খুলনায় এনসিপি নেতাকে গুলির ঘটনায় সাতক্ষীরা সীমান্ত সিল, বিজিবির কঠোর নজরদারি

খুলনায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেতাকে গুলির ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। ঘটনার পর সোমবার (২২ ডিসেম্বর) সাতক্ষীরা সীমান্ত কার্যত সিল করে দেওয়া হয় এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বসানো হয় একাধিক চেকপোস্ট। একই সঙ্গে সীমান্তজুড়ে তল্লাশি ও নজরদারি কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, সংঘটিত এই গুরুতর অপরাধের সঙ্গে জড়িত দুষ্কৃতিকারীদের আটক এবং তাদের সীমান্ত অতিক্রম রোধের লক্ষ্যে সাতক্ষীরা সীমান্তে বিশেষ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। নিয়মিত টহল ও চেকপোস্টের পাশাপাশি অতিরিক্ত টহল দল মোতায়েন করা হয়েছে এবং সন্দেহভাজন চলাচলের ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে।

বিজিবির সাতক্ষীরা ৩৩ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী আশিকুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সীমান্ত এলাকায় যেন কোনোভাবেই অপরাধীরা পালিয়ে যেতে না পারে, সে জন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।

বিজিবির দায়িত্বশীল সূত্র আরও জানায়, খুলনার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিরা যাতে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত অতিক্রম করতে না পারে, সে লক্ষ্যে যশোর রিজিয়নের আওতাধীন সাতক্ষীরা, যশোর, চুয়াডাংগা, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়া জেলার সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে নিচ্ছিদ্র নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে যশোর রিজিয়নের অধীনস্থ সাতটি ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় মোট ৫৭টি চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি নিয়মিত টহলের সঙ্গে অতিরিক্ত ৮৭টি টহল পরিচালনা করা হচ্ছে, যাতে দুষ্কৃতিকারীদের দ্রুত শনাক্ত ও আটক করা সম্ভব হয়।

এ ছাড়া সীমান্ত এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিজিবির পক্ষ থেকে স্থানীয় জনসাধারণ, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করা হচ্ছে। বিশেষ প্রচার ও প্রচারণার মাধ্যমে জনসচেতনতা বাড়ানো এবং সন্দেহজনক কোনো তথ্য পাওয়া গেলে বিজিবিকে জানাতে স্থানীয়দের অনুরোধ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার ফলে সীমান্ত এলাকায় অপরাধ দমন ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

 




আসন্ন নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে তিন বাহিনী প্রধানের সাথে ইসির বৈঠক

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :   আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আইন শৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রথমবারের মতো তিন বাহিনী প্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেছে নির্বাচন কমিশন ।

ইসি আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, প্রথমবারের মতো আমরা তিন বাহিনী প্রধান সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং বিমানবাহিনী প্রধানের সঙ্গে আলাদাভাবে মিটিং করেছি। পরবর্তীতে বাকি সব বাহিনী প্রধানসহ সেনা ও বিমানবাহিনী প্রধানের প্রতিনিধি, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, উপপ্রধানরাসহ মিটিং করা হবে । এরই মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক পরিপত্র জারি হয়েছে। ১১ ডিসেম্বর তফসিল ঘোষণার পর থেকে সার্বিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা হয়েছে এই  বৈঠকে।

তিনি জানান, তফসিল থেকে শুরু করে রবিবার পর্যন্ত সার্বিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন, দিকনির্দেশনা এবং অপরাপর আনুষ্ঠানিক কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। -বর্বরোচিত এক হামলায় জুলাই যোদ্ধা শরিফ ওসমান হাদি শাহাদাত বরণ করেছেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত সাত-আট দিন আমরা পুরা জাতি শোকে মুহ্যমান ছিলাম এবং আমাদের ফোকাসটা ওদিকেই ছিল। কিন্তু মাঠপর্যায়ে নির্বাচনি কার্যক্রম চলমান আছে এবং অন্যান্য জায়গায় নির্বাচনি পরিবেশ নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করা হয়েছে। তিনি জানান, আমরা সুনির্দিষ্টভাবে কতগুলো নির্দেশনা নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে দিয়েছি। নির্বাচনের পরিবেশ বিঘ্নিত  করে এ ধরনের কোনো ধরনের কর্মকান্ড সহ্য করা হবে না। এবং বাহিনীগুলোকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যে নির্বাচনের পরিবেশ ক্ষতি করে এ ধরনের কোনো কর্মকান্ড নিরুৎসাহিত করতে এবং প্রয়োজনে বাধা দিতে যা করা প্রয়োজন তা তারা করবেন। ভোটের পরিবেশ বিঘ্ন করে এমন ধরনের অপতৎপরতা রোধে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর জন্য নির্দেশনা রয়েছে ইসির। শিগগির গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে আলাদা বৈঠকের কথা রয়েছে। শহীদ ওসমান হাদির ক্ষেত্রে যে ঘটনাটা ঘটেছে, আগে থেকে যতটুকু তথ্য জানা দরকার ছিল বা সেটা কেন পারা গেল না তাও জানতে চাওয়া হয় বৈঠকে।

আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, আমরা নির্দেশনা দিয়েছি- যৌথ বাহিনীর অপারেশনের অন্যতম লক্ষ্য হবে অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার, সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার এবং আইনের আওতায় নিয়ে আসা এবং সার্বিকভাবে সাধারণ মানুষের প্রার্থীদের মাঝে, দলগুলোর মাঝে একটা আস্থার পরিবেশ তৈরি করা। এলাকাভিত্তিক চেকপয়েন্ট অপারেশনের ওপর গুরুত্ব ও বিশেষ অভিযান পরিচালনার ব্যাপারে জোর দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় অস্ত্রের আনাগোনা আছে বলে জানা যায় সেসব এলাকায়। রিমোট এলাকায় অধিকতর খবরদারি ইত্যাদির ব্যাপারে বলা হয়েছে।

সম্ভাব্য দলীয় প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর নিরাপত্তার বিষয়েও পুলিশি নিরাপত্তা উদ্যোগের কথা জানানো হয়েছে ইসিকে। এ নির্বাচন কমিশনার বলেন, বৈঠকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল প্রার্থী হিসেবে যাদের মনোনয়ন দিচ্ছেন বা ইন্ডিপেন্ডেন্ট হিসেবে যারা প্রার্থী হিসেবে ইলেকশন করতে চাচ্ছেন, তাদের নিরাপত্তার বিষয়ে আশ্বস্ত হয়েছি। পুলিশের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যেই একটা প্রোটোকল দাঁড় করানো হয়েছে এবং সেই প্রোটোকল অনুযায়ী যারা যারা নিরাপত্তা চাচ্ছেন তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হচ্ছে। তবে এর বাইরেও যদি কেউ নিরাপত্তা ঘাটতি অনুভব করেন, কোনো সংবেদনশীলতা অনুভব করেন তারা পুলিশের কাছে এপ্রোচ করলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

২৫ ডিসেম্বরের মধ্যে ভোটের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নিবন্ধনের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। তিনি জানান, পোস্টাল ভোট নিয়ে আলোচনা হয়েছে পোস্টাল ভোটে যারা ভোট দিতে পারবেন তারা যেন সময় মতো রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেন।

তফসিল ঘোষণার পর গণমাধ্যমে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও বিভিন্ন জায়গায় মানুষকে পুড়িয়ে মারাসহ কয়েকটি বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ইসির পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। তিনি বলেন, এ প্রশ্নগুলো আমরাও জানতে চেয়েছি বিভিন্ন বাহিনীর কাছ থেকে। এগুলো নিয়ে আমরাও কনসার্ন। আপনারা যেসব বিষয়ে উদ্বিগ্ন, আমরাও একইভাবে উদ্বিগ্ন। কারণ এটার সঙ্গে নির্বাচনি পরিবেশের সম্পৃক্ততা আছে। তফসিল ঘোষণার পর যাই হোক না কেন, সেটার প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ প্রভাব নির্বাচনের পরিবেশের ওপর পড়ে। আপনারা আমাদের অংশীজন ও পার্টনার। আপনারা যদি নিরাপদ বোধ না করেন, তাহলে দায়িত্ব পালন করবেন কীভাবে।

এক প্রশ্নের জবাবে এ নির্বাচন কমিশনার জানান, আগস্টের পর মানবিক পুলিশিংয়ের নির্দেশনার সুযোগ কেউ কেউ অপব্যবহার করেছে। আমরা ইসির পক্ষ থেকে কঠোরভাবে বাহিনী ও সংস্থাগুলোকে বলেছি, আমরা মানবিক হব, যারা মানবিক আচরণ করবে তাদের প্রতি; কিন্তু যারা দস্যুতা করতে চায়, ভ্যানডালিজম করতে চায়, নির্বাচনি পরিবেশ নষ্ট করতে চায়, আমার ভাইকে হত্যা করতে চায়- তাদের প্রতি মানবিক হওয়ার দরকার নেই। ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত আগ্রহীরা মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারবেন।




স্বর্ণের বাজারে আবারও মূল্যবৃদ্ধি

দেশের স্বর্ণবাজার আবারও দামের ঊর্ধ্বগতির মুখে। স্থানীয় বাজারে খাঁটি তেজাবি স্বর্ণের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় জুয়েলারি মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) নতুন দামের তালিকা ঘোষণা করেছে। তাদের সর্বশেষ মূল্য সমন্বয় অনুযায়ী, ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরিতে এক হাজার টাকার বেশি দাম বেড়েছে, যা সাধারণ ক্রেতা থেকে শুরু করে ব্যবসায়ীদের নতুন করে হিসাব-নিকাশে ফেলতে পারে।

রবিবার রাতে বাজুস থেকে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারে কাঁচা স্বর্ণের দামের ওঠানামা চলমান। এর প্রভাব সরাসরি দেশের বাজারেও পড়ছে। সম্প্রতি খাঁটি (পিওর) সোনার দাম বৃদ্ধির কারণে বাধ্য হয়েই দেশের বাজারে স্বর্ণের নতুন দামের হার নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন মূল্য সোমবার থেকে কার্যকর হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরিতে নতুন যুক্ত মূল্য এক হাজার পঞ্চাশ টাকা। এর ফলে স্বর্ণ ক্রেতাদের জন্য বাজেট কিছুটা বাড়তে হবে। বিশেষ করে যারা বিয়েসহ বড় কেনাকাটার পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য নতুন মূল্য বেশ চাপের কারণ হতে পারে। তবে প্রয়োজনীয়তা ও বাজার চাহিদার কথা বিবেচনায় নিয়ে এই সমন্বয় করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি।

এদিকে, বিভিন্ন ক্যারেট অনুযায়ী স্বর্ণের দাম নতুন তালিকায় নির্ধারণ করা হয়েছে। ২১ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি দুই লাখ আট হাজার টাকার বেশি নির্ধারিত হয়েছে। একইভাবে ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি কিছুটা কম হলেও তা এখনো উচ্চমুখী। সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম অন্যান্য ক্যারেটের তুলনায় নিম্ন হলেও সেটিতেও বৃদ্ধি রয়েছে।
স্বর্ণের দামে হঠাৎ বৃদ্ধি অনেক ভোক্তার কাছে অস্বস্তির কারণ হতে পারে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্তদের জন্য এই বাড়তি মূল্য ক্রয়ক্ষমতার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজার স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত এই পরিবর্তন অব্যাহত থাকতে পারে। তবে ভবিষ্যতে দাম আরও বাড়বে নাকি কমবে, তা অনেকটাই বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে।

অন্যদিকে রুপার বাজারে কোনো পরিবর্তন আসেনি। আগের দামেই রুপা বিক্রি হচ্ছে। ফলে যারা কম দামে অলংকার খুঁজছেন, তাদের জন্য রুপা এখনো স্বস্তির জায়গা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে ২২ ক্যারেট রুপা চার হাজার পাঁচশ টাকার ঘরে থাকায় রুপার চাহিদা কিছুটা বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ভবিষ্যতে স্বর্ণের দাম স্থিতিশীল হবে কিনা তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তবে বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক স্বর্ণবাজারের পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে দেশের বাজারও ধীরে ধীরে স্থিতিশীল অবস্থায় ফিরতে পারে। সেক্ষেত্রে দাম কমার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। কিন্তু আপাতত মূল্যবৃদ্ধির চাপ থেকেই যাচ্ছে।
স্বর্ণ দেশের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ঐতিহ্যের অংশ। বিয়ে, উৎসব ও বিশেষ অনুষ্ঠানে স্বর্ণের ব্যবহার অপরিহার্য। ফলে দামের বৃদ্ধি আনন্দের মুহূর্তগুলোতে অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা হয়ে দাঁড়াতে পারে। তবে অনেকে মনে করছেন, স্বর্ণ দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ হিসেবেও লাভজনক। তাই বাজারে মূল্যবৃদ্ধি হলেও অনেকেই বিকল্প বিনিয়োগ পরিকল্পনায় স্বর্ণকে রাখবেন।

যদিও বাজারে স্থিতিশীলতা স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের কাঙ্খিত, তবুও দেশের বাজারে আন্তর্জাতিক প্রভাব পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে। ফলে নতুন দামে স্বর্ণ কেনাকাটার ক্ষেত্রে ক্রেতাদের সচেতন ও হালনাগাদ তথ্য জেনে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।

“মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”

 




গ্যাস আমদানিতে বড় প্রকল্পের পথে বাংলাদেশ

বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা বর্তমানে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে। বিশেষ করে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রের উৎপাদন কমে যাওয়ায় আমদানি নির্ভরতা দ্রুত বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে মহেশখালী–বাখরাবাদ তৃতীয় সমান্তরাল গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার ব্যয় প্রাক্কলন ধরা হয়েছে ২৪ হাজার ৩২০ কোটি টাকা। প্রাক-উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব অনুযায়ী এই অবকাঠামো নির্মাণে সময় লাগতে পারে প্রায় পাঁচ বছর। পাইপলাইনটি গড়ে উঠলে এলএনজি আমদানির সক্ষমতা বাড়বে, যা ভবিষ্যতের গ্যাস ঘাটতি মোকাবিলায় সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বর্তমানে দুইটি এফএসআরইউ মিলিয়ে দৈনিক প্রায় ১১০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস আমদানি করা হচ্ছে। কিন্তু বিদ্যমান পাইপলাইনের সর্বোচ্চ ক্ষমতা ১৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট হওয়ায় আমদানি বাড়ানোর সুযোগ সীমিত। এদিকে দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদন ক্রমাগত কমছে। একসময় দৈনিক উৎপাদন ছিল প্রায় ২৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট, যেখানে ২০ ডিসেম্বরের হিসাব অনুযায়ী উৎপাদন নেমেছে ১৭৪৮ মিলিয়নে। বড় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্রে, যা দেশের মোট উৎপাদনের বড় অংশ জোগান দেয়। সেখানে উৎপাদন দ্রুত কমে গিয়ে ৮৫৫ মিলিয়নে ঠেকেছে এবং আগামী কয়েক বছরের মধ্যে তা আরও নেমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

গ্যাসের এই ঘাটতি মেটাতে পেট্রোবাংলা একাধিক নতুন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে তৃতীয় এফএসআরইউ ও ল্যান্ডবেজড এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন। এই দুটি প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে দৈনিক আমদানি সক্ষমতা ২৭০০ মিলিয়ন ঘনফুটে দাঁড়াবে। ভাসমান টার্মিনাল দ্রুত নির্মাণের লক্ষ্য নিয়ে জি-টু-জি ভিত্তিতে দরপত্র দেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে এবং সৌদি আরব, কাতার, আজারবাইজানসহ চারটি দেশ আগ্রহ দেখিয়েছে। তবে সময় সাশ্রয় হলেও ব্যয় এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা যাচাই এখনো আলোচ্য পর্যায়ে রয়েছে।
বিদ্যমান দুটি এফএসআরইউর মধ্যে একটি সামিট গ্রুপ এবং অন্যটি এক্সিলারেট পরিচালনা করছে। তবে আগের সরকারের সময় সামিটের সঙ্গে নতুন চুক্তি হলেও নিরাপত্তা জামানত দিতে ব্যর্থ হওয়ায় তা বাতিল হয় এবং বিষয়টি আদালতে রয়েছে। এই কারণে নতুন টার্মিনালকে চতুর্থ টার্মিনাল হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে যাতে জটিলতা এড়ানো যায়।

তবে শুধুমাত্র টার্মিনাল নির্মাণ করলেই গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো যাবে না। পাইপলাইন নির্মাণ এবং সংযোগ সক্ষমতা বাড়াতে সরকারকে বড় বিনিয়োগ করতে হবে। পিডিপিপিতে পাঁচ বছরের সময়সীমা উল্লেখ থাকায় ২০২৬ সালের শেষ থেকে ২০২৭ সালের শুরুতে দেশে তীব্র গ্যাস সঙ্কট দেখা দিতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে বছরে গড়ে দৈনিক উৎপাদন ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট কমছে। এ অবস্থায় আমদানি বাড়ানো ছাড়া বিকল্প নেই, কিন্তু এলএনজি আমদানি ব্যয়বহুল হওয়ায় অর্থনৈতিক চাপও বাড়বে। পাশাপাশি অবকাঠামো নির্মাণে সময়, ব্যয়, বিদেশি অর্থায়ন নির্ভরতা এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলেও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, বিনিয়োগ, বিদেশি অংশীদারিত্ব এবং সময় ব্যবস্থাপনা একসঙ্গে সামলানো জরুরি। দেশীয় উৎপাদন হ্রাস, আমদানিনির্ভরতা বৃদ্ধি এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার মধ্যে চালিত এই বাস্তবতা বাংলাদেশের সামগ্রিক জ্বালানি নীতিতে মৌলিক পরিবর্তনের দাবি তুলছে।

“মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”

 




ডিসেম্বরের ২০ দিনে রেমিট্যান্সে এলো ২১৭ কোটি ডলার

চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে প্রবাসী আয় প্রত্যাশার চেয়েও বেশি গতিতে বাড়ছে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে নতুন স্বস্তি এনেছে। মাসের প্রথম ২০ দিনে বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে ২১৭ কোটি ২১ লাখ মার্কিন ডলার, যা স্থানীয় মুদ্রায় প্রায় ২৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকার সমান (ডলারপ্রতি ১২২ টাকা হিসাবে)। এ তথ্য নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক, যা সাম্প্রতিক রেমিট্যান্স পরিস্থিতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিতবাহী।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চলমান প্রবাহ অব্যাহত থাকলে ডিসেম্বর মাস শেষে মোট রেমিট্যান্স ৩০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। এতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি ডলারের বাজারে ভারসাম্য ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে। রেমিট্যান্সের এই প্রবৃদ্ধি দেশের অর্থনীতি ও বাণিজ্যখাতে স্থিতিশীলতা আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

এদিকে ব্যাঙ্কগুলোতে ডলারের সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় বাজারে উদ্বৃত্ত সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ৪টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে প্রায় ৬ কোটি ডলার ক্রয় করেছে। মাল্টিপল প্রাইস অকশন পদ্ধতিতে প্রতিটি ডলারের বিনিময় হার ছিল ১২২.৩০ টাকা। চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংক মোট ২ হাজার ৯৩২ মিলিয়ন বা ২.৯৩ বিলিয়ন ডলার ক্রয় করেছে, যা ডলার বাজারে সরবরাহ নিয়ন্ত্রণে বড় পদক্ষেপ হিসাবে দেখা হচ্ছে।

আগের বছরের তুলনায় প্রবাসী আয় বৃদ্ধির হারও উল্লেখযোগ্য। গত বছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ ছিল ১৯৮ কোটি ৩০ লাখ ডলার, যা থেকে চলতি বছরে প্রায় সাড়ে ৯ শতাংশ বেশি রেমিট্যান্স এসেছে। শুধু অর্থবছরের হিসাব অনুযায়ী জুলাই থেকে ডিসেম্বরের ২০ তারিখ পর্যন্ত প্রবাসী আয় এসেছে ১ হাজার ৫২১ কোটি ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১৬ শতাংশ বেশি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, হুন্ডি প্রতিরোধে কঠোর পদক্ষেপ, সরকারি প্রণোদনা এবং ব্যাংকিং চ্যানেলের উন্নতি প্রবাসী আয় বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ফলে পাঠানো অর্থ নিরাপদ এবং দ্রুত আসায় প্রবাসীরা ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠাতে বেশি আগ্রহী হয়েছেন। পাশাপাশি সরকার আশা করছে, এ ধারাবাহিকতা রিজার্ভ বৃদ্ধিতে এবং আমদানি ব্যয় নির্বাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

অন্যদিকে নভেম্বর মাসে প্রবাসী আয় আরও বেশি ছিল। মাত্র এক মাসেই দেশে এসেছে ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ডলার, যা প্রায় ৩৫ হাজার ২৫২ কোটি টাকা সমান। এসব তথ্য দেশের প্রবাসী আয় বৃদ্ধি ও অর্থনীতির স্থিতিশীলতায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে, যা আগামী মাসগুলোতে আরও ইতিবাচক ফল দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।

“মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”

 




প্রবৃদ্ধি ১৫ শতাংশ, তবু রাজস্বে ঘাটতি ২৪ হাজার কোটি

চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাস অতিক্রম করলেও রাজস্ব সংগ্রহে লক্ষ্য অর্জন হয়নি, বরং ঘাটতি আরও গভীর হয়েছে। প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক ধারা দেখা গেলেও রাজস্ব আদায়ের কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ স্পর্শ করতে পারেনি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত সময়ে দেশের বাণিজ্য ব্যবস্থায় গতি ফিরলেও আদায়ে চাপ থেকে গেছে। পাঁচ মাসে রাজস্ব আদায় হয়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৯৭৬ কোটি টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় কম। পরিকল্পনা অনুযায়ী এ সময়ে লক্ষ্য ছিল ১ লাখ ৭৩ হাজার ২৩ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। ফলে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২৪ হাজার ৪৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা, যা পুরো রাজস্ব ব্যবস্থাকে উদ্বেগে ফেলেছে।

প্রবৃদ্ধির হার ১৫ শতাংশের বেশি হলেও লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থতার কারণ হিসেবে অর্থনীতিবিদদের অনেকেই আয়করের দুর্বলতা, আমদানি কমে যাওয়া এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দা প্রবাহকে দায়ী করছেন। এনবিআরের পরিসংখ্যান বলছে—রাজস্ব আদায়ের সবচেয়ে বড় অংশ বা স্থানীয় পর্যায়ের মূল্য সংযোজন কর (মূসক) থেকে এসেছে ৫৮ হাজার ২৩১ কোটি টাকা, তবে তা লক্ষ্যের তুলনায় অনেক কম। পাশাপাশি আমদানি ও রপ্তানি শুল্ক খাত থেকে আদায় হয়েছে ৪২ হাজার ৮৬৪ কোটি টাকা এবং আয়কর ও ভ্রমণ কর মিলিয়ে এসেছে ৪৭ হাজার ৮৮১ কোটি টাকা। কিন্তু ভ্যাট খাতে প্রবৃদ্ধি থাকলেও লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হওয়ায় ঘাটতি বেড়েছে।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আলোচ্য পাঁচ মাসে সবচেয়ে বড় ঘাটতি হয়েছে আয়কর খাতে। যেখানে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫৯ হাজার ৯৯৫ কোটি টাকা, বিপরীতে ঘাটতি হয়েছে ১২ হাজার ১১৪ কোটি টাকা। আমদানি খাতেও পিছিয়ে পড়ার হার তুলনামূলক বেশি। ৫০ হাজার ৯৭৯ কোটি টাকার লক্ষ্য থাকলেও আদায় হয়েছে তার চেয়ে অনেক কম, ফলে ঘাটতি তৈরি হয়েছে ৮ হাজার ১১৫ কোটি টাকা। মূসক খাতেও ঘাটতি কম নয়—৩ হাজার ৮৩৫ কোটি টাকা।

এনবিআরের কর্মকর্তারা স্বীকার করছেন—ব্যবসা-বাণিজ্যের মন্দাভাব, আমদানি হ্রাস, আয়করে স্থবিরতা এবং জটিলতা—এসব কারণে রাজস্ব আদায় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। শুধু নভেম্বর মাসের হিসেবেই দেখা যায়, লক্ষ্য অর্জিত হয়নি। এ মাসে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৬ হাজার ৩২৬ কোটি ৪৯ লাখ টাকা, আর আদায় হয়েছে ২৯ হাজার ২৫৯ কোটি টাকা, যার ফলে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ৬৭ কোটি টাকা।

চলতি অর্থবছরের বাজেটে মোট রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫ লাখ ৬৪ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের জিডিপির ৯ শতাংশ। এর মধ্যে শুধু এনবিআরের মাধ্যমে রাজস্ব সংগ্রহের লক্ষ্য ৪ লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকা, আর বাকি ৬৫ হাজার কোটি টাকা অন্যান্য উৎস থেকে সংগ্রহ করা হবে। বাজেটের এ উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য অর্জনে রাজস্ব কর্তৃপক্ষ চাপের মুখে রয়েছে। প্রবৃদ্ধি থাকলেও ঘাটতির চিত্র উদ্বেগজনক। অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, ব্যবসা ও বিনিয়োগের গতি বৃদ্ধি এবং কর ব্যবস্থার বিস্তার না হলে লক্ষ্য অর্জন কঠিন হতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
সরকার রাজস্ব ঘাটতি কমাতে কর আহরণ জোরদার, কর ফাঁকি রোধ, ডিজিটাল কর ব্যবস্থাপনা বৃদ্ধি এবং আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য সক্রিয় করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। তবে এই উদ্যোগগুলো কতটা সফল হবে, তা নির্ভর করবে বাজারদর, বৈশ্বিক পরিস্থিতি, শুল্কনীতি এবং ব্যবসায়ী শ্রেণির অংশগ্রহণের ওপর। দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতা ও বাজেট বাস্তবায়নে রাজস্ব সংগ্রহের ভূমিকা অপরিহার্য। তাই ঘাটতি কমাতে জরুরি উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

“মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”

 




হাদী হত্যা: মূল অভিযুক্ত মাসুদের অস্বাভাবিক লেনদেনে নজরদারি

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরীফ ওসমান বিন হাদী হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নতুন মোড় এসেছে। অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) জানিয়েছে—মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবগুলোতে ১২৭ কোটির বেশি সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ২১৮ কোটি টাকার অস্বাভাবিক রেকর্ড ও লেনদেনের চেষ্টার তথ্যও পাওয়া গেছে। মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ অনুযায়ী সিআইডি পৃথকভাবে অর্থপাচারের অনুসন্ধান শুরু করেছে, যা ঘটনাটিকে শুধু হত্যাকাণ্ড নয় বরং বড় ধরনের অপরাধচক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত দেয়।

গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে প্রকাশ্যে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন শরীফ ওসমান বিন হাদী। ঘটনার পরপরই সিআইডি ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং তদন্তকারী টিম দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। সিসিটিভি ফুটেজ, গুলির খোসা, ফরেনসিক নমুনা, নথি ও প্রযুক্তিগত তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে তদন্ত এগিয়ে চলেছে। হত্যার পেছনে পরিকল্পিত নেটওয়ার্ক, অর্থায়ন ও অস্ত্রব্যবস্থাপনার বিষয়গুলোও বিশেষ নজরদারিতে রয়েছে।

তদন্তে অগ্রগতির অংশ হিসেবে গ্রেফতার অভিযানের সময় একাধিক ব্যাংকের চেকবই উদ্ধার করা হয়, যেখানে কোটি কোটি টাকার উল্লেখ পাওয়া যায়। যদিও কিছু লেনদেন সম্পন্ন হয়নি, তথাপি রেকর্ড অনুযায়ী এগুলোর পরিমাণ প্রায় ২১৮ কোটি টাকা। একই সঙ্গে বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে থাকা প্রায় ৬৫ লাখ টাকা রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে সিআইডি জানিয়েছে।

মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান এখনো পলাতক থাকলেও তার পরিবারের সদস্যসহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে—আলামত ধ্বংস ও পালিয়ে যেতে সহায়তার অভিযোগে। গোয়েন্দারা মনে করছে, এ ঘটনায় বড় ধরনের অর্থনৈতিক স্বার্থ জড়িত থাকতে পারে এবং সন্ত্রাসী কার্যক্রমের অর্থায়নসহ সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্রের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না তা তদন্তাধীন।

এদিকে, হত্যাকাণ্ডের পর রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে সাধারণ মানুষ পর্যন্ত ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছে। একজন সম্ভাব্য জনপ্রতিনিধিকে প্রকাশ্যে হত্যা এবং তার সাথে বিপুল আর্থিক লেনদেনের সংশ্লিষ্টতা—রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা, নির্বাচনী পরিবেশ এবং আইনশৃঙ্খলার ওপর বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে। অনুসন্ধানে সিআইডি জানিয়েছে—ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট চক্রের পরিকল্পনা, উদ্দেশ্য ও অর্থের উৎস উদ্ঘাটনে বহুমুখী টিম কাজ চালিয়ে যাচ্ছে, যা হত্যার রহস্য উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, অপরাধী যত প্রভাবশালী হোক—গ্রেফতার ও বিচার নিশ্চিত করা হবে। সন্ত্রাসী কার্যক্রম, মানিলন্ডারিং এবং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের মতো গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: বরিশালের ৬ টি আসনেই তীব্র লড়াইয়ের আভাস

গণতন্ত্রের ধারায় উত্তরণে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির মনোনয়নের পর থেকেই বরিশালের ৬টি আসনে নির্বাচনী আমেজ শুরু হয়ে গেছে। মনোনয়ন পেয়েই বিএনপিসহ সব রাজনৈতিক দলগুলোর মনোনীত প্রাথীরা নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। রাজনীতির মাঠে শক্ত দল বিএনপির সাথে প্রতিদ্বন্দিতা করতে কৌশলে এগুচ্ছেন অন্যান্য দল। মনোনয়ন প্রাপ্তদের মধ্যে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী, জামায়াত ও চরমোনাই পীরের সহোদর ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীদের মধ্যে ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

চরমোনাই দরবার শরীফ বরিশাল সদর উপজেলাধীন হওয়ায় ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীর বেশ কর্মী-সমর্থক রয়েছে। এছাড়াও বিগত ইউপি, উপজেলা, সিটি করপোরেশন ও জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে এ দলটি। বিশেষ করে মর্যাদাপূর্ণ আসন হিসেবে পরিচিত বরিশাল-৫ (সদর) আসনটিতে জয় পেতে সব দলের শীর্ষ নেতারা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

বরিশাল-৫ (সদর-সিটি করপোরেশন) এ আসনে নানান জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ৫ম বারের মতো মনোনয়ন পেয়েছেন বিএনপি চেয়পারপারনের উপদেষ্টা মজিবর রহমান সরোয়ার। টানা ৩০ বছর বরিশাল বিএনপির রাজত্বে ছিলো মজিবর রহমান সরোয়ার। দীর্ঘ এ সময়ে সরোয়ার বরিশাল জেলা বিএনপির সভাপতি, মহানগর সভাপতি, বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, যুগ্ম মহাসচিব ছাড়াও উপ-নির্বাচনসহ ৪ বার সংসদ সদস্য হয়ে বরিশাল বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, হুইপ এবং সিটি মেয়র পদেও নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন।

বিগত কয়েক বছর রাজনীতির মাঠে তিনি কিছুটা কোনঠাসা থাকলেও মনোনয়ন পাওয়ার পর সকলেই একাট্টা হয়ে প্রচার-প্রচারণায় নেমেছেন। বিশেষ করে মহানগর বিএনপির তিন গ্রুপ, ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ পদ বঞ্চিতরাও সরোয়ারকে ঘিরে নির্বাচনী মাঠে প্রচার-প্রচারণায় সরব রয়েছেন। এ আসনে জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি মুয়াযযম হোসাইন হেলাল ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি মুহাম্মদ ফয়জুল করীম।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সার্বিক বিষয়ে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ধানের শীষ প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার বাসসকে বলেন, এ আসনে মানুষের উন্নয়ন ও কল্যাণে কাজ করেছি। জনগণ তাই ধানের শীষে ভোট দিতে উন্মুখ। ধানের শীষের সদর উপজেলা ও নগরীতে ভোট বেশি। সদর উপজেলায় চরমোনাই পীরের বাড়ি হলেও সব সময় ধানের শীষ বেশি ভোট পেয়েছে।

নির্বাচন নিয়ে জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি এ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল বাসসকে বলেন, দেশবাসী পরিবর্তন চায়। ভোট প্রয়োগের মাধ্যমে তার প্রমাণ দেবে। এছাড়াও বাসদ নেত্রী বরিশালের সকল পর্যায়ের শ্রমজীবি মানুষের বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে দীর্ঘদিন ধরে নেতৃত্ব দেয়া ডা. মনিষা চক্রবর্তী প্রার্থী হয়েছেন সদর আসনে। মনিষা চক্রবর্তীও ইতিপূর্বে সিটি, জাতীয় নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করে বরিশালে ভোটারদের আলোচনায় রয়েছেন।

বরিশাল সদর ও সিটি কপোরেশনের এই আসনটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৯৩ হাজার ৯৫০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৪৬ হাজার ৯৪৩ জন ও নারী ভোটার ২ লাখ ৪৭ হাজার জন। আসনটিতে তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছে ৭ জন।

বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) এ আসনে চতুর্থবারের মতো মনোনয়ন পেয়েছেন বিএনপি চেয়পারপারসনের উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি মনোনয়ন পাওয়ায় উচ্ছাসিত বিএনপির নেতাকর্মীরা।

জহির উদ্দিন স্বপন বাসসকে বলেন, গৌরনদী ও আগৈলঝড়া উপজেলায় দলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মী আমার হয়ে কাজ করছেন। এজন্য সবাইকে কৃতজ্ঞতা জানাই যে, তারা আমাকে দলের প্রার্থী হিসেবে গ্রহণ করেছেন। বিচ্ছিন্ন-বিক্ষিপ্ত কিছু মান-অভিমানের ব্যাপার থাকলেও আমি যেহেতু দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মী, ফলে আমার সব সহকর্মী মিলেই কথাবার্তা বলে সমাধান করে ফেলেছি।

এ আসনটিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে হাফেজ মাওলানা কামরুল ইসলাম খান ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশর প্রার্থী ঘোষণা করেছেন মো. রাসেল সরদার মেহেদীকে। এ আসনের রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা ব্যানার, পোস্টার ও সামাজিক যোগাযোক মাধ্যম ফেসবুকে বিভিন্ন গ্রুপ খুলে এমপি প্রার্থী হিসেবে তাদের সমর্থকরা জনগণের দৃষ্টি আর্কষনে চেষ্টা চালাচ্ছেন।

গৌরনদী-আগৈলঝাড়া আসনটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ২৩ হাজার ৮১৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৬২ হাজার ৮০৮ জন ও নারী ভোটার ১ লাখ ৬১ হাজার ৯ জন।

বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনে তৃতীয়বার মনোনয়ন পেয়েছেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য সরফুদ্দিন আহমেদ (সান্টু)। এ আসনে সান্টু ইতিপূর্বে ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মনিরুল ইসলামের কাছে পরাজিত হন। পরে ২০১৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী প্রার্থী তালুকদার মো. ইউনুসের কাছে পরাজিত হয়েছিলেন। এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী হয়েছেন মাস্টার আবদুল মান্নান। ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী হয়েছেন ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা মুহাম্মাদ নেছার উদ্দীন। বাসদ নেতা এ্যাড. তরিকুল ইসলাম তারেক এ ৪ জনই এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ চালাচ্ছেন।

উজিরপুর-বানারীপাড়া আসনটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৮০ হাজার ৪৯৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ১৮ হাজার ৫৮ জন ও নারী ভোটার ১ লাখ ১৪ হাজার ৬৩ জন। আসনটিতে তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছে ১ জন।

বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনটিতে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। আসনটিতে প্রথমবারে দলীয় প্রার্থী ঘোষাণা করলেও দ্বিতীয়বার তাকেই মনোনয়ন দেয় দল। ইতমধ্যে উচ্ছাসিত নেতাকর্মীরা তার পক্ষে প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে এ্যাডভোটেক জয়নুল আবেদীন বাসসকে বলেন, নির্বাচনী এ আসনটি বিএনপি অধ্যুষিত। সকল ভেদাভেদ ভুলে ধানের শীষকে বিজয়ী করতে জনগণের সাথে বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা কাজ করবে।

তিনি বলেন, বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনটিতে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীরা এরই মধ্যে গণসংযোগ জোরদার করেছেন। পাশাপাশি মাঠে রয়েছে এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। ফুয়াদের নিজ বাড়ি বাবুগঞ্জ উপজেলাধীন হওয়ায় তিনি বাবুগঞ্জ-মুলাদীতে ইতিপূর্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক কর্মকান্ডে সরব রয়েছেন।

জামায়াতে ইসলামী চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসেই দলটির বরিশাল মহানগরের আমির জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবরকে প্রার্থী ঘোষণা করে। জহির উদ্দিন দুই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় উঠান বৈঠক ও গণসংযোগ চালাচ্ছেন। এ আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী হয়েছেন উপাধ্যক্ষ মাওলানা মো. সিরাজুল ইসলাম। তিনি দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এবং বরিশাল জেলার সভাপতির পদে রয়েছেন।

বাবুগঞ্জ-মুলাদীর এই আসনটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ২৭ হাজার ৮৯৫ জন। এর মধ্যে পুরুয় ভোটার ১ লাখ ৬৫ হাজার ৩৬৩ জন ও নারী ভোটার ১ লক্ষ ৬২ হাজার ৫৩২ জন। আসনটিতে তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছে ১ জন।

বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ) আসনে স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসানকে প্রার্থী করেছে বিএনপি। রাজীব মনোনয়ন পাওয়ায় বরিশাল জেলা ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলসহ ঢাকা দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতির বাড়ি মেহেন্দিগঞ্জে হওয়ায় তাদের নেতৃত্বে চলছে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা। ২০০৮ সালে এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে বিজয়ী হয়েছিলেন মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদ। তিনি মনোনয়ন না পাওয়ায় বিএনপির একাংশের মধ্যে কিছুটা অসন্তোষ লক্ষ্য করা গেছে। এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী হয়েছেন জেলা আমির মাওলানা আব্দুল জব্বার। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী কেন্দ্রীয় সহকারী মহাসচিব চরমোনাই পীরের ছোট ভাই মুফতি সৈয়দ এছহাক আবুল খায়ের নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন অনেক আগে থেকেই।

হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ এ আসনটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ১৭ হাজার ৫৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ১৪ হাজার ৯০৭ জন ও নারী ভোটার ১ লাখ ৮৭ হাজার ৮২ জন। আসনটিতে তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছে ১ জন।

বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) এ আসনে তৃতীয় বারের মতো মনোনয়ন পেয়েছেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক আবুল হোসেন খান। এ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি মুহাম্মদ ফয়জুল করীম, জামায়াত ইসলামী বাংলাদেশ এর মাওলানা মাহমুদুন্নবী প্রার্থী হয়েছেন।

এই আসনটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ১০ হাজার ৪৯৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৫৭ হাজার ২৯৮ জন ও নারী ভোটার ১ লাখ ৫৩ হাজার জন।

আসনটিতে তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছে ৪ জন।

বরিশালের ৬টি আসনে এনসিপির মনোনয়ন চান ১১ জন: জেলা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৬টি আসনের দুটিতে এখনো প্রার্থী চূড়ান্ত না করলেও শাপলা কলি নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে এনসিপির মনোনয়ন কিনেছেন ১১ জন।

বরিশাল-১ আসনে এনসিপির মনোনয়ন পেয়েছেন মাজহারুল ইসলাম নিপু। তবে বরিশাল-২ আসনে এখনো চূরান্ত না হলেও মনোনয়ন প্রত্যাশী সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও এনসিপির ঢাকা পল্টন শাখার সদস্য অ্যাড. আলী আকবর তালুকদার ও একই আসনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন সংগঠনের বরিশাল মহানগর শাখার সদস্য সচিব মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ।

এছাড়া বরিশাল-৩ আসনে সাবেক সেনা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন মোক্তার হোসেন, শিক্ষক তানজিল আলম দলটির মনোনয়ন চূরান্ত করেছেন। আর বরিশাল-৪ আসনে এনসিপির বরিশাল জেলার প্রধান সমন্বয়কারী ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য আবু সাঈদ মুসা চূরান্ত মনোনীত প্রার্থী হয়েছেন। এছাড়া বরিশাল-৫ আসনে বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. নরুল হুদা চৌধুরী দলটির মনোনয়ন পেয়েছেন। বরিশাল-৬ আসনে একমাত্র মনোনয়ন প্রত্যাশী দলের জেলা কমিটির যুগ্ম সমন্বয়কারী সাইফুল ইসলাম প্রিন্স মনোনয়ন পেয়েছেন।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম




পিরোজপুরে শুঁটকির রাজ্যে ব্যস্ততা, বছরে উৎপাদন ১০০ টনের বেশি

পিরোজপুর সদর উপজেলার চিথলীয়া গ্রামে শীতকাল শুরু হলেই জীবন্ত হয়ে ওঠে শুঁটকি পল্লী। নদী ও বঙ্গোপসাগরের তীরে গড়ে ওঠা এই পল্লী কচা নদীর বাঁশের মাচায় শুঁটকি শুকানোর দৃশ্য, শ্রমিকদের কর্মব্যস্ততা এবং বাতাসে ভেসে থাকা শুঁটকির গন্ধে মুখর থাকে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পাড়েরহাট মৎস্য বন্দরের পাশে ধীরে ধীরে বিকশিত হয়েছে চিথলীয়া শুঁটকি পল্লী। এখান থেকে সংগ্রহ করা সামুদ্রিক মাছ দিয়ে তৈরি হয় নানা জাতের শুঁটকি। অগ্রহায়ণ থেকে ফাল্গুন—প্রায় চার মাস শুঁটকি উৎপাদনের ভরা মৌসুম।

বর্তমানে পাঁচটি বাসা থেকে শুঁটকি উৎপাদন হয়। প্রতিটি বাসায় মৌসুমভেদে ১৫০–২০০ জন শ্রমিক কাজ করেন। তারা মাছ পরিষ্কার, কেটে প্রস্তুত, লবণ পানিতে ধুয়ে বাঁশের মাচায় শুকানোর কাজ করে থাকেন। উৎপাদিত শুঁটকি বস্তাবন্দি করে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়।

শুঁটকির মধ্যে রয়েছে কোরাল, লইট্টা, ছুরি, চিতল, হাইতা, মর্মা, ঢেলা, মধু ফ্যাপসা, চাপিলাসহ ৩০–৩৫ প্রজাতির মাছ। শীতকালে শুঁটকির মান ভালো থাকে এবং প্রতি কেজি দাম ৬০০ টাকা থেকে শুরু করে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত। ব্যবসায়ী খালেক ব্যাপারি জানান, “আমরা সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে শুঁটকি তৈরি করি, কোনো ক্ষতিকর ওষুধ ব্যবহার করি না। এর ফলে চাহিদা সব সময় বেশি থাকে।”

পিরোজপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সঞ্জীব সন্নামত বলেন, “শীতের শুরু থেকে প্রায় চার মাস শুঁটকি উৎপাদন চলে। উৎপাদন স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ। মৎস্য অধিদফতর সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণের আওতায় এনেছে। শুঁটকি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে তদারকি ও রপ্তানি সম্ভাবনা বাড়বে।”


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম




নদীর জলে ভেসে চলে বেচাকেনা: নাজিরপুরের ভাসমান হাট

পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার কলারদোয়ানিয়া ইউনিয়নের বেলুয়া নদীর শত বছরের ঐতিহ্যবাহী ভাসমান হাট প্রতি সপ্তাহে শনি ও মঙ্গলবার বসে। সূর্যের আলো ফুটতেই বাজার শুরু হয় এবং তাপ বাড়ার আগেই শেষ হয়ে যায়। কৃষক ও ব্যবসায়ীরা নৌকায় পণ্য নিয়ে আসেন এবং ক্রেতারা নৌকায় ভরে কিনে নিয়ে যান। বিক্রির পর খালি নৌকা নিয়ে বিক্রেতারা বাড়ি ফেরেন।

স্থানীয়রা জানান, বেলুয়া নদী পিরোজপুর জেলার দুটি এবং গোপালগঞ্জ জেলার একটি উপজেলার মধ্যে বিভাজক হিসেবে কাজ করছে। নদীর পশ্চিম পাড়ে কলারদোয়ানিয়া ইউনিয়ন, পূর্ব পাড়ে নেছারাবাদ উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়ন এবং উত্তরে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলা। নদীর উত্তর-পূর্বে নাজিরপুরের কাশ্মীর এলাকায় ভাসমান হাট শত বছরের বেশি সময় ধরে চলে আসছে।

সকালে সকাল ৭টার মধ্যেই বাজার সরগরম হয়ে ওঠে। ব্যবসায়ীরা ট্রলার ও বড় নৌকা নিয়ে কৃষকদের কাছ থেকে শাক-সবজি, বেগুন, মরিচ, আলু, লাউ, করলা, কচু সহ নানাজাতের সবজি ও চারা কিনেন। এছাড়াও মুড়ি, নারকেল ও অন্যান্য পণ্যও বিক্রি হয়। এখানকার পণ্য স্থানীয় চাহিদা মেটিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হয়।

কবির হোসেন নামে এক সবজি বিক্রেতা বলেন, “বাজার ভোরে শুরু হয়ে ১২টার মধ্যে শেষ হয়। যোগাযোগ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে ব্যবসায়ীরা সমস্যায় পড়েন। নৌকাই এখন একমাত্র ভরসা।” পাইকারি ব্যবসায়ী রাসেল হাওলাদার বলেন, “বাজারে ভেসে ভেসে কেনাবেচা হয়। বিভিন্ন এলাকায় ট্রলার ও নৌকা নিয়ে ব্যবসায়ীরা পণ্য নিয়ে যান।”

ক্রেতা-বিক্রেতারা জানান, সড়ক যোগাযোগের উন্নতি হলে ব্যবসা আরও প্রসারিত হতে পারে এবং চাষিরাও উৎপাদন বাড়াতে উৎসাহিত হবেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজিয়া শাহনাজ তমা বলেন, “কলারদোয়ানিয়া ইউনিয়নের বৈঠাকাঠা ভাসমান হাট অন্যতম বড় বাজার। সমস্যা সমাধানের জন্য জেলা ও উপজেলা প্রশাসন প্রকল্প প্রস্তাব করেছে। বরাদ্দ পেলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।”


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম