“গণমাধ্যমকর্মীদের খোঁজ-খবর নেয় না কেউ: বিএনপি নেতা”

গণমাধ্যমকর্মীরা দেশের উন্নয়ন, সমাজের অন্ধকার দিক উন্মোচন ও মানুষের পাশে থেকে কাজ করেন, কিন্তু তাদের খোঁজ নেয় না কেউ। রাজনৈতিক নেতাদের উচিত গণমাধ্যমকর্মীদের খোঁজ নেওয়া এবং তাদের মূল্যায়ন করা। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা না থাকলে দেশে গণতন্ত্র স্থায়ী হতে পারে না। একটি গণতান্ত্রিক দেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

এই বক্তব্যগুলো বলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মো. রহমতুল্লাহ। তিনি ‘মিট দ্য রিপোর্টার্স’ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করতে গিয়ে এই মন্তব্য করেন। বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটির (বিআরইউ) কার্যালয়ে সোমবার এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে আবু নাসের বলেন, “বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্য সম্পর্কে সকলেই অবগত আছেন। দলের নাম ভাঙিয়ে কোনো অপরাধমূলক কাজ হলে ছাড় দেয়া হবে না। দেশের সব বিএনপি নেতার কার্যক্রমের দিকে নজর রাখা হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান উন্নত দেশে বসবাস করে বিভিন্ন দেশের নিয়ম-কানুন নিয়ে দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে আসছেন। যদি দল মনে করে, আমাকে নির্বাচনে মনোনীত করবে, তবে আমি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো।”

এছাড়া, বিআরইউ সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক খালিদ সাইফুল্লাহ তার স্বাগত বক্তব্যে বলেন, “আওয়ামী ফ্যাসিবাদী শাসনামলে বাংলাদেশ ছিল ‘পুলিশ রাষ্ট্র’। দলীয় ক্যাডার স্টাইলে পুলিশ মাঠে সক্রিয় ছিল। বিএনপি নেতাকর্মীদেরসহ নিরীহ মুসল্লিরা জামায়েত-শিবির তকমা দিয়ে গ্রেফতার হয়েছিল। আমি ও আমার পরিবার এই সময়ে মানসিক ও অর্থনৈতিকভাবে নির্যাতিত হয়েছিলাম।”

অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন বিআরইউ সভাপতি আনিসুর রহমান খান স্বপন। উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকরা, যেমন: রাসেল হোসেন (দখিনের সময়), মো. নূরুজ্জামান (কাগজ), শাহিন হাফিজ (ইত্তেফাক), মাসুদ রানা (নিউ নেশন), সৈয়দ মেহেদী হাসান (ঢাকা পোস্ট), শাওন খান (জাগো নিউজ), রবিউল ইসলাম রবি (বাংলা কাগজ), নাজমুল ফকির (বাংলা টিভি), সিএইচ মাহাবুব রহমান (আমাদের বরিশাল) এবং অনেক স্থানীয় ও জাতীয় সংবাদকর্মী।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিআরইউ সাবেক সভাপতি ও ডেইলি স্টারের সাংবাদিক সুশান্ত ঘোষ।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরগুনায় ত্রিমুখী সংকটে ধুঁকছে কমিউনিটি ক্লিনিক

নাপা ছাড়া ক্লিনিকে কিছুই পাওয়া যায় না

প্রান্তিক জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো বর্তমানে এক গুরুতর সংকটে পড়েছে। এ সংকটের মূল কারণ তিনটি—জরাজীর্ণ এবং বেহাল অবস্থায় থাকা ভবন, ওষুধের অভাব এবং কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডারদের অনিয়মিত যাতায়াত।

বরগুনা জেলায় ১২৪টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে, যার মধ্যে অধিকাংশের ভবন জরাজীর্ণ এবং সেবা কার্যক্রম একেবারেই ব্যাহত। এসব ক্লিনিকের মাধ্যমে মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা, প্রজনন স্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা, টিকাদান ইত্যাদি সেবা প্রদান করার কথা থাকলেও, নিয়মিত সেবা না পাওয়া এবং ওষুধের সংকটের কারণে এসব ক্লিনিকের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

সরকারি তথ্যমতে, এসব ক্লিনিকগুলোতে একজন করে কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) থাকলেও, সিএইচসিপির উপস্থিতি নিয়মিত না থাকায় সেবা প্রদান অসম্ভব হয়ে পড়ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ক্লিনিকগুলো সপ্তাহে ২/৩ দিন খোলা থাকে এবং বেশিরভাগ সময় সকালে নির্ধারিত সময়ের আগেই বন্ধ হয়ে যায়। ফলে, সেবা নিতে আসা মানুষের একাধিক অভিযোগ রয়েছে।

মা ও শিশুদের জন্য সেবা প্রদানকারী এই ক্লিনিকগুলোতে অতি প্রয়োজনীয় ওষুধ যেমন নাপা, এন্টাসিড, কৃমিনাশক, সালবুটামল, ভিটামিন ও স্যালাইন সীমিত পরিমাণে সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে অনেক সময় মাসের শেষের দিকে এই ওষুধগুলোও শেষ হয়ে যায়। বিশেষ করে বাচ্চাদের সর্দি-জ্বর ও পাতলা পায়খানার সিরাপের চাহিদা থাকে, কিন্তু বরাদ্দের পরিমাণ কম হওয়ায় তা দেওয়া সম্ভব হয় না।

এদিকে, কমিউনিটি ক্লিনিকের ভবনগুলোও অনেক জায়গায় জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। আমতলী উপজেলার গেরাধুনিয়া ক্লিনিকের স্বাস্থ্যকর্মী মিজানুর রহমান জানান, এই ক্লিনিকে প্রতিদিন প্রায় ৪০ জন মা ও শিশুকে সেবা দেওয়া হয়, কিন্তু ক্লিনিকটি জরাজীর্ণ থাকায় সেবা প্রদান করতে নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।

বরগুনা জেলার সিভিল সার্জন ডা. প্রদীপ চন্দ্র মন্ডল জানান, কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোকে আরও কার্যকর এবং সেবামুখী করতে নিয়মিত মনিটরিং জোরদার করা হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবন মেরামত ও ওষুধের বরাদ্দ বাড়ানো হলে সেবার মান আরও ভালো হবে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




মাছ রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারি: ফরিদা আখতার

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, মাছ রক্ষা এবং রপ্তানি বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, প্রবাসীরা যেভাবে কষ্ট করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করছেন, ঠিক একইভাবে মনপুরাবাসী মাছ রপ্তানিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।

২৪ ফেব্রুয়ারি সোমবার, মনপুরা উপজেলার দক্ষিণ চর গোয়ালিয়া আদর্শ মৎস্যজীবী গ্রাম পরিদর্শন এবং মৎস্যজীবীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ফরিদা আখতার বলেন, “বাংলাদেশ পৃথিবীতে বিশেষভাবে পরিচিত তার মাছের জন্য, বিশেষত ইলিশের জন্য। অন্য কোথাও ইলিশ পাওয়া গেলেও তার স্বাদ বাংলাদেশের ইলিশের মতো হয় না।” তিনি আরও বলেন, মাছের প্রাকৃতিক বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়, যাতে তারা ডিম পাড়তে পারে।

এ সময় তিনি বলেন, “মৎস্য কর্মকর্তারা জেলেদের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলছেন, কিন্তু সরাসরি তাদের সঙ্গে বসে আলোচনা করা গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি আরো বলেন, “এখন শুধু মাছ ধরা নয়, কৃষি কাজ, হাঁস-মুরগি এবং গরু-ছাগল পালনেও জেলেদের মনোযোগী হতে হবে, যার মাধ্যমে তারা অর্থনৈতিকভাবে আরও স্বাবলম্বী হতে পারবেন।”

মনপুরার জেলেদের জন্য তিনি জানান, ঘূর্ণিঝড় সতর্কবার্তা ছাড়াও তাদের রক্ষা করার জন্য মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে লাইফ জ্যাকেট, লাইফ বয়া, টর্চ লাইট সরবরাহ করা হবে।

তিনি মানবসৃষ্ট এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে জেলেদের যে বড় সমস্যা তা উল্লেখ করে বলেন, খাল খনন এবং নদী ও সাগরে ডাকাতদের দৌরাত্ম্য কমাতে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

পরে, ফরিদা আখতার ৮০ জন জেলেকে লাইফ জ্যাকেট, লাইফ বয়া ও টর্চ লাইট বিতরণ করেন।

মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) সুরাইয়া আখতার জাহান, মৎস্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক জিয়া হায়দার চৌধুরী, বরিশাল বিভাগীয় উপপরিচালক নৃপেন্দ্র নাথ বিশ্বাস, মৎস্য অধিদপ্তরের অন্যান্য কর্মকর্তারা, মনপুরা উপজেলার মৎস্যজীবীরা।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




“সংস্কার নিয়ে কালবিলম্ব করা যাবে না”: আন্দালিব রহমান পার্থ

ভোলায় বিজেপি চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ বলেছেন, নির্বাচন সামনে রেখে সংস্কারের কাজ দ্রুত শেষ করতে হবে, কারণ জনগণের আস্থার প্রতি সরকারের অবহেলা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, এ বিষয়ে কোনও ধীরগতি চলতে পারে না।

২৪ ফেব্রুয়ারি রোববার, ভোলায় তিনদিনের সফরে এসে শহরের উকিল পাড়ার শান্ত নীড়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন পার্থ। এ সময় তিনি বলেন, “গত ছয় মাস ধরে সরকার যেভাবে পরিচালিত হচ্ছে, তাতে জনগণের আস্থা কমে গেছে। জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী সংস্কার করা খুবই জরুরি। যত দ্রুত সম্ভব এই কাজটি শেষ করতে হবে।”

এছাড়া, তিনি আরও বলেন, “আগামী নির্বাচনের দিকে লক্ষ্য রেখে বিজেপি দল নিজেদের সংগঠিত করতে শুরু করেছে এবং রমজানের পর সারাদেশে ব্যাপকভাবে দলের কর্মকাণ্ড চালানো হবে।”

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে পার্থ বলেন, “বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খুবই খারাপ। সরকারের সঙ্গে জনগণের সংযোগ কমে যাওয়ার কারণে এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধির জন্য উপযুক্ত ব্যক্তিদের দায়িত্বে আনা উচিত ছিল।”

এ সময় তিনি প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যকে সমর্থন করে বলেন, দেশের চলমান পরিস্থিতি শীঘ্রই স্বাভাবিক হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ঢাকা থেকে রওনা দেওয়ার পর, বিজেপি চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থকে দলের হাজার হাজার নেতাকর্মী ভোলায় বরণ করে নেন। আগামী তিনদিন তিনি দলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করবেন বলে জানান।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে ৭ বছর পরও চালু হয়নি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের দুই হোস্টেল, কোটি টাকা গচ্চা

বরিশালে ৭ বছর পরও চালু হয়নি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের দুই কোটি টাকার হোস্টেল, অবস্থা নাজুক

বরিশালের বাবুগঞ্জে ২০১৮ সালে নির্মিত দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিশুদের দুটি হোস্টেল আজও চালু হয়নি। প্রায় সাত বছর ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা এই হোস্টেলগুলোর ভবন এখন নষ্ট হতে চলেছে। তবে, এক অদ্ভুত কারণে একটি হোস্টেলে বসবাস করছেন সমাজসেবা অধিদফতরের একজন স্টাফ এবং পার্শ্ববর্তী একটি ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটের কর্মচারী।

দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তাদের এই দুই হোস্টেলে বসবাসের বিষয়টি সামনে আসার পর সমালোচনা শুরু হয়েছে। তারা জানান, কিছুদিন আগে হোস্টেলটিতে চুরি হয়েছিল এবং রাত হলে মাদকসেবীরা সেখানে আড্ডা জমায়। ফলে, তারা পাহারাদার হিসেবে বসবাস করছেন, এমনকি উপজেলা সমাজসেবা অফিসারের অনুমতি নিয়ে তারা এখানে থাকছেন।

এদিকে, ২০১৮ সালে বাবুগঞ্জের কলেজ গেট সংলগ্ন দুটি হোস্টেল নির্মাণে ব্যয় করা হয়েছিল দুই কোটি টাকারও বেশি। একটি হোস্টেল ছিল বালকদের জন্য এবং অন্যটি বালিকাদের জন্য। তবে, নির্মাণ শেষ হওয়ার সাত বছর পরও কোনও জনবল নিয়োগ হয়নি এবং হোস্টেল দুটি চালু করা সম্ভব হয়নি।

বাবুগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মো. মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, এই দুটি হোস্টেলে মোট ৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকার কথা। কিন্তু এখন পর্যন্ত শুধুমাত্র অফিসারের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, আর কোনও কর্মী নিয়োগ করা হয়নি। হোস্টেল দুটি চালু করার জন্য বরাদ্দ ও জনবল প্রয়োজন বলে তিনি জানান।

বরিশাল জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক এ কে এম আখতারুজ্জামান মামুন বলেন, “এই হোস্টেলগুলোর বিষয়ে যদি কেউ বসবাস করে থাকে, তাহলে খোঁজ নিয়ে দ্রুত তাদের নামিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।”

এই হোস্টেলগুলির চালু না হওয়া নিয়ে প্রতিবন্ধী শিশুদের পরিবার ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা দাবি করেছেন, দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে হোস্টেল দুটি চালু করা হোক যাতে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয় তৈরি হয়।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি স্বপ্ন গড়ার প্রতিষ্ঠান : উপাচার্য

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পবিপ্রবি) বরিশাল ক্যাম্পাসে বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর হল ও জুলাই ৩৬ হলের যৌথ উদ্যোগে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও প্রীতিভোজ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বরিশাল ক্যাম্পাসের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে এই আয়োজন সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. কাজী রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, “এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একাডেমিক শিক্ষার কেন্দ্র নয়, এটি স্বপ্ন গড়ার প্রতিষ্ঠান। শিক্ষার্থীরা শুধু পাঠ্যপুস্তকের জ্ঞান অর্জন করে না, বরং নৈতিক, মানবিক ও সমাজ পরিবর্তনের মানসিকতা নিয়েও গড়ে ওঠে।”

উপস্থিত অতিথিরা

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন:

  • উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান
  • ছাত্র উপদেষ্টা প্রফেসর ড. জিল্লুর রহমান
  • প্রক্টর প্রফেসর ড. আবুল বাশার
  • রিজেন্ট বোর্ড সদস্য প্রফেসর ড. মো. হাবিবুর রহমান
  • রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. মো. ইকতিয়ার উদ্দীন
  • এএনএসভিএম অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. ফয়সাল কবির
  • পোস্ট গ্রাজুয়েট স্টাডিজ অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. মো. আতিকুর রহমান

অনুষ্ঠানের অন্যান্য অংশ

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জুলাই ৩৬ হলের হল প্রভোস্ট প্রফেসর মোসাম্মৎ কুলসুম বেগম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর হলের হল প্রভোস্ট প্রফেসর ড. মো. সাইদুর রহমান।

বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে অতিথিরা পুরস্কার তুলে দেন। পরবর্তী পর্বে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে শিক্ষার্থীরা নাচ, গান ও আবৃত্তি পরিবেশন করেন।

রাত ১০টায় জমকালো প্রীতিভোজের মাধ্যমে এই আয়োজন শেষ হয়।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




“আমরা সরকার গঠন করলে দেশে আর ফ্যাসিস্টের জন্ম হবে না”

বিএনপি চেয়াপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদীন ফারুক বলেছেন, “যদি আমাদের সরকার গঠন করা হয়, তবে বাংলাদেশে আর কখনও ফ্যাসিস্টের জন্ম হবে না।” তিনি সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে প্রগতিশীল জাতীয়তাবাদী দলের আয়োজিত একটি সমাবেশে এ মন্তব্য করেন।

ফারুক তার বক্তব্যে সব রাজনৈতিক শক্তিকে গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমরা একটি ঐক্য গড়ে তুলি, যাতে দেশে কোনোভাবেই ফ্যাসিজম ফিরে না আসে। যদি আমরা সরকার গঠন করতে পারি, তবে দেশের সংবাদপত্রের স্বাধীনতা কখনও বন্ধ হবে না এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে।”

এছাড়া, নতুন দল গঠনের বিষয়েও তিনি মন্তব্য করেন, “আমরা নতুন দলকে স্বাগতম জানাই, তবে নতুন দল করে নির্বাচন বিলম্বিত করার চেষ্টা জনগণ মেনে নেবে না। জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রথমে দিতে হবে, তারপর নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই ঠিক করবে কখন স্থানীয় নির্বাচন হবে এবং কী কী সংস্কার করা দরকার।”

ড. ইউনূসকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “আপনি নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করুন। যদি না করেন, শেখ হাসিনা আবার দিল্লি থেকে বসে আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করবে, আর এটি একমাত্র নির্বাচিত জনগণের সরকারই রুখে দিতে পারবে।”

ফারুক বলেন, “রোজার আগে দ্রব্যের উপর সিন্ডিকেট যেন না হয়, সেদিকে সরকারকে নজর দিতে হবে।”

প্রগতিশীল জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারম্যান ফিরোজ মো. লিটনের সভাপতিত্বে, সমাবেশে সংগঠনের মহাসচিব আহমেদুর রহমানসহ অনেক নেতা উপস্থিত ছিলেন।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বাংলাদেশের সামনে চ্যালেঞ্জ: নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জয় নিশ্চিত করতে হবে

আজ, রাওয়ালপিন্ডিতে অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ‘ডু অর ডাই’ ম্যাচ, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড। বাংলাদেশ সময় বিকাল ৩টায় শুরু হতে চলা এই ম্যাচে বাংলাদেশের জন্য সেমি-ফাইনালের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে হলে জয়ের বিকল্প নেই। ভারতের কাছে ৬ উইকেটের হারের পর, পাকিস্তানকে হারিয়ে দুর্দান্ত শুরু করা নিউজিল্যান্ডও চায় এই ম্যাচটি জিতে শেষ চারের পথ সুগম করতে।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের তৃতীয় সাক্ষাৎ হচ্ছে আজ। পূর্বের দুইটি সাক্ষাতে দুটি দলই একটি করে ম্যাচ জিতেছে। ২০০২ সালে নিউজিল্যান্ড ১৬৭ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় পায়, তবে ২০১৭ সালে বাংলাদেশের মাহমুদউল্লাহ ও সাকিব আল হাসানের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ৫ উইকেটের জয় পায় টাইগাররা। এই জয়টি বাংলাদেশকে প্রথমবারের মতো আইসিসি ইভেন্টের সেমিফাইনালে পৌঁছাতে সাহায্য করেছিল।

এখন পর্যন্ত, দুই দল ওয়ানডে ক্রিকেটে ৪৫ বার মুখোমুখি হয়েছে। বাংলাদেশ ১১ ম্যাচে জয়লাভ করেছে, নিউজিল্যান্ডের জয় ৩৩ ম্যাচে, এবং একটি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শেষ পাঁচ দেখায় বাংলাদেশের একমাত্র জয়টি এসেছে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে নেপিয়ারে।

বাংলাদেশ দলের জন্য এই ম্যাচটি একেবারে নিছক একটি ম্যাচ নয়; এটি সেমিফাইনালে ওঠার শেষ সুযোগ। তবে দলটির কোচ সিমন্স জানিয়েছেন, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ফিটনেস নিয়ে এখনও কিছু অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। তার খেলা নির্ভর করবে শেষ মুহূর্তের ফিটনেস টেস্টের ওপর। দলের ভারসাম্য রক্ষায় বাংলাদেশ নতুন কিছু কৌশল নিয়ে ভাবছে, এবং উইকেটের আচরণও দলের একাদশ নির্বাচনকে প্রভাবিত করবে।

এই ম্যাচে বাংলাদেশের জন্য রয়েছে সেমিফাইনালে ওঠার সুযোগ, তবে তাদের জন্য এটি হবে এক কঠিন চ্যালেঞ্জ।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




‘জামায়াতের ছুরিকাঘাত: বিএনপির পেছনে ষড়যন্ত্রের চেষ্টা’ : রুহুল কবির রিজভী

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী মন্তব্য করেছেন যে, জামায়াত প্রতি সুযোগ পেলেই বিএনপিকে পিছন থেকে ছুরিকাঘাত করার চেষ্টা করেছে।

সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পল্টনস্থ বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রিজভী বলেন, “যতবারই জামায়াতকে সুযোগ দেওয়া হয়েছে, ততবারই তারা বিএনপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “জিয়াউর রহমান একাদশ জাতীয় নির্বাচন করানোর সুযোগ দিয়েছেন, তবে যাদের বিরুদ্ধে একাত্তর সাল পরবর্তী সময়ে নিষেধাজ্ঞা ছিল, তাদের উদারতার মাধ্যমে রাজনীতি করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এই রাজনৈতিক দলটি বারবার বিএনপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।”

রিজভী আরও বলেন, “যারা জুলাই আন্দোলনে রিকশা চালাতে না পারলে পরিবারের ভাত জোগাতে পারতেন না, তারা আত্মদান করেছেন। তাদের আত্মত্যাগকে ছোট করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। অথচ আজকের সরকার তাদের জন্য কোনো পরিকল্পনা নেয়নি।”

এছাড়া ছাত্রশিবিরের গতকালকের সংবাদ সম্মেলন নিয়ে রিজভী মন্তব্য করেন, “ছাত্রশিবির, জামায়াতের ছাত্র সংগঠন, বিএনপির বিরুদ্ধে আরও ক্ষতিকর বক্তব্য দিয়ে আসছে। এই সংগঠনের অনেক নেতার অবস্থান ছাত্রলীগে রয়েছে, এবং তারা বর্তমানে বিভিন্ন পদ-পদবীও পেয়েছেন।”

বিএনপির এই নেতা আরো বলেন, “দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে মুছে ফেলা যাবে না। বসন্তবরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলো নিষিদ্ধ করার কোনো সুযোগ নেই, এসব চলতে থাকবে।”

এসময় বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আব্দুস সালামসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম 




গভীর সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান: অনিশ্চয়তার মুখে বাংলাদেশের স্বপ্ন

বাংলাদেশের গভীর সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে গত কিছুদিন ধরে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। ৭টি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান দরপত্র কিনলেও জমা না দেওয়ায় বিষয়টি বর্তমানে ঝুলে রয়েছে। এর পেছনে অর্থনৈতিক কারণের পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রভাবও মনে করা হচ্ছে।

দেশের গ্যাস ফিল্ডগুলোর উৎপাদন কমে আসার পর গভীর সমুদ্রের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। বেশ কিছুদিন আগে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হলেও বিদেশি কোম্পানিগুলোর উদ্যোগ সীমিত থাকে। মার্কিন কোম্পানি এক্সোন মবিল, চায়না ন্যাশনাল অফশোর অয়েল কর্পোরেশন (সিএনওওসি), শেভরন বাংলাদেশসহ আরও ৬টি কোম্পানি দরপত্র কিনে নিয়েছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত কেউই তা জমা দেয়নি।

এক্সোন মবিল কোম্পানি তাদের প্রস্তাবে প্রধান তিনটি বিষয় তুলে ধরেছে। প্রথমত, গ্যাসের দাম তাদের কাছে অযৌক্তিক মনে হয়েছে। দ্বিতীয়ত, গভীর সমুদ্র থেকে পাইপলাইনের খরচে সঞ্চালন চার্জ অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তৃতীয়ত, ডব্লিউপিপিএফ (ওয়ার্কার্স প্রফিট পার্টিসিপেশন ফান্ড) নিয়ে আপত্তি রয়েছে।

এছাড়া, পেট্রোবাংলা সূত্র জানিয়েছে যে, দরপত্র না জমা দেওয়ার কারণে পেট্রোবাংলা আরও আকর্ষণীয় ডাটা প্যাকেজ তৈরির দিকে মনোযোগী হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গভীর সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে শর্ত ও দামের সমস্যা কাটাতে হবে, অন্যথায় বাংলাদেশ তার সমুদ্র অঞ্চল থেকে তেল-গ্যাস উত্তোলনের সুবিধা হারাতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে গ্যাসের উৎপাদন কমতে থাকা এবং আন্তর্জাতিক বাজারের তেল-গ্যাস দামের ওঠানামা, দুই-ই পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে। দেশের জাতীয় চাহিদা ও উৎপাদন ঘাটতির মধ্যে সমন্বয় আনতে নতুন উদ্যোগের প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেওয়া হলে, ভবিষ্যতে আরও বড় সমস্যা তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম