খবর দেন। পুলিশ পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

স্থানীয় চৌকিদার মো. কাজী সবুজ মিয়া বলেন, “সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্থানীয়দের মাধ্যমে মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি জানতে পেরে থানায় জানাই। পরে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে।”

পিরোজপুরের সহকারী পুলিশ সুপার সাবিহা মেহেবুবা বলেন, “অজ্ঞাত এক যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পিরোজপুর জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।”

এটি একটি রহস্যময় মৃত্যুর ঘটনা, যার তদন্ত চলছে এবং অজ্ঞাত যুবকের পরিচয় জানার চেষ্টা করা হচ্ছে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বিশ্বের চাহিদা শীর্ষে সৌদি খেজুর: এর জনপ্রিয়তা ও ভিন্ন জাতের বৈশিষ্ট্য

বিশ্বব্যাপী খেজুরের চাহিদা অত্যন্ত বেশি, বিশেষ করে সৌদি আরবের খেজুর। পবিত্র রমজান মাসে খেজুর ইফতার সময়ের একটি অপরিহার্য উপকরণ। সৌদি আরবের বিভিন্ন অঞ্চলে উৎপাদিত খেজুরের রয়েছে নানা জাত, আকৃতি, স্বাদ এবং রঙের বৈচিত্র্য, যা এটিকে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ফলগুলোর মধ্যে একটি করে তুলেছে।

বিশ্বব্যাপী রোজাদারেরা নবী কারিম (সা.)-এর সুন্নত অনুসরণ করে রমজান মাসে খেজুর খাওয়ার ঐতিহ্য রক্ষা করে থাকেন। সৌদি আরবের কৃষি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের রিয়াদ অঞ্চল খেজুর উৎপাদনে শীর্ষে, যেখানে বার্ষিক ৪৩৬ হাজার টন খেজুর উৎপাদিত হয়। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খেজুর উৎপাদন এলাকা হিসেবে আল কাসিম (৩৯১ হাজার টন) এবং মদিনা (২৬৩ হাজার টন) রয়েছে। সৌদি আরবে মোট ৩৭ মিলিয়ন খেজুর গাছ রয়েছে, যা প্রায় তিন বিলিয়ন টন খেজুর উৎপাদন করে।

সৌদি আরবের জনপ্রিয় খেজুরের জাতসমূহ ::

আজওয়া: এটি সৌদি আরবের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেজুর, বিশেষ করে মদিনার খেজুর হিসেবে পরিচিত। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) এই খেজুর দিয়ে ইফতার করতেন। এটি কালো রঙের, বিচি ছোট এবং অত্যন্ত সুস্বাদু। দামও অন্যান্য খেজুরের চেয়ে বেশি, প্রতি কেজি ৫০ থেকে ১০০ সৌদি রিয়াল পর্যন্ত।

আনবারা: এই খেজুরের আকার বড় এবং রং লালচে বাদামী। এর বিচি ছোট এবং গাঢ় মাংসল স্বাদযুক্ত। সৌদি বাজারে এটি বিশেষ দামি।

সাফাওয়ি: নরম এবং লম্বাটে খেজুর, গাঢ় বাদামী রঙের। মিষ্টি স্বাদসহ উচ্চ মিনারেল সম্পন্ন।

বারহি: ছোট এবং গোলাকার এই খেজুরের রঙ বাদামি ও হলদে। এতে ফাইবার, আয়রন, এবং পটাশিয়ামের উচ্চমাত্রা রয়েছে। কিছুটা টক স্বাদযুক্ত হলদে অংশ এবং মিষ্টি বাদামি অংশের ভারসাম্য।

সেগাই: রিয়াদ অঞ্চলের খেজুর, শুকনো জাত এবং হালকা মিষ্টি স্বাদের। এটি সাধারণত শক্ত, কুড়মুড়ে এবং হলুদ-বাদামি রঙের।

খালাস: এটি সৌদি আরবের অভিজাত খেজুর। গাঢ় বাদামী, মিষ্টি এবং মাখনের গন্ধের সাথে ডিম্বাকৃতির। এটি সৌদি আরবের বিখ্যাত খেজুর জাত।

রমজান মাসে বিশেষ করে সৌদি খেজুরের চাহিদা বেড়ে যায়, এবং বিশ্বজুড়ে মুসলিমরা এই খেজুরের স্বাদ গ্রহণ করে থাকেন।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে ২৪ লাখ টন আমন চাল ঘরে তোলার পরে বোরো আবাদে কৃষিযোদ্ধাগনের ব্যস্ততা

বরিশাল কৃষি অঞ্চলে এবারও সাফল্যের সঙ্গে আমন আবাদ ও উৎপাদন সম্পন্ন হয়েছে, এবং এখন মাঠে মাঠে কৃষিযোদ্ধাগন বোরো আবাদে ব্যস্ত। প্রাকৃতিক দুর্যোগের পরেও এ অঞ্চলের কৃষকরা সাফল্যের সঙ্গে আমন ধান উৎপাদন করেছেন এবং এবার প্রায় ১৮ লাখ টন বোরো চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ অঞ্চলের ৪ লাখ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ করা হবে, এবং আশাবাদী কৃষিবিদগন বলছেন, বোরো আবাদ থেকে ১৮ লাখ টন চাল ঘরে তোলা সম্ভব হবে। গত বছরও রবি মৌসুমে প্রায় ৩ লাখ ৯১ হাজার হেক্টর জমিতে আবাদ করা বোরো ধান থেকে ১৮ লাখ টন চাল উৎপাদন হয়েছিল। চলতি মৌসুমে ইতোমধ্যে প্রায় ৮৫% জমিতে বোরো ধান রোপণ সম্পন্ন হয়েছে, এবং আরও ২৫ দিন সময় হাতে থাকায় লক্ষ্য অতিক্রম করে বাড়তি আবাদ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে বরিশাল অঞ্চলের কৃষকরা এখনও বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছেন। বেড়ে যাওয়া সার ও ডিজেলের দাম, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং কৃষিতে ব্যবহৃত ডিজেল নির্ভর সেচ ব্যবস্থার কারণে উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। সেচ ব্যবস্থার জন্য ডিজেল ব্যবহার করা হয়, যা দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় বরিশালে ২৫% বেশি ব্যয় বহন করতে হয়।

বরিশাল অঞ্চলে হাইব্রীড ধানের আবাদ কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছায়নি, এবং কৃষকরা তাদের বিনিয়োগের পুরোটা লাভ করতে পারেনি। গত বছর বোরো মৌসুমে কৃষকরা ১২শ টাকায় ধান বিক্রি করলেও উৎপাদন ব্যয় কভার করতে পারেনি। একই পরিস্থিতি এবার সদ্য সমাপ্ত আমন মৌসুমেও দেখা গেছে।

বরিশাল অঞ্চলের কৃষকরা প্রতিবছরই ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিরুদ্ধে লড়াই করে সব ফসলের আবাদ ও উৎপাদন চালিয়ে যাচ্ছেন। ঘূর্ণিঝড় “হেরিকেন”, “সিডর”, “মহাসেন”, “আইলা”, “ইয়াশ” সহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগের পরেও তারা কৃষি কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন।

এখনো বরিশালে প্রধান দানাদার খাদ্য ফসলের আবাদ ও উৎপাদন পুরোপুরি প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল, এবং এ অঞ্চলের কৃষকরা সব ধরনের প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও সফলভাবে কৃষি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




“শয়তান যতদিন থাকবে, ডেভিল হান্ট অভিযান চলবে”: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে ইছাপুরা সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৩৩তম বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “শয়তান যতদিন থাকবে, ততদিন অপারেশন ডেভিল হান্ট অভিযান চলবে।”

তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে আরও বলেন, “শিক্ষার প্রসার হয়েছে, তবে শিক্ষার মান এখনও উন্নত হয়নি। শিক্ষকদের যথাযথ সম্মান দিতে হবে এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের একত্রিত হয়ে রুখে দাঁড়াতে হবে।”

এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আতাউল গনি ওসমানী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিনা আক্তার, এবং বিক্রমপুর কুঞ্জবিহারী সরকারি কলেজের প্রফেসর ড. রসময় কীর্তনী।

বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় উপস্থিত ছিলেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. জামাল হোসেন মিয়া, আন্তর্জাতিক ফারাক্কা বাঁধ প্রতিরোধ কমিটির চেয়ারম্যান সৈয়দ টিপু সুলতান, সহকারী পুলিশ সুপার (সিরাজদিখান সার্কেল) আ. ন. ম ইমরান খান, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস ধীরন, এবং অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে ১২১ শিক্ষার্থীর ভর্তি বাতিল: তথ্য জালিয়াতি

বরিশাল নগরের পাঁচটি সরকারি বিদ্যালয়ে তথ্য জালিয়াতির মাধ্যমে একাধিক আবেদন করা শিক্ষার্থীদের ভর্তি বাতিল করা হয়েছে। এসব শিক্ষার্থী তৃতীয় শ্রেণীতে ভর্তির জন্য লটারিতে নির্বাচিত হয়েছিল।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বরিশাল জেলার বিভিন্ন সরকারি বিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য ১২১ শিক্ষার্থীর ভর্তি বাতিল করা হয়েছে। এই শিক্ষার্থীরা অনলাইনে একাধিক আবেদন করে ভর্তির সুযোগ পেয়েছিলেন। এখন ওই বিদ্যালয়গুলোর কোটা পূরণের জন্য অপেক্ষামান তালিকা থেকে বা পুনরায় লটারির মাধ্যমে নতুন শিক্ষার্থী নেয়া হবে।

তথ্য জালিয়াতির ঘটনায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসন।

যে পাঁচটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভর্তি বাতিল করা হয়েছে, সেগুলো হলো- বরিশাল জিলা স্কুল, বরিশাল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, শহীদ আরজুমনি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ।

বরিশাল জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ নুরুল ইসলাম বলেন, “জিলা স্কুলে তৃতীয় শ্রেণীতে ভর্তি হওয়া ২৪০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৫০ জন একাধিক আবেদন করেছে, যা জালিয়াতি হিসেবে ধরা পড়েছে।” তিনি জানান, তাই তাদের ভর্তি বাতিল করা হয়েছে।

বরিশাল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহবুবা হোসেন জানান, “নাম পরিবর্তন, জন্ম নিবন্ধন নম্বর পরিবর্তন এবং ভুল তথ্য দিয়ে একাধিক আবেদন করা ৫৯ জন শিক্ষার্থীর ভর্তি বাতিল করা হয়েছে।”

জেলা প্রশাসক জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, “এ ধরনের প্রতারণা শিশু শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।” তিনি বলেন, “প্রতারণা করে ভর্তি নেয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”

এখন সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলোর কোটা পূরণের জন্য অপেক্ষামান তালিকা থেকে শিক্ষার্থী নির্বাচনের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। প্রয়োজনে পুনরায় লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী নেয়া হবে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




নির্বাচন দ্রুত দিয়ে জনগণের হাতে ক্ষমতা তুলে দিন: মির্জা ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, দ্রুত নির্বাচন দিয়ে জনগণের হাতে ক্ষমতা তুলে দেওয়া হোক। তিনি দাবি করেন, তিস্তা চুক্তি এবং নদী প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য তিস্তা পাড়ের ৫ জেলার মানুষের আন্দোলন জোরালো হয়েছে।

মির্জা ফখরুল ১৭ ফেব্রুয়ারি, সোমবার দুপুরে রংপুর জেলার তিস্তা রেলওয়ে সেতু সংলগ্ন চরে ‘জাগো বাহে, তিস্তা বাঁচাই’ কর্মসূচি উদ্বোধন করেন। এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, রংপুর এবং গাইবান্ধা জেলার ১১টি পয়েন্টে সমাবেশ, পদযাত্রা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়।

তিনি বলেন, “তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি বাস্তবায়ন এবং নদী প্রকল্পের কার্যকর পদক্ষেপের জন্য আমরা আন্দোলন করছি।” মির্জা ফখরুল বলেন, “এই আন্দোলন আমাদের সংগ্রামের একটি অংশ, আমরা শেষ পর্যন্ত এটি চালিয়ে যাব।” তিনি আরও বলেন, “আন্দোলনকারী মানুষের দাবি একটাই— তিস্তা নদী রক্ষা এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা।”

সমাবেশে তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলন কমিটির সদস্যরা বক্তব্য রাখেন। বিভিন্ন পেশাজীবী, শিক্ষার্থী, কৃষক, মৎস্যজীবী, চিকিৎসকসহ অন্যান্য শ্রেণির মানুষ এতে অংশগ্রহণ করে।

মির্জা ফখরুল বলেন, “আজকের আন্দোলন দেশের জনগণের দাবি নিয়ে, তাদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে শুরু হয়েছে।” তিনি তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলনের জন্য দ্রুত নির্বাচন অনুষ্ঠানের আহ্বান জানান এবং বলেন, “নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ তাদের প্রতিনিধিকে সংসদে পাঠাতে চায়।”

এদিকে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ১৮ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় ভার্চুয়ালি পাঁচ জেলার কর্মসূচিতে যুক্ত হবেন। বিএনপি নেতারা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা তিস্তা পাড়ে এসে আন্দোলনকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ফেনীতে কাভার্ডভ্যান-পিকআপ সংঘর্ষে নিহত ৫

ফেনীতে কাভার্ডভ্যান ও পিকআপের সংঘর্ষে ৫ জন নিহত হয়েছেন। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১০ জন।

সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনী অংশের কালিদহ ইউনিয়নের হাফেজিয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। পিকআপ ভ্যানে করে নির্মাণ শ্রমিকরা কাজ শেষ করে ফেনী যাচ্ছিলেন, তখন পেছন থেকে একটি কাভার্ডভ্যান তাদের ধাক্কা দেয়। এ ঘটনায় ৫ জন ঘটনাস্থলে মারা যান, এবং আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।

আহত ১০ জনকে উদ্ধার করে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহতদের মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছে। পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে দুর্ঘটনাকবলিত পিকআপ ও কাভার্ডভ্যান সরানোর কাজ শুরু করেছে।

এ ঘটনার পর সড়কটি কিছু সময়ের জন্য বন্ধ ছিল, তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা চলছে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ঝালকাঠিতে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর জেলা সমাবেশ

ঝালকাঠিতে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর জেলা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টার দিকে জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এই সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল রেঞ্জ কমান্ডার আসাদুজ্জামান গনী।

এসমাবেশে জেলা আনসার কমান্ড্যান্ট প্রদীপ চন্দ্র দত্তের সভাপতিত্বে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঝালকাঠি জেলার পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায়, সিভিল সার্জন এইচএম জহিরুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক অন্তরা হালদার, ২২ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন বরিশাল সেনানিবাসের মেজর শোভন শাহরিয়ার এবং জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) ঝালকাঠি কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. এমদাদুল হক।

রেঞ্জ কমান্ডার আসাদুজ্জামান গনী তার বক্তৃতায় বলেন, “বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা পরিস্থিতি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এ বাহিনীর সদস্যরা কমিউনিটি অ্যালার্ট মেকানিজমের মাধ্যমে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ, বাল্যবিবাহ রোধসহ সমাজের নানা স্তরে কাজ করছে।”

তিনি বাহিনীর সদস্যদের আন্তরিকতা এবং নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

সমাবেশের শুরুতে প্রধান অতিথি রেঞ্জ কমান্ডার আসাদুজ্জামান গনী আমন্ত্রিত অতিথিদের সঙ্গে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। পরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয় এবং ভালো কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের মাঝে উপহার সামগ্রী প্রদান করা হয়।

সমাবেশে জেলার ৪ উপজেলা থেকে আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা যোগ দেন। পুরো অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন ঝালকাঠি সদর উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা মো. আল আমিন মিয়া।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম