ভোট যুদ্ধের আগেই মনোনয়ন যুদ্ধে বরিশালের বিএনপি নেতারা!

এস এল টি তুহিন, বরিশাল :: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে বরিশাল বিভাগের বিএনপির রাজনীতিতে বিরাজ করছে টানটান উত্তেজনা। দলের মনোনয়ন পাওয়ার আশায় স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতারা মাঠ দখলে রাখতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। একদিকে প্রার্থী বাছাইয়ের লবিং-তদবির, অন্যদিকে শো-ডাউন ও সভা-সমাবেশের মাধ্যমে নিজেদের শক্তি প্রদর্শন চলছে পুরো বিভাগজুড়ে। বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে চলছে দ্বন্দ্ব, সংঘর্ষ ও ক্ষমতার লড়াই।

বরিশাল বিভাগের ঝালকাঠির রাজাপুর-কাঠালিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত ঝালকাঠী-১ আসন। ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মামলা জটিলতার কারণে ব্যারিষ্টার শাহজাহান ওমর বাদ পড়ায় এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছিলেন রফিকুল ইসলাম জামাল। প্রথমবারের মত মনোনয়ন পাওয়া জামাল আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিএইচ হারুনের কাছে পরাজিত হলেও উল্লেখযোগ্য ভোট পেয়ে আলোচনায় ছিলেন।

এ বিষয়ে রফিকুল ইসলাম জামাল বলেন, আমরা সবাই জানি, দলের প্রধান লক্ষ্য হলো জনগণের কল্যাণ। আমি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন উন্নয়নের জন্য কাজ করে আসছি এবং আমি নিশ্চিত যে দলীয় মনোনয়ন পাব।

সবশেষ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যারিষ্টার ওমর ধানের শীষ ছেড়ে নৌকায় ওঠার পর কপাল খুলে যায় জামালের। ৫ই আগস্ট হাসিনা সরকার পতনের পর এলাকায় ফিরে রাজনীতির মাঠ নিয়ন্ত্রনে নেন বিএনপির কেন্দ্রীয় এ নেতা। তবে সম্প্রতি ৩১ দফার লিফলেট বিতরণের নামে শো-ডাউন করে আলোচনায় এসেছেন আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী যুক্তরাষ্ট্রের নিউইর্য়ক মহানগর বিএনপির সভাপতি (দক্ষিণ) হাবিবুর রহমান সেলিম রেজা। দীর্ঘ ১৫ বছর বিদেশে অবস্থান করা এ নেতা দেশে ফিরে নির্বাচনীয় এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন। যদিও খুব অল্প সময়েই সেলিম রেজা এলাকায় মজবুত অবস্থান করেছেন। গত ১২ই ফেব্রুয়ারী রাজাপুরে লিফলেট বিতরণকালে সেলিম ও তার লোকজনের উপর হামলা চালায় রফিকুল জামাল সমর্থকরা।

এমন অবস্থা শুধু ঝালকাঠীতে নয় বিভাগের ২১ আসনেই ভোট যুদ্ধের আগে মনোনয়ন যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছেন বিএনপি নেতারা। তারা বিভিন্ন সভা-সমাবেশে লোকসমাগম করে যার যার অবস্থান থেকে স্থানীয় পর্যায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন। পাশাপাশি নজরে আসতে চাইছেন হাইকমান্ডের। কখনো কখনো জড়াচ্ছেন বিবাদে। সদর ও নলছিটি নিয়ে গঠিত ঝালকাঠী-২ আসনে মনোনয়ন নিয়ে তিন ভাগে বিভক্ত স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা। এ আসনে ২০০১ সালে প্রথমবারের মত মনোনয়ন পেয়ে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন প্রয়াত জুলফিকার আলী ভুট্টোর স্ত্রী ইসরাত সুলতানা ইলেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনেও তাকে দলীয় টিকিট দেওয়া হয়। কিন্তু আওয়ামী লীগের প্রার্থী আমির হোসেন আমুর কাছে হেরে যান তিনি। ২০১৮ সালের নির্বাচনে ইলেনকে বাদ দিয়ে দলীয় টিকিট দেওয়া হয় জেবা আমীন কে। তিনিও আমুর কাছে পরাজিত হয়েছিলেন। সাবেক এ দুই প্রার্থী আগামী নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক পেতে জোর লবিং করছেন। তাদের বাইরে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুল হক নান্নু। বিএনপির ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জামাল, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম নুপুরসহ সাবেক ও বর্তমান নেতাদের একটি বড় অংশ নান্নুর পক্ষে কাজ করছেন।

বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুল হক নান্নু বলেন, বাংলাদেশের জনগণ ১৫ বছর পর এবার তাদের ভোটাধিকার ফিরে পাবে। আমি বিশ্বাস করি, এই নির্বাচনে জনগণ তাদের মতামত জানাবে, আর আমি সেই সমর্থনে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে প্রস্তুত।

ঝালকাঠি জেলার এক সাধারণ ভোটার, মালা বেগম বলেন, যে প্রার্থী আমাদের এলাকার উন্নয়ন নিয়ে কাজ করবে এবং যিনি জনগণের পাশে থাকবেন, তাকে আমরা ভোট দেব। শুধু বড় বড় নেতাদের কথা নয়, আমাদের এলাকার সাধারণ মানুষদের জন্য কাজ করা প্রার্থীই আমাদের প্রয়োজন।

চরফ্যাশন ও মনপুরা গিয়ে গঠিত ভোলা-৪ আসন। এ আসনে তিনবারের এমপি ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য নাজিম উদ্দীন আলম। আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনেও তিনি দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী। তাইতো শক্তির জানান দিতে গত ২২শে জানুয়ারী চরফ্যাশনে বিশাল সমাবেশ করেছেন সাবেক এ ছাত্রনেতা। এর ঠিক ৫দিন পর ২৭শে জানুয়ারী সমাবেশের নামে শো-ডাউন করেছেন যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন। তিনিও এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন চাইবেন।

গত ১৯ জানুয়ারী বরিশালের হিজলায় বিশাল সমাবেশের আয়োজন করে উপজেলা বিএনপি। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ নিয়ে গঠিত বরিশাল-৪ আসনের সাবেক এমপি মেজবাহ উদ্দীন ফরহাদ, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবায়েদুল হক চাঁন। ওই সমাবেশে এবায়েদুল হক চাঁন এ আসনে আবারও মেজবাহ উদ্দীন ফরহাদকে মনোনয়ন দেওয়ার আহবান জানিয়ে বক্তব্য রাখেন। কারণ ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবার মনোনয়ন পেয়েই এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন ফরহাদ। ওই নির্বাচনে সরাদেশে মাত্র ২৮টি আসনে জয় পেয়েছিলো বিএনপি। এ আসনে মনোনয়ন পেতে লবিং করছেন স্বেচ্ছাসেবকদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান। সম্প্রতি তিনি মেহেন্দিগঞ্জে তার অনুসারীদের নিয়ে শো-ডাউন করেছেন।

বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসন বরিশাল-৫। সদর উপজেলা ও মহানগর নিয়ে গঠিত এ আসনে স্বাধীনতা পরবর্তী ১১টি সংসদ নির্বাচনে সাতবারই জয় পেয়েছিলো বিএনপি। এরমধ্যে চারবার জনগণের ভোটে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মজিবর রহমান সরোয়ার। সবশেষ ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ওই নির্বাচনে বিভাগের ২১ আসনের মধ্যে মাত্র দুটিতে জয় পেয়েছিলো বিএনপি। তবে ২০১৮ সালের নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী জাহিদ ফারুক শামীমের কাছে পরাজিত হন। যদিও ওই নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ ছিলো। দলের অপর উপদেষ্টা মোয়াজ্জেম হোসেন আলালও এ আসনে মনোনয়ন চাইতে পারেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। হাসিনা সরকার পতনের পর তিনি এলাকায় সময় দেওয়া শুরু করেছেন। সম্প্রতি নগরীর শীতার্থদের মাঝে কম্বলও বিতরণ করে ব্যাপক আলোচনায় এসেছেন। আলাল ২০০১ সালে তৎকালীন উজিরপুর-বাবুগঞ্জ নিয়ে গঠিত বরিশাল-২ আসন থেকে প্রথমবারের মত এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন।

বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মজিবর রহমান সরোয়ার বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে। দীর্ঘ ১৫ বছর পর জনগণ ভোটাধিকার ফিরে পেয়ে তাদের মতামত প্রকাশে প্রস্তুত। আমি বিশ্বাস করি, জনগণ প্রকৃত প্রতিনিধিকে বেছে নেবে।

বরিশাল সদর উপজেলার বাসিন্দা মো. সেলিম বলেন, আমরা আশা করি, আগামী নির্বাচনে একজন সৎ এবং জনগণের কল্যাণে কাজ করা প্রার্থী নির্বাচন করবেন। দীর্ঘদিন ধরে আমাদের এলাকার উন্নয়ন আটকে আছে, তাই এবার আমরা প্রকৃত উন্নয়ন চাই।

বরিশাল গৌরনদী ও আগৈলঝাড়া উপজেলা নিয়ে গঠিত বরিশাল-১ আসনে দলীয় মনোনয়ন কে কেন্দ্র করে ত্রি-ধারায় বিভক্ত বিএনপি। এখানকার সাবেক এমপি জহির উদ্দীন স্বপন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা। আগামীতেও দলীয় টিকিট নিশ্চিত করতে তিনি মাঠে কাজ করছেন। যোগ দিচ্ছেন বিভিন্ন সভা-সমাবেশ, সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে। এ আসনে স্বপনের বাইরে মনোনয়ন লাভের আশায় দীর্ঘদিন ধরে স্বপ্ন বুনছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবাহান এবং সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান। সোবাহান ২০০৮ সালের নির্বাচনে মনোনয়ন পেলেও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মো: ইউনুসের কাছে হেরে যান।

বরিশাল উজিরপুর-বানারীপাড়া নিয়ে গঠিত বরিশাল-২ আসনে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবার অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর কাছে হেরে যান বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সরফুদ্দীন আহমেদ সান্টু। এরপর ২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচনেও তিনি বিএনপির টিকিট পেয়েছিলেন। কিন্তু বিজয়ের মালা পরতে পারেননি। যদিও তৎকালীন নির্বাচন ছিলো পুরোটাই প্রশ্নবিদ্ধ। দিনের ভোট রাতে না হলে বিপুল ভোটে বিজয়ী হতেন বিএনপির এ কেন্দ্রীয় নেতা। ওই নির্বাচনের পর তিনি দেশ ছাড়েন। ফেরেন ২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের পর। তৃতীয়বারের মতো ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে ইতিমধ্যে মাঠ গুছিয়েছেন সরফুদ্দীন সান্টু। তবে তার গোছানো মাঠে ধানচাষের স্বপ্ন দেখছেন বিএনপির সহ বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক কাজী রওনকুল ইসলাম টিপু। তিনিও এ আসনে মনোনয়ন লাভের আশায় কাজ করছেন। এর বাইরে সম্প্রতি বিদেশে পালিয়ে থাকা সাবেক এমপি ও জাতীয় পার্টির নেতা গোলাম ফারুক অভি মডেলকণ্যা তিন্নি হত্যা মামলা থেকে খালাশ পাওয়ার পর নতুন গুঞ্জন শুরু হয়েছে।

অনেকে বলছেন অভি দেশে ফিরে বিএনপিতে যোগ দেবেন এবং বরিশাল-২ আসনে মনোনয়ন চাইবেন।

এদিকে, বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বাসিন্দা শরীফ উদ্দিন বলেন, আমাদের রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে অনেক বিবাদ চলছে। এই পরিস্থিতিতে আমাদের দাবি, যে প্রার্থী জনগণের জন্য কাজ করবে, তাকে যেন মনোনয়ন দেওয়া হয়।

বাবুগঞ্জ ও মুলাদী নিয়ে গঠিত বরিশাল-৩ আসনে অবশ্য মনোনয়ন নিয়ে দৌঁড়ঝাপ তেমন একটা নেই। এ আসনে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ সভাপতি জয়নুল আবেদীনের দলীয় টিকিটপ্রাপ্তির বিষয়টি অনেকটাই নিশ্চিত। কারণ তার সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বি বিএনপির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারনী ফেরাম স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান আগামীতে নির্বাচনে অংশ নেবেন না। ২০০৮ সালের নির্বাচনে এখানে সেলিমা রহমান ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করে নৌকার প্রার্থীর কাছে হেরে যান। ওই নির্বাচনে মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে জয়নুল আবেদীন বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছিলেন। তিনি মাঠে না থাকলে এখানে বিপুল ভোটে বিজয়ী হতেন সেলিমা রহমান।

সদ্য বিদায়ী বছরের ৭ নভেম্বর বরিশালের বাকেরগঞ্জে বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম খান রাজনের নেতৃত্বে র‌্যালি বের করা হয়। বাকেরগঞ্জ উপজেলা ও পৌরসভা নিয়ে গঠিত বরিশাল-৬ আসন। রাজন এ আসনে আগামীতে মনোনয়ন চাইবেন। অপরদিকে এখানকার সাবেক এমপি আবুল হোসেন খানও নির্বাচনী মাঠ গোছাতে ব্যস্ত। তিনি দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক পদে আছেন। আবুল ও রাজনকে ঘিরে দুই ধারায় বিভক্ত স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা।

আগামী সংসদ নির্বাচনে সাবেক এমপিদের পাশাপাশি নতুন অনেকেই মনোনয়ন লাভের আশায় মাঠে কাজ করছেন। তবে দলীয় সূত্র বলছে চাইলেই যে কাউকে এবার মনোনয়ন দেওয়ার সুযোগ-সম্ভাবনা কোনটাই নেই। বিগত আন্দোলন সংগ্রামে কার কি অবস্থান তার চুলছেড়া বিশ্লেষন করেই সিদ্ধান্ত নেবেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

উড়ে এসে জুড়ে বসে কিছু দান-খয়রাত করে কেউ এমপি হওয়ার স্বপ্ন দেখলে সেটা হবে সবচেয়ে বড় ভুল। কারণ আগামী সংসদ নির্বাচন হবে সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন দীর্ঘ ১৫ বছর মানুষ ভোট দিতে পারেননি। এত বছর পর তাদের সামনে সেই সুযোগ এসেছে। এ কারণে দেখে-শুনে, শত বিচার বিশ্লেষণ করে ভোটাররা যেমন জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করবেন তেমনি দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার আগে অন্তত দশবার ভাববেন নীতি নির্ধারকরা।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




পিলখানা হত্যাকাণ্ডে শহীদ পরিবারের দুটি দাবিই পূরণ করা হচ্ছে

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.) বলেছেন, শহীদ পরিবারের দাবি ছিল দ্রুত বিচার ও শহীদ সেনা দিবস ঘোষণা করা। আমরা কিন্তু দুটোই করছি। শহীদ সেনা দিবস ঘোষণা করেছি, আর সঠিক বিচারের জন্য স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়েছে।

জাতীয় শহীদ সেনা দিবস উপলক্ষ্যে মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে বনানীতে সামরিক কবরস্থানে শায়িত পিলখানায় শহীদ সামরিক কর্মকর্তা ও সদস্যদের উদ্দেশ্যে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের করা প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন তিনি।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, পিলখানায় শহীদ সেনাসদস্য ও কর্মকর্তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় এখানে এসেছিলাম। প্রতিবছরই এখানে আসা হয়। এবার থেকে শহীদ সেনা দিবস ঘোষণা করা হয়েছে। শহীদ সেনা দিবস হিসেবেই এখানে এসেছি। শহীদ সেনা পরিবারের সদস্যরাও এখানে এসেছেন।

তিনি বলেন, শহীদ পরিবারের দাবি ছিল দ্রুত বিচার ও শহীদ সেনা দিবস ঘোষণা করা। আমরা কিন্তু দুটোই করছি। শহীদ সেনা দিবস ঘোষণা করা হয়েছে, আজকে শহীদ সেনা দিবস হিসেবেই পালিত হচ্ছে। আর বিচারের দাবিতে কিন্তু তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়েছে। তাদের তিন মাস সময় দেওয়া হয়েছে। গত জানুয়ারি থেকে তারা কাজ শুরু করেছে। কমিশনের তদন্তে যারা যারা দোষী সাব্যস্ত হবে তাদেরকে বিচারের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায়, হত্যা মামলার রায় হয়ে গেছে। সেই মামলায় যারা খালাস পেয়েছেন তাদের অনেকে বিস্ফোরক মামলার আসামি। হত্যা মামলা এখন হাইকোর্টে বিচারাধীন। কিন্তু বিস্ফোরক মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ স্থগিত ছিল। সেটি শুরু করা হবে কিনা? জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এটা তো আমাদের হাতে নেই। এটা কোর্টের হাতে। কোর্ট চাইলে জামিন দিতেই পারে।

আপনি কী মনে করেন? গত ১৫ বছর কেন শহীদ সেনা দিবস ঘোষণা করা হয়নি? জানতে চাইলে তিনি বলেন, গত ১৫ বছর তারা কেন ঘোষণা করেনি সেটা তো আমি বলতে পারবো না। আমরা কিন্তু সঠিক বিচার যাতে হয় সেজন্য তদন্ত কমিশন গঠন করেছি। এটা তদন্ত কমিশন, ইনকুয়ারি কমিটি না। কমিশন প্রধান মর্যাদায় এপিলেট ডিভিশনের জাজের মর্যাদার সমান। কমিশন সদস্যরা হাইকোর্টের জাজের মর্যাদার সমতুল্য। একটাই উদ্দেশ্য সঠিক তদন্ত ও সঠিক বিচার। তারা যেন ভালোভাবে কাজ করেন।

এখন তো বিচারের কথাই বেশি আসছে। সঠিক বিচারের নামে যেন টালবাহানা বা ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাওয়া না যায়, জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, গত ১৫ বছরের বিষয়ে তো ১৫ বছরে প্রশ্ন করতে পারতেন। এখন তো স্বাধীনভাবে প্রশ্ন করতে পারেন। গত ১৫ বছরের বিষয়ে তো আমি উত্তর দিতে পারবো না। এখন যে হারে প্রশ্ন করতে পারছেন, গত ১৫ বছর কি করতে পারছিলেন? এখন তো স্বাধীনভাবে প্রশ্ন করতে পারেন। আগে গত ১৫ বছরে তে কতো ঘটনা ঘটে গেছে, তখন তে বুক ফেটে গেছে। প্রকাশ করতে পারেননি।




২৮ ফেব্রুয়ারি নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম বলেছেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন জাতীয় নাগরিক কমিটি ঐক্যবদ্ধভাবে নতুন একটি রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি (শুক্রবার) বিকেল তিনটায় জাতীয় সংসদ সংলগ্ন মানিক মিয়া ইভিনিউতে নতুন রাজনৈতিক দল আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে।

সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বাংলামোটরের রুপায়ন টাওয়ারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটির উদ্যোগে নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ উপলক্ষ্যে এই জরুরি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সারজিস আলম বলেন, নতুন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দাবি হচ্ছে, একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক দল। সবচেয়ে বড় অনুধাবনটি হচ্ছে সেই ৫ আগস্ট নতুন বাংলাদেশের আমরা যে স্বপ্নগুলো দেখেছি, এই জুলাই স্পিরিটকে সামনে রেখে। নতুন বাংলাদেশ যে জায়গায় কল্পনা করেছি, তা একটা দীর্ঘ লড়াই। হাজারো শহীদের জীবনের উপরে, অর্থাৎ লাখো ভাই-বোনের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে যে বাংলাদেশ‌, আগামী প্রজন্মকে সেই বাংলাদেশ উপহার দেওয়া আমাদের কাছে একটি আমানত।

সারজিস আলম বলেন, যুগের পর যুগ ধরে এই সংসদ ভবনকে মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক না বানিয়ে ব্যক্তিগত, গোষ্ঠীগত, দলীয় স্বার্থ উদ্ধারে পলিসি মেকিংয়ের জায়গা বানিয়ে রাখা হয়েছিল। জায়গাটিকে স্বৈরাচারের উৎপাদন ক্ষেত্র বানিয়ে রাখা হয়েছিল। তাই আমরা বাংলাদেশের ছাত্র-জনতাকে সামনে রেখে জাতীয় সংসদকে সামনে রেখে নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছি।




গৌরনদীতে মৃত খালে ফিরে এসেছে প্রাণ, কৃষকদের মুখে হাসি

বরিশাল জেলার গৌরনদীতে অবশেষে মৃতপ্রায় ২০ কিলোমিটার খালের পুনঃখনন কাজ সম্পন্ন হওয়ায় কৃষকদের মাঝে ফিরে এসেছে প্রাণ। পরিবেশ ও জীববৈচিত্র সুরক্ষা, ফসল উৎপাদন এবং কৃষকদের সেচ সুবিধা বৃদ্ধি করতে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। ইতিমধ্যে অধিকাংশ খালের খনন কাজ শেষ হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন, বিএডিসি ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল দপ্তরের মাধ্যমে এ কাজ করা হচ্ছে।

এখন পর্যন্ত এক কিলোমিটার খাল উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে, সাড়ে ছয় কিলোমিটার বিএডিসি’র মাধ্যমে এবং সাড়ে বারো কিলোমিটার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল দপ্তরের মাধ্যমে পুনঃখনন শেষ পর্যায়ে রয়েছে। দীর্ঘদিন খনন না করায় খালগুলো মৃতপ্রায় হয়ে গিয়েছিল, কিন্তু এখন জোয়ারের পানি ঢুকতে শুরু করেছে, ফলে খালগুলো নব যৌবন লাভ করেছে। এর ফলে কৃষকদের মুখে এখন হাসি ফুটেছে।

মাহিলাড়া ইউনিয়নের পশ্চিম শরিফাবাদ গ্রামের কৃষকরা জানান, দীর্ঘদিন খনন না হওয়ায় পশ্চিম শরিফাবাদ খালে জোয়ারের পানি উঠতে পারতো না। বর্তমানে খালটি পুনঃখনন হওয়ায় প্রায় পাঁচ হাজার কৃষক উপকৃত হবেন। একইভাবে, পশ্চিম বার্থী খালও ২০ বছর পর পুনঃখনন হয়েছে, যা কৃষকদের সেচ সংকট দূর করেছে এবং উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি খরচও কমবে।

বরিশাল বিএডিসি’র নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ ওয়াহিদ মুরাদ জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সেচ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ৭৮ লাখ টাকা ব্যয়ে সাড়ে ছয় কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করা হচ্ছে। এ কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং সার্বক্ষণিক পরিদর্শনের জন্য কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

অপরদিকে, উপজেলা প্রকৌশলী মো. অহিদুর রহমান জানান, ‘টেকসই ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের’ আওতায় প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয়ে সাড়ে বারো কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করা হয়েছে। এর ফলে হাজার হাজার কৃষক সেচ সুবিধা পাচ্ছে এবং সেচ সংকট পুরোপুরি দূর হয়েছে।

গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবু আবদুল্লাহ খান বলেন, খাল পুনঃখননের ফলে পরিবেশ সুরক্ষা বৃদ্ধি পাবে এবং জীববৈচিত্র রক্ষা, দেশীয় প্রজাতির মৎস্য প্রজনন বৃদ্ধি হবে। খালগুলো খনন করায় কৃষির প্রসার এবং কৃষকদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন হবে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




নাহিদ ইসলাম এখনও পদত্যাগ করেননি: প্রেস সচিব

তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম এখনও পদত্যাগ করেননি জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সেক্রেটারি শফিকুল আলম বলেছেন, নতুন রাজনৈতিক দল গঠনসহ অন্যান্য বিষয়ে নাহিদ ইসলামের ইচ্ছা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তিনি আরও বলেন, এই বিষয়ে সরকার কোনো মন্তব্য করতে চায় না।

২৪ ফেব্রুয়ারি সোমবার রাজধানীর বেইলি রোডে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা জানান।

আরও উল্লেখযোগ্য বিষয়:

  • শফিকুল আলম জানান, সরকারি সব অফিসে ই-ফাইলিং চালু করার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। এতে এখন থেকে সরাসরি ফাইল দেয়ার পরিবর্তে ই-ফাইলিং পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে।
  • এছাড়া, সব প্রকল্পে তৃতীয় পক্ষের লোকজন দিয়ে প্রকল্প মূল্যায়ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে ব্যয় কমানো যায়।
  • ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতে, এফাইলিং পদ্ধতির মাধ্যমে আফ্রিকার দেশ এস্তোনিয়ায় করাপশন কমানো গেছে, এমন উদাহরণও তুলে ধরেন তিনি।
  • শফিকুল আলম জানান, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত কিছু প্রকল্পের ব্যয় ৭০ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ার কথা উল্লেখ করে বলেন, বড় প্রকল্পে তৃতীয় পক্ষের উপস্থিতির মাধ্যমে ব্যয় কমানোর চেষ্টা করা হবে।
  • চট্টগ্রামে বিমান বাহিনীর ঘাটিতে হামলা ও গুলিতে একজন নিহত হওয়ার ঘটনায় তিনি বলেন, এটি ল অ্যান্ড অর্ডার পরিস্থিতি তৈরি করেছিলো এবং এ ঘটনায় তদন্ত করে বিস্তারিত জানা যাবে।

এ সময় ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার সিনিয়র সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহম্মদ, সহকারী প্রেস সচিব সুচিস্মিতা তিথি।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




আজ রাতেই টের পাবেন: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা বেড়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানিয়েছেন, আজ রাত থেকেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রম জনসাধারণের কাছে স্পষ্টভাবে দেখা যাবে।

২৪ ফেব্রুয়ারি সোমবার সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। তিনি জানান, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সন্তোষজনক হলেও এর উন্নতির সুযোগ রয়ে গেছে। পূর্বে যেমন ঘটনা ঘটতে সময় নিতো, এখন তা দ্রুত জানার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “ছোটখাটো ঘটনা সবসময় ঘটেই থাকে, তবে ভবিষ্যতে সেগুলো যাতে না ঘটে, সেজন্য এখন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, “আজ রাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রম অনেক বেড়ে যাবে, এবং জনসাধারণ তা টের পাবেন।”

তিনি আরো বলেন, “আইনশৃঙ্খলা কমিটির বৈঠক করার মূল উদ্দেশ্য ছিল জনগণকে আশ্বস্ত করা এবং বাহিনীর কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য তাদের দিকনির্দেশনা দেওয়া। তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তারা সন্ধ্যার পর থেকেই কাজ শুরু করেন, এবং এর প্রভাব রাতেই দেখা যাবে।”

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




অপরাধপ্রবণ এলাকায় যৌথবাহিনীর টহল বাড়ানোর নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টা

প্রধান উপদেষ্টা শফিকুল আলম জানিয়েছেন, দেশের অপরাধপ্রবণ এলাকায় যৌথবাহিনীর টহল আরও বাড়ানো হবে। তিনি এই ঘোষণা দেন সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময়।

প্রেস সচিব জানান, “দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সরকার অত্যন্ত সিরিয়াসলি নিচ্ছে। এজন্য বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মিটিংয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জায়গায় জায়গায় চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি কার্যক্রম আরও তীব্র করা হবে।”

এ সময়, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীও রাজধানীতে পুলিশের টহল বাড়ানোর বিষয়ে বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি বলেন, “রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসিয়ে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি তদারকি করা হবে। সন্ধ্যার পর অপারেশন আরও জোরদার করা হবে।”

এছাড়া, দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানে সন্তোষজনক হলেও, আরও উন্নতির প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




কুয়াকাটায় ভয়াবহ পরিস্থিতি: মারধর, ছিনতাই, আতঙ্কিত পর্যটকরা

এস এল টি তুহিন,বরিশাল :: সাগরকন্যা কুয়াকাটা, যা একসময় ছিল নিরাপদ এবং শান্তিপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্র, এখন হঠাৎ এক ভয়াবহ পরিস্থিতির শিকার হয়েছে। এখানে পর্যটকদের ওপর হামলা, মারধর, ছিনতাই এবং চাঁদাবাজির ঘটনা বেড়ে যাওয়ার ফলে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকরা জানান, কুয়াকাটায় বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে, যা পূর্বে কখনো দেখা যায়নি। পুলিশ প্রশাসনের অসক্রিয়তা এবং ট্যুরিস্ট পুলিশের অপ্রতুল তৎপরতা এই অরাজক পরিস্থিতির জন্য দায়ী বলে মনে করছেন স্থানীয় ট্যুরিস্ট সংগঠন ও বাসিন্দারা।

কুয়াকাটা, বরিশালের একটি অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন স্থান, যেখানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার পর্যটক আসেন। এখানকার ১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সমুদ্রসৈকত, সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্তের মনোরম দৃশ্য, এবং স্থানীয় দর্শনীয় স্থানগুলো বিখ্যাত। কিন্তু বর্তমানে এখানে একটি ভিন্ন ছবি দেখা যাচ্ছে। এখন পর্যটকরা শুধু সাগরপাড়ে নয়, হোটেলেও নিরাপদ নন। সম্প্রতি বিভিন্ন পর্যটক অপহরণ, মারধর, এবং ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন।

সর্বশেষ ঘটনার সূত্রপাত সোমবার গঙ্গামতী এলাকায়, যেখানে এক পর্যটক দম্পতি তাদের মোবাইল হারিয়ে ফেলেন। মোবাইলটি ফেরত দেওয়ার জন্য দুষ্কৃতকারীরা ওই দম্পতিকে ৫ হাজার টাকা বিকাশে দাবি করে। টাকা দেওয়ার পর, স্বামীকে মোবাইল নিতে যাওয়ার সময় আরো এক মোবাইল ও টাকা-পয়সা ছিনতাই করা হয়। এরপর, তাকে ছাড়িয়ে আনতে স্ত্রীকে ৩ জন ছিনতাইকারী ফোন করে এনে ঝাউবন এলাকায় ডাকে, কিন্তু স্থানীয়দের সন্দেহ হলে তারা দুজনকে আটক করে। পরে, তাদের দেওয়া তথ্যে অপহৃত পর্যটককে উদ্ধার করা হয়।

এমন একাধিক ঘটনা ঘটেছে কুয়াকাটায়, যার মধ্যে বেশ কিছু ঘটনা স্থানীয় বাসিন্দারা সহায়তায় উদ্ধার করেছেন। একাধিক পর্যটক পরিবার তাদের অপহৃত মোবাইল ফোন, নগদ অর্থ, এবং অন্যান্য মালামাল উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। তবুও, অনেক পর্যটক এসব ঘটনার পর থানায় অভিযোগ জানাতে চায় না, কারণ তারা পুলিশের ঝামেলা এড়াতে চান এবং অভিযুক্তরা ভয়ে তাদের ওপর প্রতিশোধ নিতে পারে।

কুয়াকাটা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি আনোয়ার হোসেন বলেন, “এ ধরনের ঘটনা কুয়াকাটায় বেশ কিছু সময় ধরেই ঘটছে। কিন্তু বেশিরভাগ ঘটনার কথা সাধারণত জনসমক্ষে আসে না। অনেক পর্যটকই অভিযোগ জানান না, কারণ তারা ভাবেন না যে অভিযোগ দিয়ে কোনো লাভ হবে। ফলে, দুর্বৃত্তদের সাহস আরও বাড়ে।”

ট্যুর অপারেটরদের মতে, পর্যটক হয়রানির পাশাপাশি কুয়াকাটায় অপরাধের মাত্রা বেড়ে গেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী সিকদার মোহাম্মদ আলমাস, যিনি ‘হৈমন্তী ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস’ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বলেন, “এখনকার পরিস্থিতি কুয়াকাটার জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। পূর্বে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর থেকে যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হয়েছে এবং কুয়াকাটায় পর্যটকদের সংখ্যা বেড়েছে। কিন্তু এখানকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষায় পুলিশের তৎপরতা কমে গেছে, যার ফলে ছিনতাইকারীরা দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।”

এছাড়া, কুয়াকাটার ট্যুরিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটার (টোয়াক) সভাপতি রুম্মান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, “কুয়াকাটায় আগে যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি ছিল, তা এখন নেই। এখানে পর্যটকরা নিরাপদ ছিল, কিন্তু বর্তমানে এমন অরাজক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে, ট্যুরিস্ট পুলিশের কোনো কার্যকর ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না। যদি তারা আরও তৎপর হতো, তবে এসব ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব ছিল।”

এ বিষয়ে, কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশের সুপার অনির্বাণ চাকমা বলেন, “কুয়াকাটার সমুদ্রসৈকত ১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ, এবং আমাদের কাছে সীমিত জনবল রয়েছে। তবে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি এবং টহলের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। আমাদের চেষ্টা আছে যাতে এই ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে না ঘটে।”

গত কিছুদিনের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা এবং ব্যবসায়ীরা নিজেদের উদ্যোগে ছিনতাই হওয়া টাকাপয়সা এবং মোবাইল ফেরত দিয়ে সহায়তা করেছেন, কিন্তু পর্যটকদের অভিযোগ রয়েছে যে, ট্যুরিস্ট পুলিশ তাদের অভিযোগ গ্রহণ করছে না এবং কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। পর্যটকরা জানায়, পুলিশি ব্যবস্থা জোরদার না হলে কুয়াকাটার খ্যাতি এবং পর্যটন শিল্পের ক্ষতি হতে পারে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




গুড় তৈরিতে ব্যস্ত বরিশালের আখ চাষিরা

বরিশাল জেলায় আখ চাষি এবং গুড় তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন অনেকেই, বিশেষ করে আসন্ন রমজান মাসকে সামনে রেখে। বিশেষ করে বাবুগঞ্জ উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের গাজীপুর গ্রামের আখ চাষি মো. রিপন, যিনি গত ১০ বছর ধরে নিজ হাতে ভেজালমুক্ত আখের গুড় তৈরি করে বিক্রি করছেন, বলেছেন যে রমজান মাসে গুড়ের চাহিদা অনেক বেড়ে যায়। রিপন জানান, গত বছর প্রায় আড়াই লাখ টাকার গুড় বিক্রি করেছেন এবং বর্তমানে প্রতিকেজি গুড় ২৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, প্রতিটি তাফালে বিশেষ বালতির মাধ্যমে ১০ বালতি আখের রস দিয়ে গুড় তৈরি করা হয়, যা থেকে প্রায় ৩৩ কেজি বা ৯ হাজার টাকার গুড় উৎপাদন হয়। এই গুড়ের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো, এটি সম্পূর্ণ ভেজালমুক্ত এবং প্রাকৃতিক উপায়ে প্রস্তুত করা হয়, যা ক্রেতাদের মধ্যে বিশেষভাবে জনপ্রিয়।

আখ চাষি সেলিম মোল্লা বলেন, তাঁদের পরিবারের ঐতিহ্য অনুযায়ী, আখের রস থেকে গুড় তৈরি করা হয়ে থাকে এবং তাঁদের তৈরি গুড়ে কোনো ধরনের হাইড্রোজ বা কেমিক্যাল ব্যবহৃত হয় না। মাটির চুলার আগুনে তৈরি গুড়ের স্বাদ অতুলনীয়, যা ক্রেতাদের কাছে খুবই জনপ্রিয়।

এছাড়া, বাজারে ভালো মানের গুড়ের দাম বেশি হলেও তার চাহিদা থাকে বেশি, বিশেষ করে রমজান মাসে। ক্রেতারা অনেক সময় গুড়ের মান যাচাই করার সুযোগ না পেয়ে, ভালো মানের ভেজালমুক্ত গুড় কেনার জন্য বেশি দামের গুড়কে প্রাধান্য দেন।

বরিশাল জেলার ২০২৪-২০২৫ মৌসুমে আখ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৮৩ হেক্টর জমি, তবে বর্তমানে ৩৩২ হেক্টর জমিতে আখ চাষ হয়েছে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




পাথরঘাটায় প্লাস্টিক-পলিথিন বর্জন নিয়ে সচেতনতামূলক প্রচারণা

পাথরঘাটা পৌর শহরে প্লাস্টিক এবং পলিথিন বর্জনের উদ্দেশ্যে একটি সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হয়েছে। “প্লাস্টিক-পলিথিন বর্জন করি, সুস্থ-সুন্দর জীবন গড়ি”—এমন স্লোগানে কর্মসূচি পরিচালিত হয়, যেখানে উপস্থিত ছিলেন জলবায়ু যোদ্ধা ও সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম খোকন। তিনি এক হাতে প্লাস্টিক ও পলিথিন এবং অপর হাতে কাপড়ের ব্যাগ ও সবুজ গাছের পাতা ধারণ করে শহরের বিভিন্ন এলাকায় সচেতনতা বাড়ানোর জন্য প্রদর্শন করেন।

এছাড়া, বাঁশের তৈরি ঝুরি (খারই) হাতে শফিকুল ইসলাম খোকন একটি স্লোগান দেন, “হাডে যামু খারই লইয়া, পলিথিনে আর আনমুনা”, যা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

অ্যাকশনএইডের সহযোগিতায় এবং এনএসএস-এর আয়োজনে সকাল ১০টায় পাথরঘাটা পৌর শহরে একটি সচেতনতামূলক র‌্যালি এবং ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়। এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন জেন্ডার সমতা ও জলবায়ু জোট, প্রত্যয়, পাথরঘাটা উপকূল সুরক্ষা আন্দোলন এবং ধরিত্রী রক্ষায় আমরার (ধরা) সদস্যবৃন্দ।

পাথরঘাটা পৌর শহরের গোলচত্বরে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন উপজেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের চাইল্ড প্রোটেকশন কর্মকর্তা সৈকত চন্দ্র হাওলাদার, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের কর্মকর্তা সাদিয়া তুলি, জলবায়ু যোদ্ধা শফিকুল ইসলাম খোকন, সমাজকর্মী মেহেদী সিকদার এবং পাথরঘাটা প্রেসক্লাবের সদস্যরা।

শফিকুল ইসলাম খোকন বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তন এবং প্লাস্টিক-পলিথিন ব্যবহারের কুফল সম্পর্কে মানুষ জানলেও, এ থেকে মুক্তির জন্য যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে আগ্রহ কম। সরকারও পলিথিন তৈরির কারখানা বন্ধের জন্য কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না, তাই মানুষকে সচেতন করার জন্য আমরা এই ভিন্নধর্মী প্রচারণা চালাচ্ছি।”

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম