সাবেক সমন্বয়কদের নতুন সংগঠন, সম্ভাব্য নাম ‘বিপ্লবী ছাত্রশক্তি

সাবেক সমন্বয়কদের নতুন সংগঠন, সম্ভাব্য নাম ‘বিপ্লবী ছাত্রশক্তি’
• কমিটি হতে পারে ২৫১ সদস্য বিশিষ্ট
• মূল পদে আসবেন ৪ জন
• পদে আসতে হলে ছাত্রত্ব আবশ্যক
• মধ্যমপন্থার রাজনীতিতে গুরুত্বারোপ
বিজ্ঞাপন

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন থেকে বেরিয়ে নতুন ছাত্রসংগঠন করতে যাচ্ছে জুলাই অভ্যুত্থানে সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের একটি অংশ। সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) মধুর ক্যান্টিন থেকে এর আত্মপ্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে। সংগঠনটির নাম হতে পারে ‘বিপ্লবী ছাত্রশক্তি।’

আত্মপ্রকাশের দিনই ২৫১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা হতে পারে। সংগঠনটির বেশ কয়েকজন সম্ভাব্য নেতা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। শনিবারই সংগঠনটির আত্মপ্রকাশের গুঞ্জন উঠলেও কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব নির্বাচন, দলের নামসহ বিভিন্ন বিষয় অমীমাংসিত থাকায় আত্মপ্রকাশের দিন পেছানো হয়।




চাঁপাইনবাবগঞ্জে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় মাহফিল, ১৫ লাখ মানুষের সমাগম

চাঁপাইনবাবগঞ্জে গত শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত ড. মিজানুর রহমান আজহারীর মাহফিলটি ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ওয়াজ মাহফিল হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এই মাহফিলে ১২ থেকে ১৫ লাখ মানুষের সমাগম ঘটে, যা চাঁপাইনবাবগঞ্জের ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

মাহফিলটি অনুষ্ঠিত হয় চাঁপাইনবাবগঞ্জের মহারাজপুর ইউনিয়নের ঘোড়াস্ট্যান্ডের পাশের আমবাগান মাঠে, যেখানে স্থানীয় নেতৃবৃন্দের বক্তব্যের পর বয়ান পেশ করেন জনপ্রিয় ইসলামি বক্তা ড. মিজানুর রহমান আজহারী। মাহফিলের জন্য সকাল থেকে শহরে শ্রোতাদের ঢল নামতে থাকে।

শ্রোতারা বিভিন্ন ধরনের যানবাহনে পৌঁছেছেন। বেশিরভাগই দূরদূরান্ত থেকে মাইক্রোবাসে এসেছেন। পাবনা থেকে রাত ৩টায় রওনা দেওয়া রাকিবুল ইসলাম বলেন, “রাজশাহী বিভাগে আর মিজানুর রহমান আজহারীর মাহফিল নেই। তাকে সরাসরি দেখতে এবং তার মুখে ওয়াজ শোনার জন্যই আমরা এসেছি।” আরেক মুসল্লি সজিব ইসলাম বলেন, “সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেক মাহফিল শুনেছি, তবে এখানে এসে সরাসরি দেখা ও শোনা এক ভিন্ন অনুভূতি।”

এ বিশাল জনসমাগমের জন্য আয়োজনের পক্ষ থেকে আটটি মাঠ প্রস্তুত করা হয়। পুরুষদের জন্য তিনটি, নারীদের জন্য চারটি আলাদা মাঠ তৈরি করা হয়েছে। মাঠগুলোর মধ্যে চারটি প্রজেক্টরের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যাতে প্রতিটি অংশে উপস্থিত মানুষ ওয়াজ শুনতে পারেন। এছাড়া, স্বাস্থ্যসেবা, সুপেয় পানি, স্যানিটেশন ব্যবস্থা, ফ্রি ওয়াইফাই, এবং ৫ হাজার স্বেচ্ছাসেবক দল সহ সব ধরনের সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আবু জার গিফারী এবং প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল। নিরাপত্তা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ বাহিনীসহ ৫ হাজার স্বেচ্ছাসেবক কাজ করছেন।

এছাড়া, মাহফিলে ১৬টি গ্যারেজের সুব্যবস্থা, খাবার হোটেল, প্রকাশনা স্টল, মেডিক্যাল টিমসহ অন্যান্য সুবিধাও প্রদান করা হয়েছে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




‘১৫ বছরে দলীয় বিবেচনায় মুক্তিযোদ্ধা তৈরির অভিযোগ’

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক ই আজম গত ১৫ বছরে দলীয় বিবেচনায় অনেক ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা তৈরির অভিযোগ করেছেন। তিনি শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়ক জেনারেল আতাউল গণি ওসমানীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই তথ্য জানান।

ফারুক ই আজম বলেন, ‘এই দীর্ঘ সময়ে এমন একটি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে, যেখানে কখনো কখনো মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডাররাও জড়িত ছিলেন।’ তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান রক্ষার্থে একটি যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া শুরু করেছে, যাতে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া যায়।

এছাড়া, অনুষ্ঠানে বক্তারা জেনারেল ওসমানীর বীরত্বগাঁথা পাঠ্যপুস্তকে বিস্তারিতভাবে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান। ওসমানী স্মৃতি পরিষদ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কাছে তার স্মৃতি রক্ষার্থে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য কয়েকটি দাবি তুলে ধরে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




‘আজহারুলকে ছাড়ুন, না হলে ৩ কোটি মানুষকে জেলের প্রস্তুতি নিন’

চাঁদপুরে জামায়াতে ইসলামী আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “যদি আমাদের নেতা মজলুম আজহারুল ইসলামকে না ছাড়েন, তবে আমি এবং আমার সহকর্মী ৩ কোটি মানুষকে জেলে ঢোকানোর প্রস্তুতি নিন।” তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় এলে সকলের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে এবং একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে।

শনিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ বিশ্বরোডে অনুষ্ঠিত এক বিশাল পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, বর্তমানে দেশের উপজেলা চেয়ারম্যান, মেয়রসহ জনপ্রতিনিধি শূন্য। তিনি দাবি করেন, “দেশে এখন স্থানীয় নির্বাচনের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করে জনগণের দুর্ভোগ কমাতে হবে, এবং পরে আংশিক সংস্কারের পর জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া উচিত।”

তিনি আরও বলেন, “প্রতিবন্ধী, মানুষের অধিকার খর্বকারী এবং জনগণের শত্রুদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি ফ্যাসিবাদী সরকার চলে যাওয়ার পরও দেশ থেকে চাঁদাবাজি এবং দখলদারিত্ব বন্ধ হয়নি। এসব এখন নতুন হাতে চলে গেছে।” তিনি অনুরোধ করেন, “শহীদদের প্রতি সম্মান রাখতে, চাঁদাবাজি, দখলদারি এবং মানুষের কষ্ট দেওয়ার কাজ থেকে বিরত থাকতে।”

পথসভায় জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির এডভোকেট মোঃ মাসুদুল ইসলাম বুলবুলের সভাপতিত্বে এবং জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান এডভোকেট শাহজাহান মিয়ার পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরার সদস্য, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলার সাবেক আমির এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবদুস সাত্তার।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে তরল প্রাকৃতিক গ্যাস চুক্তি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ

বরিশাল শহরে তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) চুক্তি বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরিবেশবিদরা সরকারের সঙ্গে আর্জেন্ট এলএলসির তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস চুক্তির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে এই কর্মসূচি চালায়।

শনিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, দুপুরে বরিশাল নগরীর সদর রোডে অবস্থিত সার্কিট হাউজের সামনে এটি আয়োজন করা হয়। পরিবেশবাদী সংগঠন প্রান্তজন, কোস্টাল লাইভলিহুড অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট অ্যাকশন নেটওয়ার্ক এবং বাংলাদেশ ওয়ার্কিং গ্রুপ অন ইকোলজি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট যৌথভাবে এ প্রতিবাদ আয়োজন করে। তারা অবিলম্বে চুক্তি বাতিলের দাবি জানান।

বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য দেন ক্যাবের সম্পাদক রনজিৎ দত্ত, প্রান্তজনের নির্বাহী পরিচালক তৌহিদুল ইসলাম শাহাজাদা, পরিবেশ ও উন্নয়ন ফোরামের সদস্য শুভংকর চক্রবর্তী এবং অ্যাডভোকেট শুভাষ দত্তসহ অন্যান্যরা। তারা এলএনজি চুক্তির কারণে দেশের পরিবেশ এবং অর্থনীতির উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

ক্যাবের সম্পাদক রনজিৎ দত্ত জানান, এলএনজি চুক্তির কারণে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা বাড়ছে এবং সাশ্রয়ী নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি বলেন, “এলএনজি আমদানি বাংলাদেশের অর্থনীতিকে দুর্বল করবে এবং উপকূলীয় জনগণের জন্য জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক প্রভাব তৈরি করবে।”

প্রান্তজনের নির্বাহী পরিচালক তৌহিদুল ইসলাম শাহাজাদা বলেন, “বাংলাদেশকে জ্বালানি নিরাপত্তা অর্জন করতে হবে এবং পরিবেশবান্ধব শক্তি ব্যবহারে গুরুত্ব দিতে হবে। সৌর ও বায়ু বিদ্যুতে বিনিয়োগ প্রয়োজন।”

পরিবেশ ও উন্নয়ন ফোরামের সদস্য শুভংকর চক্রবর্তী বলেন, “এলএনজি আমদানি বন্ধ করে এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে বাংলাদেশকে একটি পরিবেশবান্ধব শক্তির দেশে পরিণত করতে হবে। আমাদের আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সাশ্রয়ী এবং নিরাপদ শক্তির বাংলাদেশ গঠন করা সময়ের দাবি।”

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




 সংস্কার প্রস্তাবের মধ্যে রাজনৈতিক ঐক্যমত্য গঠনের চেষ্টা: প্রধান বিচারপতি

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ জানিয়েছেন, বিচার বিভাগ সংস্কার কার্যক্রমে একটি অগ্রগামী ভূমিকা পালন করেছে, যা সর্বোচ্চ আদালতের নেতৃত্বে বাস্তবায়িত হচ্ছে। তিনি বলেন, সেমিনারটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন দেশের রাজনৈতিক ঐক্যমত্য গঠনের প্রচেষ্টা চলছে, যেখানে বিভিন্ন খাতভিত্তিক সংস্কার প্রস্তাবের ওপর আলোচনা চলছে।

শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ময়মনসিংহে আয়োজিত বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও দক্ষতা বিষয়ক আঞ্চলিক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, “আমাদের সংস্কার প্রচেষ্টাগুলোর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করার জন্য উপায়গুলো খুঁজে বের করতে হবে,” এবং তিনি জেলা বিচার বিভাগ ও ম্যাজিস্ট্রেসিদের নিজ নিজ ভূমিকায় সংস্কারক ও উদ্ভাবক হিসেবে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি তাদের সংস্কার কর্মসূচির মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালনেরও পরামর্শ দেন।

এছাড়া, বিচার বিভাগের বিস্তৃতি এবং খাতভিত্তিক সংস্কার প্রস্তাবগুলো সংশ্লিষ্ট সংস্কার কমিশনগুলোর সঙ্গে ভাগ করা হয়েছে এবং প্রস্তাবগুলো প্রতিফলিত হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের ১২ দফা নির্দেশনার ভিত্তিতে বিচার ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে, যার লক্ষ্য সাধারণ জনগণের জন্য দক্ষ ও দ্রুত সেবা প্রদান করা।

ইউএনডিপির উদ্যোগে আয়োজিত এই সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, ইউএনডিপি বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফান লিলার। আরও বক্তব্য রাখেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার এবং সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি ফারাহ্ মাহবুব।

এছাড়া সেমিনারে ময়মনসিংহ, জামালপুর ও নেত্রকোনা জেলার বিচারক, পাবলিক প্রসিকিউটররা উপস্থিত ছিলেন।




পিরোজপুর চালের কার্ড দেওয়ার কথা বলে বৃদ্ধের ভ্যান নিয়ে পালাল চোর

পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলায় একটি ভয়াবহ চুরির ঘটনা ঘটেছে, যেখানে বৃদ্ধ ওমর আলী (৬৫) তার একমাত্র উপার্জনের সম্বল, ভ্যানটি চুরি হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে দুঃস্থ অবস্থায় পড়েছেন। ভ্যান চালিয়ে সংসার চালানো এই বৃদ্ধের জন্য এটি ছিল জীবনের একমাত্র সম্বল, যা এখন চুরির কারণে হারিয়ে গেছে।

২২ ফেব্রুয়ারি, শনিবার সকালেও ভ্যান নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন ওমর আলী। বেলা ১২টার দিকে দুই ব্যক্তি যাত্রীবেশে এসে তাকে চালের কার্ড দেওয়ার কথা বলে পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলা সদরে নিয়ে যান। সরকারি বালক বিদ্যালয়ের কাছে পৌঁছানোর পর, এক ব্যক্তি তাকে ভেতরে কিছু মালামাল আনতে বলে এবং ২০০ টাকা দেওয়ার কথা বলে। এই সুযোগে অপর চোর ভ্যানটি নিয়ে পালিয়ে যায়।

ওমর আলী কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং দীর্ঘক্ষণ রাস্তার পাশে বসে কান্না করতে থাকেন। তার অভিযোগ, চোরেরা তাকে ভুয়া আশ্বাস দিয়ে ভ্যানটি নিয়ে পালিয়ে যায়, আর তিনি কিছুই বুঝতে পারেননি।

বৃদ্ধের স্ত্রী নাজিরপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন এবং বলেন, “অনেক কষ্টে আমরা এই ভ্যানটি কিনেছিলাম। এখন তা চুরি হয়ে গেছে, আমাদের উপার্জন বন্ধ হয়ে গেল।”

স্থানীয়রা জানান, বৃদ্ধকে ফার্মেসির সামনে কাঁদতে কাঁদতে মাটিতে লুটিয়ে পড়তে দেখা গেছে। বিদ্যালয়ের সামনে সিসি ক্যামেরা থাকায় সেখানে চোরদের চিহ্নিত করা সম্ভব হতে পারে।

এ বিষয়ে নাজিরপুর থানার পরির্দশক তদন্ত (ওসি) শেখ হেলাল উদ্দিন বলেন, “আমরা এ বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি এবং তদন্ত শুরু করেছি। চোর চক্রকে শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।”

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরগুনার পায়রা নদী হুমকিতে: পৌর বর্জ্যে দূষিত, মাছের প্রজনন বিপাকে

বরগুনার আমতলী পৌর শহরের বর্জ্য ফেলা হচ্ছে পায়রা নদীতে, যা পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি নদীকে এক ভয়াবহ পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, শত কোটি টাকা ব্যয়ে উন্নয়ন হলেও পৌরসভা কর্তৃপক্ষের অযত্নের কারণে বর্জ্য পরিশোধনাগার নির্মাণ হয়নি, যার ফলে নদী এখন এক বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে।

আমতলী পৌরসভা ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও ২০১৫ সালে প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হিসেবে উন্নীত হয়। বর্তমানে প্রায় ৩৩ হাজার মানুষ বসবাস করে এই পৌরসভায়, এবং প্রতিদিন গড়ে ১৬ টন বর্জ্য তৈরি হয়। কিন্তু পর্যাপ্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ব্যবস্থা না থাকার কারণে পৌর শহরের সমস্ত বর্জ্য অবাধে ফেলা হচ্ছে পায়রা নদীতে। এই নদীর তীরে বর্জ্যের স্তূপ জমে থাকায় দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ স্থানীয়রা।

এছাড়াও, নদীর পানি ব্যবহারের কারণে এলাকাবাসী বিভিন্ন পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। মাছের প্রজনন এবং উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। নদীতে দূষিত পানি পড়ে যাওয়ার ফলে পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে এবং নদীও বিষাক্ত হয়ে উঠছে।

স্থানীয়রা আরও জানান, গত কয়েক বছরে আমতলী পৌরসভায় উন্নয়নের নামে বড় অঙ্কের টাকা খরচ হলেও ময়লা ফেলার জন্য কোনো নির্ধারিত জায়গা তৈরি হয়নি। পূর্বের মেয়রের দায়িত্বহীনতার কারণে এই সমস্যা অব্যাহত আছে।

একটি স্থানীয় চা দোকানদার, লাইলী জানান, “পৌরসভার ময়লা নদীতে ফেলার কারণে আমাদের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে গেছে। নদীর পানি এখন ব্যবহার করা যায় না। আমাদের পরিবারের সবাই নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছি।”

একজন দিনমজুর, মেহেদী হাসান সোহেল বলেন, “এখানে ময়লা ফেলানোর ফলে আমাদের কাজ করতে অনেক সমস্যা হচ্ছে। নদীর পাশে কাজ করতে গিয়ে নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছি।”

এদিকে, পায়রা নদী রক্ষায় সরকারী পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ মনিরুল ইসলাম বলেন, “পৌরসভায় বর্জ্য শোধনাগার না থাকায় সব কিছু নদীতে ফেলা হচ্ছে। এতে পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে, পায়রা নদীও দূষিত হচ্ছে। দ্রুত একটি বর্জ্য শোধনাগার নির্মাণ করা উচিত।”

পরিবেশকর্মী এইচ এম রাসেল বলেন, “পৌরসভার ২৬ বছর বয়সে কোনো বর্জ্য শোধনাগার নির্মিত হয়নি। বর্তমানে বর্জ্য নদীতে ফেলার কারণে নদীর পানি দূষিত এবং মাছের প্রজননও ব্যাহত হচ্ছে।”

এ বিষয়ে, উপ-পরিচালক (স্থানীয় সরকার) ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক অনিমেষ বিশ্বাস জানান, “প্রত্যেক পৌরসভায় সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী নিজস্ব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র থাকতে হবে। বরগুনা সদর ছাড়া অন্য পৌরসভাগুলোতে এমন কোনো কেন্দ্র নেই। আমরা দ্রুতই এটি প্রতিষ্ঠা করার উদ্যোগ নেব।”

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ভোলায় স্কুলের কাছে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

ভোলার শহরের টাউন কমিটি বাংলা স্কুলের ভাসানী মঞ্চ থেকে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত যুবকের নাম ফাহিম আহমেদ মুন। তিনি বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. সেলিম মিয়ার ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ভোলা শহরের কাঁচা বাজার সংলগ্ন এক বাড়িতে ভাড়া থাকছিলেন।

নিহতের পরিবার এবং পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান মুন, এরপর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। শনিবার সকালে স্থানীয়রা ভাসানী মঞ্চে তার ঝুলন্ত মরদেহ দেখে পরিবারের সদস্যদের এবং পুলিশকে খবর দেন। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

ভোলা মডেল থানার ওসি মো. আবু সাহাদাৎ হাসনাইন পারভেজ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বাংলা স্কুলের একটি সিসিটিভি ফুটেজে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ওই যুবক আত্মহত্যা করেছেন। তবে পুরো বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




পিরোজপুরে সিভিল সার্জনসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

পিরোজপুর জেলা হাসপাতালের প্রায় ২ কোটি টাকার ঔষধ ও শল্য চিকিৎসা সামগ্রী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান থেকে গ্রহন না করেও কাগজপত্রে গ্রহন দেখানোর মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে পিরোজপুরের সিভিল সার্জন এবং হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও)সহ ৯ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মামলা দায়ের করেছে।

মামলাটি পিরোজপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ সহকারী পরিচালক মোঃ শরীফ শেখ বাদী হয়ে দায়ের করেন। দুদকের পিরোজপুর অফিসে ২০ ফেব্রুয়ারী মামলাটি রেকর্ড করা হয়। মামলার আসামীরা হলেন, পিরোজপুরের সিভিল সার্জন ডা. মোঃ মিজানুর রহমান, জেলা হাসপাতালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট (গাইনী) ডা. ফারহানা রহমান, আরএমও ডা. মোঃ নিজাম উদ্দিন, জুনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. সুরঞ্জিত কুমার সাহা, স্টোর কিপার মোঃ আল আমীন গাজী এবং ঔষধ সরবরাহকারী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা।

উল্লেখ্য, পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে ২০২৩-২০২৪ অর্থ বছরে ঔষধ সরবরাহের জন্য ঢাকার ৪টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কার্যাদেশ পেয়েছিল। তবে, এই ৪টি প্রতিষ্ঠান ২ কোটি টাকার ঔষধ সরবরাহ না করেও, গত বছরের ১৬ ও ২৮ এপ্রিল কাগজপত্রে গ্রহন দেখানো হয়। দুদক জানায়, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে জড়িত ৫ জন এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ৪ জন আসামীর বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ দায়ের করা হয়।

এই ঘটনা জানার পর পিরোজপুর দুদক অফিস ২৭ জানুয়ারী জেলা হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে স্টোর রুমে উল্লেখিত ঔষধ সামগ্রী না পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে। এরপর ২ ফেব্রুয়ারী গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকা থেকে ট্রাকে আনা ঔষধ আটক করা হয়।

ডিএডি মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন জানালেন, ২০ ফেব্রুয়ারী এ ঘটনায় আসামীদের বিরুদ্ধে দুদক আইনে মামলা করা হয়।

এ বিষয়ে সিভিল সার্জন ডা. মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, তিনি মামলার বিষয়ে এখনও কিছু জানেন না। তবে, তিনি আশাবাদী যে, তদন্তে আসল ঘটনা বের হয়ে আসবে।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম