ভোলা গ্যাসের এলএনজিতে রূপান্তর,জাতীয় শক্তির নতুন উৎস

ভোলার গ্যাসকে এলএনজিতে রূপান্তর করে দেশের জাতীয় গ্রিডে যোগ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার। দ্বীপ জেলা ভোলার গ্যাস সরাসরি কোনো পাইপলাইনের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে যোগ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে সেখানে উৎপাদিত অতিরিক্ত গ্যাস বর্তমানে কোনো কাজে আসছে না। তবে, এলএনজি রূপান্তরের মাধ্যমে এটি কার্যকরী করার চেষ্টা চলছে, যা আগামী দিনে দেশীয় গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ভোলা জেলা থেকে সরাসরি পাইপলাইন না থাকায়, এখানকার উৎপাদিত গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যোগ করা সম্ভব হচ্ছিল না। এরই মধ্যে সাবেক সরকারের সময় ভোলার সিএনজির বদলে এলএনজি আনার বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল, তবে তখন এই উদ্যোগকে লাভজনক হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি। কিন্তু বর্তমান সরকার ভোলার গ্যাস এলএনজিতে রূপান্তরের সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দিয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
গ্যাসের মজুত বাড়ানোর জন্য এবং জাতীয় গ্রিডে স্থিতিশীল সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য ভোলা থেকে উৎপাদিত গ্যাসের এলএনজিতে রূপান্তরের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় ভোলাতে গ্যাসের মজুত অনেক বেশি রয়েছে। সিলেট অঞ্চলের গ্যাস ক্রমেই ফুরিয়ে আসছে এবং সাগরের তেল-গ্যাস উত্তোলনে এখনও কোনো বড় সাফল্য পাওয়া যায়নি। এমন পরিস্থিতিতে ভোলার গ্যাস রূপান্তর করে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ভোলায় বর্তমানে ৫ দশমিক ১০৯ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ) উত্তোলনযোগ্য গ্যাস মজুত রয়েছে। এর মধ্যে শাহবাজপুর এবং ইলিশায় ২ দশমিক ৪২৩ টিসিএফ এবং চর ফ্যাশনে ২ দশমিক ৬৮৬ টিসিএফ গ্যাসের মজুত রয়েছে। এই গ্যাসের বাজার মূল্য প্রায় সাড়ে ৬ লাখ কোটি টাকা।
ভোলা থেকে সিএনজির বদলে এলএনজি আনার জন্য ছোট আকারের এলএনজি জাহাজের প্রয়োজন হবে। ভোলার গ্যাসকে এলএনজিতে রূপান্তরের জন্য সেখানে একটি এলএনজির প্ল্যান্ট স্থাপন করতে হবে। পাশাপাশি, আশুগঞ্জেও একটি রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে এলএনজি গ্যাসকে পুনরায় গ্যাসে রূপান্তর করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা যায়।
এটি বাস্তবায়িত হলে, ভোলার গ্যাস দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় বেশি কার্যকরভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হবে এবং জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো যাবে।
বর্তমানে দেশে প্রতিদিন ২৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। এর মধ্যে ৭৫০ থেকে ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস আমদানি করা হয়, এবং বাকি গ্যাস দেশের খনি থেকে সরবরাহ করা হয়। গত কয়েক বছরে ভোলায় তিনটি কূপ খনন করেছে রাশিয়ান কোম্পানি গ্যাজপ্রম, এবং পূর্বে বাপেক্সও ভোলায় গ্যাস আবিষ্কার করেছে। ভোলায় পাওয়া গ্যাসের ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করার সক্ষমতা রয়েছে, যা ভোলার স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি জাতীয় গ্যাস সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
জ্বালানি সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম এই বিষয়ে বলেন, ভোলা থেকে সিএনজির বদলে এলএনজি করে গ্যাস আনার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এই গ্যাস আশুগঞ্জের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে, যা দেশের গ্যাস সংকট মোকাবিলায় সহায়ক হবে।
এই উদ্যোগটি শুধুমাত্র দেশের গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নতি ঘটাবে না, বরং ভোলার গ্যাস রিসোর্সের সুষ্ঠু ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম








