বাংলাদেশকে ২৯ মিলিয়ন ডলার সহায়তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্ক

বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিমণ্ডল শক্তিশালী করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ২৯ মিলিয়ন ডলার সহায়তা দিয়েছে—এমন তথ্য প্রকাশের পর এ নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। তবে এই অর্থ সহায়তা কারা বা কোন সংস্থা পেয়েছে, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নতুন দপ্তর ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট এফিসিয়েন্সি (ডিওজিই) জানায়, ইউএসএইডের মাধ্যমে দেওয়া এই অর্থ সহায়তা বাতিল করা হয়েছে। বিষয়টি সামনে আসার পর দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করেছেন।

গত ২১ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সময় শুক্রবার গভর্নরদের এক অনুষ্ঠানে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “বাংলাদেশের একটি সংস্থা ২৯ মিলিয়ন ডলার পেয়েছে, যার নাম কেউ শোনেনি। সেখানে মাত্র দুজন কাজ করে, অথচ তারা এই বিশাল অঙ্কের চেক পেয়েছে! কয়েকদিন পর হয়তো তাদের ছবি কোনো বড় ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হবে, যেখানে তারা ‘মহান ব্যক্তি’ হিসেবে পরিচিতি পাবে।”

তিনি আরও বলেন, “রাজনৈতিক পরিমণ্ডল শক্তিশালী করতে বাংলাদেশকে অর্থ দেওয়া হয়েছে, কিন্তু কেউ জানে না এর মানে কী।”

এছাড়া, ভারতে ভোটারদের ভোটদানে উৎসাহিত করতে ২১ মিলিয়ন ডলার দেওয়া হয়েছে বলেও ট্রাম্প দাবি করেন। তার ভাষায়, “আমার বন্ধু মোদির দেশ ভারতের ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আনতে এই অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়েছে, অথচ আমাদের দেশে (যুক্তরাষ্ট্রে) আমরা কী পাচ্ছি?”

বাংলাদেশের কোন সংস্থা এই অর্থ সহায়তা পেয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস দাবি করেছে, ভারত এ ধরনের কোনো অর্থ সহায়তা পায়নি। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২ সালে বাংলাদেশকে ২১ মিলিয়ন ডলার সহায়তা দেওয়া হয়, যা ইউএসএইডের “আমার ভোট আমার” প্রকল্প এবং পরে “নাগরিক প্রকল্প” এর আওতায় ব্যয় করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে পাওয়া ২৯ মিলিয়ন ডলার নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছে। এটি কোন সংস্থা বা ব্যক্তির মাধ্যমে ব্যয় হয়েছে, তা স্পষ্ট করা হয়নি। তবে বিষয়টি আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




আজহারুল ইসলামের মুক্তির দাবিতে জামায়াতের গণঅবস্থান

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামের অবিলম্বে মুক্তির দাবিতে রাজধানীতে গণঅবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে দলটি। আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি পালন করবে তারা।

শুক্রবার এক বিবৃতিতে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “বিগত ১৩ বছর ধরে সাজানো মামলায় কারাগারে আটক রয়েছেন এটিএম আজহারুল ইসলাম। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের ফলে অনেক নেতাকর্মী মুক্তি পেলেও এখনো তিনি বন্দি আছেন, যা অত্যন্ত হতাশাজনক।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলের মুক্তির দাবিতে ঘোষিত গণঅবস্থান কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান। এ কর্মসূচিকে সফল করতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।”

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান ফেসবুকে এক পোস্টে এটিএম আজহারুল ইসলামের মুক্তির দাবিতে স্বেচ্ছায় কারাবন্দি হওয়ার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, “তাকে কারাগারে রেখে বাইরে অবস্থান করা আর সম্ভব নয়। আমরা যথেষ্ট সময় দিয়েছি। তাই আমি নিজেই ২৫ ফেব্রুয়ারি আদালত প্রাঙ্গণে হাজির থাকব, যেন সরকার আমাকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠায়।”

এ ঘোষণার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, জামায়াতের এই কর্মসূচি বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




শিশুদের হাতে শহীদ মিনার নির্মাণ করছে বাসদ, ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা

২১ ফেব্রুয়ারি, মহান আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট এবং বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) রসুলপুর এলাকায় শিশুদের নিয়ে শহীদ মিনার নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। এটি দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে চলে আসা একটি ঐতিহ্যবাহী আয়োজনে পরিণত হয়েছে। ভাষা শহীদদের স্মরণে এবং একুশে ফেব্রুয়ারির চেতনা বাঁচিয়ে রাখতে প্রতিবছর রসুলপুরের শিশু-কিশোররা মাটি, কাঠ ও অন্যান্য উপকরণ দিয়ে শহীদ মিনার নির্মাণ করে। এর মাধ্যমে তারা তাদের ইতিহাসের সঙ্গে পরিচিত হয় এবং দেশপ্রেমের অনুভূতি জাগ্রত হয়।

এ বছরও রসুলপুরে অনুষ্ঠিত হওয়া এই শহীদ মিনার নির্মাণ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় শতাধিক শিশু। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীরা তাদের হাতে তৈরি শহীদ মিনারগুলোতে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে এবং নিজেদের সৃজনশীলতার প্রদর্শনী করেছে। শহীদ মিনারের কাঠামো ও নির্মাণ প্রক্রিয়ায় ছোট ছোট শিশুদের কাজ করার মাধ্যমে তাদের মধ্যে ইতিহাস সচেতনতা ও জাতির প্রতি গভীর ভালোবাসা তৈরি হচ্ছে। এটি শিশুদের জন্য একটি অনুপ্রেরণার উৎস এবং তাদের মধ্যে ইতিহাসচেতনতা বাড়ানোর একটি বড় মাধ্যম।

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের পক্ষ থেকে এবারের আয়োজনে সভাপতিত্ব করেন বরিশাল মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক সুজন আহমেদ। তিনি বলেন, “শহীদ মিনার নির্মাণের মাধ্যমে আমরা শিশুদের শুধু ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস জানাচ্ছি না, বরং তাদের মধ্যে একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করছি। তারা মাটি-কাঠ দিয়ে তৈরি এসব শহীদ মিনারের মাধ্যমে দেশের প্রতি তাদের ভালোবাসা এবং জাতির প্রতি দায়বদ্ধতা অনুভব করবে।” তিনি আরও জানান যে, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট গত ১৪ বছর ধরে রসুলপুরসহ অন্যান্য প্রান্তিক এলাকায় ভাষা দিবসের চেতনা ছড়িয়ে দিচ্ছে এবং শিশুদের মধ্যে দেশের ইতিহাস চর্চায় উৎসাহিত করছে।

শহীদ মিনার নির্মাণ প্রতিযোগিতার বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সরকারি ব্রজমোহন কলেজের শিক্ষক রণজিৎ মল্লিক, বরিশাল সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষক ইসরাত জাহান লিপি এবং সংস্কৃতিজ্ঞানী মোস্তাফিজুর রহমান। তারা শহীদ মিনারগুলোর নির্মাণ কৌশল এবং সৃজনশীলতা দেখে প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে আরও এমন আয়োজনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

এদিকে, চিত্রাংকন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী শিশুরা তাদের আঁকা চিত্রের মাধ্যমে ভাষা আন্দোলন এবং শহীদদের স্মরণ করে তাদের শিল্পকর্মে নতুন কিছু উপস্থাপন করেছে। বিভিন্ন বয়সের শিশুদের মাঝে এই ধরনের সৃজনশীল কার্যক্রম ভাষা দিবসের সত্যিকার অর্থ উপলব্ধি করতে সাহায্য করে এবং তাদের মধ্যে জাতীয়তাবোধ তৈরি করে।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ডাঃ মনীষা চক্রবর্তী, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ বরিশাল জেলার সদস্য সচিব। তিনি বলেন, “প্রান্তিক এলাকায় ভাষা আন্দোলনের চেতনা ছড়িয়ে দেওয়া জরুরি। রসুলপুরের মতো এলাকায় শিশুদের মাঝে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস শেখানো হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে তাদের মধ্যে দেশের প্রতি ভালোবাসা এবং দায়িত্ববোধের সৃষ্টি করবে।” এছাড়া, বাসদ কেন্দ্রীয় বর্ধিত ফোরামের সদস্য ইমাম হোসেন খোকন, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের সহ-সভাপতি জোহরা রেখা এবং শ্রমিক ফ্রন্টের দপ্তর সম্পাদক শহিদুল ইসলাম সহ অনেকেই এ আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন।

বক্তারা আরও বলেন, একুশে ফেব্রুয়ারির চেতনা থেকেই ২০২৪ সালের গণ অভ্যুত্থান সংগঠিত হয়েছে, যা মুক্তিযুদ্ধের বৈষম্য দূর করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বক্তারা সরকারের কাছে রসুলপুরের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নির্মাণ এবং সকল নিম্নবিত্ত কলোনিতে পাঠাগার নির্মাণের দাবি জানান। তারা বলেন, সরকারিভাবে এসব উদ্যোগ গ্রহণ করলে শিশুদের মধ্যে আরো উন্নত সাংস্কৃতিক চর্চা এবং ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস শিখানো সম্ভব হবে।

আলোচনা সভা শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, যেখানে শহীদ মিনার নির্মাণ প্রতিযোগিতা এবং চিত্রাংকন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিশুদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। এই আয়োজনের মাধ্যমে তাদেরকে উৎসাহিত করা হয় এবং আগামী দিনে আরও ভালো কাজ করার জন্য প্রেরণা প্রদান করা হয়। সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের এই আয়োজনে শিশুদের মধ্যে একুশের চেতনা এবং ভাষা আন্দোলনের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সমাজে আরো বেশি সচেতনতা তৈরি হবে এবং ভবিষ্যতে শিশুদের মধ্যে জাতির প্রতি দায়িত্ববোধ আরও গভীর হবে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




লোডশেডিং নিয়ে আশার কথা জানালেন উপদেষ্টা

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. ফাওজুল কবির খান বলেছেন, দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। লোডশেডিং এড়াতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে, তবে প্রয়োজনে সমানভাবে সকল এলাকায় লোডশেডিং বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি আরও বলেন, “লোডশেডিং করতে হলে আমার বাসা থেকে শুরু করতে বলেছি। বিদ্যুৎ সরবরাহে কোনো বৈষম্য হবে না, গ্রাম ও শহর একই সুবিধা পাবে।”

শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সিরাজগঞ্জের ৬৮ মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন। বিদ্যুৎ প্রকল্পের অবস্থা সরেজমিনে দেখতে তিনি সিরাজগঞ্জ সফর করেন।

তিনি বলেন, অতীতে গ্রামাঞ্চলে বেশি লোডশেডিং হলেও এবার তা হবে না। লোডশেডিংয়ের প্রয়োজন হলে তা সারা দেশে সমানভাবে বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শীতকালে বিদ্যুতের চাহিদা থাকে ৯ থেকে ১০ হাজার মেগাওয়াট, যা গ্রীষ্মকালে বেড়ে ১৭ থেকে ১৮ হাজার মেগাওয়াট হয়। এই সময় সেচ এবং কুলিং লোড (এসি ও ফ্যান) চাহিদা বাড়িয়ে দেয়। সেচ কমানো সম্ভব নয়, তবে এসির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা গেলে বিদ্যুতের চাপ কমবে। তাই এসির তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রিতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা আরামদায়ক এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত।

এসি ব্যবহারের কারণে অতিরিক্ত বিদ্যুৎচাপ তৈরি হলে নির্দিষ্ট ফিডারে লোডশেডিং করা হবে বলে তিনি জানান। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে এসির তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে প্রচারণা চালানোর অনুরোধ করা হয়েছে। এ বিষয়ে অন্যান্য মন্ত্রণালয়েও নির্দেশ পাঠানো হয়েছে।

তিনি বলেন, “আমরা চাই না লোডশেডিং করতে হোক। জনগণ আমাদের সহায়তা করলে এবং যদি কোনো বিদ্যুৎ কেন্দ্র আকস্মিকভাবে বন্ধ না হয়, তাহলে লোডশেডিং লাগবে না। রোজার মাস পার হলেই সেচ কমে যাবে, তখন বিদ্যুৎচাহিদাও কমে আসবে।”

পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (PGCB) জানায়, ২০ ফেব্রুয়ারি রাত ৭টায় দেশের বিদ্যুৎচাহিদা ছিল ১১ হাজার ৭৬৯ মেগাওয়াট। ওই সময় কেবল ময়মনসিংহ জোনে ৯২ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়, তবে দেশের অন্য কোথাও লোডশেডিং হয়নি। দেশে ১৪৩টি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মধ্যে জ্বালানি সংকটের কারণে ১৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্র আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ ছিল। ভারতীয় কোম্পানি আদানির একটি ইউনিট থেকে ৭৫৪ মেগাওয়াট, ত্রিপুরা থেকে ৬০ মেগাওয়াট এবং ভেড়ামারা সংযোগ থেকে ৯২৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া গেছে।

মো: আল-আমিন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




কুয়াকাটায় বিলুপ্তির পথে রাখাইন ভাষা ও সংস্কৃতি

বাংলাদেশের উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালীর কুয়াকাটার অন্যতম পুরনো অধিবাসী রাখাইন জনগোষ্ঠী। শত শত বছরের ঐতিহ্য, নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি নিয়ে তারা এ অঞ্চলে বসবাস করলেও আধুনিকায়ন, অভিবাসন এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ সংস্কৃতির প্রভাবে রাখাইন ভাষা ও সংস্কৃতি হারিয়ে যাওয়ার পথে।

এক সময় কুয়াকাটার রাখাইনরা নিজেদের মধ্যে মাতৃভাষায় কথা বললেও বর্তমানে তাদের শিশুদের মধ্যে ভাষার ব্যবহার আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে। শিক্ষাব্যবস্থায় বাংলা ও ইংরেজি বাধ্যতামূলক হওয়ায় এবং রাখাইন ভাষার পাঠ্যক্রম না থাকায় শিশুরা ধীরে ধীরে মাতৃভাষা ভুলে যাচ্ছে।

স্থানীয় প্রবীণ রাখাইনদের মতে, আধুনিক শিক্ষা, প্রযুক্তির বিস্তার এবং বৃহত্তর সমাজের সঙ্গে মিশতে গিয়ে নতুন প্রজন্ম বাংলার প্রতি বেশি আকৃষ্ট হচ্ছে। ফলে রাখাইন ভাষার ব্যবহার দিন দিন কমে যাচ্ছে।

গোরা আমখলাপাড়ার পুরোহিত উসুছিথ মহাথেরো বলেন, “রাখাইন ভাষার নিজস্ব বর্ণমালা থাকলেও তা চর্চার সুযোগ নেই বললেই চলে। কুয়াকাটায় কোনো রাখাইন ভাষার স্কুল নেই, ফলে ভাষাটি হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।”

স্থানীয় মাতব্বর ম্যা থুইন বলেন, “আমাদের এলাকায় একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করা গেলে রাখাইন শিশুরা মাতৃভাষায় শিক্ষার সুযোগ পেত। মিয়ানমারে এমন উদ্যোগ থাকলেও বাংলাদেশে নেই। সরকারি ও বেসরকারি সহায়তা পেলে আমাদের ভাষা রক্ষা করা সম্ভব হবে।”

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষা ও যোগাযোগ বিভাগের অধ্যাপক মো. মেহেদী হাসান বলেন, “রাখাইন ভাষা সংরক্ষণে সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে। ভাষার স্কুল ও পাঠ্যক্রম চালু, সাহিত্য-সংস্কৃতি প্রচার, ডিজিটাল ফরম্যাটে ভাষার সংরক্ষণ এবং প্রশাসনিক ক্ষেত্রে ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করা দরকার। সরকারি অনুদানের মাধ্যমে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করাও গুরুত্বপূর্ণ।”

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রবিউল ইসলাম জানান, “প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আওতায় পরিচালিত বুড্ডিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের ৪টি পাঠদানকেন্দ্র রয়েছে। আমরা রাখাইন ঐতিহ্যকে সামাজিক অনুষ্ঠানে তুলে ধরছি। কুয়াকাটায় একটি রাখাইন ভাষার স্কুল প্রতিষ্ঠার বিষয়ে আমরা দ্রুত পদক্ষেপ নেব।”

রাখাইন ভাষা ও সংস্কৃতিকে টিকিয়ে রাখতে সরকারের পাশাপাশি সামাজিক সংগঠন ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। নইলে দ্রুতই হারিয়ে যেতে পারে এই ঐতিহ্যবাহী জনগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




এখনো মাথায় ৯টি গুলি বয়ে বেড়াচ্ছেন আলাউদ্দিন

২০২৪ সালের ১৯ জুলাই রাজধানী ঢাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নিতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত হন মো. আলাউদ্দিন। তিনি লেগুনা চালিয়ে পরিবার পরিজনসহ জীবিকা নির্বাহ করতেন। কিন্তু আন্দোলনে অংশ নিয়ে পুলিশের ছোড়া ৩৫টি ছররা গুলিতে তিনি আহত হন, যার মধ্যে ১১টি গুলি তার মাথায় ঢুকে যায়।

অপারেশন করে ২৬টি গুলি বের করতে পারলেও এখনো তার মাথার ভেতরে ৯টি গুলি রয়ে গেছে, যা তাকে প্রতিদিন তীব্র যন্ত্রণায় ভুগাতে থাকে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বাকি গুলিগুলো বের করার চেষ্টা করলে তার জীবন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে, তাই সেগুলো আর বের করা হয়নি।

এদিকে, আলাউদ্দিন এবং তার পরিবারের জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি সরকারের কাছে আর্থিক সহযোগিতা এবং মাথায় থাকা গুলিগুলো বের করার জন্য উন্নত চিকিৎসা দাবি করেছেন। এছাড়া, তার বৃদ্ধা নানু মোসাম্মৎ জমিলা খাতুনও সরকারের কাছ থেকে ভাতা এবং সহায়তা চান, যাতে আলাউদ্দিন এবং তার পরিবার সুস্থভাবে জীবনযাপন করতে পারে।

এ বিষয়ে ভোলা জেলার প্রশাসন জানিয়েছে, আন্দোলনে আহতদের জন্য আর্থিক সহযোগিতা প্রদানের কাজ চলছে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদন জমা দিলে তাদের সাহায্য করা হবে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




রাষ্ট্রে ইসলাম বিজয়ী হলে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে :: পীর সাহেব চরমোনাই

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর সংগ্রামী আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম পীর সাহেব চরমোনাই বলেছেন, ‘‘দেশের মানুষ স্বৈরাচার পতনের পর থেকে ইসলামের দিকে ধাবিত হচ্ছে। ইসলাম বিজয়ী হোক, এটা এখন এদেশের গণমানুষের জাতীয় দাবিতে পরিণত হচ্ছে।’’ তিনি বলেন, ‘‘ইসলামের গণজোয়ার ঠেকাতে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল ইসলাম সম্পর্কে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। তবে আমরা স্পষ্টভাবে ঘোষণা করছি, রাষ্ট্রে ইসলাম বিজয়ী হলে সর্বস্তরের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে।’’

তিনি আজ (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঐতিহাসিক চরমোনাইর বাৎসরিক মাহফিলে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ-এর গণজমায়েতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখছিলেন।

পীর সাহেব চরমোনাই আরও বলেন, ‘‘বস্তবাদী রাজনৈতিক সংগঠনগুলো ছাত্র রাজনীতির নামে সন্ত্রাসী তৈরীর কারখানায় পরিণত হয়েছে, কিন্তু ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের জন্য আদর্শিক জনশক্তি তৈরি করতে নিরলস কাজ করছে। আমাদের স্লোগান হলো ‘সাহাবাদের অনুসরণ ইসলামী ছাত্র আন্দোলন’। সাহাবাদের চরিত্রে মানব জীবন গঠন করার উদ্দেশ্য থেকে কখনোই সরে যাবো না। বরং, যেভাবে স্বৈরাচার পতনে কাজ করেছে, সেভাবেই দেশ গড়ার জন্য ছাত্র সমাজকে প্রস্তুতি নিতে হবে।’’

গণজমায়েতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমদ বিশেষ অতিথি হিসেবে বলেন, ‘‘অন্যান্য সংগঠনে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য সন্ত্রাসী কার্যক্রমের সাথে জড়িত থাকার যোগ্যতাকে গন্য করা হয়। কিন্তু ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ-এ নেতৃত্ব প্রদানের আগে যাচাই করা হয় জ্ঞান এবং সৎকর্ম।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘ইসলামী ছাত্র আন্দোলন সবসময় আদর্শিক নৈতিক শিক্ষা সিলেবাস প্রণয়নে সচেতন ভূমিকা পালন করছে এবং সমাজসেবা ও দেশের অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য কাজ করছে।’’

গণজমায়েতে অন্যান্য বক্তারা বলেন, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ তার কার্যক্রমে দেশের উন্নয়ন এবং মানবতার কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

মাহফিলে অন্যান্য অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, সহকারী মহাসচিব মাওলানা আহমাদ আবদুল কাইয়ুম, ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি দেলোয়ার সাকি, কেন্দ্রীয় দফতর সম্পাদক মাওলানা লোকমান হোসাইন জাফরী, ইসলামিক মুক্তিযোদ্ধা পরিষদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম, তুরস্ক ও ইন্দোনেশিয়ার প্রতিনিধিরা সহ অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ।

ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ এর কেন্দ্রীয় সভাপতি ইউসুফ আহমাদ মানসুর-এর সভাপতিত্বে আয়োজিত গণসমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন মুনতাছির আহমাদ, মাহবুবুর রহমান নাহিয়ান প্রমুখ।

মাহফিলের কার্যক্রম আগামীকাল (শনিবার) সকাল ৮টায় আখেরী মুনাজাতের মাধ্যমে সমাপ্ত হবে, ইনশাআল্লাহ।




বানারীপাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের সংকট: সিজারিয়ান বন্ধ, দুর্ভোগে প্রসূতি রোগীরা

বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অ্যানেস্থেসিয়া এবং গাইনী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকার কারণে প্রসূতির সিজারিয়ান অপারেশন বন্ধ হয়ে গেছে। প্রায় ৩ মাস ধরে এই পরিস্থিতি চলমান। গত বছরের নভেম্বরে অ্যানেস্থেসিয়া চিকিৎসক ডা. মো. আমিনুর রহমান বদলী হয়ে যাওয়ার পর থেকে এই সমস্যা সৃষ্টি হয়। এর ফলে প্রসূতি রোগীরা সিজারিয়ানসহ অন্যান্য জটিল চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

এছাড়া, সম্প্রতি জুনিয়র গাইনী বিশেষজ্ঞ ডা. ইসরাত শারমিনের বদলির ফলে গাইনী চিকিৎসাসেবাও মারাত্মকভাবে ব্যহত হচ্ছে। এই অবস্থায়, প্রসূতি রোগীরা বাধ্য হয়ে বানারীপাড়া, স্বরূপকাঠি এবং বরিশাল শহরের প্রাইভেট ক্লিনিক কিংবা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোতে গিয়ে চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন, যার ফলে তাদের চিকিৎসা ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে এবং চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত এক বছরে এখানে ১১৩ জন প্রসূতির সিজারিয়ান অপারেশন ও ৬৩১ জনের নরমাল ডেলিভারি সম্পন্ন হয়েছে। তবে চিকিৎসকের সংকটের কারণে এখন সিজারিয়ান অপারেশন বন্ধ থাকায়, এটি দ্বিগুণেরও বেশি হতে পারতো বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন।

বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ফকরুল ইসলাম মৃধা বলেন, “প্রসূতি রোগীদের চিকিৎসাসেবা নির্বিঘ্নে চালিয়ে যেতে জরুরি ভিত্তিতে অ্যানেস্থেসিয়া ও গাইনী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগ করা প্রয়োজন।”

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




লঞ্চের কেবিনের দ্বিগুণ দাম: যাত্রীদের জিম্মি করে কালোবাজারি

ঢাকা-বরিশাল নৌপথে লঞ্চের কেবিনের টিকিট বর্তমানে কালোবাজারির কবলে। যাত্রীদের অভিযোগ, লঞ্চ কোম্পানির অফিস থেকে টিকিট না পেয়ে, তারা বাধ্য হয়ে কালোবাজারিদের কাছ থেকে অতিরিক্ত দামে টিকিট কিনছেন। কেবিনের ডাবল টিকিটের দাম বর্তমানে ৩০০০ টাকা, যা নৌপথের মূল দামের চেয়ে দ্বিগুণ। এছাড়া সিঙ্গেল কেবিনও ১৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা সাধারণ মূল্যের তুলনায় অনেক বেশি।

যাত্রীদের অভিযোগ, এক সময় বরিশাল থেকে সাতটি ও ঢাকা থেকে ছয়টি লঞ্চ চলাচল করতো, কিন্তু পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর লঞ্চ সংখ্যা কমে গিয়ে বর্তমানে প্রতিদিন দুটি লঞ্চ চলাচল করছে। এতে লঞ্চের কেবিনের চাহিদা বেড়ে গেছে, এবং লঞ্চ মালিকদের সিন্ডিকেটের কারণে টিকিট কালোবাজারে বিক্রি হচ্ছে।

যাত্রীদের জন্য কেবিনের টিকিট পাওয়াটা এখন একটি কঠিন বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। একদিকে মালিকপক্ষের সিন্ডিকেট, অন্যদিকে কালোবাজারির দল—এই দুয়ের জোটে যাত্রীরা অসহায় হয়ে পড়েছেন। যাত্রীদের মতে, লঞ্চ মালিকরা লঞ্চ কমিয়ে দিয়ে শুধু নিজেদের সুবিধা দেখছেন এবং প্রশাসন কিংবা কর্তৃপক্ষের কোনও পদক্ষেপ নেই।

একটি টিকিট বিক্রির দালাল বলেন, “আমরা লঞ্চ কোম্পানির ব্যবস্থাপকদের সাথে যোগাযোগ করে আগেই টিকিট কিনে রাখি। পরে সেগুলো বেশি দামে বিক্রি করি। রোটেশন পদ্ধতি ও অল্প লঞ্চ চলাচলের কারণে আমরা বেশি দামে টিকিট বিক্রি করতে পারি।”

এছাড়া, লঞ্চ কোম্পানির কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা কালোবাজারির সাথে জড়িত নন, তবে অনলাইনে টিকিট বিক্রির কারণে কিছু টিকিট কালোবাজারে চলে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে বরিশাল নৌবন্দরের উপপরিচালক শেখ মোহাম্মদ সেলিম রেজা বলেন, “লঞ্চের কেবিনের টিকিট কালোবাজারি ঠেকাতে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলবো। তবে লঞ্চ মালিকদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রোটেশন কমানোর কারণে এই সমস্যাগুলি সৃষ্টি হয়েছে।”

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে শর্ষের আবাদে কৃষকের মুখে হাসির ঝিলিক, বিরান মাঠে সোনালী ফসল

বরিশাল সদর উপজেলার চাঁদপুরা ইউনিয়নের হিজলতলা গ্রামে এবারের দৃশ্য একেবারে আলাদা। মাঠজুড়ে সোনালী শর্ষের ক্ষেত, গাছের শাখায় হলুদ ফুলের সমারোহ—একটি মনোমুগ্ধকর দৃশ্য যা কৃষকদের মুখে হাসি ফুটিয়ে দিয়েছে। এখানে প্রায় ৮০ জন কৃষক ৩৮ একর জমিতে শর্ষে আবাদ করেছেন, যার মধ্যে বিনা-৯ এবং বিনা-১১ জাতের শর্ষের চাষ করা হয়েছে। বিশেষ করে, বিনা-৯ জাতটি এবারই প্রথম চাষ করা হচ্ছে।

কৃষক সরোয়ার মল্লিক বলেন, “খেতে দাঁড়িয়ে দেখি কেমন সুন্দর গাছগুলো আর হলুদ ফুল। এবার দুই বিঘা জমিতে শর্ষে আবাদ করেছি। আশা করি ভালো ফলন পাবো। আগামীতে আরও অনেক কৃষক এই এলাকায় শর্ষে আবাদ করবে।”

পূর্বে আমন মৌসুম শেষে মাঠের জমি অনাবাদি পড়ে থাকত, কিন্তু এখন ওই জমিতে শর্ষে আবাদ করা হচ্ছে, যা কৃষকদের জন্য একটি নতুন সুযোগ। দক্ষিণাঞ্চলে শর্ষে আবাদ বেড়েছে এবং এই আবাদে উৎসাহিত করতে গতকাল হিজলতলা গ্রামে আয়োজিত হয় একটি মাঠ দিবস। এ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) থেকে ভার্চুয়ালি যোগ দেন মহাপরিচালক মো. আবুল কালাম আজাদ।

মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, “শর্ষে তেল অত্যন্ত নিরাপদ, কিন্তু আমরা বেশি ব্যবহার করি সয়াবিন তেল, যা সম্পূর্ণ আমদানিনির্ভর। প্রতিবছর ২০ থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকা ভোজ্যতেল আমদানিতে খরচ হয়। সরকারের লক্ষ্য হল, ভোজ্যতেলের আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে শর্ষে আবাদ বাড়ানো।”

শর্ষে আবাদে বিশেষ ধরনের জাত যেমন বিনা-৯ এবং বিনা-১১ উদ্ভাবিত হয়েছে, যা জলবায়ু পরিবর্তনসহ নানা দুর্যোগের উপযোগী। এ জাতগুলো দ্রুত সময়ের মধ্যে চাষ করা যায় এবং বিশেষত বরিশাল অঞ্চলে আবাদে সফল।

বিনা-৯ জাতটি জমি চাষ ছাড়াই আবাদ করা যায় এবং এর জীবনকাল ৮০-৮৫ দিন। এই জাতের ফলন হেক্টরপ্রতি ২ টন। অন্যদিকে, বিনা-১১ এর জীবনকাল ৭৫-৮০ দিন এবং এর ফলনও হেক্টরপ্রতি ২ টন।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম