বরিশালের ৯৬ শতাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নেই

বরিশাল জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ৯৬ শতাংশ বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নেই। বরিশাল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, জেলার এক হাজার ৫৯২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে মাত্র ১৫৩টিতে শহীদ মিনার রয়েছে। এ কারণে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে অনেক শিক্ষার্থী তাদের নিজ বিদ্যালয়ের শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে পারেননি। বরিশাল জেলার মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার ২০৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটিতেও শহীদ মিনার নেই।

শহীদ মিনারের অভাবের কারণে, অনেক বিদ্যালয়ে অস্থায়ী শহীদ মিনার তৈরি করতে দেখা যায়। সোমরাজি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বাগান থেকে কলাগাছ এনে সাদা কাগজে মুড়ে অস্থায়ী শহীদ মিনার তৈরি করে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানান।

এদিকে, শহীদ মিনার না থাকার কারণ হিসেবে বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষকরা তহবিলের অভাব উল্লেখ করেছেন, তবে শহরের স্কুলগুলোতে জায়গার সংকটও একটি বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। মেহেন্দীগঞ্জের মতো কিছু অঞ্চলে মেঘনার ভাঙনের কারণে বিদ্যালয়গুলো একাধিকবার স্থানান্তরিত হয়েছে, ফলে শহীদ মিনার নির্মাণে অসুবিধা হচ্ছে।

বরিশাল জেলার বিভিন্ন উপজেলা যেমন আগৈলঝাড়া, গৌরনদী, উজিরপুর, বানারীপাড়া, মুলাদি, হিজলা, এবং বাকেরগঞ্জে শহীদ মিনারের সংখ্যা কম। উদাহরণস্বরূপ, বাকেরগঞ্জের কলসকাঠী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নেই এবং পাশের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জমি সংক্রান্ত বিরোধের কারণে শ্রদ্ধা নিবেদন করা সম্ভব হচ্ছে না।

শিক্ষাবিদ আশীষ কুমার দাশগুপ্ত বলেন, ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছানোর জন্য প্রতিটি বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার থাকা অত্যন্ত জরুরি। এটি শিক্ষার্থীদের দেশপ্রেমের চেতনা সৃষ্টিতে সহায়তা করবে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. গোলাম মোস্তফা সরোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, সরকারী পর্যায়ে শহীদ মিনারের জন্য বাজেট বরাদ্দ থাকে, তবে অনেক বিদ্যালয়ের জমি অবৈধ দখলে থাকায় শহীদ মিনার নির্মাণে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে।

বরিশালের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, প্রতিটি বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার থাকা উচিত এবং এর জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা জেলা প্রশাসন থেকে দেওয়া হবে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে রাত ৯টার মধ্যে অনুষ্ঠান শেষ করার নির্দেশনা

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন রাত ৯টার মধ্যে সব সামাজিক-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষ করার নির্দেশনা জারি করেছে। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে একটি উন্মুক্ত কনসার্ট একদল শিক্ষার্থীর বাধায় পণ্ড হওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নতুন প্রক্টর সোনিয়া খানমের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে চলা বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পিকনিক ও খেলাধুলা গভীর রাত পর্যন্ত চলে, যা শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও একাডেমিক কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের জন্যও এটি অস্বস্তির সৃষ্টি করে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও নামাজের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসন ৮ দফা নির্দেশনা দিয়েছে।

এই নির্দেশনাগুলির মধ্যে রয়েছে:

  • সব ধরনের অনুষ্ঠান রাত ৯টার মধ্যে শেষ করা বাধ্যতামূলক।
  • অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেয়া উচিত।
  • অনুষ্ঠান নির্ধারিত স্থানে এবং সময় অনুযায়ী করতে হবে।
  • বিকেল সাড়ে ৪টার আগে কোনো শব্দযন্ত্র ব্যবহার করা যাবে না।
  • একাডেমিক কার্যক্রম চলাকালীন প্রধান ফটকের সামনে শব্দযন্ত্র ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
  • অন্য বিভাগের একাডেমিক কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি না করার জন্য সতর্ক থাকতে হবে।
  • মসজিদ এবং হলগুলোর আজান-নামাজের সময় শব্দযন্ত্র ব্যবহার বন্ধ রাখতে হবে।
  • অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে আয়োজকদের দায়ভার বহন করতে হবে।

এদিকে, গত বুধবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে সাংস্কৃতিক সংগঠন “চারুকলা সংসদ” (ববিচাস) একটি উন্মুক্ত কনসার্ট আয়োজন করেছিল। অনুষ্ঠানটি কৃষ্ণপক্ষ ব্যান্ডের গান পরিবেশনের মাধ্যমে শুরু হয় এবং রাত ১টা পর্যন্ত চলছিল। তবে, শেরেবাংলা হল ও বিজয়-২৪ হলের শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা বিঘ্নিত হওয়ার অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ জানায়। এর ফলস্বরূপ, শতাধিক শিক্ষার্থী বিক্ষোভে জড়িত হয় এবং চেয়ারে ভাঙচুর করা হয়। অনুষ্ঠানটি হামলার আশঙ্কায় বন্ধ হয়ে যায়, এবং পরবর্তীতে ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর সোনিয়া খানম ঘটনাস্থলে আসেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক শিক্ষার্থী ইয়ামিন ইসলাম জানান, হলগুলোতে পড়াশোনার পরিবেশ বজায় রাখার জন্য তারা আগেও প্রশাসনের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন, কিন্তু প্রশাসনের অবহেলায় বিষয়টি এখনও সমাধান হয়নি।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে গণপূর্তে অনাকাঙ্ক্ষিত হানা, নির্বাহী প্রকৌশলী নিরাপত্তা চেয়ে জিডি করলেন

বরিশালের গণপূর্ত অধিদপ্তরে ঢুকে নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল আলমের উপর আক্রমণ এবং অশোভন আচরণের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় তিনজন ঠিকাদারের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন ফয়সাল আলম। নিরাপত্তাহীনতার কারণে তিনি কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি, গণপূর্ত অফিসে কাজ করার সময় আব্দুর রহিম, রিপন (বগা রিপন) ও শাহিন নামক ঠিকাদাররা ফয়সাল আলমের অফিসে ঢুকে উন্মত্ত আচরণ শুরু করেন। তারা অফিসের কাজের নিয়মানুযায়ী ইজিপি টেন্ডারের মাধ্যমে ঠিকাদারি কাজ দেওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায়, তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ফয়সাল আলমকে গালাগাল করে এবং টেবিল চাপড়ে ভীতি সৃষ্টি করেন। ওই সময় অফিসের অন্যরা এগিয়ে এসে পরিস্থিতি শান্ত করেন।

এদের মধ্যে রিপন নিজেকে বিএনপি নেতা হিসেবে দাবি করেন, কিন্তু দীর্ঘ ১৫-১৬ বছর ধরে তার যোগাযোগ ছিল আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে। বর্তমানেও তিনি প্রভাবশালী এক আওয়ামী লীগ নেতার সাথে গণপূর্তে ঠিকাদারি কাজ করে আসছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

ফয়সাল আলম তার অভিযোগে জানান, “আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে এবং তাদের উচ্ছৃঙ্খল আচরণের কারণে আমি চরম নিরাপত্তাহীনতায় আছি। তাই থানায় নিরাপত্তা চেয়ে জিডি করেছি।”

এই অভিযোগের পর বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, বিষয়টি তদন্ত করা হবে এবং পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, রিপন (বগা রিপন) এই অভিযোগের বিরুদ্ধে বক্তব্যে বলেন, “এই নির্বাহী প্রকৌশলী দুর্নীতি করে কোটি কোটি টাকা কামিয়েছেন, আর আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন।”

নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল আলম বলেন, “সরকারি দপ্তরে কোনো অনিয়মের সুযোগ নেই। এ ঘটনায় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




২৪ মিনিটে বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : প্রাথমিকভাবে তিন রুটে চলাচল করবে এমআরটি লাইন-১ বা বাংলাদেশের প্রথম পাতাল রেল। ২০২৬ সালে এটি চালু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। চালু হলে প্রতিটি একমুখী মেট্রোরেল প্রতিবার ১২টি স্টেশনে থেমে ২৪ মিনিট ৩০ সেকেন্ডে বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর যেতে পারবে।

এছাড়াও ৯টি স্টেশনে থেমে ২০ মিনিট ৩০ সেকেন্ডে নতুনবাজার থেকে পূর্বাচল টার্মিনাল ও ১৬টি স্টেশনে থেমে ৩৫ মিনিট ৩০ সেকেন্ডে কমলাপুর থেকে পূর্বাচল টার্মিনাল পর্যন্ত যাতায়াত করবে। এতে দৈনিক আট লাখ যাত্রী যাতায়াত করতে পারবেন।

ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের (লাইন-১) প্রকল্প পরিচালক মো. আবুল কাসেম ভূঁঞা বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন।




ভাষা শহীদদের প্রতি প্রধান উপদেষ্টার শ্রদ্ধা নিবেদন

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুস ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনের বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। রাত ১২টা ১২মিনিটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

রাত ১২টা ১০ মিনিটে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে পৌঁছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুস। তাকে শহীদ মিনারে অভ্যর্থনা জানান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো শেষে শহীদ মিনার বেদী ত্যাগ করার পর একুশে ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। এরপর প্রধান বিচারপ্রতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ শ্রদ্ধা জানান। তারপর উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।




অমর একুশে ফেব্রুয়ারি আজ, শ্রদ্ধাবনত জাতি

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : রাত ১২টা ১ মিনিট, চতুর্দিকে বেজে ওঠা ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি/ আমি কি ভুলিতে পারি’ গানের সুমধুর সুর জানান দিচ্ছে আজ অমর একুশে ফেব্রুয়ারি। ১৯৫২ সালের আজকের এই দিনে ভাষার দাবিতে রাজপথে নামা কিছু তরুণের বুকের তাজা রক্তে লাল হয় ঢাকার রাজপথ।

সেদিন মাতৃভাষা রক্ষার জন্য বাংলার দামাল ছেলেরা তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছিল। আর তাদের রক্তের বিনিময়ে বাংলা পেয়েছিল পূর্ব পাকিস্তানের রাষ্ট্র ভাষার স্বীকৃতি। এরপর থেকেই ভাষা শহীদ দিবস হিসেবে রাষ্ট্রীয়ভাবে পালিত হয়ে আসছে দিনটি। পরবর্তীতে ২১শে ফেব্রুয়ারি পেয়েছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষার দিবসের স্বীকৃতি।

বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা থেকেই সাজতে শুরু করেছে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। একুশের প্রথম প্রহরে অর্থাৎ রাত ১২ টা ১ মিনিটে কালো ব্যাজ ধারণ করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন সর্বস্তরের মানুষ।




বরিশালের চারদিক জুড়ে আন্দোলন

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-আন্দোলনের জুলাই বিপ্লবের পর হঠাত করে কয়েকটি ইস্যু নিয়ে বরিশালের রাজপথ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এরমধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য হচ্ছে-ববিতে ২২ দফা দাবি আদায়ে শিক্ষার্থীদের অনড় কর্মসূচি, শেবামেকে কমপ্লিট শাটডাউনের মধ্যে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করে সরকারি প্রজ্ঞাপনে অগ্নিসংযোগ, কুয়েটে হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিলকে কেন্দ্র করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও ছাত্রদলের মধ্যে উত্তেজনা, ভাড়া নিয়ে দ্বন্ধে সহপাঠীদের মারধরের প্রতিবাদে লঞ্চঘাটে আইএইচটির শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, জাতীয় সংসদ নির্বাচন, নিত্যপণ্যের মূল্য সহনশীল পর্যায়ে আনাসহ বেশ কিছু ইস্যুতে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রতিদিনই চলছে মিছিল ও সমাবেশ।

দেশের অন্যতম বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বিএনপি জেলার প্রায় প্রতিটি উপজেলায় সমাবেশের মাধ্যমে নিত্যপণ্যের মূল্য সহনশীল পর্যায়ে আনা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, দ্রুত নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণা এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবিতে সভা ও সমাবেশের মাধ্যমে তাদের শক্তির জানান দিচ্ছেন। অপরদিকে জামায়াতে ইসলামী দলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল আজহারুল ইসলামের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন। সবমিলিয়ে ক্রমেই উত্যপ্ত হয়ে উঠেছে বরিশালের রাজপথ।

সূত্রমতে, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে ১৯ ফেব্রুয়ারি দুপুরে বরিশাল সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজ ক্যাম্পাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা একটি মিছিল বের করতে চেয়েছেন। আর সেই মিছিলে যোগ দিতে অপর একটি কলেজের বহিরাগত শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে আসলে ছাত্রদলের অনুসারীরা তাতে ক্ষুব্ধ হন। এনিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে বাগবিতন্ডার একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলার সদস্য সচিব এসএম ওয়াহিদুর রহমান বলেন, কুয়েটের শিক্ষার্থীদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজে একটি কর্মসূচি ছিল। সেখানে কিছু অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটেছে। সেখানে যারা হামলা চালিয়েছে তারা নিজেদের ছাত্রদলের কর্মী পরিচয় দিয়েছিলেন। বিষয়টি জানতে পেরে ছাত্রদলের মহানগরের নেতারা ও আমরা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা ঘটনাস্থলে আসি। পরে আলোচনার মধ্যদিয়ে ভুল বোঝাবুঝির নিস্ফতি করা হয়েছে। মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি রেজাউল করিম রনি তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

মশাল মিছিল \ কুয়েটে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ১৮ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ১১টার দিকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজে (শেবামেক) মশাল মিছিল ও সমাবেশ করেছে শিক্ষার্থীরা। একইদিন রাত সাড়ে আটটার দিকে বরিশাল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে একই দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। একই দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

প্রজ্ঞাপনে অগ্নিসংযোগ \ শিক্ষক সংকট নিরসন ইস্যুতে গত চারদিন ধরে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজে (শেবামেক) শিক্ষার্থীদের চলমান কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচির মধ্যে বিক্ষোভ মিছিল, সড়ক অবরোধ, সমাবেশ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা। সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বলেন, শিক্ষক সংকট নিরসন ইস্যুর মতো যৌক্তিক দাবি না মানা পর্যন্ত তাদের কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি ডেন্টাল অনুষদের প্রফেশনাল পরীক্ষা ও ২৮ ফেব্রুয়ারি ওই অনুষদের ভর্তি পরীক্ষার কার্যক্রম ব্যাহত হলে এর দায়ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে নিতে হবে। অপরদিকে শিক্ষার্থীদের কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচির কারণে কলেজের প্রশাসনিক ভবনসহ অধ্যক্ষ কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে শিক্ষার্থীরা। ফলে কলেজের সকল কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

বৃহস্পতিবার বেলা ১২ টার দিকে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করে হাসপাতালের প্রধান গেটের সামনের সড়ক অবরোধ করেন। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেনন, কলেজে মোট ৩৩৪ জন শিক্ষকের পদের বিপরীতে ১৬১টি পদে শিক্ষক রয়েছে। বাকী ১৭৩টি পদ শূন্য। ফলে তাদের শিক্ষাদানে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষক সংকট নিরসনের দাবীতে শিক্ষার্থীদের চলমান কমপ্লিট শাটডাউনের মধ্যে ১৯ ফেব্রুয়ারি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে ছয়জন চিকিৎসককে কলেজে বদলি করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। শিক্ষার্থীদের দাবী, অভিজ্ঞ শিক্ষক থাকতেও অনভিজ্ঞ কয়েকজন চিকিৎসককে এখানে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যা শিক্ষার্থীদের দাবীর প্রতি প্রহসন। তাই তারা প্রজ্ঞাপন না মেনে তাতে অগ্নিসংযোগ করেছে।

লঞ্চঘাটে বিক্ষোভ \ মেয়ে সহপাঠীদের মারধরের প্রতিবাদে বরিশাল নদী বন্দরে ১৯ ফেব্রুয়ারি বিকেলে বিক্ষোভ করেছেন বরিশাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি (আইএইচটি) শিক্ষার্থীরা। তাদের বিক্ষোভের মুখে স্টাফরা ঘাটে এমভি শুভরাজ-৯ লঞ্চ বেঁধে রেখে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে রাতে নদীবন্দর কর্তৃপক্ষ, নৌ পুলিশ ও আইএইচটি অধ্যক্ষের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি তারা আটজন শিক্ষার্থী বরিশাল থেকে এমভি শুভরাজ-৯ লঞ্চে ঢাকায় আসেন। ওইসময় লঞ্চের স্টাফরা তাদের চুক্তির চেয়ে চারটি টিকিট বেশি দেয়। পরেরদিন লঞ্চ থেকে নেমে যাওয়ার পর শুভরাজ-৯ লঞ্চের স্টাফরা জানতে পারেন। এরপর তারা সেই চার টিকিটের টাকা চেয়ে সারাদিন অনবরত ফোন দিতে থাকেন। একপর্যায়ে মোবাইল ফোনে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ধরনের হুমকি প্রদর্শন করা হয়।

শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, কাজ শেষে তারা সবাই বরিশালে আসার জন্য ১৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় ঢাকার সদরঘাটে এসে এমভি মানামী লঞ্চে ওঠার পর শুভরাজ-৯ লঞ্চের একাধিক স্টাফ তাদের আটজন শিক্ষার্থীর ওপর হামলা চালায়। এসময় মেয়ে সহপাঠী বৈশাখী, পূজাসহ ৪/৫ জন লঞ্চ স্টাফদের হামলার শিকার হয়। এ ঘটনার জেরধরে সহপাঠীরা বরিশাল নদী বন্দরে নোঙর করা এমভি শুভরাজ-৯ লঞ্চে আসি। একপর্যায়ে কৌশলে লঞ্চ থেকে সব স্টাফ পালিয়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ছাত্ররা ঘাটের পল্টুনে লঞ্চটির বিভিন্নতলায় অবস্থান নিয়ে হামলার বিচারের দাবিতে শ্লোগান দিতে থাকেন। বরিশাল সদর নৌ-পুলিশের ওসি সনাতন চন্দ্র সরকার জানান, ঘটনাটি ঢাকার সদরঘাটে হওয়ায় আইনি ব্যবস্থা সেখানে নিতে হবে।

২২ দফা দাবিতে অনড় শিক্ষার্থীরা \ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) প্রশাসনের স্বৈরাচারী মনোভাব ও আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের পুনর্বাসনের অপতৎপরতার প্রতিবাদ জানিয়ে ২২ দফা দাবি আদায়ে অনড় কর্মসূচি করেছেন শিক্ষার্থীরা। ক্লাস রুম ও আবাসিক হল সংকট নিরসনে বাজেট আনতে ব্যর্থ হওয়া, শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের মিথ্যা মামলা দেওয়া, সন্ত্রাসী ছাত্রলীগের বিচার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়ার প্রতিবাদসহ পূর্বে ঘোষণা করা ২২ দফা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি করেছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি পূরন না হলে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মধ্যদিয়ে শিক্ষার্থীরা দাবি আদায় করবে বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারন করা হয়েছে। অপরদিকে বুধবার রাতে এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে আন্দোলনকারীরা শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেছেন, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক শুচিতা শরমিনের নির্দেশে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার না করলে তারা সড়ক অবরোধসহ কঠিন কর্মসূচি দিতে বাধ্য থাকবেন। এর আগে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ববি উপাচার্যের বাসভবনের সামনে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা উত্তেজিত হয়ে উপাচার্যের গেট ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে। ওই ঘটনায় ববি উপাচার্যের পক্ষ থেকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

ছাত্রদলের বিক্ষোভ \ স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের নৈরাজ্য ও হরতালের প্রতিবাদে নগরীতে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি দুপুরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জেলা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। ছাত্রদলের নেতারা বলেন, পতিত স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ তাদের কর্মকান্ডে লজ্জিত না হয়ে, ক্ষমা না চেয়ে উল্টো দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। হরতাল ডেকে ফের নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে চাইছে। এসবের দায় একমাত্র শেখ হাসিনাকেই নিতে হবে।

মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা \ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফার লিফলেট ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও বরিশাল-১ আসন থেকে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবহান। গত এক মাস ধরে প্রায় প্রতিদিন তিনি গৌরনদী ও আগৈলাঝাড়া উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লায় মতবিনিময় সভা অব্যাহত রেখেছেন। তারই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার সরিকল বন্দরে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবহান বলেছেন, দেশের মানুষ সংস্কার বোঝে না, তারা শান্তি, সুশাসন ও নির্বাচন চায়। দেশে যতো দ্রুত জাতীয় নির্বাচন হবে, ততো দ্রুত দেশে শান্তি শৃঙ্খলা ফিরে আসবে। তিনি আরও বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সহনীয় রাখা, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং দ্রুত নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণা করার কোন বিকল্প নেই। অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারের উদ্দেশে আবদুস সোবহান বলেন, নীল নদের পানি যেমন নীল নয়, তেমনি জামায়াতে ইসলামী কোন ইসলামী দল নয়। তাই তাদের নিয়ে যদি কারো ক্ষমতায় থাকার খায়েশ থাকে, তাহলে পদত্যাগ করে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুন। জনগণ আপনাদের রায় দিলে আমরা সেটা মেনে নিবো।

অপরদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল আজহারুল ইসলামের মুক্তির দাবিতে নগরীতে বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। সবমিলিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-আন্দোলনের জুলাই বিপ্লবের পর হঠাৎ করে বেশ কয়েকটি ইস্যু নিয়ে ছাত্র ও রাজনৈতিক নেতাদের বিভিন্ন কর্মসূচিতে ফের গরম হয়ে উঠেছে বরিশালের রাজপথ।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে বাস চাপায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত, পরিবারে শোক

বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের গৌরনদী এলাকায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ২৭ বছর বয়সী মো. তুহিন নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। নিহত তুহিন চাঁদপুর জেলার মতলব উপজেলার টিএন্ডটি এলাকার কেরামত আলীর ছেলে।

আজ (২০ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার কটকস্থল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে। গৌরনদী হাইওয়ে থানার টিএসআই রুহুল আমীন জানিয়েছেন, ঢাকা থেকে বরিশালগামী সাকুরা পরিবহন বাসটি বেপরোয়াগতি চালিয়ে বরিশালগামী একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে মোটরসাইকেল চালক তুহিন বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।

দুর্ঘটনার পর নিহত তুহিনের লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে এবং তার পরিবারকে অবহিত করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। দুর্ঘটনার কবলে পড়া বাস ও মোটরসাইকেলও জব্দ করা হয়েছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ফজলুল হক বলেন, “এই ধরনের দুর্ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। সড়কটি কিছুটা সরু এবং বাসগুলো অধিকাংশ সময় বেপরোয়াভাবে চালায়। এর আগে এমন কিছু দুর্ঘটনা ঘটেছিল। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুতগতি নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।” অপর এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, “তুহিন খুবই ভালো ছেলে ছিল। সে চাঁদপুর থেকে বরিশাল আসছিল, কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে তার জীবন শেষ হয়ে গেল। তার পরিবার গভীর শোকাহত।”

গৌরনদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইউনুস মিয়া বলেন, “এটি একটি অত্যন্ত দুঃখজনক দুর্ঘটনা। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে এসেছে এবং পরিবারকে অবহিত করা হয়েছে। বাস ও মোটরসাইকেল দুটি জব্দ করা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।”

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশাল মেডিক্যাল কলেজে শিক্ষকদের সংকট: শিক্ষার্থীদের চতুর্থ দিনের আন্দোলন অব্যাহত

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থীরা চতুর্থ দিনের মতো সম্পূর্ণ শাটডাউন কর্মসূচি পালন করছে। শিক্ষক সংকটের কারণে শিক্ষার্থীরা গত সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) থেকে তাদের আন্দোলন শুরু করেছে। দ্রুত সময়ে সমস্যার সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকরী পদক্ষেপ না নেওয়া হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

গত বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদফতর কর্তৃক প্রকাশিত এক প্রজ্ঞাপনে ছয় জন নতুন লেকচারারের বদলি ঘোষণা করা হলেও শিক্ষার্থীরা জানান, তারা অভিজ্ঞ শিক্ষকদের পেতে চান। এর পরেই তারা ওই প্রজ্ঞাপনে অগ্নিসংযোগ করেন, যা আন্দোলনের একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হয়ে দাঁড়ায়।

এছাড়া, আজ (২০ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টায় শিক্ষার্থীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে এবং শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সড়ক অবরোধ করেন। এ সময় সড়কে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়। শিক্ষার্থীরা স্লোগান দিয়ে তাদের দাবির প্রতি সরকারের মনোযোগ আকর্ষণ করেন।

শিক্ষার্থী নাইম ও সাদিয়া আফরিন হারিসা জানান, কলেজে মোট ৩৩৪ শিক্ষকের পদের বিপরীতে বর্তমানে ১৬১ জন শিক্ষক রয়েছেন। বাকি ১৭৩টি পদ শূন্য থাকায়, তাদের শিক্ষা কার্যক্রমে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।

এ পরিস্থিতিতে গত সোমবার থেকে কলেজে শাটডাউন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন তারা। যদিও স্বাস্থ্য অধিদফতর ছয় জন নতুন চিকিৎসক বদলি করেছেন, কিন্তু শিক্ষার্থীরা দাবি করছেন, কিছু নতুন নিয়োগকৃত চিকিৎসক যথেষ্ট অভিজ্ঞ নয়। এই নিয়োগ তাদের দাবির প্রতি প্রহসন বলেই তারা মন্তব্য করেছেন। তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে, যতদিন না তাদের দাবি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হয়।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




একুশে পদক ২০২৫: প্রধান উপদেষ্টা দ্বারা সম্মানিত ১৮ বিশিষ্ট ব্যক্তি

জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি সম্মান ও কৃতিত্বের স্বীকৃতি হিসেবে আজ একুশে পদক ২০২৫ প্রদান করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি পদক বিতরণ করেন। এবারের একুশে পদকপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য পুরস্কৃত ১৮ বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব।

এই বছর পদক প্রাপ্তরা হলেন:

  • চলচ্চিত্র: আজিজুর রহমান (মরণোত্তর),
  • সঙ্গীত: ওস্তাদ নীরদ বরণ বড়ুয়া (মরণোত্তর), ফেরদৌস আরা,
  • আলোকচিত্র: নাসির আলী মামুন,
  • চিত্রকলা: রোকেয়া সুলতানা,
  • সাংবাদিকতা: মাহফুজ উল্লাহ (মরণোত্তর),
  • গবেষণা: মঈদুল হাসান,
  • শিক্ষা: ড. নিয়াজ জামান,
  • বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি: মেহদী হাসান খান (দলনেতা), রিফাত নবী (দলগত), মো. তানবিন ইসলাম সিয়াম (দলগত), শাবাব মুস্তাফা (দলগত),
  • সমাজসেবা: মোহাম্মদ ইউসুফ চৌধুরী (মরণোত্তর),
  • ভাষা ও সাহিত্যে: হেলাল হাফিজ (মরণোত্তর), শহীদুল জহির (মো. শহিদুল হক) (মরণোত্তর),
  • মানবাধিকার ও সাংবাদিকতা: মাহমুদুর রহমান,
  • সংস্কৃতি ও শিক্ষা: ড. শহিদুল আলম,
  • ক্রীড়া: বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দল।

প্রসঙ্গত, একুশে পদক ১৯৭৬ সাল থেকে ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে প্রতিবছর দেওয়া হয়ে থাকে। এটি একটি জাতীয় সম্মান, যা বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশিষ্ট অবদানের জন্য দেশের গুণী ব্যক্তিত্বদের প্রদান করা হয়। একুশে পদক এক অনন্য জাতীয় সম্মান হিসেবে পরিচিত এবং এটি বাংলাদেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অংশ।

“মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”