ভোলায় রফতানি প্রক্রিয়া জোন স্থাপনের সিদ্ধান্ত: প্রধান উপদেষ্টা

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জানিয়েছেন, বর্তমান সরকার বাংলাদেশের বিচ্ছিন্ন দ্বীপগুলোর উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। এর মধ্যে ভোলা জেলার মনপুরা উপজেলার ঢালচরে একটি লঞ্চঘাট স্থাপন করা হয়েছে এবং আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক অবস্থান জোরদার করার জন্য ভোলা জেলায় একটি রফতানি প্রক্রিয়া জোন স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, রোববার, মনপুরা উপজেলার ঢালচরে জেলেদের সঙ্গে নিবন্ধন হালনাগাদ সংক্রান্ত এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “বরিশালের হিজলাতে শহীদ জাতীয় বীর রিয়াজের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে তার নামে একটি লঞ্চঘাটের পন্টুন উদ্বোধন করা হয়েছে। এছাড়া এই অঞ্চলের জেলেদের সুবিধার্থে একটি মাছঘাট নির্মাণের কাজও চলছে।”

তিনি আরও জানান, “হাতিয়া ও অন্যান্য বিচ্ছিন্ন দ্বীপে সরাসরি ফেরি সার্ভিস চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মনপুরা চরবাসীদের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ করতে নতুন রাস্তা নির্মাণ ও সুপেয় পানির জন্য টিউবওয়েল স্থাপন করা হবে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন হচ্ছে নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টাদের তত্ত্বাবধানে।”

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, “মৎস্যজীবীদের তালিকায় অমৎস্যজীবী অনুপ্রবেশ অনেক বেড়েছে। তাই তালিকাটি সঠিকভাবে হালনাগাদ করা হবে এবং নারী মৎস্যজীবীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।”

এছাড়া, নৌপরিবহণ এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “ঢালচরে ঘাট নির্মাণের ফলে এই অঞ্চলের মানুষের বিশেষ করে মৎস্যজীবীদের সুবিধা হবে। বর্তমান সরকারের উন্নয়ন ধারণা হলো, ঢাকায় বসে নয়, প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের মুখে হাসি ফোটানো।”

অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা এবং নৌপরিবহণ ও শ্রম উপদেষ্টা মনপুরার বিভিন্ন চরাঞ্চলের নিবন্ধিত জেলেদের মাঝে নিবন্ধিত কার্ড বিতরণ করেন।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




 রাজপথে প্রতিপক্ষদের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থানে শিরিন

বিএনপির স্থগিত সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরীন বলেছেন, কিছু মানুষ তার ক্ষতি করতে উঠে পড়ে লেগেছে এবং রাজপথে টিকে না পেরে অন্ধকারের মাধ্যমে তার পথরোধ করার চেষ্টা করছে। তিনি আরও জানান, এসব ষড়যন্ত্রকে মোকাবিলা করার দৃঢ় প্রত্যয় তার রয়েছে, এবং তার রাজনৈতিক আদর্শ ও দলের নেতাদের প্রতি আস্থা থেকেই তিনি এগিয়ে যাচ্ছেন।

২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, রবিবার, সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে শিরীন এসব মন্তব্য করেন।

শিরীন বলেন, “আমি একজন নারী হিসেবে রাজপথে প্রতিযোগিতা করে উঠে এসেছি। রাজনীতিতে নারীদের জন্য অনেক বাধা থাকলেও, আমি দলের সহায়তায় এবং পরিশ্রমের মাধ্যমে এ পর্যন্ত এসেছি। তবে কিছু নষ্ট-ভ্রষ্ট মানুষ আমার ক্ষতি করতে উঠে পড়ে লেগেছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমার রাজনৈতিক বিশ্বাস এবং আস্থা রয়েছে জিয়া পরিবারের প্রতি, এবং তারেক রহমানের নির্দেশনা এবং আস্থাই আমাকে চলতে সাহায্য করছে। আমি এসব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে প্রমাণ করবো, ইনশাআল্লাহ।”

শিরীন বলেন, তিনি বরিশাল বিভাগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিএনপিকে ঐক্যবদ্ধ রেখে রাজপথে ছিলেন, এবং তার উপর একাধিক মামলা, গ্রেফতার এবং কারাবরণ হয়েছে। তিনি বলেন, “বরিশালের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কাজ করতে গিয়ে আমাকে একাধিক মিথ্যা সংবাদে জড়িয়ে প্রচারণা চালানো হয়েছে।”

তিনি একাধিক সংবাদপত্রের প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা এবং ষড়যন্ত্রমূলক খবর প্রচারের তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং বলেন, “এই সকল সংবাদ উদ্দেশ্যমূলকভাবে আমাকে এবং আমার দলকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।”

শিরীন দাবি করেন, তিনি সম্পূর্ণভাবে ষড়যন্ত্রের শিকার এবং তার বিরুদ্ধে একাধিকবার মিথ্যা খবর প্রচার করা হয়েছে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ঝালকাঠিতে পাসপোর্ট অফিসে দুদকের অভিযান, তিন দালাল আটক

ঝালকাঠি আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ছদ্মবেশে অভিযান পরিচালনা করেছে, যার ফলে তিন দালালকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় এক দালালকে ৭ দিনের কারাদণ্ড এবং ২০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

রোববার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পিরোজপুর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আরিফ হোসেনের নেতৃত্বে দুদকের একটি টিম অভিযান চালায়। অভিযোগ পাওয়ার পর পাসপোর্ট অফিসে অভিযান শুরু হয়, যেখানে এক দালাল কাওসার সিকদার পাসপোর্ট করার শর্তে দুদক কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ১২ হাজার টাকা দাবি করেছিলেন। তাঁকে হাতেনাতে ধরা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কাওসার সিকদারকে ৭ দিনের কারাদণ্ড এবং ২০০ টাকা জরিমানা করা হয়। তিনি শহরের কৃষ্ণকাঠি এলাকার সৈয়দ আলী সিকদারের ছেলে। এছাড়া, আরও দুজন দালালকে আটক করা হয়, কিন্তু পরবর্তীতে মুচলেকা দিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, অভিযানে আটক তিনজনের মধ্যে একজনকে সাজা দেওয়া হয়েছে, বাকি দু’জনকে মুচলেকা দিয়ে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বাবুগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স: সবই আছে, নেই শুধু চিকিৎসক

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকটে স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হচ্ছে। অপারেশন থিয়েটার চালু থাকলেও চিকিৎসক না থাকার কারণে এটি ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না। দীর্ঘদিন ধরে সার্জারি এবং এনেস্থেশিয়া চিকিৎসকের অভাবে এখানে কোনো বড় ধরনের চিকিৎসা দেওয়া যাচ্ছে না। সেজন্য সাধারণ রোগীদের ছোটো একটি সার্জারির জন্যও বরিশাল সদরে যেতে হচ্ছে।

জানা গেছে, প্রায় লাখো মানুষ এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওপর নির্ভরশীল। প্রতিদিন গড়ে ২৫০ জন রোগী এখানে চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন। তবে, বড় ধরনের দুর্ঘটনা হলে রোগীদের বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ২০১৫ সালে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়, কিন্তু বর্তমানে এখানে ৯ জন চিকিৎসকের মধ্যে মাত্র ২ জন চিকিৎসক রয়েছেন। অন্যান্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, যেমন সার্জারি, এনেস্থেশিয়া, শিশু বিশেষজ্ঞ, চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ, অর্থোপেডিক্স, এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের চিকিৎসক নেই। এর ফলে স্থানীয়রা প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন না।

কমপ্লেক্সটির সিনিয়র স্টাফ নার্স তামিমা জানান, অপারেশন থিয়েটারে আধুনিক যন্ত্রপাতি থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসক না থাকায় এটি চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগ না হওয়ায় রোগীরা দীর্ঘ পথে গিয়ে বরিশালে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছেন।

স্থানীয়রা সরকারের কাছে দ্রুত চিকিৎসক নিয়োগ এবং অপারেশন থিয়েটার চালু করার দাবি জানিয়েছেন।

বাবুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুবাস সরকার জানান, চিকিৎসক সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জানানো হয়েছে এবং তাদের আশ্বাসে এটি সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বরিশাল




জলদস্যুদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা মৎস্য উপদেষ্টার

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, জলদস্যুদের অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধ করার জন্য কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে যাতে আর কোনো জেলে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। তিনি জানিয়েছেন, সাগরে জলদস্যুদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে সরকার পুরোপুরি সক্রিয় রয়েছে।

২৩ ফেব্রুয়ারি, রোববার ভোলা জেলার মনপুরা উপজেলার কলাতলিতে অনুষ্ঠিত জেলে নিবন্ধন হালনাগাত সংক্রান্ত মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি। সভায় উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মৎস্য উপদেষ্টা আরো বলেন, ‘‘প্রকৃত জেলেদের সঠিক তথ্য সংগ্রহ করে তাদের নিবন্ধন করা হবে এবং এতে কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব কাজ করবে না।’’

এছাড়া, জেলেদের জন্য সরকারি বরাদ্দের চালের পরিমাণ বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন ফরিদা আখতার। তিনি জানান, বর্তমানে ২৫ কেজি চাল বরাদ্দ থাকলেও সেটি বাড়িয়ে ৪০ কেজি করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আর ৪০ কেজির পরিবর্তে ৫০ কেজি চাল দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। জেলেরা চালের সঙ্গে ডাল ও তেল পাওয়ার দাবিও জানিয়েছেন, যা তিনি ন্যায়সঙ্গত দাবি বলে উল্লেখ করেন।

এদিকে, নৌ পরিবহন ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ালর জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, জলদস্যুদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানিয়েছেন, জলদস্যুদের গ্রেফতার করতে অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং অপরাধীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

এ সময় বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের অতিরিক্ত সচিব সুরাইয়ার আখতার জাহান, বরিশাল মৎস্য অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নৃপেন্দ্র নাথ বিশ্বাসসহ আরও অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরগুনায় জলদস্যু আতঙ্কে সাগরপাড়ের ১ লাখ ৪০ হাজার জেলে

বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ফিশিং ট্রলার শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক দুলাল হোসেন জানান, গত কয়েক বছরে বঙ্গোপসাগরে জলদস্যুদের উপদ্রব তুলনামূলক কম ছিল। কিন্তু গত এক সপ্তাহ ধরে সাগরে দস্যুতা বেড়ে গেছে। এর ফলে স্থানীয় মৎস্যজীবীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।

সাগরের মাছ ধরার কাজে কর্মরত ১ লাখ ৪০ হাজার জেলে, যাদের অধিকাংশই পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলের বঙ্গোপসাগর উপকূলীয় এলাকায় বসবাস করে, এখন জলদস্যুদের জন্য একেবারে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। মৎসখাত দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক খাত হওয়া সত্ত্বেও, জলদস্যুদের কারণে সাগরপাড়ের জেলেরা কার্যত সমুদ্রে মাছ ধরতে যেতে ভয় পাচ্ছেন।

জলদস্যুদের অত্যাচারের কারণে মাছ ধরার নৌকা মাঝিদের মাঝে এক ধরনের মুক্তিপণ আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। জেলেরা জানান, তারা প্রায় সময় জলদস্যুদের হাতে অপহৃত হয়ে মুক্তিপণ দিতে বাধ্য হচ্ছেন। গত ২০ ফেব্রুয়ারি পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলের কক্সবাজার, টেকনাফ, চকরিয়া এলাকার জেলেদের সাথে কথা বলে জানা গেছে যে, জলদস্যুদের দল ১ থেকে ২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। এবং টাকা না দিলে মাঝিদের হত্যা পর্যন্ত করা হচ্ছে। এমনকি গত ১৯-২০ ফেব্রুয়ারি জলদস্যুরা ১৫টি মাছ ধরার ট্রলারে ডাকাতি চালিয়ে নানা মালামাল লুটে নেয় এবং ৫ জনকে অপহরণ করে।

বরগুনা, পাথরঘাটা, ভোলা, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি, মহেশখালী সহ বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকায় জলদস্যুদের অপতৎপরতা বেড়ে গেছে। জলদস্যুদের এই হামলা এবং অপহরণের ঘটনা পুরো মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ এবং ভীতি সৃষ্টি করেছে। পাথরঘাটার জেলে বেলাল মিয়া জানিয়েছেন, ‘‘সম্প্রতি সমুদ্র গর্ভে নিম্নচাপ তৈরি হওয়ায় আমাদের মাছ ধরার পরিকল্পনা ব্যাহত হয়েছে। এখন আমরা পরিস্থিতির উন্নতির অপেক্ষায় রয়েছি।’’

বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ফিশিং ট্রলার শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক দুলাল হোসেন জানান, গত এক সপ্তাহে সাগরে বেড়ে গেছে জলদস্যুদের হামলা। আর এ কারণে জেলেরা এখন প্রায়ই আতঙ্কে থাকেন।

এদিকে, জলদস্যুদের হাত থেকে রেহাই পেতে র‌্যাব এবং কোস্টগার্ডের বিশেষ অভিযান চলমান রয়েছে। সম্প্রতি তারা ৬ জলদস্যুকে গ্রেপ্তার করেছে এবং তাদের কাছ থেকে মুক্তিপণের টাকাও উদ্ধার করেছে। তবে, জলদস্যুদের মাথাচাড়া দিয়ে উঠার কারণে পুরো এলাকার মানুষ এখনো নিরাপদ বোধ করছেন না।

জলদস্যুদের নির্মূল করতে প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এবং মৎস্যজীবীদের একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সাংবাদিকও আসামি

বরিশালের উজিরপুরে বোমাসদৃশ পাঁচটি বস্তু উদ্ধার করার ঘটনায় ৭৫ জনকে আসামি করে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি স্থানীয় এক সাংবাদিক, দিনমজুরসহ বেশ কয়েকজন বিএনপির নেতা-কর্মীকেও আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

১৮ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের পাশে পূর্ব ধামসর সোনার বাংলা মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন একটি বাগানে পরিত্যক্ত অবস্থায় পাঁচটি ‘বোমাসদৃশ’ বস্তু পাওয়া যায়। এর আগে স্থানীয়রা বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পান। পরে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় উজিরপুর মডেল থানার পুলিশ সেগুলো উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় বিএনপি আওয়ামী লীগকে অভিযুক্ত করে বিক্ষোভ মিছিলও করেছে। পরে বামরাইল ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সবুজ হাওলাদার বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। মামলায় তিনি অভিযোগ করেছেন যে, আসামিরা স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী এবং কুপ্রবৃত্তির লোক।

এজাহারে বাদী উল্লেখ করেছেন, ১৮ ফেব্রুয়ারি আসামিরা বোমা, ককটেল এবং অন্যান্য অস্ত্র নিয়ে স্থানীয় বাংলাবাজার–সংলগ্ন এলাকায় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে অবস্থান নেন এবং যানবাহনের পথ রোধ করে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটান। বাদী আরও দাবি করেছেন, তাঁরা গাছের আগুন ধরিয়ে দেন এবং একসময় মোটরসাইকেলে যাওয়ার পথে বাদীকে গালাগাল করা হয়, পরে মোটরসাইকেলটি পেট্রলবোমা দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন।

মামলায় উজিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মজিদ সিকদার, সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দীনসহ ৭৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এজাহারের পরিপ্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি বিএনপির নেতাকর্মী এবং এক সাংবাদিকের নামও উঠে এসেছে।

এ ঘটনায় বিএনপি নেতা সবুজ হাওলাদার দাবি করেন, “বিএনপির কেউ কি এটা করেছেন?” এবং তিনি মামলার এজাহার অনুযায়ী কিছু নাম উল্লেখ করেন।

মামলার অপর আসামি, ছাত্রদলের সাবেক নেতা জাফরুল নাদিম, অভিযোগ করেন, “আমার বাবা বিএনপির রাজনীতি করেছেন, কিন্তু এখন আমাকে বিএনপির নেতার মামলায় আসামি করা হয়েছে।” তিনি বলেন, এ মামলার পেছনে তাঁর পরিবারের জমিজমা বিরোধ রয়েছে।

অন্য আসামি, সাংবাদিক শাকিল মাহমুদ, জানান, “আমি কখনো কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত ছিলাম না। সাংবাদিকতার পাশাপাশি ব্যবসা করি, তবে আমাকে ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে মামলা করা হয়েছে।”

উজিরপুর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) তৌহিদ করিম বলেন, “১৮ ফেব্রুয়ারি বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধারের ঘটনায় মামলা তদন্তাধীন। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




পিরোজপুরে গাছ কেটে ভুক্তভোগী উদ্যোক্তার লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি

পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে শত্রুতার কারণে এক উদ্যোক্তার ৫৪ শতাংশ জমির গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কৃষক আব্দুর রব হাওলাদারের বিরুদ্ধে। এতে প্রায় তিন লাখ টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছেন তরুণ উদ্যোক্তা সাইফুল ইসলাম।

ঘটনাটি ঘটেছে ১৬ ফেব্রুয়ারি রাতে উপজেলার বালিপাড়া ইউনিয়নের মধ্য বালিপাড়া এলাকায়। সাইফুল ইসলাম মৃধা, যিনি ওই এলাকার বাসিন্দা, কিছু মাস আগে ৫৪ শতাংশ জমিতে কুমরা, লাউ, শসা ও বেগুনের চারা রোপণ করেছিলেন। প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা খরচ করে গাছগুলোকে যথাযথভাবে গড়ে তুলেছিলেন তিনি।

রোববার সকালে, প্রতিদিনের মতো পানি দেওয়ার জন্য তিনি ক্ষেতে যান এবং দেখেন, ১ হাজার ২৫০টি গাছের গোড়া থেকে কাটা রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সাইফুল ইসলাম জানান, তিনি যুব উন্নয়ন ট্রেনিং নিয়ে উদ্যোক্তা হিসেবে সফলতা অর্জনের জন্য এই জমি নিয়েছিলেন। গত বছর জমিটি আব্দুর রব হাওলাদার নিয়েছিলেন, কিন্তু এ বছর জমি না পেয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। তিনি আরও জানান, এসব গাছের প্রায় সবগুলোতে ফল ধরেছিল, যার মধ্যে কুমরা গাছ ছিল ৫০০টি, শসা গাছ ৩৫০টি এবং বেগুন গাছ ৪০০টি। গাছগুলো কেটে ফেলা হয়েছে, যার ফলে প্রায় ৩ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

অভিযুক্ত কৃষক আব্দুর রব হাওলাদার এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং দাবি করেছেন, সাইফুলের পরিবারের সঙ্গে জমি নিয়ে তাদের বিরোধ রয়েছে এবং তাকে ফাঁসাতে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম বাবুল জানান, সাইফুল ইসলাম এ বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদে অভিযোগ দিয়েছেন এবং অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ইন্দুরকানী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কামরুন নেছা সুমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

এদিকে, ইন্দুরকানী থানার ওসি মারুফ হোসেন জানান, এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালের সাবেক এমপি শাহে আলমের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

বরিশাল-২ আসনের (উজিরপুর-বানারীপাড়া) সাবেক সংসদ সদস্য মো. শাহে আলম তালুকদারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মামলা দায়ের করেছে। এছাড়া, তার স্ত্রী আতিয়া আলম লিলির সম্পদ বিবরণী দাখিলের নির্দেশও দিয়েছে দুদক। রবিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুদকের উপ-পরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম এই তথ্য জানিয়েছেন।

দুদক সূত্রে জানা যায়, সাবেক সংসদ সদস্য মো. শাহে আলম তালুকদার ক্ষমতার অপব্যবহার করে ১ কোটি ৭৮ লাখ ৫৮ হাজার ৪৭০ টাকা মূল্যের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন। এছাড়া, তিনি নিজ নামের ১২টি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ২৫ কোটি ৬৪ লাখ ৩৩ হাজার ৭৭২ টাকার অবৈধ অর্থ স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তরের জন্য সন্দেহজনক লেনদেন করেছেন। এ কারণে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনসহ সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী মামলা দায়ের করা হয়েছে।

অন্যদিকে, দুদকের অনুসন্ধানে জানা গেছে, আতিয়া আলম লিলি তার স্বামী শাহে আলম তালুকদারের ক্ষমতার অপব্যবহার করে ৫৫ লাখ ৭৫ হাজার ৯৯৩ টাকা মূল্যের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন। দুদক তার নামে আরও সম্পদ রয়েছে কি না এবং তার সম্পদের উৎসগুলো সঠিক কিনা তা যাচাই করার জন্য সম্পদ বিবরণী দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম 




বরিশালে বাসের ধাক্কায় গৃহবধূ নিহত

ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের নগরীর কাশীপুর বাজার সংলগ্ন এলাকায় একটি অজ্ঞাতনামা বাসের ধাক্কায় ইজিবাইকের যাত্রী গৃহবধূ তানিয়া আক্তার (২৮) নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় তানিয়ার শাশুড়ি রাহিমা বেগম এবং ইজিবাইকের চালক সবুর আলী গুরুতর আহত হয়েছেন। নিহত তানিয়া আক্তার বাবুগঞ্জ উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের ডিক্রিরচর গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী কবির হোসেন মৃধার স্ত্রী এবং দুই সন্তানের জননী ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার দুপুরে তানিয়া আক্তার তার অসুস্থ শাশুড়ি রহিমা বেগমকে চিকিৎসার জন্য ইজিবাইকযোগে বরিশাল শহরে যাচ্ছিলেন। পথে কাশীপুর বাজার এলাকায় তাদের ইজিবাইককে একটি অজ্ঞাতনামা বাস ধাক্কা দেয় এবং দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা তানিয়া, তার শাশুড়ি এবং ইজিবাইক চালককে আহত অবস্থায় শেবাচিম হাসপাতালে নিয়ে আসে। সেখানে চিকিৎসকরা তানিয়া আক্তারকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে, দুর্ঘটনার পরপরই ঘাতক বাসটি শনাক্তের জন্য পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম